অক্টোবর 2015

Nabadibakar_Writer_69

বেদুঈন রাত
- মাছুম কামাল

একটা নেশাময় বেদুঈন রাত পেরুবার পর, আমাদের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে তীব্র ঘুম।
পাহাড়িয়া মোহন বাঁশীর সুরে কাটে উদাস করা বিকেল।
জলছাপায় গড়া অতিকায় স্বপ্নের বুকে তুচ্ছ মাশরুম।
পিচঢালা পথে আগুনমুখী আকাশ পেরুতে গিয়ে খুঁজে পাই পাখির বাসা।
সেগুন গাছ, যাত্রী ছাউনী।
মিশিয়ে ফেলি অনুভূতি, বিষাদ ও নীলে।
মূলত দুঃখের কোনো বসত-ভিটা নেই।
বিষাদ আমার বুকে, চোখে, নষ্ঠ নখে।
আমৃত্যু বেঁচে থেকে জলের বুকে গড়িয়ে যায় কেউ কেউ,
কারো কোনো ঠিকানাই থাকে না।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ২০ ( কাঁচা ছোলার গুণাগুণ )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


রমজান মাসে ইফতারের সময় জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলা। আমাদের দেশে ছোলার ডাল নানাভাবে খাওয়া হয়। কাঁচা, রান্না করে মুড়ির সঙ্গে বা ডাল হিসেবে। বাজারে ভেজেও বিক্রি হয়। সবচেয়ে বেশি পুষ্টি হলো কাঁচা ছোলাতে। পানিতে ভেজানো ছোলার খোসা ফেলে কাঁচা আদা কুচি দিয়ে খেলে তা শরীরের জন্য জোগাবে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি। রান্না ছোলাতে তেল দেওয়া থাকে বলে এতে ফ্যাটের পরিমাণ রয়েছে। মোটা ব্যক্তি বা উচ্চরক্তচাপ আছে যাঁদের তাঁরা কাঁচা ছোলা খান। তাঁদের জন্য অতিরিক্ত তেল, মসলা দেওয়া ছোলা হলো ঝুঁকিপূর্ণ। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে রান্না ছোলা খেতে পারেন নির্দিষ্ট পরিমাণে। যাঁরা খোসাসহ ছোলা খেতে পারেন না, তাঁদের জন্য কাঁচা ছোলা যথেষ্ট উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন বা আমিষ। ছোলার প্রোটিন দেহকে করে দৃঢ়, শক্তিশালী, হাড়কে করে মজবুত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর ভূমিকা অপরিহার্য। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। যা দেহের হূৎপিণ্ডের গতিকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
কিন্তু কিডনির সমস্যা যাঁদের রয়েছে (ডায়ালাইসিস চলছে, রক্তে ক্রিয়েটিনিন, ইউরিক এসিড বা ইউরিয়ার পরিমাণ বেশি) তাঁরা যেকোনো রকম ছোলা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ যেকোনো ডালে পটাশিয়াম থাকে, যা রক্তে (যাঁদের কিডনি দুর্বল) সেরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাড়ায়। তাই ছোলা দুর্বল কিডনির জন্য বর্জনীয়। এতে যে খনিজ লবণগুলো রয়েছে তা দাঁত, চুল, হাড়কে করে মজবুত। বাড়ায় কাজ করার শক্তি। কাঁচা ছোলা চিবিয়ে খেলে এর রস দাঁতের মাড়িকে করে মজবুত। যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁদের জন্য কাঁচা ছোলা ভীষণ উপকারী। ছোলার গায়ে যে আঁশ থাকে, তা পাকস্থলীকে (যেখানে খাবার জমা থাকে) করে গ্যাসমুক্ত, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। হজম করতে না পারলে কাঁচা ছোলা খাবেন না।
এতে ভিটামিন ‘বি’ও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিন ‘বি’ কমায় মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা। সালফার নামক খাদ্য উপাদানের বসতিও এই ছোলাতে। সালফার মাথা গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমায়। ত্বকে আনে মসৃণতা। কাঁচা ছোলা ভীষণ উপকারী। তবে ছোলার ডালের তৈরি ভাজা-পোড়া খাবার যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। তাই হজমশক্তি বুঝে ছোলা হোক পরিবারের শক্তি।

Nabadibakar_Writer_54

গুচ্ছকবিতা
- মোঃ জাহিদুল ইসলাম

রাত্রি (১)

ল্যাম্পপোষ্টের শেষ আলোয় দাঁড়িয়ে
আমি রাত্রি প্রশব করি-
রক্তাভ আকাশ, মূর্ত প্রকৃতি ,কালো সূর্য
দ্রুতবেগে হারিয়ে যাওয়া সময়,
ভগ্নপ্রায় চিরকুট-
বাঁসি বন-রুটির মাঝে হারাই শেষ চুম্বন
আমি সোডিয়ামের হলদে আলো ছুতে ছুতে,
শেষ বারের মতো রাত্রি কে জানি ।

অভিযোজন (২)

জানিনা কীভাবে করবো শেষটা !
ভেবোনা তুমি,
কঠোরতার মাত্রায় এখনো ছাড়াইনি তোমায়।
তাই এখনো বুঝতে পারি
স্বার্থপর এই ধরিত্রীর অভিযোজনে;
মিথ্যে বলাটা কতটা সহজ !

ভালো থেকো অলুক্ষণা (৩)

কাব্যিক অপূর্ণ মাত্রায়-
শিল্পীর রঙিন ক্যানভাসে
লেখকের দগ্ধ কালিতে,
ক্ষয়ে যাওয়া হৃদয়ের অলিন্দগুলোতে-
প্রহরের শেষ প্রহসনে;
ঠোঁটের কোণায় আমৃত্যু যৌবনা নিয়ে-
তুমি ভালোই থেকো অলুক্ষণা !

দুঃস্বপ্ন (৪)

আজ রাতের দুঃস্বপ্নটা
খুব গভীর ছিলো,
কাঁচা বাঁশের ঘের দেয়া
ধবধবে সাদা কাপড়,
পাতলা করে কাঁটা বাঁশের চাঁটাই,
আর দুটো লোক যাদের কোনো দেহ নেই।

বাংলাভূমি (৫)

কেন জন্ম বাংলাভূমির
ঠাঁই নাই হেথা দুর্ভাগা গাজীর-
রাজপথে আজ ধুঁকে মরে রিক্সার প্যাডেলে
দূর্গন্ধময় বস্তির আস্তাকুড়ে,
যদি না থাকতো দৈন্যতা,দেখতে এসে তুমি,
আমরাও গড়তে পারি নরকের মত বিরাণভূমি।

অভয়ারণ্য (৬)

এই কংক্রিট ঘেরা রুগ্ন নগরীতে,
আমি এক উন্মাতাল বনভূমি,
শিরায়-উপশিরায় যার বয়ে চলেছে জংলা নদী-
লোমশ বুকে গড়ে উঠেছে অজস্র ম্যাগপাইয়ের আড্ডা
শুধু নেই কোন প্রগতিশীলতা, সাম্যবাদিতা,
নাস্তিকতা, নারীবাদিতা-
আজ থেকে এই বুক অভয়ারণ্য তোমার,
চেনা মর্ত্যটাকে কখনো নরক মনে হলে ঝাঁপিয়ে পড়বে
কিন্তু খবরদার, কখনও কাঁদবে না!

রেসিপি (৭)

চটপটিওয়ালার কাছে আর যেতে হয় না
খরচা করে খেতে হয় না,
সেদ্ধ মটরের তৈরী
ক্যান্টিন গেইটের ঝাল চটপটি-
ইদানিং বিনা পারিশ্রমিকেই
রেঁধে খাচ্ছি ঝাল সম্পর্কের
যতো ঝাল ঝাল রেসিপি ।

Nabadibakar_Writer_24_

অনুভবে খুঁজি
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

তোমার দেখা পেলে,যেন নবপ্রভাতের
পূর্ব দিগন্তে উঠে আসা সূর্য পূর্নতা পাই,
ক্লান্ত দুপুর,
সোনালী রোদ অঙ্গে মাখিয়ে রই!

তোমায় অনুভবে,
খুঁজলে, খুঁজে পাই বেলা অবেলার স্বৃতি,
ঐ রাগিত গগন পানে ঝরে পরে,
অনাকাঙ্খিত বৃষ্টি।

তুমি পাশে থাকলে,
আধার রাত্রে মেলা বসে জোঁনাকির'
প্রতিক্ষিত প্রেম পল্লিতে
দীঘির জল সুর তুলে তরঙ্গ নৃত্যে,
আর,রাত হয়ে উঠে আরো মধুর
হাজারো ফুলের সুগন্ধে।

তোমায় হারালে,
হারিয়ে যাই আমার নয়নের নিদ্রা,
শঙ্কিত হৃদয়ে সারা রাত জাগিৃত
কাটেনা তোমাকে হারাবার শঙ্কা।

Nabadibakar_Writer_39

অণুকাব্য
- ইয়া ছাদিয়া রুকাইয়া

অণুকাব্য (১)
চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে
সেই হাসিতে বউ সেজেছে
বউ ধরেছে বায়না
বউয়ের লাগবে আয়না ।।

অণুকাব্য (২)
সখা তুমি ঐ পারেতে
আমি আছি এই পারেতে
জানি তুমি অনেক দূরে
তবু আছো হৃদয় মাঝে ।।

Nabadibakar_Writer_24

আমি এক নারী
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

বিষাদ আমায়
দিও না পেছনে ফেলে,
যুদ্ধ করতে চাই
যতোদিন আয়ু মেলে ।

হতাশা আমায়
করোনা দূরবল,
হারাতে চাই না
এক বিন্দু মনোবল ।

মানবতার জন্য
করতে চাই কাজ,
হারি জিতি
নেই তো লাজ।

হতাশা আমায়
দিও না কষ্ট,
সাহস তুমি
হয়ো না নষ্ট ।

আমি এক নারী ,
সবাই বলে দূরবল,
ভাংতে চাই
পুরোনো শিকল।

হিমালয় জিতেছি
জিতবো পৃথিবী,
দূর করতে চাই,
বাধা বিপত্তি সবি।

চিকিৎসক ও লেখক, 24.10.15, 8.20pm

Nabadibakar_Writer_40

কবিতা
- মেহেদী হাসান আকাশ

হে কবিতা
মোরে রাখিওনা আর ধরিন
জগৎ সংসার যে
ছারিয়াছি আমি।
তবুও কেন যে
রাখিয়াছো বাধি
জগৎ মোরে অনেক দিয়াছে
পারিনি আমি কিছুই দিতে।
ছন্নছাড়া পাখির মত
আছি এখনও বেচে
সবাই মোরে ভুলিয়া গিয়াছে
ভুলোনি শুধু তুমি।
সকলই যখন দূরে সরিয়াছে
শুধু সরিতে পারিনি আমি।
তবুও কেন যে বাধিয়া রেখেছো
হে কবিতা মোরে।

Nabadibakar_Writer_24

আমার প্রাণের দেশ
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

জীবন তোমার জন্য
দেশকে ফেলে,
আপনজন দের
দূরে ঠেলে,
হলাম পরদেশী,
তবু আমি বাংলাদেশী।

আমার দেশ
মন জুড়ে তুমি,
তুমি আমার পরিচয়
আমার জনমো ভূমি ।

এখনো গন্ধ পাই
কচি ধান,
শিরা উপশিরা তে
দেশের টান।

বুকের মাঝে
লাল সবুজ পতাকা,
চোখ জুড়ে আমার
মেঠো পথ আকা।

তুমি আমার দেশ,
আমার মাটি,
তোমার জন্য
ভালোবাসা খাটি।

জীবন তোমার জন্য
পেকে গেল কেশ,
আমার মাতৃভূমি
তুমি হও.........সাবাশ বাংলাদেশ ।

বাংলাদেশ সময় দুপুর 12.30, 23.10.15 ।

Nabadibakar_Writer_24_

হৃদয় রক্তক্ষরন
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

আর কত দিন, কত বেলা অবেলা,কত মুর্হত্ব
অতিক্রম করলে, বসন্তের গৌধূলি সন্ধ্যা লগ্ন
আমার হবে!
জোঁনাকির মেলা রাজ্যে, ঘোর আধারে তোমাকে অঙ্গে জড়ায়ে,হাজারো আলোর মাঝে প্রেম বাঁধবো।

রাত এলে স্বপ্নরা ভয়ে হারিয়ে যাই,তারা জানে
জীবন হারানো হৃদয়ে তাদের স্থান নেই,
সারা রাত্রী তো তার নয়নে রক্ত অশ্রু গড়ায়ে যাই।
সেই খেয়া ঘাটে করিম মাঝির তরী আজ তীরে
রয়েছে বাঁধা,
পাইনি কোন সুজন সখী,কোন ক্লান্ত বিকেলে
প্রেমক যুগোলের দেখা।

নদীর জলও ভয় পাই,যদি নয়নের অশ্রু গড়ায়ে হয় সুনামী হয়তো বন্যা।
তাহলে আবারো হবে ঝলনার জয়,আর
প্রেমের হবে মৃত্যু,হৃদয় রক্তক্ষরন প্রেম
পাগলের পরাজয়।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ১৯ ( আমড়ার মৌসুম )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


প্রকৃতিতে এসেছে আমড়ার মৌসুম। আমাদের দেশে দুই ধরনের আমড়া পাওয়া যায়। দুই রকমের আমড়াতেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’। আমড়ার ভিটামিন সি বর্ষার স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে কিছু রোগজীবাণু বাতাসে ভেসে বেড়ায়, নোংরা পানিতে বাসা বাঁধে—এমন জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। দাঁতের মাড়ি শক্ত করে, দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত, পুঁজ, রক্তরস বের হওয়া প্রতিরোধ করে আমড়া। এর ভেতরের অংশের চেয়ে বাইরের খোসাতে রয়েছে বেশি ভিটামিন সি আর ফাইবার বা আঁশ, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে দ্বিগুণ শক্তিশালী। আর আঁশ-জাতীয় খাবার পাকস্থলী (স্টমাক), ক্ষুদ্রান্ত, বৃহদন্ত্রর (পেটের ভেতরের অংশবিশেষ) জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তাই খোসাসহ আমড়া খাওয়াটাই উত্তম। তবে খোসা অতিরিক্ত টক আর সবাই হজম করতে পারে না, তাই দুর্বল হজমশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের আমড়ার খোসা পরিহার করাই শ্রেয়। কারণ, আমড়ার খোসা অতিরিক্ত টক। বাঁকা দাঁত রয়েছে, এমন ব্যক্তি খোসাসহ আমড়া কামড়ের পরিবর্তে চাকু দিয়ে কেটে খান। কারণ, খোসার শক্ত আবরণ বাঁকা দাঁতের ব্যক্তিদের মাড়িতে আঘাত করবে বেশি, যা উপকারের পরিবর্তে বয়ে আনবে অপকার।
চর্বি বা কোলেস্টেরল কমিয়ে, হূৎপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে আমড়া। ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে সালাদের বাটিতে অনায়াসে স্থান পাবে আমড়া। এতে চিনির পরিমাণ খুব কম। তাই উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেসার), ডায়াবেটিসের রোগীরা খেতে পারেন নিশ্চিন্তে। তবে পাকা আমড়া ডায়াবেটিসের রোগীরা পরিহার করুন। কারণ, পাকা আমড়ায় সুগারের পরিমাণ কাঁচার তুলনায় বেশি থাকে।

Nabadibakar_Writer_47অনুভূতি
- এম . এইচ . স্বপন


ঘড়ির কাটায় রাত ১২ টা ১ মিনিট সাথে সাথে ২৪ অক্টোবর । মুঠোফোনের রিংটোন বেজে উঠলো প্রথম মেসেজ বন্ধু আফসানার । জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে খুদে বার্তা , ফেসবুক ইনবক্স , টাইমলাইনে অসংখ্য শুভেচ্ছা বার্তা । ২৮ তম জন্মদিন , নানা পেশার নানাজন বন্ধু হয়ে আপনজন । যে যার মত লিখেছেন শুভেচ্ছা বার্তায় , সবার কাছে কৃতজ্ঞ । দেশ ছাড়িয়ে দেশের বাইরে সাধারন থেকে অসাধারন সকলের ভালোবাসায় ভরা এবারের জন্মদিন । অন্তর থেকে ভালোবাসা সবার প্রতি । এবার কোনভাবেই উৎযাপন করা হয়নি জন্মদিন । নতুন এক চ্যালেঞ্জ হাতে নেয়া , সকলকে বলে রাখি জন্মদিন উৎযাপনের পুরো বাজেটটা জমা দেওয়া হয়েছে "আলো দেখাবোই'র"ফান্ডে । পৃথিবীতে অনেকে আছেন সত্য , পৃথিবীর আলো দেখেননা অনেকজন , তাদের চিকিৎসায় এই ফান্ড । নতুন ভোর , নতুন আশায় শপথ হোক মানবতা । সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ , নিরাপদ ও সুস্থ থাকুন সকলে , শুভ কামনা ।



Nabadibakar_Writer_24
আমরা বাঁচতে চাই
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
( উপলক্ষ - বিশ্ব শিশু শ্রম বিরোধী দিবস )

ছিলে গেছে
হাতের চামড়া,
পথের গরীব
শিশু আমরা ।

রাত দিন কাজ, 
দুই হাতে কালি,
পেটে নেই ভাত
দেহে ধূলো বালি ।

পথের ধারে 
ফুল বিক্রি করি,
পকেটমার হয়ে 
কখনো করি চুরি ।

সমাজ আমাদের 
বানিয়েছে টোকাই, 
এই জীবনে শুধু 
কষ্টের গল্প তাই !!!

আমাদের অনেকের
নেই মা বাবা, 
       হেলপার হয়ে 
লেগুনা তে দিই  থাবা ।

যুগ যুগ ধরে 
আমরা অসহায়, 
"মানুষ " হয়ে 
"আমরা বাঁচতে চাই " ।

4.20 pm, 12.6.2015

বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।

nabadibakar-w

বার বার নয়
- এম . আর . আই . সাইমুম

হাজার বার জন্ম নিও ,
তুমি এই পৃথিবী জুড়ে ।
তোমার ধর্ম তোমার কর্ম ,
বেঁচে থাকুক সবার হৃদয় জুড়ে ।
তোমার স্বপ্ন তোমার আকাঙ্খা ,
জেগে থাকুক অনন্ত প্রহরে ।
তোমার কাল্পনিক স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকুক সবাই বাস্তবায়নে ।
সহস্র ভালোবাসা দিয়ে হৃদয়ের ব্যথা ভুলে ,
এগিয়ে যাও নতুন জীবনের নতুন বছরের নতুন ভোরের হাজারো স্রোতে ,
শুভ জন্মদিন বন্ধু ।
উৎস্বর্গ : সমাজ সংগঠক এম . এইচ . স্বপন ।

Nabadibakar_Writer_56

প্রকৃতির জয়গান
- মোঃ আব্দুল হাফিজ

সোঁদা মাটির মোহময় গন্ধ
একটু দুরেই বিস্তৃত পাটক্ষেত
পাতায় পাতায় ভুঁঞা পোকার
ধীর গতিতে চলাফেরা
যেন সহিষ্ণু হতে শেখায়
আর ডেকে বলে -
এসো আমাদের সাথে খেল
সামাজিক জ্ঞান অর্জন কর ।
কর্দমাক্ত পথ পেরিয়ে ছোট একটা
গাছের গুঁড়ি যেখানে পিঁপড়েরা সারিবদ্ধ হয়ে খাদ্য সঞ্চয়ে ব্যস্ত
"পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি "
প্রবাদটি মনে করিয়ে দেয় ।
দু'পাশে ধানী জমি
মাঝে মাঝে আইল
অজগরের মতো এঁকেবেঁকে জমির মালিকানা আলাদা করেছে ।
কিছুদূর এগিয়ে শালিকের ওড়াওড়ি খেলা
প্রাণবন্ত মাতলামিতে বিষন্নতার অবসান
দিগন্ত পেরিয়ে আকাশ আর জমিনের সহবাস
একে অপরকে ছোঁয়াছুঁয়ির খেলা
ভালবাসা জাগায় প্রাণে প্রাণে ।
হতভম্ব আকাশের বিশালতায়
কোথায় শেষ তার
করেছে কে সৃষ্টি ?
নিপুণ হাতের ছোয়ায় !
দেহে এনেছে আত্মা
আত্মায় এনেছে প্রাণ
বিশাল মাঠের শেষপ্রান্তে
হাওড় বাওড়
প্রান্তে প্রান্তে কাশফুলের নাচানাচি
এ যেন মহামায়ায় ভরা স্বর্গের হাতছানি
বোধোদয় !
প্রকৃতির কাছে মাথা নোয়ানো
প্রকৃতিই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ।

বেনাপোল, ২২ / ১০ / ২০১৫, ৭ কার্তিক ১৪২২

Nabadibakar_Writer_24

আমি হবো জয়ী
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

মন তুমি কভু
যেও না হেরে ,
মনোবল তুমি
যেও না ছেড়ে ।

অনেক কাজ
নেই তো অবসর,
কাজ করতে চাই
হাজার বছর ।

হতাশা আমায়
দিও না কষ্ট,
মন তুমি কভু
হয়ো না নষ্ট ।

মন তুমি হও ,
জয়ী বার বার ,
কাজ তুমি শক্তি
তুমিই হও আমার ।

21.10.15, 10 pm

Nabadibakar_Writer_54

এপিটাফ
- মোঃ জাহিদুল ইসলাম

জৈব মাটিতে ঘেরা চারপাশ
ঘের দেওয়া কঁচি বাঁশের বেড়ায় -
নিভৃতে ঘুমিয়ে আছে একটি দেহ।
পোঁকাগুলো আজ খুশিতে বেজায় মত্ত;
নতুন খাবার আহরনের আশায়।

তারও আসার কথা ছিল-
অথচ কেউ আসবে না, আসবে না অতি আপনজনও।
যে নদীর স্রোত সাগরে পড়েছে একবার
সে আর ফেরে নি কখনও, ফিরবেও না।

শিয়রের কাছে জন্মানো পেঁয়ারার ডালাটা
অগুনতি পেঁয়ারার ভারে নুয়ে পড়েছে।
সুশীতল ছায়ায় শীতল রেখেছে ঘরটিতে
রজনীগন্ধা আর ক্যামেলিয়া ফুলের মন মাতানো সৌরভে সুরভিত চারিদিক
ফুটে আছে নয়নতারারাও ।
এত স্নিগ্ধ,শান্তির আবাস ক'জনের হয়??
প্রতিদিন আসে, তারা আসে প্রতিনিয়ত।
কেউ আসে পেঁয়ারার পরিপক্বতা দেখতে, কেউবা দেখতে এপিটাফ !

(সমাপ্ত)

Nabadibakar_Writer_24

''মা" তুমিই শক্তি
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

তুমি দিয়েছো শক্তি,
তুমি দেখিয়েছো পথ,
তোমার চরণে ভক্তি,
তোমার নামে শপথ ।

কষ্ট নাশ কারি
"মা " তুমি,
তোমার চরণে
পুণ্যের ভূমি।

তুমি আধার
রাতের আলো,
তুমিই জীবনে
প্রদীপ জ্বালো।

তুমিই বিশ্বাস,
আমার ভক্তি,
তোমার চরণে
"মা " আমার মুক্তি ।

তুমিই শান্তি,
তুমিই মহান,
"মা" তুমি
আমার মান।

তুমি আমার
চেতনার পরিচয়,
তোমার সন্তানের
হোক চির জয় ।
20.10.15, 11 pm

Nabadibakar_Writer_46

দূর্গা মায়ের হাসি
- বিভূতি চক্রবর্তী

পূজার হাওয়া এসে গেছে আকাশে আর বাতাসে-
একটি বছর কাটিয়ে মা এর চোখ যে জলে ভাসে,
মা এর সাথেই হাজির তাঁহার ছেলে মেয়ের দল-
পাঁচটি দিনের উন্মাদনার শেষে গড়ায় চোখের জল।
আমরা যারা সবাই থাকি মা এর নিবিড় স্নেহে,
ঠাঁই পেয়ে তাই জড়িয়ে ধরি সবাই সবার দেহে।
ছেলে, মেয়ে, স্বামীসহ সবাই মিলে অসুর নিধন,
সবাই মিলে কয়েকটা দিন দুঃখ-সুখের আলোড়ন।

আগরতলা, ১৯/১০/২০১৫ ইং ।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ১৮ ( পেয়ারার পুষ্টিকথা )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


বর্ষাকালের ফল পেয়ারা। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি এবং সি। ভিটামিন এ চোখের উপকার বয়ে আনে। আর ভিটামিন সি পুরো শরীরের ত্বকে বয়ে আনে পুষ্টি। পেয়ারার ভেতরের চেয়ে বাইরের খোসায় রয়েছে বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি, যা স্কার্ভি নামক চর্মরোগসহ সব ধরনের ত্বকের অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, সর্দি, হাঁচি, কাশি দূর করে। ত্বককে ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে রক্ষা করে পেয়ারার বাইরের সবুজ আবরণ। এই ফলে রয়েছে ক্যারটিনয়েড নামক উপাদান, যা ভাইরাসজনিত ইনফেকশনকে ধ্বংস করে, ডায়রিয়ার জীবাণুকে করে দুর্বল।
ত্বকে টানটান ভাব এনে মাংসপেশিকে শক্তিশালী করতে এর ভূমিকা অপরিসীম। তারুণ্য বজায় রাখে দীর্ঘকাল। তবে খুব বেশি মিষ্টি পেয়ারা ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই হালকা মিষ্টি পেয়ারা খান। কচি পেয়ারা রক্তে দ্রুত চিনির মাত্রা কমায়। তাই ডায়াবেটিসের রোগী ও অধিক ওজনবিশিষ্ট ব্যক্তিরা পাকা পেয়ারার পরিবর্তে খেতে পারেন কচি পেয়ারা। অনেকেই পেয়ারার বিচি (বীজ) হজম করতে পারেন না। হজমে সমস্যা হলে বীজ ফেলে পেয়ারা খান। এই ফলের পুষ্টিগুণ দ্রুত নষ্ট হয়। তাই টাটকা খাওয়াই উত্তম।

Nabadibakar_Writer_43

অনির্বাণ
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

প্রতিহিংসার দহনে আধপোড়া বাংলার জমিন
পাপিষ্ঠের থাবায় বিকৃত ইতিহাস
চামচা-চাটুকারের পদচারণায় মুখোরিত কলমের মঞ্চ
বিবেক বিসর্জনের নগ্ন নৃত্ত্বে উন্মাতাল বুদ্ধুজীবী
তখনই, খুলে গেলো বাংলার আকাশ
নৈতিক অলংকারে সজ্জিত হলো মাটি
সাহসের ঘোড়ায় কাব্যের লণ্ঠন হাতে এলে মিরজাফর আর ঘষেটী বেগমের বঙ্গে
কবি, তুমি সত্যের প্রতিক
তুমি মানবতার মূর্তি
তুমি সৃষ্টীর কপালে আঁকা স্রষ্টার আশীর্বাদী চুম্বন
যে যুগ আসেনি আজো তুমি তার স্রষ্টা
তুমি যুগান্তরের নায়ক
তুমি লক্ষ-কোটি নক্ষত্রের মাঝে জ্বলে ওঠা এক সূর্য
এ শতাব্দির ধুমকেতু তুমি
তুমি মেঘকাটা আকাশের বুকে জ্বলজ্বলে চাঁদ
তুমি কাব্যলোকের খনি
কলমের ডগায় রাঙ্গিয়ে চলেছো কালন্তরের ক্যানভাস
এঁকে চলেছ কখনো রূপ, কখনো মানবতা, কখনো নষ্টনাশি গ্রেনেড
তুমি মনুষত্বের ফানুশ
তুমি উর্ধ-অধঃ সব কাঁপিয়ে বিশ্ব জয়ের নেতা
তুমি বাংলা মায়ের হীরের খনি
তুমি ভাষা শহীদের মান
তুমি বায়ান্নের ভাষ্কর্য
তবু সকল কিছু তুচ্ছ করেও তুমি আদর্শ এক মানুষ
তুমি বিশ্ব মায়ের গর্ব
আর সবার অহংকার।

কবি সৈয়দ রনো দাদাকে নিবেদন করে... ।

Nabadibakar_Writer_63

জেনো বেঁচে আছো
- শুক্লা মালাকার সাহা

এখনও কি ভালোবেসে পাগল হতে পারো
জেনো তুমি বেঁচে আছো-
স্বপ্ন কাজল চোখের মায়ায় রঙ লাগাতে পারো ?
জেনো তুমি বেঁচে আছো-
অবুঝ মনের পাগলামিতে তাল মেলাতে পারো
নতুন খোঁজা পথের বাঁকে অবাক হতে পারো?
জেনো তুমি বেঁচে আছো-
রাতআকাশের তারার খেলায় মন ভাসাতে পারো
এক রাজপথ ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যেতে পারো?
জেনো তুমি বেঁচে আছো-
আজও কাউকে ভালোবেসে পাগল হতে পারো?
জেনো তুমি বেঁচে আছো-


Nabadibakar_Writer_05



রুশি
- শিমুল শুভ্র (উদ্যমী কবি)

লাজময়ি মুখে চোখের পলক ঠোঁটে তার হাসির ঝলক 
স্বচ্ছ আয়নার মত দেখি নিজেকে তার অধরের আলোয়, 
যে চাউনিতে মৃদু হাসে আঁধার আলোয় ঝরে মুক্তা রাশে 
আকাশতলে ঝলক জ্বলে,সুখের পলে গভীর ভালোবাসায় ।
জাম কালো চুলে উড়ে উড়ে দোলে,মায়াবী ঐ আঁখি তলে 
আলোর ঝরণায় রঙিন স্রোতে,অঙ্গ'দে ভরা রূপের পরতে, 
ঐ অন্তর্যামী শিল্পীর কারুকাজ,অতি নিখুঁত বুনট তরুরাজ 
স্বপ্নে আঁকা শিশিরের শব্দের মত তাকে দেখলাম ঐ শরতে ।
কোন এক ঘুম ভাঙানো পাখির ডাকে,দেখলাম চলার বাঁকে 
আঁচলখানি উড়ছে হিমেল হাওয়ায়, আনজান মন দোলনায়, 
দোলা দিলো সন্ধ্যা ক্ষণে শ্বাস - নিঃশ্বাস অশান্ত প্রতি রণে 
ভরসাভরা প্রাণ আনন্দময় গান,তার যৌবন মধুর মোহনায় ।
আমি দেখেছি শিল্পীর স্বরলিপির কারুকার্য সুর অনিবার্য 
রূপের পরতে পরতে ঢেউ খেলে যায় নবীন আলোয় মুখ, 
আসন পেতেছে ছোট্ট তিলটি তার কোমল গালে মায়াময়ী 
যেন ঐ আঁধারের বিশাল আকাশে এক টুকরো চাঁদের সুখ ।
যে দিকে তাকায় ভূবন মাঝে মুখ ভাসে তার সদা অঙ্গরাজে 
ভোরের কোণে কিরণ লাজুক হাসে,মনমানবী শীতল অমুল, 
আমি যেথা খুঁজি সদা সুখের খনি,ভেসে উঠে তার চক্ষু মনি 
তৃষ্ণাভরা এই গভীর প্রতুল সে যে আমার প্রিয়া রুম্পা শিমুল ।

রচনাকাল 
১৪।১১।২০১৪
বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।

Nabadibakar_Writer_24_

স্বপ্ন তরঙ্গ
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

যন্ত্রনার মেলা বসেছে আজ
আমার এই কম্পিত হৃদয়ে,
অতীত হয়েছে স্বমুখপানে, স্বৃতি
গুলো বার বার স্বপ্নভাঙ্গা নয়নে ভাসে!

শেষ দেখা হয়েছিলো তখন,
হৃদয়ে ছিলো অফুরন্ত আনন্দ
আর মুখভরা হাঁসি,, পাশে ছিলি
তুই তাই বুঝি,
আজ আবার দেখা, হাঁসি আনন্দ
গুলো পালিয়েছে বেদনার তাড়াই,
তাই,,,স্বৃতি গুলো স্বৃতি হয়ে কাঁদায়
কলঙ্কিত এই সন্ধ্যা বেলায়।

Nabadibakar_Writer_24_

 

অন্ধ মানবতা
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

আমি দেখেছি মেঘের তীব্রগর্জনে
আলোকিতো বেলার,
শোচনীয় পরাজয়ের আধার,
দেখেছি শিশু কিশোরের উপর
পৈশাচিক নির্যাতন,শুনেছি তাদের      আত্বচিৎকার!

যুগে যুগে পরিবর্তিত সমাজ,
পরিবর্তিত মানবতা,
আজ শুধুই মুখথুবরে পরে আছে
মহান মানবতার, নীতি সাহিত্য কথা!
কোন অন্যায়, অশান্ত হত্যাকান্ড
দেখা যাই যত্রতত্র নেতা প্রতিবাতি,
প্রতিবাদি শ্লোগান,
নিজেকে উপস্থাপনের সুজোগ,
নিজ ভাবমূর্তি প্রচারনার অভিযান।


সম্পাদকীয়...


অগোছালো ছিন্ন - ভিন্ন পাতাছেঁড়া দিশাহীন - লক্ষহীন জীবনের অনেকগুলি গোঁৎ খাওয়া বছর কেটে গেল । কিন্তু কোন স্থায়ী জীবন বিন্যাসের চিহ্ন পর্যন্ত এখনোও পরিলক্ষিত হলো না । ছিন্ন - ভিন্ন, বেবাগী মনটার সাথে যুদ্ধ করতে করতে আমি প্রায় পরিশ্রান্ত ও ক্লান্ত । সমুদ্রের জোয়ার ভাটার মতই কখনো চড়াই তো আবার কখনও উতরাই । জীবনে সুখের চেয়ে দুখের ভাগই বেশী তাই মনটাকে যেন আরো বেশী অস্থির করে তোলে । ঠিক কি করবো, কি দিয়ে শুরু করবো, বা কি ভাবে করবো তার সঠিক নিশান বা লক্ষন দেখতে পাচ্ছি না । সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কম্পিউটারের মনিটারের সামনে চোখ রেখে জীবনের কতগুলি বছর যে গেছে কেটে, তার পিছনের পাতা উল্টাতে গিয়ে নিজেই অবাক হয়ে পড়ি । কম্পিউটারের কাজ করতে করতে ইন্টারনেটের ওয়েবসাইটের পাতায় মুখ গুজে দিয়ে দেখি বেশ ভালই জীবনের বেলা গড়িয়েছে । ছেলেবেলা থেকেই লেখালিখির প্রতি একটা অজানা ঝোঁক আমার বরাবরই ছিল । বেশ কিছু লেখা দু-একটা গ্রামীন পত্রিকাতে প্রকাশিতও হয়েছিল । পরে শশব্যস্ত মুম্বাই মহানগরীতে এসে ঐ লেখালিখির ঝোঁকটা একেবারে প্রায় স্তিমিত হয়ে পড়ে । কিন্তু ওয়েব সাইটের পাতায় চোখ রাখতে রাখতে বিভিন্ন লেখক - লেখিকাদের কবিতা, গল্প, উপন্যাস পড়তে পড়তে সেই ছেলেবেলার সুপ্ত লেখক বাসনাটা কখন যে চেগে উঠেছিল তা আমি বলতে পারছি না । ওয়েব ব্লগার তৈরী করে কখন কবে থেকে যে লেখার পাতা তৈরী করে ফেলেছি তা বলতে পারবো না । একটু একটু করে পাতাগুলিকে নিজের হৃদয়ের রঙে রাঙিয়ে দিতে থাকি । তুলে ধরি আমার লেখক - লেখিকা বন্ধু - বান্ধবীদের সামনে । তাঁরা আমায় তাঁদের আন্তরিক উৎসাহ আর উদ্দীপনা যোগান দেন । তাঁদের উৎসাহ - উদ্দীপনায় আর নিজেকে গুটিয়ে না রেখে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করি ওয়েব পেজগুলিতে । আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আপনাদের কাছে সমাদৃত হলে তবেই আমার পরিশ্রম সার্থক বলে মনে করবো । লেখক - লেখিকা বন্ধু - বান্ধবীদের সংখ্যা খুবই দ্রুত হারে বাড়ছে । আমার ব্লগারে আপনাদের আন্তরিক আমন্ত্রন । আপনাদের সকলের উৎসাহ, উদ্দীপনা, সাহায্য ও সহযোগিতাই হোক আমার আগামী জীবনের চলার পথের পাথেয় ।


আপনাদের আরও একবার বলি নব দিবাকর পত্রিকাটি আমাদের একটি সাহিত্য চর্চার অনলাইন সামাজিক প্রচেষ্টা । নতুন লেখক, লেখিকাদের মধ্যে নতুন লেখনি উৎসাহের জোয়ার আনাই হল নব দিবাকরের কয়েকটি উদ্দেশ্যর মধ্যে একটি । অনলাইন সংস্করণে ছোট বড় সমস্ত লেখক, লেখিকাদের লেখাই প্রকাশিত করা হবে । কবিতা, ছোট গল্প, কিশোর সাহিত্য, নাটক, ফিচার, ধারাবাহিক গল্প-উপন্যাস, অনুগল্প, বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রভৃতি আধুনিক লেখা আর অবশ্বই সমস্ত লেখক লেখিকাদের নিয়েই হবে আমাদের এগিয়ে চলার পথ ।


পত্রিকার সম্পর্কে আপনাদের যে কোন মতামত, প্রশ্ন-উত্তর, পরামর্শ, অভিযোগ বা যে কোন কিছু জানাতে হলে অবশ্যই আমাদের ইমেল আইডিতে ইমেল করতে পারেন । আপনাদের গুরুত্বপুর্ন পরামর্শই আমাদেরকে করবে আরো বেশি গতিশীল এবং সাফল্যমন্ডিত । আপনাদের মূল্যবান পরামর্শ আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবো । তাই আমরা আছি আপনাদের সকল মতামতের অপেক্ষায় । নতুন বছরের প্রক্কালে সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এই কামনা করে শেষ করলাম । সম্পাদক - মিন্টু উপাধ্যায় ।



শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ১৭ ( আমের পুষ্টিগুণ )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


বর্তমান মৌসুম পাকা আমের। উচ্চমাত্রার চিনি, ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘সি’ বসতি গড়েছে এই ফলে। ভিটামিন ‘সি’ সব রকমের চর্মরোগের বিরুদ্ধে উৎকৃষ্ট হাতিয়ার। চুল সুন্দর রাখতেও এর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। আর ভিটামিন ‘এ’ চোখের মাংসপেশি, স্নায়ু, শিরা-উপশিরার পুষ্টি জোগায়। ছোটদের রাতকানা রোগ এবং বড়দের চোখে ছানি পড়া, চোখ ওঠা, চোখের অভ্যন্তরীণ রক্তচাপ কমে যাওয়া—এ সমস্যাগুলো হয় অনেক কারণের জন্য। তার মধ্যে ভিটামিন ‘এ’র অভাব অন্যতম। আমের ভিটামিন ‘এ’ গর্ভস্থ শিশুদের জন্যও উপকারী। শিশুর চোখের গঠন মাতৃগর্ভ থেকেই হয়ে যায়। গর্ভবতী মহিলারা নিঃসন্দেহে খেতে পারেন আম। তবে যাঁদের মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁরা আম খাবেন না। আম খুব দ্রুত রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তবে যাঁদের ডায়াবেটিস নিয়মিত নিয়ন্ত্রিত, তাঁরা খেতে পারেন এবং অবশ্যই পরিমাণে অল্প খাবেন। আমে রয়েছে ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স। এই ভিটামিন দেহের স্নায়ুগুলোকে করে শক্তিশালী। মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলোতে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে রাখে সতেজ। ঘুম আসতে সাহায্য করে। আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। আঁশ-জাতীয় সবজি, ফল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, মুখের ব্রণ প্রতিরোধ করে।
তারুণ্য বজায় রাখতে এর ভূমিকা অপরিসীম। এতে খনিজ লবণের উপস্থিতিও রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। দাঁত, নখ, চুল মজবুত করার জন্য আমের খনিজ লবণ উপকারী ভূমিকা পালন করে।
আম ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট জরুরি। কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের আম ভীষণ উপকারী। তবে কাঁচা আম রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়ায় না, কিন্তু পাকা আম রক্তে দ্রুত চিনির পরিমাণ বাড়ায়। কাজ করার শক্তি বাড়ানোর জন্য আম ভীষণ জরুরি ফল। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। মোটা ব্যক্তি ও কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা আম কম খাবেন। কারণ, আম দ্রুত মোটা করে। আর এতে পটাশিয়াম বেশি থাকার জন্য কিডনির সমস্যা হবে। পাঠক, খেয়াল রাখুন, ডায়রিয়া চলাকালে আম খাবেন না। এতে ডায়রিয়া আরও বেড়ে যাবে। আর আমের আচারের তুলনায় টাটকা আমই বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ।

Nabadibakar_Writer_43

ছায়া
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

অস্তিত্বে মিশে ছিলে আমার,
বুঝিনি।
প্রণয় সূর্য ছিলো মধ্যগগণে,
ছায়া পরেনি তাই।
অভিমানের ধাক্কায় সে সূর্য যখন
হেলে পরলো মাগরেবের কূলে,
তখন হৃদয়ের জমিনে ছায়া ভেসেছে আমার।
অবাক হয়ে দেখি, এ ছায়া নয়, 'তুমি' ।
তাই আবার মনের সাগর বুক পেতে দিয়েছে,
এসো, গোধূলির পশ্চাতে মিলিয়ে যাই
দিগন্তের কিনারায়।

Nabadibakar_Writer_59

দূর্গতিনাশিনী
- মাহফুজ মোর্শেদ

ভোরটা স্নিগ্ধতায় ঘেরা
উঠোনের কোনের শিউলী তলায় লাল সাদার আন্দোলন
মৌমাছি দলবেধে উড়ে বেড়ায় মিস্টি আশীর্বাদে
গুনগুনিয়ে বলে যায়

" আসছে "

দুপুরটা মায়াবিনী
শরতের আকাশে কোথাও মেঘ কোথাও রোদ্দূর
নববিবাহিতা বধূর ন্যায় লাল হয়ে যাওয়া গালে হলুদের আবরণ
ধানের শীষে জমে থাকা মুক্তোদানা বাষ্প হতে হতে বলে যায়

" আসছে "

সন্ধ্যাটা অন্যরকম
বাতাসে মিস্টি আলু পোড়া পোড়া গন্ধ
নিপা'দির বাড়িতে সন্ধ্যা আরতি চলে
তুলসি তলায় প্রদীপ
ধূপের গন্ধে নেশা নেশা লাগে

বাতাসে আলতা রাঙ্গা পায়ের আওয়াজ
কানে কানে বলে যায় দখিনা বাতাস

" মা আসছে "

Nabadibakar_Writer_30

বাংলা মায়ের আঁচল তলে
- মনিরা ফেরদৌসি

রূপে ভরা আমার দেশ
নেইত তাহার গুনের শেষ
চোখ জুড়ানো মন ভুলানো
সেই তো আমার বাংলাদেশ ।
হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খৃষ্টান
জন্ম সবাই বাঙ্গালী ।
অবারিত সবুজের প্রান্ত ছুঁয়ে
পিউ পাপিয়া গেয়ে যায় গান ।
শিল্প কাব্যে ভরা আমার
সোনার বাংলা
আঁধার কেটে হাসবে আলো
এত কি সে ভাবনা ।
মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণ ছুঁয়ে
মাল্যখানি দেব গলে
একই সাথে চলব মোরা
জীবনের দাম তুচ্ছ করে ।
বাংলা মা তোর রূপের সুধা
বাড়িয়ে দেয় হৃদয় ক্ষুধা
শহীদ ভাইয়েরা ঘুমিয়ে আছে
বাংলা মায়ের আঁচল তলে ।।

রচনা - ১১ই অক্টোবর ১৫ মোহাম্মদপুর ।

Nabadibakar_Writer_43

পাগলীকে
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

প্রিয়তী,
তুমি বড্ড পাজি।
ভরদুপুরে আমায় ভিজিয়ে দাও তোমার দৃষ্টির জলে!
আমি তোমার দৃষ্টির আড়ালে লোকিয়ে থাকা ল্যাকে সাঁতার কাটি।
আর, উদ্যাম সুখে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়ে ভাবি,
এ সাঁতারে যদি জীবন পেরিয়ে যেতো!

কখনো খুব ব্যস্ত সময়ে তুমি পথ আগলে দাঁড়াও।
কিন্তু জীবন আমায় তাড়া করে চলেছে নেকরের মতো।
তবু, তুমি যখন হাত ধরে ফেলো,
আমি সেই ভয়ংকর নেকরের কাছে প্রাণ সমর্পণ করি।
আমার একটুও দ্বিধা হয় না।
বরং মনে হয়,
এইতো জীবন, আর জীবনের সুখ।


Untitled-3

প্রার্থনা
- প্রথম দাস

দাদা ভাই আমি চুল - দাড়ি রেখে
ঠাকুরের কাছে করেছিলাম প্রার্থনা ।
তবুও আমি কমাতে পারিনি
ভাইঝির পায়ের যন্ত্রনা ।
এটাই আমার দুঃখ
আমি ভাইঝির খুব ভক্ত ।
ওর জন্য দিতে পারিনি দু ফোঁটা লাল রক্ত
চোখেরই সামনে ভাইঝির একটি পা হয়ে গেল নষ্ট ।
এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট
আপনারা আশীর্বাদ করুন ভাইঝির জীবনটা যেন না হয় নষ্ট ।
লেখাটির উপরে আছে ভাইঝির ছবি
আমি কাকা, নইকো আমি বড় কবি ।



Nabadibakar_Writer_49

আগন্তুকের আগমনে
- শামসুজ্জোহা বিপ্লব

এখানে ভালবাসা খেলা করে কাঁটা পাহাড়ের রাস্তায়। 
হঠাৎ দেখা হলে, কথা বলে না, আঁড়চোখে ভেংচি কেটে  চলে যায়।
এখানে ভালবাসা ক্লাশের মাঝে চোখের ঈশারায় ডাকে। 
এখানে ভালবাসা ঠুনকো ঝগড়াঝাঁটিতে মিশে থাকে।
এখানে ভালবাসা ঝুপড়িতে গুলোতে সুর হয়ে মুগ্ধতা ছড়ায়।
এখানে ভালবাসা শাটলট্রেনে কথামালার মুক্ত ঝড়ায়।
এখানে ভালবাসা বিকেলবেলায় শহীদ মিনারে পদচারণায় মুখর হয়।
এখানে ভালবাসা  হলের গেস্টরুমে খাবারের মাঝে মিশে থাকে। 
এখানে ভালবাসা শীতের সকালে শিশির হয়ে চোখে লেগে থাকে।
এখানে ভালবাসা হাতপাখার বাতাসে মিথ্যা শরীর জুড়ায়।
এখানে ভালবাসা বকুল ফুলের মাঁলা গাঁথে বসন্তের ছোঁয়ায়।
এখানে ভালবাসা বাসন্তীর রঙ্গে রাঙ্গিয়ে দেয় পহেলা বৈশাখে। 
এখানে ভালবাসা র্যাগ ডে তে হাসি আর রং হয়ে ভাসতে থাকে।
এখানে ভালবাসা বৃষ্টিতে লুকোচুরি খেলে।
এখানে ভালবাসা হলুদ ছাতা হয়ে মাথায় ওড়ে। 
এখানে ভালবাসার মৃত্যু ঘটে অবেলায়,
কোন এক অকস্মাৎ আগন্তুকের আগমনে... ।
বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ১৬ ( পাকা জামের মধুর রসে )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


জাম গ্রীষ্মকালীন ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই ফলের ইংরেজি নাম ‘ব্ল্যাকবেরি’। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’, ‘ই’ এবং ‘এ’।
ভিটামিন ‘সি’ গরমে ঠান্ডাজনিত জ্বর, কাশি ও টনসিল ফুলে যাওয়া প্রতিরোধ করে। দূর করে জ্বর জ্বর ভাব। আর দাঁত, চুল ও ত্বক সুন্দর করতেও এর অবদান অপরিসীম। জামের ভিটামিন ‘এ’ দৃষ্টিশক্তিকে করে শক্তিশালী। বৃদ্ধ বয়সে চোখের অঙ্গ ও স্নায়ুগুলোকে কর্মক্ষম করতে সাহায্য করে। গর্ভবতী মা, বাড়ন্ত শিশুদের জন্যও এই ফল ভীষণ উপকারী। কারণ, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিংক ও কপার। ডায়রিয়া-পরবর্তী অবস্থায় বড় ও ছোট—সবার জন্য জিংক ও কপার দরকার। তবে ডায়রিয়া চলাকালে জাম খাবেন না। ক্লান্তি দূর করার জন্য মস্তিষ্কে গ্লুকোজ সরবরাহ করাটা ভীষণ জরুরি।
জামে গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ রয়েছে, যা মানুষকে জোগায় কাজ করার শক্তি। বয়স যত বাড়তে থাকে, মানুষ ততই হারাতে থাকে স্মৃতিশক্তি। জাম স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইব্লাড প্রেসার ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম ভীষণ উপকারী। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ও রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে জাম।
জামের বাইরের আবরণে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ। আঁশজাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। দীর্ঘ দিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে মলদ্বারে টিউমার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জাম মলদ্বার বা কোলনের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। জামে সন্ধান পাওয়া গেছে ইলাজিক এসিড নামের এক ধরনের এসিডের উপস্থিতি, যা ত্বককে করে শক্তিশালী। ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে ত্বক ও চুলকে রক্ষা করে।
এই ইলাজিক এসিড ক্ষতিকর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ক্যানসারের জীবাণু ধ্বংস করার জন্য এতে রয়েছে চমকপ্রদ শক্তি। জাম লড়াই করে হূৎপিণ্ডের অসুখ, জরায়ু, ডিম্বাশয়, মলদ্বার ও মুখের ক্যানসারের বিরুদ্ধে।

Nabadibakar_Writer_67

অলস স্বামী
- মোহাম্মদ উল্লাহ শহীদ

তোরে ছাড়া পশ্চিম পাড়ায় কেউ নাইতো আমার
অন্য পাড়ার লোকে আমায় ডাকে শুধু চামার
তাইতো সারাদিন
ভালোবাসার ঋণ
ঘরে বসেই পূরণ করি চাওয়া পাওয়া তোমার।

তবুও তুমি দাওগো গালি বাহিরে যেনো যাই
কাজ করে পয়সা এনে খানা-খাদ্য খাই
বুঝলেনা এই মন
ভালোবাসার ক্ষণ
ঘরে বসে ভালোবাসা এর চেয়ে ভালো নাই।

ঘরে বসে থাকি বলে ভেবোনা নাকো তুমি
কোন কাজের কাজিনা একদম অলস আমি
জানি সকল কাজ
নয়তো ফাকিবাজ
কিন্তু আমার কাজের চেয়ে তুমি বড় দামী।

দেশের গালি সইতে পারি তোর গালি নয় মন
স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া শেষ হয়,ভাত হইতে যতক্ষণ
পাইলে একটু জ্বালা
খাইনা এক বেলা
অন্য বেলা খাইতে আসি না দিলেও নিমন্ত্রণ।

দেশে গুম,খুন,খারাপি বেড়ে গেছে তাই
দেখবি আমি বাহিরে গেলে তোর স্বামী নাই
কার জন্য ভাত রানবি?
একলা বসে কানবি
বিধবাকে ভোগ করিতে আসবে শত ভাই!

Nabadibakar_Writer_30

পূজারিণী
- মনিরা ফেরদৌসি

এতদিন পরে বুঝেছি সেই ভুল
মহারাণী নইত পূজার ফুল ।
দুহাতে ধরেছি চরণ যুগল
বুকে চেপে পুজোর ফুল ।
প্রাণ ভরিয়ে নিঃসৃত শ্বেত রসে
দিয়েছি তোমায় উজাড় করে ।
করুণা নয় আনন্দ উচ্ছ্বাসে
রাঙিয়ে দেব তোমারই মন ।
তোমার আঙিনায় বাজবে সুর
দখিনা হাওয়ায় গন্ধ লুটে ।
সব কুঁড়ি উঠবে ফুটে
তোমার আলিঙ্গনে।
পূজারিণী এলো
তোমার দুয়ারে।।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ১৫ ( চিনাবাদামের গুণাগুণ )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


আড্ডায় বা পার্কের বেঞ্চের প্রিয় খাবারটি হলো বাদাম ভাজা। আমরা অনেকেই জানি না যে বাদাম ভাজা বা লবণ-মসলায় মাখানো বাদামের চেয়ে শুধু খোসা ছাড়ানো বাদামই যথেষ্ট পুষ্টিসমৃদ্ধ। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, যা দেহ গঠনে ও মাংসপেশি তৈরিতে সাহায্য করে। বাদামে অলিক এসিড নামের একধরনের এসিড থাকে, যা রক্তের খারাপ চর্বি বা কোলেস্টেরল কমায় এবং উপকারী কালেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। তারুণ্যকে দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে এর ভূমিকা অপরিহার্য। বাদামে ভিটামিন ‘বি’ রয়েছে পর্যাপ্ত। চানাচুরের বাদাম, প্যাকেটজাত বাদাম বা বাজারের খোলা বাদামে পুষ্টিগুণ কমে আসে অনেকখানি। তাই খোসা ছাড়িয়ে বাদাম খাওয়াই উত্তম। এতে রয়েছে খনিজ লবণ ম্যাগনেশিয়াম। দেহের জন্য জরুরি এই উপাদানটি দাঁতও দাঁতের মাড়ি করে মজবুত এবং ত্বক ও চুলকে করে উজ্জ্বল, মসৃণ।
শরীরে রক্ত তৈরির প্রধান উপাদান হলো আয়রন। আয়রন সুষ্ঠুভাবে তৈরি হওয়ার জন্য বাদাম রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই গর্ভস্থ শিশু, বাড়ন্ত শিশু, বয়স্কদের জন্য বাদাম উপকারী খাবার। যেসব শিশুর বারবার ডায়রিয়া হয়, তাদের জন্যও বাদাম জরুরি পথ্য। কারণ, এতে জিঙ্কের পরিমাণ বেশি। আর জিঙ্ক ডায়রিয়া-পরবর্তী জটিলতা দূর করতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিক রোগীদের কিডনিতে সমস্যা থাকলে বাদাম খাবেন না। কারণ, বাদাম উচ্চমাত্রার প্রোটিন বা আমিষের অধিকারী। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে, উচ্চ রক্তচাপ হলে বাদাম খেতে পারেন।

Nabadibakar_Writer_63

তোমার কাছে চেয়েছিলাম
- শুক্লা মালাকার সাহা

তোমার কাছে চেয়েছিলাম
সূর্য সোনা রঙ
নিয়ন আলোর চকমকিতে
দাঁড়াই আমি সঙ।

তোমার কাছে চেয়েছিলাম
সোহাগ মাখা ভোর
রাত সোহাগী পুরুষ থালায়
হাজার নেশাখোর।

তোমার কাছে চেয়েছিলাম
সংসারী আলপনা
আদিম সুরে রাত কেটে যায়
জীবন ছেঁড়া ডানা।

তোমার কাছে রেখেছিলাম
জাপটে ধরা আলো
আলোর ঘরে উল্কি আঁকে
ঝরে পরা কালো।

Nabadibakar_Writer_46

ভাবনার স্মৃতি
- বিভূতি চক্রবর্তী

অসমাপ্ত জীবনের অন্তিম দিন
কেনো যে ঘনিয়ে আসে?
জানি আমি, বার্তা এসে গেছে-
তাই তো ছবিটি ভাসে।
জীবনে মরণে কোনও ভেদা-ভেদ নাই
সৃষ্টি-রহস্য বড় নির্মম ভাবি বসে তাই,
ভাবনার স্মৃতি কেন যে আমারে ডাকে-
কোন অজানার আশ্বাসে?

আগরতলা - ০৬/১০/২০১৫ ইং ।

Nabadibakar_Writer_46

রিক্ত জীবন
- বিভূতি চক্রবর্তী

জীবন নিয়ে আজ কত কথা মনে পড়ে
হারানো অতীত মনের অগোচরে থেকে-
নীরবে,নিভৃতে দাঁড়ায় এসে মনের ঘরে
কে আমারে খুঁজে? আমায় ডেকে ডেকে?
তপ্ত দিনের দগ্ধ হাওয়ায় যারে বার বার
খুঁজে মরি শুধু, মনের আগল খুলে দিয়ে-
তবুও তাকাই, ভাসে না তো মুখটি তার
রিক্ত জীবন বেসামাল কার ভরসায় গিয়ে?
জীবনের সুর এমনি করেই এগিয়ে চলে
আকাশে বাতাসে ভেসে ভেসে যায় দূরে,
সূর্য্য যখন পশ্চিম আকাশে মেঘের দলে
মিশে যায় এসে মেঘেদের সাথেই উড়ে।

আগরতলা- ০৬/১০/২০১৫ ইং ।

Chaturangaচলচ্চিত্র পর্যালোচনা : ফিরে দেখা সিনেমা - পিয়ালী বসু
চতুরঙ্গ
গল্প এবং সিনেমা দুটি ভিন্নতর স্বতন্ত্র মাধ্যম । সিনেমার ফরম্যাটে উপস্থাপনা করার পক্ষে ‘চতুরঙ্গ ‘ রবীন্দ্রনাথের সব কটি উপন্যাসের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন এক উপন্যাস, আর এখানেই পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায় দর্শকের ভোট পেয়ে যান ।
‘চতুরঙ্গ’ অবশ্যই একটি ভালবাসার গল্প , যে ভালবাসা প্রতি মুহূর্তে টানাপোড়েনে দীর্ণ আর ক্ষত বিক্ষত হয়েছে , ভিন্নধর্মী দুই মতাদর্শের টানটান ক্ল্যাশ উপন্যাসটিকে একটা গতিময়তা দিয়েছে।
জ্যাঠামশায়ের চরিত্রে ধৃতিমান কে সেভাবে বিশ্বাসযোগ্য মনে না হলেও তিনি সে ঘাটতি পূরণ করে দিয়েছেন তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে । সঙ্গীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্র কে ধন্যবাদ Beethoven শোনানোর মধ্যস্থতায় জ্যাঠামশায়ের চরিত্রটি কে আরও স্পষ্টতর মাত্রা দিয়েছেন, তাঁর বক্তব্য কি রবীন্দ্র ভাবনা কেই দ্যোতিত করে না ? তিনি যখন বলেন , “ ব্রাহ্ম রা নিরাকার মানে , তাহাকে চোখে দেখা যায়না , তোমরা সাকার কে মানো , তাহাকে কানে শোনা যায়না । আমরা সজীব কে মানি , তাহাকে চোখে দেখা যায় , কানেও শোনা যায় , তাহাকে বিশ্বাস না করিয়া থাকা যায়না”। তখন মনে হয় এতো রবীন্দ্রনাথেরই মনের কথা , তাঁর অন্তরের একমাত্র অনুভূতি ।
চতুরঙ্গ উপন্যাসটির মূল কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে দামিনী , নায়িকা তথা উপন্যাসের মূল standing force ! দামিনী র চরিত্রে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত আগাগোড়াই বেমানান । দামিনী অর্থাৎ বিদ্যুৎ ...সেই বিদ্যুৎ টাই ভীষণ ভাবে মিসিং তাঁর অভিনয়ে । মুক্ত বিহঙ্গ free spirited দামিনী ...বিধবা হয়েও সমাজ প্রদত্ত প্রতিটি নিয়ম কে স্ব যত্নে উপেক্ষা করে চলে সে । শচীশের প্রতি তার দূর্বার আকর্ষণ , এবং সেটা মনের চেয়েও শরীরের ।
শ্রীবিলাসের চরিত্রে জয় সেনগুপ্তের অভিনয় বেশ পরিশীলিত এবং controlled .. শ্রীবিলাসের জীবনে টানাপোড়েন অপেক্ষাকৃত ভাবে কম , তাই তাঁর কাজটাও অনেকটাই সহজ ।
জীবনের প্রকৃত অর্থ খোঁজার অভিপ্রায়ে শচীশের যাত্রা ... জ্যাঠামশায়ের মতাদর্শে দীক্ষিত সে আদতে Atheist ..বা নাস্তিক । religious mysticism এবং abstract ideals শচীশের জীবনের মূল উপজীব্য । তার জীবনে আসা দুই নারীর ভূমিকা এক্ষেত্রে অনস্বীকার্য ...ননীবালা এবং দামিনী । শচীশের চত্রিত্রে সুব্রত দত্ত অসম্ভব মানানসই , তাঁর অভনয়ে এক্ষেত্রে এক্সট্রা মার্কস পেয়েছে ...নাটকে তাঁর পারদর্শিতার জন্যই । ড্রামার ব্যাকগ্রাউনড এক্ষেত্রে খুবী উল্লেখ্য । তাঁর ডায়লগ বলা , বডি ল্যাঙ্গুয়েজ শচীশ কে আমাদের কাছাকাছি এনে দাড় করিয়েছে ।
চতুরঙ্গ অবশ্যই একটি period piece , তবুও contemporary বিষয় বৈচিত্রে এ উপন্যাস কালজয়ী

Nabadibakar_Writer_65

মাগন
- কৃষ্ণা দাস

কাঁহাতক আর সাদা ক্যানভাসে কল্পিত রঙ তুলির আঁচড়,
কৃষ্ণচতুর্দশীর ঘন ঘীর্ঘশ্বাসে লেপটে ,
তার চেয়ে ডেকে নাও সদ্য ভাঙা শ্মশ্মান কলসে,
ডেকে নাও ঊষর ধান কাটা ফাটা মাঠের রিক্ততায়,
ধ্বংসের গানে মাতাল হাড়িয়া মাদল বাজাক,
না হয় হোক শুরু তছনছ ছিনতাই,
দাবি হীন এ জন্মের দুঃখ সন্তাপ ,
যুদ্ধবাজ প্রতিশোধ মরবার আগে ফনা নাচাক একবার,
বিস্মৃতি এস , কাঁহাতক দেরি আর !

Nabadibakar_Writer_24_

প্রকৃতি
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

হাজারো পাঁ চারির মাঝে।শুকনো পাতার মেলা
মর মর শব্দে করে নৃত্য,
মৃদু বাতায়নে বেড়ায় উরে।বাঁধনহারা ছঁন্দছারা!
আবার। ঘূর্নিপাকে পরে হয় বৃত্ত।

কোন নেই বৃষ্টির ধারা। জ্বলে পুরে মরে যায়
যেন ঋতুবীহিন প্রচন্ড উত্তাপে,
সবুজ সবুজসমারহ পাতা। জ্বলছে পুরছে হাই
তবুও কোথা নেই মেঘ আকাশ কোণে।

এইতো প্রকৃতি ধ্বংসের শুরু।মানব সভ্যতার পাপে।
অন্ধমানবতা রয়েছে অর্থে ঢাকা,
সবুজ উজার করে বানিয়াছে মরু।জলবায়ু পরিবর্তনে পথে।
যেন ছয়টি ঋতু গিয়েছে মারা।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget