সেপ্টেম্বর 2015

ভৌতিক ছোট গল্প : ইন্টারভিউ
- রাজীব চৌধুরী


ইন্টারভিয়্যু টা এমন এক নির্জন এলাকায় হবে জানা ছিলোনা। যেদিন হাতে ইন্টারভিয়্যু কার্ড এলো সেদিন আমি ঠিকানা না দেখেই লাফালাফি করেছিলাম। এখন দেখি এলাকাটা আমি চিনিই না। আমার সময় পড়েছে ঠিক রাত আটটা। দিনের বেলা হলে ক্ষতি কি ছিল?
জানা নেই।
আমি বসে আছি একটা প্রায় অন্ধকার ঘরে। একটা টেবিল সামনে। মাথার উপর একটা হলুদ আলোর উৎস। কি আলো সেটা জানিনা। অনেকটা ইন্টারোগেশন রুম বলে মনে হচ্ছে। কেউ একজন পুলিশ এসে আমাকে মারতে শুরু না করলেই হয়।
খট খট শব্দ হচ্ছে।
এটা তো পেন্সিল হিলের আওয়াজ।
তবে কি মহিলা বসের আন্ডারে চাকরি?
অপূর্ব শব্দটার চেও বেশি কিছু যদি ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হত তাহলে উনি তাই। এত সুন্দরী আমি জীবনে দেখিনি। রুমে ঢুকলেন। কাঁটায় কাঁটায় ঠিক আটটা।
- কি নাম?
- মনসুর
- পুরো নাম?
- শেখ মনসুর।
- বাড়ি?
- আদাবর।
- এর আগের চাকরি?
- জ্বি গত তিনমাস ধরে বেকার। এর আগে করেছি বুলিয়ানাতে। সেলস ম্যান ছিলাম।
- অনেক পরিশ্রমের কাজ। পারবেন?
- আমি অবশ্যই পারব।
- মুখে বলা যত সোজা করা তত কঠিন।
- কেন? কি এমন কাজ?
- মৃত্যু ঝুঁকি আছে।
- মানে? জঙ্গী সংগঠন নাকি?
- না। আমরা অন্যরকম। পেপারে বিজ্ঞাপনে সবকিছু বলা যায়না।
- কেমন?
- আমি কাউন্টেস মার্গারিটা। আমার ব্যক্তিগত সহচর হতে হবে।
- হ্যাঁ ম্যাডাম আমার তাতে কোন আপত্তি নাই।
- বেতন পাবে পঞ্চাশ হাজার করে। তিনমাস টিকতে পারলেই চাকরি কনফার্ম। এর পর প্রতি মাসে একলাখ টাকা করে পাবে।
- লোভনীয় অফার। কিন্তু আমাকে কাজটা কি সেটা কি একটু বুঝিয়ে দেবেন?
মহিলা চট করে উঠে গেলেন। আমাকে বললেন- আসুন আমার সাথে।
আমি হাঁটতে শুরু করতেই একটা গন্ধ নাকে এসে লাগল। নোনতা। আশেপাশে সমুদ্র থাকার তো কথা না।
বিশাল লম্বা একটা করিডোর ধরে মহিলা হেঁটে চলেছে। পেছন পেছন আমি।
অনেকগুলো পুরোনো ছবি। হয়ত রাজা মহারাজা টাইপের কেউ হবে।
আমি হাঁটছি।
কাউন্টেস মার্গারিটা যেন সর্পীনি। শরীরে হাটার সময় একটা ঢেউ খেলে। সারা শরীরে বিদেশীদের মতো ব্লেজার ট্রাউজার ছাড়া তেমন কিছু নেই। পুরো গঠনটা মাথা নষ্ট করে দেয়ার মত।
হাঁটতে হাঁটতে মহিলা একটা ঘরের সামনে এসে থেমে গেলে আমিও থামলাম। দরজার নব ঘুরিয়ে আমাকে ইশারা করলেন ঢোকার জন্য।
আর আমি ঢুকতেই নাকে একটা গন্ধ ধাক্কা দিলো সজোরে। এই গন্ধ আমার খুব পরিচিত। এবং আমি সঠিক যায়গাতেই যে চলে এসেছি তা একেবারে নিশ্চিত। মহিলা পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে অনেকের সাথে। ওখানে অনেকগুলো মানুষ ছিল। সবাই ছাদ থেকে ঝুলে আছে উল্টো হয়ে। প্রত্যেকের গলার কাছ থেকে একটা প্লাস্টিকের নল বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে একটা বড় পাত্রে। সেখান থেকে খানিক পর পর কিছু মানুষ সেই রক্তগুলো নিয়ে যাচ্ছে। বেশ কিছু বয়োবৃদ্ধ ও বৃদ্ধা কিছু সিংহাসনে বসে আছে। ওখানে চরেরা রক্ত নিয়ে যাবার পর পেয়ালা করে পান করছে ওরা। এই লোকগুলো সারাদিন এখানে রক্ত দান করে আটঘন্টা শিফট শেষ করে খানিক পরেই বেড়িয়ে পড়বে। সারারাত ধরে বিভিন্ন ছিন্নমূল মানুষের রক্ত পান করবে। সারাদিন সেই রক্তগুলো ফোঁটায় ফোঁটায় ফেরত দেবে। বেশ পরিশ্রমের কাজ। কিন্তু বেশ লাভজনক।
দেখেই আমার চোখ দুটো খুশিতে চকচক করে উঠল।
অবশেষে মনের মত একটা কাজ পেয়েছি। অনেকদিন রাতে বিরাতে রাস্তায় রাস্তায় মানুষ শিকার করে বেড়িয়েছি। এবার সেই একই কাজ করে টুপাইস কামানোর ব্যবস্থা ও করে ফেললাম বলেই মনে হচ্ছে।
হ্যাঁ- আমি একজন বেকার ভ্যাম্পায়ার। আজকে থেকে চাকরিতে জয়েন করব বলেই আমার আবদ্ধ ধারণা। কাজ হল -রক্ত বিনিময়।

Nabadibakar_Writer_63

বেহাগ তুই যা
- শুক্লা মালাকার সাহা

বেহাগ তুই যা-
চলে যা তোর গেঁথে রাখা গান নিয়ে
আমার সমুদ্র থেকে,
পাতাল মনের জোয়ার ভাঁটার
নাগাল ফেলে তুই যা-
আমার নিরুপায় স্তব্ধতা থেকে চলে যা তুই।

যা ছিল একদিন প্রিয়, বাস্তুহারা স্মৃতি সব
আমার ঘুমন্ত তারার মালা উপরে নিয়ে তুই যা,
যা তুই তোর ছায়ামাখা ভালোবাসা নিয়ে
তোর সুবাসহীন ছোঁয়া,
ভুলে যাওয়া গোধুলীর সুরে
ঘুরে মরা সময় ফেলে তুই যা।

যা চলে সোনালী রোদ মাখা
পথের বাঁকে, ঘোর লাগা দিনে রাতে
ওরে বেহাগ তুই যা চলে।

Nabadibakar_Writer_18_(Piyali Basu)

শিফট #
- পিয়ালী বসু

শুনতে পাচ্ছো ?
শিফট পাল্টানোর শব্দ ?
স্বপ্নের শিফটগুলি পাল্টাচ্ছে , আলতো ডিসগাইসে
শুধু মুহূর্তগুলিকে ধরে রাখার একটা প্রচেষ্টামাত্র
আয়ু কমে আসছে , তাই প্যারামিটারে তাকে ধরে রাখা
# স্মৃতিকাঁচে মাঝে মাঝেই ফেলে আসা সময়
আমি বেশ ভালো আছি , জানো ? আশ্রয়হীনতাবোধ নেই আর
নেই কোন চোরা অভিমান আর প্রত্যাখান যন্ত্রণা
এই মুহূর্তে আমি শীতের রোদ্দুর মেখে বসে
# সারা শরীরের ব্যারিটোন জুড়ে শুধুই তুমি
সেই ল্যাম্পপোষ্ট টা , আর দখিন খোলা সেই ছাদটা
আমি ফিরে যাচ্ছি তোমার কাছে
# শুনতে পাচ্ছো ?
শিফট পাল্টানোর শব্দ?
বদল হচ্ছে মানুষের , আর তার চারপাশের দৃশ্যপট
# আমি বেশ ভালো আছি , জানো ?
আদ্যন্ত বিধ্বস্ত আর কাঁটা ছেড়া ক্ষত বিক্ষত দেহে
অবিরত তোমাতে ভ্রমণে
পাঁচ বছর আগে ভিড় বাসটায় দেখা না হলে
# I wouldn't know the pleasure
Of ecstasy's warm gifts
And memories to treasure.

Nabadibakar_Writer_46

তমসার আলো
- বিভূতি চক্রবর্তী

কালো তমসার রঙ্গীন আঁখির ছায়ায়
মৌন-মুখর হৃদয়ের টানে,
স্মৃতির পাতায় ভরে নিয়েছি নিজেরে
জীবনের পথটি চলার মানে।
উজ্জ্বল আলো, কাজল কালো আঁখি,
মনের আগুনে জ্বলে তাই,
কিসের নেশায় মোহগ্রস্তের মত এসে
আলোর গভীরে ডুবে যাই।
এ কোন জীবন! তমসায় আলো জ্বেলে
অন্ধ নয়নে খুঁজে খুঁজে মরি?
দিশে-হারা মন, ফিরিয়া পেলাম শেষে
জীবন-পাত্রটি নিলাম ভরি'।

আগরতলা - ২৯/০৯/২০১৫ ইং ।

Nabadibakar_Writer_12_(Rita Ghosh)

মনে মনে
- রীতা ঘোষ

তোমার কথা ভাবতে ভাবতে
পৌঁছে গেছি সাউথ সিটি
বৃষ্টি স্নাত নীল আকাশে
রামধনু রঙ লিখছে চিঠি !

তোমার কথা ভাবতে ভাবতে
পৌঁছে গেছি গড়ের মাঠ
সবুজ ঘাসের কানে কানে
হিমেল হাওয়ার মন্ত্রপাঠ !

তোমার কথা ভাবতে ভাবতে
পৌঁছে গেছি ভিক্টোরিয়া
সূর্য চোখের আড়াল হতেই
চাঁদ ও রাতের পরকীয়া !

তোমার কথা ভাবতে ভাবতে
পৌঁছে গেছি মেট্রো রেল
ছুটির দিনেও ঠাসাঠাসি
চলছে নাকি চৈত্র সেল !

তোমার কথা ভাবতে ভাবতে
পৌঁছে গেছি শপিং মল
ক্যাপেচ্যুনোয় উষ্ণ চুমুক
চিকেন মোমো আর এগ রোল !

তোমার কথা ভাবতে ভাবতে
পৌঁছে গেছি সিনে হল
পাশাপাশি মিষ্টি ছোঁয়ায়
পেপসি , পপকর্ণ তুলছে বোল !

তোমার কথা ভাবতে ভাবতে
পৌঁছে গেছি দক্ষিণেশ্বর
পূজোর ডালি সাজিয়ে হাতে
কাতারে কাতারে ঈশ্বর !

তোমার কথা ভাবতে ভাবতে
পৌঁছে গেছি প্রিন্সেপ ঘাট
জলের কুচি ভাঙছি পায়ে
নৌকো জুড়ে চাঁদের হাট !

তোমার কথা ভাবতে ভাবতে খুলছি আজ স্মৃতির কপাট ... !

Nabadibakar_Writer_12_(Rita Ghosh)

পেঁয়াজ-ই-নামা
- রীতা ঘোষ

পেঁয়াজের ঝাঁঝে চোখে জল
নতুন কথা নয় ,
পেঁয়াজ কিনতেও আজকাল
চোখের জলে নাকের জলে হতে হয় !
পেঁয়াজের কদর দেখে,
আলুর মুখ ভার
একই মাটির নীচে,
তবু ভিন্ন কেন দর !
অহংকারী পেঁয়াজ বলে,
নিজের দিকে তাকা ...
সেপলেস , কালারলেস ,
অঙ্গে মাটি মাখা ।
ব্লিচড হেয়ার , সুডৌল তনু,
রঙিন পোশাক পড়া
স্তরে স্তরে ঝাঁঝালো যৌবনে ,
প্রেমিক দিশাহারা !
আমি বিনা ফিকে স্বাদ ,
বিরিয়ানী হোক বা কারি
দারিদ্রের হেঁসেলেও সমাদৃতা ,
পান্তাভাতের সাথী ।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ১৪ ( শুঁটকি মাছের পুষ্টিগুণ )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


রুচিবর্ধক খাবারগুলোর মধ্যে শুঁটকি মাছ অন্যতম। কাঁচা মাছে লবণ মাখিয়ে কড়া রোদে শুকানো হয় (বড় ও অধিকাংশ মাছের বর্জ্য অংশগুলো ফেলে দেওয়া হয়)। তাই মাছের দেহের পানি বা তরল অংশ শুকিয়ে যায়। ফলে এই মাছে কোনো জীবাণু জন্মাতে পারে না। তবে শুঁটকি মাছ কৌটায় বন্দী বা স্যাঁতসেঁতে স্থানে রাখলে ফাঙাশ পড়ে যায়। প্রচুর পরিমাণে রৌদ্রে শুকানো হয় এই মাছ। তাই এতে ভিটামিন ‘ডি’-এর (সূর্যের আলোতে থাকে ভিটামিন ‘ডি’) পরিমাণ রয়েছে পর্যাপ্ত অনুপাতে। ভিটামিন ‘ডি’ হাড়, দাঁত, নখের গঠন মজবুত করার জন্য যথেষ্ট জরুরি।
শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-এর অভাবে ছোটদের রিকেটস নামের হাড়ের অসুখ হয়। রিকেটস হলে শিশুদের লম্বা হাড়ের গঠনে দুর্বলতা ও সমস্যা থাকে। হাড় হয়ে যায় ভঙ্গুর। এই একই সমস্যা বড়দেরও হয়। বড়দের ক্ষেত্রে একে আমরা বলি অস্টিওম্যালাসিয়া।
এই অসুখগুলো দূর করতে শুঁটকি মাছের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের জন্য উপকারী অনেক রকম খনিজ লবণ রয়েছে এই মাছে। খনিজ লবণ আমাদের রক্তশূন্যতা দূর করে, দাঁতের মাড়িকে করে দৃঢ়। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার আমিষ বা প্রোটিন ও কোলেস্টেরল। যাঁরা কঠোর দৈহিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের জন্য এটি যোগ্য খাবার। আর যাঁরা বয়স অনুযায়ী অতিরিক্ত মোটা, রক্তে নিপিড বা কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি, তাঁরা শুঁটকি মাছ খাবেন না। বাড়ন্ত শিশুদের জন্য ভীষণ উপকারী। তবে সবাই হজম করতে পারে না। আপনার শিশুর হজমশক্তি বুঝে, প্রথমে অল্প করে খাওয়ানোর অভ্যাস করতে পারেন। সম্প্রতি গবেষণায় জানা গেছে, নিয়মিত শুঁটকি মাছ খায় এমন ব্যক্তিদের ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর, যক্ষ্মা এই অসুখগুলো সহজে হয় না। তবে অতিরিক্ত ধূমপান বা যেকোনো প্রকার মাদকদ্রব্য যক্ষ্মার জন্য সহযোগী হিসেবে কাজ করে।
কিডনি, পিত্তথলি বা গলব্লাডারে পাথর, ইনফেকশনসহ যেকোনো জটিলতার জন্য শুঁটকি মাছ বাদ দিন। কারণ, এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন। লিভার, কিডনি, পিত্তথলিতে সমস্যা থাকলে শুঁটকি মাছের উচ্চমাত্রার প্রোটিন হয়ে যাবে দেহের জন্য হুমকিস্বরূপ। কারণ এই অঙ্গগুলো দুর্বল হলে এরা উচ্চমাত্রার প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে না। জন্ডিস, লিভার সিরোসিস, ফ্যাটি লিভারের রোগীরাও এই মাছ বাদ দিন। গর্ভস্থ ও মাতৃদুগ্ধদানকারী মা, বাড়ন্ত শিশু, খেলোয়াড়, নৃত্যশিল্পী, ব্যায়ামবিদ, সাঁতারু এ ধরনের ব্যক্তিদের জন্য শুঁটকি মাছ যথেষ্ট উপকারী।
এতে আয়রন, আয়োডিনের মাত্রা বেশি থাকার জন্য দেহে রক্ত বাড়ায়, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে শক্তিশালী, শরীরের হরমোনজনিত সমস্যাকে রাখে দূরে।
শুঁটকি মাছ দেহে লবণের ঘাটতিও পূরণ করে। তাই দূর হয় দুর্বলতা। কিন্তু এই মাছ উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ার জন্য হূদেরাগী, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের রোগীদের জন্য বর্জনীয়।


 

NABADIBAKAR LOGO (COMPLETE_FINAL_2015) (2)

নবদিবাকরের প্রতিষ্ঠাবর্ষে সকল পাঠক-পাঠিকা, লেখক-লেখিকা, ও কবিদের প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালবাসা । নবদিবাকরের সার্বিক উন্নয়নকল্পে আপনাদের সকলের কাছে আমার আন্তরিক আবেদন, নতুন নতুন লেখার অলঙ্কারে নবদিবাকরকে অলঙ্কৃত করুন । দ্বিতীয় বৎসরের শুভারম্ভে তার কলেবরকে আরো সুন্দর ও ঐতিহ্যময় করে তুলুন ।


বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ।


 

 

 

12004019_10207099598023829_7644395634294991951_n‘Madholal Keep Walking ‘
অভিনয়ে : Subrat Dutta, Pranay Narayan, Neela Gokhale, Swara Bhaskar
পরিচালনা : Jai Tank
সময়: ১:৩৫ মিনিট


পেশায় পিওন মাধোলাল দুবে র অতি স্বাভাবিক জীবন মুম্বাই এর বোমা বিস্ফোরণে এক লহমায় পাল্টে যায় । পরিবর্তনশীল জীবনের প্রেক্ষাপটে মাধোলালএর জীবন চর্যাই এ সিনেমার মুল বিষয়বস্তু ।
স্ত্রী এবং দুই কন্যা সহ মাধোলাল এর সংসার । মুম্বাই এর বহু প্রচলিত ‘চাল’ এ বাস তার । সকাল বেলা কাজে যাওয়া এবং দিন শেষে ক্লান্ত , পরিশ্রান্ত মানুষটির বাড়ি ফেরা , মাধোলাল আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত দেখতে থাকা এক ‘আম আদমি’ মাত্র ।
সিনেমা শুরু হয় মাধোলালের প্রাত্যহিক জীবন দিয়ে । ডেলি প্যাসেঞ্জারি করা মাধোলাল দুবে তার অন্যান্য ট্রেন সহযাত্রী দের কাছে খুবই popular । ছোট ছোট detailing এর মধ্যে দিয়ে মাধোলাল এর চরিত্র চিত্রণ খুব স্পষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্য ।আর এই চরিত্র পর্যালোচনাই সিনেমার দ্বিতীয়াংশের প্রেক্ষাপট তৈরি করে দেয় ।
মাধোলালের চরিত্র সম্পর্কে বলতে গেলে একটি দৃশ্যের কথা এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য । প্রেসার কুকারে রান্না হচ্ছে , আর প্রেশার কুকারের এই স্টিম দেখে মাধোলালের অস্বাভাবিক আতঙ্ক ! আর এই স্বভাব ভীরু মানুষটাই চরম ভাবে আহত হয় বোমা বিস্ফোরণে । হাসিখুশী happy go lucky মানুষটির বদল ঘটে ...মাত্র এক রাত্রেই । অক্ষত অবস্থায় বিস্ফোরণ থেকে বেরিয়ে আসে মাধোলাল , কিন্তু তার মন তখন ক্ষত বিক্ষত ...চুইয়ে চুইয়ে রক্ত ক্ষরণ সেখানে । তার অসহায়ত্ব , তার সুপ্ত ব্যথা ছুঁয়ে যায় আমাদেরও ।
বোমা বিস্ফোরণের চূড়ান্ত আতঙ্কে দিন কাটতে থাকে মাধোলালের। তার স্ত্রী এবং দুই কন্যার চোখে সে ‘হিরো’ হলেও তার আপাত কষ্ট , তার যন্ত্রণা বুঝতে পারে না তারা ।মুসলমান প্রতিবেশী আনোয়ারের কাছে নিজের কষ্ট লাঘব করতে চায় মাধোলাল। ঘুচে যায় হিন্দু মুসলমানের চির বিভেদের ছবিটি । ফল্গু স্রোতের মত একটা ছোট্ট প্রশ্ন উঁকি দিয়ে যায় আমাদের মনেও ...মানুষ এর মনের বিভেদ কি সম্ভব ?
ট্রেনে অতর্কিত বোমা বিস্ফোরণ ! ঘটনাটি যে কোন হিন্দী সিনেমার একটি Familier Landscape , তবুও Madholal keep walking এক আলাদা জায়গা তৈরি করে । বোমা বিস্ফোরণ একজন স্বাভাবিক মানুষের জীবনে যে কি গভীর impact ফেলে , এ সিনেমা সেই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে ।
Jai Tank এবং Sachin Darekar এর predictable গল্পটিও অসাধারণত্বের জায়গায় চলে যায় শুধুমাত্র দুর্দান্ত অভিনয় এবং treatment এর জন্য ।
মাধোলালের ভুমিকায় সুব্রত দত্ত এর অসামান্য অভিনয় তাঁকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরষ্কার এনে দেয় Cairo Film Festival এ । দুর্দান্ত body language , অসামান্য facial expression এবং dialogue মাধোলালের চরিত্রে তাঁকে perfectly fitted করে তোলে ।
২০০৯ এ মুক্তি পাওয়া Madholal Keep Walking নিঃসন্দেহে হিন্দী সিনেমা জগতে এক অনন্য পরিচয় বহন করে আনে .. because.. in every ordinary man there is an extra ordinary man .



চলচ্চিত্র পর্যালোচনা : বাস্তব কি সত্যিই সিনেমা হয়ে ওঠে ?পিয়ালী বসু

travelবনে জঙ্গলে...পাহাড়ী ঝর্ণায়
-এম. এইচ. স্বপন, খইয়াছড়া, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) থেকে ফিরে :


অক্টোবর মাস চট্টগ্রাম শহর থেকে কয়েকজন বন্ধুমিলে বন জঙ্গল পাহাড় ও ঝর্ণার খোজে শহুর থেকে অদুরে মিরসরাই উপজেলার খইয়াছড়া ঝর্ণার উদ্দেশ্যে যাত্রা । সেদিন ছিল শুক্রবার বারয়ার হাটের চয়েস পরিবহনে আমাদের ২৪-২৫ জনের টিম "চাটগাঁ এক্সপ্রেস " রাহাত, স্বপন, রুবেল, মামুন, সৌরভ, রিয়াজ ও সাজ্জিদের টিম থেকে আমরা কয়েকজন কিছু শুকনো খাবার, পানি ও খাবার স্যালাইন নিয়ে প্রথমে নিচু ঝর্ণার কাছাকাছি । আমরা এই প্রথম কোন ঝর্ণা পাহাড় বন জঙ্গল ভ্রমনে একসাথে এতগুলো বন্ধু, একসাথে একই স্থানে সাতটি ঝর্ণার খোজে একে একে খাড়া উঁচু পাহাড় বেয়ে উপরে উঠতে হয়েছে আমাদের সবাইকে । খইয়াছড়া থেকে ফিরে অনেক কিছু বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার ছিল । কিন্তু করছি না এই জন্য, আমার লেখাটা পড়ে কেউ সেখানে যেতে চাইবেন না । মনে রাখবেন, অনেক কষ্টের পর অর্জিত সময় অর্থ কিংবা সম্পদ এই সব কিছু হল সফলতা । সহজ সরল কথা কঠিন ভাবে বলতে গেলে এই ছবিটা আমাদের সফলতা । আমরা ফিরে এসেছি সুস্থ আছি এবং আমাদের টিমের চব্বিশ জন সকলে সুস্থ আছে, কোন বিপদ ছাড়া সকলে ফিরে এসেছে এটাই সফলতা । সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া তিন স্তরের এই ঝর্ণার কাছে পৌছাতে যে দুইটি পাহাড় বেয়ে উপরে উঠতে হয়েছে, সে দৃশ্য এখনো চোখে যদি ভাসে গা শিউরে উঠে । জীবন বাজি রেখে গুহার সন্ধানে যে ছুটে চলা আমাদের, একবারতো ফিরে আসার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম । কোনমতে যদি একজন পড়তে পারে, বাকী সাতজনের জীবন ও কুপোকাত । আর এই খাড়া পাহাড়ের মাটি গুলো এতো যে নরম ছিল, পা রাখতেই ঝরে পড়ছে নিছে । বন্ধু রাহাতকে অনেক ধন্যবাদ, বুজে শুনে কোন সিদ্ধান্তে পৌছানোর জন্য । তার যথেষ্ট সহযোগিতা ছিল, পাহাড়ের মাঝ পথে আটকা পড়া থেকে আমাদের ছয়জনকে রক্ষা করার জন্য । আর ঝর্ণাগুলোর অবস্থা এতো যে ভয়াবহ, একবার পা পিচ্ছিল করতে পারলে হাসপাতাল তো দুরের কথা, চোখের সামনে বন্ধুর পড়ে যাওয়া দেখেও চেয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না ।


ঝর্ণার পাশে পাহাড়ের মাটি গুলো পাথরের মত শক্ত, আর পানি পড়তে পড়তে সাবানের চাইতেও কয়েক গুন বেশী পিচ্ছল হয়ে আছে ঝর্ণার আশ পাশের স্থানটা । যদি কোন বিপদগামী কেউ হয়ে যায়, তাহলে তার অবস্থা হবে একটা তরমুজকে আছাড় দিলে যা হওয়ার তেমন অবস্থা । এই এক চরম অভিঙ্গতা খইয়াছড়া ভ্রমনে পাহাড়, ঝর্ণা, গুহা ও পাহাড়ী পথ, পাহাড় ও সবুজের সাথে আমাদের চার ঘন্টার বসবাস । ভালো লাগার এই তিক্ত অভিঙ্গতা গুলো শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে । যদি কেউ সেখানে যেতে চান কিংবা যান, দয়া করে এই বিষয় গুলোতে একটু সতর্ক থাকবেন ।

Nabadibakar_Writer_46

জীবন নিয়ে খেলা
- বিভূতি চক্রবর্তী


জীবন নিয়ে সারা জীবন অনেক খেলাই খেলেছি
মনের ভিতর গভীরতার গোপন ভাষাই মেলেছি-
রং-বেরঙের এর রঙ্গিন পাখা মেলে
বুঝতে নারি কোন খেলা সে খেলে,
জীবন এখন কার আশাতে, বিষণ্ণ মন ঢেলেছি ?
এমনি করেই ভাঙ্গা জীবন খুঁড়িয়ে চলে আনমনে
বুঝতে পারি, এটাই জীবন চলতে হবে প্রাণপণে-
অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এসে,
জীবন আমার এগিয়ে চলে মৃদু হেসে
অভিমানের ছোঁয়ায় এবার ক্লান্ত হৃদয় আলোড়ণে।

আগরতলা - ২৬/০৯/২০১৫ ইং ।

Nabadibakar_Writer_24

খুশীর ঈদ
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

ঈদের খুশী হয় না
সবার জন্য,
সবাই হয় না মানুষ
হিসেবে গণ্য ।

অনেকেই এই দিনে
ফেলে চোখের পানি,
টেনে বেড়ায়, না
পাওয়ার ঘানি ।

ছড়িয়ে পড়ুক
ঈদের খুশী,
গরীব কে যেন
বেশী ভালোবাসি ।

ঈদ হোক ধনী
গরীব সবার,
বন্ধ হোক সবার
প্রতি অবিচার ।

ঈদ হোক
সবার জন্য,
সবাই হোক মানুষ
হিসেবে গণ্য ।

Nabadibakar_Writer_54ভৌতিক অণুগল্প : ওখানে কে ?
- মোঃ জাহিদুল ইসলাম


ঘরের শেষ আলোটা নিভিয়ে, বিছানায় এসে শোবার উপক্রম করতেই জানালার পর্দাটা উড়াউড়ি শুরু করলো। বারান্দায় কারো পায়চারী করার শব্দ, কে যেন জোরে নিঃশ্বাস ফেলছে ! চমকে উঠে বলেই ফেললাম,
কে ? ওখানে ?


কোনো জবাব নেই ! কৌতুহূলবশত এক-পা, দু-পা করে বারান্দায় চলে এলাম। অন্ধকার ঘরে হাতড়াতে হাতড়াতে আলো জ্বাললাম । তারপর ছুটে গিয়ে ঘরের কোণে রাখা মোটা লাঠিটা তুলে নিয়ে বারান্দায় চলে এলাম। কেউ নেই । আবার চিৎকার দিলাম - ওখানে কে ?
কোন উত্তর নেই !


তাহলে কি ভুল দেখছিলাম ! লাঠি রেখে দিয়ে আবার বিছানায় এসে শুয়ে পড়লাম । জানালার পর্দা উড়ছে। পাশের বাড়ির ছাদে কে যেন বসে আছে !


সম্মোহনী দৃষ্টিতে আমাকে ডাকছে। তার পরণে সাদা কাপড় আধাঁরের একফালি চাঁদকেও হার মানিয়ে দেয়। আমাকে দেখেই দাঁত খিঁচিয়ে তেড়ে এলো। এবার প্রচণ্ড ভয় পেয়ে জানালা লাগিয়ে দিলাম।


মাঝরাত, কৃষ্ণপক্ষ। প্রচন্ড সাহসের উপর ভর করে ভয় ভয় চোখে তাকিয়ে বললাম, ওখানে কে ?


নিশ্চুপ সবকিছু। ঝিঁঝিঁরা একমনে ডেকে চলছে। হঠাৎ কে যেন 'আমি' বলতে বলতে মিলিয়ে গেল হাওয়ায় ।

Nabadibakar_Writer_24_

রক্তক্ষরন
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

তোমার অপেক্ষায় আমি ক্লান্ত নই,
শুধু সঙ্কিত হৃদয়ে অবিরাম রক্তক্ষরন
দুশ্চিন্তায় তিলে তিলে ক্ষত বিক্ষত হৃদয়;
যন্ত্রনারা বাসা বেঁধেছে!
অনাকাঙ্খিত প্রেম তৃষ্টায় কন্ঠস্বর রুদ্ধ, তবুও নই আমি ক্লান্ত,
অধৈর্যের বেড়ায় হয়েছি আবদ্ধ,
কল্পনায়,নির্ঘুম রাত্রের
স্বপ্নে পেয়ে ও হারিয়ে ফেলি,
আমার অযাচিত প্রেম রাজ্য,
আর বাস্তবতা মুখথুবরে পরে থাকে,
আমি চেয়ে থাকি, তোমার স্বপ্নে
নিজেকে রাঙ্গানোর জন্যে।

Sample_86সহজেই আপনার অপারেটিং সিস্টেমগুলোর গতি বৃদ্ধি করুন
- মোঃ জাহিদুল ইসলাম


বর্তমান পৃথিবী অনেকাংশেই প্রযুক্তির আশীর্বাদ। প্রত্যেকের হাতে হাতেই আজকাল এন্ড্রয়েড, আই-ফোন, আইপ্যাড এছাড়াও ; উইন্ডোজ, ম্যাক ও এস এক্স ও লিনাক্স। প্রত্যেকেই প্রযুক্তির খাতিরে কিছু না কিছু ব্যাবহার করছেন। প্রায় বেশিরভাগ সময়ই অনেকক্ষণ ধরে মোবাইল কিংবা কম্পিউটার ব্যাবহারের ফলে গতির সমস্যায় পড়তে হয়। আপনি কি জানেন ?
এন্ড্রয়েড, কম্পিউটার অথবা ট্যাবলেট যেটার কথাই বলেন না কেন, ডিভাইসগুলোতে সর্বদা ছোট-খাট অ্যানিমেশন ব্যাবহারের মাধ্যমে অপারেটর অর্থাৎ ব্যাবহারকারীর মনে চমৎকার একটি ইমেজ তৈরী করা হয়। আর এই, অ্যানিমেশনগুলোই ডিভাইসগুলোর গতি কিছুটা মন্থর করে দেয়।


ব্যাবহারকারী যেকোন স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের ইন্টারফেসে ব্যাবহৃত এই অ্যানিমেশনগুলো রিডিউস কিংবা ডিস্যাবলের মাধ্যমে উক্ত সমস্যার সমাধান করতে পারেন। মূলত প্রতিটি গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসযুক্ত অপারেটিং সিস্টেমই কিছু ন্যাটিভ অপশন রেখে থাকে, অ্যানিমেশন রিডিউসের জন্য। কিছু কিছু অপারেটিং সিস্টেমে খুব সাধারণভাবে দেয়া থাকে। আবার, কিছু কিছু অপারেটিং-সিস্টেমে জটিলভাবে দেয়া থাকে। ব্যাবহারকারী তার ব্যাবহারকৃত ডিভাইসের ইন্টারফেস থেকে এ অ্যানিমেশন ডিজেবল করে ডিভাইসের গতি কিছুটা হলেও বৃদ্ধি করতে পারেন। তবে, আপনার যদি শক্তিশালী হাই এন্ড হার্ডওয়ারের অপারেটিং সিস্টেম থেকে থাকে তবে, আপনি ডিভাইসে গতিজনিত কোন পরিবর্তন লক্ষ্য নাও করতে পারেন। এটি শুধু পুরনো অর্থাৎ ডুয়েল কোর, কোর আই-৩ এমন নিম্নমান প্রসেসরে গতি পার্থক্য কিছুটা ভিসিবল হতে পারে।


এন্ড্রয়েড/অ্যান্ড্রয়েডঃ- বাজারে এখন বিভিন্ন ব্রান্ডের এন্ড্রয়েড মোবাইল পাওয়া যাচ্ছে। একেক কোম্পানি একেক রকমের, ঢংয়ের মোবাইল বাজারে ছাড়ছে। আপনি এন্ড্রয়ডের হিডেন 'ডেভেলপার অপশন' থেকে সহজেই ফোনের অ্যানিমেশন এক্সিলারেটর ডিজেবল করতে পারবেন। এন্ড্রয়েডের জেলীবিন থেকে ললিপপ অর্থাৎ 4.x- 5.0 পর্যন্ত একই প্রসেস। প্রথমে সেটিংসে গিয়ে ডেভেলপার অপশনটি ইন্যাবল করতে হবে। এরপর, স্ক্রল টেনে নিচে 'About Phone' অথবা 'About Tablet' অপশনে ক্লিক করুন। নতুন উইন্ডোতে "Build Number" নামে একটি লেখা দেখা যাবে। এতে, টানা সাত থেকে আটবার ট্যাপ করুন। "You are a Developer" নামে একটা পপ আপ বার্তা দেখা যাবে।
উপরের বার্তা দেখার পর, ব্যাক বাটন চেপে সেটিংস মেনুতে ফিরে যান। স্ক্রল টেনে নিচে নামতে থাকুন। সবচেয়ে নিচে দেখবেন 'Developer Option' নামে একটা আইটেম ক্রিয়েট করা আছে। আইটেমের উপর ক্লিক করে ইন্যাবল করুন। এরপর, "Windows animation scale, Transition Animation scale ও Animator Duration scale ইত্যাদি অপশন রয়েছে। এগুলো ব্যাবহারকারী ইচ্ছেমত মডিফাইয়ের মাধ্যমে এন্ড্রয়েড ডিভাইসের অ্যানিমেশন কন্ট্রোল করে সমস্যার সমাধান করতে পারেন।


আইফোন/আইপ্যাডঃ- আইফোন কিংবা আইপ্যাড স্মার্টফোনের ইতিহাস পরিবর্তনকারী এক অপারেটিং সিস্টেম। কোটি টাকার মোবাইল তৈরীর রেকর্ডটাও এখনো এদের দখলে । প্রথমে সেটিংস অ্যাপটি ওপেন করুন। General অপশনে ট্যাপ করুন এরপর Accessibility অপশনে ট্যাপ করুন। Reduce Motion অপশনে ট্যাপ করে সুইচটি অ্যাক্টিভ করে দিন। এই প্রক্রিয়াতে আপনার ডিভাইসের অ্যানিমেশন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হবেনা তবে, মোশন অ্যানিমেশনকে রিপ্লেস করবে। এতে করে, আপনারNabadibakar_Writer_54 ডিভাইসটি কিছুটা হলেও ফাষ্টার হবে।


লিনাক্সঃ- কম্পিউটার জগৎে শক্তিশালী সিকিউরিটিসমৃদ্ধ এক অপারেটিং সিস্টেম। প্রায় প্রতিটি লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে উইন্ডোজ ওপেন , ক্লোজ, মিনিমাইজ বা রিস্টোরের অ্যানিমেশন নিয়ন্ত্রণের জন্য অ্যানিমেশন কন্ট্রোলিং সুবিধা রয়েছে। অবশ্য, উবুন্টুর ক্ষেত্রে কিছুটা জটিল। আপনাকে প্রথমে CompizConfig Settings Manager ইনস্টল করে নিতে হবে। পরবর্তীকালে আপনি এর হিডেন গ্রাফিক্যাল সিস্টেমগুলো টুইক করতে পারবেন। ব্যাবহারকারী ইচ্ছা করলে সহজেই এই সকল অ্যানিমেশনগুলোকে স্পিড আপ বা এলিমিনেট করতে পারবেন। শখের বশে লিনাক্স ব্যাবহারকারীরা ও নতুনরা টুলসটি যথেষ্ট সতর্কতার সাথে ব্যাবহার করবেন। কেননা, মূলত অ্যাডভ্যান্স লেভেলের ব্যাবহারকারীদের জন্যই টুলসটি ডিজাইন করা হয়েছে।


ম্যাক ওএস এক্স/অ্যাপেলঃ- বিশ্বের অন্যতম বিশ্বস্ত এক অপারেটিং সিস্টেম। বহির্বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষেরই প্রথম পছন্দ ম্যাক ওএস এক্স। তবে, ম্যাক ওএস এক্স এর মধ্যে অপেক্ষাকৃত স্লো অ্যানিমেশন হচ্ছে উইন্ডোজ মিনিমাইজ এবং রিস্টোর অ্যাপলিকেশন। তবে, ডক এর প্রিফারেন্স পেন থেকে এটি কন্ট্রোল করা যায়। প্রথমে Apple Menu তে ক্লিক করে System Preference সিলেক্ট করে Dock এ ক্লিক করুন। অবশ্য, এই অপশনটি সম্পূর্ণরূপে ডিজেবল করার কোন পদ্ধতি নেই ম্যাক ওএস এক্স অপারেটিং সিস্টেমগুলোতে। তবে আশার কথা, 'Genie' অ্যানিমেশনের পরিবর্তে অারও দ্রুতগামী 'Scale' অ্যানিমেশন সিলেক্ট করতে পারেন। এতে ব্যাবহারকারী, উইন্ডোজ মিনিমাইজ ও অ্যাপ রিস্টোরে আগের তুলনায় ফাষ্টার এক্সপেরিয়েন্স আশা করতে পারে।


উইন্ডোজঃ- সকল ধরনের উইন্ডোজের ক্ষেত্রেই সেই পুরনো পদ্ধতি। উইন্ডোজ ৮ কিংবা ১০ এর ক্ষেত্রেও টেকনিক্যাল প্রিভিউতে গিয়ে অতি সহজে অ্যানিমেশনগুলো ডিজেবল করা যায়। অ্যানিমেশন অপশনে প্রবেশ করতে প্রথমে 'My Computer' গিয়ে বাম পাশের উপরে 'My Computer' লেখা টেক্সটের উপর রাইট ক্লিক করলে নতুন উইন্ডো দেখা যাবে। নতুন উইন্ডোর সাইডবারে Advance System Settings এ ক্লিক করলে নতুন এক অপশন দৃশ্যমান হবে। এবার, Preference এর নিচে Settings এ ক্লিক করুন। এরপর, অনেকগুলো চেকবক্সসহ অপশন দেখা যাবে। বেস্ট পারফর্মেন্সের জন্য Adjust For best Performance এ ক্লিক করুন। ব্যস! হয়ে গেল।


মনে রাখবেন বারবার বলছি, অত্যাধুনিক উচ্চমানের হার্ডওয়্যার ব্যাবহৃত অপারেটিং সিস্টেমগুলোতে অ্যানিমেশনগুলো খুব একটা পরিবর্তন আনবেনা। তবে পুরনো কিংবা নিম্ন মানের হার্ডওয়্যার ব্যাবহৃত অপারেটিং সিস্টেমে অ্যানিমেশন বন্ধ করার ফলে কিছুটা হলেও গতি পরিবর্তন সম্ভব হবে। ধৈর্যের সহিত যত্নাসহকারে সকলে প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জন করুন, ধন্যবাদ।


(সমাপ্ত)

Nabadibakar_Writer_64_A১৯বছরের ছিটমহল জীবন আজও মনে পড়লে কাঁদায়
- আবদুল্লাহ আল মামুন


কলা-পাউরুটি বা পাউরুটি-চা, প্রথম কায়েক মাস লাঞ্চ বা দুপুরের খাবার ছিল এটুকুই। আর্থিক দৈন্যতায় তখন দুপুরে এর বেশি কিছু খাওয়া হতো না। মাঝে-মধ্যে কারও কৃপায় দুপুরে ভাত খেতে পারতাম। দুপুরবেলা ভাত তখন আমার কাছে অমৃতের মতো। রাতে বাসায় ভাত খাবো এই আনন্দে সারাদিন ধরে অপেক্ষা করতাম। ৫ মাসের এরকম অজস্র গল্প জমা হয়েছে, ভরেছে অভিজ্ঞতা আর অপ্রাপ্তির ঝুলি। স্নাতকের ভর্তি প্রস্ততির জন্য ২০১৫ এর পরে এখানে আসা। এরপর তো অনেকটা বাধ্য হয়েই এখনো থাকতে হচ্ছে। তবে প্রথম দিকে এ নগরে অভিযোজন ক্ষমতা ছিল না খুব একটা, মানে টাকার জোরটা ছিল না। এরপরও, অনেকেই বলতেন, তুমি তো বড়লোক পরিবারের ছেলে তোমার বাবা বিদেশ থাকে, বেশ ভালো আছো নিশ্চয়ই!!!
তখন, একেবারে ছোটবেলা থেকে ফ্ল্যাশব্যাক হতো। মনে পড়তো সেসব দিনের কথা, যখন ঈদে আশেপাশের মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেরা বাজারের ভালো শার্টটা কিনলেও, আমাদের জুটতো হকার্স মার্কেটের কমদামের শার্ট-প্যান্ট। এজন্য মন সারা দিন খারাপ থাকতো । পড়ার ছেলেরা অনেক দামের শার্ট -প্যান্ট পরে গুরতে যেতো এজন্য তাদের সাথে কোথাউ যেতাম না । এরকম কতশত লুকোচুরি গল্পে শৈশব-কৈশোর পার করেছি তা টেরই পাইনি। স্কুলজীবনে কখনো কোন পিকনিকে যেতে পারিনি। কলেজেও একই পরণিতি। চার-বন্ধুরা পিকিনিকের কথা বললে যেতাম না তাদের কথা কেটে পড়তাম । বলতাম ওই দিন আমার নানার বাড়িতে দাওয়াত আছে তাই সেখানে যেতে হবে তাই আমি তোমাদের সাথে যেতে পারবো না । পিকনিকের দিন ভুলেও বাসা থেকে বের হতাম না । ভয়ে জদি বন্ধুরা আসল কথা যেনে যায় এ জন্য । ছোট বেলায় খেলার প্রতি খুব আগ্রহ ছিল আমার তাই পাড়ার মাঠে বন্ধুদের সাথে খেলতে জেতাম কিন্তু কোন দিন খেলতে পারতাম আবার কোন দিন পারতাম না কারন বল - ব্যাট কিনার জন্য চাঁদা দিতে বললে আমি দিতে পারতাম না তাই প্রায়সময় খেলার মাঠে দর্শক হয়ে খেলা দেখতে হত । কখনও মোট খেলোয়াড় সংখ্যা বেজোড় হলে আমার ভাগ্য খুলে যেতো তবে,এখানেও কষ্টের গল্প আছে। ব্যাট করতাম সবার শেষে আর শুধু ফিল্ডিং। কারণ, মাঠের বল-ব্যাটে আমার কোন অংশ গ্রহন ছিল না।
বাসায় ডিশ অ্যান্টেনা ছিল না ছিল না কোন টেলিভিশন তাই বলে, দোকানে খেলা দেখতে যেতাম। খেলা দেখার মাঝখানে হঠাৎ করে দোকানের টিভিটা বন্ধ করে দেয়া হতো। দোকান থেকে কিছু কিনতে পারতাম না বলে দোকানদার গালি দিয়ে টিভি বন্ধ করে দিতেন। আমরা চলে আসলেই আবার টিভি চালু হয়ে যেতো।
এ জীবনে কখনও কোন নিজের বাবা -আত্মীয়থেকে কিছু পায় নি ছোট বোলায় একটা ঘড়ির সখ ছিল । অনের কাছে চেয়েছি কিন্তু কেউ আমাকে দিতে পারেনি সবায় দিবে বলে আশায় দিয়েছে কিন্তু শষে সকল আষায় জেনো বালি । এবংকি আমার নিজের বাবাও পারলো না । ছোট বেলায় অনেক স্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে অমুক হব - তমুখ হব কিন্তু আজ আমার সকল স্বপ্ন যেনো বিলিনের পথে বশেছে । নিজে কিছু কাজ করে টাকা আয় করার আগ পর্যন্ত অর্থের জোর যে কি জিনিস তা হাড়ে হাড়ে বুঝিছি । এমনও দিন হয়েছে মাসে কোথাও জাবার জন্য গাড়ি বাড়াটা ছিল না। আবার কারো কাছ থেকে ধার চেয়েও পাইনি তখন একটা উপলব্ধি পেয়েছি, টিকে থাকতে হলে অর্থের আনতে হবে তবে অসৎ পথে নয় । অর্থের মেরুদন্ডটা মজবুত হলে জীবনে অনেক কিছু করা সম্ভব। এ কারণে খেয়ে-না খেয়ে কাজ করেছি নানা জায়গায় দৌড়িয়েছি স্বচ্ছলতার আশায়। তবে অনেকটা পথ চেনা হয়েছে ছিটমহল জীবনে । এ পথে অনেকের সাথে দেখাও হয়েছেসে হিসেবটা তোলা থাকলো। তবে স্বল্প জীবনে অনেকেরই ঋণ শোধ করার বাকি আছে। কথা দিচ্ছি বেঁচে থাকলে সে শোধ আনা-তোলার হিসেবে মেটানোর চেষ্টা করবো। কারণ, আমি মর্ধবৃত্ত্ব পরিবারের হতবাঘা সন্তান...

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ১৩ ( কাঁচা আমের গুণ )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


ফলের বাজার ভরে গেছে কাঁচা আমে। উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’র অধিকারী এই ফল। ভিটামিন ‘এ’ চোখের জন্য খুব উপকারী। চোখের স্নায়ু ও মাংসপেশি শক্তিশালী করতে এর ভূমিকা অপরিহার্য। আর ভিটামিন ‘সি’ যুদ্ধ করে ছোঁয়াচে রোগের বিরুদ্ধে। দাঁত, চুল, নখ ভালো হওয়ার জন্য ভিটামিন ‘সি’ যথেষ্ট জরুরি।
মুখের ভেতরের চামড়া উঠে যাওয়া, মাড়িতে ঘা হওয়া, ঠোঁটের কোনায় ঘা, ঠোঁটের চামড়া ফেটে যাওয়া—এসব অসুখ ভালো হওয়ার জন্য দরকার ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’, যা রয়েছে কাঁচা আমে। ভিটামিন ‘বি সিক্স’ বা পাইরিডক্সিনও রয়েছে এই ফলে। পাইরিডক্সিন মানুষের মস্তিষ্কে গাবা নামের এক ধরনের হরমোন তৈরি করে, যা প্রতিরোধ করে স্ট্রোক ও মস্তিষ্কের অন্যান্য জটিল রোগ। এতে রয়েছে কপার নামের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা দেহে রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে।
প্রি-বায়োটিক ডায়াটারি ফাইবার নামের জরুরি উপাদান রয়েছে কাঁচা আমে, যা পাকস্থলী, কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। আমাদের দেহে রক্তের মধ্যে টক্সিন নামের কিছু উপাদান রয়েছে, যা দেহে রোগ তৈরি করে। এই টক্সিনকে ধ্বংস করে কাঁচা আম।
গর্ভবতী মায়েরা কাঁচা আম খেলে বাচ্চার মেধা ভালো হয়, জন্মের পর বাচ্চার সংক্রামক রোগগুলো তুলনামূলকভাবে কম হয়। চর্বি কমাতে, ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে কাঁচা আম। যেকোনো কাটা-ছেঁড়া বা অপারেশনের পরে এই ফল কাটা স্থান দ্রুত শুকাতে সাহায্য করবে। তবে ফল অতিরিক্ত টক হলে খাবেন না। এতে কাটা স্থান পেকে পুঁজ জমতে পারে। হালকা টক খাওয়াই উত্তম। আবার বেশি উপকারের আশায় কাঁচা আম বেশি খেলে ডায়রিয়া হতে পারে। ডায়ারিয়া চলাকালে কাঁচা আম খাবেন না।
এই ফলে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম রয়েছে। পটাশিয়াম হূৎপিণ্ডের স্পন্দন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য কাঁচা আম বয়ে আনে সুফল। তবে খেয়াল রাখুন, উচ্চ রক্তচাপ ও হূদেরাগীরা কাঁচা আম লবণ বা চিনি দিয়ে খাবেন না। কাঁচা লবণ রক্তচাপ বাড়ায় আর চিনি বা মিষ্টি রক্তের সুগার বাড়ায়।
ডায়াবেটিক রোগীরা এই ফল খেতে পারবেন, কারণ কাঁচা আমে চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই, তাই এই ফল খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার বা ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই। হূদেরাগীদের জন্য এটি উপযুক্ত ফল। আর কাঁচা আমের ভিটামিন ‘সি’ পাকা আমের তুলনায় অনেক বেশি। তাই পুষ্টির বিচারে কাঁচা আম হোক আপনার পরিবারের সদস্য।
কাঁচা আম সকাল ১০-১২টার মধ্যে খাওয়াই ভালো। রাতে খাবেন না, অ্যাসিডিটি বা গ্যাস হতে পারে। আর কাঁচা আমের আমসত্ত্ব বা আচার যা-ই হোক, দ্রুত খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, দেরি হলে পুষ্টি কমে যাবে।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ১২ ( ডাব গরমের উৎকৃষ্ট পানীয় )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য পুষ্টি। এতে পটাশিয়াম আছে প্রচুর পরিমাণে। বমি হলে মানুষের রক্তে পটাশিয়ামের পরিমাণ কমে যায়। ডাবের পানি পূরণ করে এই ঘাটতি। তাই অতিরিক্ত গরম, ডায়রিয়া, বমির জন্য উৎকৃষ্ট পানীয় ডাবের পানি। এতে পানির পরিমাণ প্রায় ৯৪ শতাংশ। তাই ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায়, পুরো দেহের শিরা-উপশিরায় সঠিকভাবে রক্ত চলতে সাহায্য করে। কারণ, পানি বেশি পান করলে কিডনির কাজ করতে সুবিধা হয়, দেহে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বাড়ে, ত্বকসহ প্রতিটি অঙ্গে পৌঁছায় বিশুদ্ধ রক্ত। ফলে পুরো দেহ হয়ে ওঠে সতেজ ও শক্তিশালী।
এতে কোনো চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই। প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান থাকার জন্য বাড়ন্ত শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবার জন্য ডাবের পানি যথেষ্ট উপকারী। তারুণ্য ধরে রাখতে ডাবের পানি যথেষ্ট উপযোগী। এতে চিনির পরিমাণও অল্প। তবে ডায়াবেটিসের রোগীরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে ডাবের পানি খাবেন। কিডনিতে পাথর হয়েছে বা ডায়ালাইসিস চলছে, এ ধরনের রোগীরা এই ফল খাবেন না। কারণ, এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম, যা কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু যারা সুস্থ মানুষ, তাদের কিডনির জন্য ডাবের পানি আশীর্বাদস্বরূপ। কিডনি দেহের ছাঁকন যন্ত্র। এই অঙ্গ শরীরের নোংরা ও ক্ষতিকর অংশগুলোকে দেহের বাইরে বের করতে সাহায্য করে। এই ফলে নেই কোনো ভিটামিন এ। তার পরও শরীরের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম রয়েছে ডাবের পানিতে, যা হাড়কে করে মজবুত। সেই সঙ্গে জোগায় ত্বক, চুল, নখ ও দাঁতের পুষ্টি।

Nabadibakar_Writer_30

বৃষ্টি ভোরে
- মনিরা ফেরদৌসি

বৃষ্টি ভেজা সকাল বেলা
বিছানা ছাড়তে চায়না মন,

কাজের কথা পড়ল মনে
লাফ দিয়ে উঠি সেই ক্ষনে ,

আঁকাশ ভরা মেঘ কালো
মনটা আমার নেই ভাল ,

বৃষ্টি ভেজা দূর্বা দেখি
সতেজ হয়ে মারছ উঁকি।

মনটা আমার করছে উড়ু
ফেলব চরন তোমার উপর ,

কাঁক ভিজে তার ডানা ঝাপটায়
অতীত স্মৃতি মাথা ঘুরায় ,

গুড়ুম গুড়ুম ডাকছে দেয়া
ভয়ে কেঁপে আমি সারা ,

মন পিওনের কথা মালা
রং তুলিতে আঁকব একা ।।

আর্ত মানবতার সেবাই আমাদের লক্ষ্য
- অর্পিতা দত্ত, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

“আর্ত মানবতার সেবাই আমাদের লক্ষ্য” এই স্লোগান ধারণ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা গত ১৪ ও ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা প্রহরী ইউনুস মিয়ার আট বছরের মেয়ের হার্টে দুইটি ছিদ্র থাকায় তার উন্নত চিকিৎসার জন্য “আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ” কর্মসূচি আয়োজন করে। বন্ধুসভার অর্থ সম্পাদক শেখ ফজিলাতুন্নেসা নিপার সমন্বয়ে দুই দিনের এই কর্মসূচিতে প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় বন্ধুসভার বন্ধু জাহেদ,দ্বীন,ফয়সাল,নাছির,সোবাহানি, অর্পিতা,ঈশি,নাদিয়া,জুনায়েদ,কৃষ্ণ, ইমরান।  কর্মসূচির ২য় দিনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সভাপতি ফলিত ও পরিবেশ রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সুমন গাঙ্গুলী এবং ইতিহাস বিভাগের সভাপতি ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম স্যার সহ বন্ধুদের উপস্থিতিতে মোঃ ইউনুস মিয়ার হাতে সংগৃহীত অর্থ হস্তান্তর করা হয়।

Nabadibakar_Writer_65

সবুজ ভূমির দেশ
- আশরাফ ইকবাল

মাঠে মাঠে ফসল ভরা
দেখতে যেন মন কাড়া
সবুজ ভূমির দেশ।

নদ-নদী পানিতে ভরা
নীল আকাশে পাখি চড়া
দেখতে লাগে বেশ।

নিঝুম রাতে হাজার তারা
মিটি মিটি জ্বলতে পারা
আনন্দের নেই শেষ।

গাছে গাছে ফল হওয়া
ফুল থেকে ঘ্রাণ লওয়া
লাগছে আহা বেশ!

Nabadibakar_Writer_24_

প্রতিক্ষিত মূর্হত্ব
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

সারা দিনের অপেক্ষিত বেলা শেষে;
গৌধুলি সন্ধ্যলগ্নে কুপিদাসের পুকুর
পাড়ে প্রতিক্ষিত দেখা!

সঙ্কিত হৃদয়ের তান্ডব ভেঙ্গে চুরমার,
মিথ্যেরা লুকিয়েছে অপরিহাস্যের রাজ্যে
তুমি এসেছো,এসেছো তাই
আজ যেন জোঁনাকিদের মেলা;চারি দিক
রঙ্গিন,
লাল নীল আলোয় আলোয় আলোকিত
সন্ধ্যাটি সঙ্কিত বেলা শেষে স্বরনীয় মুর্হত্ব!

নানা রকম ফুলের ঘ্রানে,আমি মুগ্ধ
হয়েছি তোমার প্রেম পল্লিতে,
হঠাৎ নীলিমায় তীব্র গর্জন,একটু একটু
ভয়, থমকে কী? যাবে এই স্বৃতিময় মূর্হত্ব,ধূয়াশায় মেঘের জোয়ারে,
না আরো প্রান জুরাবে শ্রাবন বৃষ্টি জলে।

 

Nabadibakar_Writer_40

অণুকাব্য - ১

সমুদ্রে যাবো বলে
দিলাম আমি হাসি
সমুদ্রে নেমে আমার
হয়েছে এখন কাশি ৷

অণুকাব্য - ২

দিন যায়
থাকে কথা
বাড়ে আমার
বুকের ব্যাথা ৷

অণুকাব্য - ৩

দুজনের মধ্যে কেউ
শোনেনা কথা
বলতে গেলে দুজনের
মাথা মোটা ৷

Sample_86বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি : কম্পিউটারের কিছু সমস্যা ও তার সমাধান

- মোঃ জাহিদুল ইসলাম


বর্তমানে সারা বিশ্বে কম্পিউটারের বিকল্প ভাবা যায়না। একসময়ের গণনাকারী যন্ত্র আজ পৃথিবীর সভ্যতা পরিবর্তনের অন্যতম দাবিদার। প্রতিযোগিতাপূর্ন  বর্তমান পৃথিবীতে উইন্ডোজ ডেভলপিং, প্রোগ্রামিং,  ডিজাইনিং সহ বিভিন্ন কাজে তরুণ-তরুণীরা অনেক এগিয়ে। কম্পিউটার যেমন মানুষের সফলতার পথ মেলে দিয়েছে তেমনি কম্পিউটার ব্যাবহারকারীদেরও মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। তাদের জন্যই আজকের এই ছোট্ট আয়োজন। আশা করি সকলের ভালো লাগবে -


আপনার কম্পিউটার কিংবা পিসি বারবার হ্যাং হয়ে যাচ্ছে কিংবা উইন্ডোজ স্ক্রিণে উইন্ডোজ ইট নট রেসপন্সিং দেখাচ্ছে ?

চিন্তার কোন কারণ নেই সমস্যার সমাধান এখন আপনার হাতে!


১. প্রথমে আপনি স্টার্ট মেনুর সাথে লাগোয়া যে নীল দাগ অর্থাৎ একদম নিচের মেনু বারে রাইট ক্লিক করে Task Manager এ ক্লিক করুন ।


২. এবার Task Manager-এ গিয়ে More Details এ ক্লিক করুন । একটা বক্স দেখা যাবে। আপনার বর্তমানে রানিং এপ্লিকেশনগুলো এখানে দেখা যাবে। আপনার পিসি কত পরিমাণ কাজ করছে সেটাও এই বক্সেই দেখা যাবে  ?


৩. এরপর Task Manager এর ওপরের দিকে দেখুন (File Options View) এই তিনটি অপশন পাবেন ।


৪. ওখান থেকে Options এ ক্লিক করে Always On Top বাটনে ক্লিক করুন ।

আপনার কাজ শেষ ।


এবার কম্পিউটার হ্যাং করুন বা হ্যাং হলে Task Manager ওপেন করুন এবং অনাকাংখিত Application গুলো Close করুন ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কম্পিউটার হ্যাং হলে Task Manager Hang Application এর নিচে থাকে বলে কাজ করা যায় না । কিন্তু আপনি যখন ওপরের নির্দেশিত কাজগুলো করে আসবেন তখন Task Manager সব Application এর ওপরে পাবেন এবং আপনার কাজ সুন্দরভাবে করতে পারবেন ।


এছাড়াও, কম্পিউটার হ্যাং হলে Task Manager এ যাওয়ার কি-বোর্ড থেকে শর্টকার্ট নিয়ম হলো :- Ctrl+Shift + Esc Key এক সাথে চেপে ধরুন ।


ডেক্সটপ কম্পিউটারের DVD ROM নষ্ট হলে বা যাদের নেটবুক আছে তাদের জন্য, কিভাবে কম্পিউটারের বিকল্প উপায়ে DVD ROM ব্যাবহার করবেন  ?


বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোতে নোটবুক দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা এ সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হয়। তাদের জন্য এ টিপসটা -


আপনার এই কাজটি করার জন্য প্রয়োজন হবেঃ

১. একটি USB Pen drive কমপক্ষে ৮ গিগাবাইট। অবশ্যই Boot able করা।


২.একটি Windows 7 CD অথবা Windows File কপি করা থাকতে হবে।


৩. শিক্ষার্থীকে command prompt (cmd prompt) সম্পর্কে সামান্য ধারনা থাকতে হবে ।


প্রথমে Bootable কিভাবে করবেন তা দেখানো হল। নিচের ধাপগুলি অনুসরন করুনঃ


১. যেকোন ডিভিডি ড্রাইভে উইন্ডোজ ৭ ইনস্টলেশন ডিভিডি ঢুকিয়ে “Boot” ফোল্ডার খুঁজে বের করুন অথবা কপি করা উইন্ডোজ ফাইল থেকে "Boot" ফোল্ডার এবং এই “Boot” ফোল্ডার থেকে "bootsect.exe" ফাইলটি কপি করে আপনার হার্ড ডিস্কের যেকোন ড্রাই্ভে (ধরা যাক E: ড্রাইভে) পেস্ট করুন (কোন ফোল্ডারে পেস্ট করবেন না, (E:) ড্রাইভের রুটে পেস্ট করুন)।


২. আপনার পেনড্রাইভটিকে এবার NTFS ফরম্যাটে ফরম্যাট করুন।


৩. স্টার্ট মেন্যু থেকে command prompt অপশন এর রাইট বাটনে ক্লিক করে "Run as administrator" হিসেবে চালু করুন।


৪. command prompt এ D: লিখে এন্টার চাপুন । (যেখানে"bootsect.exe" ফাইলটি কপি করে রেখেছেন)


৫. এবার bootsect.exe/nt60 K: লিখে এন্টার চাপুন (যেখানে k হল আপনার পেনড্রাইভের ড্রাইভ লেটার)


এতে আপনার পেনড্রাইভে bootmgr code আপডেট হবে।

(এতেই তৈরি হয়ে গেল আপনার বুটেবল ইউএসবি/পেন ড্রাইভ)


৬. এখন উইন্ডোজ ইন্সটলেশন ডিভিডির সব ফাইল কপি করুন আপনার পেনড্রাইভে। (সরাসরি কপি করুন কোন ফোল্ডার করে কপি করবেন না)


৭. কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন এবং মনিটর এ লক্ষ রাখুন বুট মেনু এর জন্য কীবোর্ড এর কোন একটি বোতাম চাপতে বলবে অথবা বায়োস থেকে boot priority হিসেবে আপনার ইউএসবি/পেনড্রাইভ সিলেক্ট করুন।


এখন পিসি নিজেই সেটআপ নিবে পরবর্তী ধাপ গুলো আপনার পারার কথা না পারলে উইন্ডোজ সেটআপ ডিস্ক এ লিখা অনুসরন করুন ।


৮. উইন্ডোজ ইন্সটল করুন কোন ঝামেলা ছাড়াই এবং তুলনামুলক কম সময়ে। পদ্ধতি ৯৯.৯৯% কার্যকর

এবং পরীক্ষিত।আমি এভাবেই উইন্ডোজ দিয়ে আসছি সমস্যা হলে পত্রিকার দেয়া ইমেইলে জানাবেন।


"ড্রাইভের শর্টকার্ট আইকন" ভাইরাস সমস্যা দেখা দিচ্ছে ?


সমাধানঃ- 'উইন্ডোজ সেভেন ও উইন্ডোজ এক্সপি' আক্রান্ত পিসিতে অনেক সময় 'ড্রাইভের শর্টকাট আইকন' দেখায়। পেনড্রাইভ, রিমুভেবল ডিস্ক যেমন মেমোরি কার্ড অথবা ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ভাইরাসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে। দফায় দফায় ডিলিট করলেও এটি আবার উড়ে এসে জুড়ে বসে। অনেক সময় লাইসেন্সকৃত বিভিন্ন নামি-দামি অ্যান্টিভাইরাসগুলোও এ শর্টকাট ভাইরাসগুলোকে কম্পিউটারে প্রবেশ ঠেকাতে পারে না। কিন্তু অনেকেই জানেন না এটি আসলে কোনো ভাইরাস নয়, এটি হলো ভিজ্যুয়াল বেসিক স্ক্রিপ্ট।


এটি সংক্ষেপে VBS Script । এ স্ক্রিপ্টের বিড়ম্বনা আর ভীতি থেকে নিস্তার পেতে একটু কৌশল জেনে নিন। আক্রান্ত পেনড্রাইভ থেকে রক্ষা পেতে প্রথমে পিসির RUN--এ যান। এবার এখানে wscript.exe লিখে ENTER বাটনটি চাপুন। এরপর Stop script after specified number of seconds দিয়ে APPLY করুন। এবার কারও পেনড্রাইভে শর্টকাট ভাইরাস আর আপনার কম্পিউটারে ঢুকবে না।


উইন্ডোজ ওপেনের সময় ওয়েলকাম লিখা স্থানে নিজের নাম দেখতে চান ?

শিখুন মজাদার ট্রিক্স !


আমরা যখন আমাদের পিসি ওপেন করি তখন উইন্ডোজ এর ডিফল্ট টেক্সট দেখতে পাই ওয়েলকাম লিখা। আপনি চাইলে এটি পরিবর্তন করে আপনার নাম বা যেকোনো কিছু দিতে পারেন। কি করে পরিবর্তন করবেন আজকে সেটাই নিয়ে আলোচনা করবো।

প্রথমে স্টার্ট মেনু থেকে Run এ জান। এরপর Regedit টাইপ করে এন্টার প্রেস করুন। এবার HKEY_LOCAL_MACHINE > SOFTWARE > Microsoft >Windows NT > CurrentVersion > Winlogon এ ক্লিক করুন। এবার ডান দিক থেকে legal notice caption এ ডাবল ক্লিক করুন। মেসেজ এর Caption যা হবে তা টাইপ করুন। এবার ডান দিক থেকে legal notice text এ ডাবল ক্লিক করুন। আপনি কি মেসেজ দিতে চান তা এর মধ্যে টাইপ করুন।

বাস এখন আপনার পিসি রিস্টার্ট দিন আর দেখুন মজা।


আজ এখানেই রাখলাম। সবাই ভালো থাকবেন। প্রত্যেকের জন্য শুভকামনা রইলো।

(সমাপ্ত)



Nabadibakar_Writer_64অণুগল্প : নিঃশেষ হওয়া একটি জীবন
- আবদুল্লাহ আল মামুন


শান্তশিষ্ট ছেলে আরিফ। কখনো কোন কিছুর প্রতিবাদ করেনা। পিতা-মাতা ও বড় ভাইবোনদের মধ্যে অনেক কে ভয় পায় সে। বড় বোন সাথী একটু একঘেয়ে ও চঞ্চল প্রকৃতির। যা বলেতো তাই করেতো। তাই সামান্য ব্যাপারেই বাবা-মা সাথীকে মার-ধর করতো। যা দেখে আরিফ এক সময় পরিবার থেকে নিঃস্ব অনুভব করতে থাকে। হঠাৎ একদিন সে ভাবলো পরিবার যে খানে থেকে তার বাক্ -স্বাধীনতা নেই সেখান থেকে সে যেনো সব কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিবারের শাসন ও নির্যাতন পরিবেশ তার কাছে এসব কিছু ভালো লাগে না।স্বভাবিক ভাবেই সে সঙ্গলিন্সু হয়ে উঠে। বন্ধুদের সাথে মিশা এবং তাদের সাথে সময় কাটাতেই তার বেশি ভালো লাগে । একদিন বন্ধুরা মিলে তাকে জাম চুরির বায়না ধরল। সে এতে দ্বিমত পোষণ করলো। সে বলল পরের গাছের ফল চুরি করতে যাবো না। বন্ধুরা মিলে তাকে অনেক বুঝায় এতেই প্রকৃতি আনন্দ , এটাই মজা , এ কিসের চুরি ! এক পর্যায়ে রাজি হয় আরিফ।বন্ধুদের সাথে গিয়ে ফল চুরি করে এনে খেতে ভালোই লাগলো তার।এভাবে তার জীবনে ঢুকে পড়ল বন্ধুদের জীবনের আনন্দ আর আড্ডা ও খেলাধুলা। তার জীবনে থেকে মুচে জেতে লাগলো নিঃসঙ্গতা । বন্ধুদের সাথে প্রায় ফল চুরি করতে যেত। একদিন আম চুরি করতে গেল বন্ধুরা পালিয়ে যেত সক্ষম হয় কিন্তু সে ধরা খেয়ে যায়। মালিক তাকে কিছু বলেনি কিন্তু তার মায়ের কাছে বলে দিবে বলে হুমকি দেয়। সে অনেক ভয় পায় কিন্তু বন্ধুরা তাকে অভয় দিয়ে বলে আরে এ কিছুই না এটা অন্যরকম মজারে ভাই। বাড়ী গিয়ে তার মায়ের বকা শুনতে হল। যার কারনে কিছু দিন তাকে বন্ধুদের সাথে দেখা যায় নি । এদিকে উল্লেখ্য যে তার অবিভাবকরা শাষন করতো ঠিক কিন্তু কখনো বন্ধু সুলভ আচারণে তার কাছে থাকেনি , তার কি দরকার , চাহিদা , কোন কিছুতে দৃষ্টি দেয়নি তার কোনটা ভালো কোনটা খারাপ সে কিচায় বা চায়না তা কখনো বুঝতে চায়নি তার কথা কেউ চিন্তাকরতো না সবায় নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিল তারা। যার করনে চলে বলে ৪/৫ দিনের মধ্যে বন্ধুরা তাকে আবার দলে নিয়ে যায়। এভাবে একটা খারাপ দলে ঢুকে পরে সে প্রথমে চুরি , পরে চিন্তায় , ডাকাতি ,মদ,জুয়া ,যাদের পেশা ও নেশা । মজা পাওয়ার উদেশ্যে প্রথমে এক সময় তাস খেলা মদপান করলেও একপার্যায়ে চলে যায় নেশার মাধ্যমে । এখন নেশার ঘোরে মাঝে মাঝে ভবঘুরের মত তাকে এখন রাস্তায় দেখা যায় ।


একদিন তাকে দেখা গেল জেল খানায় সে হত্যা মামলার আসামী হিসেবে আসলে হত্যাটি সে করেনি । তারই এক বন্ধু তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে । এভাবে সুন্দর এখটা জীবন ঢেকে গেল ঘোর আন্ধকারে।

Nabadibakar_Writer_63

 

সবুজ তোমায় আমি ভালোবাসি
- শুক্লা মালাকার সাহা

অবুঝ সবুজ তোমায় আমি ভালোবাসি
ঝুরো চুল, নীল চোখ, হাসিতে জিপসি চাঁদ
ও সবুজ তোমায় আমি ভালোবাসি।

তোমার নরম মন ছুঁয়ে পেরোব স্বর্গ
সেখানে একলা ঝর্না তুমি
বাতাসের মসলিন চাদরে শিশিরের ঘ্রাণ
ও সবুজ তোমায় আমি ভালোবাসি।

দুধর্ষ মরু পেরিয়ে যেতে পারি
কঠিন পাথুরে রাতে ফুটতে পারি আমি ‘পদ্ম’
জমাট তুষার ভেঙে
টুপটাপ খসে যেতে পারি
ও সবুজ তোমায় আমি ভালোবাসি।

তোমায় দেখে আমার বুকে
বাজে হাজার খঞ্জনি
তোমার বুকে হাজার গোলাপ হয়ে
আমি ফুটতে চাই
সবুজ সবুজ তোমায় আমি ভালোবাসি।

Nabadibakar_Writer_56

 

ভালোবাসা ও জীবন
- মোঃ আব্দুল হাফিজ

এত ভালবাসা !
এযে গুরুভার , পারব কী বইতে ?
সখি , এত ভালবেসোনা মোরে
যদি দিয়ে ফাঁকি পালাই বহুদুরে
কোন এক অজানাই নিজেরই অজান্তে
দিয়ে ফাঁকি পালাই যদি
এ কষ্টের ভার পারবে কী সইতে ?
মানুষ হয়ে জন্মালে
ভালোবাসা থাকবেই
ভালোবাসা থাকলে
কষ্টরা সব সামনে ও পেছনে
পেছনে ও সামনে ধাবিত হবেই
জীবন ও যৌবনের মাঝে
প্রতারক স্বপ্নের ছোবল
একদিন নিয়ে যাবেই অজানাতে
নিজেরই অজান্তে ।
চোখের জলে -
ভাসাও যদি মাঠ ঘাট প্রান্তর
খুঁজে পাবেনা কোথাও কোনদিনও
শুধুই স্মৃতিপটে খুঁজে ফিরো
তবু যদি জুড়ায় আর্তনাদে ফেটে পড়া অন্তর ।
প্রকৃতির নিয়ম
জীবন ও মৃত্যুতে অনিয়ম
কেউ আগে আর কেউ বা পরে
হয় তুমি না হয় আমিই
তবু ভালোবাসা থাকবেই
ভালোবাসা !
চীরজীবী সত্য চিরন্তন
মানুষ যাবে হারিয়ে শুধু
হারাবেনা ভালোবাসা
এযে মরেনা -
এর আছে শুধু রূপান্তর ।

বেনাপোল
৩১/০৮/২০১৫

Nabadibakar_Writer_30

 

সুরের কাঙাল
- মনিরা ফেরদৌসি

কোন সুরে গাইব এ গান
নিদ্রাবিহীন রাতে,
কণ্ঠে ভরা থাকবে সে তান
রজনীগন্ধার সাথ্‌
ব্যথাভরা সুর কাঙাল হয়ে
রৌদ্র ছায়ায় হাঁটে,
সাঁজ সকালে গাছের শাখায়
উদাস ঘুরে বেড়ায় ।।

পাখির গানে ভরল আঁকাশ
ঘুরে বেড়ায় ফুলের সুবাস,
সুতোয় বোনা রঙ্গিন চাদর
নি:শ্বাসেরই ছোঁয়ায় ভেসে,
মিতালীর মায়াতে শুকতারা
স্মৃতির নকশা যাবে বুনে,
চারিদিকে সুর শুনে নীল
গগনে ভেসে চলবে দূরে ।।

 

Nabadibakar_Writer_30

 

মনোবাসনা
- মনিরা ফেরদৌসি

অভিমানী কে তুমি
রয়েছো কোন অজানায়
প্রহর যে আর কাটে না
আছি বসে অপেক্ষায়
দুচোখে খুঁজি তোমায়
চাঁদের জোছনায় ।।

কি এক শূন্যতায়
জীবন আমার
ঘুম নেই দুচোখে
বেদনায় ভরা বুক
দুচোখে খুঁজি তোমায়
চাঁদের জোছনায়।।

প্রতিটি ফুলে ফুলে
খুঁজেছি তোমায়
তবুও পাইনি
এক ফোটা মধু
সেই তুমি হারালে
আমায় কেন কাঁদায়ে ।।

Nabadibakar_Writer_64ঠিকনা বিহীন খোলা চিঠি

- আবদুল্লাহ আল মামুন


মাঝে মাঝে নিজেকে নিজের কাছে অদ্ভুত লাগে । নিজের মনকে কখনো বুঝতে পারিনা । তবুও সব সময় শান্তনা দিয়ে যায় ।কখনো কখনো কোন এক অজানা কারনে মনটা খুব খারাপ লাগে । ইচ্ছা করে খুব জোরে কান্না করতে , মনটা খুব চঞ্চল হয়ে যায় । বুকে বালিশ জড়িয়ে কন্না করতে ইচ্ছা করে কারন আজ আমার মা কে খুব মিস করছি । আজ মাকে জড়িয়ে দরে বলতে খুব ইচ্ছে করে মা আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি । তুমি কোথায় হারিয়ে গেলে মা? তোমার হাত ধরে হাঁটতে খুব ইচ্ছে করে । এখন আমি কান্না করলেও কেউ আমাকে চোখের জল মুছে দিয়ে আমাকে বুকে টেনে নেয় না । মাথার হাত বুলিয়ে দেয় না । মাথার হাত বুলিয়ে চোখের  জল মুছে কেউ বলে না বাবা কেঁদোনা তুমি না আমার লক্ষ্মী ছেলে ,লক্ষ্মীছেলেরা কি কখনো কাঁন্না করে ?  তুমি আমাকে বলতে মা ,তুমি কান্না করলে আমি রাগ করবো তাহলে কিন্তু রাতে আর গুমানোর আগে গল্প শুনাবো না  । মা বলতো একচিল এক রাজকুমারী তার ছিল খুব লাম্বা চুল সে খুব মৃষ্টি করে গান করতো মৃষ্টি করে কথা বলে । আমি বলতাম তার পরে কি মা বলতো বলবো না আগে কান্না বন্ধ কর ঠিক আছে মা আমি আর কান্না করবো না । তার পরে মা হেঁসে আবার সে গল্প বলা শুরু করতো এখন আর আমাকে কেউ রাত হলে গল্প শুনায় না মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়ায়না । সকালে খুব ভোরে উঠার জন্য ঢাকে না এখন তোমার ওই ছেলে নিজে নিজে সব সামলাতে হয়। এখনও মাঝে মাঝে রাতে আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো আর আকাশের গর্জনে ঘুম ভাঙলে তোমাকে জড়িয়ে দরে নিশ্চিত মনে ঘুমাতে পারি না । অনেক সময় ভয়ে কোল বালিশটাকে খুব জোরে জড়িয়ে দরে কাঁথা দিয়ে মুখ ঠেকে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করি । এখনো ভাত খাবার সময় তোমার হতে খাওয়া সে ভাতের কথা একনো খুব মনে পড়ে আমি খেতে ছাইতাম না তুমি আমাকে গল্প শুনাবে বলে ভাত খাবাতে । আজ তোমার ছেলে অনেক বড় হয়েছে নিজের টা নিজে করতে শিখেছে । এখন আর তোমার ছেলে  আগের মত কান্না করে না । কিন্তু তোমার কথা মনে পড়লে চোখের জলগুলি অব্যাধ হয়ে জরে পড়ে । বাবা কে বলিনা মাকে খুব মিস করচি আজ কারন আমি কান্না করলে বাবা খুব কষ্ট পাবে । মা তোমার মনে আছে আমার ছোট বেলায় তুমি চাঁদ দেখিয়ে বলতে একে ডাক দাও এ তোমার মামা তখন আমি হাত বাড়াতাম কিন্তু কিছু পেতাম না। মা তোমার ছেলেটা আজ খুব বড় হয়েছে খুব দুষ্টামি করতে শিখেছে তোমার এ দুষ্ট ছেলেটাকে খুব করে বকে দিওতো মা । আজ তুমি কোথায় মা ? মা কোথায় তুমি তোমাকে যে আজও  খুব দেখতে ইচ্ছে করে তুমি আসনা একবারের জন্য মা মা মা , ইতি তোমার দুষ্ট ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন

Nabadibakar_Writer_02_(Runu Siddique)নতুন পৃথিবী

- রুনু সিদ্দিক


ঘুমহীন চোখে এপাশ ওপাশ করছি । রাজ্যের এলোমেলো ভাবনা এসে ভর করছে মগজে । নিদ্রাদেবী যেন ছুটি নিয়েছে আমার দু’চোখ থেকে । চারিদিকে সুনসান নিরবতা । সবাই ঘুমের দেশের বাসিন্দা। একাকী ভাবনারা পাখা মেলে দিয়েছে রাতের কালচে ধূসর আকাশে। যেন তারা হয়ে অবলোকন করতে চাইছে পৃথিবীর রাতের সৌন্দর্য্য। দূরে সারি সারি দালানের ফাঁক ফোকরে যতটুকু আকাশ দেখা যায়-তাতে ঝিকমিক করছে তারকা-রাজি। ইচ্ছে করছে তারাগুলো সব কুড়িয়ে এনে মালা গেথে গলায় পরে থাকি। কেমন হয় যদি নিশাচর পাখি হয়ে ঘুরে বেড়াই রাতের অলি-গুলি? শহরের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং এর ছাদে বসে ছোট হয়ে যাওয়া পৃথিবী দেখি? এমন সময় মৃদু গুঞ্জন কানে এলো। একি! যে উঁচু ছাদে বসে থাকার কথা ভাবছি তারই ছাদে-হেলিকপ্টার এর মত, কিন্তু হেলিকপ্টার না। দেখতে অনেকটা তিমি মাছের আদলে একটা আকাশযান এসে নামলো। এটা হঠাৎ ভোজবাজির মত কোথা থেকে উদয় হল? ভাবছি। ভাবনায় ছেদ পড়লো যখন দেখলাম-তিমি মাছের পেট থেকে ছোট-ছোট কিছু মানুষ বেরিয়ে আসছে। দেখতে মানুষের মত হলে কি হবে-মনে হচ্ছে রক্ত মাংসের নয় যেন ইস্পাতের তৈরী।  একে অপরের সাথে কথা বলছে মেশিনের  মতো গুঞ্জস তুলে। তারা তিমির পেট থেকে কিছু যন্ত্রপাতিও নামালো এবং সেগুলো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। পলকহীন চোখে তাকিয়ে তাদের কাজকর্ম দেখছি। এভাবে কতক্ষণ সময় পেরুলো হিসেব নেই। এক সময় যন্ত্রপাতি নিয়ে সবাই আবার তিমির পেটে ঢুকলো। তিমিটা তার পাখার গুঞ্জন তুলে আকাশের দিকে ছুটলো। তারপর ভোজবাজীর মত হাওয়া হয়ে গেল। এসব কি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখলাম? নাকি জেগে জেগে! মৃদু একটা শব্দে ভাবনায় ছেদ পড়লো। তারপর ঝাকুনি-তীব্র ঝাকুনি! চারিদিকে চিল চিৎকার। শুধু মনে হল অতলে তলিয়ে যাচ্ছি। তারপর জ্ঞান হারালাম। যখন চেতনা ফিরে এলো নিজেকে আবিস্কার করলাম ধবধবে একটা সাদা বিছানায়। চোখ মেলে বোঝার চেস্টা করছি-কোথায় আছি। বদ্ধ একটা রুম। রুমে আর কিছু নেই শুধু এই বিছানা ছাড়া। বিছানাসহ পুরো রুমটা অসম্ভব সাদা। কোন দরজা-জানালা চোখে পড়ছে না। এখানে কী করে এলাম? আগে কোথায় ছিলাম? আমার সাথে কেউ নেই কেন? কিছু বুঝতে পারছিনা। এতটুকু বুঝতে পারলাম ঘরটা ভয়ানক শীতল।


পরিশিষ্ট


একদল মহাকাশ বিজ্ঞানী তাদের হাজার হাজার বছরের গবেষণার ফসল দিয়ে নতুন এক পৃথিবী গড়তে চলেছে। তাদের ধ্বংসাত্বক কার্বন ডাই-অক্সাইড দিয়ে পৃথিবীর মহামূল্যবান অক্সিজেন বিনস্ট করে দিয়েছে। ফলে কিছু সময়ের মধ্যে পৃথিবীর সব প্রাণী মারা গেল। আর সেটা করার আগে পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানীরা তিন মাসের এক অন্তসত্বা নারীকে তুলে নিয়ে যায় মহাকাশ “স্টেশন” এ।


পাগল বিজ্ঞানীগুলি অপেক্ষা করছে। মহাকাশ স্টেশনে এই প্রথম মানবশিশু জন্ম নেবে। আর সেই মানব শিশু নিয়ে তারা গড়ে তুলবে নতুন পৃথিবী। কিন্তু তারা কি জানে? শিশুটি ছেলে না মেয়ে হবে? জানেনা!! কারণ - অন্তঃসত্বা নারীটির গর্ভে বড় হচ্ছিল একটি টিউমার। যা কি না পরবর্তীতে জীবন কেড়ে নেয়া ক্যান্সারের রূপ ধারণ করবে।

Nabadibakar_Writer_40

 

স্বপ্ন
- মেহেদী হাসান আকাশ

তোমাকে দেখার পরেই
শুরু হলো আমার
স্বপ্ন বোনার পালা
কখনো অথই সাগরে
কখনো জোয়ারের পানিতে
ভেলা ভাসানোর খেলা ৷
আসলেই তুমি অপরূপ সুন্দর
জোৎসার চাঁদ নেমে এসেছে
তোমার মুখটি জুড়ে
বাহারি রঙ্গের স্বপ্ন দেখছি
তোমারেই কথা ভেবে ৷
শিরোনাম হিন তোমাকে আমি
বেসেছি অনেক ভালো
স্বপ্ন গুলো হাতছানি দেয়
নতুন দিনের আলো ৷
তোমায় নিয়ে স্বপ্ন গুলো
চোখে ভাসে আমার
সারারাত সারাবেলা ৷
সব সময়ে ভয়ে থাকি
কখনো যদি হয়ে যায়
সেই স্বপ্ন গুলোর
কঠিন সকাল বেলা ৷

Nabadibakar_Writer_24_

 

অন্ধ মানবতা
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

আমি দেখেছি মেঘের তীব্রগর্জনে
আলোকিতো বেলার,
শোচনীয় পরাজয়ের আধার,
দেখেছি শিশু কিশোরের উপর
পৈশাচিক নির্যাতন,শুনেছি তাদের      আত্বচিৎকার!

যুগে যুগে পরিবর্তিত সমাজ,
পরিবর্তিত মানবতা,
আজ শুধুই মুখথুবরে পরে আছে
মহান মানবতার, নীতি সাহিত্য কথা!
কোন অন্যায়, অশান্ত হত্যাকান্ড
দেখা যাই যত্রতত্র নেতা প্রতিবাতি,
প্রতিবাদি শ্লোগান,
নিজেকে উপস্থাপনের সুজোগ,
নিজ ভাবমূর্তি প্রচারনার অভিযান।

Nabadibakar_Writer_40

 

ঘনঘটা
- মেহেদী হাসান আকাশ

আকাশে কালো মেঘ জমে আসছে
একটু পরেই ঝড় শুরু হবে
বাহিরে শন শন বাতাস বইছে
কিছুটা বৃষ্টিও হচ্ছে
মনের আকাশে খুশির ছোয়া
কেন জানিনা মনে হচ্ছে
আজ সারাদিনটা ভালো যাবে
তবুও মুখে হাসি নেই আমার
প্রতিদিন ক্লান্ত হয়ে এসে
সাদটাতে বসে চা খাই
আজ তা আর হবেনা ভেবেই
প্রচন্ড খারাপ লাগতেছে
তাইতো মনে আকাশে খুশি থাকলেও
মুখে আমার কালো মেঘের ঘনঘটা ৷

 

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ১১ ( উপকারী ফল বেল )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


এই ঋতুর ফলগুলোর মধ্যে বেল অন্যতম। পাইলস, অ্যানাল ফিস্টুলা, হেমোরয়েড (এসব মলদ্বারের রোগ) রয়েছে, এমন রোগীদের জন্য বেল উপকারী ফল। এই বেল বলতে কতবেল নয়, বড় সাইজের বেলকে বোঝানো হয়েছে।
ভিটামিন ‘সি’ এবং ‘এ’-র পর্যাপ্ত পরিমাণ রয়েছে এই ফলে। বেলের ভিটামিন ‘সি’ দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে শক্তিশালী; বসন্ত ও গ্রীষ্মকালীন ছোঁয়াচে রোগগুলোর বিরুদ্ধে করে যুদ্ধ। বেলের বীজগুলো পিচ্ছিল ধরনের। এমন হওয়ার জন্য এই ফল পাকস্থলীতে (আমাদের শরীরের যেখানে খাবার জমা থাকে) উপকারী পরিবেশ তৈরি করে, খাবার সঠিকভাবে হজম হয়, পরিণামে দূর হয় কোষ্ঠকাঠিন্য।
দীর্ঘ বছরের কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে ক্ষতিকর নানা রকম অসুখ তৈরি হয়। বেল নিয়মিত খেলে এ সমস্যা দূর হয়। এই ফলে ন্যাচারাল ফাইবার বা আঁশের পরিমাণও অনেক বেশি। আঁশযুক্ত শাকসবজি বা ফল হজমশক্তি বাড়িয়ে, গ্যাস-এসিডিটির পরিমাণ কমায়, দূর করে কোষ্ঠকাঠিন্য। ফলে হজমে সমস্যা দূর হয়। ত্বকের ব্রণ ভালো করে বেল। তবে শুধু বেল খেলে চলবে না, ব্রণ ভালো হওয়ার জন্য খেতে হবে প্রচুর পানি, পুষ্টিকর খাবার, সেই সঙ্গে প্রয়োজন ত্বকের পরিচর্যা।
বেলের ভিটামিন ‘এ’ চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে পুষ্টি জোগায়। যারা নিয়মিত বেল খায়, তাদের কোলন ক্যানসার (চোখের অসুখ নয়), গ্লুকোমা, জেরোসিস, জেরোপথ্যালমিয়া (এগুলো চোখের অসুখ) হওয়ার প্রবণতা থাকে তুলনামূলকভাবে কম।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ১০ ( কমলালেবুর কথা )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


কখনো বা মেঘ-বৃষ্টির পালা। এভাবে গরম-ঠান্ডাতে অনেকের জ্বর হচ্ছে, ঘাম জমে হচ্ছে কাশি, টনসিলে ইনফেকশন, গলা ব্যথা। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কমলালেবু হতে পারে উপকারী বন্ধু। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’। যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য ভিটামিন ‘সি’ প্রতিদিন প্রয়োজন হয়। এই ভিটামিন পানিতে দ্রবণীয়। দেহে জমা হয়ে থাকে না। তাই এর প্রয়োজন মেটাতে প্রতিদিন ভিটামিন ‘সি’জাতীয় খাবার বা ফল খাওয়া উচিত। ভিটামিন ‘সি’ ইনফেকশনজনিত সমস্যা, ঘা, ভাইরাস জ্বর, মাম্পস (একধরনের অসুখ), জলবসন্ত, ত্বকের কাটা-ছেঁড়ার বিরুদ্ধে অবদান রাখে। ত্বক, চুল, নখকে করে উজ্জ্বল ও রোগমুক্ত। লেবুর রস চিনির সঙ্গে খাওয়াতে পারেন। এতে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। যাদের ক্রনিক টনসিলাইটিস হয় বেশি অর্থাৎ যাদের বারবার ও খুব দ্রুত টনসিল ফুলে যায়, ব্যথা হয় তাদের জন্য জরুরি পথ্য কমলালেবু। হূদেরাগের রোগী, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিসের রোগীরাও খেতে পারবেন এই ফল। তবে হালকা টক হওয়াই ভালো। বেশি মিষ্টি হলে পরিহার করুন।
গর্ভাবস্থা থেকে মাতৃদুগ্ধ দান পর্যন্ত এই ফল ভীষণ উপকারী। তবে গর্ভাবস্থায় যেসব মায়ের গ্যাসট্রিকের সমস্যা হয় বেশি তারা নিজেদের হজমক্ষমতা বুঝে পরিহার করুন। কিন্তু দেহে (মা ও শিশু) ভিটামিন ‘সি’র ঘাটতি পূরণের জন্য বাতাবি লেবু, পাকা কলা, মিষ্টিকুমড়া ও সব রকম হলুদ রঙের সবজি খাবেন। কমলালেবুতে আরও রয়েছে দেহের জন্য জরুরি ভিটামিন ও পুষ্টি। সব বয়সের জন্য এ ফল উপযোগী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তাই কমলালেবু যাঁরা কিনতে পারবেন না তাঁরা ভাতের সঙ্গে খান এক টুকরা কাগজি লেবু। এই লেবুও যথেষ্ট পুষ্টিকর।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ০৯ ( গরমে পুদিনা পাতা )

- ডাঃ ফারহানা মোবিন

চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,

স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


চারদিকে প্রচণ্ড গরম আর খরতাপ। ক্লান্তিতে মানুষ হারাচ্ছে কাজ করার শক্তি। এই ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করবে পুদিনাপাতা। ইংরেজিতে যার নাম মিন্ট। সালাদের বাটিতে এটি ভীষণ পরিচিত নাম। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘এ’ দ্বারা পরিপূর্ণ পুদিনাপাতা। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এমন একটি উপকরণ, যা অতিরিক্ত গরমে ত্বকের যে ক্ষতি হয় তা দূর করে, গরমের ঘাম জমে যে ঠান্ডা লেগে যায় তা প্রতিরোধ করে, বয়সের ভারে বৃদ্ধ হওয়া ত্বক, চুলকে করে তরুণ।

অতিরিক্ত গরমে ছোট-বড় প্রায় সবারই খাবারে বদহজম বা ফুড পয়জনিংয়ের সমস্যা দেখা যায়। এই পাতা পেটের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমিয়ে খাবার হজমে সাহায্য করে। বাতাস, নোংরা খাবার, নোংরা পরিবেশের মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটে কৃমির। কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে পুদিনাপাতা। অতিরিক্ত জ্বর, বড় কোনো অপারেশন, ডায়রিয়া, দীর্ঘদিন ধরে বমির পর বেশির ভাগ রোগীর মুখের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। পুদিনাপাতা এ ক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনবে মুখের স্বাদ। পিষে, ধনেপাতার মতো তরকারিতে ছিটিয়ে বা কাঁচা সালাদের সঙ্গে খাওয়া যায়। মাছ, মাংস বা সবজির খাবারে এই পাতা আনে বাড়তি স্বাদ এবং দেহের জন্য প্রয়োজনীয় লবণগুলোকে সরবরাহ করে রক্তের মধ্যে। দেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবগুলো ধ্বংস করে। পুদিনাপাতা রান্নার চেয়ে কাঁচা খাওয়াটাই উত্তম। এতে পুষ্টিগুণ বজায় থাকে বেশি। সর্দি, হাঁচি, কাশি দূর করতেও এই পাতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পুদিনাপাতা, তুলসী পাতা, কাঁচা আদা, মধু মিশিয়ে খেলে ঠান্ডা লাগা দ্রুত ভালো হবে।

Nabadibakar_Writer_54মুক্ত গদ্য : শূণ্যতা
- মোঃ জাহিদুল ইসলাম


মানব মনের সাতরঙা অনুভূতিগুলো অতি রহস্যময়তার আঁচলে ঢেকে রাখা । মানুষের ভালো লাগা, ভালো বাসা, পছন্দনীয় প্রত্যেকটা জিনিষই প্রাকৃতিক নিয়ম ধারার সাথে প্রতিনিয়তই আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকে। স্বল্পময়ী এ পৃথিবীর কিছু কিছু মানুষ এই রহস্যময় অনুভূতির মায়াজালে অনায়াসেই আটকে যায়, হাজার চেষ্টা করেও ডার্ক-ম্যাজিকে আবদ্ধ এ বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। ঘোর রহস্যময় এই জগতসংসারে কখনো কেউ তরুণ কেউবা হাড্ডিসার বৃদ্ধ। কয়েকদিন আগে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশু সময়ের সাথে সাথে কৈশোরত্তীর্ণ হয় এরপর জীবনের একটা নির্দিষ্ট ধাপে পৌঁছে যায়। একটা সময় আসে যখন সিঁড়িঘরের কাঠের ধাপগুলো গুণোপোঁকা নষ্ট করে দেয় তখনও জীবনের অর্থ উপলব্ধি করা হয়ে উঠেনা। কয়েক যুগ ধরেও যখন পিচ্ছিল জীবনের মন থেকে অনুভূতির পাদুর্ভাব যায়না, তখন নিজের ভিতর চাঁপা আবেগ গুলো খুব বেশি পরিমাণে উপচিয়ে পড়তে চায়। মাঝে মাঝে আকাশ কুসুম ভাবতে ইচ্ছে করে । সময়কে নিজের চিন্তাধারার সাথে আবর্তিত করার ইচ্ছে জাগে। অসম্ভব কে সম্ভবপর ভেবে একধরনের রহস্যময় অসম্পূর্ণ ভালো লাগা বোধ অনুভব করতে মন চায়, আবার পরক্ষনে খুব খারাপ লাগে কারণ তা অসম্পূর্ণ ও অবাস্তব। এই সব ভাবনা গুলো এত বেশী আবেগ তাড়িত যা সব নিয়মনীতির ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়। নিজের ভিতর অদ্ভুত এক অদৃশ্য সুখ অনুভব করার বাসনা জাগে। তবে এর ব্যাপ্তি খুবই ক্ষণস্থায়ী হয়। যখন এই ঘোর কেটে যায় তখন বোধোদয় হয়, সব কিছুই অর্থহীন, অযৌক্তিক ও অযাচিত । কিন্তু এতসব কিছুর পরেও নিজের ভিতর শূন্যতাগুলো বারবার ডেকে আনে ঐসব রহস্যঘন অনুভূতি গুলোকে, মনের অন্তঃশূন্যতা দূর করতে। জীবনের এই শেষ ধাপগুলোতে নিজের ভিতর প্রচণ্ড পরিমাণে হাহাকার সৃষ্টি হয়। নিজের অজান্তেই নিজেই হয়ত কিছুর সংস্পর্শের অভাববোদ করার কথা মনে হতে থাকে। মনের মাঝে অনায়াসেই শূণ্যতার একটা বড় জায়গা তৈরী হয়ে যায়। ক্ষুদ্রতর এই পৃথিবীর মাঝে নিজেকে বিন্দুর মত খুব একা মনে হয়। আবেগগুলো ক্রমশই মনের মাঝে নুয়ে পড়তে থাকে, ঠিক যেমনটি লম্বা তালগাছ বয়সকালে উঁবু হয়ে ভেঙ্গে পড়ে। জীবনের শেষ অনুভূতিগুলো একসময় খুব স্বার্থপর হয়ে পড়ে। একসময় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার চিন্তাগুলো হঠাৎই মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। নিজের আশা, আকাঙ্খা প্রভৃতিগুলোর প্রতি এক ধরনের তীব্র ঘৃণা কাজ করতে থাকে । কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত মনের অনুভূতি ক্রমশই দিক্বিদিক ছুটে যায় কোন এক অজানা অনুভূতির খোঁজে, রহস্যময়তার খোঁজে। রহস্যময় অনুভূতিটা এমন, যা আগে কখনো অনুভব করা হয় নি-একেবারেই অচেনা। নিজের অনুভূতিগুলোকে সামলানো তখন বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে নিয়ন্ত্রণ হারানোর অবস্থা হয়ে পড়ে। অনুভূতি নামক শূণ্যতা তখনও পিছু ছাড়েনা। নিজের ভিতর সব উলট পালট করে দেয়, দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। এক ধরনের চাপা কষ্ট কাজ করে। অদ্ভুত অদৃশ্য এক যন্ত্রণা, নশ্বর জীবনকে ক্ষণে ক্ষণে গ্রাস করতে থাকে। নিজের ভিতর ক্ষণে ক্ষণে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। নিজের সত্ত্বাকে সবার থেকে আড়াল করে নেওয়ার দূর্বোধ্য চেষ্টা চালাতে হয়। কখনো আবার ক্রমশই নিশ্চুপ ভাবে এই ধকল সহ্য করে নিতে হয়। কাউকে বলে বোঝানো যায় না সে অসহ্যকর অনুভূতির কথা। তখন আপন মনে ভেবে নিতে হয় পৃথিবীতে হয়ত অনেক কিছুই অমীমাংসিত থেকে যায়। সব সত্ত্বাধিকারীর মাঝেই কিছু শূণ্যতা সবসময়ই বেঁচে থাকে। তাই যদি হয়ে থাকে তাহলে বারবার প্রশ্নাকুল মন কিছু প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ে, তাহলে নিজেকে কষ্ট দেওয়ার কোন মানে কি? এই সব অমীমাংসিত বিষয়ে নিজেকে জড়িয়ে শুধুমাত্র আত্ম বিলীন করার উপক্রম। জীবনের অনুভূতির মানেটাই একসময় কিছু মানবগোষ্ঠী হারিয়ে ফেলে। প্রতিকূল এই মহাবিশ্বের পারিপার্শ্বিক অবস্থা আবার কিছু মানবগোষ্ঠীকে করেছে লোভী, স্বার্থপর ও জৈবিকপ্রণালির। মাঝে মাঝে নিজেই এই সব দ্বারা প্রভাবিত হতে খুব বেশি ইচ্ছে হয়। শেষ পর্যন্ত নিজেকে মুক্ত রাখার প্রাণ-পণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। এখন পর্যন্ত নিজের নিয়ন্ত্রণ রেখেছি। কিন্তু এই ভাবে আর কত দিন অসম্পূর্ণ অনুভূতি গুলো সামলানো যাবে ? নিজেকে যতই বুঝানো হয় কিছু বিষয় বোঝা নিতান্তপক্ষে অসম্ভব, অবাস্তব কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত মন কোন বাঁধাই মানেনা। ছুটে চলে সে তার শূণ্য অনুভূতি সম্পূর্ণ করার চেষ্টায়। যিনি রহস্য এর সৃষ্টিকারী তিনিই একমাত্র সমাধানকারী। জীবনের শেষ ধাপগুলো শূণ্য অনুভূতিগুলোকে আর পূর্ণ করা হয়ে উঠেনা। জীবনটা এখন কচ্ছপের ন্যায় ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। এই সময় শুধু রহস্য সৃষ্টিকারীর কাছে নিজেকে সংবরণ করার শক্তি চাওয়া ছাড়া আর দ্বিতীয় কিছুর ইচ্ছা জাগ্রত হয়ে উঠেনা। বারবার অনুভূতিশূন্য মন একখানি বস্তুশূণ্য রহস্যের কাছে ডাকে। যে রহস্যময় শূণ্য অনুভূতি দিক্বিদিক ছুটচ্ছে তা থেকে চিরতরে মুক্তি চাওয়ার প্রেরণা, এইসব ভাবনাগুলি যদিও মিছেমিছি কিন্তু বাস্তব জীবনে খুব খারাপ ভাবে প্রভাব ফেলে। তাই মানবমন স্বাভাবিক ও বাস্তব জগতে প্রাণ খুলে হাসি মুখে পার পেতে চায় সব কিছু। কিন্তু, অনুভূতি জানেনা আদৌ হবে কি না। এসব অনুভূতি গুলো থেকে যত টুকু বায়বীয় সুখ পায় ঠিক তারচেয়েও শতগুণ বেশী কষ্ট পাওয়া যায়। এই শূণ্য অনুভূতিগুলোই মানবমনের বেঁচে থাকার একমাত্র আশা। মানবমন জগতসংসারে শূণ্য অনুভূতিগুলোর সুখ খুঁজতে খুঁজতে পার করে দেয় জীবনপথের সুদীর্ঘ সময়। আবার কিছু কিছু মানবমন সারাটা জীবন সফলতার অনুভূতি খুঁজতে খুঁজতে বিশাল এক শূণ্যতা নিয়েই পৃথিবী নামক স্বার্থপরতার মেলবন্ধন থেকে বিতাড়িত হয়ে মহাকালের অনন্ত গভীরে হারিয়ে যায় । মৃত্যু নামক বস্তু তখন মানবমনকে সমানে ধিক্কার দিতে থাকে তার অতৃপ্ত অনুভূতির শূণ্যতায়। সত্যিই অদ্ভুত মানবমন, শূণ্যতাময় যার অনুভূতি।


(সমাপ্ত)

Nabadibakar_Writer_46

 

শক্তির উৎস
- বিভূতি চক্রবর্তী

অতুল শক্তির আধার হিসাবে যতই ভাবি-
প্রকৃতির কাছে এসে চিরদিন সবাই জব্দ,
শক্তির উৎস দেখে টিকে নাই কোন দাবী
ভীরু মন কিছুই বুঝে না,নেই সাড়া-শব্দ।
জীবন চলে ঢেউ এর মতো আপন ছন্দে
তাকায় না পিছে, নাচতে নাচতেই চলে,
ভেসে চলে জীবনের সুর মনের আনন্দে
অবাক দৃষ্টিতে হেরি' খুশীর কৌতূহলে।

আগরতলা, ১২/০৯/২০১৫ ইং

Nabadibakar_Writer_54

ছোট্ট আরিয়ানের আজ ভীষণ মন খারাপ। সকাল সকাল তাকে আজ ঘুম থেকে  উঠতে হয়েছে। ফজরের নামায আদায় করে পড়ার টেবিলে পড়তে বসেছে। কিন্তু, সমস্যা বাধাঁলো!  সকাল থেকে সে তার স্কুলের কোন হোমওয়ার্কই ঠিকমত করতে পারছেনা।

নোটখাতায় একটা পেন্সিলের লেখাও থাকছেনা। যতবারই লিখছে, লেখাগুলো কাগজের উপর থেকে প্রজাপতির মতো উড়ে উড়ে জানালা দিয়ে দূরের ছাতিম গাছে মিলিয়ে যাচ্ছে। এটা আবার কেমন ব্যাপার! কাগজের লেখাও কি আবার উড়তে জানে নাকি? বাসার সবাই আরিয়ানের কথা শুনে থ!

একদিন ক্লাসে আরিয়ান বন্ধুদের মাঝে বোকা বনে গিয়েছিল। তার বন্ধু শুভ এসে বলল- "চারটে চার দিয়ে ষাট তৈরী করতে পারবে ?" আরিয়ান, শুভর কথা শুনে খুব অবাক হয়ে গিয়েছিল। সত্যি সত্যি কি চারটে চার দিয়ে ষাট তৈরী করা সম্ভব! না, এ হতেই পারেনা। সেই ধাঁধার ঘোর কাটতে না কাটতেই আজ আবার এ কী নতুন ঝামেলা হতে শুরু করল!

সকাল দশটা। সূর্য্যিমামা তার তেজীয়ান দীপ্তিময় আলো ছড়িয়ে পুরো পৃথিবীর বুকে নিজের আধিপত্যের জানান দিচ্ছে। আরিয়ানের হোমওয়ার্ক আর করা হলো না। সারা সকাল এমনি এমনিই চলে গেল। সকাল সাড়ে দশটায় তার টিচার এলো। এটা কি ঘটছে আসলে। লেখাগুলো আসলে যাচ্ছে কোথায়! শুরু হলো লেখা খোঁজার অভিযান। যে পেন্সিল দিয়ে লেখা হচ্ছিল সেটা ভাল আছে কিনা। পেন্সিলের নিভে কোন সমস্যা আছে কিনা।খাতার পাতাগুলো কি ভেজা ছিল, যে কারণে মিলিয়ে যাচ্ছে। নাকি খাতার উপর কেউ কোন কিছু ঢেলেছে, দিনদুপুরে এমন ভূতুড়ে কান্ড। নাকি তাদের পোষা সাদা-কালো হুলো বিড়ালটা কিছু করেছে? না, হুলোও তো তার পাশেই বসা, এক ধ্যানে আরিয়ানের লেখালেখি দেখছিল। একটু পর পর মেঝেতে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ছিলো। বাসার ছোট-বড় সবাই এখন কাজ ফেলে আরিয়ানের পড়ার রুমে। চারপাশেও ততক্ষণে খবর ছড়িয়ে পড়লো। বন্ধুরাও এসে হাজির। বৃষ্টি, সহী, মিশু, জাহিদ, চিকু এরা সবাই এসে তোলপাড়- কি হলো? কি হলো? কি হলো? কি হলো!  এই সাত সকালে তোমার খাতায় ভূত এলো কি করে? ভূতটা দেখি লেখাপড়া জানে। ওমা, কি দারুন ভূত রে বাবা! দেখি দেখি কি লেখা ছিল তোমার খাতায়? দুপুর অবধি অনেক খোঁজাখুজি হলো। নিখাদ গরুখোঁজা।

সব বন্ধুরা এসে তাদের ক্ষুদে গোয়েন্দাগিরি দেখালেও খাতার লেখা আর ফিরে পাওয়া গেলনা। তবে-আরিয়ানের মন ভারী খুশি বন্ধুদের কাছে পেয়ে। বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে পেরে। মনে মনে সৃষ্টিকর্তার কাছে এ নিয়ে শোকর গুজার করে, আরিয়ান। বন্ধুরা এসে আবার একটা নতুন সমস্যারও সৃষ্টি করলো। একটু পর পর থেকে থেকে বলতে থাকলো- এটা ম্যাজিক নয়তো কি আরিয়ান? তুমি তো ম্যাজিক বিশ্বাস করোনা হয়তো এটা ম্যাজিকেরই কাজ। ম্যাজিক মানে তো জাদু। জাদুবিদ্যা মানে ঠকবাজি। সৃষ্টিকর্তা তো বলেই দিয়েছেন মানুষের সাথে ঠকবাজি করতে না।

সপ্তাহ তিনেক আগে আরিয়ানদের স্কুলে মিঃ ফক্স নামে একজন যাদুকর যাদু দেখিয়েছিলেন। রংচটা জামা-কাপড় আর নাকে-মুখে পাওডার মাখানো।  তার মন্ত্রের যাদু কী এখনও লেগে আছে নাকি, কিছুই বুঝা গেলনা। ছুঃ ছুঃ ছুঃ মন্তর ছুঃ…

অবশ্য এই ভদ্রলোক অনেক ভালো ছিলেন। সাদা কাগজ কুড়িয়ে এনে সবাইকে একটা করে ছবির বই বানিয়ে দিয়েছিলেন। নাহ, নেহাৎ ভদ্রলোক ছিলেন তিনি।  তিনি যাদুবিদ্যা জানলেও সেটা করতেই পারেন না। তাহলে আমার লেখা বর্ণমালা উড়লো কেমন করে? আরিয়ানের মন কিছুতেই মানতে চায়না। এখন দরকার ছিল সেই আলাদিনের যাদুর চেরাগ চেরাগ ঘষা দিলেই জ্বিন এসে বলতো- “আদেশ করুন আরিয়ান মালিক, কি করতে পারি আপনার জন্য”

আর আরিয়ান আদেশের সুরে বলতো- ‘যাও, এক্ষুণি আমার হারিয়ে যাওয়া লেখা গুলোকে নিয়ে এসো।” বন্ধুরা সবাই সবার কাজে চলে গেছে। আরিয়ান শুধু বসে আছে একা একা। মনটা আবারও খারাপ হতে লাগলো। তার নানা ভাইয়ের কথা মনে পড়লো। নানাভাই কাছে থাকলে একটা বুদ্ধি পাওয়া যেতই। নানাভাই যতগুলো গল্প জানে, আর কেউ জানেনা। গতবছর নানুবাড়ি গিয়ে আরিয়ান পুকুরে বড়শি ফেলে এক ডজন পুঁটি ধরেছিল, ছুঁ বলে বড়শি ফেলতেন আর ছিপকাটি তলিয়ে যায়। কি মজা- বড়শি টানলেই পুঁটি ঝুলে আছে। এই ভয়ানক সংকটে সে নানাভাইকে খুব মিস করছে। নানাভাই তো আসলে দারুন মজার মানুষ। ঝিলে নৌকো দিয়ে শাপলা তোলার সময় নানাভাই এক দারুন গল্প বলেছিলেন- ডালিম কুমারের গল্প। কিন্তু ডালিম কুমার আর এটাতো এক না। কি করা যায়? কি করা যায়? কিছু একটা তো অবশ্যই ভেবে ফেলতে হবে।

নানাভাই এসেছিল কিছুদিন আগে আরিয়ানদের বাসায় গল্পের ডালি নিয়ে। একটা নতুন ভূতের ছড়া শিখে লিখছিল খাতায়। ছড়াটাতে বলা হয়েছিল- ভূতেরা সব সময় ঝগড়া করে, পড়াশোনা করে না। ছড়াটা পড়ে ভূতদের নাকি খুব রাগ হয়েছিল ।ভূতেরা কি শুধুই ঝগড়া করে? ভূতেরা গল্প করে, খেলাধুলা করে। তাই- খাতার সব লেখা উঠিয়ে নিয়েছিল। সেই লেখাগুলো ভূতের ছেলেমেয়েরা শিখেও ফেলেছে। ভুতেরা এসেছিল লুটোপুটি খেতে খেতে। আরিয়ানদের জানালার পাশে ছাতিম গাছজুড়ে ওদের বাসা। এই ভূতেরা চার বন্ধু। ইতলে ভূত, চিতলে ভূত, বিতলে ভূত আর- মামদো ভূত।

ভূতেরা ‘স্যরি’ বলেছে। আর এমনটি হবেনা। তবে- তাদের যেন আর না বকে। আরিয়ান নানাভাইয়ের ছড়াটি তাদের ভালো লেগেছে,

কিন্তু আরেকটি নতুন ছড়া লিখতে হবে-

“ইতলে ভূত,চিতলে ভূত, বিতলে ভূত মামদো ভূত তিনে, স্কুলে যাবে ঠিক করলো বৃহঃ বারের দিনে। অর্ধেকদিন লেখাপড়া করবে”

তাহলে তারা খুশি। ওরাও নাকি স্কুলে যেতে চায়। ভূতের জন্য কি কোন ইশকুল আছে?

হুম, ভূতেরা তাহলে সত্যি সত্যি ইশকুলে যাবে! যাক, ভূতগুলো যদি মানুষ হয় তাহলে ক্ষতি কী! এবার তাহলে শুনি সেই আসল ভূতের ছড়াটা-

ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না

ভূতের ছানা দেখে

বই-খাতা আর কাগজ-কলম

গুছিয়ে রাখো নিজে-

ভূতরা আর লেখা নিয়ে

পাড় পাবেনা যেতে ।

এবার আরিয়ানের নানা ভাইয়ের লেখা ছড়াটা -


ইতলে ভূত, চিতলে ভূত, বিতলে ভূত, মামদো ভূত চারে,

ঝুট-ঝগড়া করবে ঠিক বৃহঃস্পতিবারের দিনে।

শক্তি তারা করবে পরখ কাহার কতখানি,

মালকোচাতে সাজলো তাই করতে হানাহানি।

প্রথমেতে ইতলে-বিতলে যুঝলো কতক্ষণ,

জখম হয়ে ভীষণভাবে, ভাঙলো নাকো রণ।

অবশেষে ইতলে-বিতলে ক্লান্ত হয়ে হায়,

কোমর ভেঙ্গে পড়লো তারা ভীষন মুর্ছায়।

মুর্ছা তাদের ভাঙ্গে নাকো কোনকালেই আর,

এসব দেখে চিতলে মামদো ভূতে কান্না করে সার।

কান্না শুনে ধেয়ে আসে আন্দা ছান্দা ভূত,

নেংটিতে সে বেঁধে আনে লক্ষ ভূতের পুত।

ভূতের দলে এসে সবাই জাগিয়ে তোলে রোল,

পথে-ঘাটে বন-বাদাড়ে ভূতের গণ্ডগোল।


(সমাপ্ত)

Nabadibakar_Writer_60

এক মুঠো সুখ
- রবিউল ইসলাম রাব্বি

জীবন যদি হত কাঁচের মত,
ভেঙ্গে ফেলতাম ইচ্ছে যত।
ভাললাগেনা এই কষ্টের জীবন,
চাই এক মুঠো সুখ।
আর এই সুখ পেলেই জীবন হত বিমুখ,
অজানা এই দুনিয়াতে কষ্ট ভরা জীবন নিয়ে।
আর কত কাল বইব আমি কষ্টে ভরা বুক,
আর খুজে যাই এক মুঠো সুখ।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ০৮ ( গরমে তরমুজ )

- ডাঃ ফারহানা মোবিন

চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,

স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


গ্রীষ্মের তীব্র গরমে তরমুজ এই সময়ের জন্য উপযুক্ত ফল। এতে প্রায় ৯৫ শতাংশ পানি। তাই ডায়রিয়ার পরে, বমি করার পরে বা যাঁরা অতিরিক্ত রোদে থাকেন, তাঁদের জন্য তরমুজ জরুরি উপকরণ। এতে নিম্ন মাত্রার ক্যালরি, অতি উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম রয়েছে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

প্রচুর পরিমাণে রসাল ফল হওয়ায় কিডনির জন্য বয়ে আনে সুফল। তরমুজ রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে কিডনিতে পাথর, ইনফেকশনসহ যাবতীয় অসুখগুলো তুলনামূলক কম হয়। আর কিডনি ভালোভাবে কাজ করার জন্য দেহের বর্জ্যগুলো সঠিকভাবে বের হয়ে যায়।

আর উপকারী ভিটামিন ‘সি’র বসতি এই ফলে। ভিটামিন ‘সি’ প্রতিরোধ করে অ্যাজমা বা হাঁপানি, ঋতুজনিত সর্দি, টনসিল, গরম-ঠান্ডার জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, অসটিওআর্থ্রাইটিস, অর্থাৎ শরীরের প্রতিটি জয়েন্টে ব্যথা। গরমজনিত ঘা, ফোড়া দূর করে তরমুজ।

অনেকের ধারণা, তরমুজ মিষ্টি, তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা খেতে পারবেন না। কিন্তু ধারণাটি পুরোপুরি সত্য নয়। তরমুজের পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম রক্তের ইনসুলিনকে সুষ্ঠুভাবে কাজ করার শক্তি জোগায়। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরাও এই ফল খেতে পারবেন। তবে পরিমিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। রসাল ফল হওয়ার জন্য তরমুজ ত্বককে করে উজ্জ্বল, মসৃণ। ত্বকে সঠিকভাবে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে ত্বককে করে শক্তিশালী।

Nabadibakar_Writer_30

আবার ফিরে আসব
- মনিরা ফেরদৌসি

কান্না হাসির বাঁধন ছিঁড়ে
সোনার খাঁচায় আসব ফিরে
সুখ দুঃখের ঢেউয়ের সাথে
করব খেলা সাগর তীরে ।
দিবস শেষে আসব ফিরে
রাত্রি আঁধার হলে
শুন্য হৃদয় ভরিয়ে দেব
আলোর প্রদীপ জ্বেলে ।
আবার আসব ফিরে
যে চোখ তোমায়
পায়না দেখতে
তুমিত রয়েছ সেই
চোখেরই কোনে ।।

Nabadibakar_Writer_24_

মনুষ্যত্ব
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

অভিশপ্ত মনুষ্যত্ব আজ অকৃতজ্ঞ
জর্জরিত
পাপিষ্ঠ বাহুর ছোঁয়াই দুমরে
মুচরে বির্সজিত!
শুভময় ভাবনা হারিয়েগেছে কোন এক
অজানা অগোচরে
তবুও আমি ভবেরে খুঁজি,জগতো ঘুরিয়ে
নাহি আমি মনুষ্যত্বের ডিঙ্গায়
চড়িতে পারি!
মিথ্যারে পশ্রয় মিথ্যে শিক্ষা,গুরু আমার
আজ না দিতে পারে দিক্ষা,
ডিগ্রির অর্জনের দৌরে শিক্ষা ব্যাবসার
পথে,
তাই মনুষ্যত্ব আজ হারিয়েছে
না ফেরারি পৃথিবীতে।

 

বন্যা দুর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে আসুন
- শামসুজ্জোহা বিপ্লব

আজ সভ্য সমাজে তাদের জন্য নেই
এতটুকু আহাজারি,
বন্যার কবলে তলিয়ে যাচ্ছে যাদের
বসতবাড়ি।
কেউ ভাবে না,
কি করে বেঁচে আছে অসহায় মানুষগুলো,
যারা হারিয়েছে জীবনের শেষ সম্বল।
একটু খাবার পানির আশায়
হাত বাড়িয়ে আছে, কত অবুঝ শিশু।
ভাবে না তারাও
যারা ডাইনিং টেবিলে বসে
খাচ্ছে মাংস পোলাও।
এই যদি হয় সভ্য সমাজের ব্যস্ত জীবন
কে দেখাবে আজ অসহায় মানুষগুলোর চোখে
বেঁচে থাকার স্বপন।
তাইতে আজ বলছি সকলের কাছে
আসুন দাঁড়িয়ে যাই
অসহায় বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে...

দেশের বিভিন্ন স্থানে হতদরিদ্র মানুষ গুলো থাকার জায়গা থেকে শুরু করে বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল টুকুও বন্যায় প্লাবিত হয়ে আজ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় "ঘাসফুল" পরিবারের পক্ষ থেকে সেই হতদরিদ্র পরিবার গুলো কে আর্থিক ভাবে সাহায্য করতে এই সামান্য প্রচেষ্টা
মাত্র।আমরা গতবারও এই কাজ করেছিলাম, এইবারও করতে যাচ্ছি।আমরা এইবার কাজ করবো কুড়িগ্রাম অঞ্চলে। আমাদের আবেদন সকলের কাছে বন্যাদুর্গত মানুষ গুলো কে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।আমরা আসবো আপনাদের কাছে এই আবেদন নিয়ে।

"সীমাবদ্ধতার অবসানে প্রারম্ভের আহবান "
জয় হউক মানবতার।
যোগাযোগ :
১১-০৯-২০১৫ ইং পর্যন্ত ত্রাণ
তহবিল সংগ্রহ চলবে।
সাহায্য পাঠাতে পারেনঃ
(বিকাশ)
০১৭২৯-৬৮০৯০৮
০১৭৩৬-১৮১৬১৭
০১৬৮৩-১৩৩৬০০
যে কোন তথ্য পেতেঃ
০১৬৮৭-৬২৮৪৫২
০১৯৬৬-৯৩৮৮৪৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় :
দিদার ০১৮১৫ ৪৪৭২১১
নাঈম ০১৮২০ ৩১৯৫৯৫
আহসান হাবিব ০১৮৩১ ৭৩৭৪৮৬
বিপ্লব ০১৯২২ ৪৩৬৬০০
অমর ০১৯২৬ ৭৫৮০৫৯

Nabadibakar_Writer_43

 

তোমার দেয়া চকোলেট
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

সেদিন, খেতে না পেরে আধখাওয়া আইসক্রিমটা এক পথশিশুকে দিয়ে দিলাম।
আজ তুমি আমায় একটা চকোলেট দিলে।
তুমি কিছু বললে না করার সাধ্য আমার নেই।
নিজেকে যে সমর্পণ করেছি তোমার প্রতি আমার ভালোবাসার কাছে।
তুমি বলেছো আমায় ভালোবাসা অসম্ভব।
তবে কি করুণা করেছো আমায়?
আমি করুণা চাই না সখী।
তাই মানিব্যাগের দূর্গে জমা রেখেছি তোমার দেয়া সেই চকোলেট।
যেদিন সবার মতো 'বড়' হবো,
যেদিন তোমার কাছে আমার গুরুত্ব থাকবে,
যেদিন অনেকের মাঝে আমি একজন হবো,
যেদিন,করুণা নয়, আমার জন্য তোমার মনে ভালোবাসা জন্মাবে,
সেদিন তোমার দেয়া চকোলেটে ঠোট ছুঁয়াবো।

 
বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।

Nabadibakar_Writer_40

আবার দেখা হবে
- মেহেদী হাসান আকাশ

আবার দেখা হবে
নতুন কোন অধ্যায়ে
হয়তো সেদিন থাকবেনা
কোন আমার পিছুটান
থাকবেনা কোন মায়াজাল
তবুও মনে পড়বে
আজকের দিনটিকে
মনে পড়ে যাবে
তোমাকে দেখার প্রথম দিনটিকে
কতই না তুমি সুন্দর
চেয়ে থেকেছি শুধু
সবকিছু ফেলে দিয়ে
আজ আমি অনেক দূর
কখনও ভাবিনি যে
তোমাকে আমি পাবোনা
ভাবতে গেলে শুধু
আমার কষ্টটাই বাড়ে
এখনও আমি তোমাকে
নিয়ে বাচাঁর স্বপ্ন দেখি
সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত
মধ্যোখানে কেটে গেলো
অনেক মাস-বছর
তবুও তোমাকে ভুলিনি
আর ভুলতেও পারবোনা
তোমাকে যে ভালোবেসেছি
হূদয়ের মাঝখান থেকে
আজ আবার তোমার
সাথে হলো দেখা
বেচেঁ থাকলে তোমার সাথে
আবার হবে দেখা ৷

 
বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।

Nabadibakar_Writer_49অণুগল্প : আলতো ছোঁয়া
- শামসুজ্জোহা বিপ্লব

সময়টা ২০১৩ সাল। ভার্সিটির তৃতীয় বর্ষে নতুন ভর্তি হইছি । ক্লাশ তেমন করতাম না। ফার্স্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ার যেভাবে সিনসিয়ারলি ক্লাশ করতাম। সেভাবে আর ক্লাশ করা হত না। মাঝেমাঝে ডিপার্টমেন্টে যেতাম, ক্লাশের চেহারা দেখার জন্য। সবাই ক্লাশ করত আর আমি সেমিনার, করিডোরে ঘুরে বেড়াতাম। ভাল না লাগলে ঝুপড়িতে বসে আড্ডা দিতাম। সত্যিকথা বলতে ক্লাশ করতে তেমন ভাল লাগত না। কখনো ক্লাশ করলে ব্যাকবেঞ্চে ঠায় বসে থাকতাম। মোবাইলে গুতাগুতি করতাম।
আর আমার চলাফেরা একটু দ্রুত গতিরই ছিল। করিডোর দিয়ে হাঁটতে ছিলাম। পিছনে থেকে এক ফ্রেন্ড ডাকতেছিল। তার দিকে একটু তাকাইছি। ঘুরে ফিরতেই দেখি একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেলাম। মেয়েটার হাত লেগে আমার চোখের চশমা খুলে কয়েকহাত দুরে গিয়ে পড়লো। ধাক্কা খাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ছিল। কারন আমি যে জায়গাটায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। এটা ছিল একটা করিডোরের মোড়। না, বাংলা সিনেমার নায়িকার মত মেয়েটির হাত থেকে বই, খাতা কিছুই পড়ে নাই। আমি আস্তে করে চশমাটা তুলে চোখে পড়লাম।
দেখলাম মেয়েটা খুব কাঁচুমাচু করতেছে। মনেহয় খুব লজ্জায় পড়ে গেছে । তার লজ্জামাখা মুখটা দেখে কেমন জানি মাঁয়ায় পড়ে গেলাম। তেমন কিছু বলতে ইচ্ছে হল না। আস্তে করে গিয়ে শুধু বললাম
-সরি, আমি আপনাকে দেখতে পাই নি।
মেয়েটিও একটু মুচকি হাসি দিয়ে বললো,
-ভাইয়া, আমিও দেখতে পাই নি।
ওকে, ঠিক আছে বলে চলে আসি।
আর কিছুই বলা হয় নি।
কিছুদুর হেঁটে আসার পর মনেহল, মেয়েটার সাথে পরিচিত হলে তো খারাপ হত না। কোন ডিপার্টমেন্টে পড়ে। এটাও তো জানা যেত। পিছনে ফিরে দেখি মেয়েটা আর নেই। আর ঘুরে যেতে ইচ্ছে করলো না। মনেমনে শুধু আফসোস করতে লাগলাম।
এখন ভার্সিটি লাইফ প্রায় শেষের দিকে, মেয়েটির সাথে আর কখনো দেখা হয় নি। আমিও তেমন খোঁজার চেষ্টা করি নি। তবে মাঝেমাঝে মেয়েটিকে খুব মনে পড়ে। খুব মিস করি। বলতে দ্বিধা নেই, ক্ষনিকের জন্য হলেও মেয়েটার মাঁয়াবী মুখখানা দেখে কুপোকাত হয়েছিলাম।
আগে বাংলা সিনেমায় দেখতাম নায়ক, নায়িকার সাথে ভার্সিটিতে নিজের অজান্তে ধাক্কা খায়। নায়িকার বই, খাতা পড়ে যায়। নায়ক বই, খাতা নায়িকার হাতে তুলে দেয়। আর বলে সরি, আমি দেখতে পাই নি। নায়িকা শুধু মুচকি হাসি দিয়ে চলে যায়। এর পরের কাহিনী সবার জানা। পরের দৃশ্যেই বিয়ের সাঁনাই বাঁজতে থাকে।
আমার দিন যায় রাত আসে। সময়গুলো ফুরিয়ে যাচ্ছে। প্রেমিকার দেখা নেই, ভালবাসার খবর নেই। জীবন একা একাই অতিবাহিত হয়, জীবনের নিয়মে। কিছুই করার থাকে না আমার।
আসলে মানুষের জীবনটা বাংলা সিনেমা নয়। এমনটা হলে এতদিনে জীবনে অনেক কিছুই হয়ে যেত। জীবনটা অনেক কঠিন, বাস্তবতা আরও নির্মম। তবুও জীবন যাচ্ছে চলে বহমান নদীর মত। জীবন তো থেমে থাকে না। । ভালবাসার মানুষ পাশে থাকুক বা না থাকুক।
আজ 'সঙ্গী' ছবির সেই গানটা খুব গাইতে ইচ্ছে করছে।
"আলতো ছোঁয়াতে একটু দাঁড়ালো,
চোখেতে ফিরে তাকালো।
কেন ওঠে ঝড়?
এই মনেতে, জানি না, তা জানি না।
হু....হু....হুম......লা....লা....লা...

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget