আগস্ট 2015

'ঘাসফুলের' পদচারণায় মুখরিত হোক আমাদের ক্যাম্পাস
- শামসুজ্জোহা বিপ্লব

ফেসবুকে মনের প্রশান্তির জন্য প্রায় বেশ কিছুদিন থেকেই লেখালেখি করি। লেখালেখি করার সুবাদে হঠাৎ করেই একদিন ফেসবুকের গ্রুপ 'ঘাসফুল কাচারীঘর' সাথে পরিচিত হয়। ধীরেধীরে ঘাসফুলের সাধারণ সম্পাদক 'মাহাদী' ভাইয়ের সাথে পরিচয় ঘটে । গ্রুপে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই ঘাসফুলের বিভিন্ন কার্যক্রম আমার কাছে ভাল লাগে।
আগেই বলে নেওয়া ভাল।'ঘাসফুল' মানবতা, সাহিত্য ও মননশীল জাগরণের সংগঠন। তাদের নিদ্দিষ্ট ভিশন রয়েছে 'সীমাবদ্ধতার অবসানে প্রারম্ভের আহ্বান' ।
বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে প্রগতিশীল, কলুষমুক্ত ও শিল্পিত সমাজ বিনির্মানে এগিয়ে যেতে পরিপূর্ণ ভালবাসা, সময়, শ্রম ও মেধার নির্যাস সঁপে দিতেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দুঃস্থদের সাহায্য করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়ানো, দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ইত্যাদি 'ঘাসফুল' সংগঠন কার্যক্রম পরিচালনা করে থেকে।
মানুষের ইন্দ্রিয় দ্বারা জাগতিক বা মহাজাগতিক চিন্তা চেতনা, অনুভূতি, সৌন্দর্য্য ও শৈল্পিক মনোভাব প্রকাশের লিখিত রূপই সাহিত্য। শিল্পের সব সূক্ষ্ম বিষয় সাজাতে এবং সাহিত্যকে আধুনিকীকরণ ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে আমাদের 'ঘাসফুল' নামে একটি মাসিক সাহিত্যপত্রও আছে। সাহিত্যজগতে আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যকে একটি নতুন সুস্থ ধারায় বিকশিত করতে 'ঘাসফুল' সাহিত্যপত্র সৃষ্টিশীল নবীন লেখকদের সেরা লেখাগুলো প্রকাশ করতে অনবদ্য ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার প্রথমদিক থেকেই আমি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলাম। 'ঘাসফুল' সম্পর্কে এত কিছু জানার পর আমার খুব ইচ্ছা জাগে ঘাসফুলের সাথে যুক্ত হবার, এর সদস্য হওয়ার। তাই হঠাৎ করেই একদিন 'মাহাদী' ভাইকে ফেসবুকে নক করি, যে চট্টগ্রামে ঘাসফুলের কোন শাখা আছে কি না। তিনি খুব আন্তরিকভাবেই আমাকে সহযোগিতা করেন। আমি জানতে পারি, ঘাসফুল সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু করেছি। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘাসফুলের সক্রিয় সদস্য 'দিদারুল আলম' ভাইয়ের নাম্বারটা আমাকে দেন। আমি যোগাযোগ করার
আগেই কেমন করে যেন, দিদার ভাই আমার সাথে যোগাযোগ করে। মোবাইলে দিদার ভাইয়ের সাথে কিছুক্ষন কথা হয়। দিদার ভাই, এত আন্তরিকতার সহিত আমার সাথে কথা বলেন। সত্যিকার অর্থে আমার সেদিন খুবই ভাল লাগে। তিনি জানেন, বেশ কয়েকদিনের মধ্যেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘাসফুলের একটি আড্ডার ব্যবস্থা করবেন। জেনে খুব ভাল লাগে।

কয়েকদিন ধরেই অপেক্ষা করতেছিলাম কবে আড্ডার আয়োজন হবে। অবশেষে প্রতিক্ষার প্রহর শেষ হয়। গতকাল রাতে জানতে পারি যে, বৃহঃস্পতিবার ১২.৩০ টার সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাঁদুঘরের সামনে আড্ডা হচ্ছে। রাতে যেন ঘুমই হচ্ছিল না। এই ভেবে যে, কাল সবার সাথে দেখা হবে।
আজ ১২.৩০ টার দিকে জাঁদুঘরের সামনে যাই। আমি যাওয়ার আগেই দেখি, দিদার ভাই সহ আরও বেশ কয়েকজন উপস্থিত। সবার সাথে ফর্মালি পরিচিত হই। দেখলাম, আমার মত নতুন আরও অনেকেই এসেছে।  আড্ডা শুরু হওয়ার আগেই,  দিদার ভাই ঘাসফুলের সৌজন্য  'ঈদসংখ্যা -২০১৫'  সবার হাতে হাতে দিয়ে দেন। তারপর আমাদের আড্ডা জমে ওঠে। কয়েকজন ছোটভাই কবিতা আবৃত্তি দ্বারা সবাইকে মুগ্ধ করে দেয়। তারপর আমরা নিজেরা মুক্ত আলোচনা করি। ঘাসফুলকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কিভাবে আরও এগিয়ে নেয়া, সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া যায়। দিদার ভাই, শাহজাদ ওমর ভাই তাদের চমকপ্রদ কথায় সবাইকে মাতিয়ে রাখেন।
ঘাসফুলের অনেক সদস্যই আজ উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তারা ইচ্ছাও পোষন করেছিলেন। কিন্তু কয়েকজন আসতে পারেন নি। দিদার ভাই বারবার বলছিলেন, ঘাসফুলের প্রাণপ্রিয় সদস্য 'লাইজু' আপু উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি বাড়িতে থাকায় আসতে পারেন নি। দিদার ভাইয়ের কথাশুনে, আমরাও আসলে তাকে অনেক মিস করতেছিলাম।
অবশেষে দিদার ভাইয়ের মনোমুগ্ধকর কবিতা আবৃত্তির মধ্যে দিয়ে শেষ আমাদের আড্ডা।
সত্যিকার অর্থে আজ ঘাসফুলের সাথে ফর্মালি যুক্ত হতে পেরে অনেক ভাল লাগছে। আড্ডার কথাগুলো বারবার মনে পড়ছে। আশাকরছি সবার সাথে আবার দেখা হবে, কথা হবে।
ভোরের সকালের মত ঘাসফুলের সদস্যদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে, আমাদের পাহাড়ে ঘেরা, সবুজে ভরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

Nabadibakar_Writer_52



স্বর্গের যমদূত
- মিশুক সেলিম

আমি অফুরন্ত নীল আকাশের ঝলমলে 
লাল-সবুজ রঙে রাঙানো এক রক্তরেখা,
বহুদূর দেশ থেকে সদ্য হাজির মায়াবী 
আগন্তুকের মতো চমকে দেয়া নির্ভিক সেনা,
আমি নিস্তব্ধতাকে ভড়কে দেয়া ভারী কন্ঠস্বর। 
 
আমি প্রানভরা নিশ্বাসের সুশীতল নির্মল হাওয়া, 
ব্যাবিলনের শূন্যউদ্যান,গর্জে উঠা কালো মেঘ, 
আমি প্রচন্ড ক্রোধে ফেঁটে পড়া এক সূর্যদেব।
 
আমি রাজ দেয়ালের ওপারে ভয়ানক উত্তেজনা 
মৃদু হাসির ঝলকে আলোকিত শিশুর দোলনা, 
ভয়ংকর লজ্জায় শিহরে উঠা মোল্লা বাড়ির 
অষ্টাদশীর চাপা কন্ঠ,অনিয়ম করিব ধ্বংস। 
 
আমি সদ্য বিবাহিতের অসময়ে আচমকা চুম্বন,
আজিকে সব বাধাকে করিব নিমিষে শত খন্ডন, 
আমি প্রচন্ড শব্দে প্রতিধ্বনি হওয়া দিক নির্দেশনা
আমার আছে দৃঢ় প্রত্যয় , বাঁচার অদম্য বাসনা। 
 
আমি মুক্তির আনন্দে ভরপুর, যেন সাতচূড়া
স্বর্গের গিরিশৃঙ্গ থেকে নেমে আসা যমদূত,
তারুন্যের দাপটে তাড়াবো তোমাদের যত ভূত।
বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।



কালো বেড়াল 

- মোঃ জাহিদুল ইসলাম

 

অন্ধকার রাত। কৃষ্ণপক্ষ। বৃহদাকার আকাশ তার জানালায় শক্ত করে দোর টেনে দিয়েছে। অমাবস্যা রাতের এই কালো ঘুটঘুটে অন্ধকারেই একাকী হেঁটে যাচ্ছে জাহিদ। তার হাতে কোন আলোর উৎস নেই। শরীরে নেই কোন সুতো পরিমাণ কাপড়।  তবুও সে হাঁটছে নির্ভীক নিশাচরের মত। মধ্যরাতের এই নিঃস্তব্ধতাকে ভেদ করছে,  কেবল তার হেঁটে চলার শব্দ। জাহিদ বনের নিঃস্তব্দতা ফুঁড়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। গাছের ঝরা শুকনো পাতা মাড়িয়ে যাওয়ার মড়মড় শব্দ অন্ধকারটাকে যেন আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। অথচ তার আচরণে ভয়ের বিন্দুমাত্র চিহ্নটি নেই। সে নির্ভীকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে রাজবাড়ীর পোড়ো মন্দিরের দিকে। তার হাতে একটা কালো রঙের বেড়াল। বেড়ালটা মৃত। দেহটা এখনো তুলতুলে। হাজার বছর পুরোনো পোড়ো মন্দির এই মাঝরাত্রিতে জাহিদকে আকুলভাবে ডাকছে। জাহিদ সম্মোহিতভাবে মন্দিরের দিকে হেঁটে চলেছে। তার সম্মুখে ঘন অশ্বথ,বট, ছাতিম আর শিরীষ গাছের সারি, তার পরে আরও আধ মাইলের মত ফাঁকা রাস্তা, তারপর রাজবাড়ীর পোড়ো মন্দির।

 

বনের আঁকা-বাঁকা মেঠো রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে পড়ে জাহিদ। তার শুকনো পাতা মাড়ানোর শব্দ থেমে যায় কিন্তু আরও একটা প্রাণীর হেঁটে আসার শব্দ তখনও স্পষ্ট। পিছন ফিরে তাকালো জাহিদ, ঘুটঘুটে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না তার, তবে শব্দটা থেমে যায়। পৃথিবী এখন নীরব, নিজের শ্বাস প্রশ্বাস এমনকি চোখের পলক ফেলার শব্দটুকুও বুঝি শোনা যাবে কান পাতলেই। কিছুটা সময় পেছন মুড়ে তাকিয়ে থেকে ফের চলতে শুরু করে জাহিদ, তার হাতে ঝুলছে কদাকার মৃত বেড়ালটা। ঘন গাছের সারি পার হয়ে খোলা মাঠে হাঁটছে জাহিদ। এমন ফাঁকা মাঠেও আকাশের ঘুটঘুটে অন্ধকার ব্যতিত আর কোন আলো চোখে পড়ে না। শ্মশানের মত নীরব মাঠে একাকী হেঁটে যায় জাহিদ উদ্দেশ্যে, হাজার বছরের পুরোনো পোড়ো মন্দির ।

 

দীর্ঘক্ষণ পর অবশেষে এসে পৌঁছায় পরিত্যক্ত পোড়ো মন্দিরে। মন্দিরের ভেতর নেই কোন প্রতিমা। জাহিদ তবুও যোগ্য ভক্তের মত গুরুর উপাসনায় ব্যাস্ত। মন্দিরের অন্ধকার প্রতিমা ঘরে ছুঁড়ে ফেলে দেয় নিজের হাতে করে বয়ে আনা কদাকৃতি মৃত বেড়ালটা। দূরে বেড়ালটার পতনের শব্দ হয় ঝপাৎ করে, সাথে যোগ হয় আরো কতগুলো শব্দ। রাগে গড়গড় করে একদল ভক্ষকের মাংস ছিড়ে খাওয়ার শব্দ। বেড়ালটা মাটিতে পতনের সাথে সাথে কারা যেন ছিঁড়ে খুবলে খুবলে খেয়ে নিতে থাকে। অন্ধকারে সে দৃশ্য দৃষ্টিগোচর হয়না, কিন্তু একদল মাংসাশীর খাদ্য গ্রহণের শব্দগুলো পরিষ্কার ফুটে উঠে নিঃশব্দ অন্ধকারকে ভেদ করে।

 

জাহিদ ভীত হয়। দ্রুত পদে পিছিয়ে আসতে চায়। অন্ধকারের বুকে নিজের পথটা খুঁজে নিতে পিছন ফিরে সে। কিন্তু পথ খুঁজে পায়না, কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা লাগে। পিছন হতে কারো পদধ্বনি শুনতে পায়, যেন সদলবলে কারা এগিয়ে আসছে তার দিকে বিপুল বেগে। শব্দেরা ক্রমশ নিকটবর্তী হতে থাকে, একসময় জাহিদের কাঁধের উপর কারো তুলতুলে লোমশ হাতের স্পর্শ অনুভূত হয়,পেছন ফিরে তাকায় জাহিদ।

 

পরক্ষণেই,  শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ঘুমিয়ে থাকা জাহিদ আতঙ্কে ঘুম থেকে জেগে উঠে। পানি খাওয়ার জন্য আধ-শোয়া হয়ে উঠে বসে। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। প্রচন্ড বাঁজ পরার শব্দে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। জাহিদের হাত থেকে কাঁচের গ্লাসটা ভয়ংকর শব্দ করে মেঝেতে পড়ে ভেঙ্গে যায়। ধ্বস্তাধ্বস্তির শব্দ। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ চলে আসে। বিছানায় উপর মানুষরূপী পশু জাহিদের নিথর দেহটা রক্তশূণ্য হয়ে  পড়ে আছে। জানালার সাদা পর্দাটা তখনো রক্তের ছোঁপ ছোঁপ দাগ নিয়ে ফ্যানের বাতাসে দপ- দপ করে উড়াউড়ি করছে। অন্ধকারের কুয়াশার মাঝে, দূর থেকে শ'খানেক কালো বেড়ালের নিরীহ চাহুনি জেগে উঠেছে। জাহিদের ভেতর বেড়ালগুলোর চাহুনি এক ঘোরের সৃষ্টি করছে । এ যেন অদ্ভুত রহস্যময় এক ঘোর ! অঢেল সম্পদের ঘোরও যার কাছে হার মানে ।

 

(সমাপ্ত)

বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।



মনুষ্যত্ব

- মোঃ জাহিদুল ইসলাম

 

দুপুরবেলার কচিঘুমটা মাত্র পাতাল ফুঁড়ে বেরিয়েছে। নাক ডাকাটাও এখনো শুরু হয়নি। মাথার উপর ভন ভন করে ফ্যান ঘুরছে। পা দুটো দু'দিকে ছড়িয়ে উদোম গাঁয়ে বিছানায় শুয়ে থাকার মজাটাই অন্যরকম। হঠাৎ পাশের বাড়িতে আর্তচিৎকার -

'বাঁচাও, বাঁচাও, সাইফুল ভাই, আমার সব্বনাশ করলো গো, আমার সব কিছু নিয়ে গেল, আমায় নিঃস্ব করে দিয়ে

গেলো গো, আমায় মেরে ফেলল রে!'

 

বিছানা ছেড়ে ধড়ফড় করে উঠে বসল সাইফুল, প্রতিবেশীর বিপদ, সে কী আর আরাম করে ঘুমিয়ে থাকতে পারে! কিন্তু এত বিকট আর্তচিৎকার! নিশ্চয়ই ভয়ংকর কিছু। কিন্তু কি হতে পারে। সাপ, বিচ্ছু কিন্তু যদি ডাকাত কিংবা সন্ত্রাস হয় !

 

অন্ধকারে ঝাঁপ দেবার আগে একটু ভাবা দরকার। সে দাঁড়াল, একটা লাঠি নিল, কিন্তু ঘর থেকে এত তাড়াতাড়ি বের হল না। চিৎকারটা একটু কমে এসেছে, এবার সে ঘরের বাইরে এসে দাঁড়াল। এখন চিৎকারটা একেবারে থেমে গেছে। এবার সে দু এক পা করে আগাচ্ছে। কি হয়েছে দেখা প্রয়োজন ?

 

"ঐ ধর, ধর,ধর, সব চলে গেল যে"

- আবার জোরে চিৎকার। 

শুনতেই সাইফুল হুংকার দিয়ে ওই বাড়িতে পৌছে চিৎকার দিল, 'কই,কই সব-ধর ধর ধর!' তার মতই আরো দু- চারজনও এসে গলা মিলাল। এরপর, ঝাঁকে ঝাঁকে পাড়ার সব মানুষ এসে ভিড় জমালো। ততক্ষণে যা হবার হয়ে গেছে। সব এখন আহুতি আর বিলাপ করছে।

 

আফসোস! কি সব্বনাশটা করলো পরিমণের। ঘরে যুবতি মেয়েপুরুষটারে পশুর মত কইরা খাইলো .... একটু দেরী করলেই যদি ঝড়টা নিজের উপর না আসে, তাই পাড়ার বুদ্ধিমান মানুষরা একটু দেরী তো করবেই। থানার ওসি সাহেবও খুবই বুদ্ধিমান।

মন্ডলপাড়ার ষোল বছরের মেয়েটিকে তুলে নিতে যেদিন চাপাতি সুমন দলবল নিয়ে এল, ওনাকে ফোন দেয়ায় পুলিশ এসেছিল – তবে বুদ্ধিমানের মতই একটু সময় নিয়ে। কাগজে কলমে কিছু নাম-ধাম লিখে এনে থানায় বসে আবার খাস্তা আর মালাই চা খাওয়াতে মন দিলো !

 

(সমাপ্ত)

বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।



ছোট গল্প : আমি চিঠি পাঠাবো

- শামসুজ্জোহা বিপ্লব

 

প্রযত্নে,

      লিলি ,,

আজ শুধু একটি গানই গাইতে ইচ্ছে করে। 

"কি ছিলে আমার, বল না তুমি।

আছি তো আগেরি মত, এখনও আমি . .,,

লিলি, আজও তোমায় ভুলতে পারিনি। কিভাবে ভুলবো তোমায় আমি, বল। তোমার স্মৃতি গুলো আমায় প্রতিমুহ্নর্তে তাড়া করে। আমি ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াই এদিক সেদিক, দিকবিদিক। কোন কূল কিনার খুজে পাই না। যেন এখন আমি এক, বিভ্রান্ত পথিক। তোমায় খুঁজে ফিরি দিনরাত্রি। কোথাও তুমি নেই। 

আমি আগের মত এখনো তোমার ফোনের অপেহ্মায় থাকি। কখনো, তুমি যদি একটিবার ফোন দাও। এই বুঁজি মোবাইল রিংটোন টা বেঁজে উঠবে। লিলি নামে।  কিন্তু না, তোমার ফোন আর আসে না। অপেহ্মা করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।

আসলে সেদিন কি ঘটেছিল?

আজও আমি ভালভাবে জানতে পারিনি। শুনেছি, তোমার বিয়ে হয়ে গেছে। কিভাবে তুমি পারলে? আরেকজন মানুষকে বিয়ে করতে।

লিলি তুমি কি পার?

তোমার স্বামীকে ভালবাসতে। 

তুমি কি পার ?

তোমার হাসিমাখা মুখ তোমার স্বামীকে দেখাতে। 

কিভাবে তুমি কথা বলো, তোমার স্বামীর সাথে। 

তুমি কি প্রতিরাতেই তোমার স্বামীর সাথে ঘুমাও?

কিন্তু, আমার কি দোষ ছিল বলো?

তুমি কিভাবে পারলে, এভাবে নিজেকে বিলিয়ে দিতে।  আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে। 

তুমি কি তোমার স্বামীকে, প্রতিরাতেই তোমার সমুধুর কন্ঠে গান শোনাও। আমাকে যেভাবে শোনাতে, আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে। 

লিলি, আজও তোমায় স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে পারিনি।  তোমার দেয়া ছবি গুলো, আজও আমার কাছে সযত্নে আছে। এখনিও রাখি, তোমার ছবি গুলো, আমার মানিব্যাগে। একটু মনে পড়লেই, ছবি গুলো দেখি, আর তোমার কথা মনে করি। তোমার ছবির সাথে কথা বলি। কখনো তুমি যদি ফিরে আসো। এই অদম্য আশায়। 

লিলি, আমার ছবি গুলো কি ,এখনো তোমার কাছে আছে। তুমি কি আগের মতো ,এখনো আমার ছবি গুলো দেখো?

আর গুন গুন করে গান গাও। নাকি, নিজের সুখের জীবনের কথা চিন্তা করে, ছবি গুলো নষ্ট করে ফেলেছো। খুব জানতে ইচ্ছে করে আমার|

কিভাবে ভুলে আছো? তুমি আমাকে এতদিন ধরে। 

কিভাবে পারছো তুমি?

আমি তো পারছি না। তোমাকে ভুলে থাকতে। তুমি কিভাবে পারছো?

হোক না তোমার বিয়ে। একটি বারও কি, তুমি আমার সাথে কথা বলতে পার না? আমার বিশ্বাস হয়না।  তুমি আমায় কখনো ভুলে যেতে পারও। 

এটাও কি সম্ভব! একজন মানুষকে মন প্রাণ উজাড় করে ভালবেসে। পরে, তাকে ভুলে যাওয়া। আমার বিশ্বাস হয়না, লিলি। তুমি এটা পারবে।

হয়তো নিরবে, তুমি তোমার চোখের অশ্রুঝড়াও। কেউ সেটা দেখতে পায়না, বুঁঝতে পারে না। 

লিলি, আমরা দুজনেই সমাজ সংসারের কাছে হেরে গেছি। সমাজের নিয়ম কানুনের কাছে। আমাদের হাত পা বাঁধা। কিছুই করার নেই আমাদের। কষ্ট পাওয়া আর নিরবে চোখের জল ফেলা ছাড়া।

আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে,লিলি। 

আসলেই, তুমি কেমন আছো?

কতটুকু ভাল আছো?

আমার জন্য আর কেঁদো না। চোখের জল মুছে ফেলার চেষ্টা করো। তুমি সুখী হওয়ার চেষ্টা করো। 

জানি, তুমি সুখী হতে পারবে না। তবুও সুখের অভিনয় করো। জানি, তুমি আমাকে ভুলেও যেতে পারবে না। তবুও ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করো। 

জানো লিলি, তোমার মতো এখন আর কেউ আমাকে গান শোনায় না। গান শোনানোর মত কাউকেই খুঁজে পাই নি। কেউ আমাকে নিয়ে আর চাওয়া পাওয়া কবিতা লেখে না। তোমার গান, কবিতা এখনো আমার মোবাইলে আছে। যখন মন খারাপ থাকে, তোমার কথা মনে পড়ে। তখন তোমার গান, কবিতা গুলো শুনি। জানো, আমার নিজের অজান্তেই চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে। আজকাল চোখে যেন কি হয়েছে। এমনিতেই জল গড়িয়ে পড়ে।

লিলি, প্রকৃতির আকাশ, বাতাস,প্রতিটি ধূলিকনা। সবাই আমাকে জানিয়ে দিচ্ছে। তুমি আর আমার নেই। তোমাকে আমি হারিয়ে ফেলেছি। কোন কিছুর বিনিময়েই,তুমি আর আমার হবার নও। এটাই নির্মম সত্যি কথা। জীবনের চরম বাস্তবতা। 

কিন্তু, এখন আমি কি করবো?

কি করার আছে আমার?

লিলি, তোমাকে হারানোর কষ্ট, ব্যাথা, বেদনা থেকে আমি মুক্তি পেতে চাই।

তুমি কি আমাকে মুক্তি দেবে? 

আমি কি মুক্তি পাবো?

জানি না আমি, কোন কিছুই এখন বুঝতে পারি না। 

তবুও লিলি,

তোমাকে মনে পড়লেও। আজ থেকে আর তোমার ছবি দেখবো না। তোমার গান ,কবিতা শুনতে ইচ্ছে করলেও, আর শুনবো না। দু'চোখের অশ্রু ঝড়ে ঝড়ুক। কষ্টে বুক ফেটে যায় যাক। তবুও না। আজকেই তোমার ছবি গুলো, মানিব্যাগ থেকে  খুলে ফেলবো। তোমার গাওয়া গান, কবিতা চিরতরে মোবাইল থেকে মুছে দিব। 

জানি, তোমাকে আমি কখনো ভুলে যেতে পারবো না। তবুও ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবো। আমি তোমায় যতটুকু ভালবেসেছি। হয়তো, এতভাল আর কাউকেই বাসতে পারবো না। 

কিন্তু নিরবে, তোমাকে মনে রখে দিব। শুধু ভাববো। 

লিলি নামে একটি মেয়ে আমার জীবনে এসেছিল। যাকে, আমি মন প্রান উজাড় করে ভালবেসেছিলাম। নিঃস্বার্থ ভাবে। 

লিলি, তোমাকে নিয়ে আর কোন গল্প,কবিতা লিখবো না। এটাই তোমাকে নিয়ে লেখা,আবেগ অনুভূতির শেষ লেখা। 

লিলি, আজ তোমার জন্মদিন। তুমি আজ থাকলে হয়তো, তোমাকে নিয়ে গল্প, কবিতা লিখতাম। 

আর, তুমি আমাকে বলতে। আসলেই, তুমি পাগল একটা। 

আমি ঠিক জানি না। তোমাকে নিয়ে লেখা এ চিঠি। কখনো তোমার হাতে পৌছবে কিনা?

তবুও ,এ চিঠি আকাশে, বাতাসে উড়িয়ে দিলাম। 

তোমার জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো। 

ভাল থেকো তুমি,

সুখী হও তুমি . . . . .!

ইতি,

তোমারই ভালবাসা

                         -  পুলক ।

বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।

Nabadibakar_Writer_30


নিন্দুকের হাসি
- মনিরা ফেরদৌসি


এই পৃথীবিতে চলছি ছুটে
কিছু অভিশাপ বয়ে
তোমার অভিমান
তোমার বিমর্ষতা
করেছে আমায় ক্লান্তিকর।
অনুরাগের খেলা
নিন্দুকের বাঁকা হাসি
করতে পারেনি ক্লান্ত
শুধুমাত্র তুমি ছাড়া ।
নিন্দুকেরা হাসছে দেখ উল্লাসে
যেন জয় করেছে পৃথিবী ।
মনের সিন্দুক খুলে বসেছি
পরিহাসের ছোঁয়া কখনো
লাগবে না জেনে ।।


বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।



Nabadibakar_Writer_46

প্রাণের জোয়ার
- বিভূতি চক্রবর্তী 

থাক না এবার মুগ্ধ আমার মনের মতো গান,
জেগে উঠুক লক্ষ সাথীর আহ্বানে মোর প্রাণ।
প্রাণের জোয়ার ভাসিয়ে দেবে ধরায় যত সুর-
এগিয়ে চলো সামনে সবাই,নতুন যুগের ভোর।
এলো-মেলো জীবন চলে পরোয়া-হীন পথে,
বেপরোয়া ভাবনা-ধারা সামলে দাঁড়াও রথে।
রথের রশি কষেই বাঁধো, থাকো সবার সাথে-
সামনে এসে দাঁড়াও কাছে ,হাত মিলিয়ে হাতে।

রচনা - ২৮/০৮/২০১৫ ইং আগরতলা 


বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।



Nabadibakar_Writer_43

আত্মসমর্পণ
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

সেলুলয়েড ফ্রেমের মোটা চশমাটা ছাড়া আজ চলতে পারি না।
কোথাও খুলে রাখলে এই চশমাটা খুঁজে বের করার সাধ্যও হয়না আমার।
ভাবতেই জীবনের লোকিং গ্লাসে স্মৃতির মেঘ জমে।
সুখের অতীত বেদনার বর্ষণ হয়ে ঝরে অঝোরে।
নীলিমার সাথে অসম প্রেমে আবদ্ধ হয়েছিলাম।
আমার থেকে পাঁচ বছরের বড় ছিলো সে।
এতে তার আপত্তি ছিলো।
আমি বলেছিলাম, 'সময়ের এককে কি জীবন অথবা যৌবন মাপা যায়?'
সে আর কিছু বলেনি।
তারপর ঘরে তোলা।
আমার টগবগে যৌবন রাত-বিরাতে তাকে জ্বালিয়েছ খুব।
দিনের আলোতে সে আমায় দেখতেই পেতো না।
মিছিল মিটিং সভা আর সেবায় দাপিয়ে বেড়িয়েছি শহরের বুকজুরে।
রাতের একটু আদর ভালোবাসায় সে ভুলে যেতো দিনের সকল নিঃসংজ্ঞা। 
বড় বিশ্বাস করতো আমায়।
কখনো আমার স্বাধীনতায় বাঁধ সাধতো না সে।
বরং উল্টো কিছু এদিক সেদিক হলেই তাকে আমি জল্লাদের মতো ধমকাতাম।
সে কাদঁতো।
আবার ঘরে ফিরে যখন মাথাটা আমার পশমি বুকে চেপে ধরতাম,
তখনই সব ভুলে যেতো সে।
সবই আজ ট্রয় নগরীর মতো ইতিহাস।
প্রিথিবীর বেলাভূমিতে পড়ে থাকা ডাইনোসরের জীবাশ্মের মতো।
মহাস্থানগড়ের ধ্বংস হওয়া বৌদ্ধ বিহারের মতো।
কিংবা ফুরিয়ে যাওয়া মৃত আগ্নেয়গিরির মতো।
প্রেমের মোমবাতিতে আজ আলো আছে তাপ নেই।
হেলাফেলায় যৌবন বিকিয়ে আমি আজ নীলিমার আঁচলে নির্বাসিত।
তাকে ধরে হাটঁতে হয়, তার হাতে খেতে হয়,
বসতে, ওঠতে, শোতে সকল কাজে তার সাহায্য নিতে হয়।
ক্ষণস্থায়ী সব, সব নশ্বর।
সব কিছুতে আজ তাকে বিরক্ত করতে হয়।
আমার তামাটে চেহারায় আজ স্নিগ্ধ ভালোবাসা নেই।
আমি তার ঘোলাটে চোখের দিকে তাকাতে পারি না।
তাই মৃত্যুর কাছে করেছি আত্মসমর্পণ।
বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।




বদলে যাওয়া সময় 

- শুক্লা মালাকার সাহা

 

দেড়টা বাজে প্রায়। অফিস থেকে ফিরে ঘুমিয়ে পরেছে রাণা। রোজই ঘুমোয়। নীতা একটা বড় চটে ফুল তুলছে, কার্পেট বানাচ্ছে বসার ঘরে পাতবে বলে। অন্যদিন রানা উঠে পরে। আজ বোধহয় বেশি ক্লান্ত। ওদের বিয়ে হয়েছে মাস পাঁচেক হল। নীতা রাণাকে অনেকটা চিনে গেছে। সন্ধ্যের টিফিন রাণার খুব প্রিয়। প্রতিদিন আলাদা আলাদা খাবার চাই, আজ চিড়ার পোলাও করেছিল। ডাকবে কিনা ভাবছে। রাত ও হয়েছে অনেক, আর পারছে না নীতা। রাণা যদি রাগ করে ভয় ডাকতেও পারছে না। 

একটু পরে রাণা চোখ খুলল। অভিমানী গলায় নীতা বলল ‘ঘুম ভাঙল? খাবে না? আমার তো কখন খিদে পেয়েছে’। হাত মুখ ধুয়ে রাণা খেতে বসল। নীতা ভাত বেড়েছে।  মুগের ডাল, আলুভাজা আর ছানার ডালনা। ডালের সঙ্গে আলু কিমবা বেগুন ভাজা, সঙ্গে ঘি, রাণার প্রিয় খাবার। হাত চেটে চেটে খায়। নীতার দেখতে মজা লাগে। খাবার দেখে রাণা বলল ‘আলু ভাজা কেন? বেগুন ভাজা কর নি?’

‘সকালে তো বেগুন ভেজেছিলাম, তাই এবেলা আলু ভেজেছি’। 

‘না, আলুভাজা খাবো না। বেগুন ভাজো, আমি ততক্ষন তরকারি দিয়ে খাচ্ছি’।

বেগুন ভাজা করে দিল। ফ্রিজ নেই, আলুভাজাগুলো গরম করে রাখল। কাল এগুলো আর রাণা মুখে তুলবে না, ফেলে দিলেও রাগ করবে। সকালে রুটি দিয়ে খেয়ে নেবে নীতা। খাওয়া শেষ করে রান্নাঘর গুছিয়ে নিতে আড়াইটে বেজে গেল। ঘুমে চোখ জড়িয়ে যাচ্ছে, কোনরকমে হাত মুখ ধুয়ে ক্রিম হাতে নিয়ে শুতে গেল। রাণার শরীর জেগেছে, ঘুমন্ত শরীরেই ওকে খুশি করতে হল। অবশেষে ঘুম। ঘুমোনোর আগে মনে পড়ল সকালে উঠে বাজারে যেতে হবে, সবজি নেই একদম। 

রিয়াও বেগুন ভাজা ঘি দিয়ে খেতে খুব ভালোবাসে, একেবারে বাবার মতো। আঠারশ স্কোয়ারফুট ফ্লাটে মড্যুলার কিচেন, হাতের কাছেই সব কিছু। রাণা দেরি না করে বেগুন ধুয়ে নিল। দেরি হয়ে গেছে, সাড়ে আটটা বাজে। রান্নার দিদি আসে নি। বেগুন ভাজা করে সেভ করে নিল। চান করে খেতে খেতে দেখল রিয়া উঠেছে। ‘তোর জন্য বেগুন ভাজা করেছি, ঘি দিয়ে খাস’। ঘুম জড়ানো গলায় রিয়া বলল, ‘উফ্! বেগুন ভাজলে কেন? ফ্রেঞ্চ ফ্রাই করো না’। কোনোরকমে খেয়ে মোটা মোটা করে আলু ভেজে ঢেকে রাখল। রিয়া পাউরুটি তে জ্যাম লাগাচ্ছে। ‘তোর জন্য ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ই করলাম’ পায়ে মোজা গলাতে গলাতে বলল রাণা। অফিস যাবার সময় রোজ নীতার ঘরে উঁকি দিয়ে যায় একবার। নীতা ব্যস্ত থাকে কম্পিউটারে। ফেসবুকে গল্প করে, কিমবা লেখালিখি। আজও উঁকি মেরে দেখল গভীর মনোযোগের সঙ্গে কিছু লিখছে নীতা। কথা বলতে সাহস পেল না। নীতার হিমশীতল দৃষ্টিকে আজকাল ভয় পায় রাণা।

বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।

ডায়াবেটিসের বিপদ - হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তের সুগার কমে যাওয়া
- ডাঃ এম রহমান রাজীব
খিলগাঁও ডায়াবেটিক ও স্পেশালাইজড ডক্টর’স চেম্বার ।


এটা একটি মেডিক্যাল ইমারজেন্সি । কোন কারনে রক্তের গ্লুকোজ বা চিনি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে (সাধারনত ৩.৫ মিলিমোল/লিটার বা এর) নিচে নেমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। শরীরের খাদ্য হল গ্লুকোজ। রক্তের গ্লুকোজ কোন কারনে কমে গেলে প্রানঘাতী ঘটনাও ঘটতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীর হাইপোগ্লাইসেমিয়া এর কারণ সমূহ-
১) ইনসুলিন বা ঔষধ নেবার পর সময় মত খাবার না খেলে ।
২) ইনসুলিন বা ঔষধ এর মাত্রা কোন কারনে বা ভুল করে বেশি হলে ।
৩) হটাত খুব বেশি ব্যায়াম করলে ।
৪) কিডনি রোগ হলে ।
৫) শারীরিক অসুস্থতার সময় প্রয়োজনের তুলনায় খাবার কম খেলে ।
৬) এক সময়ের খাবারের থেকে পরবর্তী সময়ের খাবারের সময়ের ব্যাবধান বেশি হলে ইত্যাদি ।


হাইপোগ্লাইসেমিয়া এর লক্ষণ সমূহ-


১) ঘাম হবে,শরীরে ও মনে অস্বস্তি হবে।
২) বুক ধড়ফড় করবে।
৩) হাত পা কাঁপবে।
৪) মাথা ব্যাথা হবে।
৫) চোখে ঝাপসা দেখবে ।
৬) অকারনে মেজাজ খারাপ হতে পারে , বিভ্রান্তি হবে।
৭) অতিরিক্ত ঘুম এসে যেতে পারে।
৮) অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।


কোন অবস্থাতে উপরের লক্ষণ দেখা গেলে সাথে সাথে গ্লুকোজ, চিনি বা মিস্টি জাতীয় খাবার খেতে হবে । মিষ্টি খেতে ভয় পাওয়া যাবে না। কোন কারনে ভুল হলেও মিষ্টি খাবার কারনে রক্তের চিনি একদিন বেড়ে গেলে খুব বেশি বিপদ হবে না, কিন্তু হাইপোগ্লাইসেমিয়া এর কারনে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে, হতে পারে ব্রেইন ডেথ । মিষ্টি খাবার কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি সুস্থ বোধ করবেন। এরপর ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। হাইপোগ্লাইসেমিয়া এর কারনে অজ্ঞান হয়ে গেলে সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গ্লুকোজ ইঞ্জেকসান দিতে হবে ।
মনে রাখতে হবে এটা একটা মেডিক্যাল ইমারজেন্সি । তাই ডায়াবেটিস রোগীরা হাতের কাছে সব সময় টফি, চকোলেট, গ্লুকোস ট্যাবলেট সাথে রাখবেন ।



Nabadibakar_Writer_49


অস্তিত্বের পশ্চাৎগমন
- শামসুজ্জোহা বিপ্লব

ধুমকেতুর মত আগমনে, তোমার অস্তিত্ব টের পেলাম,
আমার বুকের বাঁ পাশে।
তুমি মিশে গেলে, আমার অস্তিত্বে, আমার অনুভূতিতে, আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে।
ধীরে ধীরে তুমি আমার স্নায়ু, মস্তিষ্ক, রক্ত শিরায়, মিশে যেতে শুরু করলে।
আমার প্রতিটি হরমোনের সাথে হয়ে গেল,
তোমার অবিচ্ছেদ্য সর্ম্পক।
আমার প্রতিটি, কথায়, কাজে, আবেগে
তোমায় খুঁজে পেতে শুরু করলাম।
আমার বেশ ভালই লাগছিল,
মনে হচ্ছিল, আমি এক নতুন জগতের মানুষ
অন্য রকমের মানুষ, ভালবাসার মানুষ।
কিন্তু, ১৩ ফেব্রুয়ারীর ঝড়ে,
সহসাই তোমার পশ্চাৎগমন শুরু হল।
তুমি বের হয়ে যেতে চাইছো, অস্তিত্ব, স্নায়ু, হরমোন এবং আমার রক্তশিরা থেকে।
শেষপর্যন্ত তুমি ঠিকই বের হয়ে গেলে,
তোমার অস্তিত্ব নিয়ে।
শুধু আমিই পারলাম না। 
তোমাকে স্নায়ু, হরমোন, রক্তশিরা, মস্তিষ্ক এবং আমার বুকের বাঁ পাশ থেকে মুছে ফেলতে ।
বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।



Nabadibakar_Writer_30

আঁধার রাতের স্বপ্ন তুমি
- মনিরা ফেরদৌসি

দুচোখ ভরা স্বপ্ন আমার
রাহু করেছে গ্রাস
স্বপ্নেরা গেছে ঝরে
ভেঙেছে ইচ্ছে-আশা
শরতের দুপুরে
আবেগি মন
সাজবে বিকেল
রাঙিয়ে ভুবন ।।
তোমায় খুঁজি স্বপ্ন গানে
বিকেল বেলার
অবসর মাঝে
বিষন্ন আঁধার কেটে
জেগেছে আলোর ফোয়ারা
পারিনি আজও বুঝতে
ছিলে তুমি হৃদয়ের
সাথে মিশে স্পর্শের বাহিরে ।।
বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।

শরীর স্বাস্থ্য : ধারাবাহিক পর্ব - ০৭ ( রক্ত বাড়ায় কলার মোচা )
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


সবজিবাজারে শোভা পাচ্ছে কলার মোচা। বর্তমান সবজিগুলোর মধ্যে দৃষ্টিনন্দন কলার মোচা আয়রনে ভরপুর। আয়রন দেহে রক্ত বাড়ায়। রক্তের মূল উপাদান হিমোগ্লোবিনকে করে শক্তিশালী। ত্বক, চুল ভালো রাখতে এই সবজির আয়রন রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এতে ক্যালসিয়াম, আয়োডিন, ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণও রয়েছে যথেষ্ট। এই উপকরণগুলো দাঁতের গঠনেও রাখে অগ্রণী ভূমিকা। তবে কলার মোচা বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি হয়। কলার মোচার খোসা খেতে হয় না। ভেতরের ফুলগুলো খেতে হয়। যেকোনো প্রকার রক্তশূন্যতার জন্য কলার মোচা ভীষণ জরুরি। এ ছাড়া এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’। রাতকানা রোগ আছে এমন শিশুদের জন্য কলার মোচা খুবই দরকারি। গর্ভস্থ শিশুর প্রায় ৭০ ভাগ মস্তিষ্কের গঠন মায়ের পেটে থাকাকালে হয়ে যায়। তাই যেসব মা কলার মোচা, কাঁচকলার তরকারি নিয়মিত খান, তাঁদের রক্তশূন্যতা সহজে আক্রমণ করে না। হাড়ের জটিল কোনো অপারেশনের পর বা প্লাস্টারের পর এই সবজির আয়রন রক্ত বাড়াতে এবং হাড় দ্রুত শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। মেনোপোজ হওয়া নারীদের হাড় শক্ত হওয়ার জন্যও দরকার এই সবজি। বয়স্ক নারী-পুরুষ ও বাড়ন্ত শিশু, খোলায়াড় বা যাঁরা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন তাঁদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ এই সবজি। তাই টাটকা খাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।



প্রথম দেখা

- শামসুজ্জোহা বিপ্লব

 

অডিটোরিয়ামে ঢুকতেই মেয়েটির দিকে চোখ পড়ল রাসুর। সে আর চোখ ফেরাতে পারছে না। নিজেকে কোন মতে সামলে নিয়ে, একটা সিটে ধপাস করে বসে পড়ে। তার মনোযোগ মঞ্চের অনুষ্ঠানের দিকে যাচ্ছে না। তার মন পড়ে আছে পাশের মেয়েটির দিকে। 

ছোট্ট একটা কালো টিপ পড়েছে কপালে, ছিমছাম দেহের গঠন, চেহারাটা যেন স্নিগ্ধ মাঁয়ায় ভরে আছে। ঠোঁটে হালকা লিপিস্টক দেয়া। কেমন জানি মনোমুগ্ধকর চেহারা। চোখ পড়লে আর ফেরাতে মন চায় না। মেয়েটি দেখতে ধবধবে সুন্দরী নয়। কিন্তু একটা লাজুক লাজুক ভাব আছে। মেয়েটির অন্যকোন দিকে খেয়াল নেই। পলক না ফেলে, অনুষ্ঠান দেখে যাচ্ছে। রাসু বারবার ভাবছে। ঐ মেয়ে এদিকে একটু তাকালেই তো হয়।  আর রাসু অনুষ্ঠান দেখা বাদ দিয়ে তাকে দেখছে। একসময় অনুষ্ঠান দেখতে আর ভাললাগে না। সে বাইরে চলে আসে। ভাবতে থাকে মেয়েটির সাথে পরিচিত হতে পারলে ভাল হত। এরকম মেয়ের দিকে আজীবন তাকিয়ে থাকা যায়, কোন স্বার্থ ছাড়া। না, কিছু একটা করতে হবে। পরিচিত হতে পারলে খারাপ কি?

আর কিছ না হোক অন্তঃত ফ্রেন্ড তো হওয়া যাবে।

রাসু ভাবছে, কোন ইয়ারে পরবে? হয়তো ফার্স্ট ইয়ার হবে। ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েদের, এসব অনুষ্ঠানের প্রতি অনেক বেশী আকর্ষন থাকে। আর দেখতে তেমন আহামরি বড়ও মনে হচ্ছে না। 

সে কি তাকে ডেকে কথা বলবে? কি বলবে সে?

মেয়েটিকে নাম জিজ্ঞাসা করলে, যদি উল্টাপাল্টা কিছু বলে। তখন সে কি করবে? 

শ্যালা, পুরো কেলেঙ্কারী হয়ে যাবে। ইজ্জত বলে আর কিছ থাকবে না। এরকম দুনিয়ার সব অজানা প্রশ্ন এসে তার মাথার উপর ভর করে। 

জিন্স প্যান্টের পকেটের ভিতর হাত দিয়ে, রাসু মোবাইল টা বের করে। কাকে ফোন দেয়া যায় এ মুহুর্তে। এ সব ভাবছে, আর এক এক করে মোবাইলের কনট্যাক্ট নাম্বার গুলো টিপছে। 

হ্যা . .  !

একটা নাম্বার পাওয়া গেছে , নাম রিয়াদ। 

রাসুর ভার্সিটির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ফ্রেন্ড।  পলিটিক্স না করলেও রিয়াদের সাহস আছে বলা যায়। এর আগের কয়েকটা ঘটনায় রাসু সেটা বুঝতে পেরেছে। এ মুহুর্তে ওকেই দরকার। 

-হ্যা . . ! 

-রিয়াদ কোথায় তুই?

-কেন রব হলে, কি হইছে?

-না কিছু হয় নাই। তুই একটু সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর সামনে আয় তো। খুব দরকার।  

-কি দরকার? মোবাইলে বল। 

-মোবাইলে বলা যাইব না। তুই আয়। 

-না বললে যাইতাম না। আমি ঘুমাই। শালার পুত। একটি সুন্দরী মাইয়া দেখছি তাড়াতাড়ি আয়। 

-সুন্দরী মাইয়া। তুই দুই মিনিট দাঁড়া। আমি আইতাছি  . . .।

-আচ্ছা আয়।

কয়েক মিনিটের মধ্যে রিয়াদ চলে আসে সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর সামনে। 

-মামা, মাইয়া কই . . .? 

-লাইব্রেরী অডিটোরিয়ামের ভিতরে। 

শোন, মেয়েটাকে আমার ভাল লাগছে। মেয়েটের সাথে আমরা কথা বলবো, নাম ,পরিচয় জানবো। 

কোন ঝামেলা করা যাবে না|

-না . .। ঝামেলা করবো কি জন্য?

চল মেয়েটাকে আগে দেখি। 

অডিটোরিয়ামের ভিতর গিয়ে, রাসু মেয়েটাকে দেখায়। মেয়েটাকে দেখে রিয়াদের মুখ দিয়ে আর কোন কথা বের হয় না . . . . . . .।

রাসু, রিয়াদকে একটু থাক্কা দিয়ে বলে।

কি হল তোর?

বাইরে আয়. .।

এক প্রকার রিয়াদকে টেনেই বাইরে নিয়ে আসে। 

এতহ্মনে রিয়াদের মুখে কথা বের হয়।

-মামা, মেয়েটা তো সেই। পুরাই হুরপরী। তুই চশমার ভিতর দিয়ে, এত সুন্দরী মাইয়া দেখলি কেমনে?

তোর তো চোখ আছে, মামা। 

-কেন, তুই কি এতদিন ভাবছস। আমার চোখ নাই। 

-ঠিক তা না। 

-বাদ দে এসব। কি করা যায়?

তাই বল।

-রিয়াদ কনফিডেন্টলি বলে, মেয়েটা বের হলে আমরা ডাক দিয়া কথা বলমু। নাম, পরিচয়, জিগামু। বাকীটা পরে দেখা যাইবা। 

-রাসু বলে মামা,আমার খুব ভয় লাগে। মাইয়া যদি সিনক্রিয়েট করে|

-না কিছু করবো না।

সিস্টেমে কাজ করা লাগবো।

-মামা, তুই যা ভাল মনে করস কর।

দু'জনে লাইব্রেরীর সামনে অপেক্ষা করতে থাকে। 

কিছুহ্মন পর, রিয়াদ হাসতে হাসতে বলে উঠে। 

-মামা, মাইয়াটা তোমার লগে যায় না। তুমি আমারে দিয়া দাও। 

-ঐ শালা কি কস এই গুলা?

এখনো কিছু হইল না। 

আর তুই গালফ্রেন্ড নিয়া টানাটানা শুরু করছোস। চুপ কইরা থাক। কি করা যায় সেইটা ভাব?

-ভাবিভাবির কিছু নাই। মাইয়া বের হইব, ডাক দিয়া কথা কমু। কাহিনী শেষ।

-খুব তো কইতাছস। দেখা যাইবো নি। 

ভাবতে ভাবতে রাসু পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে উদাসীন মনে আয়েশ করে টানতে থাকে।

প্রায় এক ঘন্টা পর মেয়েটি অডিটোরিয়াম থেকে বের হয়। রাসু, রিয়াদকে হ্যাচকা টান দিয়ে বলে। 

-মামা দেখ, মেয়েটা বের হইছে। 

রিয়াদ আর রাসু মেয়েটির পিছন পিছন হাঁটতে থাকে। আর দু'জনেভাবতে থাকে কি বলা যায়?

মেয়েটা শহীদ মিনার পার হয়ে লেডিস হলের যাচ্ছে। 

-রাসু বলে, মামা। মেয়েটাতো হলের দিক যাচ্ছে ।

-রিয়াদ বলে, হলে থাকে মনে হয়। 

মামা,তোর হাঁটার গতি স্লো হইতাছে কেন?

মেয়েটা তো চইলা যাইতেছে। আরে,  যাইব না। ডাক দিয়া কথা বলবো নি। 

একসময় মেয়েটি হাঁটতে হাঁটতে শামসুন্নাহার হলে চলে যায়। ওরাও পিছন পিছন হাঁটতে হাঁটতে হল পযর্ন্ত যায়। রাসু আর রিয়াদের, মেয়েটির সাথে কথা বলা হয়ে ওঠে না। তারা একই সাথে হতাশ ও বিধ্বস্ত হয়ে ফিরে আসে। 

রাসুর মনটা ভীষন খারাপ। তার চেহারের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। 

-রিয়াদ বলে, মামা।  তুই মন খারাপ করতাছোস কেন?

আজকে কথা কই নাই তো। কি হইছে?

আর একদিন কথা বলবো। মেয়েটা আর যাবে কোথায়?  হলেই তো থাকে। আমি খোঁজ নিব নি। 

তুই টেনশন করিস না। 

রাসু ভালই করেই জানে। এই মেয়েটির সাথে আর কখনো কথা হয়ে উঠবে না

-রাসু কিছুটা রাগান্বিত স্বরে বলে, তুই আর কথা কইস না। তোর কথা শুনতে আর ভাল লাগতাছে না। 

রাসু, রিয়াদকে বিড় বিড় করে বলতে থাকে। 

আমাদের দিয়ে কিছু হইবো না। আমাদের সীমাটা শুধু পছন্দ আর ভাললাগা পযর্ন্ত। এর পরে আমরা আর কিছু করতে পারি না। 

-রিয়াদ ঝাড়ি দিয়ে বলে ওঠে। তুই এত ইমোশনাল হইতাছোস কেন?

একটা মাইয়াই তো। এটা না হইলে আর একটা হইবো। এত ইমোশনাল হওয়ার কি আছে?

-হ, আর ইমোশনাল হমু না। একটা সিগারেট বের কর|

রিয়াদ, একটা সিগারেট ধরিয়ে, রাসুকে দেয়। রাসু, সেটা গোল গোল করে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে টানতে থাকে।

রাসুর ক্যাম্পাসে  প্রেমে পড়া হয়ে ওঠে না। এখনো হয়নি। তবে যতটুকু জানি চেষ্টা অব্যাহত আছে। 

পরবর্তীতে রাসু, মেয়েটির খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছিল। মেয়েটি ফিজিক্সে  চতুর্থ বর্ষে পড়ে|

আর, তারা কেবল প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে. . . . .!

বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।



বন্ধ হয়নি শিশু শ্রম : প্রয়োজন আইনের বাস্তবায়ন

- সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান


বিভিন্ন  আইন , নানা উদ্যোগ আর আয়োজনের পরও যেন বেড়েই চলছে শিশু শ্রম। লাখ লাখ শিশু শ্রম দিচ্ছে কল কারখানা, গ্যারেজে, রিকশায় ওয়ার্কশপে। অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা আর দারিদ্রের জন্যই বেড়েই চলছে শিশু শ্রম। জীবিকার তাগিদে   জীবনের শুরুতেই কোমলমতি শিশুরা মুখোমুখি হচ্ছে কঠিন বাস্তবতার। যে বয়সে হাতে থাকার কথা বই - কলম। সেই বয়সেই হাতে তুলে নেয় কঠোর শ্রমের হাতিয়ার। দিনে পর দিনে বাড়ছে জনসংখ্যা  আর বাড়ছে হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা। পরিবারকে দুমুঠো অন্ন আর অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন করতে যোগ  দিতে  বিভিন্ন পেশায়। এদের মধ্যে অনেক শিশুই ঝুকির্পূণ পেশায় নিয়োজিত। শিশু শ্রম নিরোসনে নেই কোন কার্যকর উদ্যোগ। আমাদের দেশে স্কুল পড়ুয়া শিশুদের  বৃহৎ একটি অংশ বিদ্যালয়ে যায়না। প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে স্কুলে গমন করতে পারেনা। অনেকেই বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও চালিয়ে যেতে পারেনা পড়ালেখা। অর্থাভাবে থেমে যায় পড়াশোনা। পরিবারে অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে গিয়ে বিসর্জন দিতে হয়  তার শিক্ষাজীবন। পরিবারকে সাহায্য করার জন্য অল্প বয়সেই কাজে নিযুক্ত হতে হয় অধিকাংশ শিশু। মাছের ভাড় শ্রমিক, ওয়ার্কশপের কারিগর, মিস্ত্রি, মাটি কাটা, রিকশা চালানো, গাড়ির হেলপার, ঠেলা গাড়ি-ভ্যানগাড়ি চালানো, হোটেলবয়সহ বিভিন্ন কাজে  জড়িয়ে যাচ্ছে এসব কোমলমতি শিশুরা। ব্রাজিলে শিশু শ্রম বিষয়ক ৩য় আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়- ২০১২ পয়র্ন্ত  বিশ্বে  এখনও শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১৬ কোটি ৮০ লাখ। আমাদের দেশেও শিশু শ্রমিকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। বাংলাদেশে ২০ লাখ গৃহ শ্রমিকের মধ্যে ৯৩ শতাংশই  হচ্ছে অর্থ্যাৎ ১৮ লাখ ৬০ হাজার শিশুই গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছে। এসব গৃহশ্রমিকরা মানসিক, শারিরিক, মৌখিক, যৌন নির্যাতন ও আর্থিক শোষণের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশে প্রায় ৩০০ ধরণের কাজ  করে থাকে শিশুরা। এসবের মধ্যে ৪৫ টির বেশিই কাজই হচ্ছে অধিক ঝুকিপূর্ণ। শিশু শ্রমিকের মধ্যে ৩২ ভাগ শিশু যৌনকর্মে যুক্ত।  শ্রমিকের বৃহৎ একটা অংশ হচ্ছে পথ শিশু। বেঁচে থাকার তাগিদে এরা নিজের শ্রম বিভিন্নভাবে বিক্রি করে থাকে। পথ শিশুদের বৃহৎ অংশ বিভিন্ন অপরাধ কর্মে জড়িত হয়ে যায়। শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি। শহরে কাজ করে থাকে ১৫ লাখ ও  গ্রামে ৬৪ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে। এসব শিশু শ্রমিকের মধ্যে ৪৫ লাখ শিশু ঝুকির্পূণ পেশায় যুক্ত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুারো ও  আইএলও’র জরিপ মতে কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ রয়েছে ৪৫ ধরণের। আর এর মধ্যে ৪১ টি কাজে অংশগ্রহণ করে শিশুরা। শিশু শ্রমিকের মধ্যে ৭৩ দশমিক ৫০ ভাগ শিশু হচ্ছে পুরুষ আর ২৬ দশমিক ৫০ ভাগ নারী। ৬ দশমিক ৭০ ভাগ আনুষ্ঠানিক খাতে আর ৯৩ দশমিক ৭০ ভাগ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ( বিবিএস)  ২০০৮ সালের জরিপ অনুসারে দেশে শূণ্য থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত  শিশুর সংখ্যা ৬ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এদের মধ্যে প্রায় ৩৫ লাখ শিশু নানা কাজের সাথে জড়িত। ‘ শৈশব বাংলাদেশ ’   নামে এক সংগঠনের জরিপ অনুযায়ী রাজধানীতে প্রায় তিন লাখ শিশু গৃহ পরিচালিকার কাজ করছে যাদের বয়স ১৬ বছরের নিচে। ইউনিসেফের তথ্য অনুসারে গৃহপরিচালিকার ৮৬ শতাংশ মেয়ে। ৩০ শতাংশের বয়স ৬ থেকে ১১ বছর আর বাকিদের বয়স ১২ থেকে ১৬ পর্যন্ত। এরা প্রতিদিন ১৪-১৬ ঘন্টা কাজ করে থাকে। শিশু শ্রম বন্ধের জন্য মূলত প্রয়োজন দারিদ্র মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা। অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণের জন্য পরিবারের ছোট ছোট শিশুরা জড়িয়ে যায় বিভিন্ন কাজে। চায়ের দোকানে, গাড়ীর হেলপার,মুদির দোকানদার,সব্জি বিক্রি, ওয়ার্কশপে কাজ, বিল্ডি নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে থাকে। এসব শিশু শ্রমিক অনেকাংশে বেশি সময় কাজ করে থাকে কিন্তু তারা ন্যায্য মূল্য পায়না। কাজের চাপ থাকে প্রচুর। গৃহকত্রীর মেয়ে ঠিকই  স্কুলে যাওয়া আসা করে কিন্তু কখনো চিন্তা করেনি কাজের মেয়েটির কথা। কাজের চাপ সহ্য করতে না নীরবে কান্না কাটি করতে থাকে কিশোরীরা। কর্ত্রীর চোখ রাঙানিতে কাজের মেয়েরা অনেক সময় প্রতিবাদ করতে চাইলে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা অত্যাচার করতে থাকে। নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও হাত তোলে এসব অসহায়  শিশু শ্রমজীবিদের শরীরে। অনেক সময় জানা  যায় গৃহকৃত্রীর অসহ্য যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়। অনেক কিশোরী মানুষের বাড়িতে কাজ করা অবস্থায় বাড়ির কর্তা কর্তৃক যৌন হয়রাণির শিকার হয়ে থাকে। প্রতিবাদ করার সুযোগ পায়না ভিকটিম কিশোরী। জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ এর ৮ এর ৮.৯ বলা হয়  যে সকল প্রতিষ্ঠানে শিশুরা নিয়োজিত আছে , সেখানে শিশুরা যেন কোনরূপ শারিরিক, মানসিক, ও যৌন  নির্যাতনের শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে হবে। বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন। পাড়া মহল্লায় বিভিন্ন বাড়ীতে যারা কিশোরীদেরকে নিজেদের তত্তাবধানে রেখে কাজ করান আসলে কতটুকু মেনে চলেন জাতীয় শিশু নীতি। নিজের সন্তানকেই দেখেন আদরপূর্ণ দৃষ্টিতে আর কাজের মেয়েটির প্রতি যত্ন নেয়া তো দূরের কথা বরং অধিকাংশরাই বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে থাকেন। কেউ দৈহিক নির্যাতন আর  কেউ মানসিক কিংবা যৌন নির্যাতন। কাজের মেয়েটি নীরবে সহ্য করে থাকে কারণ সে অপারগ। অনেক সময় রাগে ক্ষোভে অভিমানে আত্মহত্যা করে থাকে। মেয়েটি মরে যায় কিন্তু এসব ভদ্রতার বেশে লুকিয়ে থাকা সমাজের অপরাধীরা শরীরে বসন্তের হাওয়া লাগিয়ে বেড়ায়। সিলেটের শেখ ঘাটে মাছ বাজারের চিত্র ভয়াবহ। এখানকার অধিকাংশ শ্রমিকই শিশু শ্রমিকের আওতাভুক্ত। কারো বয়স  সাত কিংবা কারো সতেরো বছর। স্বল্প টাকায় এরা মাছ বাজারে ক্রেতাদের মাছের ব্যাগ বহন করে থাকে। শেফেউল নামে এক ৭ বছর বয়সী নগরীর একটি দোকানে কাজ করে। সকাল ১০ টা থেকে শুরু আর শেষ হয় রাত ১০টায়। দোকানের কাজের পাশাপাশি মালিকের অন্যান্য কাজ করে দিতে হয় তাকে। পরিশ্রম অনুযায়ী সে ন্যায্য শ্রম মূল্য পায়না। শেফেউলের স্বপ্ন ছিলো বই হাতে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কিন্তু পারেনা কারণ সে  একজন শিশু শ্রমিক। রাশেদুল আলম  বলেন- শেফেউলের মতো আনাচে কানচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য শ্রমিক। সকল শিশু শ্রম বন্ধের জন্য প্রয়োজন  সচেতনতা ও আইন প্রয়োগ। সিলেট রেলওয়ে এলাকায়ও রয়েছে শিশু কুলিদের ছড়াছড়ি। এই পেশায় যুক্ত হওয়ার ফলে এদের মনমানসিকতার বিকাশ হয়না বরং কুসঙ্গে থাকার ফলে এরা বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ চক্রে জড়িয়ে যায়। সিগারেট, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক সেবনে এসব শিশু শ্রমিকরা অল্প বয়সেই অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। কাজের মন্দা  হলে এরাই বিভিন্ন অপরাধ করে থাকে। ঝুকিপূর্ণ শ্রমের মধ্যে অন্যতম হলো ওয়েল্ডিং এর কাজ।  ওয়েল্ডিং কাজে অনেক শিশু কাজ করতে গিয়ে চোখে আঘাত পেয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। অসুস্থ  হয়ে পড়লে এদের কোন খোজ খবর নেয়া হয় না। সিলেট জেলা বারের আইনজীবি সৈয়দ কাওসার আহমদ বলেন- শিশু শ্রম কমিয়ে আনতে হলে প্রয়োজন সুনির্দিষ্টভাবে আইনের প্রয়োগ ও কঠোরশাস্তির বিধান যাতে যারা শিশু শ্রমিক নিযুক্ত করে তারা যেন কিছুতেই মুক্তি না পায়। 

চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় কিন্তু শিশু শ্রম সমস্যার সমাধানে নেই কোন কার্যকরী ব্যবস্থা।  ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ ( ১৯৮৯)  এ স্বাক্ষরকারী ও অনুসমর্থনকারী প্রথম রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে  অন্যতম একটি হলো বাংলাদেশ। ১৯৯৪ সালে জাতীয় শিশু নীতি প্রণয়ন করা হয় বটে কিন্তু আজো সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের দেশে কোন  কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। শুধু ঢাকা বা সিলেট শহর নয় সারাদেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা। শ্রম আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিব্যি বৃদ্ধি পাচ্ছে শিশু শ্রম। শিশু শ্রম নিবারণ করতে হলে প্রয়োজন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ আর সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করা । শিশু ও মহিলা বিষয়ক স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন করা হয় যাতে তাদের ন্যায্য অধিকার লাভ করে। 

বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।



ছোট গল্প : বটগাছ

- মোঃ জাহিদুল ইসলাম (ভৌতিক গল্প )

 

করিম মিঞা একজন সাধারণ মানুষ। বাবার আদি ভিটে মাটিতেই নিজের আবাস গেরে আছেন। জায়গা-জমি যা ছিলো একে একে সব বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমানে জায়গা-সম্পত্তি বলতে এ পৈতৃক ভিটেটাই আছে। করিম মিঞার বাবা সৈয়দ শওকত মিঞা সবসময় বলতেন, আশে-পাশের চার-দশ গ্রামের সবার সম্পদ বিক্রি করলেও তাঁর ভিটের সম্পদের মত কেউ প্রভাবশালী হতে পারবেনা।

 

করিম মিঞা শুনেছে তার পরদাদারা 'সৈয়দ' বংশের ছিলেন। বাজারের ব্যাগ পর্যন্ত কখনো হাতে নেননি। তিনিও তার বাবাকে দেখেছেন বাজারে গেলে সবসময় সবচেয়ে বড় ও দামি মাছটা কিনে নিয়ে আসতে। বর্তমানে সৈয়দ বংশের নাম চুলোয় যাক ;দু'বেলা দু'মুঠো ভাত জোগাড় করতেই এখন তাদের হিমশিম খেতে হয়। নিজেদের পরনের ভালো কোন জামা-কাপড় নেই,  ভালো কোন খাবার নেই। ছেলে-পুলেও টাকার জন্য ঠিকমত ইস্কুলে যেতে পারেনা। বেচারা করিম মিঞা দিন দিন হতদরিদ্রের খাতায় নাম লিখাচ্ছেন।

 

করিম মিঞা অসুখে পড়েই এতসব গরমিল বাঁধিয়েছে। ঘরের চাল-ডাল, জমি-জমা এমনকি বউয়ের গহনা পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। ভিটে-মাটিতে একসময় বড় ঘর বিক্রি করে দিয়ে ঝনের ঘর উঠালো। করিম মিঞার বউ 'পরীমণ বানু' একসময় আশে-পাশের পুকুর-পাড় কিংবা নর্দমার আশ-পাশ থেকে কচুপাতা এনে গরম পানিতে ফুটিয়ে দিতেন ছেলে-পুলেকে।

 

করিম মিঞাও শরীর একটু সুস্থ হলে বেরিয়ে পড়তেন কাজের খোঁজে। প্রায়দিনই খালি হাতে বাড়ি ফিরতেন। করিম মিঞার অসুস্থ শরীর দেখে অনেকে কাজও দিতে চাইতোনা। বাড়ি ফিরেই শুনতে হতো বউয়ের তিরস্কার আর দেখতে হতো ছোট-ছোট ছেলে-পুলের শুকনো মুখ। প্রায়দিনই অনেক রাত করে বাড়ি ফিরতেন করিম মিঞা; আর তার অপেক্ষা করে পথ চেঁয়ে বসে থাকতেন পরীমন বানু। অভাবের অন্তরালে যেন এক প্রকৃত ভালবাসার প্রতিচ্ছবি !

 

করিম মিঞা সেদিন আর বাড়ি ফিরলেন না। হতদরিদ্রতা তাকে এতটাই হতাশ করেছিলে যে সে বেঁচে থাকার আশা পর্যন্ত খুঁজে পাননি। করিম মিঞার বাড়ীর পাশেই ছিল বেশ পুরানো একটি বটগাছ।বটগাছটির ডালপালা এতই বিশাল ছিল যে সবগুলো ডালপালাই বটগাছের নিচের ডোবার মত পুকুরে গিয়ে পড়েছে। কথিত আছে, মোঘল আমলে মোঘল সম্রাট আশে-পাশের গ্রামের লোকদের ছাঁয়ার কথা চিন্তা করে বটগাছটি লাগিয়েছিলেন। তৎকালীন আমলে, বর্তমানের মত বিভিন্ন প্রয়োজনে দূর-দূরান্তে যেতে হত। তখনকার আমলে বটগাছগুলো বর্তমানের ছাত্রীছাউনির মত উপকার করতো।

 

ভোরের আলো ফুটলো। চারপাশে বুলবিলির কিচিরমিচির শব্দে সবার ঘুম ভাঙলো। মুসুল্লিরা মসজিদ যাওয়া পথে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় একটা মৃতদেহ দেখতে পেল। অনেকে অবশ্য ভূত ভেবে ফজরের নামায  আদায় করতে মসজিদেই যায়নি।

 

চারপাশে সূর্যের ঝলমলে আলোতে পুরো পৃথিবী আলোকিত হয়ে উঠলো। এবার, সবাই নিশ্চিন্ত হলো, ঝুলন্ত লাশটাই করিম মিঞার। পরীমন বানু দিকশূণ্য হয়ে বারংবার কান্না করতে করতে জ্ঞান হারাচ্ছিলো। ছেলে-পুলেগুলো বাবা হারানোর কষ্টটা তখনো পুরোপুরিভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি ।  তবুও, মায়ের কান্না দেখে বুঝেছে কিছু একটা খারাপ হতে চলেছে !

 

বাঁশ কেঁটে চাটাই তৈরি করা হলো। করিম মিঞার লাশ গাছ থেকে নামানো হল। সবাই ভাবছে ভূত-পেত্নীর কাজ। করিম মিঞার গলায় যেহেতু বটগাছের ঝুলন্ত জটার প্যাঁচ ছিল তাই সবার এমনটাই ধারণা। পরীমন বানুর মুখে সবাই শুনেছে, করিম মিঞা আবার বেশ কয়েকদিন খুব রাত করে বাড়ি ফিরতো। সবাই যার যার মত সাহায্য করে করিম মিঞার শেষকাজ নির্বিঘ্নে শেষ করলো। এরপরদিন সকালে ঘটলো অন্য ঘটনা। গাছে তিনটে লাশ ঝুলে আছে।  পরীমণ বানু আর তাঁর দু'ছেলেপুলে। বিকৃতরূপ হয়ে আছে সবার। জিহ্বা অনেকটু পর্যন্ত বের হয়ে আছে । গ্রামবাসী এবারও সকলের সাধ্যমত করিম মিঞার পরিবারের শেষকাজ করলো। এখন এই জায়গাটা এতটাই ভূতুরে হয়েছে যে, দিনের বেলাও মানুষজন এ পথ মাড়াতে ভয় পায়। আর সন্ধ্যার পরতো এখান দিয়ে লোকজন একেবারেই আসা-যাওয় করেনা। কারন, এখন প্রায় প্রতিদিনই এখানে এসে কোন না কোন লোক ভয়ের শিকার হয়। বটগাছের নিচের ডোবার মতন নর্দমাটায় এক সময় গ্রামবাসী মিলে মাছ চাষ করতো কিন্তু, এখন আর কেউ মাছ চাষ করে না।

 

ইতোমধ্যে এই নর্দমাটাকে নিয়েও রীতিমত অনেক ঘটনা ঘটেছে। কোন ঘটনারই কোন সমাধান এই এলাকার গ্রামের মানুষ দিতে পারেনি। সবার কাছে এই নর্দমা ও বটগাছটি রহস্যময় হয়েই রয়ে গেছে।

 

(বর্তমান সময় থেকে পাঁচ বছর পর)

 

গ্রামেরই আরেক তরুণ আশরাফুল। গ্রামের চেয়ারম্যানের ভাগ্নে। শহর থেকে এসেছে গ্রামে ছুটি কাঁটাতে। বিশাল বটগাছ দেকে তো আশরাফুল ভিমড়ি খেয়ে পড়লো। আশরাফুলের সময়বয়সী এক তরুণকে বটগাছের জটা ধরে ঝুলতে দেখে, আশরাফুলও ঈর্ষান্বিত হলো। কিছুক্ষণ ঝুলতে ঝুলতে ছেলেটার সাথে পরিচয় হয়ে গেল। ছেলেটার নাম জাহিদ। চেয়ারম্যান বাড়ির পাশেই সে থাকে। ডোবার দিকে চোখ পড়তেই আশরাফুল দৌড়ে গিয়ে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়লো। এত্ত পানি!  জাহিদ বারংবার মানা করা সত্ত্বেও উঠে এলোনা। জাহিদ জেদ করে আশরাফুলকে রেখেই বাড়ি ফিরে গেল।

 

বাসায় এসে জাহিদ যথারীতি পড়তে বসে গেল। এদিকে এশার আযান হয়ে গেল। এখনও আশরাফুল বাসায় ফিরেনি। আশরাফুলের মা খুবই চিন্তায় পড়ে গেল। চেয়ারম্যানের চামচরা দলবল নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়লো।

 

জাহিদের বাড়িতে এসে আশরাফুলের খোঁজ করতেই জাহিদ বলে দিলো, এখনও বাড়ি ফেরেনি ও। আশরাফুলের মা কাঁদতে কাঁদতে বলছিলো, সেতো এতক্ষণ পর্যন্ত বাহিরে থাকে না। সেই বিকাল বেলায় বেরিয়েছে; এখন তো রাত দশটা।জাহিদ সবাইকে বললো তাকে শেষ কোথায় দেখেছে! 

 

বাড়ীর সবাই টর্চ লাইট,কুপি,হ্যারিকেন,লাঠি-সোটা হাতে নিয়ে আশরাফুলকে খোঁজার জন্য ঐ বটগাছতলায় চলে আসল । বটগাছের নিচে আসতেই প্রত্যেকের আলো নিভে যায়।  তাই আশরাফুলকে পুরো রাতজুড়ে খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি। এরপর, সবাই আশরাফুল, আশরাফুল বলে ডাকতে থাকে কিন্তু কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। পরিশেষে আশে পাশে সব জায়গায় খোঁজাখুজি করে আশরাফুলকে কোথাও না পেয়ে নিরাশ হয়ে সবাই বাড়ীতে ফিরে আসে। মসজিদের মাইক দিয়ে চারপাশে মাইকিং করে দেয়া হয় আশরাফুল নামের দশ-পনেরো বছরের লম্বা ৫'৯" , ছিপছিপে ফর্সা চেহেরার একটি ছেলে হারানো গিয়েছে। কোন সহৃদয়বান লোক যদি পেয়ে থাকেনন তাহলে তাকে চেয়ারম্যান বাড়ীতে পৌঁছে দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হল।

 

চেয়ারম্যান বাড়িতে শোকাহত পরিবেশ। দেখতে দেখতে সারারাত গেল। সকাল হলো। পুরো বাড়ীজুড়ে আবার কান্নার রোল পড়ে গেল। চেয়ারম্যানের শহুরে ভাগ্নে আশরাফুলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার দল বেঁধে সবাই ঐ বটগাছতলায় গেল। এবার পুকুরের ঐ বটগাছের

গোঁড়ায় গিয়ে সবাই আতঁকে উঠল। একি দেখছে তারা!

 

পুরনো বটগাছটার ঝুলে পড়া শিকড়গুলোর নিচে আশরাফুলের মাথা পড়ে আছে। বটগাছের শিকড়টা ছিল ডোবার পানির মধ্যে। সেই মোতাবেক তার মাথাটা পানির মধ্যেই ডুবানো ছিল। সকলে ভাবছে পানিতেই ছেলেটা হয়তোবা বসে আছে। আশরাফুলের মা দৌড়ে গিয়ে আশরাফুলের মাথার চুল টেনে পানি থেকে টেনে নিয়ে আসতে গেলেন। আশরাফুলের দেহবিহীন মাথাটা উঠে আসলো। তৎক্ষণাৎ, আশরাফুলের মা বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন।  দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আশরাফুলের পুরো দেহ কোথায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। মাথা বেয়ে তাঁজা রক্ত ঝরছে। মনে হচ্ছে, মাত্র কেঁটে গেছে কপালের কোণাটা। মুহুর্তেই, রক্তে লাল হয়ে গেল পুরো ডোবার পানি। তারপর গ্রামের কয়েকজন মিলে আশরাফুলের মাথাটা গণচক্ষু থেকে আড়াঁল করে রাখলো।

মাথাটা অসাবধানবশৎ রাখতে গিয়ে দেখলো, চোখগুলো উপড়ানো। নাকে মুখে ভয়ংকর আচড়ঁ ও কামড়ের দাগ। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবার মধ্যে ভয় চলে আসলো। এবার সবাই ভাবতে লাগল চেয়ারম্যানের ভাগ্নের দেহ তাহলে কোথায় থাকতে পারে। যেহেতু এখানেই তার মাথা পাওয়া গেছে। দেহও এখানেই পাওয়া যাবে। ছোট্ট ডোবাতে খুঁজে দেখার সিদ্ধান্ত হলো। কিন্তু সবার মাঝে কেমন একটা ভয় কাজ করছে তাই কেউ ডোবায় নামতে রাজি হলোনা। পরে জাল ফেলে খোজাঁর সিদ্ধান্ত হলো। বিভিন্ন পাড় থেকে একের পর এক জাল ফেলতে লাগলো ডোবার পানিতে।

প্রায় তিন-চার ঘন্টা চেষ্টার পরে এক সময় কিছু হাড় উঠে আসে জালে। কিন্তু, আশরাফুলের দেহ কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না। অনেক চেষ্টা করেও আশরাফুলের দেহ খুঁজে না পেয়ে সেই মাথাকেই কাফন মুড়িয়ে কবর দেয়া হল।  

 

আশরাফুলের মৃত্যুর সপ্তাহ খানেক পরের ঘটনা। রাত তখন প্রায় দেড়টা বাজে। আশরাফুলের মা-বাবা শহরে চলে গেছে। পুরো গ্রামে নিরব আতঙ্ক বিরাজ করছে। চেয়ারম্যান সাহেব ঘুমিয়ে আছেন। এমন সময় দরজায় কে যেন নক করল।

 

চেয়ারম্যান সাহেবের বউও নিভৃতে ঘুমাচ্ছেন। হঠাৎ চেয়ারম্যানের বউয়ের ঘুম ভাঙ্গলো। এতো রাতে কে আসবে। তাই মনে ভয় এসে গেল। স্বামীকে ডাকবে কিনা ভাবছিলেন। এমন সময় আবার কাঠের দরজায় নক হলো। এবার চেয়ারম্যানের বউ ভাঙা কণ্ঠে বললো,

 

"বাইরে কে?"

 

বাহির থেকে বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ হচ্ছে। চেয়ারম্যানের বউ আবার উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললেন,

 

"ওখানে কে দাঁড়িয়ে"

 

কিছুক্ষণ গম গম শব্দের পর আওয়াজ এল নানু, আমি আশরাফুল। গোপালপুর বাজারে যেয়ে পথ হারিয়ে ফেলছিলাম। দরজাটা খোল আমার খুব ভয় লাগছে। আমি ঘুমাবো।  এ কথা শুনে চেয়ারম্যানের বউ আৎকে উঠলো। অশ্রুমেশা কণ্ঠে বললো,

 

" নানু! দাঁড়াও আমি দরজা খুলতাছি ! "

 

চেয়ারম্যানের তাঁর বউয়ের কথা শুনে ঘুম থেকে উঠে গেলন। কি হয়েছে তোমার? তুমি কার সাথে এমন করে কথা বলছ?

 

"তোমার নাতি আইছে, তাড়াতাড়ি উইঠ্যা দরজা খুইলা দেও"

 

"কি কও, তুমি। কোন নাতি ? "

 

"নিরালার পোলা আশরাফুল আইছে"

 

"কি যে কও না। সে আবার কোথা থেকে আসবে। সেতো মরে গেছে।"

 

"আমি স্পষ্ট হুনছি আশরাফুলের গলা।  সে ঐ গোপালপুর মেলার হাটে গেছিলো। ফিরা আইছে "

 

"তুমি পাগল হয়ে গেছো নাকি? মরা মানুষ আবার ডাক দিতে পারে নাকি? কয়েকদিন আগেই তো দেখলা তাকে কবর দিছিলো"

 

"না, আমি পাগল হয়নি। আমি স্পষ্ট হুনছি নাতি আমারে নানু বইলা ডাক দিছে। তুমি তাড়াতাড়ি দরজা খুল। নাতি আমার ভয় পাইতাছে"

 

"রানু বানু, তুমি ভুল শুনছো। ঘুমায়া পড়!"

 

"আমি ভুল শুনি নাই। আমি দরজা খুলে দেখমু"

 

"তুমি এত রাতে দরজা খুলবা না বলে দিলাম"

 

"আমি দরজা খুলবই।আমার নাতি তোমার তো আর না..."

 

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয়ে গেল তুমুল বাক-বিতন্ডা। রানু বানু তার স্বামীকে কিছুতেই বিশ্বাস করাতে পারছিলের না যে তার নাতি তাকে ডাক দিয়েছে। তাই জোরাজোরির এক পর্যায়ে স্বামীর মতের বিরুদ্ধে গিয়ে রানু বানু দরজা খুলে দিলো। দরজা খুলে দিতেই দেখলো চারপাশে কর্পূরের ঘ্রাণ। গরুগুলো অনবরত ডেকে চলছে। রানু বানু ধার্মিক মানুষ। তবুও, কিছুটা ভয় পেলেন। একটু দূরে দৃষ্টি দিতেই দেখলেন বাড়ির গোয়ালঘরের পেছনে বাঁশঝাড়ের আগায় কাফনের কাপড় পড়া অবস্থায় শূন্যে ভাসছে এক লোক।চোখগুলো লাল হতে হতে কালো হয়ে গেছে। এ দৃশ্য দেখে রানু বেগম আর্ত-চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে গেলেন। চেয়ারম্যান সাহেব পিছনে পিছনে আসলেন কিন্তু তিনি এসব কিছুই দেখলেন না।বাড়ির কামলা, কাজের লোক আর আশে-পাশের লোকজন চিৎকার শুনে চলে আসলো।

 

মসজিদের ইমামের বিবিকে ডেকে আনা হলো। পানি পড়া দেয়া হল। ঝারফুকও  করা হল। ভোর সকালে রানু বানুর জ্ঞান ফিরলো। মাঝে মাঝে তিনি আশরাফুল, আশরাফুল বলে প্রলাম বকছিলেন।

 

পূর্ব আকাশে সূর্য যখন তার পুরো আলোর ডালা মেলে ধরেছে; রানু বানুও ধীরে ধীরে দুনিয়ার মায়াত্যাগ করলেন। চেয়ারম্যান সাহেব পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে রাতের কথা কাউকে বললেন না। কিন্তু আজও সেই আশরাফুলের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি গ্রামবাসী। তার পর থেকে একের পর এক ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে রহস্যময় এই বটগাছের বেদীতে।

 

রানু বেগমের মৃত্যুতে পুরো গ্রামের মধ্যে অশান্তি চলে আসে। তিনি খুব ভালো ও ধার্মিক ছিলেন। তাঁর মত ধার্মিক নারী পুরো গ্রামজুড়ে আর দু'টো ছিলেননা। বটগাছে ঘটে গেল একের পর একেক ঘটনা।

 

রানু বেগমের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর ঘটলো অন্য এক ঘটনা। কোথা থেকে এক অচেনা মহিলা এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলো। সকাল বেলা লোকজন মসজিদে যাওয়ার পথে দেখে ঐ মহিলার জিহ্বা বের করা উলঙ্গ দেহ রশিতে ঝুলে আছে। খোঁজ লাগানো হলো কোন গ্রামের মহিলা কিন্তু ; কোন খোঁজ পাওয়া গেলনা। তরুণ যুবকের কেউ কেউ আবার লোলুপ দৃষ্টিতে দেখছিলো কিন্তু কেউ ভয়ে মহিলার লাশ ছুতে যায়নি। এমনকি কারো সাহস হচ্ছে না তার লাশ নামাতে। গ্রামবাসী এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বারকে খবর দেয়। চেয়ারম্যান আসলেও মেম্বার আসেনা। তিনি এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে ভর দুপুরে পুলিশ এসে লাশ নামিয়ে নিয়ে যায়। সেই থেকে গ্রামের মাঝে আতঙ্ক আরো বেড়ে যায়। কেউ কেউ গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যাওয়ার চিন্তা করতে থাকে।

 

গ্রামবাসীদের এ আতঙ্কগ্রস্ত মন দেখে গ্রামের চেয়ারম্যান, মেম্বর, শিক্ষক মিলে গোপন মিটিং বসানো হয়। সিদ্ধান্ত হয়, গ্রামবাসীরা সবাই মিলে এই ডোবা ভরাট ও পুরোনো জটাধারী বটগাছ কেটে ফেলার। কিন্তু যেদিন রাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সেদিন রাতেই সবাইকে একই স্বপ্ন দেখানো হয়, 

কেউ যদি এই বটগাছ কাটতে চায় তাহলে তার পুরো চৌদ্দ-গুষ্ঠি নির্বংশ করে দেয়া যাবে। তাই আর কেউ সাহস করে বটগাছটাও কাটতে যায় না। করিম মিঞার ভিটে এখন পরিত্যক্ত।  রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়ও ভুলেও কেউচোখ কিংবা আঙুল তুলে ওদিকে তাঁকায় না।

 

কিছুদিন পর এই নিয়ম করে মৃতের ঘটনা বন্ধ হয়ে যায়। গ্রামবাসীও স্বস্তি পায়। গ্রামবাসীদের মধ্যে আতংকটা কিন্তু রয়ে যায়। গ্রামের কল্যাণের স্বার্থে প্রতি শুক্রবার গ্রামের মসজিদে কোরাণ-খানি ও মিলাদ-মাহফিলের ব্যাবস্থা করা হয়।

 

বটগাছের পাশের রাস্তাটা খুব অন্ধকার দেখা যায়। রাত-বিরাতে কেউ বাজারে যেতে পারেনা, আসতে পারেনা। সেদিন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয়া হল, বটগাছের নিচে পঁচিশ ওয়াটের একটা এনার্জি বাল্ব ঝোলানো হবে। বাল্ব ঠিকই ঝোলানো হল কিন্তু দেখা দিল নতুন বিপত্তি। বাল্ব কিছুতেই জ্বলছেনা।  নতুন বাল্ব তাই ফেরত দিতে আবার বাজারে পাঠানো হল। দোকানদার জ্বালিয়ে দেখিয়ে দিলেন, বাল্ব ঠিকই আছে। বাল্ব এবারও জ্বললো না। তাই, গ্রামবাসী আর বটগাছে বাল্ব ঝোলাতে সাঁয় দিলোনা।

 

বটগাছটার কথা একসময় সবাই ভুলে যাচ্ছিল। বটগাছের বেদী গোবর, লাকড়ি কিংবা তোশক শোঁকানোর জায়গা হিসেবে ব্যাবহৃত হত। সব ঘটনা একসময় সবাই ভুলে যায়।

 

জাহিদ একসময় লেখাপড়া করতে শহরে চলে আসে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। মাঝে মাঝে সাপ্তাহিক বন্ধে বেড়াতে আসে। এমনই এক সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাড়িতে চলে আসার চিন্তা করে। রাতের ট্রেন ধরে শহরে আসতে আসতে সন্ধ্যে হয়ে যায়। এরপর, রিক্সা নিয়ে গ্রামের বাজারে চলে আসে। রিক্সা কিংবা গাড়ি-ঘোড়া এ রাস্তা দিয়ে আসেনা। একমাত্র হেঁটেই যেতে হবে বাড়িতে। বাজার থেকে বাড়ির ছোটদের জন্য কিছু ভাঁজা-পোঁড়া নিয়ে রাত সাড়ে বারোটার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। বেশী রাত হওয়ায় রাস্তায় কোন জন-মানব ছিলোনা। প্রথমত গ্রাম, দ্বিতীয় রাত বারোটা। গ্রামে রাত আটটা বাঁজলেই যে যার মত খেয়ে-দেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, সে ক্ষেত্রে এখন রাত বারোটা!

 

বিশালাকার বটগাছের পাঁশ কাটিয়ে বাড়ি যেতে হবে। জাহিদদের বাড়ীতে যাওয়ার এই একমাত্র একটি রাস্তা। এর কোন বিকল্প রাস্তা নেই। এই বটগাছ ক্রসিং করেই তাদের বাড়ীতে আসতে হয়। এছাড়া কোন উপায় নেই। বটগাছের কাছাকাছি আসতেই ধীরে ধীরে তার পূর্বের ঘটনাগুলোর কথা মনে পড়তে থাকে। আর অমনি তার মধ্যে ভয় কাজ করে। জাহিদ যতই সামনে আসতে থাকে ততই দ্রুত হৃদপিন্ড কাঁপতে থাকে। হৃদপিন্ডটা এত জোড়ে তরপাতে থাকে যে মনে হয় বুকের খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসবে। জাহিদ বটগাছের কাছাকাছি এসেই দেখতে পেল ছয়জন লোক বসে আছে। জাহিদ মনে একটু সাহস পায়। কাছে গিয়ে ডাক দিতেই লোকটা মুখ ঘুরিয়ে তাঁকায়। জাহিদ দেখতে পায় আশরাফুলের মাথা তাঁর দিকে শুষ্ক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। গাছের দিকে তাঁকাতেই হঠাৎ করে ঝুঁপ ঝুঁপ শব্দ করে জাহিদের গাঁয়ের উপর তরল আঠালো জাতীয় কিছু পড়লো।জাহিদের মনে হচ্ছে তার একেকটা পাঁয়ের ওজন চল্লিশ মণ। দৌড়াতে পারছেনা।  অতিরিক্ত ভয় পাওয়ায় তার গলার স্বর থেকেও কোন শব্দ বের হচ্ছেনা।

 

জাহিদ বটগাছের বেদীর উপর দেখলো একজন অর্ধবয়স্ক মহিলা, আগুন জ্বালিয়ে পানি ফুঁটোচ্ছে। অন্য একজন চোখ বড় বড় করে বলছে, এই মিনসে এদিকে আয়। আজ তোকেই খেয়ে নিব।অনেকদিন ধরে কিছু খাইনা। লোকটা নিজের চোখগুলো তুলে কচ কচ শব্দ করে কাঁমড়ে খেতে লাগলো। আয় কাছে আয় !

 

এ দৃশ্য দেখে জাহিদ সজোড়ে দৌঁড় দিতে দিতে চিৎকার করে ছুঁট লাগালো। এক দৌঁড়ে বাড়ির উঠোনে এসে পড়ে গেল। ঘর থেকে জাহিদের বাবা-মা বেড়িয়ে ;দেখেন তাঁর ছেলের এ অবস্থা। বাড়ীর আশে পাশের লোকজনও তার চিৎকার-চেচাঁমেচি শুনে চলে আসলো। জাহিদের বাবা জাহিদকে এত রাত্রে বাড়িতে আসার জন্য বকাঝঁকা করলেন। শহর থেকে আসার পথে কাছের কোন হোটেলে কিংবা বাজারে এসে বাবাকে ফোন না দিয়ে আসার জন্য জাহিদকে সবাই একশ-দশটা কথা শোনাতে বসে গেল। এরপর, পরিস্থিতি ঠান্ডা হলে সবার কাছে জাহিদ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘটনার বর্ণনা করলো। সবাই ঘটনার কথা বিশ্বাস করলেও কেউ সাহস করে সত্যতা যাচাই করার জন্য আর ঐ বটগাছের নিচে যায়নি।

 

পরদিন প্রথম প্রহরেই প্রতিবেশীরা জাহিদকে সঙ্গে নিয়ে সেই ঘটনা দেখার জন্য দলবেঁধে সেই বটগাছের নিচে গেল কিন্তু এ ধরনের কোন আলামতই দেখতে পেল না। এভাবে,

আবার একের পর এক ঘটনা বটগাছের নিচে ঘটেই যাচ্ছে। কিন্তু এর রহস্য এতদিনেও কেউ উদঘাটন করতে পারেনি.....

 

(সমাপ্ত)


বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।

বর্ণের হাতে খড়ি'র বৃক্ষরোপন
- কবির আহমেদ সুজন , চট্টগ্রাম , বাংলাদেশ

"গাছ লাগান , পরিবেশ বাঁচান" এটি একটি আন্দোলনের নাম । সবুজ পৃথিবী সুস্থ সুন্দর জীবন স্লোগানে ২১ শে আগষ্ট পাহাড়তলী রেলওয়ে যাদুঘর প্রাঙ্গনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন করেন সামাজিক সংগঠন "বর্ণের হাতে খড়ি " । ফলদ ও বনজ গাছের চারা লাগিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সংগঠনের পরিচালক হারুন-অর-রশিদ খাঁন ও মাহবুব আলম মিঠু । এসময় উপস্থিত ছিলেন , বর্ণের হাতে খড়ি'র নির্বাহী-সদস্য এম . এইচ . স্বপন , দিদারুল ইসলাম রুবেল , কবির আহমেদ সুজন , মুনির হোসাইন , আবদুল কাইয়ুম , ওমর পারভেজ , আফরোজা হীরা , স্বপ্না শারমিন , নয়ন , তপু , শফিকুর রহমান ও সাইফুল ইসলাম প্রমুখ ।

শরীর স্বাস্থ্য : আসুন সুন্দর থাকি
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার, গাইনী এ্যান্ড অবস, স্কয়ার হসপিটাল, ঢাকা।


ভূমিকাঃ পরিচর্যা মানে বাড়তি যত্ন। যে কোন জিসিসেরই যত্ন করলে তা সুন্দর হয়। আমাদের চারিপাশের পরিবেশ আর ভেজাল খাবারের জন্য ত্বকে নানান সমস্যা হয়। সামান্য কিছু পরিচর্যা আমারেদকে দিবে আরো বেশী সৌন্দর্য। তাই নিজের সৌন্দর্যের কথা চিন্তা অবশ্যই ত্বক ও শরীরের যত্ন নিন।


সচরাচর আমাদের কিছু সমস্যা হয়। সামান্য কিছু যত্নের অভাবে। কিছু পরিচর্যা আপনাকে করবে আরো বেশী সুন্দর ও আকর্ষণীয়। সচরাচর যে সমস্যাগুলো আমরা দেখি, সেগুলো হলো ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস, চোখের নীচে কালি, নাকের দুই পাশে কালো দাগ, ইত্যাদি।


সামান্য কিছু যত্নে আপনি মুক্তি পাবেন এই সমস্যা গুলো থেকে।


পিম্পল বা ব্রণ
সব ঋতুতেই ব্রণ হয়। যারা ঘরের বাইরে, রোদে বেশি সময় থাকে, অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক যাদের, তেল-মসলাসমৃদ্ধ খাবার যারা বেশি খায়, যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য, দুশ্চিন্তা, ঘুম কম হওয়ার সমস্যা রয়েছে- তাদের ব্রণ হয় তুলনামূলক বেশি। কৈশোর পার হওয়ার পর অধিকাংশেরই ব্রণ হয়।


ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়


১) প্রচুর পরিমাণে পানি, তরল খাবার, মৌসুমি ফল ও শাকসবজি খেতে হবে।
২) কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য প্রতিদিন সকালে দাঁত ব্রাশের পর খালি পেটে কুসুম গরম পানিতে ইসবগুলের ভূসি ভিজিয়ে খান।
৩) ত্বক তৈলাক্ত হলে নিয়মিত পরিষ্কার করুন। গায়ে মাখার সাবান মুখে ব্যবহার না করাই ভালো। মুখ পরিষ্কার করার জন্য ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির ফেসওয়াশ পাওয়া যায়। কিছুদিন ব্যবহারেই বুঝতে পারবেন কোন ফেসওয়াশটা আপনার ত্বকের উপযোগী। একই ফেসওয়াশ দীর্ঘদিন ব্যবহার করা অনুচিত। ফেসওয়অশের পিএইচ দেখে কিননু। কিছু ফেসওয়াশের গায়ে কোনটা কোন ত্বকের জন্য উপযোগী, তা লেখা থাকে। (পিএইচ বিষয়ে ফেসওয়াশের গায়ে লেখা থাকে।)
৪) বর্তমানে নারী-পুরুষ উভয়েরই উপটান পাওয়া যায়। উপটানে রাসায়নিক পদার্থ থাকে না। উপটানের প্যাকেটে ব্যবহারবিধি লেখা থাকে। ত্বক পরিষ্কারের জন্য উপটান খুব উপকারী। প্রতিষ্ঠিত ও বহুল প্রচলিত কোম্পানির উপটান কেনাই ভালো।
৫) প্রতিটি সুস্থ্য মানুষের জন্য দৈনিক সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন।
৬) যাঁরা রোদের জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, তাঁরা ঘরে ফিরে দ্রুত মুখ ধুয়ে ফেলুন।
৭) বাড়ি ফিরেই ভালোভাবে মেকআপ তুলে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
৮) নখ দিয়ে ব্রণ খুটবেন না। সুযোগ পেলেই চোখ খোলা রেখে স্বাভাবিক পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে মুখে জমে থাকা ধূলা ও তেল পরিষ্কার হবে।


ব্ল্যাক হেডস
প্রতিদিন গোসলের মতোই প্রতিদিন মুখ পরিষ্কার করা প্রয়োজন। রোদ, ধূলাবালি, ত্বকের মরা কোষ জমে অনেক সময় ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দেয়। পরিণামে ছিদ্রে ময়লা জমে তা ফুলে ওঠে। তাতে বাসা বাঁসে ক্ষুদ্র পরজীবী। যা চুলকায়, ব্রণের মতো দানাদার এবং কালচে হয়ে যায়। দীর্ঘদিন এই দানা থাকলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়। দীর্ঘদিন এই দানা থাকলে তা দীর্ঘস্থায়ী কালচে দাগে পরিণত হয়। একে বলে ব্ল্যাক হেডস।


ব্ল্যাক হেডস হলে করণীয়
ব্রণের জন্য উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো ব্ল্যাক হেডস থেকে মুক্তির জন্য ভীষণ জরুরি-


১) যাঁরা মুখের লোম তোলেন, তাঁরা খেয়াল রাখবেন, যেন নোংরা সুতা ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনীর ব্যবহার না হয়।
২) খালি পেটে অতিরিক্ত দুধ-চা, কড়া লিকারের কফি বর্জনীয়। মাদকদ্রব্য, ধূমপান শুধু ত্বক নয়, পুরো দেহের জন্য বর্জনীয়।
৩) পুরুষেরা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির আফটার শেভ লোশন ব্যবহার করুন। ত্বকের ধরণ বুঝে প্রয়োজনে বিরতি দিয়ে শেভ করুন।
৪) ত্বকের যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য রোদ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলুন। এ ক্ষেত্রে ছাতা খুব উপযোগী।


চোখের নিচে কালি
গভীর রাত জাগা, মাত্রাতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, বংশগত ঐতিহ্য, সব সময় মোটা পাওয়ারের চশমা পরা, অতিরিক্ত তৈলাক্ত মসলাযুক্ত খাবার গ্রহণ, গর্ভধারণ, মাদকদ্রব্য, ধূমপান, মানসিক রোগ, হঠাৎ অতিরিক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ, পেপটিক আলসার, গুরুতর ডায়রিয়া, রক্তশূন্যতা ও অতিরিক্ত পরিশ্রম চোখের নিচে কালি জমার অন্যতম কারণ।


করণীয়


১) ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার চোখ, চোখের নিচের ত্বকে পুষ্টি জোগায়। তাই নিয়মিত সবুজ ও হলুদ পল খান।
২ ) যাঁরা চোখের পরিশ্রম বেশি করেন, তাঁরা খুব ক্লান্ত লাগলে চেয়ারে বসেই ২০ থেকে ২৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে থাকুন।
৩ ) লেবু-চা শুধু চোখের নিচের ত্বক নয়, পুরো শরীরের ভীষণ উপকারী।


নাকের দুই পাশের কালো দাগ
অনেকেরই নাকের দুই পাশে কালো দাগ দেখা যায়। আবার নাকের ওপরেও দেখা যায় অসংখ্য ছোট ছোট ব্ল্যাক হেডস। দীর্ঘদিন ধরে এই ময়লাগুলো জমে থাকায় তা স্থায়ী দাগে পরিণত হয়।


পরিত্রাণের উপায়


১) যাঁদের তৈলাক্ত ও অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক, তাঁদের এ সমস্যা হয় বেশি। তাই তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরা ৩৫ বছরের পর থেকে নিয়মিত ফেসিয়াল করান। ৩৫ বছরের আগে হারবাল ফেসিয়ালই ভালো।
২) ময়দার (রুটি তৈরির জন্য যেটা ব্যবহার হয়) সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে নিয়মিত (প্রায় প্রতিদিন) দিনে দুবার নাকের দুই পাশে ম্যাসাজ করুন। মাঝেমধ্যে উপটান দিয়ে আলতো করে ঘষুণ, এতে ময়লা দূর হবে।
৩) দেহেরওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী মানুষ বেশি মোটা হয়ে গেলে গালের মাংসপেশি পরিমাণে বেড়ে যায়। তখন নাকের দুই পাশের মাংসপেশি সংকুচিত হয়ে যায়, যা দৃষ্টিকুটু দেখায়।ব্যস্ততা আপর প্রতিযোগিতার ভিড়ে সামান্য মনোযোগ আপনাকে করে তুলবে আরও বেশি আকর্ষণীয়। সব সময় প্রফুল্ল থাকুন। সুষম খাদ্যাভাস, নিয়মানুবর্তিতা আপনার ত্বককে করে তুলবে উজ্জ্বল ও মসৃণ।


উপসংহারঃ সুন্দর চেহরার জয় সর্বত্র। গুণের সাথে সুন্দর একটি মুখের জয় হয় সর্বত্র। সামান্য সময় ব্যয় ও পরিচর্যায় আপনি হয়ে উঠুন আরো বেশী স্নিগ্ধ সুন্দর। আর সেই সাথে আপনি হউন সুস্থ সবল।

Nabadibakar_Writer_62
শহরের ছেলে আবু। জন্ম, শৈশব, কৈশোর এখানেই। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি তার অকৃত্রিম ভালবাসা। আর মিতব্যয়ী হিসেবে শহর থেকে তার গ্রামের আত্নীয় স্বজনদের কাছেও তার এক অন্য রকম পরিচিতি আছে। অবশ্য এটি জিনগত বৈশিষ্ট্যও বলা যায়। আবুর বাবা আবদুল সাত্তার সাহেব সরকারী কলেজের প্রফেসর। তিনিও বিশেষ প্রকৃতি প্রেমী। তবে কেবল সৌন্দর্যের দিকটাই তার পছন্দের। মানে তিনি বাসায় টবে বিভ্ন্নি ফুল গাছের চারা বা অর্কিড জাতীয় চারাই সংগ্রহে রাখেন। আবুর পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন প্রকার সবজি। আবদুল সাত্তার সাহেব পোস্টিং পেয়ে মোটামুটি গ্রাম কি উপজেলার একটি কলেজে বছর দুই শিক্ষকতা করেন। সেখানে বাড়ির সামনে পিছে বেশ ভালই জায়গা ছিল। তখন আবু স্কুলে ক্লাস নাইনে পড়ে। ফাঁকা জায়গা পেয়ে ধুন্দল, বেগুন, শীম ইত্যাদির বীজ বাড়ির আশেপাশে যত্ন নিয়ে ছড়িয়ে দেয়। সে চিন্তা করে, সবজি চারাতেও সৌন্দর্য্য আছে সাথে লাভও আছে। কিন্তু শহুরে ফ্ল্যাটে বারান্দার ছোট্ট জায়গায় সাধ আর সাধ্যের তারতম্যটা প্রকটাকারে দেখা দেয়।

আবু  এখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ছে। কলেজে একদিন উদ্ভিদবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান বলেন, এদেশের মাটি এতটাই উর্বর যে আম খেয়ে আমের আঁটি মাটিতে ছুড়ে ফেলে দিলে সেখানেই আমের চারা গজিয়ে ওঠে। কথাটি মনে ধরে আবুর। বাসায় ফিরে চিন্তা করে কি দিয়ে শুরু করবে!  মাটিই  তো নেই। কংক্রিটের দালানে ছোট্ট টবে তার আশা মিটে কি করে! কলেজ থেকে ফিরেছে, গোসল সেরে মা’কে ভাত দিতে বলে ফ্রিজ খুলে লেবু বের করে। লেবুর হলদে রঙ দেখে লেবুর বয়স সম্বন্ধে একটি ধারণা করে মনে মনে। লেবু কাটতে গিয়ে ভেতরে আবিষ্কার করে পরিপক্ক বীজ। তার চোখে তখন খুশীর ঝিলিক। অন্তত শুরু করার মত কিছু হয়ত পেল। রোদে বীজগুলো রেখে দিয়ে তাড়াতাড়ি লাঞ্চটা সেরে নেয়। বারান্দায় এসে পরিত্যক্ত কোন টব খুঁজে। এক কোণায় টবে একটি ফণিমনসা মরে শুকিয়ে আছে। এটা হয়ত বাবার চোখে পড়বে না! চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে ফণিমনসা উঠিয়ে ফেলে।  লেবুর বীজ গুলি সযন্তে রোপণ করে মাটি সমান করে দেয়। বাথরুম থেকে মগে পানি এনে অল্প অল্প করে মাটি ভিজিয়ে দেয়। এবার প্রতীক্ষার পালা। জায়গামত টব রেখে দিয়ে ময়লার ঝুড়িতে ফণিমনসা রেখে দিতে যায়। মা সালেহা খাতুন দেখে ফেলেন।

কিরে চারা উঠিয়ে আনলি যে?

-       এটা মরে গেছে মা। আমার লেবু গাছ হবে। বাজার থেকে আর লেবু কিনতে হবে না।

-       কি করেছিস তুই? চলতো বারান্দায়।

সালেহা খাতুন সবিস্তরে সব দেখে ছেলে আবুর কান্ডকারখানায় আনন্দই পান। তার সংসার নিয়ে তবু ছেলে একটু চিন্তা করে! সত্যিই তো, টবে এরচে সবজি আবাদ করলেই তো ভাল হত! দিন যায়, রাত পোহায়। আবুর প্রতীক্ষার প্রহর যেন শেষ হয় না।

        দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে বারান্দায় গিয়ে আবু যা দেখে তাতে তার আনন্দ আর কে দেখে! ছোট্ট কুঁড়ি মাটি ভেদ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। একেবারে চার চারটি বীজের সফল অঙ্কুরোদগম হয়েছে। খুশীতে আবু চিৎকার করে ওঠে, ‘মা’! সালেহা খাতুন রান্না করছিলেন। ছেলের চিৎকার শুনে রান্নাঘর থেকে খুন্তি হাতেই ছুটে আসেন।

-       কিরে? কি হয়েছে?

-       দেখোই না মা!

টবে চোখ পড়তে সালেহা খাতুনও খুশী হন। পরক্ষণেই ছেলেকে বলেন,

-       এইটুকুন টবে চারটা গাছ হবে নাতো!

-       হবে মা, হবে।

ছেলের আনন্দ দেখে আর কিছু বলেন না তিনি। ফের রান্নাঘরে চলে যান।

চারাগুলি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। দিন যায়, মাস যায়। আবুর ইয়ার ফাইনাল চলে এসেছে। চারাগুলি  এখন সাড়ে তিন ফুট মতন লম্বা হয়েছে। আবু স্বপ্ন দেখে সে তার টবে আবাদ করা লেবু দিয়ে ভাত খাবে। ভুনা ডাল আবুর খুব পছন্দের। সেই সাখে নিজ গাছের লেবু! ভাবতেই আনন্দ হয় আবুর। নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করায় তরতর করে বেড়ে ওঠে। ইয়ার ফাইনাল শেষ হয়। কিন্তু গাছে ফুল আসে না। চারপাশে বৃদ্ধিও নেই। কেবল লম্বায় বড় হচ্ছে। কোন ফলাফল না দেখতে পেয়ে মা’র কাছে পরামর্শ চায়। সালেহা খাতুন একটি গাছ রেখে বাকিগুলো উঠিয়ে ফেলতে বলেন। ছেলের মন তাতে সায় দেয় না। এদিকে ফলহীন, ফুলহীন গাছগুলো আবদুল সাত্তার সাহেবের ফুলের টবগুলোর ভীড়ে বেমানান ঠেকে। তড়িৎ সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত তিনটি গাছ তুলে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। অনেকদিন কেটে গেলেও লক্ষণীয় কোন উন্নতি হয় না গাছের। আবু একটু দমে যায়। তবু মা’কে বলে,

-       বোর্ড ফাইনালের সময় গাছের লেবু দিয়েই লাঞ্চ করবো, তুমি দেখো!

সালেহা খাতুন মনে মনে বলেন, ছেলেটা এখনো ছোট্টটিই রয়ে গেল। ছেলেকে তবু উৎসাহ দেন,

-       তাই যেন হয়!

নির্বাচনী পরীক্ষা শেষ হয়ে যায় আবুর। এবার সে পাঁকা মরিচ ফাটিয়ে বীজ বের করে লেবু গাছের টবে ছিটিয়ে দেয়। ভাবে, মরিচ হলেও তো হতে পারে! ওইটুকু টব আর অল্প মাটিতে যেন সকল উর্বরতা! কয়েকদিন ফিরতেই আট ন’টা চারা দেখে আবুর মুখ খুশীতে ভরে ওঠে। চোখ আনন্দে জ্বলজ্বল করে। মা’কে দেখায়। সালেহা খাতুন এবার বলে উঠেন,

-       এগুলোই করবি শুধু? সামনে ফাইনাল, তারপর ইউনিভার্সিটির অ্যাডমিশান টেস্ট। সে খেয়াল আছে?

ফের কিঞ্চিৎ দমে যায় আবু। একটু অভিমানও হয়। মাথা নীচু করে বারান্দা থেকে বেরিয়ে আসে। পড়াশোনা নিয়েই পরে থাকে। গাছে পানি দেয়া হয় না অনেকদিন। যদিও আবদুল সাত্তার সাহেব গাছের যত্ন করেন। এক কোণায় ছেলের গাছটাও চোখ এড়ায় না বিচক্ষণ প্রফেসরের। সতর্কতার সাথে একটি মরিচের চারা রেখে বাকিগুলো উঠিয়ে ফেলে দেন। আবু ফাইনালের প্রস্তুতি ব্যস্ত। এদিকে এখন আর ভ্রুক্ষেপ নেই তার। লেবু গাছে তো আর ফুল এল না কিন্তু মরিচের সেই একটি চারা তরতর করে বেড়ে উঠল। পরীক্ষার রুটিন দিয়ে দিয়েছে। সামনে রবিবার থেকে পরীক্ষা। প্রথম পরীক্ষা বাংলা প্রথম পত্রের প্রস্তুতি নিতে থাকে আবু।  সালেহা খাতুন মরিচ গাছটি লক্ষ্য করেন। অনেক ফুল এসেছে। লক্ষ্য করেন আবদুল সাত্তার সাহেবও। শুধু আবুই এখন পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। বাংলা প্রথম পত্র শেষ হয়, দ্বিতীয় পত্র শেষ হয়। শেষ পরীক্ষা দিয়ে এসে সে যখন মোটামুটি নিশ্চিন্ত, এমন সময় একদিন বাবা আবদুল সাত্তার সাহেব দুপুরে ছেলেকে ডাকেন,

-       আবু! কইরে ব্যাটা?

-       জ্বী বাবা।

-       আমার সাথে বারান্দায় আয়।

বাবার সাথে বারান্দায় যায় আবু। গ্রিলের বাইরে মরিচ গাছের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সেখানে গোটা পাঁচেক মরিচ। দু’টি তখনো আব-বাতি। একটি পাঁকা আর দু’টি বাতি হয়েছে। তিনটি ছিঁড়ে আনতে বলেন আবদুল সাত্তার সাহেব। নিজ গাছের মরিচ ছিড়তে অনাবিল আনন্দে ভরে যায় আবুর মন। সাথে সেই নিষ্ফলা লেবু গাছের দিকে দৃষ্টিপাত করে আর কষ্ট হয় না আবুর। একদিকে তো সে সফল হয়েছে! খাবার টেবিলে বসে মরিচগুলোর দিকে তাকিয়ে দেশের লাল সবুজ পতাকার কথা মনে হয় আবুর। কষ্টার্জিত স্বাধীনতা, কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল ইত্যাদি ভাবতে থাকে। সালেহা খাতুন লাল মরিচটি তুলে দেন আবুর পাতে,

-       নে তোর পছন্দের ভুনা ডাল দিয়ে ভাতে ডলে খা।

খেতে খেতে আবুর চোখের কোণে পানি চলে আসে। এই অশ্রু কি আনন্দের না ঝালের, আবুও বুঝতে পারে না!

বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।


Nabadibakar_Writer_60

বিদায়
- রবিউল ইসলাম রাব্বি

এই জগতের মায়া জালে,
আটকে ছিলাম আমি।
সব কিছু ফেলে চলে যাব,
আসবোনা আর ফিরি।
এই জগতের মায়া জাল,
কতদিন আটকে রাখবে আমায়।
যাবইতো আমি এই মায়া জাল ছিরে,
দিবে কি তোমরা আমায় বিদায়। 
যেতে যদি তোমরা নাহি দাও তবুও, 
যেতে হবে আসবোনা আর ফিরে।
বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget