জুলাই 2015

সফলদের স্বপ্নগাঁধা : একজন আয়ান সরকার
- শামসুজ্জোহা বিপ্লব


ভার্সিটি থেকে শহরে যাবে, কিন্তু স্টেশনে এসে দেখি ট্রেন নাই। নাশকতার আশংকায়, ডেমু ট্রেনটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কি আর করা, মনটা খারাপ হয়ে গেল। হাঁটতে হাঁটতে জিরো পয়েন্টে চলে আসলাম। ভাবলাম, একটু ওয়াইফাই চালাই।
কিছুক্ষন ওয়াইফাই চালানোর পর, হঠাৎ করে পাশেই এক বড় ভাইয়ের দিকে চোখ পড়লো। চোখাচোখিও হল।
ভাইকে, কেমন জানি, চেনা চেনা লাগছে । কথা বলতে ইচ্ছে করলো।
আমি এগিয়ে গিয়ে বললাম, ভাইয়া, আপনাকে চেনা চেনা মনে হচ্ছে।
খুব সাবলীল ভাবেই ভাইয়ের সাথে পরিচিত হলাম।
আয়ান সরকার, ট্যাক্সে আছেন, পোস্টিং চট্টগ্রামেই , ৩৩ তম বিসিএস এ টিকেছেন।
আমি কেমন জানি, একটু লজ্জায় পড়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম উনি এখানকার স্টুডেন্ট হবে।
ধীরেধীরে কথাবার্তা চলতে থাকলো। উনি চবির ০৬-০৭ সেশনের, ল'এর স্টুডেন্ট ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ নং গেটে থাকতেন। ২০১৩ সালে ভার্সিটি থেকে পাশ করে বের হয়ে গেছেন। কি যেন একটা কাজের জন্য আজ ক্যাম্পাসে এসেছেন। তখন আমার মনে পড়লো, আমিও বিশ্ববিদ্যালয় ২নং গেটে ছিলাম, প্রায় ২ বছরের মত। তখন হয়তো, ভাইকে দেখেছিলাম, কিন্তু ওভাবে ফরমালি পরিচিত হয়ে ওঠে নাই।
সুযোগ পেয়ে বিসিএস নিয়ে অনেক প্রশ্ন করলাম। কিভাবে উনি পড়াশুনা করেছেন। বিসিএস উনার স্বপ্ন ছিল কি না।
আমাদের কথা তখন জমে উঠেছে।
আয়ান ভাই বলতে থাকলেন, আমার বিসিএস দেয়াটা ওভাবে আগে থেকে স্বপ্ন ছিল না। অনার্স পরীক্ষা দেওয়ার পর, আমি অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে বিসিএস পরীক্ষা দেই। তখন থেকেই ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নটা গ্রো করে এবং তখন থেকেই আমি নিয়মিত পড়াশুনা করি।
উনি একটু হাসি দিয়ে বললেন, তুমি গেজ কর তো। আমি তখন কত ঘন্টা পড়াশুনা করতাম। আমি হাসিমুখ করে বললাম ভাই, আপনি যেহেতু শেষ সময়ে এসে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাহলে ১৮/২০ ঘন্টা তো হবেই। উনি বললেন, এতক্ষণ কেউ পড়তে পারে না কি?
আসলে, আমি তখন প্রায় নিয়মিত ১৪ ঘন্টার মত পড়াশুনা করতাম। আমার ভাগ্য ভাল ছিল, হয়ে গেছে। কিন্তু এটাও সত্যি, আমার স্বপ্ন ছিল বিসিএস পুলিশ হওয়ার । তবে এখন যেটা হয়েছে, ভালই হয়েছে। আমি ভাল আছি।
আয়ান ভাই, আমার কথা জিজ্ঞাসা করলো। তোমার ক্যারিয়ার কোন দিকে গড়তে চাও। আমি একটু লজ্জায় পড়ে গেলাম। বললাম ভাই, জীবনে একটাই স্বপ্ন, ক্যাডার হওয়া এবং সেটা ভালভাবেই চেষ্টা করতে চাই।
উনি আন্তরিক ভাবেই বললেন, হ্যা......!
পরীক্ষা দিলে ভালভাবেই দিবা। তাহলেই সফলতা পাওয়া যাবে। আমি শুধু একটু হাসি দিলাম,আর মাথা নাড়ালাম।
ভাই, হঠাৎ করেই বললেন, চলো, চা খাওয়া যাক। আমি সুযোগ টা হাতছাড়া করতে চাইলাম না। ভাবলাম, যাক ভালই হল। আরও কিছুক্ষন কথা বলা যাবে। হাঁটতে হাঁটতে পাশের চায়ের দোকানে গেলাম। চায়ের টেবিলে আবার কথা জমে উঠলো।
ভাইকে বললাম, আসলে আমাদের চবির ছেলেমেয়েরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেয়ে অনেক পিছয়ে আছে। উনি বললেন, তুমি ঠিকই বলেছে।
এখানকার পরিবেশ টা একটু অন্যরকম।
তবে ক্যারিয়ারের জন্য নিজের পরিবেশ, নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। অন্য কেউ এটা তৈরি করে দিবে না। আমিও এরকম প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছি। কিন্তু সব কিছুকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই সাফল্য পাওয়া যাবে।
উনি নিজের একটা ঘটনা বললেন, দেখ। আমি জীবনে মাত্র ৭ টা ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ টা, বিসিএস, আর একটা জুডিশিয়াল। বিসিএস এ হওয়ার পর জুডিশিয়াল ভাইভাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ক্যাডার জানার পর, আর ওখানে হই নি।
ভাইয়ের যত কথা শুনছি, ততই আরও বেশি মুগ্ধ হচ্ছি।
কথার ফাঁকে এর মধ্যে আমি জেনে গেছি। উনি সুশান্ত দাদার সাথে বিভিন্ন জায়গায় ক্যারিয়ার আড্ডার আয়োজন করেন।
আয়ান ভাইকে বললাম, আমাদের চবিতে তেমন সেমিনার বা ক্যারিয়ার আড্ডা হয় না। এখানে কি একটা ক্যারিয়ার আড্ডার ব্যবস্থা করা যায়?
উনি একটু স্নিগ্ধ হাসি দিয়ে বললেন,
আমারও ইচ্ছা আছে সুশান্ত দাদাকে নিয়ে এখানে একটা ক্যারিয়ার আড্ডা করার। কথাটা শুনে ভালই লাগলো।
আড্ডা জমে উঠায়, চা এ চুমুক দিতে প্রায় ভুলেই গেছিলাম। এভাবে আরও কিছুক্ষন চা এ চুমুক আর আড্ডা চলতে থাকে। কথার মাঝখানে ভাইয়ের ফেসবুক আইডিটা আর মোবাইল নাম্বারটাও নিলাম।
অবশেষে এবার উঠার পালা।
ভাই বললেন, আমি শহরে যাব। ক্যাম্পাসে আসলে আবার দেখা হবে।
ভাইকে বিদায় জানিয়ে, চিরচেনা সেই কাঁটাপাহাড়ের রাস্তার দিকে হাঁটা শুরু করলাম।
সফলদের স্বপ্নগাঁধা আর সাফল্যের কথা শুনতে ভালই লাগে। নিজের ভিতর একধরনের উৎসাহ কাজ করে, অণুপ্রেরণা পাওয়া যায়। যদি অণুপ্রেরণা টুকু সবসময় মাথার ভিতর থাকে। তাহলেই খুব সহজেই সাফল্য লাভ করা যাবে।
আর পৃথিবীতে কাউকে না কাউকে মশাল নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতেই হবে । সুশান্ত দাদা, আয়ান ভাই সেই কাজটিই করে যাচ্ছেন। তাদের বিভিন্ন ক্যারিয়ার আড্ডা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে।
ভাইয়া, আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য শুভ কামনা করবেন। যেন আমরাও সাফল্য অর্জন করতে পারি।
স্বপ্নের সারথিরা এক হয়ে, বাকি আর সবাইকে সাফল্যের স্বপ্ন দেখাতে পারি....।

ভ্রমণ কাহিনী : আমরা ক’জনার সমুদ্রবিলাস - সুদীপ্ত ভট্টাচার্য্য ( প্রথম পর্ব )


অনেকদিন ধরে চাইছিলাম ছোটবেলার বন্ধুরা সবাই মিলে কোথাও ঘুরে আসি। কিন্তু পড়ালেখার খাতিরে সবাই ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় থাকার কারণে একসাথে সবার সময় হয়ে উঠছিল না। তাই ঈদের ছুটিকেই বেছে নিলাম সবাই উপযুক্ত সময় হিসেবে। ঈদের ৩-৪ দিন আগে সবাই চলে এল বাড়িতে। কৌশিক,ফিরোজ,তনয়,রাজু, রনি শাকিল, আরিফিন,প্রতীক এবং আমি একসাথে বসলাম, কোথায় যাওয়া যায় সেটা ঠিক করতে। কেউ বলল বান্দরবান,কেউবা কক্সবাজার,আর কেউ বলল সিলেট এর কথা। শেষ পর্যন্ত ঠিক হল আমরা কক্সবাজার যাব।যেই কথা সেই কাজ।সবাই যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগল।এভাবে চলে এল ঈদ। সবাই মিলে মজা করেই কাটল দিনটা। পরের দিন সবাই প্রস্তুতিও নিলাম।তার পরদিন ২০/৭/২০১৫ তারিখে রাতে রওনা দিলাম কক্সবাজার এর উদ্দেশ্যে।রাত প্রায় ২টা।বাস ছুটে চলেছে প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা সৌন্দর্যের লীলাভূমি কক্সবাজার এর দিকে।রাতের বেলার কর্ণফুলী নদী আর শাহ আমানত সেতু নজর কাড়লো সবার।এদিকে আমাদের মত আরও তিনটা গ্রুপ যাচ্ছিল একই বাসে।উদ্দেশ্য আমাদের মতই বন্ধুদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি। এরই মধ্যে বন্ধু তনয় গেয়ে উঠল এই পথ যদি না শেষ হয়,গলা মিলালাম সবাই।তারপর একে একে "তীর হারা" থেকে শুরু করে "হার কালা" সহ অনেক গান গাওয়া হল।আমাদের সাথে গলা মিলালো বাস এর সবাই। মনে হল, স্কুল জীবনে কক্সবাজার পিকনিকে যাওয়ার দিনটিকে আবার ফিরে পেলাম সারারাত চলল আমাদের গান গাওয়া। ভোর চারটার দিকে পৌঁছলাম কক্সবাজার। বন্ধু সৈকত আগে থেকেই হোটেল ঠিক করে রেখেছিল। ‘হোটেল কল্লোল’ ঠিক লাবণি পয়েন্টে অবস্থিত এটি। ছিম ছাম উন্নতমানের একটি হোটেল।সবাই দারুণ উচ্ছাসিত,কারণ হোটেল থেকে সমুদ্রের গর্জন শোনা যাচ্ছিল।প্রতি কক্ষের এক রাতের খরচ ২০০০ করে,দুটো রুম নেয়া ছিল ৩য় তলায়।ভোরে পৌঁছেই সোজা চলে গেলাম সৈকতে।ভোরের সৈকত অসাধারণ লাগছিল।তখনো সূর্য উঠেনি। কিছুক্ষন হাঁটলাম সবাই মিলে।তারপর সৈকতের পাশে একটা হোটেলে সকালের নাস্তা সেরে চলে গেলাম হোটেল লবিতে। সেখানে ফ্রেশ হয়ে ,চেঞ্জ করে ছুটলাম সমুদ্রের দিকে ।হোটেল থেকে সৈকতে যেতে ৩মিনিট সময় লাগে।সেখানে সবাই দাপিয়ে বেড়ালাম অনেকক্ষণ। বন্ধু শাকিল ৫০ টাকা দিয়ে এক ঘন্টার জন্য বড় গোলাকার একটা চাকতি ভাড়া নিল। সমুদ্রের বিশাল বিশাল ঢেউ আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে আসছিল তীরের দিকে।ইতিমধ্যে লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল পুরো সমুদ্র সৈকত ।কিছুক্ষণ পর পর লাইফগার্ডদের হুইসেল শোনা যাচ্ছিল।এভাবে আমাদের প্রথম যাত্রার সমুদ্রস্নান শেষ হল । এরইমাঝে বন্ধু প্রতীক একটা ফুটবল জোগাড় করে ফেলল।দুদলে ভাগ হয়ে খেলা চলল প্রায় আধঘণ্টা।তারপর আবার সমুদ্রস্নান সেরে সবাই মিলে গেলাম হোটেলে।সবাই স্নান করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম।তারপর বেরিয়ে পড়লাম দুপুরেরে খাবার খেতে।হোটেল থেকে একটিt ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ভাড়া করে ছুটলাম কক্সবাজারের সবচেয়ে নামকরা রেস্টুরেন্ট “পউশি” র দিকে।সেখান থেকে খেয়েদেয়ে গেলাম কক্সবাজারের "ওগোমেধা" বৌদ্ধ বিহারে সেখানকার শ্বেত পাথরের ও দুর্লভ কাল পাথরের বুদ্ধ মূর্তি সবাইকে মুগ্ধ করেছিল।সেখান থেকে সামনে এগোলেই চোখে পড়বে বিশাল বিশাল সমাধি মঠ। বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুদের সমাধি রয়েছে এখানে।সামান্য সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ে উঠলেই চোখে পড়বে এই সব বিশাল আকৃতির সমাধি মঠ। আর এই উঁচু স্থান থেকে সারা কক্সবাজার শহরটাকে নতুন রূপে চেনা যাবে।সেখানে বসে সবাই মিলে পর্যটন কন্যার রূপ আবলোকন করলাম কিছুক্ষন।এভাবে প্রায় সন্ধ্যা নেমে এল।এবার হোটেলে ফেরার পালা।সবাই মিলে সেখান থেকে আর একটি অটো রিক্সা ভাড়া করলাম ৮০ টাকা দিয়ে,গন্তব্য হোটেল।হোটেলে পৌঁছে সবাই ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিল ন্রম বিছানার উপর।কিছুক্ষন বিস্রাম নেয়ার পর সবাই মিলে বের হলাম রাতের খাবার খেতে।হোটেলের পাশেই একটা রেস্টুরেন্ট নাম “কাস্তি”,খাবার ভালই এবং দাম ও খুব বেশি না।খাবার খেতে খেতে প্রায় ১১ টা বেজে গেল।সেখান থেকে সবাই মিলে গেলেম আবার সৈকতে।সে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা ।রাতের সৈকতকে নতুন রূপে চিনলাম।তার বিশালতা উপলব্ধি করলাম নতুন ভাবে । কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইলাম সবাই। কাল্পনিক নিস্তব্ধতার মাঝে বাস্তবের ঢেউ গুলো আছাড় খাচ্ছিল বারবার। এযেনো মুহূর্তেই মন ভাল করে দেয়ার মহাওষুধ। দূর থেকে ভেসে আসা ঢেউ গুলো কেমন যেন হঠাত এসে ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছিল আমাদের পা।এরই মাঝে হঠাত রোমান্টিক হয়ে উঠল বন্ধু ফিরোজের মন। সে গেয়ে উঠল “বিন্দু আমি ,আমি তোমায় ঘিরে............”সবাই সুর মিলালো তার সাথে।তারপর একে একে ‘আমায় ভাসাইলি রে,এমন যদি হত থেকে শুরু করে কলজার ভিতর বান্দি রাইক্ষম তোয়ারে......।এভাবে প্রায় রাত ১ টা বেজে গেল।এখানেই ক্ষান্ত দিয়ে চললাম হোটেলের দিকে। সেদিনের মত সেখানেই শেষ হল আমাদের। সারাদিনের ক্লান্তিশেষে গভির ঘুমে হারিয়ে গেল সবাই।
চলবে...

মন ভেঙে গেছে
- মোহাম্মদ উল্লাহ শহীদ

বন্ধু আমার মন ভেঙে গেছে তোমার ব্যবহারে,
জানিনা এমন ব্যথা কে দিয়েছে কবে কারে ?

খন্তি
এই বুকে মেরে গেলে কেড়ে নিলে শান্তি
তবুও ভেবে ছিলাম
মানুষ করে ভুল ভ্রান্তি ।
অবশেষে, তুমি ফিরে না এসে
বুঝিয়ে দিলে সখা কয় তবে কারে !
এই মন ভেঙে গেছে তোমার ব্যবহারে ।

যুক্তি
দিয়ে তুমি দিতে পারতে সংশয় হতে মুক্তি,
বুঝে পেতাম ভালোবাসা
খুঁজে নিতাম বেঁচে থাকার শক্তি ।
নিশ্চুপ, থাকো জ্বেলে বুকে ধূপ
প্রেমের হয় অবসান কবো কারে ?
এই মন ভেঙে গেলো তোমার ব্যবহারে ।

আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল
- শ্যামল সোম

রবীন্দ্র সঙ্গীতে, " আমার নিশীথ রাতের বাদল ধারা,
আমার মন কেমন করে-
কাল রাতের বেলা গান এল মোর মনে।
প্রেম এসেছিল নিঃশব্দ চরণে।
নিশীথে কী করে গেল মনে।
কাঁদালে তুমি মোরে ভালোবাসারই ঘায়ে।
কার চোখের চাওয়ার- হাওয়ায় দোলায় মন।
আমার হৃদয় তোমার আপন হাতের দোলে,
দোলাও দোলাও আমার হৃদয়।
শ্রাবণে পবনে আকুল বিষন্ন সন্ধ্যায়, সখী
আঁধারে একলা ঘরে, শ্রাবণের ধারার মতো,
পড়ুক ঝরে, পড়ুক ঝরে।
আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে, আমার
যে দিন ভেসে গেছে চোখের জলে, মনে রয়ে
গেল মনের কথা, যে ছিল আমার স্বপনচারিনী।
ভালোবাসি ভালোবাসি, ভালোবেসে যদি সুখ --
নাহি তবে কেন তবে কেন মিছে ভালোবাসা।
যদি প্রেম দিলে না প্রাণে- কেন ভোরের আকাশ-
ভরে দিলে এমন গানে গানে।
আমার সকল নিয়ে বসে আছি সর্বনাশের আশায়।
আমি তারি লাগি পথ চেয়ে আছি পথ যে জন ভাসায়।
যে জন দেয় না দেখা, যায় যে দেখে--ভালোবাসে আড়াল থেকে-
আমার মন মজেছে সেই গভীরের গোপন ভালোবাসায়।
ধুসর জীবনের গোধূলিতে ক্লান্ত আলোর ম্লান স্মৃতি।
হায় গো, ব্যথায় কথা যায় ডুবে যায়।
প্রহর শেষে আলোয় রাঙা, আজ বুকের বসন ছিঁড়ে দাঁড়িয়েছে
এই প্রভাত খানি। আকাশেতে সোনার আলো ছড়িয়ে গেলো তাহার বাণী।
আকাশে আজ কোন চরণের আসা যাওয়া।
আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে
আমার মুক্তি ধুলায় ধুলায় ঘাসে ঘাসে।
তোমারি নাম বলবো নানা ছলে ,-- প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে
মোরে আরো আরো আরো দাও প্রাণ।--
- আরো আলো আরো আলো এই নয়নে প্রভু ঢালো।
-মরণ রে, তুঁ হুঁ মম শ্যাম সমান--
পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহো ভাই- সবারে আমি প্রণাম করে যাই।

তোমার জন্য
- আব্দুল্লাহ মোঃ তারেক

আজ শুধু তোমার জন্য লিখব...
ছন্দ, অন্তঃমিল, প্রবাহচিত্র, এ সব
শুধু তুমি আর তুমি !

যেমনি তুমি ছাড়া আমি ছন্দহীন
তেমনি আমি ছাড়া তুমি অপূর্ণ...
এটাই যে আমাদের অন্তঃমিল ।

তোমাকে ভালোবাসি
- আব্দুল্লাহ মোঃ তারেক

তোমাকে হয়তো ভালবেসে ফেলেছি
তুমি বিশ্বাস করতে পারছো না ?
তোমার চোখে তাকিয়ে আমি কথা বলতে পারি না,
তোমার হাসিভরা মুখ দেখে না হেসে পারি না,
তুমি চৈত্রের আকাশে বৃষ্টি নামাও
শ্রাবণের আকাশে সূর্য দেখাও
আবার নীরবেই চাঁদের ছায়া দাও।
তুমি নারী তুমি পারো-
ভালোবাসি না বলেই ভালবাসতে!!
একবার না হয় বলো ভালোবাসি,
না হয় অশ্রু ভেজা চোখে তাকিয়েই বলবো-
তোমাকে খুব ভালোবাসি।

সুখস্বপ্ন
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

একটা স্বপ্ন দেখি ।
সুখস্বপ্ন ।
পৃথিবী যখন আঁধারের রাজ্যে তলিয়ে যাবে,
যখন পৃথিবীর সব মানুষ ইয়াবার মতো বরণ করে নেবে ঘুম,
নিঃশব্দের হুংকারে মৃতের মতো শান্ত হয়ে যাবে শব্দেরা,
ঠিক তখন, আমার ঘুম ভাংবে তোমার নিশ্বাসের শব্দে ।

রাঙ্গা মেয়ের রূপ
- শিমুল শুভ্র : উদ্যমী কবি

তার টগবগে দুটি আঁখি
আমি কি যতনে দেখি
তবু পুরাবার নয়,
অধরে'র শিশির জলজে
সুখ তরী ধীরে চলে যে
রূপের নেই ক্ষয়।
দেখি কালোকেশী চুল
আমি ভেবে যে আকুল
টসটসে রূপ ভরা,
তার মুখে কালো তিল
পড়নে বসনখানি নীল
যেন পাগলপারা।
বক্ষদেশ দোপাট্টায় ঢাকা
মধুকর ভিটায় পরশমাখা,
চিকন হাত আঙ্গুটি,
তার মুখের চঞ্চল হাসি
নিমিষে দেয় যেন ফাঁসি
মেহেদীময় রাঙ্গুটি।
কোমরের বিছাখানি শু'য়ে
দোলে দোল দোলনী নুয়ে
শিহরিত করে মন,
সোনায় সাজানো নাভিবুটি
এই যেন আকাশে চাঁদবাটি
আলোকিত সুখ ক্ষণ।
তার পায়ে রিনিঝিনি মলে
শরীর ঘিরে কাঁপন তোলে
রাঙ্গা দুটি পায়,
অজানা সুখের ঢেউ সাগরে
আঁকাবাঁকা রূপের অঘোরে
সুখ সীমানা পাই ।

রচনাকাল - ২২।০৯।২০১৪ (ইউ এ ই)

বাবাহীন বেঁচে থাকি
- মিশুক সেলিম

নিবিড় নীরবতায় বসে থাকি রাতভর
অবিরাম ধারায় গড়িয়ে পড়ে চোখের জল.
শব্দহীন স্যালাইনের ফোঁটা পড়ে টপ টপ ।
সেকি এক স্বার্থপরতায় বাবাকে জড়িয়ে
বলেছিলাম তোমাকে বাঁচতেই হবে ।

তীব্র যন্ত্রনায় কাতর অসহায় বাবা
চলে যায় অদ্ভুত এক শূন্যতার পথে,
রক্ত মাংসহীন মায়াবী দেহখানি রয়ে
যায় পৃথিবীর মাঝে ক্ষণিকের তরে,
স্বর্গীয় অনুভুতিগুলো থাকে অগোচরে ।

আমি জীবন আর মৃত্যুর দুরত্ব মাপি
চিৎকার করে কাঁদি, বার বার কাঁদি ।
অনন্ত একাকী যাত্রায় বাবাহীন বেঁচে থাকি।

কান পেতে রও
- মিশুক সেলিম

তুমি ক্লান্ত দুপুরে বটবৃক্ষের মতো উদার
দীঘির জলের মতো স্বচ্ছ টলটলে প্রশান্ত
নৃত্যরত ময়ূরের মতো উজ্জল ধাঁধাঁনো।

সবুজ রঙের পৃথিবী দেখার ছাড়পত্র চাও?
কিংবা লোমশ বুকের গভীরে সযতনে ঠাঁই ,
যেখানে ক্ষরিত রক্তে উষ্ণতার অভাব নাই।
চলে এসো নীরবে নি:শব্দে অতি সংগোপনে।

চন্দ্রিকা তুমি কি কখনও অরন্যের গভীরতা
কিংবা জমাট বাধা ক্ষুধার হিংস্রতা দেখেছো?
পাতাহীন নগ্ন বৃক্ষের আর্তনাদ শুনেছো?

বুকের গভীরে কান পেতে রও অনবরত,
সকলের অস্তিত্ব টের পাবে প্রতিনিয়ত।

মাদকাসক্তির ভয়ংকর ছোবল
- সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান


মাদকাসক্তি একটি সামাজিক ব্যাধি। সর্বনাশা এক নেশা। মাদকসেবী নিজেকে ধ্বংস করার পাশাপাশি একটি পরিবার, সমাজ, পরিবেশকে ধ্বংশের দিকে ধাবিত করে। সোনালি ভবিষ্যতকে অন্ধকার পথে এগিয়ে নিয়ে যায় মাদক। মাদক গ্রহণের ফলে এক সময়ের ভাল মানুষটি হয়ে যায় সব থেকে খারাপ ও জঘন্য মানুষ। মাদকাসক্তির শেষ পরিনতি হলো মৃত্যু। মাদকাসক্ত হওয়ার ফলে আগামীর ভবিষ্যৎ ক্রমশ ভিত্তিহীন ও দূর্বল হয়ে পড়ছে। দেশের ভবিষ্যতের স্রোতনদী রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে মাদকের বিষাক্ত ছোবলের আঘাতে। মানবিক মূল্যাবোধ ও সামাজিক সর্ম্পকের ভিত্তিস্তর ক্রমশ ধ্বংশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। খুন, রাহাজানি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ সকল অনৈতিক অনাচারের পেছনে রয়েছে মাদকের অশুভ শক্তির কালো হাত। শিশু কিশোররাই আগামীর ভবিষ্যৎ। বর্তমানে এরাই বেশি মাদকে আসক্ত হচ্ছে। রাজধানী শহর ঢাকা সহ বাংলাদেশের আনাচে কানাচে মাদক সেবা করা হয়। শিশু কিশোররা বিভিন্ন শ্রমে নিযুক্ত হয় আর শ্রমে যুক্ত থাকার ফলে বিভিন্ন সঙ্গ পেয়ে এরা বিপথে পা ফেলে। অধিকাংশই শিশু কিশোরারা মাদক গ্রহন করা শুরু করে তার প্রথম কর্মস্থল থেকে।কর্মজীবী বন্ধুর পাল্লায় পড়ে অনেকেই মাদকনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি ভুলে থাকতে গিয়েই অনেকেই শখের বশে মাদক সেবন করে। ধীরে ধীরে শখই পরিণত হয় এক জীবন ধ্বংশকারী নেশায়। অনেকেই পারিবারিক বিচ্ছিনতা ভুলতে গিয়ে মাদক সেবন করে থাকে কর্মজীবি শিশুরা । মদ,গাজা,আফিম, পেথোড্রিন,হেরোইন,সীসা,ইয়াবাসহ বিভিন্ন নামের মাদকের মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে এসব শিশু কিশোররা। নেশার মাত্রা বেড়ে যায় ধীরে ধীরে। অনেক সময় এসব শিশু কিশোররা মাদক সেবনের জন্য টাকার সংকট দেখা দিলে সন্ত্রাসী,চুরি,পকেটমার,হাইজ্যাক করতে শুরু করে। গডফাদার কিংবা বড়ভাইরা এসব নেশাপ্রেমী শিশু কিশোরদের দিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসীমূলক ও অনৈতিক কর্মকান্ড করিয়ে থাকেন। অনেক শিশুই মাদক দ্রব্য পরিবহন ও বিক্রির কাজে জড়িত থাকার ফলে ধীরে ধীরে নিজেও মাদকসেবী হয়ে ওঠে নিজের অজান্তে । মাদক ব্যবসায়ী শিশুদের ব্যবহার করতে স্বাছন্দ্য বোধ করে কারণ এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দৃষ্টি এড়ানো সহজ হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের লাভবান করতে গিয়ে শিশুদের মাদকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। ক্রমান্বয়ে এসব শিশুরা মাদকসেবী হয়ে ওঠে। যখন এসব শিশু কিশোরদের হাতে নেশার জন্য টাকার সংকট দেখা দেয় তখন এরা হিংস জন্তু জানোয়ার হয়ে যায়। কান্ডজ্ঞানহীন হয়ে যেকোনো কাজই ঘটাতে পারে। খুন,সন্ত্রাস,রাহাজানিসহ সকল অবৈধ কাজে নিজেকে জড়িয়ে নেয় একজন মাদকসেবী। রাজধানী সহ বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই রয়েছে একাধিক মাদক চক্র। এসব চক্রের পেছনে রয়েছে সমাজের ভদ্রবেশী মুখোশধারী অসভ্য বর্বর আদিম সমাজের প্রতিচ্ছবি। এসব ব্যক্তিবর্গ নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য প্রথমে শিশু কিশোরদের হাতে বিনামূল্যে মাদক দ্রব্য তুলে দেয়। ধীরে ধীরে এসকল শিশুরা নেশায় আসক্ত হয়ে ওঠলে তখন আর ফ্রিতে মাদক দ্রব্য দেয় না। নেশার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে যেকোনমূল্যে মাদক ক্রয় করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। টাকার জন্য তখন শিশু কিশোররা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড,মাদক দ্রব্য পাচারসহ অবৈধ কাজে নিজেকে যুক্ত করে। কাজের বিনিময়ে তখন এরা নেশার উপাদান সংগ্রহ করে থাকে। বাংলাদেশের পথশিশুরা ড্যান্ডি,সীসা, ইয়াবা,প্যাথেডিন,পোড়া মবিল,আফিম,গাঁজা,হেরোইনসহ বিভিন্ন নামের বিষাক্ত মাদক সেবনে অভ্যস্ত যা মানব দেহের স্বাস্থ্যের জন্য চরমভাবে ক্ষতিকর। মাদক শুধু ছেলেরাই গ্রহণ করেনা বরং বর্তমান সময়ের আধুনিকতার স্রোতে ভেসে তরুনিরাও আসক্ত এই ভয়াবহ মাদকে। ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েরাই বর্তমানে বেশি আসক্ত। মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত প্রিভিলেন্স অব মেটাল ডিজঅর্ডার,এপিলেপসি,মেন্টাল রিটার্ডেশেন এ্যান্ড সাবস্টেন্স অ্যাবিউজ অ্যামাং চিলড্রেন অব ঢাকা ডিভিশন’ শীর্ষক জরিপ হতে এই তথ্য উত্থাপিত হয়েছে। রাজধানী শহর ঢাকায় মাদকাসক্ত শিশুর ১৭ শতাংশই মেয়ে। নানাবিধ অসঙ্গতি আর পারিবারিক সমস্যা,সামাজিক অবকাঠামোগত নিরাপত্তাহীনতাই মেয়েদেরকে মাদকে আসক্ত করছে। ভবঘুরে,ভাসমান পতিতা বা পথশিশুদের মাঝেই মাদক সেবন সীমাবদ্ধ নয় বরং ধনী বা মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুরাও আসক্ত হয়ে ওঠছে মাদকের ছোবলে। পরিবারের নিজের মূল্যহীনতা কিংবা বা মায়ের বিচ্ছেদ অথবা বন্ধুর সাথে কৌতুহল বশত মাদক নিতে গিয়ে চরমভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে এরা। মধ্যবিত্ত,ধনী শিশুরা সিগারেট ও ইয়াবায় আসক্তের সংখ্যাই বেশি। আধুনিকতার নামে অসভ্যতায় বেড়ে ওঠা উশৃঙ্খল তরুণী- তরুনরাও আকৃষ্ট হয়ে পা বাড়াচ্ছে নেশার জগতে। রক্তে যাদের নতুন জোয়ার এরাই গা ভাসিয়ে দেয় মাদক নামক এক ভয়ংকর পথে। বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজ পড়ুয়া তরুণ তরুণীরা সিগারেটের সাথে গাজা বা ক্যানবিস মিশিয়ে নেশা করে থাকে। মাদক নেশায় অভ্যস্ত অনেক শিশু কিশোর-কিশোরীরা নিজের ঘনিষ্ঠজনের উপর আঘাত করতে জানে। এর সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ হবে পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে ঐশীর কর্তৃক হত্যাকান্ড। ২০১৩ সালের ১৬ আগষ্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজ বাসায় পুলিশের স্পেশাল বাঞ্চ (পলিটিক্যাল শাখা) ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও স্ত্রী স্বপ্না রহমান খুন হন নিজ মেয়ে ঐশীর হাতে। ইয়াবাসেবী বন্ধুদের সাথে তারা চলাচল ও সখ্যতা। ঐশীর বন্ধু জনিই ঘুমের ওষুধ দেয় যাতে তার বাবা মাকে সহজেই হত্যা করতে পারে। আমাদের দেশের শিশু আইন ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু বলে গণ্য হবে। ১৮ বছরের কমবয়সীদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির নিষেধ রয়েছে তবে সমাজের অসাধু স্বার্থন্বেষী ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় কমবয়সীদের কাছে বিভিন্ন মাদকজাত দ্রব্য বিক্রি করছে। আইন আছে প্রয়োগ নেই এমন দেশ এই বাংলাদেশ। বিভিন্ন তথ্যমতে - জনসংখ্যার মোট শতকরা ৪৫ শতাংশ শিশুই। আবার এসব শিশুদের ৪০ শতাংশই দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে থাকে। দেশের জনসংখ্যার বৃহৎ অংশ হলো এসব শিশুরা। বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ১০ লাখ পথশিশু। এদের শতকরা ৮০ভাগই ঢাকায় বসবাস করে। তারপরও এরাই অবহেলিত এরাই অবাঞ্চিত। বাংলাদেশ শিশু অধিকা ফোরামের তথ্য অনুসারে পথশিশুদের মধ্যে ৮৫ ভাই বিভিন্ন ভাবে মাদক গ্রহণ করে থাকে। ৪৪ শতাংশই ধূমপান,২৮ শতাংশ ট্যাবলেট, ১৯ শতাংশ হেরোইন ও ৮ শতাংশ ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা সেবন করে। ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা গ্রহণ করতে গিয়ে মরণব্যাধি এইডস রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এদের অধিকাংশ রাস্তায়,রেলওয়ে ষ্টেশনে জীবন যাপনে অভ্যস্ত। পথশিশুদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। দু:খজনক হলেও সত্য যে পথশিশুদের নিরাময়ের কোন যথাযথ ব্যবস্থা নেই সরকারি নিরাময় কেন্দ্রে। অবহেলায় অযত্নে এদের ভবিষ্যৎ কালের স্রোতে ভেসে যায়।এসব মাদকাসক্ত পথশিশুদের জন্য সরকারের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ও নজরদারিতে রাখা হত তাহলে এদের জীবন পাল্টে যেত। ২০০৭ সালে শিশু অধিকার ফোরাম, পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেদ্রে ও টিএইচ নেদারল্যান্ড যৌথ পরিচালনার এক জরিপে তথ্য আসে যে- রাজধানী শহর ঢাকায় সর্বনিম্ন ২২৯ টি স্পট রয়েছে যেখানে ৯-১৮ বছর বয়সী শিশুরা বিভিন্ন মাদক নেশার দ্রব্য সেবন করে। ঢাকার ২১ টি স্থানে ইনজেকশনের মাধ্যমে,৭৭ টি স্থানে হেরোইনের মাধ্যমে এবং ১৩১ স্থানে গাঁজা সেবন করে থাকে। বিভাগীয় শহর সিলেট নগরীর লাক্কাতুরা ,তারাপুর চা বাগনের বিভিন্ন মোড়ে রয়েছে মাদকের আস্তানা। এছাড়াও সিলেট রেলওয়ে ষ্টেশন,শাহজালাল উপশহর,টিলাগড়,মেজরটিলা,টুকেরবাজার,ক্বীন ব্রীজ,লামাবাজার,শেখঘাট কদমতলী বাস টার্মিনাল,চাঁদনী ঘাট, কালিঘাট,কাষ্টঘর,শহরতলীর সাহেবের বাজার, সহ সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় গলিতে রাস্তার মোড়ে প্রায়ই চোখে পড়ে নেশাপ্রেমী পথশিশুদের । ৪ জুন শিবের বাজারে পুলিশের ওপেন ডে হাউসে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়েছিল কিন্তু এখনো সিলেটের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে মাদকসেবীদের গোপন কর্মকান্ড। নেশাখোর শিশুরা আগ্রহী হয়ে ওঠে বিভিন্ন বন্ধু,সহপাঠী কিংবা কর্মস্থলের সহশ্রমিকের মাধ্যমে। এদের অধিকাংশই ডান্ডি নেশা সেবনে অভ্যস্ত। ড্যান্ডি সহজলভ্য ও স্বল্প মূল্যেও হওয়ায় মাদকসেবী শিশুদের নিকট জনপ্রিয় একটি মাদক দ্রব্য। পলিথিনে ফুঁ দিয়ে নাক মুখ চেপে রেখে নেশা সেবন করে থাকে। এসব পলিথিনের মধ্যে রয়েছে হলুদ রংয়ের নেশা জাতীয় পদার্থ। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংগঠন ড্রাগস ইনফরমেশন বলা হয় ইয়াবা হেরোইনের চেয়ে ভয়াবহ। ইয়াবা সেবনের ফলে রক্তনালী ছিড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।বিদেশে ইয়াবা দমনে অনেক কঠোর নিয়মনীতি রয়েছে। থাইল্যান্ডের গনমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায় তিনহাজারেরও বেশি ইয়াবা সেবী ও ব্যবসায়ীকে ক্রসফায়ার করার নজির সৃষ্টি করেছিল। মালেশিয়ার মহানায়ক সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহাথির মোহাম্মদ তাঁর শাসনের সময়ে মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়লে তাদের শাস্তিই ছিল একমাত্র মৃত্যুদন্ড। আমাদের দেশেও যদি এরূপ আইন থাকত তাহলে মাদকের ভয়াবহতা কমে যেত অনেকাংশেই। মাদক নিয়ন্ত্রনে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল ১৯৯০ সালে কিন্তু অধ্যবধি চূড়ান্ত রূপ নেয়নি যদিও বিভিন্ন সংশোধনী আইন প্রনয়ণ করা হয়েছে। আমাদের এইদেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৪ কোটি ১৩ লাখ বিভিন্ন মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করছে। এই তথ্য ফুটে ওঠে সিলেটের ডাকে জুন মাসের ১৯ তারিখ শনিবারের সম্পাদকীয়তে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ( World health organization ) এর তথ্যমতে- তামাকজাত দ্রব্যসেবনে প্রতিবছর আমাদের দেশে মারা যায় সাতান্ন হাজার মানুষ। তিনলাখ বিরাশি হাজার লোক পঙ্গু হয়ে যায় শুধুমাত্র এই মাদক গ্রহণের দায়ে। দুমিনিটের ধোয়া সারাজীবনের জন্য বাসা বেঁধে নেয় মাদকসেবীর বুকে। মরণব্যাধি তামাকজাত দ্রব্যসেবনের ফলে মৃত্যুই হয় একমাত্র শেষ গন্তব্যস্থল। তামাক নিয়ন্ত্রন আইন ২০০৫ সংশোধন করা হলে এখনো এই আইনের সুফল ও যথাযথ প্রয়োগমাত্রা দেখা যায়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুখ থুবড়ে পড়েছে এসব কলমের লেখা আইন। যারা এসব আইন প্রয়োগ করবে তারাই আগে এই আইন ভঙ্গ করে। সেদিন কলেজ হতে ফেরার পথে এক জায়গায় দেখলাম একজন পুলিশ বাহিনীর সদস্য ড্রেস পরিহত কর্মরত অবস্থায় ধূমপান করছেন। যানবাহন,অফিস,আদালত,স্কুল কলেজ,হাসপাতালসহ বিভিন্নস্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করার আইন থাকলেও যথাযথভাবে আইন প্রয়োগ হয়নি।এর অন্যতম কারণ যারা আইন বাস্তবায়ন করবেন তারাই যদি ধূমপানের ব্যাধিতে আক্রান্ত হন তাহলে এসব আইন তো অকেঁজো হয়ে পড়বে। সব আইন তাদেরই জন্য যারা নিরীহ যারা দূর্বল। আমাদের দেশে কোমলমতি শিক্ষার্থীরদের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মহোদয় ধূমপান করলে কিছু যায় আসেনা । কারণ অনেক চাপ টেনশনে যেন কোমলমতি শির্ক্ষাথীরাও যাতে মাঝে মাঝে সিগারেটে টান দেয় এই শিক্ষাই হয়ত দিতে চেয়েছিলেন। যাদের দেখে শিক্ষার্থীরা নৈতিক শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবে তারাই যদি অনৈতিক কর্মকান্ডের কারিগর হয় তাহলে তাদের কাছে শুধুই হতাশাই আশা করা যায়। প্রকাশে ধূমপান করলে বর্তমানে ধূমপান নিয়ন্ত্রন আইন মতে ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করার বিধান রয়েছে কিন্তু এখনো জনসমক্ষে ধূমপান করা হচ্ছে কিন্তু জরিমানা আদায়ের নজির নেই। আদায় কিভাবে করা হবে ? যারা আদায় করার কাজে যুক্ত তারাইতো অপারগই কারন তারাও যে ধূমপানে আসক্ত। কর্মস্থলে বসে কিংবা পাবলিক প্লেসেই ধূমপান করে থাকেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। মাদক দেশ ও জাতির জন্য সময়ের অভিশাপ।সময়ের প্রয়োজনে পাল্টে যাচ্ছে বর্হিবিশ্ব কিন্তু থেমে যায়নি কুশক্তির আগ্রাসন। বাংলাদেশ একটি বৃহৎ সম্ভাবনাময় দেশ।শিশু কিশোর তরুণরাই দেশের আগামীর কর্ণধার।দেশ পরিচালনার সূত্রধর।তরুণ প্রজন্মকে ছাড়া বাংলাদেশের সফলতা ভাবা আকাশকুসুম কল্পনা ব্যতীত আর কিছুই নয়। জীবন সুন্দর, অনাবীল আনন্দ আর উল্লাসের এই অনুভূতি সৃষ্টি করতে তাদের হৃদয় মাঝে। অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসতে হবে।মাদকমুক্ত সমাজই পারে একটি সুন্দর ও সুগঠিত জাতি গঠন করতে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠিত দেশ এগিয়ে যাবে অনেকাংশে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক স্বপ্নের পথে তারুণ্যের হাতে হাত রেখে আগামীর ঐ দূর দিগন্ত পথে আর গঠিত হউক একটি সুস্থ ও সুন্দর মাদকমুক্ত সমাজ।

পরবাসী আমি
- মিশুক সেলিম

আমি মনুষ্যদেহধারী মনপ্রাণ বিশিষ্ট এক সত্তা,
আছে প্রাণশক্তিবলে বেঁচে থাকার অদম্য স্পৃহা ,
বহুকোটি প্রাণের সমবায়ী শক্তি,উদ্ভাসিত মহাপ্রাণ,
আমি তিরোধানের আগেই প্রতিনিয়ত হই ম্লান ,

মহাসমুদ্রের মতো পরবাসী মন ডাঙ্গায় প্রতিক্ষণ ,
আমার মধ্যে আমি খুঁজি, নুতন প্রজন্মের মাঝে
বেঁচে থাকার ব্যর্থ চেষ্টা করি, কর্পুরের মতো
নিঃশেষ হতে থাকি, আর অস্তিত্বের প্রশ্নে কাঁদি,

সদ্য জবাইকৃত প্রাণীর বিছিন্ন মাংসপিন্ডের মতো
কেঁপে কেঁপে উঠি, বেঁচে থাকার ব্যর্থ চেষ্টা করি ।

পরগাছা
- আব্দুল্লাহ মোঃ তারেক

কখনো কি ভাবতে পারো
বৃক্ষ ছাড়া একটা পরগাছা !
কীভাবে বেড়ে ওঠে - অথবা
দুই ইঞ্চি উঠার পর বৃক্ষ টি কেউ কেটে নিলো...
কি হয় পরগাছার ?
কি বা আসে যায় তার ,
হয়তো দুই ইঞ্চি উপরে উঠে
ছয় ইঞ্চি নিছে ভূপাতিত হবে ।

ভালোবাসার চাদরে মোড়ানো
- আব্দুল্লাহ মোঃ তারেক

মানিব্যাগের এক কোণে পড়ে রয়েছে -
আদর-শাসন , অভিমান আর
ভালোবাসার চাদরে মোড়ানো ,
সেই চলে যাওয়া , ফিরে না তাকানো
সবই স্মৃতি - স্বপ্নের আদরে জড়ানো ।

অনেক দিন পর সেই নির্বাক দৃষ্টি-
তবুও অনেক কথা বলে যায়
বলেই যাবে অভিমান না হয় ভালোবাসার ছোঁয়ায় ।

উজাড় হবো
- মিশুক সেলিম

ভালোবাসতে বাসতে উজাড় হবো
লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে দাঁড়িয়ে
থাকবো রাস্তার ধারে, গলির মোড়ে
হৃদয়ের বাঁকে, মিছিলের অগ্রভাগে ,
তুমি তখন উড়ে আসবে সৌম্য
সরকারের মনোমুগ্ধকর ছক্কা হয়ে ।

তারুণ্যের ঝলকানিতে লুফে নেবো
তোমার অনবদ্য ভালোবাসা ,আর
পৃথিবীকে জানিয়ে দেবো আমিই
তোমার একমাত্র ভাললাগা ।

রোমান্টিক কবিদের দর্শক গ্যালারিতে
ব্যস্ত রেখে, দাঁড়িয়ে যাবো বুক উঁচিয়ে ,
মন্ত্রমুগ্ধের মতো চেয়ে থাকবো,
চুমিয়ে বিজয় উল্লাসে মেতে উঠবো
ভালোবাসতে বাসতে উজাড় হবো ।

অসহায় রাজনের করুণ চাহনী
- মিশুক সেলিম

রাস্তার ধারে স্টেশন স্টেশন মুঠো ফোন হাতে
থমকে দাঁড়ানো যুবকের মতো মানবতা আজ স্তব্ধ,
বিশ্বসভ্যতা সমকামিদের দখলে, মৃত্যসাগরে জিম্মি।
তুমি অতিথি পাখির মতো আটলান্টিক পার হয়ে,
সাদা বাড়ির কালো মানুষের দিকে হাত বাড়িয়েছো,
মহাপ্রলয় অতি সন্নিকটে, মেনে নিয়েছি, নিতে হয়।

একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফিরিয়ে দাও অরণ্য
বলে চিৎকার করো ,মধ্যযুগীয় কায়দায় খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে
আমাকে মারো, উল্লাসে ফেঁটে পড়ে অট্টহাসি হাসো ,
হে যুবক ,তুমি কি তোমার পিতার পরিচয় জানো ?
তবে কি বৃটিশ কিংবা হানাদারের রক্ত বহন করো ?

সেকি আকুতি, সেকি হাহাকার পানি দাও পানি দাও
বলে আর্তচিৎকার , অসহায় রাজনের করুণ চাহনী,
খুব দ্রত নিস্তেজ হয়ে পড়ে নিস্পাপ মায়াবী দেহখানি।
কেঁপে কেঁপে উঠে বাংলার মানবিক হৃদয়ের বানী।

পরিতৃপ্তির হাসি
- মিশুক সেলিম

সাগরের অব্যক্ত কান্না-ধ্বনি রক্তবর্ণের পাহাড়
স্পর্শ করে দাবানলের মতো ফুঁসে উঠেছে আজ।
টকটকে আপেল রাঙাগাল ছুঁয়ে দেখি বারবার,
শিহোরিত তুমি নিস্পলক তাকিয়ে থাকো নির্বাক ।

হৃদয়ের অঢেল শস্য সম্ভারে বইছে আনন্দের বন্যা,
তোমার রাঙা গালের গোলাপের আভা যেন সবুজ
বৃক্ষছায়া ভরা হৃদয়ের এক অফুরন্ত অতৃপ্ত কান্না ।
সৌরজগতের মহা সম্রাট আজ স্তব্ধ । আমি বহুদুর
থেকে হেটে আসা ক্লান্ত পথিকের মতো তৃষ্ণার্ত ।

প্রগাঢ় তৃষ্ণায় বলি ভালোবাসি,হাটু গেড়ে বসি,
উঠে দাঁড়াতেই স্পর্শ করি ফুল কাটা পাতা কলি,
তারুণ্যের দাপটে আমি উল্লাসে মেতে উঠি,
রাঙা ঠোঁটে তুমি হাসো পরিতৃপ্তির হাসি ।

প্রকৃতির সিন্ডিকেট
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

চারপাশের সব কিছু আজ সিন্ডিকেট করেছে,
দাবি, রাতটা যেনো তোমাকে দিই ।
টেবিলে রাখা পেনকাপে শূন্যতা,
কবিতার খাতাদের অনশন,
খালি আজ সিগারেটের প্যাকেট ।
এশট্রেটাও বিমুখ,
মুঠোফোনে চার্জ নেই, ল্যাপটপে নেই নেট কানেকশন ।
ঝরো হাওয়ায় বিদ্যুতের বিভ্রাট,
খোলা জানালায় বাতাসের ঝাপটা,
হওয়ার দুলায় মোমবাতি নীভু নীভু,
আমার সবকিছু কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে,
দাবি, রাতটা যেনো তোমাকে দিই ।

তাইতো চাঁদ আজ সন্ধাতেই আকাশ ছেড়েছে, যদি তাকে দেখে রাত পেরিয়ে যায়,
আসি আসি করেও আসছে না বৃষ্টি,যদি ভিজতে বেরিয়ে পড়ি ।
হিমেক বাতাস দমিয়ে দিয়েছে গা জ্বলা উষ্ণতা যেনো আমাদের...
ঝিঝিগুলো থেমে গেছে যদি কান পেতে থাকি ।
জোনাকিরা জ্বলছে না আর যদি তাকিয়ে উদাস হই,
আকাশে তারা নেই, পাখিদের সাড়া নেই,
নেই কোন শব্দের রেশ ।
হৃদপিন্ডে সাইরেন্সারের ঘণ্টা,
বেজে গেছে এলার্ম।
নীভে গেছে প্রদীপ,
নিঝুম নিশুথী রাত,
বিপরীতমুখী বাতাসে উত্তাল যৌবন সমুদ্র ।

দূর করুন চোখের নীচের কালি
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।


সুন্দর এক জোড়া চোখ সবারই কাম্য । চোখকে সুন্দর করে উপস্থাপন করে তোলার জন্যই এতো প্রসাধনী আর প্রচেষ্টা । চোখকে সুস্থ ও সুন্দর রাখার জন্য প্রয়োজন চোখ সহ চোখের পাপড়ি ও চোখের উপরিভাগ এবং নীচের মাংসপেশীর যত্ন ।


বিভিন্ন কারণে চোখের নীচে কালি জমতে পারে বা চোখের পাপড়িতে ময়লা জমে অসুখ হয় । সামান্য কিছু স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিচর্যা আপনার চোখকে করবে আরো বেশী আকর্ষণীয় ।


চোখের নীচে কালি জমে যাবার কারণ -


১। অতিরিক্ত রাত জেগে পড়া, টিভি দেখা বা কম্পিউটারে কাজ করা এবং দিনে বিশ্রাম নেয়া । বিশ্রাম নেয়া মানে ঘুমানো নয় । অরিক্তি কাজের পরে বিশেষ চোখ ও চোখের পাতা বন্ধ করে রাখলে চোখের বিশ্রাম হয় । অতিরিক্ত পরিশ্রমের জন্যও চোখের নীচে কালি জমতে পারে । যদি সঠিক সময়ে খাওয়া না হয় দীর্ঘদিন যাবৎ এমন অনিয়ম হলে এই সমস্যা হয় ।


২। অতিরিক্ত অ্যাসিডিটির ( Acidity ) সমস্যাতেও এমন হয় । দেহ থেকে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড ( দেহের জন্য জরুরী উপাদান ) বের হয়ে গেলে রক্তে অম্ল ক্ষারের সাম্যাবস্থাতে বিঘ্ন ঘটে । তখন প্রচুর পরিমাণে লবণ পানি বা পানি খেতে হয় । এই সমস্যাতে চোখের নীচে বসে যায় । অতিরিক্ত ঘেমে যাবার পরে এই সমস্যা হতে পারে ( খেয়াল রাখুন, উচ্চ রক্ত চাপের রোগীরা রান্না ব্যতীত লবণ খাবেন না । কাঁচা লবণ দ্রুত রক্তচাপ বাড়ায় ) ।


৩। টাকা বাঁচানোর জন্য যেন তেল প্রসাধনীর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ কালি জমনে পারে । অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক অবসাদ, পারিবারিক ভাবে চোখের নীচের গঠন, দীর্ঘ বছর যাবৎ উচ্চ রক্তচাপ বা জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়ার জন্যও এমন হতে পারে ।
তবে সবার ক্ষেত্রে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল ( ট্যাবলেট ) বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের জন্য চোখের নীচে কালি জমে না ।


৪। সঠিকভাবে মুখ পরিষ্কার না করলে দিনের পর দিন ময়লা জমে চোখের নীচে কালি, চোখের পাতাতে ইনফেকশানও হতে পারে । চোখের মেকআপ সঠিকভাবে নিয়মিত পরিষ্কার না করলেও চোখের পাপড়িতে রোগ জীবাণু আক্রমণ করে, হতে পারে ইনফেকশান বা এ্যালার্জি জাতীয় যাবতীয় সমস্যা ।


৫। মেয়াদ উত্তীর্ণ কম দামী, অখ্যাত কোম্পানীর প্রসাধনীও তৈরী করতে পারে চোখের নীচে কালি । মারাত্বক ডায়রিয়া, বড় কোন অপারেশন, গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্ম দানের পরে, অতিরিক্ত বমি বা ডায়রিয়া ।


৬। ফেসিয়াল করার সময় চোখের নরম মাংসপেশীতে অসাবধানতা বশত ঘষাঘষির জন্যও দাগ হতে পারে । প্রথর রোদের তাপে দীর্ঘক্ষণ থাকলে চোখের ও উপরে কালি জমে । দীর্ঘদিন কড়া রোদে থাকলে দাগ স্থায়ী হয়ে যায় । রক্ত শূন্যতা, হঠাৎ করে প্রচুর ব্যায়াম, আবহাওয়ার পরিবর্তনও এই অবস্থার জন্য দায় ।


চোখের নীচে কালি প্রতিরোধে করণীয় -


১। নিয়মিত মুখ, মাথা সহ পুরো শরীর পরিষ্কার রাখতে হবে । সৌন্দর্যের আশাতে প্রসাধনী ব্যবহারের পূর্বে যাচাই, বাছাই না করে ব্যবহার করবেননা । সানস্ক্রীন ক্রীম চোখের নীচে ও পাতার উপরে লাগাবেন না । পরিহার করুন মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রসাধনী, খাবার, অতিরিক্ত রৌদ্রের তাপ, দীর্ঘ দিন যাবৎ রাত জেগে পড়া বা ল্যাপটপে কাজ করা, হঠাৎ করে কঠোর ভাবে ব্যায়াম বা ওজন নিয়ন্ত্রণ করা । ধীরে খাবার নিয়ন্ত্রণ করুন । হঠাৎ অতিরিক্ত ব্যায়াম ও খাবার নিয়ন্ত্রণে বিরূপ প্রভাব পড়ে ত্বক, চুল, নখ, চোখের নীচের মাংসপেশী ও হাড়ের উপর ।


২। এই প্রসাধনী দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবহারের পরিবর্তে ভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ব্যবহার করুন । অতিরিক্ত রাত জাগা, দুশ্চিন্তা, দীর্ঘ বছর যাবৎ জন্ম নিয়মন্ত্রণ বড়ি পরিহার করুন । পান করুন প্রচুর পরিমাণে পানি । এতে অ্যাসিডিটি বা গ্যাসট্রিকের পরিমাণও কমবে । আর পানি দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌছে দেয় । নিয়মিত ও প্রচুর পানি পান করলে এবং তৈলাক্ত খাবার তুলনামূলক ভাবে কম খেলে চোখের নীচে কালি পড়বে কম ।


৩। অতিরিক্ত ঘেমে যাবার পরে ওরস্যালাইন বা লবণ পানি খান । উচ্চ রক্তচাপ থাকলে লবণ পানির পরিবর্তে লেবুর শরবতন খেতে পারেন । ডায়াবেটিস থাকলে অনুচিৎ, খুব বেশি ঘেমে গেলে রক্তের চিনির মাত্রা সাধারণত কমে যায় । এক্ষেত্রে খেতে পারেন । তবে পরিমাণে সামন্য চিনি খাওয়াই ভালো ।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও ব্লাড প্রেসার মাপাবেন। দীর্ঘ বছর যাবৎ একই রকম ডায়াবেটিস বা প্রেশারের ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন । অনেক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চোখের নীচে কালি জমতে পারে ।


৪। দৈনিক রাতে ৬-৭ ঘন্টা ঘুম ভীষণ জরুরী । বাহির থেকে এসে সঠিক ভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন । মেকআপ থাকলে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন । অতিরিক্ত প্রসাধনীর পরিবর্তে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পাশ্বপ্রতিক্রিয়া কম থাকে । রোদে বের হলে ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন ।
খুব ক্লান্তিতে কাজের ফাঁকে ১৫-২০ মিনিট চোখের পাতা বন্ধ করে রাখুন । একটা তুলা হালকা ভিজিয়ে রাখতে পারেন । এতে ময়লা পরিষ্কার হয় আর সেই সাথে চোখের স্নায়ু ও মাংসপেশীর বিশ্রাম হবে ।


৫। ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়াম এর মাত্রা অল্প থেকে ধীরে ধীরে বাড়ান । মৌসুমী ফল, শাক সব্জি দেহের প্রতিটি অঙ্গের জন্য ভীষণ জরুরী । বিশেষত শাক, ছোট মাছ চোখের পাতা ও মাংসপেশীর পুষ্টির জন্য অপরিহার্য্য । আর দূর করতে হবে বিষন্নতা বিষন্নতাতেও চোখের নিচে কালি জমে ।

মিথিলা
- এম. এইচ. স্বপন


মিথিলার সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকে আলাদা স্বভাবজাত একটা গুণ প্রায় লক্ষ্য করা যেত । হিমেল যার যার আলাদা স্বাধীনতার কথা ভেবে খারাপ লাগা সত্বেও অনেক কথা কখনো বলতে পারেনি মিথিলাকে । শুরুতেই দুজনের একটা দুরত্ব থাকলেও আস্তে আস্তে তা খুব কাছাকাছির হয়েছে । কলেজ লেখাপড়া পরিবার আত্মীয়ের পরে হিমেল আরেকটা উচু স্থান মিথিলার কাছে । প্রতিদিন কলেজ পড়াশোনা সকালের নাস্তা থেকে রাতের ঘুম পর্যন্ত খবর রাখা হিমেলের । গুড় মর্ণিং থেকে গুড় নাইট ভালোলাগা খারাপলাগা কলেজ বান্ধবি সব শেয়ার করতো হিমেলের কাছে । মাঝখানে একদিন হিমেল খবর নেইনি বলে মিথিলা তিনদিন রাগ করেছিল । কারো ফোন রিসিভ করেনি , এদিকে হিমেল বারবার ফোন করেও মিথিলাকে না পেয়ে বন্ধুর ফোন থেকেও অনেকবার চেষ্টা করেছে , কিন্তু মিথিলার ফোন রিসিভ হয় না । পর পর তিনদিন একই অবস্থা দেখে সব আশা ছেড়ে দিয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিল যে আর কোনদিন কথা বলবে না মিথিলার সাথে । সপ্তাহখানেক পরে অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে হিমেলের মুঠোফোনে একটা মেসেজ আসে , লেখা ছিল ভালো আছো ? হিমেল কল করে দেখে মিথিলার কন্ঠ । অনেকটা ভয়ে ভয়ে যে মেসেজটা মিথিলা পাঠিয়েছে আবার কোন রং নাম্বারে যাচ্ছে নাতো । না নাম্বারটা সঠিক ছিল , মোবাইল কোথায় হিমেল প্রশ্ন করতেই মিথিলা , বাসা থেকে ফোনটা চুরি হয়ে গেছে , তোমার নাম্বারটা একটু একটু মুখস্থ ছিল । বছর দুয়েকের প্রেম মিথিলা-হিমেলের যাচ্ছে ভালোতে । হিমেলেরা তিন ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাই দুবাইতে থাকেন , আগামি মাসের দশ তারিখ হিমেলের ও চলে যাওয়ার কথা । একবছর হল হিমেল দুবাইতে , মিথিলার সাথে প্রতিদিন যোগাযোগ রাখছে । খালাতো ভাইয়ের বিয়েতে মিথিলার পরিচয় হয় সকালের সাথে । ফেইসবুক মুঠোফোনে ভালই বন্ধুত্ব মিথিলা-সকাল , এই বন্ধুত্বের কাহিনি হিমেলের অজানা । হিমেলের অজান্তেই মিথিলার সম্পর্ক সকালের সাথে বন্ধু থেকে প্রেমে ... সকাল আস্তে আস্তে মিথিলা-হিমেল সম্পর্কের কথাও জেনে গেল । মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল বিয়ের কাজ সেরে ফেলতে হবে , দুজনের সম্মতিতে কাজি অফিসে বিয়ে শেষ হল । আজ মিথিলা ৬ মাসের অন্ত:সত্বা , সকাল অনাগত সন্তানের বাবা । যতদিন যায় তত মায়াজাল , আবেগ ভালোবাসা বেড়েই চলছে মিথিলার প্রতি সকালের । প্রতিদিন অনাগত সন্তানের কথা ভেবে মনে মনে অনেক খুশি সকাল , তবুও একটা দু:চিন্তা কাজ করে যাচ্ছে মাসখানেক ধরে । যে কথা মিথিলা কোনদিন জানতে পারেনি , অনাগত সন্তান মিথিলা ভালোবাসা সাজানো সংসার সব থাকার পরও সকালের দু:চিন্তার কারন অনেকবার জানতে চেয়েও কোন উত্তর পায়নি মিথিলা । সব কথা মিথিলাকে বলবে বলবে বলেও বলা হয়নি সকালের...মিথিলার প্রতি ভালোবাসা ও অনাগত সন্তানের কথা ভেবে গোপনে নিজের মাদকাসক্তের কথা আজো বলতে পারেনি...।
গল্পের প্রয়োজনে হিমেল , মিথিলা ও সকাল নামগুলো ব্যবহত ।

ভালোবাসার চুল
- মেহেদী হাসান আকাশ

হে রূপসী
তোমার লম্বা চুল
করেছে আমায় আকুল
এত সুন্দর করে রেখেছো
তোমার কালো চুল
তোমার চুলে ফুটিয়াছে
আমার স্বপ্নের ফুল
তোমার চুলকে ভালোবেসে
আমি হয়েছি ব্যকুল
হে রূপসী ললনা একটু বলোনা
কেন এত সুন্দর তোমার চুল
তোমার চুলকেই ধরে নেব
আমার ভালোবাসার ফুল ৷

"চারুলতা" এ অধ্যয়নরত ৮০জন বস্তির শিশুদের সাথে লিও ক্লাব - লিও ক্লাব অফ চিটাগং কণর্ফুলীর সদস্যরা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি
- তারিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে দেশের ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য লিও ক্লাব-লিও ক্লাব অফ চিটাগং কণর্ফুলীর সদস্যরা গত ১১ই জুলাই ২০১৫ নগরীর নাসিরাবাদ তুলাতুলি বস্তিতে হাজির হয় । এখানে তারা আরেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন "চারুলতা "এ  অধ্যয়নরত ৮০জন বস্তির শিশুদের ঈদ খাদ্য সামগ্রী প্রদান করে ।  একই সাথে তারা শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতন করতে সঠিক উপায়ে হাত ধোয়া এবং এর প্রযোজনীয়তা বিষয়ক কর্মসূচি পালন করে । এই স্বাস্থ্য সচেতন কর্মসূচি তে শিশুরা স্বস্তঃস্ফুর্ত ভাবে অংশগ্রহন করে । লিও ক্লাব কণর্ফুলীর নব- নির্বাচিত ক্লাব  সভাপতি লিও তারিকুল ইসলাম এর  সভাপতিত্বে এই কর্মসুচিতে উপস্তিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব অফ চিটাগং কণর্ফুলির ক্লাব সভাপতি লায়ন মোসলেউদ্দিন অপু, লিও ক্লাব উপদেষ্টা ও লায়ন ডিস্ট্রিক ট্রেজারার লায়ন জহিরুল ইসলাম, আর ও  ছিল কণর্ফুলি লায়ন্স ক্লাব সচিব লায়ন আবদুর রহিম, কো-এডভাইজর ও কণর্ফুলি লিও ক্লাব পরিচালক লায়ন হেলাল উদ্দিন । এছারা এখানে উপস্তিত হন সদ্য প্রাকতন লিও ডিস্ট্রিক প্রেসিডেন্ট লিও আনিসুল হক চৌধুরি, লিও ডিস্ট্রিক এর নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লিও ওবায়েদুর রহমান । আর সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন ক্লাব পরিচালক লিও বিদেশ বড়ুয়া, লিও রিয়াজ উদ্দিন, লিও মনজু, সদ্য প্রাকতন  ক্লাব সভাপতি লিও রোকসানা, লিও রফিক ( সহ-সভাপতি ) , লিও জয়দেব ( সচিব ) , লিও মিরাজ ( ট্রেজারার ) , লিও নজরুল, লিও আলমগীর, লিও জাফর, লিও সাব্বির ও লিও সাবিহা সহ আর অনেকে ।

আঁলোর প্রতীক্ষায়
- মনিরা ফেরদৌসি

পথ হারিয়ে গিয়েছিলাম
রাতের আধারে
বন্ধু করে রেখেছিলাম
অনেক আদরে ,
ছিলাম নাত রাতের পথিক
জীবনানন্দের মত
প্রেমের কবি নইত আমি
কবিগুরুর মত ,
সকালবেলার শিশির ছুতে
মন যে উতলা
তাইত বসে ভাবি আমি
আলোর প্রতীক্ষা ,
কেদেছি কত রাতের আধারে
বিচ্ছেদের যন্ত্রনায়
ভুলে যেতে চাই আলোয় এসে
রাতের যত কান্না ,
জ্যোস্নার আলো দেখব আমি
রাতের আধার ভুলে
দু্ঃখ গুলোকে বিলিয়ে দেব
ঘুমন্ত এই শহরে ,
এবার আমি দেখব নতুন
দিনের আলো
যেখানে হারিয়ে যাবে রাতের
আঁধার কালো ।।

রচনা - ২২/০৭/১৫

চল্
- সঞ্জীব রায়

অন্ধকারের হাতে হাত রেখে
চল্, আজ আলোর ঝর্ণার তলায় দাঁড়াই;
উপবাসী চাঁদের দিকে তাকিয়ে
চল্, আজ জ্যোৎস্নার সাগরের পথ মাড়াই।
পাহাড়ের চোখে চোখ রেখে
চল্, আজ সুখের ঘরেই আগুন লাগাই;
সাগরের তলায় মন রেখে
চল্, আজ ঝিনুকের মুক্তা গুলো বাগাই।
নদীটার ঘাড়ে হাত রেখে
চল্, আজ দুটো সুখের গল্প সেরে আসি;
আগুনের দাহ বুকে নিয়ে
চল্, আজ চিতার সন্ধানে দুজনে ভাসি।
পৃথিবীর বুকে হাত রেখে
চল্, আজ শপথের আলপনা শুধু আঁকি;
দুজনের হাত দুজনে ধরে
চল্, জগৎটাকে আজ আমরা দিই ফাঁকি।

আল্পনা
- প্রিয়দর্শিনী

টুকরো টুকরো ছবি ভাসে...
আলতো নদীর স্রোতে...
তির তিরে হাওয়া ছুঁয়ে যায়...
জলের শরীরে প্রলেপ আঁকা আল্পনা,
আজ তবু সূর্যদয়ের আকাশে,
নতুন পাখির দল উড়ে আসে,
বিস্তর্ন তীরের উপর দাঁড়িয়ে,
আমি খুঁজে পেয়েছি নতুন পথ
বাঁচার আশায়, নতুনের আশায়,
গড়েছি নতুন দেওয়াল আকাশ ছোঁয়া,
রঙচটা নয়, আগুন রঙ ছোঁয়াবো তাতে,
শোন হে, নারী জাতি, নতজানু নয়,
মেরুদণ্ড সোজা করে মাথা উঁচু করে চেয়ে দেখ
তোমাদের চোখের সামনে আগুন দেওয়াল,
প্রাচীর মিশেছে আকাশের সীমানায়,
এসেছে নতুন শতক, নব সৌর শতাব্দী,
সূর্য আগুন ছুঁয়েছে নারীর শরীর,
সাবধান, মূর্খদল, ছুঁতে চাও নাকি ?
মনে রেখ শুধু পাবে আগুন আর হবে ছাই ।

নীরবতা
- মেহেদী হাসান আকাশ

নীরবতা তুমি কেন এত মধুর
অস্থিত্বের ক্ষনে ক্ষনে
নীরবতাকে ডেকে আনে ৷
তোমাকে না যায় ধরা
আবার না যায় ছোয়া
তবুও কেন এত
তোমাকে ভালোবাসি
কষ্টের মূহুর্ত গুলোতে
তুমিই হও সাথি
তুমি আমার জন্য
করোনা তো কিছুই
তবুও কেন এত
তোমায় ভালোবাসি
হে নীরবতা ৷

রাত জাগা জোনাকি
- প্রিয়দর্শিনী

রাত জাগা জোনাকির আলোকমালা...
একফালি রাতে শুধু নিস্তব্ধতা,
বৃষ্টি থামার শেষে একমুঠো স্বস্তির নি:শ্বাস....
আর মধ্যরাতে ব্যস্ততাহীন রাজপথে লংড্রাইভ,
উক্ত ভালো লাগালাগি আর পাথেয় সুখ,
এই নিয়ে চক্রাকারেপূর্ন আহ্নিক গতি,
শুধু পড়ে থাকে পথের ধুলো মাখা একাকীত্ব,
তবু চাকা ঘুরিয়ে পথচলা, মাঝে পথের বাঁকে..
কিছু রঙীন আলো, কাঁচ বেয়ে নেমে আসা জল,
স্মৃতি - বিস্মৃতির মণিকোঠায় কতইনা জলছবি,
তবু বৃষ্টি শেষে ভিজে পথে লংড্রাইভ...
একটুকরো আকাশ ছোঁবার আশায়, ভরসায়।

তোমায় ভালবেসে
- রেবেকা রাহমান

এক রত্তি ভালবাসার রেশ
বয়ে চলতে হয় আজীবন
ব্যক্ত অব্যক্ত সমস্ত অনুভুতি তোমাকে নিয়ে
মধ্যরাতের ঘন মেঘে একবিন্দু
আলো হয়ে বার বার ঝাঁপিয়ে পড়তে চেয়েছি
তোমার পৃথিবীতে
শহরের নিষ্কলঙ্ক নক্ষত্র তুমি !
প্রলয়ঙ্করী আবেগ আমার
তারুন্য এখনো সুধু তোমায় ভালবেসে ।
প্রচণ্ড সে সব স্বপ্ন বুঝোনা তুমি
কবুতরি বুকের চেয়ে বন্ধ খাঁচার
কবুতর নিয়ে খেলতে বড্ড ভালোবাসো
তোমায় খুঁজতে গিয়ে অসীম থেকে ফিরে আসি বৃত্তে
বারবার
সুধু একটিবার
বাড়ালে দু হাত
প্রবল বাতাসে বৃষ্টিকণার মতো ছড়িয়ে পড়বো বুকে
ভালবাসায় জয়ধ্বনিতে জাগাবো হৃদয়
দূষিত হলেও
ওটা যে তোমারই হৃদয় ...।

উড়ন্ত পায়রা
- সোনম মনি

হাঁটি হাঁটি
পা পা করে
আমি, তোমার হাত ধরে
হেঁটেই; তো হাঁটা শিখেছি,
তারপর,
হাঁটি হাঁটি পা পা করে তাদের
আমি, শেখালাম হাঁটা -এই পথে!
রোদ বৃষ্টি ঝড়েও
তারা দুরন্ত দূর্বার-
ওরা এখন মস্ত দৌড়বিষারদ !
সময় চিরকাল নিজ গতিতে
উড়ন্ত পায়রা!
আমরা থেমে যাই নিজ নিজ ঘাটে!

সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে বর্ণের হাতে খড়ির ঈদ পুর্নমিলনী
- দিদারুল ইসলাম রুবেল, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

পথশিশু বান্ধব সামাজিক সংগঠন "বর্ণের হাতে খড়ি"র উদ্যোগে ঈদ পুর্নমিলনী অনুষ্ঠিত । ২২শে জুলাই নগরীর পাহাড়তলীস্থ রেলওয়ে যাদুঘর প্রাঙ্গনে শতাধিক সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এই পুর্নমিলনী অনুষ্ঠিত হয় । এসময় বর্ণের হাতে খড়ির নির্বাহী সদস্য এম. এইচ. স্বপনের সঞ্চালনায় পথশিশুদের সমাজের মূল ধারায় ফেরানোর লক্ষে ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় । এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হারুন-অর-রশীদ খান, সহ পরিচালক রশীদ এনাম, নির্বাহী সদস্য দিদারুল ইসলাম রুবেল, আফসানা বৃষ্টি, আরিফুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, এইচ. এম. ইকবাল, অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্কুল শিক্ষিকা সাবিনা তাবাস্সুম, জেসী গোমেজ, আবু তৈয়ব, জামিল আলী হাসান, ফাতেমা আক্তার, নেহা আক্তার, তাবাস্সুম আক্তার, শিউলী আক্তার, মোঃ ইয়াছিন, মমতাজ আক্তার, এ. আর. সুমন, ফারজানা কবির, মুনির হোসাইন, মোঃ ফোরকান, নাজিম উদ্দিন ও শামা মাহীন প্রমুখ ।এর আগে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয় । পরে শিশুদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরন করা হয় ।

মায়ের টানে
- বিভূতি চক্রবর্তী

মা-হারা এক পথের শিশু
পথের মাঝেই কাঁদে,
হারিয়ে-যাওয়া মায়ের টানে
ব্যাকুল আর্তনাদে।
কেউ জানে না কোথায় তাহার ঘর
কেউ চিনে না কে তার আপন পর,
পথের মানুষ ব্যস্ত ব্যাকুল-
কথায় তারে সাধে।
একটু সময় বিরাম কিছু নিয়ে
তাকায় সবার পানে,
সবাই তারে আদর-যত্ন করে
আপন মনের টানে।
এমন সময় ছুটে এলো শিশুর মাতা
হঠাৎ যেন ফিরে এল ভাগ্য-বিধাতা।
এবার মায়ের বুকেই শিশু-
-মাকে সবাই জানে।

আগরতলা - ২২/০৭/২০১৫ ইং

আমি ভেসে উঠেছিলাম
- শামসুজ্জোহা বিপ্লব

"তোমার ভালবাসায় ডুবে যাওয়ার পর,
আমি একবার মাত্র ভেসে উঠতে পেরেছিলাম
অশ্রুসিক্ত চোখ আর এক পৃথিবী হতাশা নিয়ে ।
ভালবাসায় পতিত হবার আগে ঘুমিয়ে ছিল বিবেক,
ধর্মজ্ঞান ছিল তুচ্ছ পতঙ্গের মত,
আবেগ ছিল হাওয়ায় উড়ানো ফুলকির মত
ভুলেই গিয়েছিলাম, আমি কে ছিলাম,,
ভেসে উঠার পর বুঝেছিলাম,
এতদিন আমি কোথায় ছিলাম, কিভাবে হারিয়ে ছিলাম, কার কাছে ছিলাম...?
বিশ্বাস কর হরিণী,
আর কখনো ডুব দেওয়ার সাহস ঈশ্বর আমাকে দেয় নি ।
আমি মুক্তি পেয়েছিলাম কামনার নিষিদ্ধ বেঁড়াজাল আর তোমার অভিশপ্ত চোখের দৃষ্টি থেকে,
আমি জন্ম নিয়েছিলাম সদ্য মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া শিশুর মতন,
ভোরের শিশিরভেজা প্রস্ফুটিত ফুলের মতন ।"

কবির মঞ্চে পদার্পন
- শামসুজ্জোহা বিপ্লব

"তোমরা যারা এই সুবিশাল মঞের সামনে এসেছো,
আমি বুঝতে পারছি,
তোমরা কেউ কবিতা শুনতে আসো'নি,
কেউ বুঝতে আসো'নি ।

তোমরা এসেছো নেতার ভাষন শুনতে,
জ্বালাময়ী বক্তব্য শুনতে,
কিন্তু, আমি তো নেতা নই ।
আমি তো পারি না তীব্র চিৎকারে মানুষকে উজ্জীবিত করতে,
সত্য মিথ্যার খবরে মানুষকে দোলাতে,
মিথ্যা কথার ফুলঝুরি ঝরাতে ।

আমি তো ভাঙাকুলার মত অবহেলায় পড়ে থাকা কবি,
যার কবিতায় ভেসে ওঠে প্রেম,
বোবা ছেলেটার রক্তে জ্বালায় যুদ্ধের আগুন,
জীবন যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ আত্নহত্যার সম্মুখীন মানুষটিকেও ফেরায় ঘরে,
নারীকে ভালবাসার টানে নিয়ে যায় দূর থেকে দূরে ।

তবে কবিকে কেন,
নেতার মঞে পদার্পণের আহ্বান,
নীল অপ্রস্তুত চোখ দেখে, মিটিমিটি হাসো'ন..."

বন্যা দূর্গতদের পাশে বর্ণের হাতে খড়ি
- এম. এইচ. স্বপন, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

চকরিয়া (কক্সবাজার) থেকে ফিরে : ২৯ জুন সোমবার ভোর সাড়ে চার'টা খুলশী থেকে সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় চট্টগ্রাম কর্ণফুলী ব্রিজ । শ্যামলি পরিবহনের বাস যোগে আমাদের ৪জনের যাত্রা বন্যা দুর্গত চকরিয়ার কৈয়ার বিলের উদ্দেশ্যে । সকাল ৮ টায় পৌছালাম চকরিয়া বাসস্ট্যান্ড, সেখানে অপেক্ষমান ইসলাম নগরের এনামুল হক । তার সাথে আগে কখনো দেখা হয়নি, কথা হয়নি শুধু এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরনের  উপলক্ষ থেকে যোগাযোগ । আমরা পাঁচজন এবং ত্রাণবাহী টম টম প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ কৈয়ার বিল এলাকায় । প্রথমে পূর্ব বানিয়ারকুম গ্রামে, প্লাবিত এলাকার পানি আস্তে আস্তে কমতে শুরু করলেও এখনো অনেক বাড়ী ঘর পানির নিচে । যে সকল বাড়ী থেকে পানি নেমে গেছে সেখানে থাকার ঘরে কাদা মাটি ও  আশপাশে প্রচুর দুর্গন্ধ । স্থানীয় জাকারিয়া মাষ্টারের সহযোগিতায় পূর্ব বানিয়ারকুম গ্রামের ৪০ টি পরিবারের মাঝে বর্ণের হাতে খড়ির পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরন করা হয় । ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন বর্ণের  হাতে খড়ির নির্বাহী সদস্য এম. এইচ. স্বপন, দিদারুল ইসলাম, এইচ. এম. ইকবাল, শফিকুর রহমান প্রমুখ । নিজের ৬৭ বছর জীবনে ৯১ পরবর্তি ১৫ সালের এই বন্যার পানিতে পার করা বিগত দিনগুলির বাস্তবিক গল্প শুনিয়েছেন আবু ছৈয়দ । বর্ণের হাতে খড়ির সদস্যদের দেখে এগিয়ে আসেন এই গ্রামের একসময়ের দারিদ্র কৃষক সৌদি  প্রবাসী নেজাম উদ্দিন । ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের নামের তালিকা দিয়ে সহযোগিতা করেন আমাদের । কে এই নেজাম উদ্দিন ? কি করেন আপনি জানতেই... এনামুল হক বলেন, মেম্বার, চেয়ারম্যানের আগে প্লাবিত এই গ্রামে নিজ উদ্যোগে ১৫০ টি পরিবারকে ৩ কেজী করে চাল দেন নেজাম উদ্দিন । এবার পশ্চিম বানিয়ারকুম গ্রামে বর্ণের হাতে খড়ির সদস্যরা, সেখানে পাঁচ সন্তানের জননী স্বামী হারা ফাতেমা বেগমের সাথে কথা হয় আমাদের ।  আপনাদের দেখতে আসছি বলতে ডেকে নিলেন নিজ ঘরে, ঘরে ডুকতেই কাদা মাটি এমনকি শোবার ঘর, রান্না  ঘর সবখানে কাদা মাটি আর পানি । টানা পাঁচদিন পানির নিচে ডুবে থাকার পর বর্তমান এই অবস্থা । ফাতেমা খালার  সাথে কথা বলার সময় ঘরের এক কোনে দাঁড়িয়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন বেবী আক্তার । স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ফাতেমা খালার মেয়ে বেবীর কাছে হয়তো তাদের বর্তমান এই অবস্থা অনেক লজ্জার, নয়তো নিজেকে অনেক ছোট করে দেখার । বেবীর ইচ্ছে না থাকা সত্বেও কথা বলেছি  আমরা, শুধূ কিছু কথা দিয়ে মানসিক শক্তি যুগিয়েছি বেবীর মনে । কঠিন বাস্তবতা কি বলে ? বেবীর সম্মানে আর কিছু লিখছি না । বেবীদের বাড়ী থেকে একটু দুরে দেখা হয় বানিয়ারকুম গ্রামের মেম্বার আবু ইউসুপের সাথে । কিছুক্ষন আলাপচারিতায় তিনি বর্ণনা করেন নৌকা দিয়ে মানুষকে উদ্ধার, ইউপি চেয়ারম্যান ও সরকারের বরাদ্ধের কথা । পানির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার গল্প শুনিয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী আলেয়া  বেগম ।
এই গ্রামের ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শেষে আমরা যাই ইসলাম নগরে, সেখানে কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে, কয়েকটি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শেষে ফিরছি টম টমে । চকরিয়া ডিগ্রী কলেজ, নিচতলার শ্রেনীকক্ষের চেয়ার টেবিল পানিতে ভাসছে । আশ পাশের কয়েকটি বাড়ী ঘরের নিচ তলা এখনো পানির নিচে । অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো পানি ও কাদা মাটি, বন্ধ রয়েছে পাঠদান । জীবনের অন্তত একটা দিন ঘুরেছি দু:খের ফেরিওয়ালাদের গ্রামে । পাশে থাকার চেষ্টা করেছি একটি দিনের কয়েকটা ঘন্টা । কিছু কথা বলেছি নামমাত্র সান্তনা, কিছু শুকনো খাবার দিয়েছি চাহিদার তুলনায় অনেক কম । আল্লাহর অশেষ মেহেরবান এই বন্যাকবলিতদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পেরেছি কিছুটা সময় । ধন্যবাদ  এনামুল হক ভাই, অনেক  কষ্ট করেছেন । পরিশেষে খোদার কাছে প্রার্থনা, তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দেন ।

কবিতা তোমাকে নিয়ে
- বিভূতি চক্রবর্তী

কবিতা ! কোন খেয়ালের সৃষ্টি তুমি, কিছু বলবে ?
তোমাকে নিয়ে কেন যে সবার এতই মাতামাতি !
সামনে তোমার অসংখ্য পথ, কত যে সব বন্ধুরা,
কি দেখছো তুমি ! তোমাকে না তোমার কলমকে-
না তোমার স্রষ্টাদের, যার সাহায্যে এগিয়ে চলছো ?
তুমি কি চেনো নিজের ঐ সব কর্তাদের কাজ-কর্ম ?
কবির মন থেকেই বেরিয়ে-আসা তোমার রহস্যটি-
যাদের নিয়ে তুমি হেসে হেসে আপন খেয়ালে নাচাও,
কেন যে অনেকেই বুঝতে পারে না তোমার আচরণ-
আমার অনুরাগিণী হয়েও কেন যে চিনতে পারো না ?
সময় থেমে থাকে না, থাকবেও না, শুধু এগিয়ে চলে-
তাই তোমাকে দোষ দিয়ে তো কারো কোন লাভ নেই,
কবিতা ! আমরা তো জানি, যুগের সঙ্গে তাল মিলবেই ।
জানি নে. আগামী দিনের কোন পথের পানে চলবে তুমি-
সেলাম রইলো সেলাম, চলতি জীবনের এই শেষ সেলাম ।

আগরতলা - ১৯/০৭/২০১৫ ইং



স্মৃতির পাতায় গ্রামের ঈদ
- এম. এইচ. স্বপন, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
বিগত অনেক বছর ধরে গ্রামে ঈদ করা হয় না । সে ০৬ সাল থেকে ইট পাথরের শহরে ঈদ করতে হচ্ছে । জীবন থেকে বিগত হওয়া অনেকটা বছর প্রিয় গ্রামে ঈদ করা হয়েছে আমার । গ্রামে ঈদ করার মজাই আলাদা , খুব ভোরে মা-চাচিদের ডাকা ডাকিতে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে মুরব্বীদের কবর জিয়ারত করতে যেতে হতো , চাচাতো জেঠাতো ভাইয়েরা সবাই মিলে কবরস্থানে । কবর জেয়ারত শেষে বড়দের ঈদের সালাম করার জন্য পুরো বাড়ির  এই ঘর ওই ঘরে ছোটাছুটি । আমাদের পরিবারের বিশেষ আকর্ষন ছিল ছোট চাচ্চু ও চাচিমা । চাচারা চট্টগ্রাম শহরে থাকতেন পুরো পরিবার নিয়ে, রোজার ঈদে সবাই মিলে গ্রামে ঈদ করতে যেতেন । আমরা চাচাতো জেঠাতো ভাইয়েরা সালাম করতে গেলে ১০ , ২০ টাকার চকচকে নতুন নোট দিতেন ঈদ সেলামি হিসেবে । কে কত পেল ঈদ সেলামি চাচাতো জেঠাতো ভাইয়েরা মিলে আলোচনা চলতো ,কেউ খুশি আবার কেউ বেজার থাকতাম  । তিন চার গ্রামের মানুষ পাঁয়ে হেঁটে সমবেত হতেন ঈদগাঁ ময়দানে । নামাজ শেষে পরিচিতজনদের সাথে কোলাকুলি , খেলনার গাড়ি , বাঁশি , পে-ফুঁ বাজিয়ে গ্রামের ঈদ জমে তোলা আমাদের  । তার পর বাড়ি ফেরা ,বাড়ির প্রতিটি ঘরে ঘরে চলতো সেমাই চিনি মিষ্টি মুখ । আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া , বেড়ানো সহ এক সপ্তাহেও শেষ হতো না ঈদের আমেজ । আজ একটা সময় এসেছে আমরা বড় হয়েছি , জেঠাতো ভাইয়েরা প্রবাসে , কেউ সংসারি , বউ বাচ্চা কাচ্চার বাবা , চাচারা এখন আর আগের মত গ্রামে যান না , বাস্তবতায় পুরনো সবকিছুই আজ স্মৃতি । কয়েক বছর ধরে শহুরের ঈদ অনেকটা ভালো না লাগাতেই করা হচ্ছে । ঈদের কয়দিন আগ থেকে সবাই গ্রামে চলে যায় , পুরো শহর মরা মরা লাগে । বিগত বছরগুলোতে বন্ধুদের সাথে ঘুরাঘুরি আর কর্ণফুলিতে নৌকা ভ্রমনে শেষ হয়ে যায় ঈদের আনন্দ । আজ বাংলাদেশে হয়ে গেল রোজার ঈদ , পুরোদিন বৃষ্টি  , নামাজ শেষে ঘুম , বন্ধু আড্ডায় চলছে ঈদ আনন্দ ।

সম্পাদকীয়...


প্রথমেই সকল পাঠক, পাঠিকা, ও বন্ধুদের জানাই পবিত্র ঈদ ও শুভ রথযাত্রার আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন । অনেক দিন হল সম্পাদকীয় কলমটা লিখে উঠতে পারিনি, তাই আবার কলমটা হাতে তুলে নিলাম । একটুকরো স্বপ্ন দেখেছিলাম । মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করে, স্বপ্ন দেখলাম আর সেটা সত্যি হয়ে গেল, এটা ভাবাও কল্পনার অতীত । তবে এবার মনে হয় সেটা সত্যি হবে । আমার ছোট ছোট খুশিগুলো তাই আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করে নিলাম । আমার সমস্ত খুশি হল এই "নবদিবাকর" ই-পত্রিকাকে নিয়েই । কবিতা, ছোট গল্প, কিশোর সাহিত্য, ধারাবাহিক গল্প-উপন্যাস, অণুগল্প, বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রভৃতি আধুনিক লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের টুকরো টুকরো খবর দিতেই চালু করা হল "সংবাদ নবদিবাকর" । চাইলে আপনারাও স্বেচ্ছাসেবী হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন । আপনারাও "টুকরো খবর" বিভাগে খবর পাঠাতে পারেন । আপনারা চাইলে নবদিবাকরের চলার পথ আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন ।


পত্রিকার সম্পর্কে আপনাদের যে কোন মতামত, প্রশ্ন-উত্তর, পরামর্শ, অভিযোগ বা যে কোন কিছু জানাতে হলে অবশ্যই আমাদের ইমেল আইডিতে ইমেল করতে পারেন । আপনাদের গুরুত্বপুর্ন পরামর্শই আমাদেরকে করবে আরো বেশি গতিশীল এবং সাফল্যমন্ডিত । আপনাদের মূল্যবান পরামর্শ আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবো । তাই আমরা আছি আপনাদের সকল মতামতের অপেক্ষায় । এবারে এটুকুই থাক, আর কিছু বললাম না । সমস্ত লেখক, লেখিকা, আর পাঠক বর্গের জন্য আমার হৃদয়ভরা ভালবাসা ও শুভেচ্ছা রইলো । সম্পাদক - মিন্টু উপাধ্যায় ।

ইয়ুথ'স ভয়েসের পথশিশুদের সাথে ঈদ আনন্দ
- কৌশিক দত্ত, বাংলাদেশ

১৩ জুলাই ২০১৫, সম্পন্ন হল Youth’s Voice ১২ তম ইভেন্ট Project Chauna Piyaju-4(PCP-4) । ২০১১ সাল থেকেই বিভিন্ন সমাজসচেতনতা ও উন্নয়ণমূলক কর্মকান্ডের সাথে নিয়োজিত আছে Youth’s Voice ।
এরই ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজন PCP-4 । গত চার বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা ইভেন্টটির মূল লক্ষ্য হতদরিদ্র শিশুদের সাথে ইফতার ও ঈদের খুশি ভাগ করে নেয়া ।
১৩ জুলাই দুপুর ১২টা থেকেই এন.মোহাম্মদ কনভেনশান সেন্টারের প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে সদস্য ও সেচ্ছাসেবকের দৃপ্ত পদচারণায় । প্রায় ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবকের উপস্থিতিতে ইভেন্টটি সুচারুরূপে সম্পন্ন হয় । উক্ত ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে নগরীর ৩টি অবৈতনিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান- Youth’s Voice School, অপরাজেয়বাংলা ও বর্ণেরহাতেখড়ি স্কুলের প্রায় ৫০০জন শিক্ষার্থী ।
শিশুদের জন্য পুরো দিনটি জুড়েই ছিল ম্যাজিকশো, ফটোশুট, চিত্রাঙ্কণ ইত্যাদি আনন্দ আয়োজন । এছাড়াও Youth’s Voice এর পক্ষ থেকে Leo Club of Carnafully-র সহায়তায় শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয় । সন্ধ্যায় শিশুদের সাথে আনন্দ মুখর পরিবেশে ইফতার  গ্রহণ পর্ব অনুষ্ঠিতহয়, এতে সকলের স্বতঃস্ফুর্ত উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয় । ইফতার পরবর্তী অংশে শিশুদের মাঝে Eid Smile Pack বিতরণ করা হয়, এতে শিশু ও তাদের পরিবারের ঈদ উদযাপনের জন্য ছিল সেমাই, ন্যুডুলস, চিনি,দুধ ইত্যাদি সামগ্রী । নগরীর বিশিষ্টমহলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান ভিন্ন মাত্রালাভ করে । ইভেন্টির স্পন্সর হিসেবে ছিল “হাইওয়ে সুইটস, একমি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, রোটারি ক্লাব অফ চিটিগি মিড সিটি, Leo Club of Carnafully, রেডিও ফুর্তি” সহ আরো অনেকে ।


ওদের পাশে বর্ণের হাতে খড়ি

- এম. এইচ. স্বপন -চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

হাসান, হোসেন, আকলিমা, রিয়া ওদের প্রত্যেকের বয়স ৫-১০ বছর । ঈদ মানে আনন্দ,  ঈদ মানে খুশি । এ বয়সের  শিশুদের ঈদের আনন্দ মানে নতুন জামা । এমন পরিবারে তাদের জন্ম, দিন এনে দিন খেতে হিমশিম খেতে হয় যেখানে, সেখানে আবার নতুন জামা । ১৫ জুলাই বিকেল ৩ টা চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়তলীস্থ রেলওয়ে যাদুঘর প্রাঙ্গনে কিছু নতুন জামা হাতে এক দল তরুনের উপস্থিতি  । এরা প্রত্যেকে বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র । সম্পুর্ন নিজ উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন করে থাকেন । এবার ঈদেও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আনন্দের সাগরে ভাসাতে নতুন জামা হাতে তাদের উপস্থিতি । চট্টগ্রামের এক ঝাক স্বপ্নবাজ তরুনের হাতে গড়ে উঠা পথশিশু বান্ধব

সামাজিক সংগঠনটির নাম "বর্ণের হাতে খড়ি" ।

এই সংগঠনের উদ্যোগে অর্ধশত সুবিধা বঞ্চিত পথশিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ঈদের নতুন জামা । নতুন জামা বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংগঠনের পরিচালক মাহবুব আলম মিঠু । এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বর্ণের হাতে খড়ির নির্বাহী সদস্য এম. এইচ. স্বপন, দিদারুল ইসলাম রুবেল, কবির আহমেদ সুজন , ওমর পারভেজ, তপু, নুর জাহান ইরা, মুনির হোসাইন, শফিকুর রহমান, এম. আর সাইমুম, আবু তৈয়ব, সাবিনা তাবাসসুম প্রমুখ ।

কিশোর কালের দুষ্টুমি
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

উদ্দ্যম বিকেলের কিশোর বয়সে,
সবুজ ঘাসের পরে বন্ধুরা সবে,
মোরা দমিয়েছিলাম অশান্তপৃথীবির
অনুনয় দিয়েছিলাম আড্ডা !
হাঁড় কাঁপুনি শীতে অদম্য কূয়াশায়, প্রভাতের সোনালি রবি পড়ে থাকে ধূয়াশায়,
নয়নোপান্তে ঘুম বালিচার কুটির ভেঙ্গেছি,
চুলগুলো অগোছালো, ছিল না কলার ঠিক
জানি ক্লাশের হয়েছে দেরি তবুও দিয়েছি
স্কুল পাড়ি !

স্কুল গেট স্বমুখে স্যারের হাতে খেলাম ধরা,
স্যার বলে দেরি কেন ? খেলাম কানমলা,
আবার মাথায় হাত বুলিয়ে ভালবাসার সুরে,
বলে আর কখনো দেরী করিওনা বাবা !
ভালোই ছিল সেই দিন গুলো,
কোথায় যেন আজ হারিয়ে গেলো ।


হাতছানি
- রীতা ঘোষ

ও খোকা ! এবার তুইও সাবধান হ ।
শরীরী খাঁজ তো খুকুর অভিশাপ...
স্বল্প পরিধান , আগুনে ঘি...
এমনটাই বলেছিল সমাজ সেদিন ।
কামাগ্নির ধোঁয়ায় অন্ধ লিঙ্গভেদ !
নাকি সমকামিতার নেশায় বুঁদ্‌...
শয়তানের থাবায় রক্তাক্ত ভবিষ্যৎ !
এবার তোর সাবধান হবার পালা...
'' না '' বলা মানা !!

ঈদ মোবারক
- শিমুল শুভ্র : উদ্যমী কবি

ঈদের দিনে চলছে সবে
ঈদগায়ের ঐ ময়দানে,
নতুন জামা নতুন কাপড়
আল্লাহ্‌র সন্ধানে ।
ত্রিশ দিনের সিয়াম সাধনে
দিনগুলো অমুল্য রতন,
কোরআন পাঠে সরস ত্বরণ
মন পবিত্রের উপকরণ ।
আজ ছুটছে সবায় দলে দলে
আল্লাহ্‌র নাম স্নরনে,
সাদা টুপি আর পাঞ্জাবিতে
শাঁওল মাসের গড়নে ।
পাক পবিত্র মনের ঘরে
কোরআন পাঠের আলোতে,
ফরিহাদ জানায় জায়নামাজে
ঈদগায়ের ঐ মাঠেতে ।

রচনাকাল - ১৭।০৭।২০১৫ ইউ এ ই

ওঝা
- রাজীব চৌধুরী


গ্রামে নতুন এক ওঝার আগমণ ঘটেছে । নাম ঝুন্নু মিয়া । কেউ কেউ ঝুনু সরদার নামেও ডাকে । ঝুন্নু সর্দার নিজে থেকে আসেনি । গ্রামের পঞ্চায়েত রা সবাই মিলে ডেকে এনেছে। ঠিক ডেকে আনা ও নয় । টাকা দিয়ে ধরে এনেছে । অনেকটা ভাড়া করে যেমন করে বাইজি নিয়ে আসা হয় কিংবা সেরকম ময়লা ধরনের কোন কাজকারবার ঠিক তেমন ।
কিন্তু সে যে কারনে এসেছে সেটা বেশ অদ্ভুত বটে । তবে প্রায় বছর তিন চার পর পর ই এমন এক এক জনের আগমন ঘটে । ঠিক যেবছর ভয়াবহ খরা হয় সে বছর ওরা আসে । কিন্তু কোন বারেই কাজ হয়না । ঝুন্নু সর্দার অবশ্য যে কাজে এসেছে সে কাজটা সে ঠিক ভাবেই করতে পারবে বলে ধারনা করে চলেছে আবালবৃদ্ধবনিতা ।
কাজটা তেমন কিছুই না । কিছু তুকতাক করতে হবে । এবং যার দরুন বৃষ্টি হবে । যদিও গ্রামের সকলেই বেশ ভাল ধর্মভীরু । কিন্তু ধর্মের সাথে সাথে সাংঘর্ষিক এই তুকতাকে ও তাদের ভয়ানক বিশ্বাস আছে । তাই তো কারো কিছু হলেই দৌড়ায় এপাড়ার কালা ফকির থেকে শুরু করে মাইঝাবাইদানির কাছে ও । কিন্তু কে কতটুক সফল সে কথাটা কারো কাছেই শোনা যায় না । অসফল হলেও মনে মনে চেপে রাখে সবাই । আর ওদের প্রতাপ বেড়ে চলে । ঝুন্নু সর্দার অবশ্য তেমন না । চোখে সুরমা লাগানো চেহারা দেখে যেকেউ বলে দেবে সে বেশ সুন্দর চোখের অধিকারী । কালো ভাসা ভাসা চোখের মনি । টলটলে কালো মাছের চোখের মতোন চোখ । এই চোখে তাকিয়েই সে মানুষকে সম্মোহন করতে পারে । মানুষ অবশ্য সম্মোহন বুঝেনা । যাদু বুঝে । আর এই যাদুশক্তির কারনেই ঝুন্নুকে সবাই মান্য করতে শুরু করেছে ।
গ্রামে ঢোকার পরেই তোড়জোড় শুরু হল । কার ঘরে থাকবে । আর কার ঘরে খাবে । ঝুন্নু র অবশ্য এ নিয়ে কোন ভ্রক্ষেপ নাই । প্রচন্ড গরমে হাপিতেশ অবস্থা । মাঝে মাঝে কয়েকটা ব্যাঙ ডেকে চলেছে । ওদের ডাকে র মাঝেও হতাশা । পানির জন্য চিৎকার- তা শুনেই বোঝা যায় । ঝুন্নু সর্দারকে ও অনেক কিছু খেতে দেয়া হয়েছিল । সে কিছুই খায়নি । আজকেই সে বসতে চায় সাধনায় । এজন্য সে দেরী করবেনা বলে জানিয়ে দেয় একজনকে । গ্রামের মুরুব্বি গোছের সেই লোক এক থলি টাকা নিয়ে দেয় সবার কাছ থেকে চাঁদা তুলে । কিন্তু এর পরেই ঝুন্নু যা বলে ওঠে তাতে সবার চোখ ছানাবড়া ।
ঝুন্নু একটা কুমারী মেয়ে চায় । এই গ্রামের একজন কুমারী মেয়েকে সে চেয়ে বসার সাথে সাথে গ্রামে গুঞ্জন ওঠে । জোড় গুঞ্জনে ভেসে যায় পুরো গ্রাম । বুড়োদের চোখে সরষেফুল দেখা যায় । মাতব্বরের মাথা ঘুরতে শুরু করে । মেয়েদের মায়েরা একে একে নিজেদের ঘরে ঢুকে পড়ে খিল দেয় । দুষ্টু ছেলের দল উদাও হয় । কেউ কেউ গালিগালাজ ও দিতে শুরু করে । কিন্তু কেউ নিজের কন্যাকে ঝুন্নুর হাতে তুলে দেয়না ।
দেবেই বা কেন ? ঝুন্নু চায় সে কুমারী মেয়ের শরীরের রক্তের ধারার উপর বসে সে ধ্যান করবে । আর তুকতাক করে বৃষ্টি নামাবে । সে নাকি দিব্যচোখে দেখেছে এই গ্রামে বৃষ্টি আসবেনা এই কাজ না হলে । একজন কুমারী মেয়েকে বৃষ্টির দেবতার চাই ই চাই । ঠিক তখন অনেক দূরে ঈষাণ কোণে একটু খানি তুলো তুলো মেঘ জমে ।
এর আগেও অনেকে অনেক কিছু চেয়েছে । গতবছর যে এসেছিল সে একেবারে তিনটা ছাগল চেয়েছিল । অনেক কষ্টে জোগাড় হয়েছিল সে গুলো । সেই ওঝা একে একে সবকটা ছাগলের মাথা কোপে কোপে কেটে ফেলে তিন মাথা দিয়ে তুকতাকে বসেছিল । বৃষ্টি আসেনি । এসেছিল পাক্কা একমাস পর । যদিও সে ওঝাকে পরের দিনই তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল পাওনা টাকা দিয়েই । গরু ছাগল মানুষ এমনিই খেয়ে ফেলে কিন্তু কেউ কখনো জলজ্যান্ত মানুষ চাইতে পারে তা কেউ বোঝেনি । এদিকে গ্রামে হাহাকারের মাত্রা বেড়ে চলে । বৃষ্টির জন্যে হাহাকার নাকি মেয়ের জন্যে ?
বিভক্ত হয় গ্রাম ।
গলাবাজি হয় ।
হাতাহাতি ও হয়ে যায় ।
কিন্তু মিমাংসা হয়না ।
শেষমেষ ঝুন্নু মিমাংসা করে । গ্রামের মাতবরের ষোল বছরের সখিনা কে ই জান দিতে হবে গ্রামের মঙ্গলের জন্য । প্রথমে গাইগুই করলেও শেষে রাজি তাকে হতেই হয় । এবং এর পরেই শুরু হয় তুকতাকের আসল জোগাড়যন্ত্র ।
সখিনাকে সাজিয়ে দেয়া হল সুন্দর করে । পরীর মত দেখতে সখিনাকে দেখে যেকেউ হার্টফেল করবে-এমন মনেই হচ্ছিল ঝুন্নুর । কিন্তু তার এত সময় নেই । সে বিশাল এক ঝোলা থেকে জিনিসপত্র বের করা শুরু করল ।
একটা মাথার খুলি ।
একটা পায়ের হাড় । অবশ্যই মানুষের ।
একটা দাঁত । শিশুর ।
কিছু অন্যান্য যন্ত্রপাতি ।
সবশেষে বের হল বিশাল এক ভোজালি । বিশাল তলোয়ারের মত । তবে তলোয়ারের চে খানিকটা ছোট । কিন্তু বেশ ধারালো । এক কোপেই আলাদা হয়ে যাবে সখিনার মাথা । সে অবশ্য কিছু করতে পারছেনা । কারন তার চিৎকার চেচামেচির জন্যেই তার হাত পা বেধে দেয়া হয়েছে । গ্রামের দুজন সাহসী ছেলে এসব করছে । বাকিরা যে যার মত ঘরের দুয়ালে খিল দিলো । মাতব্বরকে নিজের ঘরে বেধে রাখা হয়েছে । বিকেল হতে খানিক বাকি- ঠিক এমন সময় একটা ধুলো ঝড় খানিকটা ঠান্ডা হাওয়া বইয়ে দেয়া শুরু করল । এর মাঝেই ঝুন্নু শুরু করেছে তুকতাক ।
গ্রামের ছেলে ছোকড়ারা ছিল বেশ কিছুক্ষণ । এর পরেই সবার প্রস্থান ঘটেছে । পুরো প্রান্তরে কেউ নেই । শুধু ঝুন্নু সর্দার আর সখিনা । আর মাথার ওপর ঘনকালো মেঘ । এই মেঘের জল মাটিতে নেমে আসার সাথে সাথে সখিনার মাথা কেটে ফেলা হবে । ঝুন্নু সবাইকে এটাই বলেছে । ঝুন্নু একমনে মন্ত্র পড়ে চলেছে চিৎকার করে । ওর মাথা থেকে নেমে আসে ঘাম । সে ঘামে সারা শরীর ভিজে যায় । তবুও তার হুশ হয়না । সে চিৎকার করে যেতেই থাকে । যেতেই থাকে । যেতেই থাকে ।
ঠিক এমন সময় ঝুন্নুর চোখের ওপর একফোঁটা মেঘ ঝড়ে পড়ে । মেঘ নাকি বৃষ্টি দেখার সময় নেই ঝুন্নুর । সেই মেয়েটার গলা বাঁধা কাপড় । মুখ বেধে সে কাপড় নেমে গেছে হাতের দিকে । হাতের ভোজালিটা তুলে নিল সে । তারপর ডানে বামে তাকিয়ে বিরবির করে দিলো এক কোপ ! সাথে সাথে কাছে কোথাও বাজ পড়ল । আর শুরু হল অঢেল বৃষ্টি ।

সখিনা আর বেলাল দৌড়ে চলেছে । বেলালের পড়নে ঝুন্নুর পোশাক । শুধু মুখের নকল দাড়ি গুলো নেই । ওরা দৌড়াচ্ছে । বৃষ্টি হচ্ছে অবিরাম । এর ভেতরেই গ্রাম পেরোতে হবে । সখিনাকে পাওয়ার জন্য বেলাল এতকিছু করেছে আর এই বৃষ্টিতে হাত ধরে দৌড়াতে পারবেনা ? বেলালকে কেমন যেন অপরিচিত মনে হয় সখিনার । চঞ্চল বেলালের ভেতর বেড়ে ওঠে দায়িত্ববান পুরুষ । এমন পুরুষইত সে চেয়েছিল এতোকাল ।।

অব্যক্ত বেদনা
- মিন্টু উপাধ্যায়

একটুকরো ভালবাসা চেয়েছিলাম,
পাইনি আমি এখনও... ।
মৃত্যুর শীতল স্পর্শ পেতে চেয়েছিলাম,
ধরা সে দেয়নি আমায় ।
জীবনে কিছু করতে চেয়েছিলাম,
পারিনি আমি তা করতে ।
অস্ফুটে কাঁদতে চেয়েছিলাম,
অবুঝ নয়ন মেনে নেয়নি সেটাও ।
কিছু বলতে চেয়েছিলাম,
তোমায়, শুনলেনা তুমিও ।
মায়ের আঁচলে মুখ লুকাতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু মা"ই তো নাই আমার ।
পাগলা মনটাকে বোঝাতে চেয়েছিলাম,
শুনতে চায়নি সেও ।
নিস্তব্ধতার মাঝে হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম,
দেয়নি যেতে এই বাস্তবতা ।
আমার এই অব্যক্ত বেদনা অব্যক্তই রয়ে গেল,
চায়না বুঝতে কেউই ।

রচনা – ১২/০৭/২০১৫ ইং

লক্ষ্যভ্রষ্ট চুম্বন
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

প্রথমবার এতো কাছ থেকে নারী দর্শন ।
পায়ে ভূ-কম্পন, কানে শূণ্যতা,
চোখে আধার, হাতে টর্পেডোর আঘাত ।
হৃদপিন্ড থেমে গেছে ।
দেহে প্রণয়ের জলোচ্ছ্বাস ।
আবেগের ঘোরে প্রিয়ার কপোলে আঁকা
আমার প্রথম চুম্বন লক্ষ্যভ্রষ্ট !

আমার কষ্ট
- মেহেদী হাসান আকাশ

ভালোবাসা কথাটি মধুর
কিন্তু দুঃখ কষ্টে ভরা
সবাই ভালোবাসা চায়
কেউ পায় আবার কেউ পায়না
আমিও চেয়েছি তোমাকে
মন দিয়ে ভালোবাসতে
চেয়েছি সারাজীবন একসাথে থাকতে
চেয়েছি একসাথে পথ চলতে
কিন্তু তুমি আমাকে
চাওনা ভালোবাসতে
রাখো আমাকে দূরে সরিয়ে
যতই আমি তোমার কাছে
চাই আসতে ততই
তুমি অপমান করে
দূরে সরিয়ে দাও আমাকে
এত কষ্ট পাচ্ছি জেনেও
তুমি বুঝলেনা আমার ভালোবাসা
এটাই আমার কষ্ট ৷

লং ড্রাইভ
- এম. এইচ. স্বপন


ঢাকার মেয়ে মৌ'র পড়া লেখার সুবাধে চট্টগ্রামে থাকা । মা-বাবা, আত্বীয়-স্বজন ছেড়ে একাকি অজানা শহরে, হোস্টেল জীবনে পার হচ্ছে বিগত কয়েক বছর । আগের মত এখন আর মন খারাপ হয়না মৌ'র । আস্তে আস্তে মানিয়ে নেওয়া একাকি অচেনা শহর এখন অনেকটা পরিচিত । পড়া লেখাও চলছে বেশ ভালোতে, এইদিকে দুইজন ভালো বান্ধবীও আছে এখন মৌ'র । লেখা পড়ার বাইরে একাকি একজন মেয়ের অনেক কাজ থাকে, সব কাজতো আর একা সমলানো যায় না । আগের মত এখন আর কোন সমস্যা হয় না, বান্ধবীরা সাহায্য করেন, শুধু একটু সমস্যা ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতে । ঈদের ছুটিতে ভার্সিটি বন্ধ হওয়ায় পরিবারের কাছে যাওয়ার জন্য, অলংকার মোড় থেকে সৌদিয়া বাসের টিকেট নিল মৌ । কাউন্টারে অনেক চেষ্টা করেও জানালার পাশে সিটটি নিতে পারেনি । টিকেটে তার সিট নাম্বার বাংলাদেশ ওয়ান । গাড়ি ছাড়ার বাকি মাত্র পাঁচ মিনিট, এখনো জানালার পাশের সিটটি খালি । গাড়ি ঢাকার পথে যাত্রা করছে, মৌ'র চিন্তা এতো অনুরোধের পরেও কেন জানালার পাশের সিটটি দিল না তারা, এখনতো সিটটা খালি । সে চিন্তা বেশিক্ষন দীর্ঘ হয়নি, সিটি গেইট থেকে একজন যুবক উঠলো সিটটি তার । হেডফোন কানে লাগিয়ে গান শুনছে আর পাশের সিটের অপরিচিত যুবকের দিকে তাকিয়ে আছে মৌ । প্রকৃতির দৃশ্য দেখা আর লং ড্রাইভে কল্পনার নানা রঙে মগ্ন নীল । কে পাশে আছে কি নাই ওইসবে মাথা ব্যাথাও নেই নীলের । গান শুনতে শুনতে খুব ঘুম পাচ্ছে মৌ'র, একবার হেলে পড়েছে নীলের কাধে, তাতেও নীলের কোন সাড়া শব্দ নেই । অনেকটা পথ নীলের কাধে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পার করলো মৌ । অনেকদিন পরে পরিবারের কাছে যাওয়া তাছাড়া লম্বা ছুটি, ব্যাগ, কাপড় গোছানো সহ অনেক কাজ, টেনশনে গত রাতে ঘুমাতে পারেনি মৌ । ঘন্টা তিনেক পরে মৌ'র ঘুম ভাঙলো, এবার নীল ফেসবুকে চ্যাট করছে । মৌ সরি কিছু মনে করবেন না বলতেই, নীল না ঠিক আছে । পুরো যাত্রা পথ অচেনা অজানা একটা ছেলের কাধে ঘুমিয়ে শেষ করলো মৌ । এবার মৌ'র প্রশ্ন কোথায় থাকেন ? কি করেন ? উত্তরে নীল আমি আজ উঠছি অন্যদিন বলবো, ভালো থাকবেন বলে নেমে গেল । মৌ'র আফসোস ইশ যদি না ঘুমিয়ে গল্প করতাম, তাকে জানতাম, অনেক ভালো মানুষ, চার ঘন্টায় একবারও বিরক্ত হয়নি... ।

স্মৃতির বোঁঝা
- বিভূতি চক্রবর্তী

ফেলে আসার সেই যে স্মৃতি
হারাই নি তো- হারাই নি,
স্মৃতির বোঁঝা বয়ে বেড়াই
দাঁড়াই নি তো- দাঁড়াই নি ।
জানি আমার হারানো দিন
মনের কাছেই তুলনা হীন,
তবুও আমার বুকের মাঝে
মনের হাতটি বাড়াই নি ।
কেন আমায় ডাকছো বলো
আমার কথা শুনবে কি ?
আঁধার রাতে আলোর সাথে
স্বপ্নের জাল বুনবে কি ?
জানি আমার রঙ্গীন হাসি
শুনিয়ে যাবে মধুর বাঁশী-
বন্ধুরা সব, তোমরা বলো-
জীবন-খাতায় গুনবে কি ?

আগরতলা - ১১/০৭/২০১৫ ইং

ঘুমের পাহাড়
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

ঘুমেরা আজ পাহাড় গড়েছে
নয়নের কিনারাই,
স্বপ্ন গুলো পাড়ি দিয়ে যেতে
চাই সেই পাহাড় চুরাই !
আকাশে মেঘগুলো হয়েছে একত্রিত,
আলোকিত চাঁদ হয়েছে আড়াল,
জমাট বাঁধা সহস্র মেঘের ওপারে ।
তাইতো আজ ঘুম যেন হারিয়েছে,
কলঙ্কিত সমস্ত আধারে !
আজো আমার স্বপ্ন গুলো ব্যাস্ত
পাহাড় চুরাই উঠার জন্য ।

বাঁধন হারা
- বিভূতি চক্রবর্তী

উদাস মনের বুকের মাঝে
বিষণ্ণ দিন কুড়িয়ে পেলাম-
করুণ সুরের মায়ার টানে
ব্যথাটুকুই ছড়িয়ে গেলাম ।
বিষণ্ণতার করুণ বাঁশী
কান্না ছড়ায় মনের মাঝে,
মলিন হাসির ক্লান্তি নিয়ে
বাঁশীর সুরেই সুর বাজে ।
হৃদয় আমার বাঁধন-হারা
অনুভূতির ভ্রান্ত মায়ায়-
মনের হিসাব মিলবে কবে
বেহিসাবী দিনের ছায়ায় ।

আগরতলা - ১০/০৭/২০১৫ ইং

বৃষ্টির পণ্ডশ্রম
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

ঝুম ঝুমে বৃষ্টি,
টানা তৃতীয় দিন আমায় ভিজিয়ে দিলো ।
আমার স্বপ্নেরা আমায় দেখে হাসে,
আমার পাগলামি দেখে আমার প্রেমিকা যেভাবে হাসে,
ঠিক সেভাবে ।
আমিও হাসি, আমেরিকা বিজয়ের পর কলম্বাস যেভাবে হেসেছে,
ঠিক সেভাবে ।
স্বপ্নগুলোকে বুকে জরিয়ে
আকাশের দিকে তাকিয়ে বললাম,
বৃষ্টি, তুমি ভেজাতে পারো,
থামাতে পারো না ।

গোপন ডায়েরী
- এম. এইচ. স্বপন


খাতা কলমে ডায়েরীতে ছোট বড় নোটে লেখা জীবন কাহিনী অন্যদের মত নয় স্বপ্নীলের । যান্ত্রীক জীবনে ব্যস্ততার ভিড়ে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে অনেক কাজের সাথে নিজেক জড়িত রেখেছেন স্বপ্নীল । সময়ের সাথে নিজেকে মিলিয়ে রাখা সচেতন মানুষটি নিজের আত্ম-তৃপ্তি থেকে অন্যদের ভালোবেসে যাচ্ছেন বছরের পর বছর । আত্ম-প্রচার ভালো না বাসা মানুষের সংখ্যা তেমন দেখা না গেলেও স্বপ্নীলের নীরবতা অনেক সময় স্পষ্ট করে দেয় ভালো না লাগাটাই । চলার পথের অনেক অসঙ্গতি দেখে প্রতিবাদী হয়ে উঠা মন, কখনো কখনো অন্যের প্রতি ভালোবাসার মানসিকতা থেকে উপস্থিত ছাড় দিয়ে গেলেও জীবনের ডায়েরীতে বরাবরের মত প্রতিবাদের ভাষায় উল্লেখ করেছেন নিজের অবস্থানগত কারন । নৈতিক আদর্শ থেকে একজন মানুষ সমাজ ব্যবস্থায় চলতে গেলে উঠতে বসতে নানান মতের নানান পেশার মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলাটা বড় কঠিন হয়ে উঠে । তবুও স্বপ্নীলের সবসময়ের চাওয়া ছিল নিজের ভালোবাসা ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থেকে নিজ সমাজে কিছু অবদান রাখা । চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, নিজেকে জড়িতও রেখেছেন বিগত কয়েক বছর ধরে । যে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন, বুকে হাজারো স্বপ্ন নিয়ে, সে সমাজেরই কিছু অসঙ্গতি বহুবার চলার পথে বাধা তৈরি করেছে স্বপ্নীলের । তবুও থেমে নেই স্বপ্নীলের স্বপ্ন বাস্তবায়ন, কখনো কচ্চপ গতিতে আবার কখনো ঝড়ের বেগে চলা প্রতিদিনের কর্মযজ্ঞ চলছে । দিনের ক্লান্তি শেষে খাতা কলমে লেখালেখি আর ভালো লাগতো না, বেচে নিয়েছেন ফেসবুকে এক বন্ধুর ইনবক্স । সেখানে দিনের পর দিন লিখে যাচ্ছেন ভালো, মন্দ, সময়, বাস্তবতার গল্প, কাল্পনিক ভাবনা । প্রায় সময় প্রতিবাদী লেখা গুলোর অনেক গোপনীয়তা রক্ষা করতে হতো, তবুও বয়সে ছোট বিপরীত লিঙ্গের একজন মানুষের ইনবক্স কতটা নিরাপদ । আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় অনেক বড় ছিল স্বপ্নীলের কাছে ওই বিপরীত লিঙ্গের মানুষটার ইনবক্স । বেশীদিনের চেনা জানা না হলেও নিজের পছন্দের নামে ডাকা মৌ'কে একবার বলেছিল স্বপ্নীল গোপনীয়তার কথা । মৌ আশস্থ করে বলেছিল সব ঠিক ঠাক থাকবে, কোন সমস্যা নেই ।

হৃদবেদ
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

সময় বয়ে যায় সময়ের মত,
হৃদয়ে থেকে যায় অতীতের ক্ষত ।
বয়ে সে চলে যায় অজানার দেশে,
স্রোতের মতন সে চলেছে যে ভেসে ।
ব্যাথা পেল কবে কে সময় ভাবে না,
ব্যাথিত হবে বলে কভূ সে থামেনা ।
খরকুটু আকারে ভেসে ভেসে যাই,
জানিনা কবে কোথা কীভাবে হারাই ।
হারাব নিশ্চিত গিয়ে কতদূর ?
জানা নেই সীমানা ভেবে লাগে ঘোর,
অতীতের সুখেরা আজ যে কাঁদায় ।
কোথায় গেল কাল ? কোথা সে হারায় ?
আখির জলে ভেসে স্মৃতিদের খুঁজি,
সুখ সব হারাল জল শুধু পুঁজি ।
জীবন চলে যাবে জীবনের মত,
হৃদয়ে রয়ে যাবে অতীতের ক্ষত ।

মায়াতাপহরিণী
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

কাঠফাটা রোদ,
গ্রীষ্মের মধ্যাহ্ণে তপনের তান্ডব ।
ইট পাথরে আবদ্ধ শহরে খেপাটে উষ্ণতা,
ঘামে ভেজা শরীরে লেগে আছে শার্ট ।
ললাট বিদ্রুপে ব্যস্ত হয়ে মাথা গুজা লোকাল বাসে,
সেদিন, রূষ্ঠ মেজাজে স্ট্যান্ড ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম জ্যাম ছুটার অপেক্ষায় ।
হঠাৎ নজরে এলো সে,
কপোলে ঘামের ঝর্ণা ।
নোনা জলে ভিজে জবজবে কাপড়,
এক গোছা চুল লেপ্টে আছে গালে ।
তাতে ঢেকে আছে একটি চোখ,
শ্বেত শুভ্রে ফেসে জলের স্ফটিক ।
বিকিরিত আলো ঝলসে দেয় অক্ষি,
আঁধারভেদী দৃষ্টিরে স্থির নয়ন ।
চোখে চোখ পড়তেই কিছুটা অপ্রস্তুত হলো সে,
ঠোট বাঁকা করে হাসার চেষ্টা ।
কি ঠান্ডা !
একরাশ বরফ কুচি ঢেকে দিলো আমার পুরো অনুভূতি ।
কি এক স্বর্গীয় শীতলতা !
সে হলো স্বস্থির দূত
আমার মায়াতাপহরিণী ।

মাগো এসে দেখে যাও
- শিমুল শুভ্র : উদ্যমী কবি

চাঁদ উঠেছে আলো জ্বলেছে ভেন্না পাতার ঘরে,
মাগো আমি আজ ও ছোট তোমায় মনে পড়ে।
মিঠা আলোর জোছনা রাতে গাইতে কত গান,
হরেক রকম গল্প বলে ভাঙ্গাতে আমার মান।
চন্দ্রবিন্দুর সকল ভরসা তোমার আঁচল তলে,
কেন অসময়ে চলে গেলে আমায় একা ফেলে।
নতুন মায়ের ঐ মুখখানি একটু তোমার মতন,
তাঁর মাঝে তোমায় খুঁজি ফিরি ,অমুল্য রতন।
মাগো নতুন মায়ের মনের দরজা খুবই নাজুক,
বেজায় রাগে স্বরে ফাটায় আমি কাজের লোক!
তোমার সাজানো ঘরে রাজত্ব চলে তাঁর হুকুমে,
বাবা ও যেন পড়েছেন ফাঁদে বড় ভুলের ত্বরনে।
মাগো আর সয় না প্রাণে ব্যাথা মনে এই জীবন,
কালো দাগে পিঠ ফেটেছে ঢের কষ্টে খুঁজি মরন।
পাঁচ বচরের শিশু আমি বল কি করে রাঁধি ভাত,
কথা ছিলো বই হাতে পাঠে যাবো রাঙ্গা প্রভাত।
মাগো টিকলি পিকলি খেলার ছলে করে বাহানা,
তা দেখে নতুন মা ক্রোধে আগুন ,ভাঙ্গে আয়না।
যে আয়নায় স্বপ্নটুটে জীবন বাঁকে ছেঁড়া মোহনায়,
মাগো দেখে যাও আমি আছি কেমন কষ্ট যন্ত্রণায়।
তোমার মত হয় না কেনো ঐ নতুন মায়ের মন,
কষ্টে বক্ষ ভাসে দিন রাতে,ক্ষত চোখের অনুরণ।
মাগো ছেড়া বসনে তোমার মেয়ে লজ্জায় কাতর,
আমায় দেখে শোকে কাঁদে যেন ঐ অবুঝ পাথর।

রচনাকাল - ১২।১০।২০১৪ ( ইউ এ ই )

অপলক নয়নে চাহিয়া রহিয়াছি
- শিমুল শুভ্র : উদ্যমী কবি

আমি অপলক নয়নে চাহিয়া রহিয়াছি
কন্যার নয়ন তলে রূপের ক্ষীর,
আজি প্রভাত রবির আলো ফুটিয়াছে বুঝি
আমার ভালো লাগিবার নীড় ।
তাহার চাহনি আমায় ভাবাইয়া তুলিয়া লয়,
সদ্যউদিত গোলাপের আলো,
সুবাসিত করিয়া ছুটিতেছে কালোরঙ চুলে
তাহারে লাগিয়াছে বড় ভালো ।
মনের আনাচেকানাচে তোলপাড় আজি
তাহারে নজর এড়ানো দায় !!
ঠোঁটের হাসিতে পাগল করিয়াছে ঝলকে
ভাসাইলো প্রেমের দরিয়ায় ।
জানিনা তাহার নাম ঠিকানা, প্রেমের সুতায়
বাঁধিলাম তাহার অচেনা মন,
আজি ঘর বানাইলাম তাহার রূপের জমিনে
ভালোবাসি বলিয়া বেড়াই সারাক্ষণ ।
তাহার আঁচল উড়িতেছে বেহায়া বাতাসে
ক্ষণে ক্ষণে লুকানো জায়গাজমি,
ভাসিয়া উঠিতেছ চোখের সামনে দিয়া,
তাহার রূপের গগণ চুমি ।
আমি কয়েককদম সামনে আগুয়ান চাহিলাম
তাহার কোমল মুখপানে
কন্যা আজ বড় লজ্জালতা,ভাব দেখিলাম
প্রেমেজর্জর দুটি কোমল মনে ।

রচনাকাল - ০৭।০৫।২০১৫ ( ইউ এ ই )

দূর হোক দেহের ঘামের গন্ধ
ডাঃ ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার, গাইনী এ্যান্ড অবস,
স্কয়ার হসপিটাল, ঢাকা ।


ঘাম দেহের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। পরিবেশ, পরিস্থিতি, বয়স ও লিঙ্গ ভেঙ্গে একেক জনের ঘাম হয় একেক রকম । আবার যারা দৈহিক পরিশ্রম করেন তাদের ঘেমে যাবার প্রবণতা থাকে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি । যেসব নারীরা রান্নাঘরে চুলার কাছে কাজ করেন বেশী, অন্যদের তুলনায় তারা ঘেমে যান বেশী । আমাদের দেহের পুরো ত্বকে রয়েছে অসংখ্য ঘাম গ্রন্থি । এদেরকে খালি চোখে দেখা যায় না । এই গ্রন্থিগুলো দেহের দূষিত পদার্থকে ঘামের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয় ।


আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারী পুরুষদের ঘেমে যাবার কারণ থাকে ভিন্ন । দেশের বাহিরের নারীরা পুরুষদের মত ঘর ও বাহিরের কাজ করেন । আর আমাদের দেশের নারীরা চাকরি করার পাশাপাশি ঘরের কাজও সমানভাবে করেন । দৈহিক পরিশ্রম বেশী হলে যে কোন মানুষেরই ঘাম হয় বেশী । জন্মগতভাবে নারীদেহে পুরুষের তুলনায় ফ্যাট বা চর্বির পরিমাণ বেশী থাকে । ফ্যাট বা লিপিড (Lipid) অর্থাৎ চর্বি দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় । একটু হাটাচলাতেই নারীদেহে তাপ তৈরী হয় পুরুষ দেহের তুলনায় বেশী । বিশেষতঃ যাদের বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বেশী ।


আর যেসব নারী বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী অধিক ওজন সম্পন্ন, রক্তে চিনির মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ মাত্রার কোলস্টেরলে ভুগছেন তাদের ঘেমে যাবার প্রবণতা থাকে অধিক বেশী । রক্তে কোলস্টেরল (Cholesterol) বেড়ে যাওয়া মানে রক্তে চর্বি বা ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া ।


ফাস্টফুড, ঘি, মেয়োনিজ দেয়া খাবার বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খেলে এবং দৈহিক পরিশ্রম কম হলে দেহে চর্বি জমে যাবে যে কোন বয়সের মানুষের । এতে ঘেমে যাবার পরিমাণ আরো বাড়বে । যেসব নারীরা জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল (ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল) বছরের পর বছর যাবৎ খায় এবং খাদ্যাভাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা, তাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ওজন বেড়ে যায় । ডায়াবেটিক রোগীরা হঠাৎ করে বেশী ঘামতে শুরু করলে দ্রুত রক্তের চিনির মাত্রা দেখতে হবে । রক্তে সুগারের মাত্রা বেশী কমে বা বেড়ে যাওয়াটা খারাপ । ঘাম কমানোর জন্য ওজন কমাতে হবে । পারিবারিক গঠনগত কারণেও মানুষের ওজন ও ঘাম বেশী হতে পারে ।


অধিক ওজন সম্পন্ন পুরুষদেরও খেয়াল করা উচৎ নিজের প্রতি । আমাদের দেশে পুরুষেরা নারীদের তুলনায় ঘরের বাহিরে কাজ করেন বেশী । তাই স্বাভাবিকভাবে তারা ঘেমে যান বেশী । খেয়াল রাখুন ঘাম জমে যেন ফাংগাল ইনফেকশান বা বুকে কফ জমে না যায় । ফাংগাল ইনফেকশান মানে হলো এক ধরণের ফাংগাস (Fungus) নামের অনুজীব । যারা দেহে রোগজীবাণু সৃষ্টি করে, পরিণামে তৈরী হয় নানান রকম অসুখ । যা কখনোই কাম্য নয় ।


এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য চারিপাশের আবহাওয়া, পরিবেশ, দৈহিক গড়ন বুঝে পোষাক নির্ধারণ করতে হবে । পোষাক নরম কাপড়ের, ঢিলা হওয়া উচিৎ, যেন ভেতরে খুব সহজে বাতাস ঢুকতে পারে । নিয়মিত গোসল ও প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার খাওয়াটা জরুরী । এতে দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে ।


ঘেমে যাবার প্রসঙ্গে রাজধানীর (ঢাকা) স্কয়ার হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন ও এন্ডোক্রাইনোলোজির (Endocrinology) অ্যাসোসিয়েট/সহযোগী কনসালটেন্ট ডাঃ প্রতীক দেওয়ান বলেন, “স্বাভাবিক ঘেমে যাবার সাথে হরমোনের কোন সম্পর্ক নাই । তবে কেউ অতিরিক্ত ঘামলে এবং দুর্গন্ধযুক্ত হলে অবশ্যই হরমোনের পরীক্ষা করানো উচিৎ । কারণ দেহের থাইরয়েড গ্রন্থির এক ধরণের হরমোন অতিরিক্ত কমে গেলে মানুষের ঘামের পরিমাণ বাড়ে । তবে বেশী ঘেমে যাবার জন্য সব সময হরমোন দায়ী নয় । হঠাৎ করে রক্তে চিনির পরিমাণ কমে গেলে, দীর্ঘ বছর যাবৎ ডায়াবেটিস রোগে ভুগলে দেহের স্নায়ুগুলো দূর্বল হয়ে মানুষ ঘামে বেশী । দেহের গড়ন, পরিবেশ পরিস্থিতি ও আবহাওয়ার বিরুদ্ধে পোষাক হলে ঘামের পরিমাণ বাড়ে । আর নারীদের মাসিক চির তরে বন্ধ হবার পরে হট ফ্ল্যাশ (hot flash) হয় । হট ফ্ল্যাশ হলে মুখে, দেহে, মাথাতে গরম লাগে বেশী । এই সময় অধিকাংশ নারীরা ঘামে বেশী ।


সঠিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না হলে ঘামের সাথে ব্যাকটেরিয়া যুক্ত হয়ে তৈরী হয় দূর্গন্ধ । দীর্ঘদিন ব্যাকটেরিয়া জমে নানান ধরণের চর্মরোগ হয় ।


ঘামের দূর্গন্ধ দূর করার উপায়


(১) নিয়মিত পরিষ্কার পানিতে গোসল, বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন ঠিক রাখা, রক্তচাপ ও রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাটা ভীষণ জরুরী ।
(২) ঘেমে যাবার প্রবণতা বেশী থাকলে পরিধেয় বস্ত্র নিয়মিত পরিষ্কার করুন । সপ্তাহে বা মাসে অন্তত একদিন কাপড়ে স্যাভলন বা ডেটল দিন ।
(৩) চুলার কাছে কাজ বেশী থাকলে খেয়াল রাখুন রান্নাঘরে যেন পর্যাপ্ত আলো বাতাস ঢুকে । রান্নাঘরে ফ্যানের ব্যবস্থা থাকলে খুব ভালো । মাঝে মাঝ মুখ ধুয়ে ফেলুন । এতে গরম লাগার পরিমাণ কমে ।
(৪) গোসলের পানিতে কয়েক ফোটা গোলপজল বা গোলাপের পাপড়ি মিশিয়ে নিন । এতে দেহে সুগন্ধ থাকবে অনেকক্ষণ ।
(৫) নিয়মিত ব্যবহার করুন পারফিউম, বডিস্প্রে, সুগন্ধযুক্ত পাউডার ও ডিওডোরেন্ট ।
(৬) খেতে হবে টাটকা খাবার । বাসি, দুর্গন্ধযুক্ত খাবার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় । এতে অল্প ঘামে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া বাসা বাধে । ফলে গন্ধ হয় বেশী ।
(৭) প্রতি বছর বিশেষত মেনোপোজ (মাসিক বন্ধ হওয়াকে বলে মেনোপোজ) হবার পরে নিয়মিত হরমোন পরীক্ষা করাবেন । এই সময় অনেকের দেহে হরমোন অসাম্যাবস্থা তৈরী হয় ।
(৮) প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন । এতে দেহের রোগ জীবাণু মূত্রের সাহায্যে বাইরে বের হয়ে যায় ।
(৯) ঘেমে যাবার পরেই গোসল করবেন না বা সাথে সাথে ঠান্ডা পানি খাবেন না । ঘাম মুছে কিছু সময় বিরতি দিয়ে গোসল করুন বা ঠান্ডা খান ।
(১০) দেহের অবাঞ্ছিত লোম অপসারণ করুন । পরিচ্ছন্নতার অভাবে লোমকূপের গোড়াতে রোগ জীবাণু জমে, ত্বকে সঠিকভাবে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না, ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বলতাহীন ও কালচে ।
(১১) ৬ মাস পর পর সম্ভব হলে প্রতি বছর হরমোন, পুরো পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি, রক্ত পরীক্ষা করান । সেই সাথে বুকের ই.সি.জি (হৃৎপিন্ডের পরীক্ষা) করানোটা ভীষণ জরুরী । কারণ নিজের অজান্তেই হার্টের অসুখ হতে পারে । কিছু হার্টের, হরমোনের ও রক্তের অসুখ আছে, যেগুলোতে মানুষ অতিরিক্ত ঘেমে যায় ।
(১২) অনেকেই ঘামে ভিজে যাওয়া কাপড় বাতাসে শুকিয়ে আবার পরিধান করেন । এই অভ্যাসটা পরিহার করুন । ঘামে ভিজে যাওয়া কাপড় অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে । কারণ ঘামের সাথে শরীরের অনেক রোগ জীবাণু মিশে থাকে ।
(১৩) যাদের ত্বকে এ্যালার্জি জাতীয় সমস্যা রয়েছে তাদেরকে আরো ঘাম মুক্ত থাকতে হবে ।


সামান্য কিছু সতর্কতা আপনাকে করবে ঘাম মুক্ত, স্নিগ্ধ, সুন্দর । আর সেই সাথে আপনি হবেন রোগমুক্ত ।

হারানো ফুল
- বিভূতি চক্রবর্তী

যে ফুল আমার হারিয়ে গেছে
অনেক ফুলের ভিড়ে,
সে ফুল আমি কোথায় পাবো ?
কোথায় পাব ফিরে ?
রিক্ত হৃদয় ফুঁপিয়ে কাঁদে
হারানো ফুল চাই,
নিরুদ্দেশের সে ফুল খানি-
বিকল্প তার নাই ।
দুই চোখেতে কত না ফুল
আমায় দেখে হাসে,
ফুলের হাসি আমার হাসি
সবার চোখেই ভাসে ।
কোথায় আমার হারানো ফুল
কোথায় পাবো তারে,
স্তব্ধ ব্যথায় গুমরে উঠে-
মনের বোঝার ভারে ।

আগরতলা ০৫/০৭/২০১৫ ইং

স্বাধীনতার চুরুট নেশা
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

টেনে হিচড়ে জোর করে তাকে আনতে হয়েছে একাত্তরে ।
দু'শ বছরের অবসরে আলসে হয়ে গেছে সে !
ঠিক বুড়োদের মত ।
হ্রাস পেয়েছে তার স্বামর্থ ।
গনতন্ত্রের শামস যখন বাংলার আকাশে ম্লান,
তখন স্বাধীনতা একটু উষ্ণতা পেতে
দাপটের রাজ্যে অবকাশে গেছে ।
বিদেশী চুরুট টানার লোভে !

জলে নির্বাসন
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

ঝিরি ঝিরি বাতাসের কল্লোল
রজনীর বুকে জোৎস্নার বিপ্লব
সমুদ্র তীর ধরে জলেদের র‍্যালি
উপকূলে ঝাউ গাছে পাতাদের তান
উথলে উঠা নীরবতায় স্তন্ধ বসুন্ধরা
গ্রিলের ফাঁকে বিষন্ন চোখ
করিডোরে হৃদ্ভেদী মৌনতা
নিঃসংগ চিত্তে আবেগের অশ্রু
সাগরের কাছে বুকফাটা আহাজারি
একাকিত্বের যন্ত্রণায় বড় অস্থির আমি
সাগর, তোমার কাছে ঠাই চাই
চাই তোমার জলে নির্বাসন ।

বন্ধু ও ভালোবাসা
- এম. এইচ. স্বপন


ছোটবেলা থেকে অপি ও হিমুর বেড়ে উঠা একসাথে । দুজনে সর্ম্পকে আত্মীয়, বয়সেও তেমন ব্যবধান নেই, খেলাধুলা ঝগড়াঝাটি সবমিলিয়ে বন্ধুর মত বেড়ে উঠা । দুজনে ক্লাসমেইট থাকার সুবাধে একে অপরের সহযোগিতায় ছিল । প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত দুজনের একই স্কুল ও কলেজে লেখা পড়া । ক্লাস টেন এ পড়ার সময় অপির প্রতি একদিন হিমুর ভালোলাগা... । আস্তে আস্তে এই ভালো লাগার মাত্রা বেড়েই চলছে । হিমু মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল যে করেই হোক অপিকে তার ভালোলাগার কথাটা জানাতে হবে । আত্মীয়ের সর্ম্পকের বাইরেও দুজনে খুব ভালো বন্ধু । অপিকে ভালোলাগার কথা জানানোর জন্য হিমুর রাতের লেখা চিঠি সকালে ছিড়ে ফেলা হয়েছে বহুবার । বলবে বলবে বলে ভালোলাগার কথাটা আর বলা হয়নি বিয়ের আগে একবারও হিমুর, এমনিতে প্রতিদিন তাদের দেখা কথা বলা শুধুমাত্র পড়াশোনা ও আত্মীয়তাকে ঘিরেই । হিমু ছিল একটু জেদি টাইপের, একবার কি এক কারনে অভিমান করে অপির সাথে কথা বলেনি দুবছর । অপি অনেক চেষ্টা করেছে দীর্ঘদিনের বন্ধুর রাগ ভাঙ্গাতে, একদিন কলেজে চালাকি করে অপি তার বান্ধবিকে পাঠিয়েছিল হিমুর কাছে, অসুস্থতার মিথ্যে খবর জানিয়ে । তাতেও হিমুর রাগ কমেনি, এবার উল্টো রেগে আছে অপি । ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ার সময় অপির বিয়ে ঠিক হয়েছে পারিবারিকভাবে । হঠাৎ একদিন অপি তার আম্মুর ফোন থেকে হিমুকে ফোন করে বিয়ের দাওয়াত করলো, আরো বেশী করে রেগে থাক, চলে যাচ্ছি অন্যের ঘরে বলে ফোন রেখে দিল । তাতেও হিমুর মন একটুও নরম হয়নি, কি এক কথা প্রসঙ্গে হিমুকে নিয়ে বান্ধবির কাছে অপির মন্তব্যটাই আজ এতো রাগ এতো দুরত্ব দুজনের । হিমু বিয়ের আগেরদিন অপির আম্মুর নাম্বারে ফোন করে নতুন জীবনে পা রাখার জন্য শুভকামনা জানালো অপিকে । অপি মনে মনে অনেক আশা করেছিল তার বিয়েতে হিমু আসবে, কথা বলবে, আনন্দ করবে, কিন্তু অপির সব আশা স্বপ্নে রয়ে গেল ।
বিয়ের পরে বছর খানেক তাদের যোগাযোগ নেই, একদিন হিমুদের বাড়ীতে অপি তার এক খালাতো বোনকে নিয়ে আসলো । একটু সময় চাইলো হিমুর কাছে, আজ আর আগের মত হিমুর রাগ নেই । অপির জানতে চাওয়া, কি কারনে রাগ, আর বিয়েতে কেন আসেনি হিমু । অনেকক্ষন চুপ থাকার পর হিমুর উত্তর, কতটা ভালোবাসতাম তোকে বলে বুজাতে পারবো না । এবার অপি আগে বলিসনি কেন, আমিও তোকে অনেক ভালোবাসতাম, অনেক চেষ্টা করেও বলতে পারিনি কোনদিন... ।

বন্যা দূর্গতদের পাশে বর্ণের হাতে খড়ি
- এম. এইচ. স্বপন


চকরিয়া (কক্সবাজার) থেকে ফিরে : ২৯ জুন সোমবার ভোর সাড়ে চার'টা খুলশী থেকে সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় চট্টগ্রাম কর্ণফুলী ব্রিজ । শ্যামলি পরিবহনের বাস যোগে আমাদের ৪জনের যাত্রা বন্যা দুর্গত চকরিয়ার কৈয়ার বিলের উদ্দেশ্যে । সকাল ৮ টায় পৌছালাম চকরিয়া বাসস্ট্যান্ড, সেখানে অপেক্ষমান ইসলাম নগরের এনামুল হক । তার সাথে আগে কখনো দেখা হয়নি, কথা হয়নি শুধু এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরনের উপলক্ষ থেকে যোগাযোগ । আমরা পাঁচজন এবং ত্রাণবাহী টম টম প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ কৈয়ার বিল এলাকায় । প্রথমে পূর্ব বানিয়ারকুম গ্রামে, প্লাবিত এলাকার পানি আস্তে আস্তে কমতে শুরু করলেও এখনো অনেক বাড়ী ঘর পানির নিচে । যে সকল বাড়ী থেকে পানি নেমে গেছে সেখানে থাকার ঘরে কাদা মাটি ও আশপাশে প্রচুর দুর্গন্ধ । স্থানীয় জাকারিয়া মাষ্টারের সহযোগিতায় পূর্ব বানিয়ারকুম গ্রামের ৪০ টি পরিবারের মাঝে বর্ণের হাতে খড়ির পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরন করা হয় । ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন বর্ণের হাতে খড়ির নির্বাহী সদস্য এম. এইচ. স্বপন, দিদারুল ইসলাম, এইচ. এম. ইকবাল, শফিকুর রহমান প্রমুখ । নিজের ৬৭ বছর জীবনে ৯১ পরবর্তি ১৫ সালের এই বন্যার পানিতে পার করা বিগত দিনগুলির বাস্তবিক গল্প শুনিয়েছেন আবু ছৈয়দ । বর্ণের হাতে খড়ির সদস্যদের দেখে এগিয়ে আসেন এই গ্রামের একসময়ের দারিদ্র কৃষক সৌদি প্রবাসী নেজাম উদ্দিন । ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের নামের তালিকা দিয়ে সহযোগিতা করেন আমাদের । কে এই নেজাম উদ্দিন ? কি করেন আপনি জানতেই... এনামুল হক বলেন, মেম্বার, চেয়ারম্যানের আগে প্লাবিত এই গ্রামে নিজ উদ্যোগে ১৫০ টি পরিবারকে ৩ কেজী করে চাল দেন নেজাম উদ্দিন । এবার পশ্চিম বানিয়ারকুম গ্রামে বর্ণের হাতে খড়ির সদস্যরা, সেখানে পাঁচ সন্তানের জননী স্বামী হারা ফাতেমা বেগমের সাথে কথা হয় আমাদের । আপনাদের দেখতে আসছি বলতে ডেকে নিলেন নিজ ঘরে, ঘরে ডুকতেই কাদা মাটি এমনকি শোবার ঘর, রান্না ঘর সবখানে কাদা মাটি আর পানি । টানা পাঁচদিন পানির নিচে ডুবে থাকার পর বর্তমান এই অবস্থা । ফাতেমা খালার সাথে কথা বলার সময় ঘরের এক কোনে দাঁড়িয়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন বেবী আক্তার । স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ফাতেমা খালার মেয়ে বেবীর কাছে হয়তো তাদের বর্তমান এই অবস্থা অনেক লজ্জার, নয়তো নিজেকে অনেক ছোট করে দেখার । বেবীর ইচ্ছে না থাকা সত্বেও কথা বলেছি আমরা, শুধূ কিছু কথা দিয়ে মানসিক শক্তি যুগিয়েছি বেবীর মনে । কঠিন বাস্তবতা কি বলে ? বেবীর সম্মানে আর কিছু লিখছি না । বেবীদের বাড়ী থেকে একটু দুরে দেখা হয় বানিয়ারকুম গ্রামের মেম্বার আবু ইউসুপের সাথে । কিছুক্ষন আলাপচারিতায় তিনি বর্ণনা করেন নৌকা দিয়ে মানুষকে উদ্ধার, ইউপি চেয়ারম্যান ও সরকারের বরাদ্ধের কথা । পানির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার গল্প শুনিয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী আলেয়া বেগম ।
এই গ্রামের ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শেষে আমরা যাই ইসলাম নগরে, সেখানে কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে, কয়েকটি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শেষে ফিরছি টম টমে । চকরিয়া ডিগ্রী কলেজ, নিচতলার শ্রেনীকক্ষের চেয়ার টেবিল পানিতে ভাসছে । আশ পাশের কয়েকটি বাড়ী ঘরের নিচ তলা এখনো পানির নিচে । অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো পানি ও কাদা মাটি, বন্ধ রয়েছে পাঠদান । জীবনের অন্তত একটা দিন ঘুরেছি দু:খের ফেরিওয়ালাদের গ্রামে । পাশে থাকার চেষ্টা করেছি একটি দিনের কয়েকটা ঘন্টা । কিছু কথা বলেছি নামমাত্র সান্তনা, কিছু শুকনো খাবার দিয়েছি চাহিদার তুলনায় অনেক কম । আল্লাহর অশেষ মেহেরবান এই বন্যাকবলিতদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পেরেছি কিছুটা সময় । ধন্যবাদ এনামুল হক ভাই, অনেক কষ্ট করেছেন । পরিশেষে খোদার কাছে প্রার্থনা, তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দেন ।

নিশি কাব্য
- এম. এইচ. স্বপন


ঘড়ির কাটায় রাত আড়াইটা । নীরবতার চাদরে ডাকা পুরো রাত, কোথাও কারো সাড়া শব্দ নেই । দুর আকাশে মিটি মিটি জ্বলছে তারাগুলো, আজ অন্ধকার নেই । একাকী জেগে থাকা উদ্দেশ্যহীন একটি রাতে, কোলাহলমুক্ত রাতে ঠিকই ঘুমিয়ে আছো তুমি । নষ্ট ডিম লাইটটা এখনো আগের জায়গায় আছে, নতুন করে আজ নষ্টের কাতারে যোগ হল রুমের ঘড়িটা । গত দুই ঘন্টা যাবৎ টিক টিক শব্দটি আর কানে বাজছে না । কম্পিউটারের মাল্টিপ্লাকের আলোয় রুমের এক কোণ আলোকিত । টাইলসে লাল আলোটা মিশ্রিত হয়ে অন্য কালারের রুপ . . . কল্পনার রঙ যে কত রঙিন শুধু বাস্তবতা দুর থেকে ফোনালাপে বোঝা যায় না । অসাধারণ একটা রাতের কিছু মুহুর্ত জানালার ফাঁকে বাইরে তাকিয়ে অনুভব । পাশে নেই কল্পনার রাজকুমারী . . . . ।

অসঙ্গায়িত
- মাহফুজ মোর্শেদ


আমি একজন শখের লেখক । যা লিখি নিজের কাছেই পছন্দ হয় না । আর মানুষ কি পছন্দ করবে । তবে আমার বন্ধুবান্ধবরা বলে এতোটাও খারাপ নাকি লিখি না । একটা ছোট লিটল ম্যাগ এ একটা সিরিজ আর্টিকেল লিখি । অসঙ্গায়িত নামে । ওটা লিখে দু চার পয়সা আয় হয় । আর একটা ছোটখাট চাকরী করি । বিয়ে করিনি এখনো । করার ইচ্ছেও নেই । এইতো আছি বেশ । বাবা মা গত হয়েছেন । আগে মামা মামীর বাসায় থাকতাম । চাকরী হওয়ার পর তারা আর আমাকে রাখার প্রয়োজন বোধ করেন নি ।


নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দেয়ার মধ্যে একটা ভাব আছে । এখনকার যুগের কচি খুকিগুলো লেখকদের পেছনেই বেশী ছোটে । তবে আমি যা ছাইপাশ লিখি । মাঝে মাঝে নিজেই লজ্জায় পড়ে যাই । নিজেকে লেখক বলে সাহিত্যের ইজ্জত মারছি নাতো !


প্রতিদিন বিকালে বারান্দায় বসে থাকি। এটা আমার ডেইলী রুটিন হয়ে গেছে । যেদিন মন ভালো থাকে সেদিন টুকটাক লেখালেখি করি । প্রতিদিনের মতো ঐ দিনোও আমি বারান্দায় বসে ছিলাম আর কিছু লেখার চেস্টায় কলম কামড়াচ্ছিলাম । ঠিক তখনি কলিং বেল বেজে উঠলো ।


কে আসতে পারে । বাড়ীওয়ালা !! বাড়ি ভাড়া তো মাসের শুরুতেই দিয়ে দিয়েছি । আর বুয়াও তো রান্নাবান্না করে দুপুরেই চলে গিয়েছে । আর হাস্যকর হলেও সত্য এই দুইজন মানুষ ছাড়া আমার বাসায় কালেভদ্রে কোন মানুষ আসেনা । ডাকাত আসে নি তো । খোজ খবর নিয়ে হয়তো জেনেছে একা থাকি বাসায় । কয়েকটা চড় থাপ্পরেই কাজ হয়ে যাবে । লুট করে নিয়ে যাবে সব । কি সব আজেবাজে ভাবছি । ওদিকে বিরতিহীন ভাবে কলিং বেল বেজে চলেছে দরজায় । চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালাম ।


কুরিয়ার অফিস থেকে এসেছে ছেলেটা । আমার নামে কুরিয়ার এসেছে । কোথা থেকে এসেছে জানতে চাইলে বল্লো ঠিকানা নেই । কি আজিব দুনিয়া । ঠিকানা না লিখে এরা পাঠাতে দেয় কেন কুরিয়ার । যদি প্যাকেটের মধ্যে কেউ টাইম বোম পাঠিয়ে দেয় । প্যাকেট খোলার সাথে সাথেই পটল তোলা কনফার্ম । কিংবা কাল কেউটে !!


তবে প্যাকেটটা দেখে মনে হলো এতে কেউটে বা বোমাজাতীয় কিছু থাকার সম্ভাবনা নেই । একটা সাধারণ হলুদ রঙ্গা খাম । খোলার আগ্রহ অনুভব করলাম না । টেবিলে রেখে বিছানায় চলে গেলাম । খুব ঘুম পাচ্ছে ।


ঘুম ভাংলো মাগরিবের আযানে । পুরো ঘর অন্ধকার হয়ে আছে । ঘরের মধ্যে কেমন জানি একটা গন্ধ । বাজে না ভালো বুঝতে পারছি না । এ দুটার মাঝামাঝি পর্যায়ের । তবে গন্ধটা খুবই অপরিচিত লাগলো । বিছানার পাশের সুইচগুলো হাতড়ালাম অন্ধকারে । আলো জ্বালার সুইচটা খুজে পাচ্ছি না । হটাৎ একটা সুইচে আঙ্গুল দিতেই চমকে উঠলাম । মনে হলো কারো আঙ্গুলের উপর হাত লাগলো । শরীরটা কেঁপে উঠলো একটু । ভয় পেয়ে গেলাম । পরক্ষণেই ভাবলাম টিকটিকি হবে হয়তো । এরা আবার সুইচবক্সে ঢুকে আত্নহত্যায় পারদর্শী । হয়ত এমনি কোনো স্যাডিস্ট টিকটিকিকে আত্নহত্যা করা থেকে বাচিয়ে দিলাম ।


আবারো আঙ্গুল চালালাম আলো জ্বালানোর জন্য । আমাকে অসম্ভব অবাক করে একটা মৃদু শব্দ হয়ে আলোটা আপনা আপনি জ্বলে উঠলো । অথচ আমি সুইচের ধারে কাছেও যাই নি ।


এবার আর মনকে বোঝাতে পারলাম না । প্রচন্ড ভয় পেলাম । আমি ছাড়াও এ ঘরে আরো কেউ আছে । কিন্তু আমিতো দরজা জানালা ভালো করে লক করে ঘুমিয়েছিলাম । তবে ? তবে কি যে আছে তার কোনো শারীরিক আকার নেই । কি যা তা ভাবছি । ভয় পেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছি আমি । এ কি করে সম্ভব । ভূতপ্রেতে অশরীরী তে কখনোই বিশ্বাস ছিলো না আমার । তবে এদের নিয়েই বেশী লেখালেখি করি আমি । সবটাই আমার মস্তিষ্ক প্রসূত । হয়তো যা ভাবছি তার কিছুই এখন পর্যন্ত ঘটেনি আমার সাথে । হয়তো আমি ঘুমিয়ে আছি । ঘুমিয়ে আছি কিনা পরীক্ষা করার জন্য জোরে চিমটি কাটলাম হাতে । নখের দাগ বসে গেলো । নাহ । জেগেই আছি । তবে কি জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছি ।


হটাৎ হলুদ খামটা উড়ে এসে পড়লো আমার সামনে । কি হচ্ছে এসব । খামটা তুলে নিলাম । ভেতরে একটা চিঠি । গোটা গোটা অক্ষরে লেখা ।


" প্রিয় রায়হান,
চিঠিটা পড়ার আগে বসে নাও । নয়তো অতিরিক্ত উত্তেজনায় পড়ে যেতে পারো । তুমিই তো সেই ব্যাক্তি যে অসঙ্গায়িত নামের সিরিজ লেখো । সাথে সব অসঙ্গায়িত ঘটনার মন গড়া ব্যখ্যা । তোমার কি মনে পড়ে গত মাসের আর্টিকেলটাতে তুমি তরুনীর অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে লিখেছিলে । গলায় কলম ঢুকিয়ে কেউ ছিড়ে ফেলেছিল
শ্বাসনালী । আর তুমি এটাকে আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছিলে । বলেছিলে মেয়েটার মানসিক সমস্যা ছিলো । পাগল ছিলো মেয়েটা । তুমি কি আসল ঘটনা জানতে না । অবশ্যই জানতে । মেয়েটা আত্নহত্যা করে নি । তাকে খুন করা হয়েছিল । ধর্ষণের পর কলম দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে খুন করা হয়েছিল । কি বীভৎস মৃত্যু । আর তোমার কি মনে হয় আমি পাগল !! আমার তো মনে হয় আমার চাইতেও বড় পাগল তুমি ।
এতো নির্মমভাবে আমাকে খুন করতে পারলে !!!"



এটুকু পড়েই মাথাটা ঘুড়ে উঠলো আমার । চিঠিটা পড়ে গেলো হাত থেকে । শীতের রাতেও দরদর করে ঘামতে লাগলাম । জানালার মধ্যে খুটখুট শব্দ হচ্ছে । খুব দূর থেকে কারোও হাসির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে । একদম আমার পিছন থেকে কেউ নিশ্বাস ফেলছে । আমার ঘাড়ের উপর । পেছনে তাকানোর সাহস হলো না । কারণ পেছনে যেটা
দাড়িয়ে আছে সেটা দেখার সাহস আমার নেই । চোখ বন্ধ করে অপেক্ষা করতে লাগলাম নিজের করুন পরিণতির জন্য ।


পরিশিষ্টঃ "দুদিন পর প্রায় পচে গলে যাওয়া লাশ উদ্ধার করা হয় রায়হান নামের এক যুবকের । ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ঘাটাঘাটি করে বেরিয়ে আসে কিছু রোমহর্ষক তথ্য । একটা ম্যাগাজিনে অসঙ্গায়িত নামের আর্টিকেল লেখতো রায়হান ।
আর যখন সে দেখলো তার ঘটনার ভান্ডার ফুরিয়ে যাচ্ছে আর মানুষও আর ভিত্তিহীন ঘটনাকে প্রাধান্য দিচ্ছে না তখন সে নিজেই ঘটাতে শুরু করলো অসঙ্গায়িত ঘটনা । একের পর এক খুন করে চল্লো মানুষ । বুড়ো যুবক তরুণী এমনকি শিশুও বাদ যায় নি ওর তালিকা থেকে । সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যাপার হলো এতোগুলা খুন করার পরও কোন পাপবোধ ছিলো না পিশাচটার । নিজের ব্যাক্তিগত ডায়রিতে খুব নিখুতভাবে বর্ননা দিয়েছে জানোয়ারটা তার শিকার কাহিণীর । হিংস্র পশুটার মৃত্যুও হয়েছে ঠিক তার নিয়মেই । তবে তাকে কে খুন করেছে সে বিষয়টা এখনো অনিশ্চিত । সারা শরীরে কলমের আচড়ের দাগ । উপ্রে ফেলা হয়েছে চোখ । ছিড়ে ফেলা হয়েছে শ্বাসনালী । যে কলম দিয়ে তার এ অবস্থা করা হয় সেটা তার লাশের পাশেই ছিলো । তবে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক কথা হলো কলমটাতে কোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেই । মানে রায়হানের মৃত্যুটাও অসঙ্গায়িত …"


মোটামুটি ভালোই হয়েছে আর্টিকেলটা । তবে আরেকটু বড় করে লিখতে হবে । মনে মনে ভাবে তানজীর । সে অসঙ্গায়িত সিরিজের নতুন লেখক । রায়হানের মরার পর ওই একমাত্র দাবীদার ছিলো এই পদের । তবে তানজীরের ঝুলিতে একেবারেই অসঙ্গায়িত গল্প নেই । তাতেও সমস্যা নেই । অসঙ্গায়িত গল্প তো সে নিজেই তৈরী করতে
পারবে । সে পদ্ধতি তো সে শিখে গেছে । ক্রুর হাসে রায়হান । সে হাসিতে অদ্দৃশ্য পিশাচের মুখ ফুটে উঠে…।

তাহলে কে ?
- রুনু সিদ্দিক


পানির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল জাহিদের । চোখ মেলে প্রথমে কিছুই বুঝতে পারল না । ঘুম ভাঙার ফলে পানির শব্দটা বেশি মনে হচ্ছে । বিছানা থেকেই সরাসরি বাথরুমে দিকে তাকাল । বেডরুম সংলগ্ন বাথরুমের দরজাটা আধহাত খোলা । জাহিদ দেখতে পেল দীপালি বাথরুমের ভিতর বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে । কল খোলা । বেসিন উপচে পানি পড়ছে । তাই শব্দ হচ্ছে পানি পড়ার । জাহিদ ডাকল দীপালিকে ।
দীপালি, কী করছ এত রাতে ? বেসিনের কল বন্ধ করো । পানি পড়ছে দেখছ না ?
দীপালি কোন সাড়া দিল না ।
এই, দীপালি ! দীপালি ! ডেকেই চলেছে জাহিদ । শেষমেশ বিছানায় উঠে বসল সে । আরে ! এ কী ? দীপালি তো তার পাশে অঘোরে ঘুমাচ্ছে । তা হলে বাথরুমে কে ? জাহিদ বাথরুমের দিকে তাকিয়ে দেখল বাথরুমের দরজা বন্ধ । পানির শব্দ নেই । জাহিদ অবাক হলো । এ কি হলো ! সে কি স্বপ্নে এসব দেখল ? না তো ! সে তো জেগেই আছে । আজ সারাদিনে অনেক ধবল গেছে । খুব টায়ার্ড । আজই সকালে দীপালি আর জাহিদ কাজী অফিসে বিয়ে করেছে । তাদের পাঁচ বছরের প্রেমের সফল পরিণতি ।
দীপালির দিকে মুখ করে শুয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ল জাহিদ ।
ঘুমটা ভাঙল কেন বুঝতে পারছে না দীপালি ! বেডরুমে ডিমলাইট জ্বলছে । হালকা নীল আলো । বেডটা তাদের ঘুমের মাঝখানে । দীপালি যে পাশে শুয়েছে সে পাশে রুম লাগোয়া বারান্দা । ঘুম ভেঙে দীপালির দৃষ্টি গেল প্রথমেই বারান্দায় । বারান্দা আর রুমের মাঝখানে জানালা । জানালায় পাতলা পর্দা টানা । দীপালি দেখতে পেল জাহিদ বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে । জাহিদ কে ছায়ার মতো দেখা যাচ্ছে জানালার পর্দা ভেদ করে । দীপালি ভাবল আহা বেচারা ! ওর জন্য জাহিদকে এতো রাতে বারান্দায় গিয়ে সিগারেট টানতে হচ্ছে । দীপালি ডাকল, জাহিদ, এই জাহিদ । রুমে এসো ।
জাহিদ কোনো সাড়া দিল না, জাহিদ শুনছে না ভেবে দীপালি শোয়া থেকে উঠে বসল । বসেই চমকে উঠল । এ কী ! জাহিদ তো তার পাশে শুয়ে ঘুমাচ্ছে । তা হলে বারান্দায় কে ! দীপালি জাহিদের গায়ে ধাক্কা দিয়ে তাকে জাগানোর চেষ্টা করছে । কিন্তু জাহিদের কোনো সাড়া নেই । দীপালি ভয়ে ভয়ে জাহিদকে জড়িয়ে ধরল । তারপর কখন ঘুমিয়ে পড়েছে বলতে পারবে না ।


পরিশিষ্টঃ - বিয়ে করে ফেরার পথে তারা গাড়ি অ্যাকিডেন্টে মারা যায় । তাদের লাশ এখন ঢাকা মেডিকেলের মর্গে ।

মোহিনী
- রাজীব চৌধুরী


কোথায় যেন একটা বাজ পড়ল।
সে আলোতে মুখটা আবারো দেখলাম আমি।
জীবনটা অনেক সহজ সুন্দর ছিল। অন্তত আজকের এই ঘটনার আগে তো অবশ্যই। যতক্ষণ মেয়েটা সামনে ছিলোনা ততক্ষণ আমি বেশ সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলাম। তাকে দেখার পর থেকে আমি আর আমার মাঝে নেই। আর না হবার কারন ছিলোনা। স্বভাবতই সে আমার বিপরীত লিঙ্গের ছিলো বলেই।
মেয়েটা ঘরের দুয়োরে এসে নক করছিল। আমি আশ্রয় দিয়েছি। বাইরে ঝড়বৃষ্টি ছিল বলে বাধ্য হয়েই... কিন্তু আমি বলে রাখছি কোন বাজে উদ্দেশ্য আমার ছিলোনা। শুধু ভেজা চুল ছড়ানো মুখখানি দেখেই আমি গলে গিয়েছি। আমার বোন প্রেম করেছিল এক ছেলের সাথে। আমি সেই ছেলেকে পিটিয়েছিলাম। কিন্তু আজকে আমি ভিন্ন কেউ যেন। এই মেয়েটাকে ভালোবেসে আপন করে নেয়ার ইচ্ছেটা বিদ্যুতের মতো মনে ভেতর জ্বলে উঠেছে। কিন্তু আমি কি করব? আমি কি এ ঝড়বৃষ্টির রাতে আশ্রয় প্রার্থী মেয়েটাকে প্রেম নিবেদন করব?
মেয়েটাকে জিজ্ঞাসা করাই হলোনা নাম টা।
আমি একটু এমনই।
প্রথম দর্শনে নাম জিজ্ঞাসা করার ধাঁচ আমার নেই। মাঝে মাঝে এমন অনেকের সাথেই পরিচিত হই যাদের স্বভাবই হল আমি কে-বাড়ি কই-সেখানে কোন দিকে যেতে হয় এসব প্রশ্ন করে আমাকে বিরক্ত করে তোলে। আমি পারিনা এসব। কিন্তু মেয়েটাকে জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম- " আমি হেমেন্দ্র। আপনি?"
-"আমি চিন্ময়ী- অনৃতা চিন্ময়ী"
- "পদবী বাদ দিয়েছেন কেন?"
- "বাদ দিইনি। পদবী ছিলোনা। দ্বিপদী নাম আমার বাবা রেখেছিলেন। কিন্তু পদবী লাগাননি। উনি এসব পছন্দ করতেন না।"
-" আমি ও করিনা। তাই পদবী বলিনা কাউকে। অবশ্য পদবী কেউ জানলে অনেকেই ভ্রু কুচকে তাকায়”
-“কেন?”
-“কারন আমার বংশ জমিদার বংশ”
-“ ও তাইতো। এই বাড়িটা জমিদারবাড়ি আমি ভুলেই গেছিলাম। দূর থেকে দেখে বোঝা না গেলেও বিশাল একটা বাড়ি ভেবেই নিয়েছিলাম।“
-“ কি হয়েছিল আপনার?”
-“আমার গাড়িটা... আসলে আমার ব্রেকফেল হয়েছে। একা নই আমি। গাড়িতে আরেকজন আছে। শুধু সে এই রাতে গাড়ি থেকে বেরোয়নি। সেখানে থেকে গেছে। আর আমার গাড়িতে থাকতে ইচ্ছে করছিলোনা।“
- “ওকে গিয়ে নিয়ে আসি। আপনি বসুন।“
-“তার দরকার হবেনা। সে গাড়িতে ঘুমিয়ে গেছে”
- “আমি যাই” বলেই বেরিয়ে এলাম ঘর থেকে। এমন বৃষ্টিতে ভেজার ইচ্ছে ছিলোনা। কিন্তু মনটা কেমন যেন হয়ে গেছে। মেয়েটা ভয়াবহ সুন্দরী। এত সুন্দর মানুষ হয়না। সে আপাতত আমার বাড়ির গেস্টরুমে আছে। আমি এ ফাঁকে গাড়িটা খুজে বের করব। বৃষ্টির বেগ বেড়েছে। বাড়িটা বহুদিন পরিষ্কার করা হয়না। আমার ও করতে ইচ্ছে করেনা। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে করলে ভালই হত। মেয়েটা অন্তত আমাকে কুড়ের বাদশা ভাবত না। কুড়ের বাদশাদের মতই আমি বাগানটাও পরিষ্কার করিনা। বিশাল বিশাল সব ঘাস গজিয়েছে। উফ। বড় বড় ইদুরে ভরে গেছে। আর ইদুর মারা সাপ ও আছে অনেক। বাস্তু সাপ।আমাকে কিছু করেনা। উঠোনেই থাকে। আমিও ওদের সাথে মানিয়ে নিয়েছি।
বাড়ির গেট টা খোলাই থাকে। তল্লাটে কেউ নেই যে এবাড়িতে আসবে।আর এই ঝড়ের রাতে তো নয়ই। একা একা থাকি বলে কেউ আসে ও না। যখন কেউ আসে তখন একটু গল্প গুজব সেরে নিই। আজকে কেউ আসবে ভাবিনি। সময়টা ভালই যাবে বলে মনে হচ্ছে।
গেট দিয়ে বেরিয়ে রাস্তায় নামলাম। সরু রাস্তা। রাস্তা পেরিয়ে বিশাল একটা বটগাছ।
একটা বাজ পড়ল।
সে আলোতে আবছা দেখা গেল জিপ টা।
পাজেরো।
দামী গাড়ি। ওতে কেউ একজন আছে। ড্রাইভার সিটে। হেলান দিয়ে ঘুমুচ্ছে।
কাছে এগিয়ে যাব এমন সময় টের পেলাম একটা ইদুর দৌড়ে পার হল পায়ের কাছেই। ইদুরটাকে পা দিয়ে মাড়িয়ে দেয়ার ইচ্ছেটা দমন করলাম। এসব করার সময় এখন নয়। অতিথি দুজন হলে বেশ জমবে। তাই দ্রুত এগিয়ে যেতে শুরু করলাম। এর মাঝেই বেশ ভিজে গেছি। ভিজতে আমার দারুন লাগছে। এই লোকটা এখন না থাকলে আমরা দুজন... কু ইচ্ছেটা দমন করা উচিত।
গাড়ির কাছে এসে থমকে গেছি।
আমি কি গ্লাসে নক করব? সভ্য সমাজে অনেকদিন আমি নেই। তাই কিভাবে মানুষ ডাকতে হয় ভুলে গেছি।
“এই যে ভাই- ঘুমুচ্ছেন?”
বলে হ্যান্ডেল ধরে টানতেই খুলে এলো দরজাটা। পাজেরোর দরজা খুলে ঠিক আমার উপর ঢলে পড়ল লোকটা। ঠিক তখন আরেকটা বাজ পড়ল।আর আমি পরিষ্কার দেখলাম –রক্তহীন মুখটা। জমে গেছে। ঠোটদুটো সাদা হয়ে গেছে। যেন খানিক আগে দুধ খেয়ে মুখ না মোছা বাচ্চাদের মতোন। চোখ দুটো ভয়ার্ত। সবকিছু ভেবে রেখেছিলাম শুধু এত রাতে এই বাদলা দিনে এমন কিছু দেখব ভাবিনি কখনো।
শরীর কাঁপছে। কারন আমি দেখলাম লোকটার গলার কাছটাতে বিশাল এক খাবলা মাংস নেই। ওখান থেকে বেরিয়ে এসেছে কিছু শিরা। ওগুলো রক্তহীন। শুষে নিয়েছে সবকিছু। ফ্যাশফ্যাশে একটা গন্ধ নাকে এলো। ভিজে যাচ্ছে লাশটা। সুদর্শন এই যুবক প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ঘন্টাখানেক আগে। কে মেরেছে বুঝতে আমার মোটেও অসুবিধে হলোনা। কিন্তু...
একে এখানে রেখে দিলে আমার উপর সন্দেহ করবে সবাই। তাই পাজকোলা করে লাশটাকে নিয়ে সামনে খানিক দূরে কুয়োর ভেতর ফেলে দিলাম। শব্দটা আমার বেশ ভাল লাগে। ঝপাত করে পড়ার আগে আমাকে জানিয়ে দিলো-পুরোনো এই কুয়োতে জল জমেছে। বৃষ্টির পবিত্র জলে জমল একটা লাশের গন্ধ।
এরপর আমার অনেক কাজ। কিন্তু কি করব অনৃতা চিন্ময়ীকে নিয়ে? মেয়েটা কে? তবে কি যা শুনেছিলাম সব সত্যি? এইত কদিন আগেই শুনেছি এ এলাকায় একটা মোহিনীকে দেখা যায়। বেশ কিছু মানুষ মরেছে। কিন্তু আজকে সেই মোহিনী আমার ঘরে এসে উঠেছে। ভাবতেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠল।এভাবে সারারাত অপেক্ষা করা যাবেনা। কিছু একটা করতে হবে। এই মোহিনী কে যেকোন প্রকারে সকাল পর্যন্ত আটকে রাখতে হবে। ভোর হলেই এদের ক্ষমতা কমে যায়। কিন্তু সারারাত কি আমি এভাবে অপেক্ষা করব? কতক্ষণ?
ততক্ষণে বৃষ্টি আরো বেড়েছে।
বাড়ির দিকে হাটতে শুরু করলাম। ভিজে চুপচুপে আমার শরীর থেকে অঝোরে জল ঝড়ছে। খানিকটা চিন্তার ফলে কিছু ঘাম ও হয়ত বেরুতো যদিনা...। হেঁটে গেট পেরুলাম। বাড়ির পেছন দিয়ে ঢুকতে হবে। মোহিনীর হাতে পড়া যাবেনা- আর যাই হোক। আমাকে ছিবড়ে বানিয়ে দেবে। ওকে ভুলিয়ে ভালিয়ে যেকোন উপায়ে জব্দ করতে হবে। তারপর...
রান্নাঘরটা যেদিকে ওদিকে একটা দরজা আছে। বাড়িটা যেহেতু আমার সেহেতু আমি সব জানি। তাই পা টিপে ঢুকে পড়লাম রান্নাঘরে। রান্নাঘর পেরিয়ে একটা প্যাসেজ। আর এরপরেই মুল বাড়ি শুরু। এতোগুলো ঘর পেরিয়ে যেতে হবে। প্রায় সবকটা ঘর খালি। কিন্তু কিভাবে ওটাকে জব্দ করা যায় সেটাই ভাবছি। এত সুন্দর একটা মেয়ে কিভাবে মোহিনী হল বুঝিনি। কার সাথে প্রেমে ছ্যাকা খেয়ে সে এমন হল বুঝতে পারছিনা। নিশ্চয় বড় করুন ইতিহাস। কিন্তু এখন সে সকল প্রকার ভালোবাসার উর্ধ্বে। মানুষ হত্যা করাই ওর একমাত্র কাজ। আর আমাকে হত্যা করতে পারলে হয়ত আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে। এই বাড়িতে আস্তানা গেড়ে বসবে।
একটা ইদুর দৌড়ে গেল ঘরের ভেতর।
অন্ধকারেও আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম ওটাকে। ইদুর গুলো ঘরের ভেতর রাতে বিরাতে এভাবে চলাচল করে যেন আমি কেউ নই। এটা ওদের বাড়ি। সাপগুলোও এমন। কিন্তু এখন এসব নিয়ে ভাবার উপায় নেই। মোহিনী টাকে আটকানোর উপায় খুঁজছে মন।
কি করব আমি?
ভাবার সময়টাতেই ঠিক ঘাড়ের উপর গরম নিশ্বাস পেয়ে চট করে ঘুরতে যেতেই...
ঘাড়ের উপর চেপে বসেছে ওটা। উফ এভবেই কি আমার মৃত্যু লেখা ছিল? এটা হতে পারেনা ভেবে আমি হাতে ঝটকা মেরে ওটাকে দেয়ালে ছুড়ে দিলাম। আর অমনি ওটা মাকড়শার মত চার হাত পায়ে দৌড়ে গেল বৈঠকখানায়।
আমি দৌড়ে গেলাম ওটার পেছন পেছন। লিকলিকে পা দুটো আর হাত দুটোকে আলাদা করা যাচ্ছেনা। সেই রুপ আর নেই ওটার। এখন অনেকটা বিচ্ছিরি ক্ষুধাগ্রস্থ নারীর মত দেখাচ্ছে। শরীর থেকে বেরোচ্ছে বিচ্ছিরি গন্ধ। ঘাড়ে হাত দিলাম অজান্তেই। এক খাবলা চামড়া নেই। ওখান থেকে বেরিয়ে এসেছে কিছু শিরা। হাতে লাগল চিটচিটে রক্ত। অমনি মাথায় রক্ত চড়ে গেল। আমার বাড়িতে এসে আমাকে হত্যা করার পায়তারা কোন ভাবেই বরদাস্ত করা যায়না। মাথায় যেন বাজ পড়ল আমার। বাইরের ঝড় বৃষ্টিতে বাড়িটা খানিকটা আলোকিত ও হল। কোথায় যেন শব্দ হচ্ছে। শো শো শব্দ। আবার ঝড় শুরু হয়েছে। এমন রাতে আমাকে হত্যা করবে ও...ভাবা যাচ্ছেনা। করিডোরে ঝোলানো একটা বর্ষা। আমি ওটাকে খুলে হাতে নিলাম। আর দৌড়ে গেলাম বৈঠকখানায়।
বৈঠকখানা শুন্য।
কেউ নেই। তবে কি আমি ভুল দেখেছি? কিন্তু ঘাড়ের রক্তগুলো তো সত্য। তবে কি ওটা পালিয়েছে? কয়েকটা মোম জ্বলছে। আগেই জ্বালিয়ে রেখে গেছি। এখন ওগুলোকে অনেক কম শক্তিধর মনে হচ্ছে। আমি খুঁজতে শুরু করলাম মোহীনিটাকে। কোথায় ওটা?
এমন সময় একটা বাজ পড়তেই সব পরিষ্কার হয়ে গেল দিনের আলোর মতো। তাতে আবিষ্কার করলাম ঘরের মাঝে সিলিং এ ঝাড়বাতিতে ঝুলে আছে ওটা। সেই চোখ- সেই মুখ- সেই মোহনীয় হাসি। অনৃতা। মোহিনীর মোহনীয় চাহনি। শুধু শরীরটা এখন অন্য কিছু। নাকি পুরোটাই। বর্ষাটা ছুড়ে দিলাম। লক্ষ ভ্রষ্ট হল। এবং আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ল ওটা। আমার চে অনেকগুনে শক্তিশালী ওটা। কিন্তু আমি কি হারার পাত্র?
কামড়ে দিলাম। আমাকে ছুড়ে দিল একটা চেয়ারের উপর। পুরোনো কাঠের চেয়ারটা আমাকে নিয়েই হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ল। দুটো মোমবাতি এর মাঝে নিভে গেছে। মাথা তুলে তাকালাম ওটার দিকে। হাসছে ওটা। মুখ থেকে বেরিয়ে গেছে শ্বদন্ত। মোহিনীর রুপ যেন কয়েকগুন বেড়ে গেছে। আর আমার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।
ঠিক যখন আমার মুখের উপর নিশ্বাস নিচ্ছিল ওটা তখন চেয়ারের একটা হাতল অনেকটা বর্ষার মত ধারালো হয়ে ভেঙ্গেছিল-ওটাকে ঢূকিয়ে দিলাম ওটার বুকে। কিলবিল করে উঠল ওটা।
আমি আর অপেক্ষা করলাম না। সোজা ঝাপিয়ে পড়লাম ওটার উপর।
খানিক আগেও যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম তার উপর কুৎসিত ভাবে ঝাপিয়ে পড়ে আমি পান করা শুরু করলাম তরতাজা রক্ত। ঘাড়ের রগ গুলো এখন তরতাজা যুবকের রক্তে ভরা। আমার খুব প্রিয় এই ধরনের রক্ত। সবকিছু ঠিক ছিল ওটার। শুধু বোঝেনি- শুধু মাত্র ঝোঁকের বশে আমাকে আক্রমন করে সে ভুল করেছে। আমি হলাম হেমেন্দ্র রায় চৌধুরী। এই তল্লাটের জমিদার। বহু আগে মরে গিয়ে আমি এক ব্রহ্মদৈত্য হয়েছি। এক বনে শুধু একটাই বাঘ থাকে। আর এ তল্লাটের বাঘ শুধু আমি।
শুধুই আমি।

বর্ষার এক রাতে
- রীতা ঘোষ


বোদাই নদীর পাড়ে ছোট্ট গ্রাম রামপুর । নদীর গা ঘেঁষেই গ্রামের শ্মশান ভৈরবতলা । ঐ এলাকার একমাত্র শ্মশান হওয়ায়, আশেপাশের সব গ্রামের মৃতদেহ ওখানেই পোরানো হয় । চৈত্র সংক্রান্তিতে বড় মেলা বসে । শ্মশানের পাশ দিয়ে নদীর সমান্তরালে বয়ে চলা মোরামের রাস্তাটি, গ্রামটিকে অন্য গ্রামের সাথে যুক্ত করে । উচ্চবিদ্যালয় না থাকায়, প্রাথমিকের গণ্ডী পেরিয়ে ছাত্রদের পাশের গ্রামে পড়তে যেতে হয় ।


গ্রামের এক চাষির ছেলে মধু, স্কুল শেষে টিউশন পড়ে সন্ধ্যের আগে বাড়ি ফেরে রোজই । সেদিন টিউশনের পর বেড়তে যাবে, হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি । ছাতা থাকলেও এতো বৃষ্টিতে ঝুপঝুপে ভিজে যাবে, তাই অগত্যা স্যারের বাড়ির বৈঠকখানায় অপেক্ষা করতে থাকে । বড়বাড়ির দামোদর চন্দ্রের মন্দিরে সন্ধ্যারতির ঘণ্টা বেজে একসময় থেমে যায় । নিঃশব্দে রাত্রি এগিয়ে আসে ।


বৃষ্টিটা একটু ধরতেই, ছাতা হাতে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পরে মধু । তখনও ঝিমঝিম জল ঝরছে । ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঝিঁঝিঁ আর ব্যাঙের ডাকে গা ছমছম । শ্মশানের একটু আগে পৌঁছতেই চোখে পরে, দূরে একটা আলো হেলতে দুলতে এগিয়ে আসছে ওর দিকে । আর একটু এগোতেই বোঝা যায়, লণ্ঠন হাতে কেউ আসছে । আলোটা নিকটে আসতেই, আবছা আলোয় বাবাকে দেখে ধরে প্রাণ ফিরে পায় মধু ।
- কি ব্যাপার, তুমি এখানে বাবা ?
- এতোটা রাত হয়ে গেছে, তার ওপর ঝমঝম বৃষ্টি । তুই তো শ্মশানটা একা পেরোতে ভয় পাস, তাই এগিয়ে দেখতে এলাম ।
মুখে কিছু না বললেও, বাবাকে দেখে খুব আশ্বস্ত হয় মধু এবং সাইকেল থেকে নেমে ঠেলতে ঠেলতে চুপচাপ পাশাপাশি হাঁটতে থাকে দুজন ।


বাড়ির নিকটে পৌঁছতেই বিকট কান্নার শব্দে চমকে ওঠে মধু । ঘাড় ঘুরিয়ে বাবাকে জিগ্যেস করতে গিয়ে, পাশে আর কাউকে দেখতে পায় না । নিমেষেই বুকের ভেতর ধকধক রেলগাড়ি ছোটে । সাইকেলটা মাটিতে ফেলে অন্ধকারেই ঊর্ধ্বশ্বাসে বাড়ির দিকে দৌড় দেয় ।
সদর দরজাটা হাঁট করে খোলা । সামনের চালাটার দাওয়ায়, তালায়ের ওপর বাবার অবশ দেহটা দেখে আঁতকে ওঠে মধু । মা, কাকিমারা বাবাকে ঘিরে তারস্বরে কাঁদছে, বুক চাপড়াচ্ছে ।
বাবার ঠিক মাথার গোরায় রাখা লণ্ঠনটা তখনও জ্বলছে... ।।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম