জুন 2015

কল্পনার ক্যানভাস
- মেহেদী হাসান আকাশ

এঁকেছি তোমায় আমি
ভালোবাসার জল রং দিয়ে
তোমার মুখটা দেখতে
চাঁদের ন্যয়
সাথে লাগিয়েছি
কষ্টের নীল রং
সব মিলিয়ে তোমায়
দেখাচ্ছে অপূরুপ সুন্দর
তোমাকে এঁকেছি ক্যানভাসে
কিন্তু তুমি আছো হৃদয়ের মাঝে
কত ভালোবাসা কত মায়া দিয়ে
এঁকেছি সেটা তুমি জানোনা ৷
ভালোবাসা যে এটাই
সেটা আগে জানা ছিল না
জানলাম তোমাকে ভালোবেসে
তোমাকে প্রথম দেখার পর
থেকেই আমার মনের মধ্যে
ছবি হয়ে আছো
তোমার মুখটা প্রতিদিন
একবার না দেখলে আমার
দু চোখে ঘুমই আসেনা
আমি যেন তোমাকেই
ভালোবেসে মরতে পারি
এটাই আমার চাওয়া
কারন তোমাকে এঁকেছি যে
আমার কল্পনার ক্যানভাসে ৷

চিরযৌবনা প্রেম
- ইয়া ছাদিয়া রুকাইয়া


আজব এই পৃথিবী । কতো কিছুই না ঘটে চলছে এখানে । প্রেম, ভালোবাসা, হাসি, কান্না, সুখ, এসব নিয়েই আমাদের মানুষের জীবন । তবে আজকালকার আধুনিক প্রায় ছেলেমেয়ে কাছে একটা কথা শুনি তাহল প্রেম । প্রেম কতো প্রকার কী কী ?? জানি না বা জানতেও চাই না । কারন আমি মনে করি প্রেমের কোন ব্যাখ্যা নেই । আমাদের সমাজের আধুনিক তরুন, তরুনীরা একটা কথা প্রায়ই বলে থাকে সেটা হল ব্রেকআপ । আসলে সত্যিকারের ভালবাসায় ব্রেকআপ নামক শব্দ থাকে না । আসলে প্রত্যেক মানুষের ভিতরেই প্রেম নিয়ে একটি আলাদা অনূভূতি থাকে ।
প্রেম এমনি একটা জিনিস যেটা আজ হোক বা কাল হোক মানুষ প্রেমে পরবেই । কিন্তু আমাদের সমাজের একদল ছেলেমেয়ে প্রেমের নামে টাইম পাছ করে থাকে । তারা ভাবে প্রেম হল পোশাকের মত আজ একটা পরলাম আবার কাল একটা পরলাম । আমরা অনেকেই আমরা আমাদের দাদা, দাদীর কাছে শুনেছি ইউসুফ জোলেখার প্রেম কাহিনী । তারা প্রেমের জন্য জীবন দিয়ে গেছে । এত সুন্দর পবিত্র প্রেম শব্দটিকে আমরা কতই না অসম্মান করে চলছি প্রতিনিয়ত । আমাদের নিজেদের মন মানুসিকতা যদি আমরা একটু উন্নতমানের করতে পারি । তাহলে হয়তো এতটা অসম্মান হত না ।
যাইহোক প্রেম নিয়ে অনেক কঠিন কঠিন কথা বলে ফেলেছি । আসলে ভালোবাসা ছাড়া জীবনটা কঠিন । আমরা প্রত্যেকে একে - অন্যের ভালবাসার টানে বেচে আছি । এবং একে - অন্যের ভালবাসার টানে জয় করি জীবন যুদ্ধ ।

দেহের গড়ন বুঝে জুতা
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
চিকিৎসক, গাইনী এ্যান্ড অব্স,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ।
তারিখঃ ০৮/০৭/২০১৪ইং


মানুষ চিরন্তন সৌন্দর্যপ্রিয় । সুন্দরেরা নিজে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য চাই বয়স, উচ্চতা, দেহের গড়ন, ত্বকের রং বুঝে পোষাক ও জুতা নির্বাচন । জুতা নির্বাচনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে দৈহিক গঠন ও উচ্চতার উপর ।


বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বেশী হলে দীর্ঘ সময়ের জন্য উঁচু হিল অবশ্যই পরিহার করতে হবে । তবে পোষাক ও পরিবেশের সাথে মানানসই উঁচু হিলের জুতা হলে খেয়াল রাখুন তা যেন অল্প সময় পরিধান করতে হয় । অধিক ওজনের নারীরা দীর্ঘ সময় যাবৎ উঁচু হিল পড়লে কোমড় ও পায়ে ব্যথা, পায়ের পাতাতেও ব্যথা হতে পারে । তাই যতোটা সম্ভব ফ্ল্যাট জুতা হাই হিলের পরিবর্তে ব্যবহার করুন ব্যালেন্স হিল । ব্যালেন্স হিলের সামনে ও পেছনের সোলের উচ্চতা সমান থাকে । এতে দীর্ঘ সময় যাবৎ হিল জুতা পরলেও পায়ে ব্যথা হবার সম্ভাবনা থাকে তুলনামূলভাবে কম ।


বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ব্যালেন্স হিলের চেয়েও ফ্ল্যাট জুতা হলো উৎকৃষ্ট । কারণ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে পুরো দেহের ওজন যেয়ে পড়ে মেরুদন্ডের উপর পরিণামে কোমড় ও হাটু বা পায়ের গোড়ালীতে ব্যথা হয় । অতিরিক্ত দাঁড়িয়ে থাকা, দীর্ঘ সময় যাবৎ হাই হিলের দৌড় ঝাপ, হাটা চলাতে অ্যাঙ্কেল স্প্রেইন (Ankle sprain) পর্যন্ত হতে পারে । অ্যাঙ্কেল স্প্রেইন হলো পায়ের লিগামেন্ট (Ligament) গুলোর দূর্বলতা বা আঘাত প্রাপ্ত অবস্থা বা চরম পর্যায়ে ছিড়ে যাওয়া । তবে লিগামেন্ট ছিড়ে বেশী এ্যাক্সিডেন্টে বা দূর্ঘটনায় । লিগামেন্ট হলো রাবার সদৃশ মাংসল ব্যান্ডের মতো যা হাড় ও মাংসের মধ্যে বন্ধনী তৈরী করে । অধিক ওজন বিশিষ্টরা ফ্ল্যাট জুতা বা ব্যালেন্স হিল ব্যবহার করলে তাদের লিগামেন্ট ইনজুরীর সম্ভাবনা থাকে কম ।


অপর দিকে বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী কম ওজন সম্পন্নরা বা খুব পাওলা যারা তারাও দীর্ঘ সময় যাবৎ হাই বা পেন্সিল হিল পড়ে দৌড় ঝাপ অনবরত সিড়ি দিয়ে উঠানামা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে পায়ে ব্যথা হতে পারে । তবে কম ওজন বা বয়সানুযায়ী সঠিক ওজন সম্পন্নরা হাই হিল পড়তে পারবেন । দীর্ঘ সময়ের জন্য হলে অবশ্যই ব্যালেন্স হিল ব্যবহার করুন ।


আর খেয়াল রাখুন, গর্ভাবস্থায়, সন্তান জন্মদানের পরে, বড় কোন অপারেশনের পড়ে (বিশেষত পেট, কোমড়, পায়ের অপারেশান) ফ্ল্যাট জুতা সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট । ছোটদের জন্যেও এটি প্রযোজ্য । ছোটদের পায়ের হাড়গুলো থাকে দূর্বল । তাই হাই হিল তাদের জন্য কিশোরিরা পড়তে পারেন দেহের গঠন ও উচ্চতা বুঝে ।


মেনোপোজ (মাসিক ঋতুস্রাব চিরতরে বন্ধ হওয়া) হবার পরে আয়রনের ঘাটতি হয় । ফলে হাড় হয়ে যায় ভঙ্গুর ও দূর্বল । তাই এই সময়েও হাই হিলের পরিবর্তে ব্যালেন্স হিল বা ফ্ল্যাট জুতাই শ্রেয় । যদি নিয়মিত ব্যায়ম করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সেক্ষেত্রে হাই হিল পড়তে পারেন অল্প সময়ের জন্য ।


স্মার্টনেস বজায় রাখার জন্য হাই হিল কিছু কিছু পরিবেশে ভীষণ জরুরী । তাই নিজের বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী দেহের গঠন বুঝে খাদ্যাভাস ও ব্যায়াম করুন ।

ঘুম পরী
- ইয়া হাদিয়া সোনামনি

ঘুম পরী, ঘুম পরী
লাল, নীল, হলুদ
কত স্বপ্ন নিয়ে আসো তুমি ।
তুমি ঘুমের পরী ।
ঘুম পরী, ঘুম পরী
তোমার এই লাল, নীল, হলুদ
স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকি আমি ।
ঘুম পরী, ঘুম পরী
আচ্ছা তুমি কালো স্বপ্ন নিয়ে
আসো কেন শুনি ?
কালো স্বপ্ন যে আমার ভালোই লাগে না ।
ওই স্বপ্ন যে কেবলই দুঃখ-ময় ।
ঘুম পরী, ঘুম পরী
তুমি এসো প্রতি রাতে,
কিন্তু কালো স্বপ্ন নিয়ে নয়,
লাল, নীল, আর হলুদ স্বপ্ন নিয়ে ।
ঘুম পরী, ঘুম পরী
তুমি ঘুমের পরী ।।

অসম্পুর্ণ জীবন
- মিন্টু উপাধ্যায়

ছন্দহারা এই জীবনটাকে
নিয়ে আর কত দিন
চলতে পারবো
জানিনা, তবুও...
তবুও আমি তাকিয়ে আছি
তোমার ঐ চলে যাওয়া
পথের দিকে... ।
তুমি ছাড়া এই
জীবনটাকে কেমন করে
সাজিয়ে নেব জানিনা,
তবে তুমি ছাড়া আমি
কোন দিনও সম্পুর্ণ হতে
পারবো না...।
তোমার বলে যাওয়া
কিছু কথা ভুলতে পারিনা আজও,
মনের অতল গভীর
থেকে গভীরে
আজও তুমি রয়ে গেছ,
এই অসম্পুর্ণ জীবন
তোমাকে পেয়ে সম্পুর্ণ হতে চায়...।

কষ্টে আছি
- মেহেদী হাসান আকাশ

তুমি কী ভালোবাসতে জানোনা
নাকি আমাকে ভালোবাসতে চাওনা
আমি যে তোমাকে ভালোবাসি
সেটাও তুমি বুঝলেনা
গভির রাতে আমার চোখ
দিয়ে অশ্রু ঝরে
তোমার উপর অভিমান করে নয়
সৃষ্টিকর্তার উপর অভিমান করে
কেন যে সে আমাকে
তোমার পছন্দের মত করে
তৈরি করলো না
তাহলে হয়তো আজ
আমাকে এতটা কষ্ট পেতে হতোনা
আমি জানি তুমি একদিন
বুঝতে পারবে আমাকে
সে দিনটা বেশি দূরে নয়
আমার সব কবিতা
তোমার জন্যই লেখা
পড়ে দেখ বুঝতে পারবে
সাথে বুঝবে আমার কষ্ট গুলো
জীবন পথে থেমে যাওয়া জীবনটা
ভাঙ্গা কাচেঁর মত ছিটকে পরে আছে
জীবনটাকে চালাতে এখন শুধু চাই
তোমাকে আর তোমার ভালোবাসা
তাহলেই আমার কষ্ট গুলো
ম্লান হয়ে যাবে
থাকবে না কোন দুঃখ কষ্ট
থাকবে না কোন গ্লানি
শুধুই থাকবে তোমার ভালোবাসা ৷

তোমাকে চাই
- রাজীব চৌধুরী

শুধু তোমাকে চাই বলতে গিয়ে
আরেকবার স্বাধীনতা ঘোষণা করে ফেলি
শুরু করে ফেলি আরেকটি যুদ্ধ
সৈনিকের বেশে দুঃখ গুলো দু হাতে হত্যা করে
পাঠ করি স্বাধীনতার মহান মানপত্র
প্রেমপত্রের ভেতর ঢুকিয়ে দিই এক চিলতে হৃদয়
রক্তলাল
লাল আমার খুব প্রিয়-তাই আমি লাল খামে চিঠি লিখি
দুঃখের ভেতর থেকে বের করে ফেলি লালচে কষ্টমালা
তোমার অভাবের তাড়নায় আমি ক্ষিপ্র হই
গোলাপের রাইফেল হাতে আমি
একের পর এক ছুড়ে দিই আড়াই ইঞ্চি বুলেট
কখনো ছুড়ে দিই রজনীগন্ধার গ্রেনেড
বাঁকা চোখের বেয়নেটে আঘাত করো বলেই পিছিয়ে যাই যুদ্ধের নিয়মে
তোমাকে চাই বলতে গিয়ে আরেকবার স্বাধীন করি এ বুকের জমিন
ধুধু বুকের মরু প্রান্তরে উড়িয়ে দিই তোমার বিজয় তিলক- অনিমেষে।

বর্ষার ফুল
- মেহেদী হাসান আকাশ

বর্ষার প্রথম কদম ফুল
আমি তোমাকে দিলাম
যদি কোন বর্ষার রাতে
মনে পড়ে আমাকে
কদম ফুলের দিকে তাকিয়ে
দেখ দেখতে পাবে আমায়
হয়তো সেদিন বুঝতে পারবে
কতটা ভালোবেসেছিলাম
আমি তোমায়
সেদিন আর আমাকে পাবেনা খুজে
চলে যাব দূর দূরান্তে ৷
খুজবে তুমি আমাকে
চাইবে আমার ভালোবাসা
যখন তুমি কদম ফুলকে
জরিয়ে ধরে ভাববে আমার কথা
বুঝবো আমি তুমি ভাবছো আমার কথা
চলে আসবো আমি
তোমারেই কাছে
তোমার ভালোবাসায়
বর্ষার ফুল হাতে নিয়ে ৷


প্রতিরোধ করি বদহজম

ডাঃ ফারহানা মোবিন

মেডিকেল অফিসার (গাইনী এন্ড অবস্)

স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ

তারিখ - ০৯-১২-২০১৪ ইং


বদহজম একটি উপসর্গ । অনেকেই ভোগেন এই সমস্যাতে । পরিবেশ দূষণ, ভেজাল খাবার, বিভিন্ন রোগ-জীবাণু হলো খাবার সঠিকভাবে হজম না হবার কারণ । অনেক সময় লুকায়িত কোন অসুখ বা রোগ জীবাণু থাকলেও দীর্ঘদিন যাবৎ বদহজম হতে পারে । হঠাৎ করে দুই একদিন হওয়াটা ভয়ের বা দুশ্চিন্তার কিছু না । তবে বছরের পর বছর যদি এই সমস্যা হতে থাকে, তবে তা অবশ্যই দুশ্চিন্তার বিষয় । কারণ, দীর্ঘ বছর যাবৎ বদহজম কোন লুকায়িত অসুখের কারণ হতে পারে । তাই দেরী না করে, দ্রুত বদহজমের কারণ খুঁজে বের করতে হবে । আর প্রয়োজন সেই মোতাবেক চিকিসা । তাই জেনে নিই বদহজম হবার কারণ ও প্রতিকার ।


কারণগুলি হলো -



  • খাবার সময় খুব দ্রুত খাওয়া । সঠিকভাবে চিবানোর অভাব, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, মানসিক অবসাদ, নিয়মিত রাত জেগে ডিউটি করা, সঠিক সময়ে খাওয়ার অভাব, খাবারে অতিরিক্ত তেল মশলা খাওয়া, তৈলাক্ত চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এই ধরনের সমস্যা হয় ।

  • পাকস্থলীর কোন অসুখ, খাদ্যনালীর কোন গঠনগত ত্রুটি, মাত্রাতিরিক্ত এ্যাসিডিটির সমস্যা, অতিরিক্ত কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, দীর্ঘ সময় যাবৎ না খেয়ে থাকার পরে এক সাথে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলা, হঠাৎ করে খুব বেশি পরিমাণে খাবার নিয়ন্ত্রণ করা, অতিরিক্ত ঝাল খাওয়া, গভীর রাতে বা খুব ভোরে একসাথে অনেক বেশি খাওয়া হলো খাবার সঠিকভাবে হজম না হওয়ার অন্যতম কারণ ।

  • প্যানক্রিয়াস (Pancreas) নামের এক ধরনে অঙ্গ রয়েছে, যাতে ইনফেকশন হলে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় না । রক্তে চিনির মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে হজম শক্তি দূর্বল হয়ে যায় ।

  • বিভিন্ন রকম ওষুধ খেলেও হজম শক্তি কমে । বিশেষত যারা বয়স্ক বা নানান রকম অসুখে আক্রান্ত, হাটাচলা ঠিকভাবে করতে পারেন না, মানসিক রোগ বা কেমোথেরাপীর ওষুধ খান, এই সমস্যাগুলোও হজম শক্তি দূর্বল হবার জন্য দায়ী ।

  • মাদকদ্রব্য, ধূমপান, অতিরিক্ত চা-কফি, পান, সুপারী, গুল, জর্দা প্রভৃতি হজম শক্তি দুর্বল করে ।

  • দেহের কোথাও ক্যান্সার, খাদ্যনালী থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত কোন গঠনগত ত্রুটি, খাবার হজমের সাথে সম্পৃক্ত কোন অঙ্গ বা নালীতে ইনফেকশন বা কোন অসুখ, দীর্ঘ বছর ধরে খাবারে প্রচন্ড অনিয়ম, হঠাৎ করে ওজন বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ, কৃমির আক্রমণ, দীর্ঘ বছর যাবৎ বদহজমের সমস্যা, পানি খুব অল্প পরিমাণে খাবার অভ্যাস (২৪ ঘন্টাতে ৩-৪ গ্লাস), খাবারে প্রচন্ড পরিমাণে অনিয়ম ।

  • গলব্লাডারে পাথর, কিডনীতে পাথর, খাদ্য নালীর অপারেশনের পরে হজমে সমস্যা হতে পারে ।



হজমের সমস্যা প্রতিকারের জন্য আমাদের করণীয় -



  • নিয়মিত দুই লিটার পানি পান করুন । তবে কিডনীর সমস্যাতে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শে পানি পান করুন ।

  • অতিরিক্ত তেল, মশলা, চর্বি জাতীয় খাবার, অতিরিক্ত ফাস্টফুড, কোমল পানীয়, পরিহার করুন । একবারে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে ধীরে ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খান ।

  • মনথেকে ঝেড়ে ফেলুন হতাশা, কষ্ট, খাবার সময় মনোযোগ দিয়ে খান । হঠাৎ করে অতিরিক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ ঠিক নয় । ধীরে ধীরে খাবারের পরিমাণ কমান । আবার একবারে খুব বেশি খাওয়া ঠিক নয় ।

  • অতিরিক্ত রাত জেগে কাজ করাটা পরিহার করুন । যতোটা সম্ভব সঠিক সময়ে খাবার খান । বছরে অন্তত একবার পুরো পেটে Ultrasonography of whole abdomen টেস্ট করান । এতে লুকায়িত সমস্যা থাকলে ধরা পড়বে ।

  • সব ধরনের মাদকদ্রব্য পরিহার করুন । ধুমপান থেকে বিরত থাকুন এবং খাবার সাথে সাথে ঘুমাবেন না ।

  • নিয়মিত হাটুন । উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন ।

  • কোন ওষুধ খাবার পরে হজমে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ।



বছরের পর বছর অবহেলা, অযত্নতে বদহজম আরো তীব্র হতে পারে । যা হয়ে উঠতে পারে বড় কোন অসুখের কারণ । তাই সময় থাকতে নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হোন ।


লাল শাড়ী
- এম. এইচ. স্বপন

বছর খানেক আগে একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা লাল শাড়ী কালো টিপে গায়ের রং ফর্সা মেয়েটিকে । সময়ের সাথে সাথে একই অনুষ্ঠানে পরিচিতি, আন্তরিকতা ও কথা বার্তায় মোটামুটি ভালো লাগা । নামটিও জানা হল মৌ, নামের সাথে শাড়ী দেহের গঠণ সব মিলিয়ে দেখতে একদম পরীর মত । অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পর আর কোন দিন যোগাযোগ হয়নি । সেদিনের শাড়ী পরা মেয়েটিকে বার বার স্বপ্নে একেছি । ওইদিনের পর থেকে আজো অপেক্ষায়, দেখা হলে বলার । টক টকে লাল শাড়ী ও কপালের কালো টিপটাতে তোমাকে সত্যি পরীর মত লাগছিলো ।
কোমরে ভাঁজ দেওয়া ওই শাড়ীর লম্বা আচল হাত জোড়ার মাঝে টাঙ্গিয়ে রাখাটা আরো অসাধারণ করে তুলছে. . . . । এই যেন শাড়ীর প্রতি এক অন্যরকম প্রেম . . . . . লাল রঙের শাড়ীটা পড়ে যখন তুমি সাত রাস্তার মোড়ে তখন তোমার হেটে যাওয়াটা অপলক তাকিয়ে দেখছে অনেকেই । দুরে বসে থাকা প্রেমিক - প্রেমিকা জোড়া তোমার চাইতে তোমার শাড়ীর আলোচনায় ব্যস্ত । খুব জানতে ইচ্ছে করে, আচ্ছা একটা শাড়ীতে একজন মানুষ এতটা সুন্দর হয় কি করে ?

তুমি আর আমি
- মেহেদী হাসান আকাশ

তুমি যাবে আমার সাথে
আমার হাতটি ধরে
সবুজ প্রান্তরের মাঝে
হাটবো দু'জন মিলে আর
শুনবো তোমার কথা
বৃষ্টি হলে থাকবো আমরা
একই ছাতার তলে
তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখি
গভির রাতে গভির নিরবতায়
তোমার পাশে থাকবো আমি
জনম জনম ধরে
থাকো আমার মনের ভেতর
গভির ভালোবাসায় আর
চলবো আমরা একই সাথে
নতুন দিনের পথে ৷

বৃষ্টি ভূবন
- এম. এইচ. স্বপন


রাতের আকাশ থেকে নীরবে ঝরা বৃষ্টির এই সময়টা সত্যি অসাধারণ । বাসার ছাদ হওয়াতে বৃষ্টির কোন শব্দ কানে বাজে না, তবে অনুভবে টিনের চালে পড়া বৃষ্টির টুপ টাপ, টাপুর টুপুর শব্দগুলো । যদি টিনের চালের চিদ্র দিয়ে গায়ে পড়া বৃষ্টি কণার ছোয়া পেতাম আরো বেশী ভালো লাগার জন্ম হতো এই সময়টাতে । চারদিকের নিরবতায় একা রাতের প্রহরী আর বৃষ্টি উপভোগ করাটাই এখন আমার নিত্য অভ্যাস । কল্পনার রঙে মিশে থাকা অধরা যদি চিরলা কন্ঠে গেয়ে যেত বৃষ্টি এলে . . . ।

তবুও বয়স বাস্তবতায় মেনে নিতাম নিজের একাকিত্বের সঙ্গিকে কাছে না পাওয়ার বেদনা । যদি পাশে থাকতে হয়তো দুজনে জানালায় হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির জ্বলে কিছুটা খুনসুটি যোগ করতাম । শেয়ার করা হতো দুজনের ভালো লাগা গুলো আর বৃষ্টির জ্বলে ভাসিয়ে দিতাম সাংসারিক জীবনে যোগ হওয়া দুজনের দু:খ গুলো . . . ।

২৫.০৬.২০১৫

ছোটদের অ্যাসিডিটির কারণ ও প্রতিকার
ডাঃ ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার, গাইনী এ্যান্ড অবস,
স্কয়ার হসপিটাল, ঢাকা ।


অ্যাসিডিটি খুব পরিচিত একটি সমস্যা । ছোট-বড় সবাই এই সমস্যাতে আক্রান্ত হয় । আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, পরিবেশ দূষণ, ভেজাল খাবারের জন্য শিশুদের অনেকেরই অ্যাসিডিটি হয় । নবজাতকদের অ্যাসিডিটি হলে তারা কান্নাকাটি করে প্রচুর । পেট হালকা ফুলতে পারে । প্রতিটি নবজাতককে দুধ খাওয়ানোর পরে পিঠে হালকা থাবা দিতে হবে । এতে খাবার হজম হবে সঠিকভাবে । পিঠে থাবা দিলে মুখ দিয়ে ঢুকে যাওয়া বাতাসগুলো বের হয়ে যাবে । তখন সহজে অ্যাসিডিটি বা বমি হবে না । নবজাতকদের পেটে দীর্ঘদিন থেকে গ্যাস জমতে জমতে প্রচুর পরিমাণে অ্যাসিডিটি হয়ে যায় । চুড়ান্ত পর্যায়ে ডায়রিয়া পর্যন্ত হতে পারে । তাই নবজাতকদেরকে দুধ খাওয়ানের সাথে সাথেই ঘুমিয়ে না দিয়ে, কিছুক্ষণ ঘাড়ের কাছে রেখে, পিঠে থাবা দিতে হবে । এতে নবজাতকের মুখ দিয়ে ঢেকুরের শব্দও হতে পারে ।


আর শিশুদের মধ্যে যারা খাবার খেতে অভ্যস্ত তাদেরকে ছোট থেকেই পানি খাওয়ানোর অভ্যাস করাতে হবে । ছোটরা বড়দের মতো পানি খেতে চায়না । আর ঠিক সময়ে খাবারও খায়না । এই জন্য তাদের খাবার ঠিকমতো হজম হয়না । প্রায় শিশু পেট ব্যাথা, বমি বমি ভাব, খাবারে অনীহা এই সমস্যাগুলোতে ভোগে । ছোট তাই সমস্যার কথা ঠিকভাবে বলতে পারেনা । কান্নাকাটি করে বা বিরক্তিতে ভোগে । বাসার মানুষজনকেও তখন বিরক্ত করে । শিশুরাও দুধ খায় । তাই তাদেরও গ্যাস বা অ্যাসিডিটি হয় তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী ।


দুধ ভীষণ পুষ্টিকর খাবার । এতে সব রকমের পুষ্টি রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে । তাই দুধ হজম করতে সবারই বেগ পেতে হয় । আর দুধ ছাড়া শিশুদের পুষ্টি হবেনা । তাই নবজাতক ও শিশুদের দুধ খেতেই হবে । যেসব শিশুরা ফিডার খায়, তাদের ফিডার নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে ও ফুটাতে হবে । তাহলে রোগ জীবাণু মরবে । জন্মের পর পর ও শিশুদের ‘রোটা’ নামের একটি ভাইরাসের আক্রমণে ডায়রিয়া হয় । তাই যথেষ্ট সতর্ক হতে হবে । কারণ ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে লবণ পানি বের হয়ে যায় । তখন শিশুরা হয়ে যায় আরো বেশী দূর্বল । তাই ডায়রিয়া যেন না হয়, সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে ।


শিশুরা একটু বড় হলে বাইরের নানান রকম খাবার খেতে চায় । প্রায় শিশুদের পছন্দের খাবার হলো বাসার বাহিরের খাবার । যেমন - চিপ্স, চকলেট, বার্গার, চুইনগাম । এই খাবারগুলোতে মাখন, মেয়োনিজ, তেল, মশলা বেশী থাকার জন্য শিশুদের হজম হতে অনেকেরই সমস্যা হয় । তখন শিশুদের বুকে জ্বালা-পোড়া, বদহজম, শরীর খারাপ লাগা, জ্বর জ্বর লাগা, এই ধরণের সমস্যা হতে পারে । বদহজমের জন্য শিশুদের ফুড পয়জনিং ও হয় অনেক সময় । শিশুদেরকে ছোট বেলা থেকেই পানি খাওয়ানোর অভ্যাস করাতে হবে । এতে দেহের দূষিত তরল পদার্থগুলো ঘাম ও মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বাইরে বের হয়ে যায় । এতে শিশুদের অন্য অসুখ হবার সম্ভাবনাও কম থাকে । কিডনীর কাজ করার ক্ষমতাও বাড়বে । আর শিশু কিশোরদের বাসার বাইরের খাবার যতোটা কম খাওয়া যায়, ততোই ভালো । কারণ বাসার বাইরের খবারে রোগ-জীবাণু ও দূষিত পদার্থ থাকতে পারে । তাই যতোটা সম্ভব বাসার খাবার খেতে হবে । এতে রোগ জীবাণুর পরিমাণ কমবে আর শিশুদের অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের পরিমাণও কমবে ।


আর শিশুদের অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের পরিমাণ কমানোর জন্য তাদেরকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, পোষাক, খেলনা, বই-খাতা, বিছানা সব কিছুই হওয়া চাই যতোটা সম্ভব রোগ-জীবাণু মুক্ত ।

আত্নদহন
- আহমেদ ফারুক মীর

আপনার সাথে যখন প্রথম দেখা
তখন আমার বয়স একুশ ছুই ছুই ।
আর আপনার সাতাস...

আপনি আমায় আশ্রয় দিয়েছিলেন ।
টাকা পয়সা এসব...
আপনি আমাকে হাতছাড়া করতে চাইতেন না,
বলেছিলেন আমাকে নিয়েই সংসারী হবেন ।
আমি সেটাকে রাস্তার পাশে ছড়ানো
উর্দি পরিহিত ঔষধ বিক্রেতার সংলাপ হিসেবেই ভাবতাম,

ভেবেই নিয়ছিলাম আপনি নিম্ফমেনিয়ায় ভুগছেন ।।
আমি নিজেকে নিয়ে পালালাম
এরপর যখন আপনার সাথে দেখা হলো,
তখন আমি অক্সফোর্ড, মেলবোর্ণ ঘুরে এসেছি
কিন্তু আপনি তখনও বিয়ে করেননি !!

অথচ আমার মধ্যে কোন অপরাধ বোধ কাজ করছেনা
আবার শান্তিটাও উবে গেছে তখন... ।

২৮-৭-২০১৪ (বান্দরবান)

হ্যালুসিনেশন
- আহমেদ ফারুক মীর

মাঝে মাঝে সব আপন জনদের মুখ এক মনে হয়
মাঝে মাঝে সবাইকে সবার মাঝে মিলিয়ে ফেলি
একজনের মধ্যেই যেন সবাই বাস করে
আমি আহত হই
আমি কেঁদে ফেলি
খুঁজে বের করতে পারিনা কউকে ।

মাঝে মাঝে সবার চোখগুলো নীল মনে হয়
নাক মুখ থ্যাবরা লাগে সবারই কখনো কখনো
মাঝে মাঝে সবাই যেন কাক হয়ে যায়
মাথার চার পাশে হাহাকার
ঝিম ঝিম করে মাথা
আমি স্থির থাকতে পারিনা ।

মাঝে মাঝে একজনের কান্নার সাথে সবাই কাঁদে
কান্নার রোল পড়ে যায় আমার চারদিকে
মাঝে মাঝে কাউকে আমি চিনতে পারিনা
নিজেকে অপরাধী মনে হয়
উন্মাদ হয়ে যাই
আত্মার ভেতরে আত্মা
বলে ওঠে তুমি, তুমি আসলে কি চেয়েছিলে ?

বাবা ও ভালোবাসা
- এম. এইচ. স্বপন


তিন ভাই বোনের মধ্যে ঝিনুকের অবস্থান তৃতীয় । বছর দশেক আগে বড় বোনের পালিয়ে বিয়ে হয়েছে বাবার বন্ধুর ছেলের সাথে । শিক্ষক বাবা সেটাকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারেননি বিয়ের এত বছর পরেও । সমাজে নিজের সম্মানের কথা চিন্তা করে বিয়ের বছর দুয়েক পরে কলিম সাহেব মেয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন ঠিকই কিন্তু ওই মেয়ের ঘরে একটা সন্তান থাকলেও আজ পর্যন্ত মেয়েকে অন্তর থেকে গ্রহন করতে পারেননি আর । বড় মেয়েকে নিয়ে সব বাবার মত কলিম সাহেবের ও অনেক বড় আশা ছিল । নিজের আপন মেয়ের রক্তের সাথে বেঈমানি করাটা তিনি হয়তো বাকি জীবনে আর মেনে নিতে পারবেন না । কলিম সাহেব খুব গরম মেজাজের মানুষ, একবার কোন কিছুতে না করে দিলে তা আর হ্যা হয় না । মেয়ের প্রতি বাবার অভিমান ভাঙ্গাতে আত্বীয় স্বজন অনেকে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন । প্রথম ছেলেটিকে নিয়েও কলিম সাহেব অনেক বড় স্বপ্ন দেখেছেন, পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করাবেন আর পুত্রবধূ কণ্যার দু:খ ভোলাবেন । কিন্তু বাড়ীর বড় ছেলেটি বোনের পথে হাটলেন, তার এক ভাবীর মাধ্যমে খবর পাঠালেন ওই ছেলের পছন্দের মেয়ে আছে, তবে পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করতে চান । কলিম সাহেব অনেক কিছু চিন্তা করে ছেলের বিয়েতে সম্মতি দিয়েছেন । ছেলের বিয়ে হলেও কলিম সাহেবের মনে একটু কষ্ট আছে, হয়তো আরো ভালো ঘরে ছেলেকে বিয়ে করাতে পারতেন ।


গায়ের রঙ কালো দ্বিতীয় মেয়েটিকে নিয়ে কলিম সাহেবের ও শেষ আশা । পছন্দের ছেলের হাতে মেয়েকে তুলে দিতে পারলেই কলিম সাহেবের স্বার্থকতা । মেজো মেয়েটি খুব বাবা ভক্ত, সহজেই বাবার কষ্ট বুজতো, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী মেয়ে, পর্দা করে সবসময় । মেয়ে মাত্র ইন্টার শেষ করেছে, কিছুদিন আগে শহুরে নামি একটি কলেজে ভর্তি করিয়েছেন, এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে চলছে লেখা পড়া । অনার্সের দ্বিতীয় বছর এক বন্ধুর প্রেমে পড়ে গেল ঝিনুক, প্রেম মানে না কোন বাধা সেরকম অবস্থা । গ্রামের বাড়ীতে ঝিনুকের জন্য দুটি বিয়ের ঘর আসলেও ঝিনুক এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে রাজি নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন বাবাকে । ঝিনুকের পছন্দের ছেলেটি কর্মঠ ও একজন সমাজ সচেতন মানুষ । প্রথম দেখাতে তার কথায়, ব্যক্তিত্বে, নৈতিকতায় অনেক ভালোলাগার একজন মানুষ তার চোখে । ঝিনুকের স্বপ্ন দেখা নতুন এক জীবনের । স্বপ্ন ও আশায় মিলে ঝিনুক-স্বপ্নিলের প্রেমের বয়স আজ সাড়ে তিন বছর । ঝিনুক একদিন তার ভালোবাসার মানুষটিকে নিজের পারিবারিক অবস্থানের কথা জানাতেই স্বপ্নিলের সোজা জবাব, একজন বাবার মনে কষ্ট দিয়ে আরেকজন বাবার পুত্র বধু করতে অন্তত আমি তোমাকে চাই না । এইদিকে কলিম সাহেব নিজে একটা পাত্র গ্রামে ঠিক করেছেন, ছেলে মাত্র লেখা পড়া শেষ করেছে, ভালো একটা চাকুরি পেলে ঝিনুকের সাথে ওই ছেলের বিয়ে হবে । ঝিনুক অনেক চিন্তায় পড়ে গেল তার স্বপ্নের মানুষের কি হবে, কঠিন বাস্তবতা কি ঠিকই দুরে সরিয়ে রাখবে স্বপ্নিলের কাছ থেকে ঝিনুককে ?


অন্যদিকে ঝিনুক-স্বপ্নিলের কমিটম্যান্ট ছিল পারিবারিক সম্মতিতেই তারা বিয়ে করবেন । একদিন বিকেলে ঝিনুক ফোন করলো স্বপ্নিলকে, মুঠোফোনের অপর পান্ত থেকে শুধু কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে । কান্নার জন্য কথা বলতে পারছে না, স্পষ্ট করে দুটি কথা বলছেন ঝিনুক . . . . ভালো থেকো, ক্ষমা করে দিও আমায় . . . . ।

স্পর্শে বৃষ্টি কণা
- এম. এইচ. স্বপন

ঘড়ির কাটায় রাত
একটা ছুঁই ছুঁই,
বাইরে রিমঝিম
বৃষ্টি, ঝিরি
ঝিরি হাওয়া ।
পাশের বিল্ডিংয়ের
জন্য রুমের
জানালা দিয়ে
কিছুই
দেখা যাচ্ছে না ।
সামনের রুমের
জানালায় চেয়ে
আছি অনেক্ষন,
বৃষ্টি কণার
স্পর্শে লোম গুলো
আস্তে আস্তে
জেগে উঠছে ।
অনেক দুর থেকে
লাল একটি আলো
অনেকখানি
ভালো লাগা দিয়ে
যাচ্ছে । খুব ইচ্ছে
করছে আলোটার
সঙ্গি হতে . . .।

২৩.০৬.২০১৫

তোমাকে ভালোবাসি
- মেহেদী হাসান আকাশ

কাউকে নিয়ে ভাবলে
বা থাকলে মগ্ন
যদি সেটা হয় ভালোবাসা
তাহলে আমি তোমাকেই ভালোবাসি
তোমাকে নিয়ে সব সময়
চিন্তা হয় আমার
তুমি কি করো
সেটা জানতে ইচ্ছে হয়
ইচ্ছে করে সব সময়
তোমার সাথে কথা বলি
যদিও তুমি আমাকে
একটুকো ভালোবাসোনা
করোনা আমাকে পছন্দ
তবুও আমি তোমাকেই ভালোবাসি ৷

তুমিই প্রথম আমার প্রেম
- শ্যামল সোম

নয়ন আজও তোমার শরীরের যূই ফুলের ঘ্রাণ ভেসে আসে
এই নির্জন বর্ষার রাতে, খোলা বারান্দায় দেখছি অঝরে শুধু ঝরে
যায় বৃষ্ঠি, আকাশ হতে নমে আসে পরীদের দল তাদের সুলোলিত
কণ্ঠে সঙ্গিত ছন্দে তালে নৃত্যে অচকিতে বৃষ্ঠির মাঝেই বহে
আসা জ্যোস্নায় আলোয় আলোময় হয়ে যায় চারিদিক ।
জানি না কখন পৌঁছেগেছি পরীদের মাঝে, বৃষ্ঠির জলে ধূয়ে যায়
বুকচাপা অভিমান, অনাদর প্রেম, অকৃপন ভালোবাসার অবহেলা !
কে এই পরী নাচতে নাচতে ঘুরে এসেছে একেবারে আমার বুকের
খুব কাছে, ওড়নায় ঢাকা মুখ, অবগুন্ঠন সড়িয়ে দিতেই দীঘল চোখে
হাসে পরী ! নাহ ! প্রচন্ড শব্দে বজ্র নিনাদে আমাকে ভয়ে জড়িয়ে ধরে
মেয়ে, বিদূত্যের ঝলকে বিস্ময়ে তাকিয়ে -
- "এই তো হারিয় যাওয়া নয়ন ।"
নয়ন ! আমার নয়ন সেই কৈশোরের অপরাহ্নে কনে দেখার গোধূলী
লগ্নে মায়াভরা দুচোখ মেলে হাতে রক্ত গোলাপ, বল্লে-কিশোরী-
-" সুমন ! আজ থেকে তুমি আমার প্রিয় বন্ধু হলে !"
যৌবনে সেই যুবতী কাছে হাঁটু গেড়ে বসে শিখে ছিলাম প্রেমের
ষোল কলার অপূর্ব অবিশ্বাস্য অনুপম খাজুরাহের ভাস্কায্য চির
শ্বাশত্ব, শৈল্পিক শোভন স্বর্গিয় সুন্দর নানা ছন্দে, যেন আজ পরীদের
নৃত্যে - দেখি তারই প্রতিফলন ।
নয়ন তোমার না বলে চলে আমার ধমনীর রক্তে জ্বলে উঠে আগুন,
আগুনের অসহ্য তাপে দগ্ধ হয়ে ছাই হয়ে গিয়েছি আমি বৃষ্ঠি ঝরলেই
আজও ভীজে ফিরি পথে পথে তোমারই খেঁজে; খুঁজতে খুঁজতে এ আমি-
কোথায় এলাম, এত মানুষের মাঝে; নয়ন তোমার ফেলে যাওয়া প্রেম
ভালোবাসা আজ বিলিয়ে যাই মানুষের মাঝে ।
তোমাদের এই গ্রুপ, আমার কাছে প্রাণের মানসী
বয়সের পাহাড় পেরিয়ে প্রবল ঝড়ে বৃষ্টিতে ভিজে
পৌঁছে যাই আমার প্রিয় পাঠকের হৃদয়ের মাঝে ।
সবাইকে আমন্ত্রন রইল --ভালোবাসায় আছি, এসো ভালোবাসি ।

আকাশ পানে
- বিভূতি চক্রবর্তী

অনেক আশায় ঘর বেঁধেছি
শুধুই মাটির ঘর,
এই গুলি মোর অট্টালিকা-
নয় তো কভু পর ।
একা ঘরের মালিক আমি
হেসে কাটাই দিবস-যামী,
কোন বেদনার ছায়ায় বসে
হারায় কন্ঠস্বর ।
সবাই আমার নিজের মানুষ
ছড়িয়ে আছে সব খানে,
তাদের নিয়েই চলছে জীবন
সবাই আমার হৃদয় জানে ।
নীরব মনের ব্যাকুলতা
বেঁধে রাখে অশেষ কথা-
কথার মালা গলায় নিয়ে
তাকাই শুধু আকাশ-পানে ।

আগরতলা। ২০/০৬/২০১৫ ইং

বাবার ভালবাসা
- স্বজন ইসলাম নাহিদ


বয়সটা হবে সাত আট বছর বাবা সেই বর্ষাকালের দিন গুলোই আমাকে কাঁধে নিয়ে আর ভাইয়ার হাত ধরে হাঁটু জল পানি পেরিয়ে নিয়ে কাঁঠাল বাড়ি বাগানে যেত । আমাকে মাচার উপর বসিয়ে বলতো বাবা নিচে নামিওনা । বাবা কাঁঠাল আম গাছ থেকে পেরে এনে আবার বাসার পথে রওনা হলো এইবার বাবা আমাকে কোলে আর মাথায় নিলো আমের বস্তা । ভাইয়াকে বললো বাবা তুমি এইখানেই বসে থাকো কোথায় যেওনা রক্তিমকে বাসায় রেখে আসি আবার এসে তোমাকে নিয়ে যাবো ।
- ভাইয়া বললো বাবা তারাতারি এসো আমি এখানেই বসে থাকবো ।
বাবা আমাকে নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলো । আর এরি মধ্যে হঠাৎ করে আকাশে ঘনঘটা মেঘ চারিদিক অন্ধকার মনে হচ্ছে, এযেন দিন নয় রাতের আধার ।
ভাইয়া ভয়ে একা একা বাগানে বসে থাকতে পারলো না তাই সে হাঁটু জল পানি দিয়ে বাসার পথে যেতে লাগলো । যাওয়া আসার পথের পাশে একটি পুকুর ছিল, সবাই মুনিয়ার পুকুর বলেই কথা বলতো । হাঁটু জল পানি কোনটা পুকুর আর কোনটা পথ বোঝার উপায় ছিলো না । আরে ভাইয়া সেইটা না বুঝতে পেরে পুকুরেই পরে গেলো । আর বাবা বলে চিৎকার করতে থাকলো ।
বাবা আমাকে বাসায় রেখে গিয়ে ভাইয়াকে আনতে কাঁঠাল বাড়ি যাচ্ছে, পুকুরটা পাশ কাটিয়ে যাবে এরি মাঝে নরেন কাকু ভাইয়াকে কোলে নিয়ে ডাক দিচ্ছে বাবা ফিরেই দেখে ভাই নিস্তেজ হয়ে কাকুর কোলে ।
কাকু বাবাকে বললো ভয় পেয়োনা কিছু হয়নি এখন ঘুমাচ্ছে আমি পুকুরের ঐপাশ দিয়ে ধীরেনের বাগানের দিকে যাচ্ছিলাম বিজয় এর চিৎকার পেলাম আর পুকুর থেকে বিজয়কে তুললাম ।
বাবা কাঁদতে কাঁদতে বললো ভাই তুই আমার মানিককে আমার বুকে ফিরিয়ে দিয়েছিস ।
ভাইয়া বেঁচে ফিরে এসে সবাইকে খুশিতে রাখলো । ধীরে ধীরে আমরা বড় হতে থাকলাম । তবুও বাবা কখনো বর্ষাকালে ঝড় বৃষ্টির মাঝে আম কুরোতে যেতে দিতো না যদি কিছু হয়ে যাই সবসময় চাইতো বুকে আগলে রাখতে । আর কখনো যদি ঝড়ের মাঝে বাইরে গিয়েছি তাহলে কাঁদতে কাঁদতে আমাদের খুঁজে বেরাতো ।
আসলেই প্রত্যেক বাবারাই নিঃস্বার্থ ভালবাসার অধিকারি হন । সন্তানের কাছে কিছু পাবার আশা না করে, জীবনের সবকিছু আমাদের মাঝে উজার করে দেয় ।
তাইতো আজো বড় হয়ে অনেকদিন পর বাসাই যাই আর বাবা জড়িয়ে ধরে কপালে গালে চুমু খেত থাকে ।
আর আমরা বলি বাবা বলো তো এখনো কি ? ছোট হয়ে আছি ।
বাবা বলেন মা বাবার কাছে সন্তানেরা সবসময় ছোটই থাকে ।

অপরূপ সুন্দর
- মেহেদী হাসান আকাশ

তোমাকে দেখেছি আজ
লাল শাড়ি পরনে
মনে হয়েছে যেন
পূর্ণিমার চাঁদ তোমার
মুখে আচড়ে পরেছে
তোমার দিকে হতবাক হয়ে
চেয়ে থেকেছি শুধু
কিছুই বলতে পারিনি আমি
কী বলবো তার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি
তোমার অপরূপ সুন্দর মুখ খানা দেখে
যতই ভাবছি আমি তোমার থেকে
অনেক দূরে সরে যাবো
ততই তোমাকে আরো বেশি
ভালোবাসতে ইচ্ছে হয়
আজ প্রতিঙ্গা করলাম
তোমার থেকে আমি দূরে
কখনই সরে যাবোনা
কারন তুমি আমার
শুধুই আমার ৷

গর্ভাবস্থায় পোষাক সম্পর্কিত সতর্কতা
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


গর্ভাবস্থায় রয়েছে পোষাকের যথেষ্ট অবদান । এই সময় দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে যায় । সেই সাথে বাড়তে থাকে দেহের বিভিন্ন রকম সমস্যা । এই সমস্যাগুলোর সাথে পোষাকের রয়েছে যথেষ্ট যোগাযোগ । পরিবেশ, বয়স, উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী পোষাক, গর্ভাবস্থাকে করে তুলবে যথেষ্ট আরামদায়ক । গর্ভাবস্থাতে সন্তান জন্মদানের সময় যতোটা এগিয়ে আসে, ততোটাই দেহের ওজন বাড়তে থাকে । তখন সচরাচর পোষাকগুলো মানানসই হয় না । গর্ভাবস্থা বুঝে পোষাক নির্বাচন করলে অনেক শারীরিক অস্বস্তি দূর করার সম্ভব ।


পোষাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই যথেষ্ট মনোযোগী হউন । খেয়াল রাখতে হবে, যেন পোষাক একই সাথে গর্ভাবস্থার উপযোগী ও যুগোপযোগী ফ্যাশন সম্পর্কিত হয় । গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে অনেকেরই প্রচুর পরিমাণে বমি হয় । এই সময় যতোটা সম্ভব ঢিলেঢালা পোষাক পরুন । সুতি কাপড় হলে সবচেয়ে ভালো । এই সময়ে পেট তেমন বড় হয় না । তাই যুগের উপযোগী ফ্যাশন সম্পর্কিত সালোয়ার কামিজ, বাসায় ঢিলেঢালা জামা বা ম্যাক্সি পড়তে পারেন । খেয়াল রাখবেন যেন ঘামে ভেজা জামা বা পোষাক পরতে না হয় । এতে দেহে বাসা বাধবে নানান রকম রোগ-জীবাণু । যা দ্রুত আক্রমণ করবে শরীরকে বা গর্ভস্থ শিশুকে । টেট্রন, নিলেন, জর্জেট, সিল্ক, কাতান, রেশম কাপড় যতোটা বেশী পরিহার করা যায়, ততোটাই ভালো । সুতি কাপড় ত্বককে দিবে আরাম । আর সেই সাথে এই কাপড়ে ঘামের পরিমাণও কমে যাবে । তাই এই সময় সুতিই হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট পোষাক ।


বাসার বাহিরে কর্মজীবি না হলে সুবিধা মতো পোষাক পরিধান ও পরিবর্তন করুন । গরমের দিবে বা ধূলাবালি থেকে রক্ষার জন্য সর্বদা পরিষ্কার ও আরামদায়ক পোষাক পরুন । রান্না করলে রান্নার তেল মশলা লেগে ঘামে কাপড় ভিজতে পারে । তাই রান্না শেষে পোষাক পরিবর্তন করুন । সব সময় গোসল সম্ভব না । তাই রান্না শেষে ভালো করে হাত, মুখ ধুয়ে ফেলুন । একদিন কাপড় পড়ার পরে তা অবশ্যই ধুয়ে ফেলুন । আর যারা কর্মজীবি অর্থাৎ বাসার বাহিরে কাজ বা চাকরি করেন, তারা পোষাকের প্রতি আরো মনোযোগী হউন । যদি প্রতিষ্ঠানের পোষাক পরতে হয়, তবে তা যেন গর্ভাবস্থায় নিরাপদ হয়, সেই বিষয়ে খেয়াল রাখুন । আজকাল বিভিন্ন বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে ‘প্রেগনেন্সি ড্রেস’ পাওয়া যায় । অর্থাৎ গর্ভবতী মায়েদের জন্য ঢিলেঢালা কামিজ, পায়জামা, ম্যাক্সি, ফতুয়া, টপস পাওয়া যায় । এই ধরণের পোষাক পরুন । কিনতে না পারলে, সুতি কাপড়ের ঢিলা পোষাক বানান । একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, গর্ভাবস্থায় দেহের গড়ন পরিবর্তিত হয়ে যায় । ওজন অনেক বেড়ে যায় । তাই পেটে চাপ না লাগে, এমন পোষাক পরুন । যারা প্রতিষ্ঠানের পোষাকে ফুলপ্যান্ট বা জিন্সের পোষাক পরেন, তারা অতিরিক্ত টাইট করে বেল্ট ব্যবহার করবেন না । কিছু পোষাক আলাদা করে ফেলতে হবে গর্ভাবস্থার জন্য, আর কিছু পোষাক রাখতে হবে নবজাতককে খাওয়ানোর জন্য ।


যাদেরকে নিয়মিত রিক্সা, বাস বা ব্যক্তিগত গাড়ীতে যাওয়া আসা করতে হয়, রাস্তার জ্যামে দীর্ঘসময় বসে থাকলে তখন কোমড়ে ব্যাথা হতে পারে । এই জন্য ব্যবহার করুন অ্যাবডোমিনাল বেল্ড (Abdominal belt) । যা ব্যবহার করতে হয় গর্ভাবস্থার পরে, পেটের আকার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য । কিন্তু ডেলিভারীর পূর্বেই ব্যবহার করতে পারেন, যাদেরকে প্রচুর পরিমাণে বাসার বাইরে ভ্রমণ করতে হয় । অ্যাবডোমিনাল বেল্ট বা বাইন্ডার ব্যবহার করলে পেট নড়াচড়া করবে কম । তখন ব্যাথা কম লাগবে । দেহের ওজন ও পেটের বৃদ্ধির সাথে সাথে পেট নীচের দিকে ঝুলে পড়ে । তখন জোরে ঝাকুনি লাগলেই ব্যাথা হয় । তাই বাইন্ডার জার্নির সময় পরতে পারেন । সব সময়ের জন্য না । বাইন্ডার পোষাকের উপর পরলে দেখতে বাজে লাগবে । তাই কামিজ বা জামার নীচে বাইন্ডার পড়ুন । এই জন্য ঢিলা জামা হলে সুবিধা হবে । বাহিরে নিয়মিত যেতে হলে শাড়ীর পরিবর্তে থ্রীপিস পড়ুন । এতে হাটা চলাতে সুবিধা হবে ।


সপ্তাহে অন্তত একদিন বাসার সবার কাপড় স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করুন । এতে রোগ জীবাণু মরবে । গর্ভবতী নারীর পোষাক, খাবার, ঘুমানোর জায়গা হওয়া উচিৎ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন । এতে রোগ জীবাণু কমবে । লকার বা আলমারিতে উঠিয়ে রাখা কাপড় সর্বদা ধোয়া সম্ভব না । তাই সপ্তাহে অন্তত দুই দিন রোদে দিন । এতে রোগ জীবাণু মরবে । রাতের বেলা ঘুমানোর সময় রাখুন আরো ঢিলাঢালা পোষাক । যেন বিছানা থেকে নামতে গিয়ে পড়ে না যান । কামিজ পেটের কাছে ঢিলা করে বানান । ওড়না তুলনামুলকভাবে বড় পড়তে পারেন । ওড়নাতে হাল্কা সুতা, জড়ি বা লেস লাগাতে পারেন কামিজ ও পায়জামার সাথে রং মিলিয়ে । এতে দেখতে সুন্দর লাগবে ।


যতোটা সম্ভব পোষাক আরামদায়ক ও ফ্যাশন সচেতন করুন । এতে মন ভালো থাকবে । সুস্থ সবল শিশু জন্মানোর জন্য মন ভালো রাখাটা ভীষণ জরুরী ।


ডাঃ ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার, গাইনী এ্যান্ড অবস,
স্কয়ার হসপিটাল, ঢাকা

হাঁসালো
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

সকালে বাসা থেকে বের হবার সময়
মা বললো খেয়ে যা খোকা,
প্রিয়সীর সাথে দেখা হলো......সে বললো
এত দেরি কেন...রে বোকা !

তোমার বাড়ির গলিতে গেলাম
সন্ধ্যাবেলায়.....
তোমার খোপায় দিলাম গোলাপ.....আর
বন্ধুর পোষা কবিতর হাগু করলো আমার মাথায়,,,!

এই খানে যাই সেইখানে যাই
কোন কবিনে রোগী.....
ডাক্তার দেখিয়ে বলে রোগী আপনার
বউ হয়, না শালী.....রোগী
বললো ওগো এই তো গালাগালি...!

ভালোবাসা
- মেহেদী হাসান আকাশ

কি করে বলবো আমি
তুমি আমার কে
আমি যে তোমাকে ভালোবাসি
সে কি তুমি বুঝোনা
নাকি বুঝতে চেষ্টা করোনা
তুমি কী একবারো জানতে চেয়েছো
আমি তোমাকে কী বলতে চাই
আমি যে তোমাকে ভালোবাসি
একথা তোমাকে বলতেও পারছিনা ৷
কি করে বলবো একথা
আমি যে নিস্ব
আমার তো কিছুই নেই
তোমাকে দেবার মতো
শুধুই আছে তোমাকে দেবার
এক রাশ ফুলের ভালোবাসা ৷

আমি এখন ভিখারী
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

সন্তান কে বেচলাম
তোমার জন্য,
বউ এর গহনা বেচে
হলাম ধন্য ।
.
করলাম চুরি
বৃদ্ধা মায়ের শাড়ি,
ধার দেনা তে
নিলামে আছে বাড়ি ।
.
চুরি করেছি বাবার
জমির দলিল,
চুরি করেছি ছেলের
বই, খাতা, পেন্সিল ।
.
তোমার জন্য
প্রিয় ফেনসিডিল,
তুমি মদ, গাজা,
তুমি আমার সেডিল ।
.
তুমি আমার
সর্বনাশা হেরোইন,
তোমার জন্য গুনছি
মরণের দিন ।
.
রক্ত, ফুসফুস, সারাদেহ
নষ্ট করলা আমারি,
সব হারিয়ে আজ
আমি পথের ভিখারী !!!

( উপলক্ষ্য - " সব ধরনের মাদক নিষিদ্ধ " )
14 6.2015

জলের জাহাজ
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

আকাশ জুড়ে কালচে মেঘের ভেলা ।
উড়ছে উড়ুক যাক না বয়ে বেলা ।
সাগর থেকে বাষ্প বয়ে এনে,
জলের জাহাজ উড়ছে তরল বিনে ।
দক্ষিনে নেই, উত্তরে যায় উড়ে ।
হিমালয়ে ধাক্কা মারে জোরে ।
ধাক্কাতে তার নড়বে কি আর গিরি ?
লাগলো বিষম, বললো মেঘে, মরি !
ফিরছে যখন আগের মতন নীড়ে,
মাঝ পথে সে ফাটলো এসে ধীরে !
বৃষ্টি হয়ে ঝরলো ভূবন মাঝে,
ভূমি থেকে নদী নালা খুঁজে,
সেই সাগরে দিলো আবার পাড়ি ।
যেখান থেকে যাত্রা মেঘের বাড়ি ।
যেথায় শুরু সেথায় গেলো মিশে ।
কেন্দ্র থেকে থাকবে দূরে কে সে ?

জয়ন্তী
- সোনম মনি

যদি জীবনেরে দিলে মরনের ছায়ায়
দিলে কেনো ভবোপ্রেম মোহন মায়ায়
এলাম যেদিন ধরায় মায়ের নাড়ীটি ছিঁড়ে
চলছে মরনের ছায়া প্রতিপদে অতি ধীরে !

ফুলকলি প্রতিক্ষায় থাকে বলিতে কথা,
না জেনেই ক্ষণিক জীবনের দূ:খ-ব্যথা ।
পাপড়ি মেলিয়া হাসিয়া সাড়া করে ফুলবন,
প্রজাপতি ভোমরা মৌমাছির প্রীতি ভরামন !
সবিতা কিরণে কোমল শরীর হেলিয়া পড়ে;
প্রেমের আগুনে যেমন প্রেমিক পুড়িয়া মরে !

জীবনেরে তারা নিতি দেয সপে মরনের হাতে;
চাঁদের রোশনাই ঝরে পরে প্রতি চাঁদনী রাতে !

ঘর
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

যে ঘরে হায় !
নেই ভালোবাসা,
ঘর সেতো নয়
মিথ্যে সে বাসা ।
.
সেতো শুধু হায় !
ইট পাথরের ধাপ,
বাহিরে থেকে
করা যায় না পরিমাপ ।
.
বড় দালান মানেই
ঘরতো নয়,
সেতো ঘর, যেখানে
শান্তি রয় ।
.
শান্তি সেতো
মিথ্যে চোরাবালি,
জীবন পথ চলার
এক জোড়া তালি ।

26.3.2015

কল্পনার ভাবনা
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

জানি দেখা হবে নদীর প্রতিটি বাঁকে বাঁকে,
সকল অশান্তময় ক্লান্ত করেছি দূরিভূত,
তাই ঐ মেঘে ঢাকা গগন পানে চেয়ে,
আস্তাকুরে পরে থাকা স্বৃতিময় স্বপ্ন,
গুলো ঝালিয়ে অপেক্ষায় রই বয়ে,
চলা সেই নদীর তীরে প্রতিটি বাঁকে বাঁকে !
তোমার স্বপ্নগুলো আবছা হয়ে হারিয়ে
গেছে নতুনত্বের ছোয়ায়...
তবুও আমি থেমে নেই !
সেগুন বাগিচা অরন্যে নিস্তব্ধ নিরবতায়,
আলোবিহিন আধারে অজস্র জোঁনাকির,
আলোয় আমি খুজে পায় তোমাকে আর
পথ চলার অনুপ্রেরনা...
হয়তোবা দেখা হতে পারে বয়ে চলা,
স্রোতের শেষ প্রান্তে ।

আমরা বাঁচতে চাই
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

ছিলে গেছে
হাতের চামড়া,
পথের গরীব
শিশু আমরা ।
.
রাত দিন কাজ,
দুই হাতে কালি,
পেটে নেই ভাত
দেহে ধূলো বালি ।
.
পথের ধারে
ফুল বিক্রি করি,
পকেটমার হয়ে
কখনো করি চুরি ।
.
সমাজ আমাদের
বানিয়েছে টোকাই,
এই জীবনে শুধু
কষ্টের গল্প তাই !!!
.
আমাদের অনেকের
নেই মা বাবা,
হেলপার হয়ে
লেগুনা তে দিই থাবা ।
.
যুগ যুগ ধরে
আমরা অসহায়,
"মানুষ " হয়ে
"আমরা বাঁচতে চাই " ।

( উপলক্ষ - বিশ্ব শিশু শ্রম বিরোধী দিবস )
4.20 pm, 12.6.2015

ফিরে ফিরে দেখা
- শ্যামল সোম

" নয়ন ! এখনই তো এলে, আর একটু বসো,
ঘন কালো বসনে রাঙা শরীরে, লাজুক চোখ তুলে চায়,
চোখের তারায় দেখি আমার ছবি,
হাতে রাখি হাত, আঙ্গুলে আঙ্গুল
জড়ায়, ছূঁয়ে থাকে ভালোবাসা।
নির্জন এই শীতের বিকেল বেলায়,
গঙ্গার পারে ইউক্যালিপস্টা গাছের ছায়ায় ।
পাল তুলে নৌকো ভেসে যায় দূরে ঐ গঙ্গায়,
ডানা মেলে আকাশে উড়ে গেল এক বক গোধূলী
মায়াবী আলোয় আলোকিত নয়নের মুখ সুখের
আবেশে, হিমেল বাতাসে এই শীতের আসন্ন সন্ধ্যায়
শুধু পরস্পের দিকে চেয়ে মুখমুখি বসে থাকা ।
এই ঠান্ডায় উষ্ণতার খোঁজে শরীর শরীরের কাছে আসে,
ব্যাকুল হৃদয়ের গুন গুন স্পন্দন শুনি আমরা দুজন ।
রাতে অন্ধকারে তারাদের আলোয় আবাসে ফিরে যাওয়ার
সময়, অতর্কিতে প্রচন্ড বোমার শব্দে কেঁপে ওঠে নয়ন,
দু-দলের দখলের তালে বোমাবাজি, আতঙ্কে ভয়ানক ভয়ে
থর থরিয়ে কাঁপছে আমায় গভীর আলিঙ্গণে জড়িয়ে ।
৭০ এর উত্তাল কোলকাতায় সর্বত্র বাতাসে
বোমা আর বারুদের কটু গন্ধে শ্বাস নিতে ভারী কস্ট হয় ।

আমার ভালোবাসা
- মেহেদী হাসান আকাশ

কি করে বলবো আমি
আমি তোমাকে ভালোবাসি বিভিন্ন ভাবে
বোঝাতে চাই
কিন্তু তুমি বুঝছোনা
আমি জানি তুমি
আমাকে ভালোবাসো না
আকাশের বুক যতটা বড়
তার চেয়েও বেশি তোমাকে ভালোবাসি
আমি
তোমাকে মুখে বলার সাহস নেই কতটা
ভালোবাসি তোমায়
কখনও যদি পারি বলতে
আমি তোমাকে ভালোবাসি
হয়তো তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিবে আমি
তোমাকে ভালোবাসি
বলেই
হয়তো এখনও বেচেঁ আছি
একদিন
শুনেছিলাম তোমার ইচ্ছের কথা তোমার
ইচ্ছে পূরণের জন্য লড়ছি তোমাকে সুখি
করবো বলে
এসব করছি শুধু তোমারেই জন্য যদি তুমি
আমাকে একটু ভালোবাসো
তোমার
ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আমার এতসব
করা
আমি সারা জীবন তোমাকে নিরবে
ভালোবেসে যাবো
এটাই আমার ভালোবাসা ৷

জান্নাহ ছাড়া আমি
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

জান্নাহ তুমি কোথায় আছো ?
এখন তুমি কার ?
ভুলে গেছো হাটতে যাওয়া
তিতাস নদীর পাড় ?
সেদিন যখন হাটতে গেলাম,
তিতাস আমায় কয়
একলা কেনো ? তোমার প্রাণের
জান্নাহ সখী কই ?
কলেজ থেকে একটু দূরে
রেল লাইনের পথ ।
বিকেল বেলায় ঘুরতে যেতাম
চলতো প্রণয় রথ ।
সেদিন যখন পা ফেলেছি
রেল লাইনের গায়,
পথ বলেছে কি হয়েছে ?
জান্নাহ কেনো নাই ?
কলেজ মাঠের সবুজ ঘাসে
গাছের ছায়ায় বেশ
জমতো আলাপ, কমতো না তা,
হতো না আর শেষ ।
এক বিকেলে খেলতে গেলে,
বললো সবুজ মাঠ ।
আর আসো না দুজন মিলে,
শেষ কি প্রেমের পাঠ ?

(সংক্ষেপিত)

পাহাড়ের মৌনতা
- রুনু সিদ্দিক


"পাহাড়ের মৌনতা" সযতনে লুকিয়ে রাখা কষ্টগুলি সুযোগ পেলেই বিদ্রোহ করে উঠে.....বুকের চাপা কান্না আর চেপে থাকতে চায়না বুকে....
সান্তনা দেই , থাকনা ওখানে কেন অপ্রস্তুত করে মুক্তি চায়.... ! মুক্তি কি মেলে এতো সহজে ? তীব্র যন্তনা গুলো ক্ষয়ে যেতে থাকে , রূপান্তর ঘটে বর্ষার জলের ধারার মতো বিরামহীন স্রোতরেখা.....তাতে কি কমল বিষুবিয়াস ! নতুন উদ্যমে জমে উঠে ফের পূর্ন হতে থাকে.... ভরাট নদীর তীরের মতো জ্বলজ্বলে বালুরাশি জমাট বাঁধে.....কখনো ক্ষনিকের ঝর্নাধারায় ঝরে শুধু দাগ রেখে যায় ! পাহাড়ের মৌনতা তবু ভাঙেনা ।


জাগরূকের ইফতার আয়োজন সম্পন্ন 

-এম. এইচ. স্বপন, চট্টগ্রাম,  বাংলাদেশ 



পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জাগরূকের ইফতার আয়োজন গত ৩ জুলাই শুক্রবার চট্টগ্রামের কদম মোবারক এম ওয়াই উচ্চ বিদ্যালয়ে সংগঠনের সদস্যদের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হয়েছে । ইফতার পরবর্তী এক আলোচনায়  অংশ নেন জাগরূকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এ্যাডভোকেট জুয়েল দেব । সংগঠনের সভাপতি সাঈদ আহসান  খালিদের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো অংশ নেন সাধারন সম্পাদক কণা দাশ, সহ-সভাপতি রাসেল চৌধুরী , সুমন কুমার শীল, কাওসার সাকী, রায়হান উদ্দিন, আবদুল কাইয়ুম, এম. এইচ. স্বপন, রানা দাশ, চন্দ্রিমা বিশ্বাস, স্বপ্না শারমিন, কনিকা মজুমদার, শাহাদাত হোসেন, শাহরিয়ার শিহাব, ফারজানা রহমান, নুসরাত জাহান ও রফিক আহমেদ । আলোচনা অনুষ্ঠানটি  সঞ্চালনায় করেন জাগরূকের  সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব কুমার বিশ্বাস ।



অ্যালার্ম
- পিয়ালী বসু

অ্যালার্ম টা বেজে ওঠে
সেই সাতসকালে নিয়ম মেনেই
ফিটফাট খুঁতহীন জীবনটা গতে বেঁধে
শুরু হয়
অ্যালার্ম টা বেজে ওঠে
দুপুরবেলা কাজের মাঝে
যখন ভীষণ ভাবে শরীর জুড়ে
আসিস তুই
অ্যালার্ম টা বেজে ওঠে
যখন সাদা খাতা জমা দিয়ে পরীক্ষার হল থেকে
বেরিয়ে আসি
অ্যালার্ম টা বেজে ওঠে
অকাল বসন্তে
আমায় ফাঁকা করে যখন তুই
অন্য কারোর সঙ্গে বাসি
Because ..life is a monotonous circle baby !

আজ যুদ্ধ
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

এক দ্বিপ্রহর রাতে গোলার আওয়াজ, কানে বাজে প্রচন্ড তীব্র...
আজ যুদ্ধ
বাংলার ওপর আর কত অত্যাচার,
বাঙ্গালি আজ অধৈর্য !
বাঙ্গালী আজ ক্ষিপ্ত, আলোর প্রদীপ শিখা দীপ্ত ।
আজ যুদ্ধ,
স্বাধীনতার লড়াই, হবে বাংলার বিজয়,
বাঙ্গালী আজ নয় শান্ত, স্বাধীনতার জন্য ।
আজ যুদ্ধ
নতুন একটা গল্প, নয়ন ভরা স্বপ্ন আজ দৃহপ্রত্যয়ে অঙ্গীকার বদ্ধ !
রক্ত দিয়ে গড়ে তোলা নতুন একটি রাষ্ট্র...
আজ যুদ্ধ ।


"হ্যাঁ এই যে , এইখানে সই করুন "

"কি নাম আপনার" ?

"শ্রীমতি সুশীলা নাগ"

"আরে ? মিস না মিসেস ? সেটা ক্লিয়ার করুন ম্যাডাম "

একটু ইতস্তত করে সুশীলা । কি বলবে ? ফিরে যাবে কি ? কিন্তু আর তো লুকোনো যাচ্ছে না । সকলের নজর এড়িয়ে আর কদ্দিনই বা ...

"মিসেস সুশীলা নাগ" ।

"অ ! বসুন ওখানে" ।


পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনে শুধুই নিত্য নৈমিত্তিক ঝামেলা , অশান্তি আর মনোমালিন্য । সেও সয়েছিল , কিন্তু যেদিন থেকে হাত উঠলো সুশীলার শরীরে , সেদিন থেকে আর চুপ করে থাকেনি সে । শরীর টা কি তার বাপের সম্পত্তি ? রোজ রাত্রে ঘাঁটবে আবার রোজ সকালে কালশিটে ? !

আলিপুর কোর্টে ডিভোর্স এর কেস উঠলো । সেতো কতজনেরই ওঠে । কিন্তু এই নিত্য দোটানার ভোগান্তি কজন এর ?


বিনয়ের সাথে ঝগড়া আর অশান্তির মাঝেই কখন যে টুক করে অয়ন লাইনে ঢুকে পড়েছিলো , সেটা ভাবলে আজও অবাক লাগে তার । শরীর তখন শুকনো , যোনিপথের পিচ্ছিলতা শেষ কবে , সেও সুশীলার মনে পড়েনা , সেই ক্রান্তিকালে অয়নের আবির্ভাব । কিই বা করত সে ? তার জায়গায় অন্য কেউ থাকলেই বা কি করত ? প্রশ্নের মায়াজালে জর্জরিত সুশীলা কে বিনা আয়াসেই বধ করেছিলো অয়ন ।


তারামা নার্সিং হোম থেকে বেরিয়ে আসে সুশীলা , সুশীলা নাগ । এই মুহূর্তে পেট খসিয়ে এসেছে সে । বিনয় ঘোষালের স্ত্রী । তবুও আজ যে সাহস টা না দেখালেই চলছিলো না ! দিনের পর দিন অয়নের চোখে নিজেকে বেশ্যা ভেবে এসেছে সে । কেন ? ভালবাসায় শরীর দেওয়া কি অপরাধ ? আজ তাই যন্ত্রণাদীর্ণ হৃদয়ে সন্তান খসিয়ে আসার তীব্রতর অপরাধে খাতায় অয়নের নামটাই লিখে এল । যে পিতৃত্বের ভার তাকে বহন করতে হল না , সেই অব্যক্ত পরিচয় আজ নাহয় নার্সিং হোমের রেজিস্টার খাতাতেই থাকুক ।

প্রয়োজন
- পিয়ালী বসু

এই মুহূর্তে প্রয়োজন ফুরিয়েছে
শব্দ , মুহূর্ত এবং শরীরেরও
প্রয়োজন ফুরিয়েছে মিথ্যে প্রতিশ্রুতিরও
ন হন্যতে হন্যমান এ শরীরে
তবুও তারাখসা কসমিক রাতে
হন্যমান শরীরেও ইতস্তত ভ্রমণ
মুহূর্তটা কে অন্তহীন করে তোলার সেই চিরকালীন মিথ্যে প্রচেষ্টা
just to get a better feel for you,
I still touch the same cushion you did,
এই মুহূর্তে প্রয়োজন ফুরিয়েছে সংলাপের
নৈঃশব্দের নিজস্ব ভাষা কে গায়ে জড়িয়ে
মুহূর্তের প্রতি যথাযথ সম্মান জানিয়ে
আজ
আমি ফুরিয়ে যেতে চাই ।

নীল পাখি
- রমা চোঙদার

নীল পাখি খুব ইচ্ছা করে দূরে ওই পাহাড়ের
কোলে জঙ্গলে গিয়ে বাসা বাঁধি !
গাছের পাতার ফাঁকে ফোঁকরে ভোরের আলোর
উঁকি ঝুঁকিতে আমরা জেগে উঠবো ।
তারপর প্রজাপতির মতো ডানা মেলে উড়তে
উড়তে চলে যাবো ওই পাহাড়ির ঝরনার ধারে ।
তুই পাইন গাছটাই বসে দোল খাবি আর শিস দিবি "বউ কথা কও "
আর আমি তখন ঝরনার জলে সারা শরীর মেলে ধরবো
সারাদিন এ ডাল ও ডাল করে নেচে নেচে বেড়াবো ।
সমস্ত দিনের শেষে গোধূলির আলো
মেখে উড়তে উড়তে সেই জঙ্গলে ফিরবো
রোদ , বৃষ্টি ,ঝড় যা কিছু আসুক আমরা
দুজনে এক সাথে ভাগ করে নেবো !
পৃথিবী শান্ত হলে বনানীর শয্যায় শুয়ে জোনাকির আলোয়
আকাশের তারা গুনতে গুনতে ঘুমের দেশে হারিয়ে যাবো !
যাবি নীল পাখি আমার সাথে ?

সত্য কথা
- মেহেদী হাসান আকাশ

সত্য কথা মধুর বটে
সত্য কেউ কয়না
বলতে চাইলে সত্য কথা
টিকে তা রয়না
কর্মজীবি সত্য বললে
পেটে ভাত পরেনা
রাজনীতিতে সত্য বলতে
কোন কিছুই নেই
ধর্ম নিয়েও আমরা এখন
সত্য লুকাতে চাই
আইন ব্যাবসা বেশি ভালো
মিথ্যা জানলে ভাই ৷

পরাজিত স্বপ্নকন্যা
- আকলিমা আক্তার রিক্তা

সাড়ে চার বছর পর পাবলিক লাইব্রেরীতে
তোমার মুখাপেক্ষী হব তা ভাবিনি কখনো
যেই কবির চোখে তেজের রক্তরা আওয়াজ তুলত
সেই কবিকে এভাবে শীতল হতে দেখে আমি স্তব্ধ ।
মিছিল, মিটিং, ফেস্টুন, ব্যানার নিয়ে কাটত তোমার দিন
সন্ধ্যায় রোকেয়া হলের সামনে স্বপ্নকন্যার চুলের ঘ্রান নিতে ।
চেনা পথ, চেনা গলিতে কত্ত ছুটোছুটিতে মেতে থাকতাম আমরা !
চেনা শহরের অলি গলিতে আজ ও স্বপ্নকাব্য হয়ে রয়েছে সময় ।
হঠাত একদিন তুমি আমাকে স্বার্থপরের মত দূরে ঠেলে দিয়েছো
পাষন্ড মানবের মত ধিক্কার জানিয়েছো আমার কোমল ভালবাসা কে !
সেদিনের ব্যর্থ হয়ে ফেরার পর থেকে
প্রতিটি ক্ষনে ক্ষনে তোমায় ঘৃনা করে এসেছি
তোমার স্বপ্নকন্যা তোমার সকল স্মৃতিকে পুড়িয়ে ছাই
করে ঘোলা জলে ভাসিয়ে দিয়েছে বৈকি !
যে কবির চোখে চোখ রেখে হাজার স্বপ্নের নেশায়
মাতাল হতাম আমি
সেই কবিকে এতটা ঘৃনা করে দূরে সরে যেতে হবে
তা ছিল অকল্পনীয় ।
কবি, আজ সাড়ে চার বছর পর
তোমাকে সামনা সামনি দেখে আমার
হৃদয়ের কোণে কে যেন ধারালো ছুরি দিয়ে
আমার হৃদয়টাকে শত ক্ষত করে দিচ্ছে ।
আজ সময় হারিয়ে আমি বুঝতে পেরেছি
পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে
কেনো সেদিন আমাকে শুন্য হাতে বিদায় দিয়েছিলে
কেনো তোমার চোখে তাকিয়ে মাতাল হতে বারন করেছিলে
আজ তোমাকে হুইল চেয়ারে অবস্থানরত না দেখলে
স্বপ্নকন্যার পাষান হৃদয়ের চেতন হতোনা কোনদিন ।
আমার সুখের কথা ভেবে সেদিন আমাকে পচনশীল
পদার্থের মত দূরে ফেলে দিয়েছিলে
অথচ আমাকে হারানোর ব্যাথা সহ্য না করতে পেরে
আজ ও কষ্টের সাগরে ডুবে ডুবে দিনাতিপাত করছো
একাকীত্বের হাহাকার ভরা তোমার জীবন
শুন্য ঘর, একটি চৌকি, একটি থালা, গ্লাস আর দুটি পাঞ্জাবী
ছাড়া আর কাউকে সঙ্গী করোনি তুমি
অথচ আমি ভালোবাসার চাঁদ, তারা সবশুদ্ধ গিলে খেয়ে
সুখের সায়রে সাতরাতে সাতরাতে ক্লান্ত, শ্রান্ত !
কবি, তোমার স্বপ্নকন্যা তো এমনটা চায়নি
আমাকে মনের সাথী নাইবা করতে, তোমার হুইল চেয়ারের
দুটি হাতল ধরার সাথী তো করতে পারতে ।
তোমার ভালবাসার কাছে বরাবর ই পরাজিত হয়ে
গেলাম আমি, পরাজিত হল তোমার স্বপ্নকন্যা ।

স্মৃতিময় মুহুর্ত
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

সাগরের বুক থেকে উত্তাল ঢেউ
গর্জে ওঠে !
সাগর জলে মিশ্রত ভাসবান বালিকনা আর ঝিনুকচূর্ন আছরে পরে পাড়ে বারে বার,
নতুন নয়নভরা স্বপ্ন নিয়ে যৌবনে উদ্দিপ্ত তরুন তরুনীরা
ছবি আঁকে আর গান গাই, সাগরের ঢেউয়ের তালে !
জোয়ার মুছে নিয়ে যায়,স্বপ্নময়
স্মৃতি,
তবুও তারা থেমে নেই...
প্রভাতে উদায়িমান সূর্যস্বমুখে
নতুন করে স্মৃতি হৃদয়ে গেঁথে রাখে ।

কেন এমন ভিন্নতা
- ইয়া হাদিয়া সোনামনি

যখন আমার চোখে
ভোরের শিশির বিন্দু,
তখন তোমার চোখে কেন
কাদো কাদো ঘুম ?
আমার চোখে যখন
সকালের মিষ্টি রোদের আলো, তখন কেন
তোমার চোখে
ব্যস্ততার প্রতিচ্ছবি ? যখন আমার চোখে
দুপুর বেলার রিমঝিমাঝিম বৃষ্টি, তখন
কেন তোমার চোখে
অলসতন্দ্রা দুপুর ?
যখন আমার চোখে
বিকাল বেলার প্রানময় আড্ডা, তখন কেন
তোমার চোখে
হাজারো কাজের ব্যস্ততা ? যখন আমার
চোখে
সন্ধ্যা বেলার রংধনুর সাত রংঙের মেলা,
তখন কেন তোমার চোখে
ক্লান্তির সুর ?
যখন আমার চোখে
গভীর রাতের পূর্ণিমার চাঁদের আলো, তখন
কেন তোমার চোখে
নীরব রাতের সুর ?

মহাপ্রলয়
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

মহাপ্রলয়ে সূর্য হয়েছিল লাল,
প্রতিবাদের বসেছিল মেলা,
হাজার হাজার শূকুনের গগনপানে হয়েছিল খেলা ।
নদীতে জোয়ার ছিল,
নদীর যত জল,
অশ্রু আর রক্তে মিশ্রত,
সেই নদীর জোয়ারে
ভেসে এসেছিল লাশের পর লাশ,
কিন্তু তাদের মুখেছিল
প্রতিবাদের ভাষা,
সবার মুখে ছিল মাতৃভুমির জন্য জীবন দেওয়ার এক অফুরন্ত উল্লাস ।

সম্পর্কের ট্রাফিক জ্যাম
- মানিক মোহাম্মদ ওমর

ইট পাথরের শহরে পৃথিবীর কান্না ।
অবিরাম বর্ষনে সতেজ হয়ে ওঠেছে সবকিছু ।
ছাদে দাঁড়িয়ে প্রকৃতি দেখছি ।
নাগরিক বিকেলের ঢের সৌন্দর্য ।
তার উপরে বৃষ্টির ফোটায় ফোটায় বিশুদ্ধ রূপ ।
ওই দিগন্তের কাছাকাছি, যেখানে সবুজেরা মিলিয়ে গেছে, তার ঠিক উপরে ডুবে যাওয়া সূর্যের ম্লান লালিমা ।
তার উপরে ধুসর মেঘেদের ছুটোছুটি ।
অপরূপ এ রূপের তান্ডবে ঝলসে যাচ্ছে চোখ !
সখী, বলো, এসব কি এক জোড়া চোখে সয় ?
প্রয়োজন তার দ্বিগুণ ।
বেশিও নয় কমও নয় । ঠিক চারটি চোখ চাই ।
তাইতো, অপেক্ষার জানালা খোলে আমি দাঁড়িয়ে ।
তুমি আসবে বলেও আটকে গেছো সম্পর্কের ট্রাফিক জ্যামে ।


সুন্দর একটি মুখ সবারই কাম্য । এই সুন্দর মুখটিকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য চাই সুস্থ সুন্দর ঠোঁট । ঠোঁট ভীষণ সংবেদনশীল একটি অঙ্গ । রোগহীন সুস্থ ঠোঁট, চেহারা আর হাসিকে করবে আরো বেশি আকর্ষণীয় । আর প্রসাধনীকে মানানসই করতে সুন্দর ঠোঁটের কোনো বিকল্প নেই । পরিবেশ, বয়স ও পাত্রভেদে একেকজনের ঠোঁটের রং একেক রকম হয় । যেমন - পুরুষের তুলনায় নারীর ঠোঁটের রং হয় তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল । ভীষণ কোমল এই অঙ্গটি বৈরী পরিবেশ, ধূলাবালি, পুষ্টিহীনতাতে দ্রুত তার উজ্জ্বলতা হারায় । সামান্য কিছু সতর্কতা ও যত্ন আপনার ঠোঁটকে করবে আরো বেশি সুন্দর ।


প্রতিযোগীতার তীব্র সিড়িতে ওপরে ওঠার জন্য গুনের সাথে স্মার্টনেসও যথেষ্ট প্রয়োজন । অযত্ন, অবহেলায় ঠোঁটের সাথে পুরো চেহারা নষ্ট হয়ে  যায় । সামান্য কিছু সতর্কতা আপনাকে করবে আরো বেশি সুন্দর ।


ঠোঁট কালো হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে নগরীর স্কয়ার হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডাঃ সৈয়দা ইশরাত জাহান বলেন,



  • অতিরিক্ত রৌদ্রের তাপে দীর্ঘ সময় অবস্থান, পানি শূন্যতা, গর্ভাবস্থা, বছরের পর বছর গভীর রাত জেগে থাকা, সঠিক সময়ে পুষ্টিকর খাবারের অভাব ।

  • মাত্রাতিরিক্ত হারে প্রসাধনী ব্যবহার করা, এ্যাকজিমা জাতীয় চর্মরোগের জন্যও কালো হতে পারে ।

  • মুদ্রাদোষ বাবদ অভ্যাসের জন্য অনেকেই ঠোঁট দাঁত দিয়ে কামড়ায়, ঠোঁটের চামড়া টেনে উঠান । এতে ঠোঁটের চামড়া ও ঠোঁটের নরম মাংশ পেশীতে আঘাত লাগে । পরিণামে ঠোঁটে সঠিকভাবে প্রসাধনী বসতে চায়না, ঠোঁটে নানান রকম দাগ হয়ে যায় । অসাবধনতাবশতঃ চামড়া বেশি উঠে যেয়ে ঘা পর্যন্ত হতে পারে । ঘা হয়ে গেলে আরো বেশি দাগ হয়ে যায় ।

  • দেহে লবণ পানির অভাব ও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘বি’এর অভাবে ঠোঁট ফ্যাকাশে হয়ে যায় । অনেকের কালচে ভাব চলে আসে । যা কখনোই কাম্য নয় ।

  • ঠোঁট দীর্ঘ সময় শুষ্ক থাকলে এবং অনেকেই বার বার জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজায় । এমন অভ্যাস যাদের রয়েছে তাদের ঠোঁট তুলনামূলকভাবে কালচে হয় বেশি ।

  • কিছু কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ঠোঁট কালো হয় । যেমন - ক্যান্সারের ওষুধ (কেমোথেরাপী) ।

  • দেহে আয়রণ (যা রক্তা তৈরী করে) এর পরিমাণ খুব বেশি হলেও ঠোঁট কালচে হয় । আর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে (খুব বেশি পরিমাণে) ঠোঁট ফ্যাকাসে হয়ে যায় ।

  • আমাদের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট পুরুষদের ঠোঁট কালো হবার কারণ দীর্ঘ সময়ে রোদে অবস্থান করা এবং ধূমপান ।

  • অতিরিক্ত হারে ক্যাফেইন সমৃদ্ধ কফি খেলেও ঠোঁট কালো হয় । আর তীব্র গরমে খেলে ঠোঁট কালো হতে পারে ।

  • তামাক পাতা, বিড়ি, চুরুট, গুল, জর্দ্দার জন্যও (দীর্ঘ বছরের অভ্যাস) কালো হয় ।



ঠোঁটের কালচে দাগ প্রতিরোধ সম্পর্কে নগরীর হারমনি স্পা ও ক্লিওপেট্রা বিউটি সেলুনের রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা রীতা এবং ডাঃ ইশরাত জাহান বলেন -



  • নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার ও  প্রচুর পরিমানে পানি (কমপক্ষে দুই লিটার প্রতিদিন) পান করতে হবে । দেহের পানি শূন্যতা না থাকলে মুখ, চোখের নীচে ও ঠোঁট উজ্জ্বল দেখাবে ।

  • ঠোঁট শুষ্ক হয় বেশি যাদের, তারা লিপ বাম (এস.পি.এস ১৫ বা ২০) নিয়মিত ব্যবহার করুন । যাদের ঠোঁট দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়, তারা যতোটা সম্ভব ঠোঁট ভেজা রাখার চেষ্টা করুন । তবে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজাবেন না, এতে ঠোঁট ফেটে যাবার সম্ভাবনা থাকে খুব বেশী ।

  • ঠোঁটের উপরে মরা চামড়া জমেও দাগ হতে পারে । গোলাপের পাপড়ি বেটে তার সাথে মধু বা চিনি মিশিয়ে পাতলা কাপড় দিয়ে হালকা করে ঘসুন । এতে ঠোঁটে জমে থাকা মরা চামড়াগুলো উঠে যাবে । ঠোঁট দেখাবে উজ্জ্বল ।

  • ধূমপান মাদকদ্রব্য, ধূলাবালি, অতিরিক্ত রোদের তাপ পরিহার করুন ।

  • বংশগত কারণ, কেমোথেরাপী বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মেনে নিতেই হবে । এই পরিস্থিতি সাধারণত পরিবর্তন করা যায় না ।

  • ডায়রিয়া, অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া, অতিরিক্ত দৈহিক পরিশ্রমের পরে দূর্বল লাগলে ওরস্যালাইন খান বা লবণ পানি সমৃদ্ধ শরবত খান । এতে পানি শূণ্যতা দূর হবে । ত্বকের উপর পড়বেনা নেতিবাচক প্রভাব ।

  • সর্বদা হাসিখুশী ও প্রফুল্ল থাকুন । অতি দুশ্চিন্তা দেহের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের উপরে ফেলে বিরূপ প্রভাব ।

  • ঠোঁট দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায় যাদের তাদের নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করুন । রাতে ঘুমাতে যাবার পূর্বে ময়শ্চার সমৃদ্ধ লিপ বাম ঠোঁটে লাগান ।

  • ঠিকমতো মেকআপ তুলে তারপরে ঘুমাতে যাবেন ।

  • ঠোঁটের দুই কোণাতে কালো হবার জন্য রুটি খাবার আটা (চালের আটা হলে আরো ভালো হয়) দিয়ে নিয়মিত ঘষুণ । এটা ত্বকের স্কিন স্ক্যাবার হিসাবে কাজ করবে ।

  • টাকা বাঁচানোর জন্য নিম্নমানের কোম্পানীর প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না ।

  • গোলাপের পাপড়ি, দুধের সর বা মাখন ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলেও (নিয়মিত) কালচে ভাব যাবে ।

  • প্রতিদিন ২০ মিনিট করে মধু বা দুধের সর লাগালেও কালচে ভাব কমবে ।



ডাঃ ফারহানা মোবিন

মেডিকেল অফিসার, গাইনী এ্যান্ড অবস,

স্কয়ার হসপিটাল, ঢাকা ।

যদি ভালোবাসি তোমায়
- রীতা ঘোষ

যদি ভালোবাসি তোমায়...
অন্ধকারে পথ দেখাতে পারি
চড়াই উৎরাইয়ে হাত ধরতে পারি
দুর্যোগে সাথ চলতে পারি
দুঃসময়ে পাশে থাকতে পারি
দুঃখে সমব্যথী হতে পারি
মন খারাপে তোমার কবিতা পড়তে পারি
বিরহে ফটোতে অশ্রু ঝরাতে পারি
সততায় কলঙ্ক ভাগী হতে পারি
প্রতীক্ষায় জীবন কাটাতে পারি...
তবু...
ক্যান্ডেল লাইটে মাতাল হতে পারি না
ডিস্কোতে জড়িয়ে নাচতে পারি না
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে হারাতে পারি না
বাহুর উষ্ণতায় গলতে পারি না
শপিংমলে ওয়ালেট হাল্কা করতে পারি না
দুনিয়ার চোখে ধূলো দিতে পারি না
প্রতারনায় সামিল হতে পারি না
একসাথে ব্লুফিল্ম দেখতে পারি না
শরীর দিয়ে শরীর ছুঁতে পারি না...
আমার ভালোবাসা পবিত্র দুর্লভ অমূল্য...
শুধু আবেগ নয়, মনের ভালোবাসায় আমায় ছুঁইয়ো ।।

তুমি শুধু আমার
- মেহেদী হাসান আকাশ

কল্পনাতে খুজি তোমায়
বাস্তবেতে খুজি
তোমায় পাবো বলে আমি
আশায় বুক বাধি
সবাই বলে তুমি নাকি কালো
কিন্তু আমার কাছে তারপরেও
তোমাকে লাগে বেশ ভালো
তুমি আমার মনের ঘরে
থাকবে আলো হয়ে
জড়িয়ে ধরে বুকের ভেতর
রাখবো যতন করে
তুমি শুধু আমার হবে
ভাবনায় আমি আছি
তোমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য
পথে হাটছি তাই
শত কষ্টের মাঝেও আমি
ভালোবাসবো তোমায়
তুমি শুধু আমাকে
একটু ভালোবেসো
তোমার থেকে আর কিছুই চাইনা
আমি এই পৃথিবীর মাঝে
আর আমি
সারা বিশ্বকে বলতে চাই
তুমি শুধুই আমার ৷

একাকিত্ব নিরবতা
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

জয়ন্ত তুমি নিরব কেন ? কথা বলো,
তোমার নিরবতা আজ আমাকে কাঁদাচ্ছে, নয়নের অশ্রু
অঝরে ঝরে সিক্ত হচ্ছে ।
এখনো তুমি নিরব,
আর কত যন্ত্রনা, আর কত কষ্ট
পেলে শেষ হবে তোমার নিরবতা থাকা !

বলো জয়ন্ত ?
আমি তো মরেই গেছি যন্ত্রনার তীব্র কষাঘাতে,
মনের কুটিরে অনবরত জ্বলছে
অনল...
নিরবতা...
তোমার নিরবতা আমাকে কুড়ে
কুড়ে খাচ্ছে !
আসলেই এইকি তোমার নিরবতা, না একাকিত্ব থাকার দৃহপ্রয়াস ।
হয়তোবা আমাকে তিলে তিলে
নিঃশেষ করে দেবার অভিনয় ।

আর কত অশ্রু ঝরালে, কত
অনলে পুরলে তোমার নিরবতা
বিলিন হবে ।
আমি কষ্ট সয়বো হাঁসি মুখে শুধু তোমার জন্য জয়ন্ত ।

মাগো
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

মা মাগো তুমি মমতাময়ী
নিস্বার্থ ভালবাসার দৃষ্টান্ত
স্নেহেন বন্ধনে বেঁধে রাখা জননী !
মা তুমি সন্তানের কষ্টে কাঁদো
সৃষ্টিকর্তার দরবারে দিবানিষি
পার্থনায় থাকো ।
সন্তানের ভালো চেয়ে নিজ
কষ্ট গুলো হাঁসি মুখে
ঢেকে রাখো
মা তুমি শ্রেষ্ঠ
তুমি সবার উপরে
তোমার উপরে কেউ নেই
সুন্দর এই ধরনীতে ।

শৈশব এর ছায়া
- রুনু সিদ্দিক

কোথায় যাবো বল
কংক্রিটের বাসস্হান এখন আর টানেনা আমায়
যেখানে সবকিছু কৃত্রিম
এসি আর রাইস কুকারে সীমাবদ্ধ ।
যেখানে স্বপ্নেরা পালিয়ে বেড়ায়
সুখ যেন অচিন পাখী
সম্পর্কের টানা পোড়েনে জর্জরিত বন্দি ঘরে,
সেই থেকে বেড়িয়ে এসে দেখি
শরতের নীল আকাশে পুন্জিভুত সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায় .
তার মাঝে পাল্লা দিয়ে না না রঙ এর ঘুড়ি যেন রাজ্যর আনন্দ নিয়ে উড়ে ।
সবুজ বৃক্ষতলে ছায়া ছায়া বিছানায় আবেশে চোখ বুজে আসে ,
স্বপ্নেরা উকিঁ দেয় এখনো আমার বুকের ভিতর ।
সকালের সেই আমি সন্ধ্যা হয়ে এলো এখনো সকালেই আছি
এক টুকরো শৈশব বুকের মাঝে লালন করে বড় হয়েছি বলেই
আজো শৈশব এই আছি ।

তুমি ছাড়া আমি
- মেহেদী হাসান আকাশ

দেখে যাও একবার
তোমাকে ছাড়া আমি কেমন আছি
অগুছালো সবকিছু
এখনও পরে আছে ছবির ফ্রেমটি তুমি
আমার কাছে নেই
মনে হয় সব কিছু অন্ধকার তোমাকে ছাড়া
আমার
একটুকো লাগছেনা ভালো সত্যিকি তুমি
আর আসবেনা আগের মত আমাকে আর
ভালোবাসবে না
আমি যে তোমাকে ছাড়া
বড় একা হয়ে গেছি
জানি আমাকে ছাড়া
তুমি ভালই আছো
তুমি একবার এসে দেখে যাও তোমাকে
ছাড়া আমি কেমন আছি ৷

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget