নভেম্বর 2015

Nabadibakar_Writer_10

গুহা
- রেবেকা রহমান

রাতের সমস্ত সৌন্দর্য তোমার কাছে নতজানু
আকাশের চাঁদ চাইবো না আমি
চাইনা মরা নক্ষত্ররা জেগে উঠুক
দক্ষিন বারান্দার হুল্লোড় বাতাস আমাকে ভাসিয়ে নিওনা
আজ থেকে সেতারে সাধবো না ভৈরবী
কথাকলির নিখুঁত মুদ্রাই নেচে উঠবেনা দেহ
আজ থেকে তুমি যা চাও আমি তাই চাই
তোমার অরন্যে পথ হারাবো
পড়ে থাক সভ্য শহরের নিয়ন সভ্যতা
ক্লান্তি শেষে খুজে পেতে চাই হৃদয় অরন্যে
পাহাড়ের একটি গুহা ।

Nabadibakar_Writer_71_Bangla-Kobita

শুধু দেওয়ার
- রত্না চক্রবর্তী

ভালোবেসে আলোয় ভরিয়েছিলাম তোমার ঘর,
ধিকিধিকি প্রেমে জ্বলেছিলাম,
সুখে পুড়েছিলাম,
আর গলে গলে পড়েছিলাম,
তুমি হয়ত বোঝও নি,
আমার কোন প্রত্যাশা নেই।
জানি ভালোবাসা শুধু দেবার চাওয়ার নয়।
এখন আমি নিঃশেষ,
কিন্তুহারিয়ে যাই নি,
দেখো তোমার টেবিলে,খুঁজে পাবে আমায়...
কয়েকবিন্দু গলা মোমের ছাপ।।

Nabadibakar_Writer_72_Bangla-Kobita

সন্ধ্যা
- জয়া চক্রবর্তী

সূর্য সদ্য অস্ত গেছে
আকাশ তখনও লাল,
প্রথম প্রেমের আবেশ মাখা
লজ্জা রাঙা গাল।
সন্ধ্যা তখনও কবরী বাঁধেনি,
অবাধ্য এলোচুল।
গাঁথছে বসে জড়াবে সে মালা,
তারাদের জুঁইফুল।
ঘন হয়ে আসে আবছা আঁধার
জোনাকির ঝিকিমিকি,
চাঁদটা ভাবছে সন্ধ্যার বুকে
কোন কবিতাটা লিখি।
জানলার ধারে গোধূলি মেয়ের
অপেক্ষামান চোখ,
চাঁদটার কানে সন্ধ্যা বলছে
এবার রাত্রি হোক।।

Nabadibakar_Writer_06

যখন স্বীকার করেছিলে অপরাধ
- দিঘী সেনগুপ্তা

রোদে পুড়ছিলো বিলবোর্ড, বাসের ছাদ
আরও কিছু পুড়ে না-পুড়েও পোড়া পোড়া গন্ধ ভাসছিলো
যখন স্বীকার করছিলে অপরাধ।
শুধু স্বীকার করেই ক্ষান্ত হতে পারোনি
আরও কিছু শৈশবী কল্পনা, কিশোরী যন্ত্রণা বলতে বলতে
বুঝতেও চাও নি___
পুরনো গাছের গুড়ি, ঝর্ঝরে শ্যাওলা শর্বরী
কখন যে বিধুরি ছায়া তলে ম্লান সুতোয় বুনছিলে অপবাদ।
রোদে পুড়ছিলো একগোছা চুল, অল্প কিছু ভুল
এককূল ভাঙা প্রতীক্ষার দীর্ঘ চাপাশ্বাস ফুলেফেঁপে উঠছিলো
যখন স্বীকার করছিলে সব মিথ্যে।
শুধু স্বীকার করেই ক্ষান্ত হতে পারো নি
আরও কিছু বেণী কাল, সিঁথির সকাল, সন্ধ্যাগলির স্থিরবাঁকে
একফাঁকে ছুটে এসে___
বুক মোচড়ানো ব্যথাটুকুও ফেরত দিতে কুণ্ঠিত হও নি।
রোদে পুড়ছিলো বিলবোর্ড, বাসের ছাদ
বিবেকের চোখগুলো জ্বলজ্বল করে জ্বলছিল, নিভছিলো
আগাগোড়া কেউ পাচ্ছিলো আঘাত
যখন স্বীকার করছিলে
কিছুই নিঃস্বার্থ ছিলো না, স্বীকার করছিলে অপরাধ।

Nabadibakar_Writer_24_

বিবেক বির্সজন
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

অজস্র পাপিষ্ঠ বিবেকের মাঝে ও
প্রকৃতি সস্তির দেখা পাই,
নবপ্রভাতের সোনালি সুর্যের হাঁসিমাখা আলোকিত বেলায়,
যে আলোয় সজীব প্রকৃতি উন্নত শিরে
মাথাউঁচু করে দাড়ায়।

হাজারো মনুষ্যত্ব আজ আত্বহুতি দিয়ে
আছরে পরে আছে
হাজারো যানবাহন আর কল কারখানার
বিষাক্ত কালো ধোয়ার মাঝে,
তারা প্রতিনিয়ত আর্বজনা স্তুপ, ভাসিয়ে দেই
প্রান জুরানো নদীর জলে।

নিজেকে বির্সজন করে শুকুনেরা আজ
ঐ গগনের কান্না থামিয়ে রেখেছে,
মেঘের গর্জন, বৈশাখী বিকেলের
সেই বাতায়ন প্রবাহ দমিয়েছে,
আর....................................
ঘুমিয়েছে মনুষ্যত্ব চির অজাগ্রত বেলায়,
এ সুন্দর প্রকৃতি তিলে তিলে ধংসের নেশায়।

“ফেলবো না আর যেখানে সেখানে থুথু”
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


যেখানে সেখানে থুথু ফেলা কখনোই উচিৎ নয়। থুথু ফেললে সেখানে মাছি বসতে পারে। মাছি খাবার বা যার উপরে বসে, সেখানেই মূল মূত্র ত্যাগ করে, বমি করে। মাছির পুরো দেহের মধ্যে থাকে রোগ জীবাণু। মাছি যেন রোগ জীবাণু ছড়াতে না পারে, সেজন্য খাবার সর্বদা ঢেকে রাখতে হবে। মাছি থুথু, খাবার বা যার উপরে বসে, সেই জায়গাটিকেই করে ফেলে খুব বেশী জীবাণুযুক্ত। কারণ মাছি তার পুরো দেহে জীবাণু বয়ে নিয়ে বেড়ায়।


ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা নির্দিষ্ট স্থানে কফ, থুথু ফেলবা। তানা হলে পরিবেশ দূষণ বাড়বে। কারণ, থুথুতে মাছি ছাড়াও বিভিন্ন রকম অনুজীব আক্রমণ করে। এই ধরণের ক্ষতিকর অণুজীবগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। তারা থুথু বা কফের মধ্যে বাসা বাধে, বাচ্চা জন্ম দেয়, সেই বাচ্চাগুলো রোগ জীবাণু ছড়ায়। এই রোগ জীবাণুগুলো নানান রকম অসুখ (বাতাস বাহিত) তৈরীকরে। নানান রকম চর্মরোগ ও কফ, থুথু যেখানে সেখানে ফেলার জন্য দায়ী। ছোট্ট বন্ধুরা, থুথু দেখতে সাদা। আমাদের মুখ থেকে তার সৃষ্টি। কিন্তু রোগজীবাণু খুব দ্রুত থুথুতে বাসা বাধে যদি তা খোলা স্থানে ফেলা হয়। আর কফ হলো ইনফেকশান জনিত সমস্যা থেকে তৈরী। কফ এমনিতেই দূষিত। তাই থুথুর থেকেও কফ দ্রুত অনুজীবগুলো বাতাসে বিভিন্ন রকম রোগ জীবাণু ছড়ায়। যা বাতাসের সাহায্যে পাশ্বর্তী এলাকাতে ছড়িয়ে যায় আক্রান্ত করে মানুষকে বিভিন্ন রকম অসুখে (পানি ও বাতাস বাহিত) অসুখে। যা কখনোই কাম্য নয়। এমনিতে আমাদের চারিপাশে রোগ জীবাণু অনেক বেশী। তার উপর আবার নিজেরা যেখানে সেখানে কফ, থুথু ফেললে বাড়বে নিজেদেরই বিপদ। তাই নিজেদের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ যতোটা কম হয়, ততোই ভালো। এতে আমাদেরই উপকার।


আর, বন্ধুরা শুধু নিজেদের কথা ভাবলেই চলবেনা। আশেপাশের সবার কথা ভাবতে হবে। নিজেদের ঘর পরিষ্কার থাকলেই চলবে। অন্যদের কথা চিন্তা করার দরকার নাই, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। যতোটা পারা যায়, আশেপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতে হবে। শুধু কফ, থুথু নয়, যে কোন ময়লা আবর্জনা যেন নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়, সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। ময়লা, আবর্জনা থেকেই নানা রকম রোগ জীবাণু ছড়ায়। সেই রোগ জীবাণু মানুষকে আক্রান্ত করে, তৈরী করে ছোঁয়াচে বা সংক্রমিত চর্ম রোগ। এই রোগগুলো একজন থেকে অন্য মানুষের দেহে পৌঁছে যায়। আমাদের নিজেদের অজান্তে যে কোন রোগ জীবাণু আমাদের দেহে ঢুকতে পারে। এই জীবাণুগুলো কফ, থুথু দিয়ে মুখের বাহিরে যায়। তাই নিজের, পরিবারের ও আশেপাশের সবার স্বার্থে কফ, থুথু নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা উচিৎ।


ডাঃ ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার, গাইনী এ্যান্ড অবস,
স্কয়ার হসপিটাল, ঢাকা।

Nabadibakar_Writer_70_Bangla-Kobita

আমার আমি (২)
- শীলা ঘটক

তুমি আমাকে আপন করো
আমিই তোমার একমাত্র সঙ্গী।
তুমি যখন দুঃখে কাতর হয়েছ
আমিই তোমায় সান্ত্বনা দিয়েছি____
যার জন্য কাঁদছ, সে তোমাকে ভালোবাসেনা।
দুহাত দিয়ে চোখের জল মুছিয়ে দিয়েছি তোমার।
*******
নিকৃষ্ট স্বার্থপর মানুষগুলো যখন
স্বার্থের হানাহানিতে আঘাত করেছে তোমায় ____
একমাত্র আমিই তোমাকে বলেছি,
জিঘাংসাপরায়ন হোয় না।
যা তুমি নও, তা তুমি হওয়ার চেষ্টা করো না।
মানুষ যখন তোমার চরিত্রে
কালিমালিপ্ত করতে চেয়েছে,
তোমাকে কানে কানে বলেছি,
শান্ত হও ---- বলিষ্ঠতাই তোমার চরিত্র
ওদের ক্ষমা করে দাও।
*******
তোমাকে আমি যে কতো ভালোবাসি
তা কি তুমি বোঝো না!
তুমি যখন কাউকে ভালবেসেছ
প্রেমে আবদ্ধ হয়েছ, অফুরান আনন্দে ভেসেছ,
আমি তখন শান্ত দৃষ্টিতে তোমার দিকে তাকিয়ে থেকেছি।
মনে মনে বলেছি, তুমি যতই তাদের ভালোবাসো
আমার থেকে কেউ তোমাকে বেশী ভালবাসতে পারবে না।
যখন আঘাত পেয়েছ___
আমি তখন কষ্ট পেয়েছি তোমার জন্য।
এই অনিত্য পৃথিবীর সবটুকুই ক্ষণস্থায়ী,
বুঝিয়েছি বার বার।
*******
যেদিন তুমি এসেছ এই ধরাধামে
পিছে পিছে আমিও এসেছি তোমার সাথে।
যখনই ভুল করেছ ____
আমি তোমায় সতর্ক করেছি,
ভুলের জন্য আফসোস করেছ।
আমিই তোমাকে বলেছি,
আফসোস করে হীনমন্যতায় ডুবে যেওনা,
ভুল থেকেই তো শিখতে হয় কোনটা ঠিক।
*******
তোমার কোন প্রিয়জন শোকে কাতর হলে,
তোমার হাতটা তার মাথার ওপর আমিই তুলে দিয়েছি।
বুকে টেনে নিয়ে স্নেহচুম্বন দিতে আমিই বলেছি।
তোমাকে উদার হতে আমিই শিখিয়েছি
বার বার বলেছি, অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ নয়,
দুর্বলের প্রতি আঘাত নয়,
নিকৃষ্ট স্বার্থ নিয়ে লড়াই নয়,
ক্ষমা তোমার একমাত্র ধর্ম।
সকলকে ক্ষমা করো।
কারণ এই পৃথিবীর তোমার কেউ আপন নয়
একমাত্র আমি ছাড়া।
তাই বলি আদর করো আমায়
ভালোবাসো আমায়।

কোচবিহার ২৬/১০/২০১৫ দুপুর ১।৩০

Nabadibakar_Writer_46

মনের টানে
- বিভূতি চক্রবর্তী

মনের কথা মন বুঝে না
তবুও ভাবি মনের টানে,
অবুঝ মনের যন্ত্রণা সব-
ভাবনা ফিরায় মনের পানে।
কেন যে মন অবুঝ এতো
আপন মনেই চলবে সে তো
বুঝালেও বুঝবে না সে
কি চায় সে তার মনই জানে।

আর কিছু নয়, শুধুই যে মন
সারাটি ক্ষণ আগলে রাখি
মনের চাপে কোথায় যাবো
হারিয়ে যাওয়া রইলো বাকি
সব হারিয়ে দাঁড়াই আমি
পথের মাঝে যাই নি থামি
আমার পথেই চলছি শুধু- অবাক চোখে তাকিয়ে থাকি।

আগরতলা, ০৬/০১/২০১৫ ইং ।

Nabadibakar_Writer_11

কে আর
- প্রণব বসুরায়

ধরা যাক সব ছিলো বিলকুল ফাঁকা
আমি তাও ঢুকতে পারি নি অক্লেশে--
অক্লেশ শব্দটি খুবই প্রাচীন, তাও
খসে পড়া কোন তারা বলেনি,'এসো,
আমার ঘরেতে আজ অন্নভোগ খাও--
একটু জিরোও তার আগে, পা ধোওয়ার জল
এই দিকে আছে, শীতলপাটি রেখেছি বিছিয়ে...'

দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখেছি কোন ঝঞ্ঝা আছে কিনা
অথবা বখাটে গোয়েন্দা কোনখানে সাপ-লু্ডো খেলে,
শিক্ষক কি ভাবে শিখিয়ে দেয় অন্তর্ঘাতের কলা কৌশল
আর ধরা-মাছ নিচু জলে খাবি খেতে থাকে

এইসব নিরীক্ষণে, আমিও কিছুটা বদলাই
ওয়াচ টাওয়ারে উঠে কে আর আগ্রাসী বাঘের দিকে
সমর্থনের পতাকা নেড়েছে !

বন ভেসে যাচ্ছে চাঁদের বন্যায়
এখন একাই আছি --সেই জলে সাঁতার কাটার...

Nabadibakar_Writer_46

তারার আলো-চাঁদের হাসি
- বিভূতি চক্রবর্তী

তারার আলো নিভিয়ে দিয়ে
মেঘেরা সব বেড়ায় এসে,
মেঘলা আকাশ নীরব নিঝুম
আকাশ তবু উঠলো হেসে।

চাঁদের হাসি লুকায় এবার
চপল মেঘের ছায়ার মাঝে
শিশুরা সব ভয়েই নীরব
শব্দ করেই বজ্র বাজে।

মাটির মানুষ আমরা যখন
তাকিয়ে দেখি আকাশ-পানে,
নিঝুম রাতটি স্তব্ধ তখন-
আকাশ মুখর প্রাণের টানে।

আগরতলা, ১৮/১১/২০১৫ ইং ।

Nabadibakar_Writer_69

পুনর্জন্মের প্রেম
- মাছুম কামাল

১০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখে নাও অনু, তোমার জন্য বুক পেতে কষ্টের চাষ আমি-ই করতে পারি।
ভাঙ্গা শব্দ দিয়ে কবিতা আমি-ই লিখতে পারি।
তোমার জন্য পরিযায়ী পাখির মত এক জীবন আমি-ই কাটাতে পারি।
শহরের বুকে সাজোয়া যান পেরিয়ে আমি-ই বিদ্ধ হতে পারি তাজা বুলেটে।
হলফ করে বলে দিলাম, মিলিয়ে নাও;
আমি-ই তোমার পুনর্জন্মের প্রেম।
তোমার সুখ সুখ বিষন্নতা।
আমি তোমার আমুদে প্রতারনার মুল।
তোমার একলা সমুদ্রের কুল।
আমি তোমার পাতা ঝরার অদ্ভুত মাতম গান।
বুকপাঁজরে আজ-ও তোমার সুগভীর কোনো টান।
২৬-১১-২০১৫.

Nabadibakar_Writer_65

বুনিয়াদ
- কৃষ্ণা দাস

কারো কাছে হয়তো অন্ধকারই আলো-
সত্যি আলোরা বিদ্রুপে খ্যেঁপায় ।
কারো কাছে প্রাণঘাতি ধ্বংসই ভালো-
অনাসৃষ্টি যন্ত্রণা মাথাকুড়ে খায়।
কারো কাছে বিশ্বাস নীল শ্বাসহীন-
কবরে নিথর পড়ে আস্থার শব ।
কারো কাছে বিদ্রোহী শোষিত চেতন
মুষ্টিবদ্ধ আস্ফালন, অথচ নিরব ।
কেউ কেউ টান মেরে ছিঁড়ে দেয় আশা
ভরে দেয় কার্বলিক ভরসার মনে ,
দাউ দাউ পুড়ে ছাই আত্মার ঘর
নিরো’র বিষাদ গায় সংগোপনে ।
কারো কারো বেঁচে থাকা ভুল করে বাঁচা
পরাজিত ঘুনধরা নষ্ট জীবন ।
ঠকবাজ পৃথিবীর খুবলানো থাবায়
প্রাণপণে চাপা দেওয়া রক্তক্ষরণ ।
এভাবেই কারো কাছে স্থবির সময়
রেখে যায় বিষাক্ততায় মৃত্যুর স্বাদ।
তবুও গোপনে গোপনে ‘আগামীর জয়’
স্বপ্নের চাষ হয়- বাঁচার বুনিয়াদ ।

Nabadibakar_Writer_46

দুঃখ-সুখের শেষ হিসাব
- বিভূতি চক্রবর্তী

দুঃখকে আমি ভয় করিনি-কো, দুঃখই আমার সাথী,
সুখের নেশায় কারো কাছে কভু চাইনি আসন পাতি-
আমার জীবন,আমার মরণ,আমারেই শুধু বেঁধে রাখে-
কে আমায় আজ মৌন ইশারায় পিছু পিছু এসে ডাকে?
দূরের বন্ধু! দূরে থেকোনাকো আসবে না মোর কাছে-
নিজেরে নিয়ে তো বিব্রত নই, তোমরা জড়াও পাছে।
দুঃখ-সুখের কিনারায় এসে, হাসি জীবনের শেষ হাসি-
বাজিয়ে গেলাম সামনে এসেই বিদায়-বেলার শেষ বাঁশী।

আগরতলা, ২৯/১১/২০১৫ ইং ।

 

Nabadibakar_Writer_30

স্মৃতির বেদনায়
- মনিরা ফেরদৌসি

স্বপ্ন ছিল নয়ন কোনে
আজ কেন সে শ্রাবণ হয়ে
পড়ল ঝরে মনের কোনে।
ছিলে তুমি গহীন মনে
আজ কেন হায় ব্যাথার গাঙে
শ্যাওলা হয়ে স্মৃতি ভাসে।
কষ্ট জমে আছে মনে
বালুচরি পথের খোঁজে
চেয়ে থাকা উদাসিনী।
ব্যাথা ভরা স্মৃতিতে
আর কতকাল থাকব
চেয়ে এমন করে ভূতলে।

আয়না
- রীতা ঘোষ

তোমার ভুল দেখলে
আয়না হয়ে যাই
আমার ভুল দেখাতে
তুমিও তাই ...
আপন ত্রুটি খুঁজতে
আয়না কোথা পাই ...
নিজের পিঠ দেখতে যে
দুটো আয়না চাই ।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ২৭ ( বাঙালির ভাত )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


বাঙালির প্রধান খাবার ভাত। এটি কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাবার। শর্করাজাতীয় খাবার (যেমন—ভাত, আলু, রুটি) দেহে শক্তি জোগায়, মাংসপেশিকে করে বলিষ্ঠ এবং রোগ-জীবাণুর সঙ্গে বাড়ায় দূরত্ব। সাদা চালের তুলনায় গ্রামের ঢেঁকিছাঁটা চালে পুষ্টি বেশি। তাই পাওয়া গেলে ঢেঁকিছাঁটা লালচে চালের ভাত খান। কারণ, লালচে চাল ভিটামিন ‘বি’-তে ভরপুর।
ভিটামিন ‘বি’ বেরিবেরি রোগ প্রতিরোধ করে এবং দেহের স্নায়ুগুলোকে করে শক্তিশালী। বয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের শিরা-উপশিরার স্নায়ুগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। পরিণামে তৈরি হয় নানা রকমের জটিলতা। এই অসুখটির নাম অ্যালজাইমারস। এ সমস্যার অপর নাম হলো স্নায়ুবৈকল্য। গবেষণা করে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ভিটামিন ‘বি’ খায়, তাদের স্নায়ু দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে কম।
ভাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ট্রাই-গ্লিসারাইড নামক উপাদান, যা দেহের ওজন বাড়ায়, শরীরকে করে সচল। ক্যালরি বা শক্তি রয়েছে ভাতে। এই ক্যালরি মানুষকে দেয় দ্বিগুণ পরিমাণে কাজ করার ক্ষমতা।
ভাতের শর্করা দেহের প্রতিটি রক্তকণিকাকে করে অধিক কার্যকর। তবে যাদের বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বেশি, তাদের জন্য অল্প পরিমাণে ভাত প্রযোজ্য।
ভাত রক্তে বাড়ায় চিনির পরিমাণ, যা ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। যাঁরা দৈহিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের জন্য ভাত উপযুক্ত খাবার। তবে এ ক্ষেত্রে ভাতের সঙ্গে অন্যান্য খাবারের সাম্যাবস্থা থাকতে হবে। অর্থাৎ, ভাতের তুলনায় সবজি ও আমিষের পরিমাণ (মাছ, মাংস, ডাল, ডিম, যেকোনো সবজির বিচি) বেশি থাকা উচিত। আর ভাতের মাড় ফেলে না দিয়ে মাড়সহ ভাত খান। এতে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে।

Nabadibakar_Writer_66সহোদর
- আবু রাশেদ পলাশ


চলতি পথে তোরাব আলীর কবরটা চোখে পড়ে সহসায় । কলিমুদ্দির বড়ঘরের পেছনে বাঁশঝাড়ের ঘন অরণ্য । তারই কূলঘেঁষে কবরটা । অযত্ন আর অবহেলায় যুগ যুগ ধরে পড়ে থাকে কেবল । ওর চারপাশে কাঁচা বাঁশের বেড়া দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেনা কেউ । সন্ধ্যার অন্ধকারে হাটুরে দলের একজন হয়ে ফেরার পথে কবরটা দৃষ্টিগোচর হলে বুকটা ধূরু ধূরু করে কেমন । দরগাতলা গ্রামে তোরাব আলীর বাড়িটা বাজারমুখী কাঁচা রাস্তার কূলঘেঁষে । কালের বিবর্তনে গাঁয়ে বাড়ি বাড়ি টিনের দুচালা ঘর শোভা পায় হরহামেশায়, তোরাব আলীর বাড়িতে সে দৃশ্য কল্পনাতীত । সময়ের পরিক্রমায় সংসারে লোকসংখ্যা বেড়েছে তার । সেই সাথে বেড়েছে ঘর । ছনের ছাউনি দেওয়া ছোট খুপরি ঘরগুলো এখনো সদা দৃশ্যমান এ পাড়ায় । আমাদের বয়স যখন পাঁচ কি ছয় তখন আমরা দেখেছি বুড়ো তোরাবকে । তামাটে চেহারার বেঁটে বুড়ো । মুখে আধাপাকা দাঁড়ি আর মাথায় লম্বা চুল ছিল তার । চোখে চিরকালের দীনতা, হাঁসির বড় অভাব ছিল মুখে, কথারও । পরনের লুঙ্গিটা কোমর অবধি গুঁজে পাড়ায় পাড়ায় বাহারি পণ্য ফেরি করে বেড়াতো সে । “ আয়গো মা বুজান হাড়ি নিবানি, সীসার হাড়ি সীসার কলস ”।
শীতে খেজুরের রস ফেরি করতো তোরাব আলী । তখন চোখে ঘুম ছিলনা তার । আমরা দেখেছি, পৌষের শীতে পাড়ায় ঘুরে খেজুরের রস আহরণ করতো সে । তারপর সকাল হলে কলসভর্তি রস নিয়ে গাঁয়ের পথ চষে বেড়াতো বুড়ো মানুষটা । সুযোগ বোঝে গাঁয়ের ছেলেরা জটলা করতো ওকে ঘিরে ।
-আয়গো কাহা, রস দিবানি খামু কই ?
-এক গেলাস আটআনা, আচেনি আলীর পুত ?
-কাল বিয়ানে দিমু নিয্যস আজের টেহা বাহি থও ।
শুরুতে হয়তো আপত্তি করে তোরাব আলী । পৌষের শীতে পাড়া ঘুরে সংগৃহীত রস বাকিতে দিতে ইতস্ততবোধ হয় তার । গাঁয়ের ইঁচড়েপাকা ছেলেগুলো যে হারহারামজাদা এ কথা কে না জানে ? বাকিতে রস দিলে সে টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা সামান্যই । তবুও ফেরার পথে মনে যেন বাঁধ সাধে তার । তারপর হয়তো ফ্রিতেই দু’তিন গেলাস রস ছেলেদের মধ্যে বিলি করে সে । বুড়ো তোরাব মানুষ ছিল এমনই ।
তোরাব আলীর বাড়িতে আমরা মেয়ে মানুষ দেখিনি কোনদিন । সংসারে কেবল দুটি ছেলে ছিল তার সলিম, কলিম । আদৌ তার স্ত্রী ছিল কিনা সে খবরও সঠিক করে বলতে পারতোনা কেউ । গাঁয়ের প্রবীণ ওহাব আলীকে প্রশ্ন করলে কতক্ষণ মাথা চুলকাতো সে । তারপর বলতো-
-হাঁচানি কওন যায়, বউ ঝি কোনদিন দেহিনায়গো বাপ ।
মরার আগে কষ্ট করেছে তোরাব আলী । গায়ে কি এক পচন রোগ হয়েছিল তার । দেহের মাংস খসে পড়েছিল শেষ কালে । হালগাঁও হতে দাওয়া দিতে এসে চমকে উঠেছিল বিনুমোল্লা । বলেছিল-
-সব্বনাশ । শত্তুর আছেনি তোরাব কওতো, বিষবান দিছে মালুম অয় ?
তোরাব আলী মারা যাওয়ার পর ডাঙায় তোলা চিতল মাছের মত আহাজারি করেছিল ছেলেরা । কলিম তখন নওজোয়ান, মুখে কাঁচাদাঁড়ি উঠেছে তার । সলিম আরও ছোট । বাপের কথা মনে হলে কবরের পাশে বসে আর্তনাদ করতো দুজন । প্রতিবেশী মহেদ আলী সান্ত্বনা দিত কলিমকে ।
-দিলরে সবুর দে কলিম । ভাইরে পাইল্যা ডাঙ্গর কর ।
তারপর সংসার রক্ষার্থে কলিমুদ্দিন বাপের ফেরিওয়ালা ব্যবসার উত্তরসূরি হয় । ধীরে ধীরে সংসারে খানিক সচ্ছলতা আসে তার । ঘরে বউ আসে একদিন । নবজাতকের কান্নার শব্দে গম গম করে বাড়ীটা । খুশিতে পালের বলদ জবাই করে পাড়ায় ভোগ দেয় সে । বছর না ঘুরতে সংসারী হয় সলিমও । সোনাতলা গ্রামের রূপসী কন্যাকে ভাইয়ের বউ করে আনে কলিমুদ্দিন ।
কলিম আর সলিমের সংসারটা হয়তো সুখকর হতে পারতো । কিন্তু হয়নি । একই সংসারে ভাইয়ে ভাইয়ে মিল ছিল ষোল আনা সাথে বউয়ে বউয়ে মিলের অভাবও ছিল খুব । সংসারে নানা ক্ষুদ্র ব্যাপার নিয়েও কলহ হত দুজনের । এরপর একদিন সন্ধ্যায় কলিমুদ্দিন সওদা করে বাড়ি ফিরলে একই সংসারে ঘোর আপত্তি তুলে মনয়ারা ।
-একখান কতা কমু আপনেরে, দিলে ডর পাই ।
-ডর কিয়ের ? আমিনি শত্তুর অই ?
-সলিমরে জুদা দেন । একলগে থাকুন দায় ।
বউয়ের কথায় রাজি হয়না কলিমুদ্দিন । মনে কোথাও বাঁধ সাধে তার । তারপর মনয়ারাকে শাসায় সে-
-বিষদাঁত ভাঙ্গুম মাগীর । অমুন কতা কবার নয় ।
কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়না এতে । ভাইদের দৃষ্টির অগোচরে বউদের তীক্ষ্ণ বাক্য বিনিময় আহত করে নিজেদের । সংসারের কঠিন আবর্তে পড়ে আহত হয় সলিম কলিম স্বয়ং । তারপর হয়তো বউদের বিষবাক্যেই চোখের দূরত্ব হয় দুজনে । এরপর একদিন স্বামীর কাছে সংসার আলাদা করার ইচ্ছে প্রকাশ করে হালিমা ।
-বাপের বাড়ি ছাড়ান দেও হামাক । মাগীর লগে থাকুম না কই ।
অবশেষে সংসারে সুখের কথা ভেবেই হয়তো আলাদা থাকার চিন্তা করে সলিম । কলিমুদ্দিন আপত্তি করেনা তাতে । তারপর সংসারে বিভাজন হয় দ্রুতই । একই বাড়িতে মাঝ বরাবর বাঁশের দেউরী উঠে একদিন । যৎসামান্য আবাদি জমিটুকুও ভাগ বাটোয়ারা করে নেয় দুজনে । তারপর সংসারে বউদের কুটজালে আবদ্ধ হলে ভাইয়ে ভাইয়ে দূরত্ব সৃষ্টি হয় দিনে দিনে । সে দূরত্ব গগনবিদারী, তীব্র থেকে তীব্রতর । দিনে দিনে সংসারে লোকসংখ্যা বাড়ে । দুভাইয়ের বাড়িতে একটা একটা করে ছনের দুচালা ঘর উঠে অসংখ্য ।
গেলবছর চৈত্রে অসুখে পড়েছে কলিমুদ্দিন । সারেনি এখনও । আজকাল থেমে থেমে গায়ে জ্বর আসে তার । শেষ রাতে শরীরে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে । হাকিম দশানী বাজার থেকে দাওয়া এনে দেয় বাপকে । এ পাড়ার মুগা ডাক্তার বাড়ি ফেরার পথে দেখে যায় কলিমকে । হাকিম বলে-
-শরীরখান কাতরগো ভাই । ভালা দাওয়া দেও একখান । মুগা বলে-
-বাপরে গঞ্জে নেও শিগগির । সুরত কই ভালা দেহিন্যা আইজ ।
বুড়ো বয়সে কলিমুদ্দির অসুস্থতা বিচলিত করে মনয়ারাকেও । স্বামীর এহেন দুর্দশায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয় সে । তারপর নিরুপায় হয়ে পালের বড় বলদটা বাজারে বেচে দেয় হাকিম । সিদ্ধান্ত হয় শীঘ্রই বাপকে গঞ্জে নিবে সে ।
এরমধ্যে একদিন দরগাতলার কালুগাজীর সাথে কলহ হয় সলিমের । কলিমুদ্দির তোলনায় সংসারে অসচ্ছল সে । সংসার রক্ষার্থে বছর দুই আগে বাড়ির পাশের আবাদি জমিটা মণ্ডলের কাছে বন্ধক রেখেছিল সলিম । শোধ সমেত টাকা ফেরত দিতে পারেনি আজও । সম্ভাবনাও নেই ভেবে কালুগাজী আরও কিছু টাকা নেওয়ার বিনিময়ে জমিটা লিখে দিতে বলে তাকে । সলিম আপত্তি করলে কলহ করে দুজন । তারপর ফেরার পথে শাসায় কালুগাজী ।
-হালার পুত, দিন গুনন্যা কইয়ে থুই জমির শোধ জানে নিমু ।
কালুগাজী শাসালে মনে মনে বিচলিত হয় সলিম । ঋণের টাকা শীঘ্রই শোধ না হলে এই সামান্য জমিটুকুও হারাতে হবে তাকে । গাজী কি আর যে সে লোক । এ পাড়ার মোড়ল সে । পাড়ায় সবাই সমীহ করে তাকে । উত্তরপাড়ার আরজু ঘটক সলিমের বন্ধু মানুষ । সে বলে-
-তোমার ভাই বলদ বেচছে জাননি সলিম ? হাঁচা কতা হগল কও । দিলে গোস্যা যায় থুক তোমারেনি ফেলবো হে ?
আরজুর কথা মনে ধরে সলিমের । এ গাঁয়ে আপন বলতে কলিমুদ্দিন ছাড়া কেউ নেই তার । মনে অভিমান যায় থাকুক ভাইয়ের দুর্দশা হয়তো বোঝবে সে । এরপর একদিন কলিমুদ্দির বাড়িতে দেখা যায় সলিমকে । সে বলে-
-শইলে ব্যারাম হুনি । দাওয়া নেওনি মিয়া ভাই ? কলিম বলে-
-হ, মরার ব্যারাম ছাড়েনি ? কিছু কবি মালুম অয় ?
-হাতত টেহার অভাব । গাজীর বেটায় তাগিদ দেয় ধারনি দিবা কিছু ?
কলিমুদ্দির ইচ্ছায় বাঁধ সাধে বউ ছেলে । হাকিম বলে-
-টেহানি কাহা ? বাজানরে গঞ্জে নিমু শিগগির ।
অবশেষে আশাহত হয়ে ফিরে আসে সলিম । আসার সময় কলিমুদ্দির সাথে কলহ করে সে ।
-ভাইনি, শত্তুর মালুম অয় শত্তুর । আল্লার তন গোস্যা থুই । উচিত শাস্তি দিব হে ।
সলিম কিছু বললে প্রতিবাদ করেনা কলিমুদ্দিন । চোখদুটো কেবল ছলছল করে তার । এরপর একদিন সকালে কলিমুদ্দির বাড়িতে মেয়েমানুষের আর্তনাদ শুনা যায় । গত রাতে কে বা কারা সিঁদ খুঁড়েছে কলিমের ঘরে । সবকিছু ঠিকঠাক কেবল কাঠের বাক্সে রাখা নগদ টাকা গুলো চুরি গেছে তার । সেই শোকে আর্তনাদ করে মনয়ারা । কলিমুদ্দির অসুস্থতা বাড়ে দিনে দিনে । বাপকে গঞ্জে নেওয়ার সামর্থ্য হয়না হাকিমের । সলিমের বউ হালিমা বড় ঘরের দাওয়ায় বসে কাঁথা সেলায় দিনমান । গাঁয়ের মেয়েরা পান খাওয়ার বাহানায় সমবেত হলে বুনো হাসি হাসে সে ।
-উচিত বিচার অইচেগো বু । আল্লানি বেঈমান কওতো ?
সলিমের ঋণ শোধ হলে খোশ মেজাজে থাকে সে । সেদিন কলিমুদ্দির কাছ থেকে আশাহত হয়ে ফেরার পর আরজু টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল তাকে । আজকাল প্রায়ই দশানী বাজার থেকে ফেরার পথে সলিমের বাড়ি হয়ে যায় আরজু । ও এলে দাওয়ায় বসে খোশগল্প করে সলিম ।
আষাঢ় মাসে বর্ষার ঢল নামে দরগাতলায় । বৃষ্টির অবিশ্রাম ধারা গৃহবন্দী করে গাঁয়ের দরিদ্র মানুষ গুলোকে । উত্তর হতে পাহাড়ি ঢল নামলে বন্যায় প্লাবিত গেরস্থবাড়ী গুলোকে ছোট ছোট দ্বীপের মত মনে হয় । নন্দকুসা নদীতে জোয়ার আসে এ সময় । পৌষ-মাঘ মাসে যে নদী শুকিয়ে মরা গাঙের রূপ নেয় আষাঢ় মাসে সে পূর্ণ যৌবনা । ওর বুকে তখন সওদাগরী নৌকা শোভা পায় । ঢেউয়ে নদীর তীর ভাঙে । আবাদি জমি হারায় চাষিরা । কলিমুদ্দির নদীপাড়ের আবাদি জমিটা ভাঙনের মুখে পড়লে চিন্তিত হয় সে । এহেন দুর্গতিতে ভাইপোরা রীতিমত তাণ্ডব নৃত্য করে তাকে নিয়ে । কলিমুদ্দির ছেলেরাও কলহ করে তাতে ।
আউসের মওসুমে ক্ষেতে হাল দেওয়ার বলদ থাকেনা কলিমুদ্দির । মাঝিপাড়ার জয়নাল তার হালের গরুটা দিতে চেয়েছিল তাকে । গতকাল এসে না করে গেছে সে । সলিমের হাল নিয়ে ভাবনা নেই । গোয়ালে জোড়া বলদ আছে তার । ওর ছেলে নালু মজুরীতে জমি চষে দেয় । আউসের মওসুমে নগদ টাকার মালিক হয় । নিরুপায় হয়ে সলিমের বলদটা একদিন চাইতে যেতে হয় কলিমুদ্দিনকে । রাজি হয়না সলিম । সুযোগ বোঝে দু’চার কথা শুনিয়ে দেয় উল্টো ।
-বলদনি ? হাল দিমু নবার ক্ষেত । হামাক ক্ষেমা দেও ।
আশাহত হয়ে ফেরার পথে বড় রাস্তার মোড়ে প্রকাণ্ড বটগাছটার নিচে বসে বিশ্রাম নেয় কলিমুদ্দিন । হিন্দুপাড়ার বিনুবংশী গরু ঘাস খাওয়াতে গেলে চোখাচোখি হয় দুজনের । বিনু বলে-
-বলদ পায়লানি কলিম ভাই ?
-নাগো ভাই । নিমুকহারামি ।
-ছাড়ান দেও । আমার বলদ নিও কাইল ।
অবশেষে বিনুর বলদে হালের ব্যবস্থা হয় কলিমুদ্দির । বিনিময়ে মোটা টাকা গুনতে হয় তাকে । এর দিন দশেক পর আবার কলহ হয় সলিম কলিমের মধ্যে । সেদিন সলিমের পালের বাছুরটা ঘাস খেতে কলিমের খেতে গেছিল । হাকিমের দৃষ্টিগোচর হলে ধরে এনে দিনভর গোয়ালে বেঁধে রেখেছিল সে । সন্ধ্যায় নালু সারা গ্রাম বাছুর খুঁজে হয়রান হয়েছে । ফেরার পথে নকু জানায়-
-তগো বাছুর হাকিম নিছে মালুম অয় । খোঁজ নে শিগগির ।
তারপর বাছুর আনতে যেয়ে হাকিমের সাথে কলহ করেছে নালু । ক্ষিপ্ত হাকিম জোরে ঘুষি দিলে নাক দিয়ে রক্ত বের হয়েছে তার । অবশেষে ফেরার পথে চিৎকার করেছে নালু ।
-হালারপুত, হামাকনি মারলি আইজ । জান নিমু ডরাইস ।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেদিন কলহ হয় ভাইয়ে ভাইয়ে । ওরা কলহ করলে গাঁয়ের ছেলেরা থামানোর চেষ্টা করে দুজনকেই । ষাটোর্ধ্ব করিম গাজী ধমকায়-
-ইতা কেমুন কাম অইলো, ভাইয়ে ভাইয়ে কলহ ভালানি ? এরপর ভরা মজলিসে একদিন অভিযোগ করে সলিম ।
-বাপের ভিটায় ঠহায়চে হামাক । জমি হগল মাপুম কই ।
ওর কথা শুনে চিৎকার করে কলিমুদ্দিন- নিমুকহারাম, বাপের ভিটায় শিকলনি । জান দিমু জমি দিমুনা নিয্যস ।
কালুগাজীর উপস্থিতিতেও সেদিন কলহের মীমাংসা হয়না দু’পক্ষে । অবশেষে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায় সবাই । এর কদিন পর কলিমুদ্দির পালের বলদটাকে কোপিয়ে আহত করে সলিমের ছেলেরা । সেদিন দড়ি ছিঁড়ে সলিমের খরের গাদায় মুখ দিয়েছিল সে । এই অজুহাতে নালু হাতের কাস্তে দিয়ে কয়েকটা কোপ দিয়েছে শরীরে । চামড়া কেটে রক্ত বেরিয়েছে বলদটার । সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করেনি পাষণ্ডটা । বলদের গায়ে আঘাতের চিহ্নগুলো দেখে শিউরে উঠে কলিমুদ্দিন । তবে অন্যান্য দিনের মত উপযাচক হয়ে কলহ করেনা সে । হাকিম কিছু বলতে গেলে বাঁধা দেয় বরং ।
-গোস্যা ক্ষেমা দে হারামিরপুত, গাওনি তর একলা জ্বলে ?
কলিমুদ্দির এমন কথায় খুশি হতে পারেনা হাকিম । মনে মনে হয়তো রাগটা পোষে রাখে সে ।
এরপর আশ্বিন মাসের এক সন্ধ্যার ঘটনা । একদিন বাজার থেকে সওদা করে বাড়ি ফিরছিল সলিম । কলিমুদ্দির বাড়িটা পেরিয়ে আসার সময় হাকিম আর নবার দ্বারা বাঁধাগ্রস্ত হয় সে । “ হারামিরপুত ”-বলে ধমক দিলে এক কথায় দুই কথায় ক্ষিপ্ত হারু নিজের কাছে থাকা লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে মাথায় । পরমুহূর্তে “আল্লাগো” বলে মাটিতে লুটিয়ে পরে সলিম । ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয় হাকিম । এরপর চোখের পলকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় দুজনই ।
ছেলেদের এমন কর্মে হতভম্ব হয় কলিমুদ্দিন স্বয়ং । গাঁয়ের বড়োরা তিরস্কার করে তাকে । করিম গাজী বলে-
-ইতানি কাম অইলো কলিম, পুলা দিয়্যা ভাইরে মারলা ?
করিম গাজীর কথার সহসা জবাব দেয়না কলিমুদ্দিন । মনে মনে হয়তো সেও আর্তনাদ করে ভাইয়ের জন্য । এ খবর জানার কথা নয় গাঁয়ের কারও । সম্মুখে যা দৃশ্যমান তাই সত্যি সবার কাছে । মনের খোঁজ রাখে কে ? তারপর গ্রামবাসীর সহায়তায় আলীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় সলিমকে । পরদিন গাঁয়ের ছেলেদের প্ররোচনায় আলীপুর থানায় মামলা ঠুকে দেয় নালু মিয়া । চৌকিদার কেদারনাথ কলিমুদ্দির বাড়ীতে ছেলেদের খোঁজ করে । ব্যর্থ হলে কলিমকে বেঁধে নিতে চায় সে । কালুগাজী বাঁধা দিলে সেদিনের মত ফেরত যায় কেদারনাথ । তারপর সহসা কলহের মীমাংসা হয়না সালিশ করেও । গাঁয়ের মুরব্বীরা কলিমের হয়ে কথা বলতে গেলে অপদস্ত হয় নালুর কাছে ।
এরপর একদিন সকালে আরজুর বাড়ির দহলিজে পুরুষের কণ্ঠ শুনা যায় । বাইরে বেরিয়ে এসে কলেমুদ্দিনকে দেখে আশ্চর্য হয় আরজু । সে বলে-
-কলিম ভাইনি ? আহ অন্দরে আইয়্যা বহ ।
আরজুর ঘরের বারান্দায় বসতে দেওয়া হয় কলিমকে । আরজু আবার বলে-
-একখান কতা ভাই । গোস্যা ছাড়ান দেও । নিজের ঘরে সিঁদ দিছ হগগল জানি মুই । সলিমরে অত টেহা আমার দিওনের সাধ্যি আচিলনি ?
-পুরান কতা ছাড়ান দে ঘটক । এ গোস্যা ছাড়ুনের না ।
-হগগল কইল্যা সলিম বুঝবো নিয্যস ।
কিন্তু তাতেও রাজি হয়না কলিমুদ্দিন । ভেতরে অদ্ভুত এক অভিমান পোষে রাখে সে । রাতে প্রায়ই পালিয়ে বেড়াতে হয় তাকে । ভাইয়ের জন্য মন পুড়ে তার । জানো-ভালবাসার জন্য যে হৃদয়, ভালবাসাহীনতায় দগ্ধ হয় সেই । এরইমধ্যে একদিন আলীপুর থানা থেকে পুলিশ এসে জবানবন্দি নিয়ে যায় সলিমের । মনের মধ্যে থাকা অভিমানগুলো অকপটে স্বীকার করে সে । তারপর হঠাৎ একদিন সন্ধ্যায় আলীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন অপরিচিত মানুষের আনাগোনা দেখা যায় । কাঁধের গামছা দিয়ে মুখটা ডেকে রাখে সে । নালুর সামনে পড়লে ঘুরে দাঁড়ায় । এরপর সুযোগ বোঝে লোকচক্ষুর অন্তরালে সলিমের ঘরে ডুকে সে । সলিম বলে-
-কেডাগো হারুনি ?
সলিমের কথার সহসা জবাব দেয়না কলিমুদ্দিন । মুখের গামছাটা সরিয়ে নিলে হতভম্ব হয় সলিম । সে বলে-
-মিয়া ভাই……….
-হ ।
-হাতত কিছু মালুম অয় ।
-পান্তা, লগে বিমুট্টে কলা । ন্যাংটাকালান খাইতি কত ।
তারপর হঠাৎ চোখাচোখি হলে দৃষ্টিগোচর হয় সত্যটা । দুজনেরই চোখে জল এসেছে কখন যেন অথচ লোকানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা । সলিম বলে-
-আহ ভাই মিলল্যা খাই ।



০৫/০৮/২০১৫


Nabadibakar_Writer_46

হাসির আড়ালে
- বিভূতি চক্রবর্তী

হাসির আড়ালে তোমার মুখে আজকে কিসের এ কান্না,
আঁখি দু'টি কেন ছলছল? মনে হয় বুঝি কোন পান্না।
বিবাগী মনের ছায়ায় এসেই শুধু অকারণে দীপ্তি ছড়ায়,
আবেগের বেগ তাই এসে বুঝি শূন্য এ হৃদয়টি ভরায়।
কান্না-নদীতে অকারণ ঢেউ তুলে কি বলবে তুমি বল?
যা কিছু রইল তোমার অশান্ত মনে,সেখানেই ফিরে চল।
এবার থামাও তো কান্নার ঢেউ, অশ্রুর বোঝার রাশি?
খোলা মন নিয়ে ফিরে এসে দেখি,তোমার মুখের হাসি।

আগরতলা, ২৩/১১/২০১৫ ইং ।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ২৫ ( উপকারী সবজি কচুর লতি )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


এই মৌসুমের সবজি কচুর লতি। প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে এই সবজিতে। প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গর্ভস্থ অবস্থা, খেলোয়াড়, বাড়ন্ত শিশু, কেমোথেরাপি পাচ্ছে—এমন রোগীদের জন্য কচুর লতি ভীষণ উপকারী। এতে ক্যালসিয়াম রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করে ও চুলের ভঙ্গুরতা রোধ করে। এই সবজিতে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশের পরিমাণ খুব বেশি। এই আঁশ খাবার হজমে সাহায্য করে, দীর্ঘ বছরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যেকোনো বড় অপারেশনের পর খাবার হজমে উপকারী পথ্য হিসেবে কাজ করে এটি। দেহের বর্জ্য বের করার জন্য চাপ দিলে যেকোনো অপারেশনের পর সেলাইয়ের স্থান দুর্বল হতে পারে। এর জন্য খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে পানি, শাক-সবজি, বিশেষত কচুর লতি। তবে খেয়াল রাখুন যাঁদের কিডনিতে সমস্যা রয়েছে তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করবেন। বিশেষত যাঁদের কিডনিতে ডায়ালাইসিস হচ্ছে তাঁরা পানি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হবেন।
ভিটামিন ‘সি’ও রয়েছে কচুর লতিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে, যা সংক্রামক রোগ থেকে আমাদের দূরে রাখে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে দ্বিগুণ শক্তিশালী। ভিটামিন ‘সি’ চর্মরোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। কিছু পরিমাণ ভিটামিন ‘বি’ হাত, পা, মাথার উপরিভাগে গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ে ঝিঁ ঝিঁ ধরা বা অবশ ভাব—এ সমস্যাগুলো দূর করে। মস্তিষ্কে সুষ্ঠুভাবে রক্ত চলাচলের জন্য ভিটামিন ‘বি’ ভীষণ জরুরি। এতে কোলেস্টেরল বা চর্বি নেয়। তাই ওজন কমানোর জন্য কচুর লতি খেতে বারণ নেই। খাবার হজমের পর বর্জ্য দেহ থেকে সঠিকভাবে বের হতে সাহায্য করে। তাই কচুর লতি খেলে অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে খুব কম। আয়োডিনও বসতি গড়েছে কচুর লতিতে। আয়োডিন দাঁত, হাড় ও চুল মজবুত করে। অনেকেই কচুর লতি খান চিংড়ি মাছ দিয়ে। চিংড়ি মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল। তাই যাঁরা হূদেরাগী, ডায়াবেটিস ও উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলজনিত সমস্যায় আক্রান্ত বা উচ্চ রক্তচাপে (হাই ব্লাড প্রেশারের) ভুগছেন তাঁরা চিংড়ি মাছ শুঁটকি মাছ বর্জন করুন। ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, হাই ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণে থাকলে অল্প পরিমাণে চিংড়ি মাছ খেতে পারেন কচুর লতিতে। তবে মাসে এক দিন অবশ্য ছোট চিংড়ি মাছ দিয়ে খেতে পারেন। বড় চিংড়িতে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি, তাই পরিহার করা ভালো। কচুর লতি বাড়ায় না রক্তে চিনির মাত্রা। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা নিঃসংকোচে খেতে পারেন কচুর লতি। তবে কচুতে (যেটা মাটির নিচে থাকে) রয়েছে শর্করার পরিমাণ বেশি, যা ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য পরিমাণে অল্প খাওয়াই উচিত। মাটির নিচে জন্মানো সবজিতে শর্করা ও চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। যেমন: আলু, গাজর, মুলা, ওল, মিষ্টি আলু, কচু ইত্যাদি। কিন্তু কচুর লতিতে চিনির পরিমাণ থাকে খুব সামান্য, তাই কচুর লতি সুস্থ-অসুস্থ সবার জন্যই উপকারী।

শরীর স্বাস্থ্য : চোখের যত্নে ভিটামিন ‘এ’
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার, গাইনী এ্যান্ড অবস,
স্কয়ার হসপিটাল, ঢাকা।


ছোট্ট বন্ধুরা তোমরা সবাই জানো, চোখ আমাদের ভীষণ জরুরী অঙ্গ। ছোট বেলা থেকেই আমরা যদি চোখের প্রতি যত্ন শীল না হই তাহলে অকালেই চোখ আক্রান্ত হবে নানান রকম অসুখে। তাই শৈশব থেকে খাদ্যাভাস, চোখের যত্নের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিৎ। ছোট্ট সোনামনিরা তোমাদের পড়ার চাপ আমাদের সময়ের তুলনায় অনেক বেশী। অনেক কৌশল করে তোমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে নিজের চোখের যত্ন নেবার উপায়। এজন্য ছোট বেলা থেকেই খাদ্যাভাস ও জীবন যাপনের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। মানুষের চোখের জন্য পুষ্টিকর খাবারগুলোর মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ যথেষ্ট দরকারী। ভিটামিন ‘এ’ যুক্ত খাবারগুলো হলো ছোট মাছ যেমন- মলা, ঢ্যালা, ছোট কাঁটা যুক্ত মাছ, বিভিন্ন রকমের মৌসুমী ফল যেমন- আমড়া, পেয়ারা, আতা, চালতা, কামরাঙ্গা, বড়ই, ডাবের পানি, নারিকেল, খেজুর, আপেল, আঙ্গুর, ডালিম। পাশাপাশি ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন রকমের শাক সব্জিও খেতে হবে। লাল শাক, পালং, পুঁই, মিষ্টি কুমড়ার শাক, সবুজ শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ ও নানান রকমের ভিটামিন। সোনামনিরা চকোলেট, চিপস, ললিপপের চেয়েও এই খাবারগুলো বেশী পুষ্টিকর। তোমাদের খেতে খারাপ লাগলেও এই খাবারগুলোর অভ্যাস চোখের জন্য জরুরী। তবে ভিটামিন ‘এ’ সর্বাধিক বেশী দরকার হয় শিশুদের।


ভিটামিন ‘এর’র অভাবে চোখে রাতকানা, চোখের মনিতে কালচে দাগ, চোখ দিয়ে পানি পড়া, দৃষ্টি স্বল্পতা হয়। ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা বুদ্ধি হবার পর থেকেই দেখতে পাচ্ছো কম্পিউটার, ট্যাব, ল্যাপটপ। নিঃসন্দেহে এই জিনিসগুলো ভীষণ জরুরী। কিন্তু ছোট্ট সোনামনিরা অনেকেই এতো বেশী গেম (game) খেলে যে, তাদের চোখের উপর ভীষণ চাপ পড়ে। আর সেই সাথে পুষ্টিকর খাবারের প্রতি অনীহা এবং চোখের জন্য উপকারী খাবার সম্পর্কে অজ্ঞতাও শিশুদের চোখের অবস্থা খারাপ হবার জন্য দায়ী।


পিতা মাতার ব্যস্ততা, শিশুদের খেলার জায়গার অভাব, ঘরের বাহিরের নিরাপত্তাহীনতা শিশুদের ঘরকুনো হয়ে যাবার আরেকটি কারণ। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বেড়ে গেছে স্কুলগুলোতে পড়ার পাঠ্যসূচী। খাবারে ভেজাল, পরিবেশ দূষণ এই পরিস্থিতির জন্যও দায়ী। তাই ছোট্ট বন্ধুরা যতোটা সম্ভব শরীরের যত্ন নিও।


দীর্ঘ সময় যাবৎ টিভি দেখা, ট্যাবে বা ল্যাপটপে গেম খেলা বন্ধ করতে হবে। বন্ধুরা তোমরা ঘরে বসেই খেলতে পারো, দাবা, ক্যারামবোর্ড বা আরো কিছু। এই প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার জন্য প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে। তাই অবশ্যই কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব চালানো জানতে হবে। তবে সেই সাথে খেয়াল রেখো, প্রযুক্তি ব্যবহারে যেন নিয়ন্ত্রণ থাকে।


ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার, অনেক পড়াশোর পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম, সারাক্ষণ হাসি খুশী থাকাটা চোখ ভালো রাখার জন্য ভীষণ জরুরী।


ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা অনেক বড় হও। তোমরা হও সুস্থ্য সবল দেহ ও মনের অধিকারী। তোমার দুই চোখ ভরা স্বপ্ন সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক বাংলাদেশ।

Nabadibakar_Writer_24_

অপ্রকাশিত কাব্য
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

বাস্তব ঘটনা প্রবাহ নিয়ে, কখনো আবার কল্পনার ভাবনায় তুলে ধরে রুপ পাই কবিতায়, প্রকাশিত ডাইরির পাতায়,
একটি একটি কবিতার ছন্দমালা আবদ্ধ ডাইরির পাতা ভেদ করে রূপপাই কাব্যের জলন্ত তারা হয়ে প্রতিবাদি কলমে প্রতিবাদি
...............................................ভাষায়।

কিন্তু সেই কবিতা গুলো...........কোথায়?
সেই পুরোনো ডাইরি থেকে বেরিয়ে আসেনি,
সৃষ্টি হয়নি কোন তার সাঁজানো ছন্দের কাব্য
প্রকাশ পাইনি কোন বইমেলায়, কোন ফেব্রয়ারি মাশে তার কবিতার রাজ্য।
..................... ................... তাহলে কোথায়?

স্বপ্ন গুলো স্বপ্নময় কবির অধরা রয়ে গেলো হাজারো বাস্তবতার কবিতা আস্তাকুরে থাকে উইপোকা বাসা বেঁধেছে ডাইরির প্রতিটি পৃষ্ঠায় তবুও আজো হলো না ছাপা কোন পত্রিকার
.................................. সাহিত্যের পাতায় বয়সটা হলো আশি কিংবা সত্তর চশমাই
একমাত্র অবলম্বন তার-------------------------
তবুও হারিয়ে যাইনি শক্তি কবিতা লেখার
তিনি ভেবেছিলেন হয়তো আমি দেখবো না আমার কবিতার সাঁজানো মেলা,দেখবোনা কোন কাব্যের খেলা।
আজো কি হয়েছে গ্রাম বাংলাই পরে থাকা
সেই স্বপ্নচারি কবির কোন কবিতা ছাপা,না উইপোকার বাসায় ঝরিত মাটির ঝন্দে ঝন্দে হারিয়ে গেছে,.................সেই গ্রাম বাংলার
গ্রাম্য কবির কবিতা।

 

ভাংগা তরী

- মুহাম্মদ তোফায়েল হোসেন মুকুল

 

তোমার দেয়া স্বর্ণ আখরে রচিত স্মৃতিময় পত্রগুলি

আজও রেখেছি হৃদয় সিন্দুকে ভরে খুবই সযতনে,

এখন আর ভাবতে পারিনা ভাংগা হৃদয়  নিয়ে

কল্পনায় অংকিত, সাজানো তোমার আমার

বিচিত্র খেয়ালীর পৃথিবীকে, শুধু

আজও মনে মনে হাতড়িয়ে বেড়াই

সোনা ঝরা স্মৃতি আলেখ্যযুক্ত অমর বানী গুলো,

যা ছিল তোমারই,  এই আমাকে একেবারে সমর্পণ।

 

তোমার কন্ঠস্বরের মোহময়ীতা চোখ বন্ধ করলে

কর্নকুহরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেজে উঠে,

মায়াময়ী উচ্ছল মুখাবয়ব চন্দ্রালোকিত হয়ে হঠাৎ

পোড়খাওয়া  জ্বালানি কাষ্ঠ সম অংগার হৃদয়ও কল্পনায়

আজ আলোকিত হয় ।

তোমার ভূলুন্ঠিত করা পদদলিত ভালোবাসার আর্তনাদ

আষ্টেপৃষ্ঠে বেধে রাখিবার চায়,

বারবার আমাকেই কুড়ে কুড়ে খায়,

তৃষ্ণা মেটায় কলিজা চৌচির করে রক্তসুধা পানে,

আমার কি আর হিম্মত আছে এ উচ্ছাসে বাধা দেয়ায়।

 

তোমার টোল পড়া গালে হাসির একটা ঝলক দেখার স্বপ্ন আজও

তাড়িয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা অতীতের দরজায়,

ঝরা পাতার মরমর ধ্বনিতে ব্যাকুল আকুতি প্রানে

ওরুপ দরশন পাওয়ার,

আজি এ অবেলায় হারানো দিনের হিসেব-নিকেশ মেটাতে গিয়ে

বারবার চোখের পাতা ঝাপসা হয়ে আসে,

হৃদয়াকাশ হতে ঝমঝমিয়ে বারিধারা বরিষণ,

বুকের নদীতে বান ডেকেছে আর সেথা

আমি এক ভাংগা তরী।।

 

১৬/১১/২০১৫

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ২৪ ( কাঠবাদাম-কাহিনি )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


কাঠবাদাম উৎসবের খাবারে একটি পরিচিত নাম। আমরা কাঠবাদামকে ক্ষীর, পায়েস, সেমাইয়ের সঙ্গেই দেখতে অভ্যস্ত। আমরা অনেকেই জানি না যে কাঠবাদাম খালি মুখেও খাওয়া যায়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। যেকোনো বড় অস্ত্রোপচারের পর বা দেহের কোনো হাড় ভেঙে গেলে, কাঠবাদাম খেলে হাড় পুষ্টি পাবে দ্রুত। লম্বা আকারের বাদাম, খোসা (পাতলা আবরণ) ছাড়িয়ে খেতে হয়। কাঁচা খেতে পারলে খুব ভালো। কাঁচা হজম করতে না পারলে পানিতে ভিজিয়ে খাবেন। বাদামের ওপর পাতলা বাদামি বা খয়েরি রঙের আবরণ থাকে। পানিতে ১০ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলেই খোসাটা উঠে যায়। চিবিয়ে বা খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে সেদ্ধ করে খাওয়া যায়।
গর্ভবতী মহিলা, বাড়ন্ত শিশু ও মেনোপোজ (চিরতরে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া) হয়ে গেছে—এমন নারীদের জন্যও কাঠবাদাম ভীষণ জরুরি। কারণ, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। আবার বয়স্ক নারী ও পুরুষের জন্যও এই বাদাম ভীষণ জরুরি। কারণ, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষ করে আমাদের দেশে ৪০ বছরের পর বেশির ভাগ মানুষের অসটিও পোরোসিস হয়, এই অসুখে হাড় দুর্বল হয়ে যায়, যা পুরো শরীরের ওপর ফেলে ক্ষতিকর প্রভাব। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজন দেহের ওজন কমানো, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা ও নিয়মিত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া।
মেনোপোজ হয়ে যাওয়া নারীদের হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। তাঁদের দেহে জরুরি অনেক হরমোন তৈরি হয় না (হরমোন শরীরের জন্য উপকারী উপাদান)—এমন অবস্থায়ও কাঠবাদাম হতে পারে আপনার বন্ধু। প্রতিদিন সর্বোচ্চ তিনটা খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীরের জন্য জরুরি অনেক উপকরণ রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ত্বকে জোগায় পুষ্টি, সাহায্য করে বার্ধক্যকে দূরে ঠেলতে। ত্বকের অসুখগুলোকে দূরে রাখে।
দাঁত, হাড়, নখ, চুলকে উজ্জ্বল ও সুন্দর করতে এই বাদামের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তবে সবাই হজম করতে পারে না। অবশ্যই নিজের হজমক্ষমতা বুঝে বাদাম খান।

Nabadibakar_Writer_43

অপরাধ
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

আমি অপরাধী,
তোমাকে ভালোবাসার মতো গুরুতর অপরাধটি আমি করেছি।
অপরাধ করেছে আমার হৃদয়
তোমায় জায়গা দিতে গিয়ে সে তার পবিত্রতা হারিয়েছে
যে অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করতে সে আজ নির্বাসিত
প্রেমের বেলাভূমিতে জলোচ্ছ্বাস ওঠেছে
গহীন আবেগ অরণ্যে জ্বলছে দাবানল
স্বপ্ন সাগরে হচ্ছে অগ্নুৎপাত
সুখের নদীতে ধরেছে ভাঙন।
অপরাধী আমার বিবেক,
আমার অন্ধ ভালোবাসায় পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে সে
তোমায় কিয়াছে চাওয়া বড়ো অপরাধ জেনেও সে আমায় থামায়নি
বরং তৈরী করেছে ভ্রান্ত লজিক
তোমার স্বার্থক অভিনয় দেখে সে মূর্ছা গেছে।
পাপিষ্ঠ আমার স্বপ্ন,
সব ভুলে সে তোমাকে আকড়ে ধরেছিলো
কেড়ে নিয়েছিলো আমার তন্দ্রা
আমায় ভুলিয়ে দিয়েছিলো জাগতিক বোধ।
আমি অপরাধি,
আমায় ক্ষমা করো।
হে স্রষ্টা, তোমার সৃষ্ট এই দুষ্ট দৃষ্টোটা দেখিয়ে যে অপরাধ করেছে
তব শ্রেষ্ঠ দরবারে আমার প্রার্থনা
আমায় ক্ষমা করো।
আমায় ক্ষমা করো।

Nabadibakar_Writer_24_

অসমাপ্ত প্রেম
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

ছেলেটি প্রতিদিন শিশির ভেজা প্রভাতে
মেয়েটির অপেক্ষায় থাকতো দাঁড়িয়ে
হৃদয়ে অনেক কাব্য লুকিয়ে রেখে,ভাবতো
এইবার শেষ মেশ ভালবাসি বলবোই তাকে।

কিন্তু....................................................
মেয়েটি তার স্বমুখে আসলেই ছেলেটি,
হয়ে যেতো ছন্দছারা,
বুকে তার ধুক ধুক কাঁপুনি,আর চেহারায়
অবিরাম লজ্জার কাঁন্না।
আজকেও আর হৃদয়ে লুকিয়ে রাখা কথা
ভালবাসি হলো না বলা।

তবুও ছেলেটি প্রতিদিনের প্রতি রাতে
একটু একটু করে নয়নে স্বপ্নের বীজ বুনে।
যদি একটু মুহুর্ত..................................
সময় তার পক্ষে হয়,তবে বলবেই তাকে
সকল ভয় করে দূরিভুত হৃদয় কম্পন বন্ধ
করে,আমি ভালবাশি শুধুই তোমাকে।
কত শীত, কত বসন্ত, গৃীষ্মের উত্তাপ,
পেরিয়ে গেলো
তবুও ছেলেটির আজো বলা হল না।

হৃদয়ের ভাষা, হৃদয়ে ব্যাথা হয়ে রয়ে গেলো,
মেয়েটি চিরনাদ্রায় শায়িত, অজাগ্রত ভুবনে।
সড়ক দুর্ঘটনার কবলে ক্ষত-বিক্ষত,
জীবন কাব্যের
অসমাপ্ত প্রেম কাহিনী সৃষ্টি করে।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ২৩ ( মলা-ঢ্যালা মাছ শক্তি বাড়ায় )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


আকারে ছোট মলা-ঢ্যালা মাছ। কিন্তু পুষ্টির মূল্য বিচারে এর অবস্থান অনেক ঊর্ধ্বে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’। এই ভিটামিন চোখের জন্য যথেষ্ট উপকারী। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবার চোখের জন্য মলা-ঢ্যালা মাছ ভীষণ জরুরি। দেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ লবণও এতে রয়েছে পর্যাপ্ত। তাই ডায়রিয়া-পরবর্তী রোগীদের জন্য অল্প তেল-মসলা দিয়ে কাঁচকলা ও মলা-ঢ্যালা মাছ জোগাবে পরিপূর্ণ পুষ্টি।
এই মাছের হাড়ে রয়েছে উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ দাঁত, হাড়, চুল ও নখের গঠনে রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই এই মাছে, তাই মোটা ব্যক্তিরা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে খেতে পারেন এটি। মানুষকে রোগ-জীবাণুর বিরুদ্ধে করে দ্বিগুণ শক্তিশালী। নতুন খাবার খেতে শিখেছে—এমন শিশুদের জন্য মলা-ঢ্যালা মাছের তরকারি বা বিভিন্ন সবজির সঙ্গে এই মাছ মিশিয়ে খিচুড়ি ভীষণ পুষ্টিকর। তবে ছোটদের ক্ষেত্রে মাছের কাঁটা সম্পর্কে সচেতন হোন। বড়রা কাঁটাসহ মলা-ঢ্যালা মাছ খেতে পারলে ভীষণ ভালো। কারণ, খুব ছোট মাছের কাঁটাতেও রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম।
গর্ভবতী মায়েদের প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। এগুলো দেহে রক্ত বাড়ায়। গর্ভস্থ শিশুকে সুস্থ-সবল রাখতে পালন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এতে প্রোটিন বা আমিষ রয়েছে যথেষ্ট। আমিষ দেহে শক্তি বাড়াতে ও রোগকে দূরে সরাতে ভীষণ জরুরি। মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে (বিশেষ করে ৪০ বছরের পর থেকে) দেহে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমতে থাকে। এই ঘাটতি পুরুষের চেয়ে মেয়েদের হয় বেশি। তাই মেয়েরা নিঃসংকোচে খেতে পারেন এই মাছ।

12248822_10207372517726651_918999984_nCharlie Ke Chakkar Main (2015)
পরিচালনা - Manish Srivastav
অভিনয়ে - Nasiruddin Shah , Subrat Dutta , Disha Arora , Siraj Mustafa, Nishant Lal , Mansi Racch , Amit Sial, Anand Tiwari এবং অন্যান্যরা
রেটিং - ৫/৮
Vijay Palande এবং Simran Sood এর বাস্তব জীবন কে কেন্দ্র করে এ সিনেমা তৈরি । ২৮ বছরের তরুণ Karan Kumar Kakkar কে খুন করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন Vijay এবং Simran
সিনেমা শুরু হয় - আর দর্শকদের চোখের সামনে একের পর এক উন্মোচিত হতে থাকে নারী শরীরের নানা বিভঙ্গ , এত শরীরী সূচনার আসল কারণটা বোঝা যায় খানিক বাদেই । সমাজের নব্য প্রজন্মরা কি ভাবে ড্রাগের শিকার হচ্ছে , কি ভাবে তাদের প্রতিদিন কাটছে ড্রাগ পেডলারদের হুমকি আর শাসানি তে , কি ভাবে শরীরী খেলায় প্রতি মুহূর্তে বিক্রীত হচ্ছে তারা -- এ সিনেমা সেই চিরচেনা ছবিটিই আবার নতুন আলোয় বর্ণনা করে ।
সিনেমার শুরুর ফুটেজ থেকে ৫ জন youngstar দের দেখি আমরা - বুঝে নিই , এই উদ্ধত , অভদ্র এবং সমাজের 'বাড়তি' এই প্রজন্ম রা নানা ভাবেই ঘুরে ফিরে আসবে ছবিতে , - আর এসেওছে তাই । কোন এক রাতে তাদের হাতেই খুন হয় একজন - অবশ্যই ইচ্ছাকৃত ভাবে নয় , বরং আচম্বিতে , আর তারপরেই বদলে যায় তাদের উশৃঙ্খল জীবন -- ড্রাগ র‍্যাকেটের মক্ষীরানি ক্রমাগত ব্ল্যাকমেল করতে থাকেন তাদের । জীবনের ছেঁকে আনা কঠিন রূপটাও চেনে তারা ।
পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটে পুলিশ কমিশনার Sanket Pujari র। ভিডিও ফুটেজগুলি থেকে তাঁর আবিস্কার এর জার্নি শুরু হয় -- তিনটি প্রধান চরিত্র এবং multiple homicide এর মতো কেসে জড়িয়ে পড়েন তিনি ( সিনেমার এই অংশগুলি তে ভীষণ ভাবে মনে পড়ায় Anurag Kashyap কে ) -- সবচেয়ে ব্যাপার হল , প্রত্যেক কেই দেখা গেছে ভিডিও তে , তবুও রহস্যের জট খোলে না এত সহজে - What we see is not the truth , what we feel is the truth -- আর এই রহস্যগুলিই একটা বিরাট অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় শেষ পর্যন্ত । murder mystery র গ্রিপ টাই হারিয়ে যেতে থাকে শেষ পর্যন্ত ।
সিনেমাটি আসলে দু ভাগে বিভক্ত -- প্রথম হাফে ঘটে যাওয়া ক্রাইমের একটা স্পষ্ট ধারণা পাই আমরা আর দ্বিতীয় হাফ পুরোটাই investigation
এই হল মোটামুটি গল্পের প্লট -- কিন্তু Charlie ke Chakkar Main এর চার্লি আসলে কে ? এই ধ্বন্দ্ব টা থেকেই যায় , আসলে চার্লি হল কোকেনের অন্য নাম - যে কোকেনের নেশায় পাঁচ জন young adult খুন করে বসে Sanam Singh কে আর মৃত ব্যক্তিটির ওপর যে কাজের দায়িত্ব অর্পিত ছিল , সেই দায়িত্বটা স্বভাবতই এসে পড়ে এই পাঁচজনের ওপর । দুটি সুটকেস ভর্তি চার্লি (কোকেন ) ডেলিভার করার কাজ অতর্কিতে এসে পড়ে তাদের মাথার ওপর , ঘটনার complexity আরও বাড়ে যখন তাদেরই এক বন্ধু এই পুরো ব্যাপারটাই শট করে ক্যামেরায় ।
অভিনয়ে প্রথমেই বলতে হয় Nasiruddin Shah র কথা । কমিশনার Sanket Pujari র ভুমিকায় তাঁর অভিনয় একেবারে যথাযথ এবং চরিত্র উপযোগী । -- তাঁর সহযোগিনী হিসেবে Auroshikha De র অভিনয় ভালই লাগে । যে পাঁচজন এর ওপর সিনেমার সিংহ ভাগ ন্যস্ত - সেই Amit Sial, Anand Tiwari, Manasi Rachh, Disha Arora, Aanchal Nandrajog চূড়ান্ত ভাবেই ব্যর্থ । বড্ড চড়া দাগের লাগে তাঁদের অভিনয় । ড্রাগ পেডলার সোহেলের ভুমিকায় Subrat Dutta র অভিনয় চরিত্রের সাথে পুরোপুরি মানানসই ।
ঘটে যাওয় একই ঘটনার বারবার narration কিছুটা একঘেয়েমী আনলেও শেষ হাফে দারুণ Interesting Twist এর মাধ্যমে সেই ড্র ব্যাক অচিরেই কাটিয়ে ওঠে এ সিনেমা ।
ড্র ব্যাক হিসেবে উল্লেখ করতে হয় abusive language এর কথা । এতটা রাফ না হলেও বোধহয় চলতো ।
সব মিলিয়ে Charlie Ke Chakkar Main বেশ উপভোগ্য একটি Investigative Thriller


চলচ্চিত্র পর্যালোচনা : ফিরে দেখা সিনেমাপিয়ালী বসু

পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকার
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


বিদায় নিতে শুরু করেছে শীতকাল। এই সময়ের অন্যতম একটি সমস্যা হলো পায়ের তলা বা গোড়ালি ফেটে যাওয়া। এর কারণগুলো হলো:
১. শীতকাল বা যেকোনো শুষ্ক আবহাওয়াতে পায়ের ত্বকে আদ্রতার পরিমান কমে আসে। তখন তৈরি হয় পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়ার প্রবণতা।
২. অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল, ধূলাবালি, তীব্র পানি শূন্যতা, দীর্ঘদিন ধরে যত্নের অভাব, অপরিচ্ছন্ন জুতা পরিধান, অতিরিক্ত পুষ্টির অভাব।
৩. দীর্ঘ বছর ধরে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা বংশগতভাবে পায়ের তলা বা গোড়ালি ফেটে যাওয়ার ইতিহাস।
৪. সারাক্ষণ কাঁদা-পানিতে পায়ের গোড়ালি ভিজে থাকলেও এই সমস্যা হতে পারে।
৫. অল্প ফেটে গেছে এমন জায়গার চামড়াকে জোরে জোরে টেনে তোলা বা ছিড়ে দেওয়া।
৬. অতিরিক্ত অমসৃণ জুতা ব্যবহার করা।
৭. পা সার্বিকভাবে পরিষ্কার না করা, ভ্যাসলিন বা ময়শ্চার ব্যবহারের পরে তা সঠিকভাবে পরিষ্কার না করে আবার লোশান, ক্রীম বা ময়শ্চার ব্যবহার করা।
৮. ঠান্ডা লাগে বেশি, এমন ব্যক্তিরা সঠিকভাবে মোজা বা জুতা ব্যবহার না করা।
উপরোক্ত বিষয়গুলো হলো পা ফেটে যাওয়ার কারণ, সামান্য কিছু পরিচর্যা পারে, আমাদের এই সমস্যা দূর করতে।


পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়া প্রতিরোধে আমাদের করণীয়:
১. নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থেকে, পায়ের গোড়ালি যেন লোশান বা ময়শ্চার দিয়ে মসৃণ রাখা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
২. স্বাভাবিক পানিতে গোসল করুন। খুব ঠান্ডা লাগলে, অতিরিক্ত গরম পানি পায়ের গোড়ালিতে ঢালবেন না।
৩. অপরিচ্ছন্ন নোংরা জুতা ব্যবহার করবেন না। যাদের পা খুব বেশি ঘেমে জুতা ভিজে যায়, তারা পায়ের প্রতি যত্ন শীল হউন।
৪. উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন। শীতকাল পার হয়ে গেলেও পায়ের যত্ন নিন। পায়ের জুতা নিয়মিত রোদে দিন। এতে রোগ-জীবাণু মরবে। অ্যালার্জির কোনো সমস্যা থাকলে, পায়ের প্রতি বিশেষ যত্ন শীল হউন।
৫. প্রতিদিন নিয়মিত অন্তত এক লিটার পানি পান করুন। মৌসুমী শাক সবজি, ফলমুল দেহের জন্য ভীষণ উপকারী।
৬. কোনো ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৭. গোড়ালি ফেটে গেলে বা চামড়া উঠে গেলে, টেনে ছিড়বেন না। অপরিচ্ছন্ন পায়ে লোশান বা ময়শ্চার ব্যবহার করবেন না।

Nabadibakar_Writer_69

আমরা কজন অতঃপর
- মাছুম কামাল

অথচ, মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরেও আমাদের মনে হয়, আমরা ঠিক কোনো চরিত্র নেই।
আমাদের মধ্যে কোনো স্বকীয়তা নেই।
আমরা নকল।
একদিন খুব ভোরে হঠাৎ উঠে বিলের শান্ত কালো জলে আমরা হাঁস আর ডুবোচরের জলকেলী দেখি।
অবাক হই, এত সুন্দর জীবন আর কার-ও হয়।
কিছু জমে থাকা রাতে আজ ও মনে হয়, আমরা মানুষ নই।
আমাদের বুকে অসংখ্য ডানাভাঙ্গা বিষাদ!
আমাদের স্বপ্নে মৃত্যু হাতে হন্তারক।
চুপচাপ যে সন্ধ্যাগুলো এখন আসে,
আমরা তখন ডিমবাতি জ্বালিয়ে বিবর্ন নেশায় আসক্ত।
দুঃস্বপ্নের ঠিক পরপর-ই আমরা তাস খেলি।
তারপর, আবার, আবার...
কিছুদিন ধরে গায়ে ডুবোজ্বর,
বহুদিনের না কামানো দাঁড়ি।
আতরের গন্ধ শরীরে।
লাশের লোবান গায়ে নিয়ে,
আরক্তিম জেগে থাকি প্রেমহীন পৃথিবীতে।

১০-১১-২০১৫.

Farhana-Doc_01এগিয়ে চলো যুব সমাজ
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


জীবনটা আকাশের মতো। কখনও মেঘ বৃষ্টি, কখনোবা রোদ। এই রোদ ঝড় বৃষ্টির জীবনে সফল হবার জন্য চাই তীব্র মানসিক শক্তি। আর মানসিক শক্তি প্রবল হবার জন্য দরকার সুস্থ্য দেহ। একটি সুস্থ্য দেহের মানুষ কাজ করতে পারবেন দ্বিগুণ পরিমাণে, একজন অসুস্থ্য মানুষের তুলনায়।


প্রতিযোগিতার তীব্র দৌড়ে সফল হবার জন্য প্রয়োজন সুস্থ্য দেহ। তাই ছোটবেলা থেকেই যত্ন নিতে হবে দেহের। যেকোন যুগান্ত সৃষ্টিকারী সাফল্যের পেঁছনে নবীনদের অগ্রণী ভূমিকা থাকে, অধিকাংশ সময়ে। দীর্ঘ সময় ধরে পৃথিবীর ইতিহাসের পাতা সেই নবীনদেরই সাক্ষী দেয় বেশী। যেকোন সমাজ, রাষ্ট্র, জাতিকে সফল হবার জন্য চাই নবীনদের অগ্রণী ভূমিকা।


আর এই জন্য দেহের প্রতি যত্নশীল হওয়াটা ভীষণ জরুরী।দেখা যায়, শিশুদের যত্ন নেয় তাদের বাবা মায়েরা। আর বুদ্ধরাও পারিবারিকভাবে যত্ন পায়। কিন্তু বঞ্চিত হয় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নবীনেরা। পড়ালেখা, ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে দেহের যত্ন নিতে পারে না। অকালেই আক্রান্ত হয় নানান রকম অসুখে। তরুণেরা আজকাল অনেক হতাশাগ্রস্থ হলে ঝুঁকে পড়ছে মাদকের দিকে। যা কখনই কাম্য নয়। মাদক সেবনের ফলে একজন যুবকের সাথে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তার পুরো পরিবার। অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে তার ভবিষ্যৎ। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য প্রয়োজন দেহের প্রতি যত্নশীল হওয়া।


সুস্থ্য দেহ থাকলে মানুষ কর্মঠ হতে পারবে। আর কর্মঠ মানুষেরা দূরে থাকে বিভিন্ন রকম অলসতা, অযৌক্তিক আন্ডাবাজি থেকে। প্রতিযোগিতার এই তীব্র দৌড়ে জয়ী হবার জন্য প্রয়োজন অটুট ধৈর্য্য আর মনোবল। আর এই জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ে সুষম খাবার, বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।


শিশু বয়স থেকেই আমাদের সবাই প্রতিযোগিতার তীব্র যাতাকলে পিষ্ট। বয়স বেড়ে যাবার সাথে সাথে এই প্রতিযোগিতা আরো বেড়েই যাচ্ছে। পরিণামে নবীন বয়সে অধিকাংশ যুবকেরা অকালেই নানান রকম অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দেশে প্রচূর নবীণ এর ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ রোগ। যা কখনোই কাম্য নয়। লেখাপড়া, ক্যারিয়ারের জন্য সবাই এখন ঢাকামুখী। গগনচুম্বী অট্টালিকা, নিত্য নতুন অফিস আর বিল্ডিং এর জন্য হারিয়ে যাচ্ছে মাঠ, পুকুর, পার্ক। পরীক্ষাতে উচ্চ মার্কের সনদ পাবার জন্য আজকের নবীনেরা খোলা আকাশের চেহারা দেখার সময় পায়না। বুক ভরে নেয়ার সময় পায়না মুক্ত বাতাসের।


ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ার টেবিল আর কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হচ্ছে। এতে দৈহিক পরিশ্রম সঠিকভাবে হচ্ছে না। আর নির্দিষ্ট পরিমাণ গাছপালার অভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের জন্য মানুষ কম বয়সেই শিকার হচ্ছে বিভিন্ন রকম অসুখের।


আর দৈহিক পরিশ্রমের অভাবে সারাক্ষণ বই আর ল্যাপটপ নিয়ে বসে থাকা ছেলে মেয়েরা অকালেই রক্তে বাড়িয়ে ফেলছে চিনির মাত্রা। এতে নিজের অজান্তেই অনেকে বয়ে বেড়াচ্ছে ডায়াবেটিস। বিশেষত বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী যাদের ওজন অনেক বেশী। আর ভেজাল খাবারের প্রভাবতো রয়েছেই। তাই খেয়াল রাখতে হবে, যেন বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বেড়ে না যায়।


শত ব্যবস্তার ফাঁকেও চেষ্টা করতে হবে এই সমস্যাগুলো দূর করার। তরুণ বয়সে যারা মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম ও অনিয়ম করে, তারা আক্রান্ত হচ্ছেন গলব্লাডারে স্টোন বা পিত্ত থলির পাথরে।


দীর্ঘ সময় যাবৎ না খেয়ে থাকলে আর বছরের পর বছর খাবার অনিয়ম করে খেলে, পিত্তথলির পিত্তরস ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। তখন তৈরী হয় গল গলব্লাডারে (Gall bladder) এ পাথর। এই পাথর তৈরী হয় শুধু খাবারে অনিয়মের জন্য নয়। ভেজাল খাবার, রক্তে চর্বির মাত্রা বৃদ্ধি (বিশেষত দৈহিক শ্রমের অভাবে), পারিবারিক কারণেও হতে পারে। কয়েক বছরের তুলনায় এখনকার তরুণদের ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেসার, গলগলব্লাডার আর কিডনীতে পাথর এর পরিমাণ বেশী।


প্রতিযোগিতার তীব্র যুদ্ধে নিজের দেহের প্রতি মনোযোগের অভাবে, মানুষ ঝুঁকে পড়ছে বেশী ল্যাপটপ আর বাসার বাহিরের খাবারের প্রতি। এতে রক্তে ভেজাল খাবার (বিশেষত যা ভেজাল তেলের জন্য প্রধানত দায়ী) এর পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। যা বাড়িয়ে দিচ্ছে ওজন, পরিণামে রক্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে ফ্যাট (Fat) ও কোলস্টেরলের (Cholesterol) এর মাত্রা। এই মাত্রাগুলো কমিয়ে দেয়ার জন্য প্রয়োজন দেহের বাড়তি চর্বি ও চিনির পরিমাণ হ্রাস করা। চাই প্রচুর পরিমাণে দৈহিক পরিশ্রম। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আর হাঁটাহাঁটির জায়গার বড়ই অভাব।


পরিণামে বসত বাড়ী হয়ে উঠছে আরো বেশী ছোট। দৈহিক পরিশ্রমের অভাব আর ভেজল খাবারের জন্য মানুষের দেহে বেড়ে যাচ্ছে চিনির পরিণাম। আর বংশগত ইতিহাসও এই জন্য দায়ী। যাদের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেসার রয়েছে, তারা সচেতন হবেন আরো বেশী। কারণ বংশগত কারণ বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে, ডায়াবেটিস হাই ব্লাড প্রেসার, এই অসুখগুলো বাসা বাধে আরো বেশী।


তাই এখন থেকেই মনোযোগী হয়ে যান নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি। আপনি তরুণ বয়সে যত বেশী কর্মঠ হবেন, তার প্রতিদান আপনি সারা জীবন পাবেন। এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচবার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত টাটকা খাবার। যতোটা কম মশলা মুক্ত, বাসার খাবার হয়, ততোই ভালো।


আমাদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে মেয়েরা এক চেটিয়া বাসার বাহিরে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে। প্রচুর ছেলে মেয়ে টিউশনি আর খন্ডকালীন চাকরি করে। এইভাবে অনেক ছেলে মেয়েরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে ফাস্ট ফুডে। যা দেহের জন্য খুব ক্ষতিকর। কারণ এই খাবারগুলো তৈরী হয় মাখন, পনির, নানান রকম মশলা দিয়ে। যা খুব দ্রুত দেহের ওজন বাড়ায় এবং রক্তে বাড়ায় চর্বির মাত্রা। এই অবস্থা বছরের পর বছর হতে থাকলে, বেড়ে যাবে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্ত চাপের পরিমাণ। যা ঘুণে ধরা পোঁকার মতো আক্রান্ত করবে পুরো দেহকে। মানুষের দেহ বিশাল একটি কারখানার মতো। এর একটি অংশ নষ্ট হয়ে গেলে অন্য অংশটি দূর্বল হয়ে যায়। তাই খেয়াল রাখতে হবে, যেন পুরো দেহ সুস্থ্য সবল থাকে।


বর্তমানে আমাদের তরুণ সমাজকে অনেকাংশে প্রভাবিত করছে মাদক। আকাঙ্খার জায়গাতে বঞ্চনা, অভাব, কর্মসংস্থানের অভাব, পারিবারিক কলহ, প্রেমে ব্যর্থতা এমন নানান কারণে হতাশাগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছে যুব সমাজের বিশাল একটি অংশ। পরিণামে ঝুঁকে পড়ছে বিভিন্ন রকম মাদকের দিকে। মাদকের জন্য অর্থ যোগান দিতে যেয়ে যুব সমাজের বিশাল একটি অংশ জড়িয়ে যাচ্ছে অনৈতিক কাজে। যা পরিবার, দেশ, সমাজ, পুরো জাতির জন্যই ভয়ানক হুমকি স্বরূপ।


এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন ছোটবেলা থেকেই প্রার্থনা বা ধ্যানের অভ্যাস করা, ভাল ভাল বই পড়া, পরিবারের সবার উচিৎ শিশু বয়স থেকেই সৃজনশীলতাকে ফুটিয়ে তোলা। এই ভালো লাগার কাজগুলো শিশু থেকে যুবক বয়সে চলতে থাকলে, যুব সমাজের মধ্যে সৃজনশীলতা আরো বাড়বে। পরিণামে হতাশার মধ্যে মানুষ সৃজনশীল কাজের প্রতি ঝুঁকবে বেশী, যুব সমাজে কমে আসবে মাদকের পরিণাম।


যুব সমাজ যে দেশের যতো তৎপর, সেই যুব সমাজের উচিৎ, নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হওয়া। বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। পাশাপাশি সৃজনশীল বা গঠনমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করা।


মানুষের জীবন সিঁড়ির ধাপের মতো। প্রথম দিকের ধাপগুলোতে সঠিক পদক্ষেপ ও দিক নির্দেশনা থাকলে, পরবর্তী জীবনে সফল হবার সম্ভাবনা থাকলে ততোই বেশী।


যুব সমাজ একটি জাতির হাতিয়ার। সফলতার এই হাতিয়ার হোক প্রাণচঞ্চল ও কর্মব্যস্ত।


- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।

Nabadibakar_Writer_46

সর্বনাশার ক্লান্ত হাসি
- বিভূতি চক্রবর্তী

তোমার মুখে ভেসে উঠে সর্বনাশার ক্লান্ত হাসি-
তোমার বুকে বেজে উঠে সর্বনাশের মরণ বাঁশি,
কেন এমন হয়?
কিসের এত ভয়?
ভয়টি ভেঙ্গে দেখ তুমি সর্বনাশের পাশে আসি'।
বন্ধুরা সব, জীবন নিয়ে চলছে কেন মরণ খেলা?
শান্ত জীবন স্তব্ধ এবার বসেছে কোন নতুন মেলা?
কেউ কি দেখার নেই?
জীবন থাকে জীবনেই-
সব সামলে কাছে এসো, চুকিয়ে নাও গো এই বেলা।
অবাক চোখে দৃষ্টি ফিরাই চতুর্দিকে চলছে কি সব?
কিসের তরে সরব সবে এগিয়ে দেখ কি কলরব?
কলরবকে থামাও এসে-
সবকে পথে নামাও হেসে,
সবাই মিলে গড়ছে জীবন চির নতুনের এ উৎসব !

আগরতলা, ০৮/১১/২০১৫ ইং ।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ২২ ( পুঁইশাকের ইতিকথা )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


শেষ হয়েছে ঈদ-উৎসব। যেকোনো উৎসবেই রীতি অনুযায়ী তেল-মসলাজাতীয় খাবার খাওয়া হয়েছে বেশি। এ ধরনের খাবারগুলোর দুর্বল হজমক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের গ্যাস, অ্যাসিডিটির পরিমাণ বাড়ায়। অনেকের ক্ষেত্রে তৈরি করে কোষ্ঠকাঠিন্য। ফুড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত করে অনেককে।
আমরা খাবার খাওয়ার পর তা জমা হয় পাকস্থলীতে (পাকস্থলী পেটের একটি অঙ্গ, যেখানে খাবার জমা থাকে)। পাকস্থলী থেকে খাদ্যদ্রব্য নানা রকম নালির ভেতর দিয়ে যাওয়ার পর প্রয়োজনীয় অংশ রক্তে মিশে আর অপ্রয়োজনীয় অংশ বর্জ্য হয়ে দেহের বাইরে চলে যায়।
বর্জ্য পদার্থের মাধ্যমে শরীরের রোগজীবাণু দেহের বাইরে যায়। কোনো কারণে সঠিকভাবে নিষ্কাশন হতে না পারলে বদহজম, গ্যাস, অ্যাসিডিটিসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়। এ সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য খেতের খাবারগুলোর মধ্যে পুঁইশাক অন্যতম।
পুঁইশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, দেহের বর্জ্য সুষ্ঠুভাবে বাইরে যেতে সাহায্য করে। এই শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’, যা ত্বকের রোগজীবাণু দূর করে, বৃদ্ধি ও বর্ধনে সাহায্য করে, চোখের পুষ্টি জোগানো ও চুলকে মজবুত রাখে।
গবেষণা করে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত শাক, বিশেষ করে আঁশজাতীয় শাক, যেমন—পুঁই বা মিষ্টিকুমড়ার শাক খায়, তাদের পাইলস, ফিস্টুলা ও হেমোরয়েড (এসব পায়ুপথের রোগ) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে খুবই কম। আর আঁশজাতীয় খাবার পাকস্থলী ও কোলনের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পুঁইশাকে রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেয়।
নতুন দাঁত বের হয়েছে বা খিচুড়ি খেতে পারে, এমন শিশুদের জন্য পুঁইশাক, মিষ্টিকুমড়া ও অন্যান্য সবজির খিচুড়ি যথেষ্ট পুষ্টিকর।

8278রাজার সাজা
- অলভ্য ঘোষ


অনেক অনেক বছর আগে গোপাল নগরের রাজা ছিলেন গকুলে-শ্বর । শৌর্য- বীর্যে তার জুড়ি মেলা ভার । তার সাম্রাজ্যের পরিধি দিন দিন বর্ধিত হয়ে চলেছিল । অন্যান্য রাজারা নত মস্তকে তার দাসত্ব গ্রহণ করেছিলেন । রাজা গর্বে বুকের ছাতি ফুলিয়ে রাজ্য শাসন করতেন । আর সভাসদেরা করতেন তাঁবেদারি । অতিবৃষ্টি ,অনাবৃষ্টিতে কৃষকদের দুর্দশার শেষ ছিলনা । রাজা একদিন বললেন ,- এ রাজ্যের যত কৃষক আছে সকলের লাঙ্গল কেড়ে নাও ; বেটারা খাজনা দেয়না সঠিক মতন । লাঙ্গের ফলা গুলো দিয়ে বাণিজ্য জাহাজ তৈরি কর ; কামান বানাও । এতে রাজ কোষ ভরবে ।


মন্ত্রী বললেন - যথা আজ্ঞা মহারাজ ।


রাজা আর একদিন বললেন - এ রাজ্যের যত কবি আছে ; সকলকে জেলে বন্দি করো । বেটারা রাজার বিরুদ্ধে গান বাঁধে ; বিদ্রোহ ছড়ায় ।


রাজা একমাত্র বনিকদের ওপর ছিলেন সন্তুষ্ট । মনি বিদ্রোহ রাজ কোষ তারা করে তুলেছিল পুষ্ট । রাজার আদেশ হল উৎসবের আয়োজন কর রাজ বাড়িতে । নিমন্ত্রণ কর বনিকদের । আহার পানিয়ের মজলিস বসাও । মজিয়ে দাও ওদের ।ওরাই এ রাজ্যের শক্তি । সৈন্যসামন্ত পরিবেষ্টিত রাজ বাড়িতে দুর দুরান্ত থেকে এলো গাইয়ে ; বাজিয়ে ,নাচিয়ে । ঝলমলে আলোর রোশনাই আর নহবতের সুরে গমগম করে উঠলো রাজ বাড়ি । রসুই খানা থেকে বেরিয়ে এলো সুগন্ধি পোলাও – কোপ্তার গন্ধ । এদিকে চাষিদের পেটে ভাত নেই । ওরা সবাই জড় হয়েছিল ভিক্ষা পাত্র নিয়ে রাজ প্রসাদের সিংহ দরজায় । রাজার সেপাই লাঠি দিয়ে ওদের ধাক্কা মেরে সরিয়ে রাজ প্রাসাদে অতিথি দের ঢোকার পথ প্রসস্হ করছিল । এ সভায় আমন্ত্রিত ভিনদেশী এক শিল্পী প্রাসাদে ঢোকার মুখে এ দৃশ্য দেখে এক চাষাকে তাদের এমন দুর্দশার কারণ শুধলেন । চাষার কাছে সব শুনে শিল্পীর ভারি কষ্ট হল । রাজ প্রসাদে মজলিস বসলো । আসরে ম্যাজিক ,সার্কাস,বাদ্যি বাজনা, খানাপিনা কোন কিছুরই অভাব রইলোনা । রাজ প্রসাদের বাইরের অভাব মনোরঞ্জনের এত কিছুর মধ্যেও ভেতরে ভেতরে রাজার মনের শান্তি বিঘ্নিত করে চলল । অহংকারী রাজা প্রসাদে উপস্থিত অতিথি শিল্পীদের জন্য ঘোষণা করলেন ,যিনি তার সর্বাধিক মনোরঞ্জন করবেন তাকে সহর্ষ কটি স্বর্ণ মুদ্রায় ভূষিত করে একটি রাজ্য দান করা হবে এবং সর্ব নিকৃষ্টের মস্তক মুণ্ডন করে, গাধার পিঠে চড়িয়ে ,বস্ত্র খুলে কলাপাতার কপনি পরিয়ে, প্রকাশ্যে নগরের রাস্তা দিয়ে জুতোর মালা গলায় ; গোবর জল ছিটিয়ে বিদায় জানানো হবে । এক মাত্র চিত্রকর তীর্থঙ্কর ছাড়া বাকি অতিথিরা অহংকারী রাজার হাতে অসম্মানিত হবার ভয়ে ছিলেন ভৃত সন্ত্রস্ত । আর এই ভয়েই শিল্পরা সেরা প্রদর্শনীতে সচেষ্ট হলেও মনোযোগী হতে পারছিলেন না । রাজা কত রকম গান-বাজনা শুনলেন , কত রকমের ভেলকি দেখলেন । কিন্তু কোন কিছুতেই মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে মনের অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেলেন না । আভিজাত্যের বশে হীরে- মতি- জহরত ছুড়লেন ; যারা পেলেন প্রসন্ন চিত্তে কুড়িয়ে নিলেন কিন্তু রাজার মনে কোন রকম শান্তির উদয় হল না । সর্বশেষ প্রদর্শনের জন্য হাজির হল চিত্রকর তীর্থঙ্কর । নর্ম বিনয়ী চিত্তে বললেন, - মহারাজ ; আমার শিল্প আপনাকে প্রসন্ন করবে কিনা জানিনা আমি মনের আবেগে ছবি আঁকি আর হৃদয় থেকে আঁকা চিত্র হয় সর্বদা সত্যনিষ্ঠ । আমার মনের ওপর কার শাসন খাটে না ।


রাজা বললেন, - ব্যাঙের অধীনস্থ কীট পতঙ্গ । আবার সাপের অধীনস্থ ব্যাঙ । ময়ূরের অধীনস্থ সাপ; এ ভাবেই পৃথিবীর শৃঙ্খল রচিত । প্রত্যেক জীব অন্য জীবের অধীনতা স্বীকার করে বেঁচে আছে ।এ নিয়ম লঙগণ মানে বাস্তুতন্ত্রেরগ বিরুদ্ধাচরণ । তাই তোমার মনকে রাজ হিতৈষী করে তোলা বাঞ্ছনীয় ।


গোকুলে শ্বর এবার রীতিমতো শাসায় তীর্থঙ্করকে - জানত রাজ আজ্ঞা অমান্য এ দেশে দণ্ডনীয় অপরাধ ।


তীর্থঙ্কর মৃদু হাসেন । তার পর দৃঢ় চিত্তে বলেন - জানি মহারাজ । তবে আমি কেবল ঈশ্বরের দাশ ।
বালক সুলভ এই যুবকের কথা শুনে রাজা হো হো করে হেসে উঠলেন ।
- বেশ ….বেশ । তুমি যার দাস বলছ নিজেকে । সেও আমার অন্নে রাজ মন্দিরে পতি পালিত । রাজ পুরোহিত কে যদি কাল থেকে পূজা - নৈবেদ্য- ভোগ দান বন্ধ করে দিতে বলি তিনিও অভুক্ত থাকবেন ।
চিত্রকর প্রসন্ন চিত্তে বললেন - এত সরল নিয়ম মহারাজ । পরমেশ্বর আর অধীশ্বর ; গোপালক আর গরুর মত । গোপালক গরুকে যতটা যত্ন আর্তি করবে গরু ততোটাই দুধ দেবে । অন্নদাতা যারা মাঠে মাঠে ফসল ফলায় ; আপনাকে প্রভু বলে ; তারাও যদি তাদের উৎপন্ন ফসল রাজ ভাণ্ডারে পাঠান বন্ধ করে দেন আপনারও অন্নাভাব দেখা দেবে মহারাজ । আপনি তাদের ওপর ক্রুদ্ধ হবেন ; শাসন করবেন । কিন্তু……..
গর্জে উঠলেন গকুলে-শ্বর ।
- সাহস তো তোমার কমনয় চিত্রকর । তোমার কথার মধ্যে রাজ বিরুদ্ধচারীর পষ্ট ইঙ্গিত পাচ্ছি । তোমার এই ধৃষ্টতার জন্য জান আমি তোমার মুণ্ডচ্ছেদ করতে পারি । গকুলেশ্বরকে অন্ন যোগায় তবে সে খেতে পায় । জান আমার শস্য ভাণ্ডারে এখন দশ বছরের শস্য সংরক্ষিত ।
তীর্থঙ্কর আরও বিনীত ভাবে হাত জোড় করে বললেন ; - ক্ষমা করবেন মহারাজ । অনুগ্রহ করে যদি আপনি আমার কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দেন তাহলেই এ ভ্রান্তি দূর হতে পারে ।
অহংকারী গকুলে-শ্বর নিজেকে পণ্ডিত জ্ঞানী বিচক্ষণ বলে মনে করতেন তাই চিন্তা মাত্র না করে বললেন ; - উত্তর অমি দেব ; তবে প্রশ্ন উত্তরে যদি তোমার উক্তি সত্য প্রতিষ্ঠিত না হয় ; বাতুলতার দায়ে তোমাকে হাতির পায়ের তলায় পিসে মারবো ।
চিত্রকর সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন । প্রসন্ন চিত্তে বললেন ; - আর আমার উক্তি যদি যথার্থ সঠিক হয় কি করবেন মহারাজ ?
আভিজাত্যের ঝোঁকের বসেই গকুলে-শ্বর বলে ফেললেন ; - আমি তোমার দাসানুদাস হয়ে থাকবো ।
তীর্থঙ্কর প্রশ্ন করতে শুরু করলো ।রাজা উত্তর দিয়ে চললেন ।
- কীট পতঙ্গের বাস কোথায় মহারাজ ?
- ঘাসে ।
- মহারাজ ; ব্যাঙ যদি সব ঘাস কেটে দেয় কীটপতঙ্গের কী হবে ?
- কীট পতঙ্গ মারা যাবে ।
- কীট পতঙ্গ মারা গেলে ব্যাঙ কী খাবে ?
মহারাজের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে । সে মনে মনে বলে ;
- ইঁদুর -আরশোলা ব্যাঙ খেতে পারবেনা । সত্যিই ব্যাঙর কী খাবার হবে তবে…….
কিছুই ভেবে চিন্তে উঠতে না পেরে মন্ত্রী কে ফরমাইস করেন ।
- কী হে মন্ত্রী একটু ভেবে চিন্তে বাতলাও ?
মন্ত্রী কপাল চুলকাতে চুলকাতে বললেন ;
- আজ্ঞে মহারাজ হাওয়া ।
গকুলে-শ্বর তাকে তিরস্কার করেন ।
- গাধা কোথাকার । হাওয়া খেয়ে ব্যাঙ বাঁচে ।
তীর্থঙ্কর বললেন - ব্যাঙ কেন মহারাজ কোন প্রাণীই বাঁচে না । তাহলে ; কীট পতঙ্গের সাথে না খেতে পেয়ে ব্যাঙেরও মৃত্যু অনিবার্য ।
রাজা সায় দিলেন
- হ্যাঁ তা বটে ।
তীর্থঙ্কর আবার হাসি মাখা মুখে দৃঢ় কণ্ঠ্যে বললেন
- এমন নিশ্চিত মৃত্যু সাপ ও ময়ূরের ।
রাজা বললেন ; - হ্যাঁ তাতো বটেই । সাপ ব্যাঙ পাবে না । ময়ূর সাপ পাবে না । সব বেটাই না খেয়ে মরবে । কিন্তু এসব প্রশ্নের সাথে তোমার উক্তির সাদৃশ্য কোথায় ?
তীর্থঙ্কর বললেন ; - ধৈর্য ধরুন মহারাজ ; আমি বিস্তারিত বলছি । মহারাজ আপনি বলেছেন আপনি স্বয়ং সম্পূর্ণ । শস্যে আপনার গোলা পরিপূর্ণ । আপনি যে অন্ন গ্রহণ করেন এ কাদের ঘাম রক্তে উৎপন্ন ফসল মহারাজ ?
রাজা বললেন ; - কেন ;আমার রাজ্যের চাষাদের ।
তীর্থঙ্কর বললেন ; - আপনি যেমন ঈশ্বরের রাজ্যের বাসিন্দা বলে মন্দির স্থাপন করে তাকে প্রভু ডেকে দুবেলা আহার দেন। চাষিরাও তেমনি আপনার রাজ্যে বাস করে আপনাকে দুবেলা আহার যোগায় । মহারাজ অপরাধ নেবেন না । শুনেছি ; আপনি তাদের লাঙ্গল কেড়ে নিয়েছেন ।
রাজা বলেন - নিয়েছি কারণ ও বেটারা ঠিকমতো খাজনা দেয়না ।
তীর্থঙ্কর বললেন - খাজনা ফাঁকি দিলে আপনি যেমন প্রজাদের ওপর ক্ষুণ্ণ হন । তাদের শাসন করেন । মহেশ্বরের যথার্থ সম্মানে পূজার্চনা না হলে তিনিও আপনার ওপর অসন্তুষ্ট হন । তার পীড়নেই আপনার রাজ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয় । অতিবৃষ্টি- অনাবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হয় । বলির শিকার হন চাষি রাই । মহারাজ আপনি অহংকারের সিংহাসন থেকে ধূলয় পরমেশ্বরের পায়ে নেমে আসুন । না হলে দশ বছর পরে আপনার পরিপূর্ণ শস্য ভাণ্ডার নিঃশেষিত হবে । আজ চাষিরা না খেয়ে মরলে সেদিন আপনার অন্ন জোগাবে কে ?
আপনার রাজ্যে অন্নাভাব দেখা দেবে ; প্রজারা বিদ্রোহী হবে । বিদ্রোহ দমন করতে পারবেন না ।কারণ হাজার মনি মাণিক্য থাকলেও মহারাজ আপনার সামরিক সৈন্য বাহিনী খেতে না পেলে লড়বে কিসের জোরে । তারাও আপনার বিরুদ্ধ চারণ করবে ।এক মহা সংগ্রামে আপনার সিংহাসন চ্যুতি ঘটবে । এমন কী প্রাণ নাশের আশঙ্কাও অমূলক নয় ।
গকুলে-শ্বর চিত্রকরের কথায় জমে বরফ হয়ে গিয়েছিলেন । কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থেকে বললেন ; - অমি তোমার কাছে পরাস্ত চিত্রকর । তুমি আমার বন্ধ চক্ষু খুলে দিয়েছ ।
তার পর সিংহাসন থেকে নেমে এসে মুকুট তীর্থঙ্করের পায়ের কাছে রেখে বললেন ; - আজ থেকে আমি তোমার দাস । তোমার যে কোন আদেশ আমি মথা পেতে পালন করবো । ইচ্ছে করলে তুমি আমাকে সাজা দিতে পারো । উপস্থিত সকলে উঠে দাঁড়িয়ে বিস্ময়ে পরস্পরের মুখ চাওয়া চাই করে । কেউ কেউ তীর্থঙ্করকে মনে করেন বড় কোন ছদ্মবেশী জাদুকর কথার জাদুতে রাজাকে সম্মোহিত করেছেন ; আবার কেউ কেউ মনে করেন স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্রের পদার্পণ ঘটেছে তাদের রাজপ্রাসাদে । তীর্থঙ্কর ঝুঁকে পরে দুই হাতে মাটি থেকে মুকুটটি তুলে নেয় । তার পর অবনত অহংকার হীন গকুলে-শ্বর মাথায় পরিয়ে দিয়ে বলেন - একি করছেন মহারাজ । কারকে দাস মনে করলে নিজেকে যে বড় ছোট করা হয় । আর অনুশোচনার চাইতে বড় সাজা এ পৃথিবীতে কিই বা হতে পারে । আপনি আত্ম দংশনে আত্ম শোধন করেছেন । আমরা সকলেই একে অপরের পরিপূরক । পরমেশ্বর আমাদের মধ্যে লুকিয়ে ; এই দেখুন আপনি যেমন ক্ষেতে লাঙ্গল টানতে পারবেন না । কৃষকেরাও কি পারবেন রাজ্য চালাতে । সেহেতু প্রত্যেক কে নিজ নিজ স্থানে কর্ম উদ্যোগে অপরের উপর বিশ্বাস ভক্তি শ্রদ্ধা রেখে কাজ করে যেতে হবে । তবেই তো পরমেশ্বরের তৃপ্তি ঘটবে । মহারাজ দয়া করে চাষিদের লাঙ্গল গুলো ফিরিয়ে দিন ।সকলের মুখে যারা অন্ন তুলে দেয় তারই আজ অভুক্ত মহারাজ । বনিকেরা আপনাকে ধনরত্ন এনে দিতে পরেন; শস্য দিতে পারবে না । আপনার কলকারখানায় যন্ত্র তৈরি হতে পারে মহারাজ শস্য উৎপন্ন হবে না ।
রাজা সাথে সাথে সেনাপতিকে আদেশ দিলেন - চাষিদের লাঙ্গল ফিরিয়ে দাও । রাজ প্রাসাদে সকলকে নিমন্ত্রণ জানাও । উৎসব শেষে রাজ ভাণ্ডার থেকে শস্য আর বস্ত্র বিতরণ কর ।
এরপর রাজা পুরোহিত কে বললেন; - রাজ মন্দিরে পুঁজার আয়োজন করুন । আমি নিজে যাব ; মহেশ্বরের আরাধনায় ।
আজ থেকে এ রাজ্যে কেউ দাস নয় । আমরা সকলেই সমান ভবে পরমেশ্বরের অধীন ।
তীর্থঙ্কর বললেন ; - মহারাজ আমার শেষ অনুরোধ ; বন্দি কবিদের ছেড়ে দেওয়া হোক । ওরা এ রাজ্যের বিবেক । মানুষের মনুষ্যত্বের কথা নিয়েই তো ওরা গান বাঁধে।
মহারাজ সেনাপতিকে নির্দেশ দেওয়ায় কবিরা হয় মুক্ত ।
তীর্থঙ্কর বললেন ; - এবার আমি যাই মহারাজ ।
মহা রাজা এবার অনুনয়ের সূরে বললেন ; - তা কি করে হয় । তোমার মতো মানুষকে পেয়ে অমি হারাই কি করে । আমি তোমাকে আমার অর্ধেক রাজত্ব দান করবো । রাজ কুমারী সুখ লেখার সাথে হবে তোমার বিবাহ ।
তীর্থঙ্কর বললেন - আমি বৈরাগ্য ধারণ করেছি মহারাজ । ধর্মান্তরে আমাকে বিপদে ফেলবেন না ।
রাজা আর কথা বলতে পারলেন না ।তীর্থঙ্কর চলে যাবার সময় মহারাজকে তার ঝোলা থেকে একটা সাদা পট আর তুলী বের করে দিয়ে বললেন - মহারাজ এই তুলি পটে ছোঁয়ালে ; আপনি ভূতভবিষ্যৎ সচক্ষে দেখতে পাবেন । আর ভবিষ্যৎ জানা থাকলে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজও সহজ হবে । অমি চলি ; যেখানে এখন রাতের অন্ধকারে দিন আসেনি সেখানে আমাকে যেতে হবে ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়ে; অন্ধকার মোচনে । তীর্থঙ্কর চলে যেতে পটে তুলি ছোঁয়াল মহারাজ । আর সভাসদ থেকে নিমন্ত্রিত অতিথি প্রজারা হুমড়ি খেয়ে দেখলেন আনন্দ বেষ্টিত শস্য শ্যামল ও ভবিষ্যৎ গোপাল নগরকে ।


ভৌতিক ছোটগল্প : ইন্টারভিউ – রাজীব চৌধুরী

Nabadibakar_Writer_66সহোদর
- আবু রাশেদ পলাশ


চলতি পথে তোরাব আলীর কবরটা চোখে পড়ে সহসায় । কলিমুদ্দির বড়ঘরের পেছনে বাঁশঝাড়ের ঘন অরণ্য । তারই কূলঘেঁষে কবরটা । অযত্ন আর অবহেলায় যুগ যুগ ধরে পড়ে থাকে কেবল । ওর চারপাশে কাঁচা বাঁশের বেড়া দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেনা কেউ । সন্ধ্যার অন্ধকারে হাটুরে দলের একজন হয়ে ফেরার পথে কবরটা দৃষ্টিগোচর হলে বুকটা ধূরু ধূরু করে কেমন । দরগাতলা গ্রামে তোরাব আলীর বাড়িটা বাজারমুখী কাঁচা রাস্তার কূলঘেঁষে । কালের বিবর্তনে গাঁয়ে বাড়ি বাড়ি টিনের দুচালা ঘর শোভা পায় হরহামেশায়, তোরাব আলীর বাড়িতে সে দৃশ্য কল্পনাতীত । সময়ের পরিক্রমায় সংসারে লোকসংখ্যা বেড়েছে তার । সেই সাথে বেড়েছে ঘর । ছনের ছাউনি দেওয়া ছোট খুপরি ঘরগুলো এখনো সদা দৃশ্যমান এ পাড়ায় । আমাদের বয়স যখন পাঁচ কি ছয় তখন আমরা দেখেছি বুড়ো তোরাবকে । তামাটে চেহারার বেঁটে বুড়ো । মুখে আধাপাকা দাঁড়ি আর মাথায় লম্বা চুল ছিল তার । চোখে চিরকালের দীনতা, হাঁসির বড় অভাব ছিল মুখে, কথারও । পরনের লুঙ্গিটা কোমর অবধি গুঁজে পাড়ায় পাড়ায় বাহারি পণ্য ফেরি করে বেড়াতো সে । “ আয়গো মা বুজান হাড়ি নিবানি, সীসার হাড়ি সীসার কলস ”।
শীতে খেজুরের রস ফেরি করতো তোরাব আলী । তখন চোখে ঘুম ছিলনা তার । আমরা দেখেছি, পৌষের শীতে পাড়ায় ঘুরে খেজুরের রস আহরণ করতো সে । তারপর সকাল হলে কলসভর্তি রস নিয়ে গাঁয়ের পথ চষে বেড়াতো বুড়ো মানুষটা । সুযোগ বোঝে গাঁয়ের ছেলেরা জটলা করতো ওকে ঘিরে ।
-আয়গো কাহা, রস দিবানি খামু কই ?
-এক গেলাস আটআনা, আচেনি আলীর পুত ?
-কাল বিয়ানে দিমু নিয্যস আজের টেহা বাহি থও ।
শুরুতে হয়তো আপত্তি করে তোরাব আলী । পৌষের শীতে পাড়া ঘুরে সংগৃহীত রস বাকিতে দিতে ইতস্ততবোধ হয় তার । গাঁয়ের ইঁচড়েপাকা ছেলেগুলো যে হারহারামজাদা এ কথা কে না জানে ? বাকিতে রস দিলে সে টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা সামান্যই । তবুও ফেরার পথে মনে যেন বাঁধ সাধে তার । তারপর হয়তো ফ্রিতেই দু’তিন গেলাস রস ছেলেদের মধ্যে বিলি করে সে । বুড়ো তোরাব মানুষ ছিল এমনই ।
তোরাব আলীর বাড়িতে আমরা মেয়ে মানুষ দেখিনি কোনদিন । সংসারে কেবল দুটি ছেলে ছিল তার সলিম, কলিম । আদৌ তার স্ত্রী ছিল কিনা সে খবরও সঠিক করে বলতে পারতোনা কেউ । গাঁয়ের প্রবীণ ওহাব আলীকে প্রশ্ন করলে কতক্ষণ মাথা চুলকাতো সে । তারপর বলতো-
-হাঁচানি কওন যায়, বউ ঝি কোনদিন দেহিনায়গো বাপ ।
মরার আগে কষ্ট করেছে তোরাব আলী । গায়ে কি এক পচন রোগ হয়েছিল তার । দেহের মাংস খসে পড়েছিল শেষ কালে । হালগাঁও হতে দাওয়া দিতে এসে চমকে উঠেছিল বিনুমোল্লা । বলেছিল-
-সব্বনাশ । শত্তুর আছেনি তোরাব কওতো, বিষবান দিছে মালুম অয় ?
তোরাব আলী মারা যাওয়ার পর ডাঙায় তোলা চিতল মাছের মত আহাজারি করেছিল ছেলেরা । কলিম তখন নওজোয়ান, মুখে কাঁচাদাঁড়ি উঠেছে তার । সলিম আরও ছোট । বাপের কথা মনে হলে কবরের পাশে বসে আর্তনাদ করতো দুজন । প্রতিবেশী মহেদ আলী সান্ত্বনা দিত কলিমকে ।
-দিলরে সবুর দে কলিম । ভাইরে পাইল্যা ডাঙ্গর কর ।
তারপর সংসার রক্ষার্থে কলিমুদ্দিন বাপের ফেরিওয়ালা ব্যবসার উত্তরসূরি হয় । ধীরে ধীরে সংসারে খানিক সচ্ছলতা আসে তার । ঘরে বউ আসে একদিন । নবজাতকের কান্নার শব্দে গম গম করে বাড়ীটা । খুশিতে পালের বলদ জবাই করে পাড়ায় ভোগ দেয় সে । বছর না ঘুরতে সংসারী হয় সলিমও । সোনাতলা গ্রামের রূপসী কন্যাকে ভাইয়ের বউ করে আনে কলিমুদ্দিন ।
কলিম আর সলিমের সংসারটা হয়তো সুখকর হতে পারতো । কিন্তু হয়নি । একই সংসারে ভাইয়ে ভাইয়ে মিল ছিল ষোল আনা সাথে বউয়ে বউয়ে মিলের অভাবও ছিল খুব । সংসারে নানা ক্ষুদ্র ব্যাপার নিয়েও কলহ হত দুজনের । এরপর একদিন সন্ধ্যায় কলিমুদ্দিন সওদা করে বাড়ি ফিরলে একই সংসারে ঘোর আপত্তি তুলে মনয়ারা ।
-একখান কতা কমু আপনেরে, দিলে ডর পাই ।
-ডর কিয়ের ? আমিনি শত্তুর অই ?
-সলিমরে জুদা দেন । একলগে থাকুন দায় ।
বউয়ের কথায় রাজি হয়না কলিমুদ্দিন । মনে কোথাও বাঁধ সাধে তার । তারপর মনয়ারাকে শাসায় সে-
-বিষদাঁত ভাঙ্গুম মাগীর । অমুন কতা কবার নয় ।
কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়না এতে । ভাইদের দৃষ্টির অগোচরে বউদের তীক্ষ্ণ বাক্য বিনিময় আহত করে নিজেদের । সংসারের কঠিন আবর্তে পড়ে আহত হয় সলিম কলিম স্বয়ং । তারপর হয়তো বউদের বিষবাক্যেই চোখের দূরত্ব হয় দুজনে । এরপর একদিন স্বামীর কাছে সংসার আলাদা করার ইচ্ছে প্রকাশ করে হালিমা ।
-বাপের বাড়ি ছাড়ান দেও হামাক । মাগীর লগে থাকুম না কই ।
অবশেষে সংসারে সুখের কথা ভেবেই হয়তো আলাদা থাকার চিন্তা করে সলিম । কলিমুদ্দিন আপত্তি করেনা তাতে । তারপর সংসারে বিভাজন হয় দ্রুতই । একই বাড়িতে মাঝ বরাবর বাঁশের দেউরী উঠে একদিন । যৎসামান্য আবাদি জমিটুকুও ভাগ বাটোয়ারা করে নেয় দুজনে । তারপর সংসারে বউদের কুটজালে আবদ্ধ হলে ভাইয়ে ভাইয়ে দূরত্ব সৃষ্টি হয় দিনে দিনে । সে দূরত্ব গগনবিদারী, তীব্র থেকে তীব্রতর । দিনে দিনে সংসারে লোকসংখ্যা বাড়ে । দুভাইয়ের বাড়িতে একটা একটা করে ছনের দুচালা ঘর উঠে অসংখ্য ।
গেলবছর চৈত্রে অসুখে পড়েছে কলিমুদ্দিন । সারেনি এখনও । আজকাল থেমে থেমে গায়ে জ্বর আসে তার । শেষ রাতে শরীরে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে । হাকিম দশানী বাজার থেকে দাওয়া এনে দেয় বাপকে । এ পাড়ার মুগা ডাক্তার বাড়ি ফেরার পথে দেখে যায় কলিমকে । হাকিম বলে-
-শরীরখান কাতরগো ভাই । ভালা দাওয়া দেও একখান । মুগা বলে-
-বাপরে গঞ্জে নেও শিগগির । সুরত কই ভালা দেহিন্যা আইজ ।
বুড়ো বয়সে কলিমুদ্দির অসুস্থতা বিচলিত করে মনয়ারাকেও । স্বামীর এহেন দুর্দশায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয় সে । তারপর নিরুপায় হয়ে পালের বড় বলদটা বাজারে বেচে দেয় হাকিম । সিদ্ধান্ত হয় শীঘ্রই বাপকে গঞ্জে নিবে সে ।
এরমধ্যে একদিন দরগাতলার কালুগাজীর সাথে কলহ হয় সলিমের । কলিমুদ্দির তোলনায় সংসারে অসচ্ছল সে । সংসার রক্ষার্থে বছর দুই আগে বাড়ির পাশের আবাদি জমিটা মণ্ডলের কাছে বন্ধক রেখেছিল সলিম । শোধ সমেত টাকা ফেরত দিতে পারেনি আজও । সম্ভাবনাও নেই ভেবে কালুগাজী আরও কিছু টাকা নেওয়ার বিনিময়ে জমিটা লিখে দিতে বলে তাকে । সলিম আপত্তি করলে কলহ করে দুজন । তারপর ফেরার পথে শাসায় কালুগাজী ।
-হালার পুত, দিন গুনন্যা কইয়ে থুই জমির শোধ জানে নিমু ।
কালুগাজী শাসালে মনে মনে বিচলিত হয় সলিম । ঋণের টাকা শীঘ্রই শোধ না হলে এই সামান্য জমিটুকুও হারাতে হবে তাকে । গাজী কি আর যে সে লোক । এ পাড়ার মোড়ল সে । পাড়ায় সবাই সমীহ করে তাকে । উত্তরপাড়ার আরজু ঘটক সলিমের বন্ধু মানুষ । সে বলে-
-তোমার ভাই বলদ বেচছে জাননি সলিম ? হাঁচা কতা হগল কও । দিলে গোস্যা যায় থুক তোমারেনি ফেলবো হে ?
আরজুর কথা মনে ধরে সলিমের । এ গাঁয়ে আপন বলতে কলিমুদ্দিন ছাড়া কেউ নেই তার । মনে অভিমান যায় থাকুক ভাইয়ের দুর্দশা হয়তো বোঝবে সে । এরপর একদিন কলিমুদ্দির বাড়িতে দেখা যায় সলিমকে । সে বলে-
-শইলে ব্যারাম হুনি । দাওয়া নেওনি মিয়া ভাই ? কলিম বলে-
-হ, মরার ব্যারাম ছাড়েনি ? কিছু কবি মালুম অয় ?
-হাতত টেহার অভাব । গাজীর বেটায় তাগিদ দেয় ধারনি দিবা কিছু ?
কলিমুদ্দির ইচ্ছায় বাঁধ সাধে বউ ছেলে । হাকিম বলে-
-টেহানি কাহা ? বাজানরে গঞ্জে নিমু শিগগির ।
অবশেষে আশাহত হয়ে ফিরে আসে সলিম । আসার সময় কলিমুদ্দির সাথে কলহ করে সে ।
-ভাইনি, শত্তুর মালুম অয় শত্তুর । আল্লার তন গোস্যা থুই । উচিত শাস্তি দিব হে ।
সলিম কিছু বললে প্রতিবাদ করেনা কলিমুদ্দিন । চোখদুটো কেবল ছলছল করে তার । এরপর একদিন সকালে কলিমুদ্দির বাড়িতে মেয়েমানুষের আর্তনাদ শুনা যায় । গত রাতে কে বা কারা সিঁদ খুঁড়েছে কলিমের ঘরে । সবকিছু ঠিকঠাক কেবল কাঠের বাক্সে রাখা নগদ টাকা গুলো চুরি গেছে তার । সেই শোকে আর্তনাদ করে মনয়ারা । কলিমুদ্দির অসুস্থতা বাড়ে দিনে দিনে । বাপকে গঞ্জে নেওয়ার সামর্থ্য হয়না হাকিমের । সলিমের বউ হালিমা বড় ঘরের দাওয়ায় বসে কাঁথা সেলায় দিনমান । গাঁয়ের মেয়েরা পান খাওয়ার বাহানায় সমবেত হলে বুনো হাসি হাসে সে ।
-উচিত বিচার অইচেগো বু । আল্লানি বেঈমান কওতো ?
সলিমের ঋণ শোধ হলে খোশ মেজাজে থাকে সে । সেদিন কলিমুদ্দির কাছ থেকে আশাহত হয়ে ফেরার পর আরজু টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল তাকে । আজকাল প্রায়ই দশানী বাজার থেকে ফেরার পথে সলিমের বাড়ি হয়ে যায় আরজু । ও এলে দাওয়ায় বসে খোশগল্প করে সলিম ।
আষাঢ় মাসে বর্ষার ঢল নামে দরগাতলায় । বৃষ্টির অবিশ্রাম ধারা গৃহবন্দী করে গাঁয়ের দরিদ্র মানুষ গুলোকে । উত্তর হতে পাহাড়ি ঢল নামলে বন্যায় প্লাবিত গেরস্থবাড়ী গুলোকে ছোট ছোট দ্বীপের মত মনে হয় । নন্দকুসা নদীতে জোয়ার আসে এ সময় । পৌষ-মাঘ মাসে যে নদী শুকিয়ে মরা গাঙের রূপ নেয় আষাঢ় মাসে সে পূর্ণ যৌবনা । ওর বুকে তখন সওদাগরী নৌকা শোভা পায় । ঢেউয়ে নদীর তীর ভাঙে । আবাদি জমি হারায় চাষিরা । কলিমুদ্দির নদীপাড়ের আবাদি জমিটা ভাঙনের মুখে পড়লে চিন্তিত হয় সে । এহেন দুর্গতিতে ভাইপোরা রীতিমত তাণ্ডব নৃত্য করে তাকে নিয়ে । কলিমুদ্দির ছেলেরাও কলহ করে তাতে ।
আউসের মওসুমে ক্ষেতে হাল দেওয়ার বলদ থাকেনা কলিমুদ্দির । মাঝিপাড়ার জয়নাল তার হালের গরুটা দিতে চেয়েছিল তাকে । গতকাল এসে না করে গেছে সে । সলিমের হাল নিয়ে ভাবনা নেই । গোয়ালে জোড়া বলদ আছে তার । ওর ছেলে নালু মজুরীতে জমি চষে দেয় । আউসের মওসুমে নগদ টাকার মালিক হয় । নিরুপায় হয়ে সলিমের বলদটা একদিন চাইতে যেতে হয় কলিমুদ্দিনকে । রাজি হয়না সলিম । সুযোগ বোঝে দু’চার কথা শুনিয়ে দেয় উল্টো ।
-বলদনি ? হাল দিমু নবার ক্ষেত । হামাক ক্ষেমা দেও ।
আশাহত হয়ে ফেরার পথে বড় রাস্তার মোড়ে প্রকাণ্ড বটগাছটার নিচে বসে বিশ্রাম নেয় কলিমুদ্দিন । হিন্দুপাড়ার বিনুবংশী গরু ঘাস খাওয়াতে গেলে চোখাচোখি হয় দুজনের । বিনু বলে-
-বলদ পায়লানি কলিম ভাই ?
-নাগো ভাই । নিমুকহারামি ।
-ছাড়ান দেও । আমার বলদ নিও কাইল ।
অবশেষে বিনুর বলদে হালের ব্যবস্থা হয় কলিমুদ্দির । বিনিময়ে মোটা টাকা গুনতে হয় তাকে । এর দিন দশেক পর আবার কলহ হয় সলিম কলিমের মধ্যে । সেদিন সলিমের পালের বাছুরটা ঘাস খেতে কলিমের খেতে গেছিল । হাকিমের দৃষ্টিগোচর হলে ধরে এনে দিনভর গোয়ালে বেঁধে রেখেছিল সে । সন্ধ্যায় নালু সারা গ্রাম বাছুর খুঁজে হয়রান হয়েছে । ফেরার পথে নকু জানায়-
-তগো বাছুর হাকিম নিছে মালুম অয় । খোঁজ নে শিগগির ।
তারপর বাছুর আনতে যেয়ে হাকিমের সাথে কলহ করেছে নালু । ক্ষিপ্ত হাকিম জোরে ঘুষি দিলে নাক দিয়ে রক্ত বের হয়েছে তার । অবশেষে ফেরার পথে চিৎকার করেছে নালু ।
-হালারপুত, হামাকনি মারলি আইজ । জান নিমু ডরাইস ।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেদিন কলহ হয় ভাইয়ে ভাইয়ে । ওরা কলহ করলে গাঁয়ের ছেলেরা থামানোর চেষ্টা করে দুজনকেই । ষাটোর্ধ্ব করিম গাজী ধমকায়-
-ইতা কেমুন কাম অইলো, ভাইয়ে ভাইয়ে কলহ ভালানি ? এরপর ভরা মজলিসে একদিন অভিযোগ করে সলিম ।
-বাপের ভিটায় ঠহায়চে হামাক । জমি হগল মাপুম কই ।
ওর কথা শুনে চিৎকার করে কলিমুদ্দিন- নিমুকহারাম, বাপের ভিটায় শিকলনি । জান দিমু জমি দিমুনা নিয্যস ।
কালুগাজীর উপস্থিতিতেও সেদিন কলহের মীমাংসা হয়না দু’পক্ষে । অবশেষে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায় সবাই । এর কদিন পর কলিমুদ্দির পালের বলদটাকে কোপিয়ে আহত করে সলিমের ছেলেরা । সেদিন দড়ি ছিঁড়ে সলিমের খরের গাদায় মুখ দিয়েছিল সে । এই অজুহাতে নালু হাতের কাস্তে দিয়ে কয়েকটা কোপ দিয়েছে শরীরে । চামড়া কেটে রক্ত বেরিয়েছে বলদটার । সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করেনি পাষণ্ডটা । বলদের গায়ে আঘাতের চিহ্নগুলো দেখে শিউরে উঠে কলিমুদ্দিন । তবে অন্যান্য দিনের মত উপযাচক হয়ে কলহ করেনা সে । হাকিম কিছু বলতে গেলে বাঁধা দেয় বরং ।
-গোস্যা ক্ষেমা দে হারামিরপুত, গাওনি তর একলা জ্বলে ?
কলিমুদ্দির এমন কথায় খুশি হতে পারেনা হাকিম । মনে মনে হয়তো রাগটা পোষে রাখে সে ।
এরপর আশ্বিন মাসের এক সন্ধ্যার ঘটনা । একদিন বাজার থেকে সওদা করে বাড়ি ফিরছিল সলিম । কলিমুদ্দির বাড়িটা পেরিয়ে আসার সময় হাকিম আর নবার দ্বারা বাঁধাগ্রস্ত হয় সে । “ হারামিরপুত ”-বলে ধমক দিলে এক কথায় দুই কথায় ক্ষিপ্ত হারু নিজের কাছে থাকা লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে মাথায় । পরমুহূর্তে “আল্লাগো” বলে মাটিতে লুটিয়ে পরে সলিম । ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয় হাকিম । এরপর চোখের পলকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় দুজনই ।
ছেলেদের এমন কর্মে হতভম্ব হয় কলিমুদ্দিন স্বয়ং । গাঁয়ের বড়োরা তিরস্কার করে তাকে । করিম গাজী বলে-
-ইতানি কাম অইলো কলিম, পুলা দিয়্যা ভাইরে মারলা ?
করিম গাজীর কথার সহসা জবাব দেয়না কলিমুদ্দিন । মনে মনে হয়তো সেও আর্তনাদ করে ভাইয়ের জন্য । এ খবর জানার কথা নয় গাঁয়ের কারও । সম্মুখে যা দৃশ্যমান তাই সত্যি সবার কাছে । মনের খোঁজ রাখে কে ? তারপর গ্রামবাসীর সহায়তায় আলীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় সলিমকে । পরদিন গাঁয়ের ছেলেদের প্ররোচনায় আলীপুর থানায় মামলা ঠুকে দেয় নালু মিয়া । চৌকিদার কেদারনাথ কলিমুদ্দির বাড়ীতে ছেলেদের খোঁজ করে । ব্যর্থ হলে কলিমকে বেঁধে নিতে চায় সে । কালুগাজী বাঁধা দিলে সেদিনের মত ফেরত যায় কেদারনাথ । তারপর সহসা কলহের মীমাংসা হয়না সালিশ করেও । গাঁয়ের মুরব্বীরা কলিমের হয়ে কথা বলতে গেলে অপদস্ত হয় নালুর কাছে ।
এরপর একদিন সকালে আরজুর বাড়ির দহলিজে পুরুষের কণ্ঠ শুনা যায় । বাইরে বেরিয়ে এসে কলেমুদ্দিনকে দেখে আশ্চর্য হয় আরজু । সে বলে-
-কলিম ভাইনি ? আহ অন্দরে আইয়্যা বহ ।
আরজুর ঘরের বারান্দায় বসতে দেওয়া হয় কলিমকে । আরজু আবার বলে-
-একখান কতা ভাই । গোস্যা ছাড়ান দেও । নিজের ঘরে সিঁদ দিছ হগগল জানি মুই । সলিমরে অত টেহা আমার দিওনের সাধ্যি আচিলনি ?
-পুরান কতা ছাড়ান দে ঘটক । এ গোস্যা ছাড়ুনের না ।
-হগগল কইল্যা সলিম বুঝবো নিয্যস ।
কিন্তু তাতেও রাজি হয়না কলিমুদ্দিন । ভেতরে অদ্ভুত এক অভিমান পোষে রাখে সে । রাতে প্রায়ই পালিয়ে বেড়াতে হয় তাকে । ভাইয়ের জন্য মন পুড়ে তার । জানো-ভালবাসার জন্য যে হৃদয়, ভালবাসাহীনতায় দগ্ধ হয় সেই । এরইমধ্যে একদিন আলীপুর থানা থেকে পুলিশ এসে জবানবন্দি নিয়ে যায় সলিমের । মনের মধ্যে থাকা অভিমানগুলো অকপটে স্বীকার করে সে । তারপর হঠাৎ একদিন সন্ধ্যায় আলীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন অপরিচিত মানুষের আনাগোনা দেখা যায় । কাঁধের গামছা দিয়ে মুখটা ডেকে রাখে সে । নালুর সামনে পড়লে ঘুরে দাঁড়ায় । এরপর সুযোগ বোঝে লোকচক্ষুর অন্তরালে সলিমের ঘরে ডুকে সে । সলিম বলে-
-কেডাগো হারুনি ?
সলিমের কথার সহসা জবাব দেয়না কলিমুদ্দিন । মুখের গামছাটা সরিয়ে নিলে হতভম্ব হয় সলিম । সে বলে-
-মিয়া ভাই……….
-হ ।
-হাতত কিছু মালুম অয় ।
-পান্তা, লগে বিমুট্টে কলা । ন্যাংটাকালান খাইতি কত ।
তারপর হঠাৎ চোখাচোখি হলে দৃষ্টিগোচর হয় সত্যটা । দুজনেরই চোখে জল এসেছে কখন যেন অথচ লোকানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা । সলিম বলে-
-আহ ভাই মিলল্যা খাই ।



০৫/০৮/২০১৫


Nabadibakar_Writer_24

ঘর
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

যে ঘরে হায়
নেই ভালোবাসা,
সেতো ঘর নয়
মিথ্যে সে বাসা ।

সেতো শুধু ইট
পাথরের ধাপ,
বাহিরে থেকে
হয়না পরিমাপ ।

বড় বড় দালান
ঘরতো নয়,
সেইতো ঘর
যেখানে শান্তি রয় ।

শান্তি সেতো
মিথ্যে চোরাবালি,
জীবন ভাংগা চূড়ার
এক জোড়া তালি ।

24.3.15, 9.40 pm,

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ২১ ( আলুবিষয়ক আলাপ )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


প্লেটে চলছে রোজার মাস। ইফতারের অতি পরিচিত একটি খাবার আলুর চপ। আলু যথেষ্ট ক্যালরিসম্পন্ন সবজি। মানুষকে কাজ করার শক্তি জোগায় প্রচুর পরিমাণে। এতে কার্বোহাইড্রেড বা শর্করাজাতীয় খাদ্য উপাদান রয়েছে প্রচুর, যা মানুষকে করে শক্তিশালী। সাহায্য করে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে। কিছু কিছু খাবার রয়েছে, যাদের পুষ্টিগুলো দেহে শক্তি হিসেবে সঞ্চিত থাকে। আলুর পুষ্টি আমাদের শরীরে স্টার্চ নামক খাদ্য উপাদান হিসেবে সঞ্চিত থাকে, যা শরীরে জোগায় শক্তি, বাড়ায় কাজ করার ক্ষমতা।
আলুর ভিটামিন ‘এ’ চোখের জন্য ভীষণ উপকারী। অকালে চোখে ছানি পড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া রোধ করে আলু। শিশুদের জন্য চাল, ডাল, আলু, মিষ্টি কুমড়ার খিচুড়ি যথেষ্ট পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার।
আলুকে বলা হয় চিনিসমৃদ্ধ সবজি। ভীষণ দ্রুত রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়ায়। খুব তাড়াতাড়ি মস্তিষ্কে গ্লুকোজ সরবরাহ করতে সাহায্য করে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে কাজ করলে রক্তে চিনির পরিমাণ কমে যায় এই অবস্থাকে বলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া।
এমন অবস্থায় আলু দিয়ে তৈরি তরকারি, মিষ্টিজাতীয় খাবার বা আলু দিয়ে তৈরি কোনো খাবার খেলে দ্রুত রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়বে। আলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে চিনি। অধিক ওজনবিশিষ্ট ব্যক্তিরা আলু যত বেশি পরিহার করতে পারে, ততই ভালো। কারণ, আলু ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। যাদের রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস বা অস্টিও আথ্রাইটিস রয়েছে, তারা আলু খাবে বিবেচনা করে। কারণ, আথ্রাইটিস একধরনের বাতের ব্যথা, যাতে দেহের ওজন ও রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে গেলে কষ্টও বেড়ে যায়।
বাড়ন্ত শিশু, অতিরিক্ত দৈহিক পরিশ্রম করে এমন মানুষের জন্য আলু উপযুক্ত খাবার। কিন্তু যাদের ডায়াবেটিস, হাইব্লাডপ্রেশার, হাইকোলস্টেরল (রক্তে চর্বি বা ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যায়) রয়েছে তাদের আলু পরিহার করতে হবে। আর এই সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকলে আলু খাওয়া যাবে পরিমাণমতো। গর্ভাবস্থায় হাইব্লাডপ্রেশার বা ডায়াবেটিস থাকলে পরে হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি (যদি সঠিকভাবে সুষম খাবার খাওয়া না হয় ও ওজন নিয়ন্ত্রণে না থাকে)।
তাই গর্ভাবস্থায় সমস্যা থাকলে পরবর্তী সময়ে আলু খাবার ব্যাপারে সচেতন হোন। এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়ামও রয়েছে পর্যাপ্ত হারে, যা হাড়, দাঁত, নখ, চুলকে করে মজবুত। ইফতারে আলুর চপ থাকলে তা যত কম তেল-মসলা দিয়ে খাওয়া যায় ততই ভালো।

Nabadibakar_Writer_24_

অনুপ্রেরণা
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

কবিতা তুমি
আমার হৃদয়ের অপ্রকাশিত ভাবনা
একাকি থাকার বিষাদময় জীবনের সান্ত্বনা
কবিতা তুমি
আমার জোঁনাকির আলোকিত মেলার নিরব রাত্রী
স্মৃতিময় কতই না মুহূর্ত্বের নির্বাক শাক্ষি।

কবিতা তুমি
আমার অছন্দময় জীবনের, ছন্দময় মাত্রা
মুক্ত গগন পানে জেগে থাকা হাজারো পথভ্রষ্ট তারা,
কবিতা তুমি
আমার জীবনের যুগ যুগ বেঁচে থাকার অনুপ্রেণা
কখনো আবার,অন্ধ মানবতার তুলে ধরা বাস্তবতা।

কবিতা তুমি
আমার পথহারা জীবনের, খুঁজে পাওয়া পথ,
পাপিষ্ট জীবনের পাপ, মুঝে ফেলেছি যত সব
কবিতা তুমি
আমার জীবনের প্রতিবাদের অস্ত্র,উচ্চস্বরে বিপ্লবি কণ্ঠ
কবিতা শুধুই তুমিই আমার সাহস মানবতার মনুষ্যত্ব

কবিতা তুমি
আমার নবপ্রভাতে সাগরের বুকে উঠে আসা
সূর্যের জাগরন
কখনো আবার উত্তাল গর্জনে জন জীবনের
পতন
কবিতা তুমি
আমার গ্রাম বাংলার সোনালি ফসল,আর কৃষকের হাসি
হাজারো গ্রামে গ্রামে হয়ে থাকা গানের আসর
জারি আর সারি।

Nabadibakar_Writer_47চিরকুট
- এম . এইচ . স্বপন


প্রেরকের ঠিকানাবিহীন হলুদ খামে আসা চিঠিখানাতে স্পষ্ট করে কালো কালিতে লেখা । আজ দীর্ঘ ছয়মাস হল তোমার সাথে যোগাযোগ নেই , তার মানে এইনয় যে ভুলে গেছি , ভোলা কি সম্ভব , আচ্ছা তুমি বলো । তোমাকে ছাড়া ভালো আছি তাও নয় । কাউকে সঙ্গি করেছি সেটাও সত্য নয় । আমি তোমার খুব কাছাকাছি থাকি, অনেক মনে পড়ে তোমায় , তবুও তোমার কষ্ট বাড়াতে চাইনা বলে একাকি আছি । কত রাত নির্ঘুম ছিলাম জানোনা । মাঝরাতে অনেক কেঁদেছি , আওয়াজবিহীন কান্নাটা কত নির্মম হয়তো বলে লিখে বোঝাতে পারবো না ।
ও তোমাকে একটা কথা বলা হয়নি আমার একটা বিষয়ে রেজাল্ট খারাপ হয়েছে আর কত বলো . . . একদিকে তোমার কথা অন্যদিকে পরিবার ।
কতটা টেনশানে ছিলাম তবুও পরিক্ষা দিয়েছি । বাসার কেউ জানেনা রেজাল্ট খারাপের কথা , আর পারছিনা বলে তোমাকে লিখছি কথাগুলো । জানি রেজাল্ট খারাপের খবরে তোমার মন খারাপ হবে । তোমাকে মিথ্যে বলতে পারিনা বলে সত্যটা বলে দিলাম । এ পৃথিবীতে আমাকেতো একমাত্র তুমিই বুজতে খুব সহজে ।
একটু সময় হবে কি তোমার ।
আমি দেখা করতে চাই , একটু তোমাকে দেখতে চাই. . . . ।

Nabadibakar_Writer_30

ভালবাসার শান্তি
- মনিরা ফেরদৌসির

অনেক বছর আগে কেউ বলেছিল ভালবাসি
বলেছিল আমাকে তোর কেমন লাগে
প্রতিউত্তর না পেলেও ভেবেছিল মৌনতা
সম্মতির লক্ষন ।
বলেছিল সাগরের ঢেউয়ে ভেসে যাব দুজন
যেখানে থাকবে নীল মেঘে ঢাকা পুস্পকানন
বলেছিল হাত ধরে জ্যোৎস্না নিশীথে পরাবে
কপলে লাল চন্দন।
দুস্টুমি হাসি ভরা মুখ ছিল তার যার স্পর্শের
মায়াজালে শিহরণ জাগে বার বার ,বলেছিল
প্রাণের সাথে প্রাণ মিশিয়ে দেখব সুখের মুখ ।
বলেছিল একদিন রূপালি রাতে চোখে চোখ রেখে
ভালোবাসা মানে কাছে পাওয়া নয় , জীবন ভরে
ভালবেসে যাব তোমারই পথ চেয়ে ।
বলেছিল একদিন চাঁদনি রাতে গোকুল গন্ধে
ভরা মুখ খানি চৈত্ররাতের চামেলি তুমি
তোমায় নিয়ে স্বপ্নে হারাই যেখানে দুজনের
মহা মিলন পাই ।
শান্তির বন্যায় ভাসাবো তোমায় অসীম কালের
হিল্লোলে ফুলের গন্ধে মন মাতিয়ে অসীম সুখে
হাসাবো ,স্বর্গরাজ্যে রাখবো ধরে আমার
ভালবাসা দিয়ে ।।

০২/১১/২০১৫

Nabadibakar_Writer_69

দীর্ঘশ্বাস
- মাছুম কামাল

এইভাবে চোখ পোড়াতে পোড়াতে একদিন আমরাও জেনে নেবো,
জেনে নেবো চোখের ও জীবন আছে।
ডুবে থাকা লঞ্চের বুকে চড়ুই পাখির নীড় আছে।
পাহাড়টাও গা বাঁচিয়ে বাঁচে।
আকন্ঠ পানিতে নির্জন হিজল গাছ গুলো এক একটা জীবন।
এমন বিচ্ছিন্ন, অথচ বেঁচে আছে।
তারপর, আমি বলছিলাম সে বিষাদের সাথে কথা।
আমার চাপা ফুলের ব্যাথা।
তারপর, মাস্তুল, গীটার, ডেক্সপো, লক্ষী পাতার গল্প।
তারপর, কিছু অস্পষ্টতা, কয়েয়ক্টা নির্জন দুঃখ।
তারপর, খাল; খাল পেরুলেই সাঁকোটা।
তারপর, আকাশের অজস্র রং, অনাহূত বসবাস আমার।
তারপর, কটা চাঁদনী রাত, দুখুর চিৎকার, একটা পাহাড়ী মেয়ের কাহিনী।
তারপর, তো শালা সব ইতিহাস।
প্রান দোলানো লিলুয়া বাতাস।
রাতভর জেগে দেখি, এসব গুটিয়ে পড়া দীর্ঘশ্বাস!



  Sample
স্বপ্ন


- প্রদীপ ঘড়া


কিসের সুগন্ধে বাতাস হলো

এত পাগল

উড়ালো মেয়েটির আঁচল !

অঙ্গ তাহার খালি

ছিল ঢাকাই এর শাড়ি ।

কে দিল ব্যথা

ওই মেঘের বুকে ।

কান্নায় ভাসিয়ে দিলো 

মেয়েটির রাঙা দুটো চরণকে ।

অধূরা স্বপ্ন

নিয়ে গেলো কালো আকাশ

কে এমন ছড়ালো

সুগন্ধের বাতাস ?

পাগল হাওয়া শোনে নাকো বারণ

অবশ করে নিয়ে গেলো

মেয়েটির দুটো কদম

পাগলা বাতাস অঙ্গে দিয়ে সুড়সুড়ি

মেঘের কান্না ও নিয়ে গেলো

তোমায় ভালোবাসি ।

মেঘের কান্না অঙ্গে নিচ্ছে চুমু 

পাগল বাতাস সরিয়ে দিচ্ছে শুধু ।


Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget