মার্চ 2015

ভেসে যায় দূরে
- মনিরা ফেরদৌসি

যেওনা ভেসে দীঘল কালো চোখের জলে
ভেসে যাও তুমি খরস্রোতা নদীর জলে
কান্না এলেও ভুলে কাঁদিনা আমি
তুমি কষ্ট পাবে বলে ।
যদি পার মহাসাগরের গতিরোধ করতে
ভেসে যেও তুমি হাজার মাইল দূরে
তবুও বলি ভেসে যেওনা
কষ্টের লোনা জলে ।
মরা নদীর মত ভেসে যাও তুমি
আমিও ভাসি ব্যথাভরা মন নিয়ে
হৃদয়ের আঙিনাতে খড়কুটো রেখে
চলে যাও কেন বৈশাখী ঝড়ের মত করে ।
কচুরীপানার মত ভেসে যাও তুমি
শত শত হাজার বছর ধরে
যদিও পৃথিবী কাঁদবে তোমার শোকে
তবুও ভেসে যাও তুমি কষ্টের দাবানল ছেড়ে ।
কষ্টের যন্ত্রণারা যখন ডাকবে আমায়
ঘর ছেড়ে বাইরে চলে আসব তখন
ঝাপসা চোখে দেখব আমি
সব কিছু ভেসে যাচ্ছে সরে ।।

অধীন
- ফরহাদ চৌধুরী রোহিত

আমি যতবার বিষাদের অথান্তরে
তোমার দুয়ারে গিয়ে দাঁড়ায়,
ততবার ভালোলাগা নিয়ে
ফিরে আসি চোখের তারায়।
আমি তোমার অকথিত অধরে
সূধীর সিধুরের রঙ ছড়ায়,
সে রঙের বিলাসী অন্তরালে
তোমার হৃদয়ে অসাড় করে জড়ায়।
আমি প্রতিটি রক্তবিন্দূ জমাটে
অনুরঁজিত করি তোমার ধারায়,
তোমার ইদ্ধনে বিঁধনের মালা
অনিল স্বপ্নের বাঁধনে হারায়।
আমি তোমার অধীনে অধীনস্থ করে
বিজয়ের কেতন উড়ায়,
বিসর্জনে তোমায় সাজিয়ে
বিজয় তোমার চরণে লূটায় ।

বৈশাখী ঝড়ে
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

বৈশাখী বিকেলে তুমি আমি
হাতে হাত রেখে,রবীন্দ্রসংগীতের
সুরে,নজরুলের কবীতার আসরে,
ছিলাম বসে বটমূলে!
তোমার হাতের চুরি,পরনে লাল
সবুজ শাড়ি,আর কপালে
দিয়েছিলে বর করে লাল টিপ
তোমার কালকেশগুলো বৈশাখী হাওয়ায় দোলছিল, আর তোমার
কন্ঠে রবীন্দ্রসংগীতের সুরে
একটি কথা বার বার ধন্নিত, আমি বাঙ্গালি,বাঙ্গালি বাংলার রমনী।

তবে বৈশাখের তীব্র ঝড়ে,সেই
স্থান থেকে ফেরার পথে,আকাশে
ঘনঘটা কালো মেঘ,বজ্রপাতের
চমক!
তুমি ভয় পেয়ে জড়িয়ে ধরলে
আমকে,আর আমি তোমাকে
বৈশাখী বিকেলে,বৈশাখী ঝড়ে।

ইতি ভ্রষ্ট
- সিয়ামুল হায়াত সৈকত

ঠোঁটের আস্ফালনে বুক ফেটে চৌচির
অন্ধকারে ঘণ্টার আওয়াজ প্রকটতা বাড়ায়
মুখ ছুটে বলিনি শুধু তোমার ঠোঁটের স্পর্শ চাই!
বলিনি আমি ডুবে আছি বহুকাল ও চোখে
কিংবা সন্ধ্যাতারার হৃদয়ে আমার নামটাও নিও,
প্রেমে প্রেমে বিষ হয়ে যাচ্ছি প্রিয়তমা।
বহুবর্ণের সুখ চেয়ে স্মৃতির দুয়ারে শূণ্যতা রয়
পরে আছি মার খাওয়া যুবকের ন্যায়-
কতটুকু বাঁচবো ঈশ্বরের জগৎ জুড়ে,
আমার ঈশ্বরও হয়তো হদিস দিতে ব্যর্থ হয়।
তবে আমি জানি বেড়ে উঠা বাস্তবতা-
তোমার সূক্ষ্ম রাজনীতি বারংবার আমায় পরাজিত করবে !

স্বাধীনতা আজো ?
- রুনু সিদ্দিক

পঁচিশে মার্চ কালো রাত, রাততো কালই হয় !
সে রাতটা একটু বেশীই কালো ছিল ?
কালোর অপর পাশে আলো থাকে
সেটা সবার জানা
শুধু জানতো - কেউ সে রাতের পরে
দিনের আলোতেও পাবেনা কেউ স্বস্তি
যেটুকু স্বস্তি ছিল রাতে
তা ও নিয়ে গেছে পাকিস্তানি হায়েনান দল ।
অতর্কিত হামলায় তছনছ করে দিয়েছে
সবার জীবন ।
জ্বালিয়ে দিয়েছে ঘরবাড়ী
পুরিয়ে দিয়েছে স্বপ্ন সম্ভার ।
হারিয়েছি সবাই লাখো ভাইবোন
ঝরেছে বুকের তাজা রক্ত ।
তার বিনিময়ে এনেছি আমরা স্বাধীনতার পতাকা
রক্তের রঙ আর প্রকৃতির রঙ এ এঁকেছি জয়টিকা
এতোগুলো বছর পরেও আমরা
লড়ছি নিজেদের সাথে
ভিনদেশী নয়, এখন লড়ছি
দেশী লুটেরার সাথে
কতদিন চলবে লড়াই
নিজেদের মাটিতে ?
কাঁধে কাধ মিলিয়ে হাত রেখে হাতে
পারিনা কি আমরা দেশটা সাজাতে ?

অদ্ভূত অভিপ্রায়
- মোহাম্মদ উল্লাহ শহীদ

ওরে খায়,
খেয়ে দেয়ে শান্তিতে ঘুমিয়ে যায়।
দিন দুনিয়ার খবর রেখে করবি কী?
এত তাঁড়াতাঁড়ি তুই মরবি কি?
না ফুরায়ে সকল অভিপ্রায়!
খায়,খেয়ে দেয়ে শান্তিতে ঘুমিয়ে যায়।
তোর মাতা করছে সু-স্বাদু রাঁন্না
তুই খায়,তোর পাশে করুক অনাহারী কান্না!
তাতে তোর কি?
অভাব আছে তোর বাপের কি?
সকলে মরুক বানে,
তোর কানে এ খবর না পৌঁছায়!
তুই খায়,খেয়ে দেয়ে শান্তিতে ঘুমিয়ে যায়।
তুই খাইতে এলি,দুনিয়ায় চাইতে এলি,
পাওয়ার আনন্দে জলকেলি।
না পাইলে তোর চিৎকার!
সত্যকে দিস ধিক্কার!
স্বজন ভুলে ভোঁজনে তোর মানুষত্ব হারায়!
তুই খায়,খেয়ে দেয়ে শান্তিতে ঘুমিয়ে যায়।
পাশের বাড়ির রহিমে মরে গেলো কাল,
কেঁদে কেঁদে মা জননী ফুলাইছে গাল,
বাপ মরিল,বোন মরিল
দু’দিন পরে মা মরিল।
এক নিয়মে,একি পথে,
কত সংসার হারিয়ে গেলো পৃথিবী হতে।
অফুরন্ত কত অভিপ্রায়,
হায়রে!হায়!
এসব শুনে তোর লাভ কি?
বদলাবে তোর ভাব কি?
অন্ধই থেকে যাবি,বধির হয়ে!
পশুত্ব গ্রহণ করিস মানুষত্ব হারায়ে!
পৃথিবী ধ্বংস হয়,মরিতে মনে নাহি চায়।
কি অদ্ভূত অভিপ্রায়!

কাল রাত
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

মায়ের বুকের হাঁ হাঁ কার মার্চের রাত
বাংলার বাঙ্গালীর দিন কাটিয়ে রাত
হলো আজ,
ক্লান্ত দিন শেষে রাতে বিছানায় ঘুমিয়ে রই,গোলার গুরুম গুরম শব্দ মধ্যরাতে
শোনা যায় ।

তাদের মন বলেছিল সেইদিন এই বুঝি
এলো,মোদের জীবনের বাতি এই নিভে গেল!
পাক হানাদার বাহিনী সমবীত হলো
দরজার স্বমুখে,
মেশিনগান দিয়ে মারিলো বারি, আর
বলিলো খোলদো দরজা খোলদো।

উপায় নেই দরজা তো খুলতেই হবে, না হলে করবে ঝাঁজরা করবে গুলির
আঘাতে!
তাই বাবা একটু একটু করে এগিয়ে
যাচ্ছিলো,
ছেলে বলিলো বাবা দাঁরাও,তোমার ঘরে জোঁয়ান ছেলে থাকিতে কেন?
তুমি যাবে মৃত্যুর স্বমুখে।

দীপ্ত পাঁয়ে হেঁটে গেলো ছেলে,
খুলিলো দরজা পাঁকহানাদারদের জন্য,
হাই হাই একি যন্ত্রনা নিষ্ঠুরতা
দরজা খোলার সাথে সাথেই রাইফেল
বুলেটে বুকটা করিলো ঝাঁজরা!
না না একি কঠোরতা নির্দয় হৃদয়,
চিৎকার করে বলে বাবা ক্ষমা করো
আমাকে,
বাঁচাতে পারলাম না তোমাদের।

ছেলের পরিলো রক্ত বাংলার মাটিতে,
সেই সাথেই সাথে ধন্নিত হলো আকাশ
বাতাশে জয় বাংলা,
এভাবেই ছেলে ঢুলে পরলো মৃত্যুর কোলেতে।

হানাদার বাহিনী এগিয়ে গেল বাবার
স্বমুখে,বাবা বলিলো তোমরা কি চাও
বাবা মোদের কাছে!
কোন কথা শুনিলো না হানাদার বাহিনী
বাবার,করিলো গুলি, রক্তাক্ত হলো
বাংলার মাটি,
কাল রাত কাল রাত নির্দয় কাল রাত
এই স্বাধীনতার সূচনা মার্চের কাল রাত।

দিও অধিকার
- মনিরা ফেরদৌসি

শুভ্র শারদও প্রাতে তোমার হৃদয়ও মন্দিরে
পূজারিণী এসেছে এক প্রেমের অর্ঘ্য দিতে
অনুমতি দাও তবে ঢুকিতে মন্দিরে
নিজেকে সপিব তোমারই চরণে ।
খুলে দাও তব মন্দির দ্বার
পূজিব তোমারে দাও অধিকার
ঢেলে দাও প্রেম সুধা
ঠাণ্ডা কর হৃদয় ক্ষুদা ।।
যতই করবে দেরি
শুকাবে ফুল আমারই হাতে
লজ্জা কি পাবে রেখ মনে
শুকনা ফুলই দেব চরণে ।
ফিরে যদি যেতে হয় শেষে
না পারি পুজিতে হৃদয়
ভেঙ্গে দেব আজ গর্ব তোমার
চূর্ণ করে দেব সব মন্দির তোমার
চাই শুধু আমি অন্যকেউ নয়
চাইনা তব দেহখানি দিও শুধু হৃদয় খানি ।।

দ্রৌপদী
- তুলিকা বন্দ্যোপাধ্যায়

তুমি কাকে ভালোবেসেছো দ্রৌপদী
সে পঞ্চ পান্ডবের কেউ নয় নিশ্চয় !
তারা তো প্রতিদিন ব্যবহার করেছে তোমায়
নিজ স্বার্থে ।
আর রাতের পর রাত একে একে
ভোগ করেছে তোমায় - কামার্থে
তারা কি ছিলো তোমার ভালোবাসার যোগ্য ?
তবে, কি তুমি ভালোবেসেছো তোমার কৃষ্ণ সখাকে !
সেই কি ছিলো তোমার 'মনের - মানুষ'...
সে যে তোমার সখা
তাকেই কি বলতে তুমি তোমার মনের কথা !
কোন ভালোবাসা তুমি করেছিলে তাকে দান...
ভরা রাজ সভায় যে রক্ষা করলো তোমার মান !!
বীর পুঙ্গঁব পঞ্চস্বামী তোমার
তারা কি তখন সত্যিই ছিলো নতমস্তক
নাকি ভরা রাজসভায় তোমায় আবার
আবার...নিরাবরন হতে দেখায়
তারাও ছিলো সমান আগ্রহী !
করুণা করেছো তুমি পুরুষকে বারবার
তবুও সেই পুরুষ আজও করতে চায় তোমার
সংহার !!!

যাজ্ঞসেনী, যেথা হতে জন্ম তোমার
সেই আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দাও...সব মেয়ে - মনে,
যা ধ্বংসের লীলায় পুরুষ মেতেছে যুগে যুগে
তা প্রতিহত করার অস্ত্র ওঠুক সব মেয়েদের অন্তরে ।।

আকাশ ছোঁয়া হিমালয়
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

স্বপ্ন সে তো আকাশ ছোঁয়া
হিমলায়,
আজ মরুভুমির ধূধর প্রান্তরে
প্রেম তিষ্ণায় করি ছটফট,তবুও
মরুভুমির বালিচরে ছুটে চলি
তোমার আলিঙ্গন পাবার
জন্য!
সময়টা বরই অবুজ দিন শেষ হতে
চাই না,সূর্যের কিরন মাথার
উপর
তবুও স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া।

উৎপ্ত সূর্য কিরন, কপালে ঘামের প্রবাহ
বয়ে যাচ্ছে,তবুও নই আমি ক্লান্ত
এগিয়ে যাচ্ছি স্বপ্নের লক্ষে!
চিহ্বা শুকিয়ে যাচ্ছে জল তিষ্ণায়,
আমার এ তিষ্ণার চাইতে বর,আমার
প্রেম তিষ্ণা,আমার লক্ষ,স্বপ্ন আকাশ
ছোঁয়া হিমালয়,আমি কিছুতেই থামতে
পারিনা !
আমাকে থামাতে পারবেনা,আমি
বার বার এগিয়ে যাবো,আকাশ
ছোঁয়া হিমালয়ে।

নৈরাশ্যচিত্র
- অনির্বাণ দাশ


আমিঃ সিগারেট , যতোবার ছাড়ি ততোবার ধ'রে ফেলি। না-পড়া বইয়ের স্তূপ ক্রমশ পাহাড় হচ্ছে ...
পরিবারঃ সোনা আর শাড়ির বৃত্তের বাইরে না , অন্য মেয়ে কাছে এলে আড়মনে দেখে ...
পাড়াঃ শুধু চাঁদা চায় , চা খায় বাড়ি এসে ...
গ্রাম/শহরঃ মেয়ে নিরাপদে ফিরবে তো বাড়ি ! উচ্চ স্বরের মাইক্রোফোনে ধর্মাচরণ ...
জেলাঃ পদস্থ বহু --- ডি.এম্. , এস্.পি. , সভাধিপতি ... সভালোকিতের জন্যে নরম গদির চেয়ার , টেবিলে মিনারেলের বোতল ...
রাজ্যঃ ক চোর ? খ চোর ? গ চোর ? ... ভাঙাচোরা রাস্তার গর্তে ফাঁসছে মাতৃযানের চাকা ...
দেশঃ স্বচ্ছ ভারত স্বচ্ছ ভারত স্বচ্ছ ভারত ... বিদেশি ব্যাঙ্কে ময়লা টাকা ময়লা টাকা ময়লা টাকা ...
বিশ্বঃ যে কোনো সময় আমি উড়ে যাবো মানব-বোমায় ... সন্ত্রাসীদের দুধ কলা দিয়ে পোষে কেউ কেউ ... গরম বাড়ছে , গাছও কমছে , ভিনগ্রহে যাই চ'লে ...

অখণ্ড তোমাকে
- মনিরা ফেরদৌসি

প্রতি রাতে একটি অখণ্ড শব্দ ভাসতে ভাসতে চলে যায়
যে-আহ্বান সেই কৈশোর থেকে এই মুহূর্তে আমাকে অতিক্রম করছে ।
দূরে ঐ গহীন জঙ্গলে সবাই বোঝাপড়া করছে তাদের সহবাস
জানি তুমি বৃষ্টি ভাল বাস তাইত বৃষ্টি নামছে ।
গোপনে সূচিত হচ্ছে সময়গুলো তারাও ভিজছে বৃষ্টির ছবিতে
অন্ধ আমি জানব না আর ভ্রমরের মত কতটা কালো ।
জমিয়ে রাখি রাত ভাঙা আঁধারের নক্ষত্র
তুলে রাখি কথার কষ্ট ভেজা শৈশবী শুকনো কাজল ।
একদিন দেখেছি মেঘ নেমেছিল বৃষ্টি তোমার ছোঁয়ায়
আমার চোখে ছিলে তুমি আদিগন্ত জুড়ে
ছিলে না তোমার অখণ্ড সত্তায় ।।

অসহায়
- মনিরা ফেরদৌসি

শেষ বিকেলে ঘুম ভেঙে গেল
মনে হয় যেন বড় অসহায়
বারান্দায় গিয়ে দেখি
গোধূলির ধূসরতার ছোপ
যেন সারাটা আঁকাশ জুড়ে
পাখিগুলো উড়ে যায় দূরে...
মনে হয় ডেকে বলি
আমাকে নিয়ে যাও
আমি যে বড় একা
দূরে খুঁজি কাছে খুঁজি
দেখিনাত আদৌ কিছু
কেমন যেন ব্যকুলতার
ঢেউ ভেসে যায় আমার মনে
আবার সেই একা অসহায় ।।

জলাভূমির খেয়া
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

জোঁনাকি রাতে খোলা আকাশের
নিচে তুমি আমি বসেছিলাম,
বৈঠাবিহীন খেয়ার পরে!
জলাভূমির মধ্যবিন্দুতে,কুচোরিপনার ভাসবান দৃশ্য শাপলার মুখ খোলা
হাঁসি, দুজনে উপলদ্ধি করলাম
হৃদয়ের জানালায় উঁকি দিয়ে।

বসন্তের মৃদু বাতায়নে কম্পিত
হলাম,অপরূপ রাত বরই
মধুর, ঠোঁটচুম্বনের খেলায়
হারিয়ে গেলাম সপ্নরাজ্যে!
সাগরের বুকে ধীরে ধীরে রবি
উঁকি দিয়ে ওঠে,দুজনে সেই
প্রভাতে একি সুতোই গাঁথা
ব্যাস্ত প্রেম আলিঙ্গনে।

পুকুরের জলে তোমার মেঘ
কালো চুল ভিজিয়ে দিলাম,
তুমি হাঁ হাঁ করে হেঁসে
বললে আমাকে দুষ্টু রক্তিম
আর কেন দুষ্টুমি।

মৃত্তিকা
- মনিরা ফেরদৌসি

চলো বসি গাছের তলে
ধুয়ে মুছে স্বপ্ন সাজাই
জীবনের ক্লান্তিগুলো
যেখানে ছিল সুখ
হাতে হাত রেখে
দুজনের স্বপ্নগুলো
কত শত পাখি বসে
ইউক্যালিপটাস গাছে
সময়ের হিসাব না রেখে
হারিয়ে যায় মন
প্রান্তর থেকে প্রান্তরে
সপ্নের বীজ বুনে
চল না আবার সেখানে
মিলে মিশে এক হই
মৃত্তিকার গভীরে ।।

ডাবের পানিতে সৌন্দর্যচর্চা
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


ডাব খুব উপকারী একটি ফল । পানীয় ও রূপচর্চা দুটোর জন্যই ডাবের পানি যথেষ্ট পুষ্টি সমৃদ্ধ একটি ফল । রূপচর্চার প্রাকৃতিক উপকরণ হিসাবে ডাব সেই পুরানোকাল থেকেই পরিচিত ।


মানুষের সৌন্দর্য বিকশিত হয় দুভাবে - বাহ্যিক আর অভ্যন্তরীণ । বাইরে থেকে পুরো শরীরের যতই যত্ন নিন না কেন দেহের ভেতরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে কাজ না করলে ত্বকে দেখা দেবে নানা সমস্যা । তাই সৌন্দর্যচর্চা তো করবেনই, পুষ্টিকর সব উপাদানও খাবার তালিকায় রাখতে হবে । আর প্রাকৃতিকভাবে যত বেশি সৌন্দর্যচর্চা করা যায়, ততই ভালো। কারণ, প্রাকৃতিক জিনিসগুলোর ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বলতে গেলে খুবই কম । সৌন্দর্যচর্চার এমনই একটি প্রাকৃতিক উপাদান হলো ডাবের পানি ।


ডাবে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ ও ‘এ’ । এই ভিটামিন দুটো ত্বক ও চুল মজবুত করে । নখকে ভঙ্গুরতা থেকে রক্ষা করে । নখে আনে ঔজ্জ্বল্য । চোখের নিচে দাগ পড়া ও চোখের মাংসপেশির দুর্বলতা দূর করে ভিটামিন ‘এ’ । অনেকেরই চোখের পাপড়িতে অ্যালার্জি থাকে । ফলে মাসকারা, আইলাইনার ব্যবহার করতে পারেন না । পাপড়িতে সাদা সাদা জমাটবাঁধা ছোট দানা বা আঠালো ভাব থাকে । ভিটামিন ‘এ’ এসব সমস্যা দূর করে । যাঁরা নিয়মিত ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলেন, তাঁদের এই সমস্যাগুলো হয় তুলনামূলকভাবে কম । কারণ, ডাবের পানির বিশেষ উপাদান ত্বকের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাককে ধ্বংস করতে সাহায্য করে ।


ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধোয়ার সময় চোখ বন্ধ করে মুখ ধুতে হবে, চোখ খোলা রাখা যাবে না । আর ডাবের পানিতে মুখ ধোয়ার পর মুখে হালকা আঠালো ভাব লাগে । এ জন্য মুখে ডাবের পানি দেওয়ার পাঁচ থেকে ১০ মিনিট পর স্বাভাবিক পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন । যাঁদের ত্বক খুব তৈলাক্ত, তাঁরা শুধু ডাবের পানিতে মুখ ধুলে হবে না, ভালো ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে তারপর ডাবের পানি দেবেন । কারণ, তৈলাক্ত ত্বকের লোমকূপগুলোতে ময়লা জমে বেশি । নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেসব ময়লা জমে ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী কালচে দাগ করে ফেলে ।


অতিরিক্ত গরম, রোদের তাপ, কর্মব্যস্ততা, মানসিক চাপের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ত্বক ও চুলের ওপর । চেহারায় ফুটে ওঠে বয়সের ছাপ । এ অবস্থায় ডাবের পানি আপনাকে দেবে সতেজতা । কারণ, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, ক্লোরাইড ও পটাশিয়াম, যা শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে ক্লান্তি মুছে চেহারায় আনে উজ্জ্বল -ভাব । পুরো শরীরে সঠিকভাবে রক্ত চলাচলের জন্য ত্বক ও চুলে দেখা যায় এর ইতিবাচক প্রভাব । এতে চুল ভঙ্গুরতা থেকে রক্ষা পায়, চুলের গোড়া হয় মজবুত ।


ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স । এই ভিটামিন মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে রাখে শক্তিশালী । স্নায়ু বা নার্ভ কর্মতৎপর হলে ত্বক, চুল ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ থাকে । মানুষের মাথায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শিরা, উপশিরা ও স্নায়ু । শিরা -উপশিরা দিয়ে সঠিকভাবে রক্ত চললে আর স্নায়ু সতেজ থাকলে প্রতিটি চুলের গোড়া হবে মজবুত ।


চুল নিয়মিত পরিষ্কার রেখে চুলের ধরন বুঝে যত্ন নিতে হবে । দেহে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও সোডিয়াম ক্লোরাইডের ঘাটতি দেখা দিলে অনেকেরই ঠোঁটের চামড়া উঠে যায় । গ্রীষ্মেও শীতকালের মতো ঠোঁটের চামড়া ফেটে যায় । ঠোঁটে আসে ফ্যাকাশে সাদা ভাব । লিপজেল, লিপগ্লস বা লিপস্টিক দিলেও ঠোঁটের সাদা চামড়া উঠে আসে । কখনো বা লিপজেলের ওপর দিয়ে ফুটে ওঠে ঠোঁটের মৃত চামড়া ।


এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রচুর পরিমাণে ডাবের পানি পান করতে হবে । সপ্তাহে অন্তত দুই প্যাকেট খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে । আর ঠোঁটের চামড়া হাত বা নখ দিয়ে টেনে ছিঁড়বেন না । উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা প্রেশার না মেপে ওরস্যালাইন খাবেন না । কারণ, খাওয়ার স্যালাইন দ্রুত রক্তচাপ বাড়ায় ।


আয়রনও রয়েছে ডাবের পানিতে যথেষ্ট পরিমাণে । রক্ত তৈরি করার জন্য আয়রন হলো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান । সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত তৈরি হলে প্রতিটি অঙ্গ হবে বেশি শক্তিশালী, ফলে কর্মশক্তিও বাড়বে । দেহে আয়রনের পরিমাণ ঠিক থাকলে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও মসৃণ ।


ডাবের পানিতে খনিজ লবণ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাসের উপস্থিতিও উচ্চমাত্রায় । এসব খনিজ লবণ দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায় । দাঁতের মাড়িকে করে মজবুত । অনেকের দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে । মাড়ি কালচে লাল হয়ে যায় । হাসি বা কথা বলার সময় তা দেখা যায় । এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দেবে খনিজ লবণ। পাশাপাশি হাড় মজবুত থাকলে হাঁটাচলাও হয় আত্মবিশ্বাসী ধরনের । ডাবের পানির খনিজ লবন ত্বকের বলিরেখা, ত্বক কুঁচকে যাওয়া দূর করে ।


এই গরমে ছোট - বড় সবারই দেহের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক তাপমাত্রা বেড়ে যায় । এতে ত্বকে ফুটে ওঠে লালচে কালো ভাব। ডাবের পানি দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমিয়ে শরীরকে রাখে ঠান্ডা । তারুণ্য ধরে রাখতে এর অবদান অপরিহার্য । কারণ ডাবের মধ্যে এ্যান্টি অক্সিডেন্ট নামে এক ধরনের উপাদান রয়েছে যা ত্বকের বলিরেখা, কুঁচকে যাওয়া ভাব দূর করে । এতে ত্বক হয়ে ওঠে আরো তারুণ্যময় । ডাবের পানিতে আয়রনও রয়েছে । যা রক্ত তৈরীতে অবদান রাখে । রক্ত ত্বকসহ পুরো শরীরের জন্য যথেষ্ট উপকারী । ডাবের পানি যেকোনো কোমল পানীয় থেকে অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ । কারণ, এটি সৌন্দর্যচর্চার প্রাকৃতিক মাধ্যম ও চর্বিবিহীন পানীয় । ডাবের পানি মিষ্টি হওয়া সত্ত্বেও ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য উপকারী । কারণ, এই পানি রক্ত পরিষ্কার রাখে । তবে কিডনির সমস্যায় ডাবের পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন ।


তবে সৌন্দর্যচর্চার জন্য শুধু ডাবের পানি পান করা বা এ পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলেই হবে না, চাই নিয়মিত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, নিয়ন্ত্রিত ওজন ও সুস্থ পরিবেশতাই ডাবের পানি খাওয়া ও এই পানি দিয়ে রূপচর্চা করতে পারেন কোন রকম দুশ্চিন্তা ছাড়া । প্রাকৃতিক রূপচর্চার মাধ্যমগুলো আপনার সৌন্দর্যকে ধরে রাখবে বেশি দিন ।

সোনালী বিকেল ভরা ভালবাসা
- মনিরা ফেরদৌসি

চুপিসারে খেলা করে উদাসী প্রহর
ঐ চোখের তারায়...
শিহরিত লাল পলাশের বনে
বিলাসী বাতাসের আলতো ছোঁয়ায় ।
দুজনার মাঝে গোধুলী লগন যেন
পূর্ণতা এনে দেয়,
অনেক কথার ফুলঝুরি পড়ে যেন
কম্পিত অধরে,
বকুলের ঘ্রান মাখা তুলতুলে শরীরে...
এলোমেলো চুল যেন ছুঁয়ে যায় চিবুকে ।
মিষ্টি স্বাদে গরম চায়ে জমাট বাধা
অধর কাপে গভীর অভিশারে,
পৃথবীর যত সুখ উল্লাসিত হবে
স্বপ্নিল উদ্যানে ।।

মেঘের কান্না
- রুনু সিদ্দিক

আমি কাঁদব, একান্তে, তোমার কাধে মাথা
রেখে, তোমার কাধটা একটু ধার দেবে ?
কথা দিচ্ছি নোনা জলে ভেজাবনা তোমায়
পিঙ্গল সার্ট, শুধু ভেসে যাব এক
সাগর চোখের জলে দুজনে... কোনো
স্রোতশ্বিনী নদীর ধার করা জল নয়, বিন্দু
বিন্দু করে জমে থাকা কষ্টের মেঘ থেকে
বুকের গহীনে বর্ষার ঝর্ণা প্রবাহিত
লোনা জলে, আজ ভাসব দুজন একই
বৃত্তে,ভাসিয়ে দিব চোখের ভিতর
জমিয়ে রাখা স্বপ্নের ঝুড়ি ।
স্বপ্ন জমিয়ে রেখে লাভ কি ?
চোখের ভিতর যার সীমাবদ্ধতা, সে
স্বপ্ন ধুয়ে যাওয়াই ভাল... ধুয়ে যাক
কাজলে, নয়ন সরোসীর কাজলে - কাজলে
থাকবেনা আর সুখ “বারতা” ধূসর
চোখের আ‘নত নয়নে থাকবেনা
আর কোন মাদকতা,
আসো শুন্য হয়ে যাই প্রতি পলে পলে
কতটা চোখের জল হলে বলি “এসো”
করি স্নান নয়নের জলে ।

ভাবনা
- মনিরা ফেরদৌসি

কখনো কখনো ভাল লাগে পড়তে গল্প কবিতা
উদাস দুপুরে মন চায় শুনতে প্রিয় কোন শিল্পীর গান

আবার যেন গেয়ে উঠি সুর দিয়ে নিজেরই অজান্তে
কথা বলি চুপে চুপে সবাই আমায় পাগল বলে

ভাবুক না সবাই ওরা তাতে কি আসে যায়
সবার সুখে থাকব সুখী আনন্দ আর উল্লাসে

কখন যে হারিয়ে যায় মন সুদূর নীলিমায়
হৃদয়য়ের গভীরে জেগে উঠে হাজারও জমা কথা

মনে পড়ে যায় সেই হাসি কান্না সুখ আর দুঃখ
ভেসে যাই সাগরের সীমাহীন অতল গভীরে

উঠেছে ফেপে সাগরের পানি জোয়ারের প্লাবনে
সবুজের আভায় ঢেকে যায় মুখ শিস দেয় রূপ কথা ।।

জন্মভূমি
- সোনম মনি


অল্প ক'দিন আগেও আমি ভাবতাম, পেলেষ্টাইন, ইরাক ইউক্রেইনের মানুষ যারা বিদেশে আছে তারা কি দেশে যায় কি না ? এখন তা দিনের মতন পরিষ্কার ! দেশমাতৃকার প্রতি অপ্রতিরোধ্য প্রেম প্রতিটি মানুষ কে তার নিজ ভূমে কি করে টেনে নিয়ে যায়, তা আর বুঝতে বাকী নেই, আমার জন্মভূমি এখন এক জলন্ত ফিলিস্তিন !


আমি ও বই মেলাতে এসেছিলাম, আমার ছোটবোন ছবি ছাড়া কারো সাথে দেখা হয়নি ভাইবোনদের মধ্যে ! কারন সে ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্হলে আছে !ঢাকার ভেতরে আমরা প্রাইভেট কারে করে বিভিন্ন স্হানে গিয়েছি যেমন, আমাদের সবার প্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুন (দাদা) কে উনার অসুস্থতার পর, এই প্রথম দেখে এলাম ! বই মেলাতেও কয়েক বার গেলাম ! অনেক বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছে, আবার অনেকের সাথে দেখা হয়নি । ঢাকার বাইরে বলতে গেলে যাওয়া হয়নি । কিন্তু আমার মা ঢাকার বাইরে এই সময়ে ! ইশ্বরচন্দ্রবিদ্যাসাগর দামুদর নদী সাঁতরে পাড় হয়ে মাকে দেখেছিলেন !


দেশে এসে "মা" কে না দেখে যাওয়ার কথা মরে গেলেও চিন্তা করা যায় না !


তার উপর সদ্য ক্যান্সার রোগের সাথে যুদ্বরতা আমার মেঝু ভাবীকে দেখা যে ফরজ ! ঠিক হলো আমরা ট্রেনে করে যাবো গাজীপুর ! আমার ছোট ভগ্নীপতি মুস্তাক ভাই কমলাপুর থেকে ট্রেনে করে জয়দেবপুর হয়ে বিভিন্ন যানবাহনে চড়িয়ে নিয়ে গেলেন আমাকে অতপর, মায়ের মুখ দর্শণ, মা আমার দশমিনিট বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেছিলেন ! কারন মায়ের নিষেধ ছিল দেশে আসার এবারে!


মায়ের পর্বশেষে, ভাবীকে জড়িয়ে ধরেছি, সুস্থজীবন আর মরন ব্যধি ক্যন্সারের অত্যাচারিত শরীরের প্রতি, এক অভিমানী কান্নায় চোখ ভিজে গেলো, কত তাগরা জোয়ান আমার এই মেঝু ভাবী, এই বয়সে কত দায়িত্ব পালনে তৎপর, মানুষটার আজ এমন দশা ! কত বিচিত্র এই জীবনের পথ, বিধাতা তুমি জানো তার সব মর্ম !


ভাবী এখন মোটামুটি সুস্থ সংসার চালাচ্ছেন, অল্প সময়ের মায়ের বাড়ীর নাইওর, সাথে তাদের কনিষ্ট কন্যার জামাতা, ভাবী কিন্তু ইজ্জৎ করতে একটু ও কম করেননি ! চিনিগুড়া চাউলের পুলাও, রোষ্ট, বড় মাছের ভাজি, বাড়ীর গাছের শিমের সবজি, সালাদ মিষ্টি সব বিশাল টেবিল জুড়ে পরিবেশন করলেন ! আমি অল্প সময়ের জন্য হলেও এই যে দেখে এলাম ভাবী ও মাকে: মনে বড় একটা শান্তি নিয়ে এলাম !


আমরা দিন শেষ না হতেই ঢাকায় ফিরতে চাই, তাই বিদায় নিয়ে চলে এলাম বাস ষ্ট্যান্ডে ! ইতোমধ্যে মেঝু ভাই মিটামইন থেকে টেলিফোনে বলেছেন আল্লাহর নাম নিয়ে, সালসাবিলে (বাসে) উঠলে মগবাজারে নামিয়ে দিবে কোন ঝামেলা হবে না, সুবোধ জামাই মুস্তাক ভাই তাই করলেন ।


বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ কি যে আতংক নিয়ে বেঁচে আছে,আমি তা অনুভব করে এলাম এই অল্প ক‘দিনে ! সালসাবিলে চড়ে গাজী পুর থেকে ঢাকায় আসতে আমার মনের বাঘের থাবায় থাবায় রক্তাক্ত হযেছি প্রতিটি মুহূর্ত, জীবনে যত দোয়া শিখেছি মুখ্স্ত, সব,সব দোয়া পড়েছিলাম ভীত সন্ত্রস্ত বক্ষে, আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে পরপার বাসী হবার জন্য তৈরী হয়ে, চলছিলাম ! যে কোন মুহূর্তে দগ্ধ হবার আতঙ্ক ! কি করে জীবনেই মেরে ফেলে, তার কিঞ্চিৎ অভিজ্ঞতা !


আমার দেশের প্রতিটি মানুষ এখন এই কঠিন আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে !এই অচলাবস্থার অবসান চাই, এই কি ছিল একটি স্বাধীনদেশের ভাগ্যলিখন ? কি বিভীষিকায় দেশের মানুষ কাটাচ্ছে রাত্রিদিন ! তার কোন পরিত্রান কি নেই ?
কেন আমরা দলমতের উর্ধে উঠে নিজের “মা" কে ভালোবাসতে পারি না ! মাতৃভূমিকে রক্ষা করার দায়িত্ব তো সবার ! "মানুষ্য জীবন" কোন মানুষ কি হরণ করতে পারে ? যারা তা করছে তারা মানুষরুপী হায়েনা ! মানুষের আদল পাওয়া প্রতিটি দেহে মানুষের আত্মার উন্মেষ ঘটুক ! বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ মানুষ হউক, আমার দেশের মাটিতে শান্তি আসুক ! সুজলা বাংলা আবারও শান্তি সুথে ভরে উঠুক ! বাংলা কেন ফিলিস্তিন হবে ?

ওটা তুমি
- দিঘী সেনগুপ্তা

তোমার পায়ের শব্দ ঠিক বুঝতে পারি আমি,
দূর থেকে আসতে দেখলে
ঝাপসা হলেও বলতে পারি 'ওটা তুমি' ।

ধূলর কুণ্ডলী উড়িয়ে নিয়ে ছুটল ঝড়
গুমোট গরম বাতাসে দূষিত ভাপ
গোমড়া আকাশের মুখে ছেপে উঠলো
কেন যেন মনে হল 'ওটা তুমি' ।

দূরে মেঘ ডাকছে, আনন্দ অথবা বেদনায়
কয়েকটা বড় বড় জলের ফোটা আছড়ে..
পড়লো মাটিতে, সারা আকাশটা বিকট..
মুখব্যাদান; সত্যি 'ওটা তুমি' ?

তোমার সবকিছু আমার খুব চেনা
তোমার আকার, যা কিছু ছিলো, আছে;
আনমনে যেখানে জর্জরিত 'ওটা তুমি' ।

তারপর ঘোর হয়ে তাকিয়ে রইলাম
জলের নদী ঝরলো শহরের তৃষিত বুকে
আমি মুগ্ধ তরতাজা নিশ্বাস নিচ্ছি;
কি ভীষণ হয়ে যাচ্ছি 'ওটা তুমি'

নিরব রাত্রি
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

মাঝ রাতের
নিরবতায়,খোলা আকাশের
নিচে,মুক্ত বাতাসের
শীতলতায় পুরোনো
স্বৃতিগুলো অশ্রুসিক্ত নয়নে
ভেসে ওঠে,
চাঁদ তারায় আলোকিত রাত্রের
নিরব প্রকৃতি জোনাকির দুষ্টুমি
সবকিছুইতে আমার হৃদয়ে
নারা দেয়!
এই দিন গুলোতেই তোমার
কোলে মাথা রেখে কত
রাত পার করলাম,মহিমান্বিত প্রকৃতির আর্শীবাদ চাইলাম।
আজ তুমি নেই তাই নির্ঘুম
রাত তোমার স্বৃতিগুলো
ভেবেই গেলাম,
জানি না আর কত কাল
এভাবে থাকতে হবে
হয়তোবা সারাজীবন।
নয়নের কিনারায় তবুও স্বপ্ন উঁকি দেয়
যে স্বপ্ন আজো আমাকে বাঁচিয়ে
রেখেছে,একটি আশার অপেক্ষায়,
একদিন অজানা রাজ্যে তুমি শুধুই
আমারি হবে।

ভালবাসা - বাসি
- রীতা ঘোষ

তোমায় গড়তে গিয়ে...
নিজেকে রোজ একটু একটু ভেঙ্গেছি ,
হিসাব রাখিনি , কতো যে ভালবেসেছি ।
কতো কিছুই তো বলতে চেয়েছি ...
মনের অলিতে গলিতে অবিরাম কথাদের পায়চারী
রাত্রির অস্পষ্টতায় ছায়া রূপে ঘোরাঘুরি ।
স্বপ্নেরা বসে মুখোমুখি , খেলে ভাব আড়ি
ছুঁয়ে দিয়ে শরীরের আনাচ কানাচ , অনুভবে জড়াজড়ি
কখনোবা কবিতায় সাথ চলি , হাত ধরাধরি ।
চোখের পাতায় আজ মান অভিমানের লুকোচুরি ,
নোনাজলে খেলাঘর ভেসে , ভালোবাসা গড়াগড়ি ।
তবুও দৃষ্টির গালিচা বিছিয়ে একাকিনী আমি
দিবানিশি কার তরে প্রহর গুনি...
তোমার আসা যাওয়া কালের নিয়মে , আপন মনে
অগোচরে চেয়ে থাকি স্থির মুখপানে ।
জানো ? মন কেন পোড়ে ? অশ্রু কেন ঝরে ?
কেন তুমি আসো ফিরে ফিরে ?
ভালোবাসা ক্ষত করে নিঃশব্দে গভীরে ।
মনের দেওয়াল ঘেঁষে তাই আজও পাশাপাশি
ফিসফিসিয়ে কানে কানে বলি , '' ভালোবাসি - ভালোবাসি । "

স্পরধা
- রেবেকা রাহমান

আমাকে সম্পূর্ণা করতে চেয়ে
বার বার ফিরিয়ে দাও
ছুঁড়ে দেওয়া শব্দের আড়ালেও
ঘুমিয়ে থাকে কিছু শব্দ
তার সাথে শিকড় , ডালপালা
অলৌকিক জলের মাঝে খেলা করে
বিমর্ষ নক্ষত্রের ঝিকমিকে আলো
প্রণয়ী ঝর্ণার অস্থির নিঃশ্বাস শুনতে কি পাও ?
আমাকে সম্পূর্ণ করতে চেয়ে
সব দায় এড়িয়ে যেতে চেয়েছো
ভুল হয়েছে আমার
নিজেকে পরগাছা ভেবে
জড়িয়ে ধরেছি এক অসম্পূর্ণ গাছ
অস্পষ্ট চাঁদের কাছে
হাত বাড়িয়ে দিয়েছি
কবিতার তুলো উড়িয়েছি সপ্নের ভিতর
ভয় ও ভরসা ছিলো পাশাপাশি
এখন নিশ্চিত !
স্পর্ধার পাট চুকে বিনয় এলে
ভালবাসা থাকেনা ...।।

সমুদ্রচারী
- সিয়ামুল হায়াত সৈকত

একটা হৃদয় খুলে তিন সমুদ্রের কুলে ফিরলাম।
সমুদ্রের বাতাসে আমাদের অলিঙ্গণ হোক
নাম না জানা ঝিনুকের মালায় ইচ্ছে বদল হোক
তোমার ললাটে সিদুঁর বুনে চিরতরে তোমারই হব !
বিকেলের চোখে আসন পেতেছি; ইচ্ছে জুড়ে তুমি
আমার পিঠে তোমার হাত সারাদিনের চেয়েও পরিপূর্ণ,
আমি কল্পনার স্তরে পারদের প্রলেপ দিয়ে বাস্তব হব।
সমুদ্র তুমি নিস্সঙ্গ নও পৃথিবীর বুকে মাথা ঠুকে
দুহাত বাড়িয়ে ধরতে পারো আমাদের, আমি আর সে ভালবাসি অযুত!

এক ডালি শুভ্র স্মৃতির সাথে
- শিল্পী চৌধুরী

" দেখা হয়েছিল তোমাতে আমাতে কী জানি কী মহা লগনে ।
এখন আমার বেলা নাহি আর , বহিব একাকী বিরহের ভার -- "

সত্যি তো , সে ছিল এক মহা লগন ,
তুমি কী জানতে চেয়েছিলে
কেন সে দিন রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের এই গানটি ছিল আমার কন্ঠে
আর তুমি বাইকের ফোর্থ গিয়ারে আপন মনে ।
পূর্ণিমা রাত ছিল না তবুও মনে হয়েছিল
পূর্ণিমার আলো যেন আমাকে তার আবেশে জড়িয়ে রেখেছিল ।
বুঝেছিলাম ক্ষণটি দ্রুত চলে যাবে
আর চলে যাওয়া সময় তার স্মৃতির ছাপটুকু রেখে যাবে ।
সে ফিরে আসবে না , সে ফিরে আসতে পারে না ,
চলে যাওয়া মুহূর্তগুলোর কাছে নিজেকে তাই সমর্পন করেছিলাম ।
তুমি জানতে চাওনি , তুমি জানতে পারোনি ,
তোমার জীবনে তোমার প্রেম ছিল ক্ষণিকের অতিথি ।
হাইওয়ে তে দাঁড়িয়ে দু-জন সাথে বেড়ে যাওয়া হৃদস্পন্দন
যার গোপন কথা শুনেছিল শুধু মিঠে আদুরে হাওয়া ।
বুঝতে পারো নি তুমি
প্রেম দিয়ে যায় শুধু এক ডালি শুভ্র স্মৃতি ।

বৈপরীত্য
- কৃষ্ণা দাস

সত্য মিথ্যা
কোন একটা
অদল বদল
সোজা সাপটা ,
ভিতর বাহির
দুটোর লড়াই
ঠান্ডা গরম
ঝগড়া সদাই ,
তারই মাঝে জীবন নদী পেরিয়ে যায় বাঁক ।
ন্যায় অন্যায়
ভাবনা যত
নিভছে জ্বলছে
অবিরত ,
কান্না হাসির
নাট্যশালা
মরণ বাঁচন
আগুন খেলা ,
তবু নদীর দুই চরেতে উড়ছে খুশির ঝাঁক ।

ভাল লাগা
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

আজ ভাল লাগে, বরই ভাল লাগে, আজ কাছে নেই, নেই আমি তোমার প্রানের তরে।
প্রতিটি ক্ষনে ছিলাম যখন তোমার পাশে,
ভালবাসা না পাওয়ার বেদনায় পুরেছি আমি তিলে তিলে।
বড় একা, বড় অসহায়, লাগিত আমাকে যখন
চলেছি তোমার চলার পথে।
কতই ব্যাথা, কতই গ্লানি নিয়েছি মাথা পেতে সেই কারনে তোমাকে পাব বলে।
শিশির ভালবাসে সবুজের সমারহ,
সকাল ভালবাসে কোকিলের ডাক।
প্রকৃতি ভালবাসে দোয়েলর মিষ্টি সুর,
ভালবাসনা শুধুই তুমি আজ আমাকে।
না নেই কোন অভিমান,নেই কোন প্রতিশোধের ধ্বংসের জ্বালা।
আজ তুমি নেই, তাই ভাল লাগে,বরই ভাল লাগে।
ভাল লাগে সাগরের বুকে সূর্যের ডুবে যাওয়া,
ভাল লাগে সেই নীল আকাশে তার গুলো সেজে থাকা,
আরো বেশি ভাল লাগে প্রকৃতির এই ভালবাসা।
আমি আর কাঁদিনা, চোখের অশ্রু সিক্ত করি না।
আমি বাঁচিব যতদিন,মনে রাখিব তোমাক প্রকৃতির এই মায়ার টানে।
আমি হইতো নেই তোমার মনে,
নেই আমার ছবি তোমার দুনয়নে।
তবু আজ আমাকে ভাল লাগে,বরই ভাল লাগে।
আমার স্বৃতি যদি উঁকি মাের তোমার হৃদয়ের জানালা দিয়ে।
সেই স্বৃতি জাগরনের নেশায় ঘৃনা করে যাও তুমি আমাকে,
তবুও ভাল লাগে,বরই ভাল লাগে।

বন্ধুরা নখ কাটতে হবে নিয়মিত
- ডাঃ ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার, গাইনী এ্যান্ড অবস,
স্কয়ার হসপিটাল, ঢাকা।


সাফল্যের জন্য চাই সুস্থ্য দেহ। আর সুস্থ্য দেহের জন্য পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকাটা ভীষণ জরুরী। পরিষ্কার থাকার উপায় রয়েছে নানাবিধ। তার মধ্যে নখ কাটা হলো অন্যতম। আমরা দুই হাত দিয়ে নানান কিছু স্পর্শ করি। নিজের অজান্তেই দুই হাতে ও নখে লেগে যায় বিভিন্ন রকমের ক্ষতিকর অনুজীব। অনুজীব হলো খুব ক্ষুদ্র ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ক্ষতিকর পরজীবী যা দেহের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। এর পরজীবী গুলো নখের ময়লাতে বাসা বাধে, ডিম পাড়ে ও বাচ্চা জন্ম দেয়।
নখ নিয়মিয় না কাটলে এই বাচ্চাগুলো (অনুজীবের) বড় হয়ে যায়। তারা বিভিন্ন রকম রোগ তৈরী করে। এবং তারা আবার বাচ্চা দেয়। সেই বাচ্চাগুলো আবার বড় হয়। তৈরী করে বিভিন্ন অসুখ। যেমন - ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, জ্বর জ্বর লাগা। নখ না কেটে পরিস্কার থাকলেও তাতে রোগজীবাণু জমতে পারে। তাই নখ কেটে ফেলাই ভালো। আর ছোটদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে খুবই কম। তাই তাদেরকে থাকতে হবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। হাতের নখ সব সময় কেটে ফেলতে হবে। নখ দাঁত দিয়ে কাটা যাবে না। এতে রোগজীবানু পেটের মধ্যে যাবে।


জন্ডিস বিভিন্ন প্রকারের হয়। কিছু জন্ডিস আছে, যা তৈরী হয় নোংরা খাবার ও পানি থেকে। এবং পরিণামে ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করতে পারে সেই জন্ডিস। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য অবশ্যই বিশুদ্ধ খাবার ও পানি খেতে হবে। আর নিয়মিত নখ কাটতে হবে, হাত ধুতে হবে। হাত দিয়ে আমাদের সবকিছু স্পর্শ করতে হয়। তাই হাতে প্রচুর রোগ জীবাণু লেগে থাকে। এই রোগ জীবাণু ধুয়ে ফেলতে হবে। তাই নখ রাখা যাবে না। নেইল পালিশ থাকলে খেয়াল রেখো যেনো, নখের ফাঁক ফোঁকরে ময়লা জমে না থাকে।


দাঁত দিয়ে নখ কাটলে হঠাৎ পেটে চলে যেতে পারে। তখন ভয়ানক ডায়রিয়া হবে। তাই দাঁত বা ব্লেড না, নেইল কাটার দিয়ে নখ কাটা হলো সর্বাপেক্ষা উত্তম। শুধু ছোটরা নয়, বড়দের নখেও জমতে পারে রোগজীবানু। তাই ছোট্ট বন্ধুরা নিজের প্রতি যত্নশীল হও। নিয়মিত নখ কাটো। আর নখ ভালো রাখার জন্য আয়রন (যা রক্ত তৈরী করে), ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার ছোটবেলা থেকেই দরকার। তাই বন্ধুরা চকোলেট, বার্গার, চিপ্স বেশী খেলে হবেনা। লাল শাক, পালংশাক, ছোট মাছ, দুধ, ডিম (দেশী মুরগীর হলে খুব ভালো হয়), বাদাম, সব রকম সব্জি খেতে হবে। ছানা, পনির বা দই খেতে হবে। এই খাবারগুলোতে রয়েছে সব রকমের পুষ্টি।


ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা নিয়মিত নখ কাটবা, তোমরা হও সুস্থ দেহের অধিকারী। তোমাদের সুস্থ সবল হাতে ধন্য হোক জাতির ভবিষ্যৎ।

জলছবি
- প্রিয়দর্শিনী

রাত সহসা আকাশ কাঁপে
একাকী চাঁদ যেন করে বিলাপ
মেঘ ফাটা অশ্রু জল
থেমেছে তারাদের ঝলমল রব...
একি স্বপ্ন না স্বপ্ন ভাঙা সত্যি
মেলি, দুচোখ ভরা কালো আকাশ।
আকাশ মাঝে জল থই থই...
ভেসে যায় চাঁদ, পাহাড়,মেঘ, তারা,
খুঁজে পাই তোমাকে কোন এক কবির কল্পনায়,
আকাশ থই থই জলে,আজ তুমি শুধু জলছবি।

স্বাধীনতা তুমি আমার
- মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর

স্বাধীনতা তুমি আমার
মায়ের কালো কেশ,
স্বাধীনতা তুমি আমার
হীরে মতির দেশ।
স্বাধীনতা তুমি আমার
মা সুমাইয়ার হাসি,
স্বাধীনতা তুমি আমার
শাপলা রাশি রাশি।
স্বাধীনতা তুমি আমার
বোনের কানের দুল,
স্বাধীনতা তুমি আমার
কলমী লতার ফুল।
স্বাধীনতা তুমি আমার
হৃদয় কাড়া গান,
স্বাধীনতা তুমি আমার
লক্ষ শহীদের প্রাণ।
স্বাধীনতা তুমি আমার
সাগর নদীর জল,
স্বাধীনতা তুমি আমার
আম বাগানের ফল।
স্বাধীনতা তুমি আমার
সরষে ফুলের হাসি,
স্বাধীনতা তুমি আমার
শিল্পী সেনার বাঁশি।
স্বাধীনতা তুমি আমার
পুলিশ সেনা দল,
স্বাধীনতা তুমি আমার
শক্তি সাহস বল।
স্বাধীনতা তুমি আমার
বোনের কালো কেশ,
স্বাধীনতা তুমি আমার
সোনার বাংলাদেশ।

আমি ভালোবাসি কাহারে
- মোহাম্মদ উল্লাহ শহীদ

আমি ভালোবাসি কাহারে?আমারে না তোমারে?
না তোমার আমার সৃষ্টিকর্তা ভালোবাসি তাঁহারে?
আমি ভালোবাসি কাহারে?
ভালোবাসার নাই ভেদ,আছে অনেক গুণ
এই ভালোবাসার লাগি আবার মানুষ হয়যে খুন।
বিশ্বাস করে নিঃশ্বাস ফেলি
যদি বিশ্বাস কাড়ে প্রাণ প্রহারে
আমি ভালোবাসি কাহারে?
জীবনরে ভালোবাসি ভবন গড়ি,ঘুমাই থাকিগো আরামে
জীবনের কত সুখ টের পাই যখন ধরেগো ব্যারামে।
আরামের দিন স্বরণে মলিন
জীবন যদি ভাসে হাহাকারে
আমি ভালোবাসি কাহারে?
আল্লাহকে ভালোবাসিলে পালন করিতে হয় ধর্ম।
পিতা-মাতাকে ভালোবাসিলে হতে হয় নম্র।
বন্ধুকে ভালোবাসিলে বুঝিতে হয় মর্ম।
জীবনকে ভালোবাসিলে করিতে হয় সৎকর্ম।
আর প্রেমকে ভালোবাসিলে
ভুলায় ভালোবাসি যাঁহারে,
আমি ভালোবাসি কাহারে?
আবার ভালোবাসার অর্থ নয়,সকল ব্যর্থতার দায় নিক।
দেশকে ভালোবাসিলে হতে হয়না সৈনিক।
সাহিত্যকে ভালোবাসিলে চর্চা করিতে হয় দৈনিক।
অপরাধকে ভালোবাসিলে শাস্তি হবে আইনিক,
সেই আইনের লোক যদি চড়ে অপরাধের পাঁহাড়ে
আমি ভালোবাসি কাহারে?

দাদার আদর
- মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর


শীতের সকাল। শিশির ভেজা দূর্বাঘাসে ভরা মেঠোপথ। এমন দিনে খালি পায়ে হাটবার মজাই আলাদা। পাড়া গাঁয়ের এমনি এক মেঠোপথে হাঁটছে কিশোর জাহিদ। রাস্তার ধারেই আমনের ধানি জমি। ধানের সোনালী শীষে প্রজাপতির ওড়াউড়ি। পাখিদের ছুটোছুটি। এমন অপরূপ দৃশ্যাবলী মন কাড়ে জাহিদের। বাতাসে দোল খায় ধানের সোনালী শীষ। নৃত্যে মশগুল যেন ধানের সোনালী ছড়া। ধানে ধানে বাজনা বাজছে। এসব দৃশ্যাবলী ভালো লাগে জাহিদের। তন্ময় হয়ে ভাবে জাহিদ। এ যেন সাহিত্যিকদের ভাবনার জগত। কবিদের কাব্য গাঁথার চারণভূমি।


এমন সময়ে নবান্নের উৎসবে মেতে ওঠেন পাড়া গাঁয়ের কৃষকেরা ! পল্লী বধূর আনন্দের সীমা থাকেনা। দিন রাত ধান মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কিষানীরা। ঘুম থাকেনা পল্লী বধূর চোখে। শেষ রাতে ধান সিদ্ধের কাজে মশগুল হয়ে পড়েন কিষানীরা। রাত জেগে নবান্নের উৎসবে মেতে ওঠেন পাড়া গাঁয়ের কিষাণ কিষানীরা। এমন সময়ে হরেক রকমের পিঠা পায়েস বানানোর ধুম পড়ে। এ মৌসুমে বিয়ে সাধিরও বেশ আয়োজন শুরু হয়। নতুন জামাইকে বরন করে নিতে আনন্দের রোল পড়ে পাড়া গাঁয়ে। দুলাভাইয়ের আগমনে আনন্দে নেচে ওঠে ছোটরা।বড়দের মাঝেও আনন্দের কমতি থাকেনা। দাদা শ্বশুরেরা যেন নাতি জামাইয়ের পরশে আনন্দে উদ্বেলিত হয়। হাজারো আনন্দে তারা মাতিয়ে রাখেন নাতি জামাইকে। হরেক রকমের রংবেরঙের সাজে নেচে ওঠে পাড়া গাঁও। পার্শ্ববর্তী অন্যরাও আনন্দে শামিল হয় আপন করে। গাঁয়ের কোন বাড়ির নতুন জামাই মানে পাড়ার সকলেরই জামাই। সম্মানের কমতি নেই জামাইদের। আমাদের পাড়া গাঁয়ের চিরায়ত এ নিয়ম আজো অবাক করার মত।


বর্তমান ডিজিটাল যুগের কৃত্রিম সব আনন্দ হার মানে পাড়া গাঁয়ের নানামুখী উৎসবের কাছে। একসাথে পাটিতে বসে দাদা নাতির মুড়ি মুড়কি খাবার দৃশ্য সত্যিই অকল্পনীয়। সকাল বেলা মাদুর পেতে বসে মুড়ি খাবার এ দৃশ্য কেবলমাত্র এখনও পাড়া গাঁয়েই দেখা যায়। চশমা চোখে দাদা ভাইয়ের আদরমাখা শাসন আজ হারিয়ে যাবার পথে। নেই আগের মত সেই প্রকৃতির সহজাত আকর্ষণ। নেই আবেগঘন সেই মধুময় পরিবেশ। যৌথ পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মনকাড়া সব সামাজিক উদ্যোগও নেই আগের মত। একে অপরের পাশে দাঁড়াবার মানবিক প্রচেষ্টাও চোখে পড়েনা সহসাই। বাড়ির আঙিনায় জাড়ি সাড়ি গানের আসর এখন যেন শুধুই স্মৃতি! এখন আমরা অনেকেই দুধ পিঠার নামই যেন ভুলে গিয়েছি। হরেক রকমের গ্রামীণ পিঠা পুলি এখন যেন ইতিহাসের অনুসঙ্গ মাত্র। হায়রে গ্রামীণ পরিবেশ!


শীতের আরেক মজার আকর্ষণ হচ্ছে সরষে ফুল। সরষে ফুলের পাঁপড়ি নেড়ে নেড়ে উড়ে বেড়ায় নানান জাতের প্রজাপতি! প্রকৃতির অপরূপ আকর্ষণ প্রজাপতি যেন আজ হারিয়ে যাবার পথে। খুব কমই প্রজাপতির দেখা মেলে এখন। শহরের শিশুদের প্রজাপতি দেখার সুযোগ হয়না বললেই চলে। শিশুরা প্রজাপতির আকর্ষণে বেড়াতে যায় গ্রামের সরষে ক্ষেতে। প্রজাপতির এই আকর্ষণ শিশুদের কাছে টানে একান্ত আপন করে। তোমরা যারা শহরে বাস কর, প্রজাপতির সাথে ঘুরে বেড়াতে যাদের ইচ্ছে তাদের প্রতি দাওয়াত রইলো। প্রজাপতির বন্ধু হতে চাইলে সরষে ক্ষেতে বেড়াতে এসো।


এই শীতকে নিয়ে আমাদের আরো ভাবতে হবে। আমরা যারা ধনী পরিবারের সন্তান, তারা কিন্তু শীতের কোন কষ্টই বুঝতে পারিনা। তাই কনকনে এই শীতে গ্রামের অসহায় শিশুদের প্রতি আমাদের তাকাতে হবে। হাড় কাঁপানো এই শীতে অনেক শিশুর গায়েই গরম কোন জামা নেই। খালি পায়ে ঘুরে বেড়ায় শিশিরভেজা দুর্বা ঘাসের মেঠো পথে। পায়ে নেই একজোড়া স্পন্স। সু এরতো প্রশ্নই আসেনা। রাতে ঘুমাতে পায়না গরম একটি লেপ। বিছানায় পায়না কোন তোষক। পায়না একটা পশমি কম্বল। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে আমাদেরকেই। সহযোগীতার হাত বাড়াতে অসহায় মানবতার সেবায়। আনন্দঘণ উৎসব পরিবেশে তাদেরকেও শামিল করতে হবে মানবতার স্বার্থেই। অসহায় টোকাইরাও হবে আমাদের বন্ধু। গ্রামীণ অনাথ শিশুদের সহযাত্রী হব আমরাই। আমাদের এই দেশটা হবে পবিত্র ঈদগাহের সাম্যের জমিন।
বিজ্ঞপ্তিঃ কপিরাইট লঙ্ঘন করে কোনও লেখা পাঠাবেন না । কোনও লেখার কপিরাইট সংক্রান্ত দায়িত্ব নব দিবাকর কর্তৃপক্ষ নেবে না ।

অতীত বর্তমানের স্বৃতি
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

প্রকৃতি সবুজ
রঙে সাজানো আমার হৃদয়
নিংরানো ভালবাসার
প্রতিটি মূর্হত্ব,আমাকে গর্বিত
করে পুরোনো দিনের
স্বৃতি গুলো মনে পরে।
আনন্দের জলে নয়ন
ভাসে,বার বার
ফিরে যেতে মন চাই কিশোর
বেলার সেই উদ্দম বিকেলে,মুক্ত
আকাশের নিচে,সবুজ মাঠের পর
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে!
মন চাই শৈশব আর কিশোর বয়সের
দুষ্টমি খুঁনসুটি গুলো ফিরে পেতে,সাদা শার্ট কালো প্যান্ট আর কাধে বইয়ের ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুল প্রাঙ্গনে যেতে।
আজ জীবনের পরিক্রমায় সময়ের
ব্যাবধানে জীবনে স্বৃতি হয়ে চিরকালের
জন্য হারিয়ে গেছে।
ফিরে চাই
বৃষ্টির জলে লাফালাফির খেলা
আর পাগলার পাড়ে স্নান তক্তিপুরের মেলা,
ফিরে চাই,
আমার কিশোর বয়সের সেই গ্রীষ্মের
দাবাদাহে ঘূড়ি উড়ানো,মেঘাচ্ছন্ন মুক্ত
আকাশ, সবুজ প্রকৃতি।
ফিরে চাই আমার কিশোর
বয়সের মুক্ত আকাশ আর গ্রামের
সবুজ প্রকৃতি।

বাজাসনে সই হাতের কাঁকন
- কবীর হুমায়ূন

বাজাসনে সই হাতের কাঁকন মন যে আমার উতল হয়,
শত ছিদ্রের বাঁশিখানি শতরূপের সুরে আনি,
তবুও মনের রাহাজানি চলছে বুঝি জগতময়।
বাজাসনে সই হাতের কাঁকন মন যে আমার উতল হয়।

বৃন্দাবনের পথে পথে বাজাই বাঁশি গহীন রাতে,
শোকের সূরুজ উঠে প্রাতে, দুঃখি মনে কতো সয়!
বাজাসনে সই হাতের কাঁকন মন যে আমার উতল হয়।

মানুষ লীলা বড়ো লীলা, কিশোর ও কিশোরীর খেলা,
ব্রজপুরী হয় উতলা জানিসতো তা' নিশ্চয়।
বাজাসনে সই হাতের কাঁকন মন যে আমার উতল হয়।

কামের ঘরে তালা দিয়ে চেয়েছিলেম তোমায় প্রিয়ে,
ক্ষীর-সর-ননী সব সরিয়ে চেয়েছি যে নির্ভয়।
বাজাসনে সই হাতের কাঁকন মন যে আমার উতল হয়।

জ্যোৎস্নারাতের স্বপন
- কবীর হুমায়ূন

রাত জাগা এক পাখী বসে পিয়াল বনে,
শিস দিয়ে যায় রাত দুপুরে সঙ্গোপনে।
জ্যোৎস্নালোকের তরল রজত রূপের ধারা
চুঁইয়ে পড়ে সারা বনে নিশুত রাতে;
অরূপ রূপে বিমুগ্ধ মন আত্মহারা,
হঠাৎ তুমি জাগিয়ে তোল ভোর প্রভাতে।
এলো চুলে হাত বাড়িয়ে নাও জড়িয়ে,
রাত্রি জাগার ক্লান্তিগুলো দাও সরিয়ে।

অধর 'পরে অধর রেখে থর থর,
আমার সকল ভয়গুলোকে হরণ করো।
বুকের ভেতর সুখের পাখি নেচে উঠে,
তোমার ছোঁয়ায় হয় যে শীতল অগ্নিগিরি;
জ্যোৎস্নামাখা দেহখানি করপুটে
তুলে ধরে ভাঙ্গতে থাকি স্বর্গ-সিঁড়ি।
বৃন্দাবনে জাগে আবার মুরালি-সুর,
বয়ে চলে সুরের ধারা দূর থেকে দূর।

একলব্যের গুরুদক্ষিণা
- কবীর হুমায়ূন

কি চাও তুমি গুরু আমার, ভক্ত-শিষ্য কাছে?
কাব্যকলার গুরু তুমি বলছি সবার পাছে।
তাইতো প্রেমের প্রথম গোলাপ তোমায় করি দান,
চন্দ্রলোকের কন্যা তুমি রূপশ্রীয়তার বান।

একলব্যের নিষ্ঠা আমার রক্তকণায় জ্বলে,
নাইবা হলেম কথার কবি তোমার নামটি বলে।
দ্রোণ চেতনায় চাও যদিবা আমার কলমখানি,
এক নিমেষেই দক্ষিণারূপ দিবো অভিমানী।

নাইবা তুমি করলে আমায় জাত-শিষ্য একলব্য,
তবু, সকল দান করে যে হবো আমি ভব্য!
নিঃস্ব হয়ে বিশ্বমাঝে চাইবো তোমার মন,
বারে বারে ধরায় এসে করবো জ্বালাতন।

সামিরা
- মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর


মায়ের কোলে থাকতেই বাবার আদর সোহাগ থেকে বঞ্চিত হয় সামিরা। বাবা মারা যাবার সময় সামিরা তিন মাস বয়সী ফুলপড়ী। প্রজাপতির ডানার মতো উড়াউড়ি করে সামিরার পবিত্র কঁচি দুটি হাত। আদো আদো কথায় যেন খই ফোটে। ভাইদের আদরের সোহাগী সামিরা এখন অনেক বড় হয়েছে। পনের বছর বয়সী সামিরা এখন অনেকেরই নজর কাড়ে! দুনিয়ার স্বাভাবিক অনেক কিছুই বুঝতে পারে সামিরা। বাবার আদর সোহাগ না পেলেও ভাইদের পরম স্নেহ মমতায় বেড়ে ওঠে সামিরা। গ্রাম্য মেয়ে সামিরাকে সবাই পছন্দ করে। সামিরার মায়াবী ব্যবহার সবাইকে কাছে টানে।


আজ সামিরাদের বাড়িতে অনেক লোকজনের সমাগম। পরিচিত মুখের চেয়ে অপরিচিত মুখের সংখ্যাই বেশী। বাড়িতে বেশ মজাদার সব রান্নাবান্নার আয়োজন চলছে। মুড়ি-মিড়কি, পিঠা- পায়েস, গোশত-মাছ, কোরমা-পোলাও ইত্যাদি সব বাহারি রান্নার সমারোহ। বাবা হারানো সামিরা বুঝতে পারেনা এসব আয়োজনের কারণ কী? কেনইবা এসব অচেনা লোকজনের আগমন। আনমনা সামিরা ভাইদের কাছে এসব মেহমানদের আগমনের কারণ জানতে চায়। ভাইয়েরা একটু কৌশলী জবাব দেয় সামিরাকে। ভাইয়েরা বলে -আগত লোকজনেরা আমাদের নতুন আত্মীয় হতে যাচ্ছেন। তাদের সাথে আত্মীয়তার বন্ধন গড়ে উঠবে আমাদের। তুমিই হবে এই নতুন আত্মীয়তার বন্ধন সৃষ্টির প্রধান মাধ্যম। পল্লী মেয়ে সামিরা ভাইদের কৌশলী কথার সারবত্তা বুঝতে পারেনা। সামিরা চলে যায় ভাবীদের কাছে। ভাবীদের নিকট জানতে চায় নতুন আত্মীয়তার বন্ধনের কারন সম্পর্কে। সামিরাই বা এই বন্ধের মূল ব্যক্তি কেমনে! সামিরার প্রশ্ন শুনে ভাবীরা হেসে কুটিকুটি হয়। কেউবা টিপ্পনি কেটে বলে -ও আমার কঁচি খুকিরে! তুমি বুঝি বিয়ের কিছুই বোঝনা! এবার কিছুটা আঁচ করতে পারে সামিরা! সামিরা এবার বুঝতে পারে ওর তাহলে বিয়ের ঘর এসেছে। মেহমানেরা হবু বরের আত্মীয় স্বজন। ওকে দেখার জন্য এসেছে তারা। সামিরাকে পছন্দ হলেই বিয়ের সব আয়োজন পাঁকা হয়ে যাবে। ওকে চলে যেতে হবে বরের বাড়ি। ভাই ভাবীদের আদর ভুলে যেতে হবে সামিরাকে। মায়ের আদর মাখা সোহাগী পরশ আর পাবেনা সামিরা। সামিরার হৃদয়টা মোচড় মেরে ওঠে। চিনচিন করে ওঠে ওর বুকটা। বোবা কান্নায় ভেঙে যায় সামিরার কিশোরী মনটা। সামিরা ভাবে -মেয়েদের জীবনে বিয়ে হয় কেন! কেনইবা মেয়েদেরকে অন্যের বাড়ি যেতে হয় বধূ সেজে! সামিরা ভাবে হৃদয়ের একান্ত অনুভূতি দিয়ে। সামিরা এসব ভাবতে থাকে একান্ত আপন মনে।


ভাইয়েরা সামিরাকে বাহির ঘরে আসতে বলে। ভাবীরা ওকে নিয়ে আসেন বাহির ঘরে। এর আগেই পরম আদরে সামিরাকে সাজিয়ে নেয় ওর ভাবীরা। নববধূর সাজে রাঙিয়ে ওঠে সামিরা। সামিরা যেন আজ সাত ভাইয়ের আদরের সোহাগী বোন চম্পা রানী। গ্রাম্য সাংস্কৃতিক আদলে পানের বাটা হাতে নতুন মেহমানদের সামনে নিয়ে যাওয়া হয় সামিরাকে। ভাবীদের শিখানো মতে সুন্দর করে মেহমানদের সালাম জানায় সামিরা। অতিথিগনের নির্দেশনায় চেয়ারে বসে সামিরা। প্রাথমিক কিছু জিজ্ঞেস করেন মেহমানেরা। সামিরা লজ্জাবনত স্বরে প্রশ্নের জবাব দেয়। সামিরার চাল- চলন, কথা-বার্তায় পছন্দ হয় মেহমানদের। মেহমানেরা সামিরাকে চলে যেতে বলেন। সামিরা ফিরে যায় মায়ের ঘরে। ভাইদের সাথে আলোচনা শেষে সামিরার বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হয়।


আজ সামিরার বিয়ের দিন। বাড়িতে আনন্দের ধুম পড়েছে। সবার মুখেই হাসি আর আনন্দ। কারো চোখে মুখে দুঃখের কোন আবেশ নাই। তবে সামিরার মনটা কেন যেন ভালো নেই। অজানা এক আশংকা কেন যেন ওর কোমল হৃদয়ে আঘাত করছে বারবার। ভাগ্যের নিয়তি মেনে এক সময় বৈবাহিক কার্যাবলী শেষ হয় সামিরার। নিয়ম মাফিক সামিরা তার স্বামীর ঘরে চলে যায়। ভয় আর অজানা আশংকায় কেটে যায় সামিরার বাসর রাত। সময়ের পালাবদলে স্বামীর সংসারে মনোযোগী হয় সামিরা।


হঠাৎ এক দুর্ঘটনার শিকার হয় সামিরা। কাজের কথা বলে বাইরে যায় সামিরার স্বামী। দিন, সপ্তাহ মাস গড়িয়ে যায়। বছর পেরিয়ে গেলেও স্বামীর খোঁজ পায়না সামিরা। স্বামী আজো ফিরে আসেনি বাড়িতে। নব বিবাহিতা সামিরার সংসার জীবন কাটে এখন স্বামী হারা একাকিত্বে। এক, দুই,তিন নয় টানা বিশটি বছর কেটে গেছে সামিরার জীবন থেকে। যৌবনের ভাটা পড়েছে। স্বামীর আদর বা সোহাগের কথা এখন ভুলেই যেতে বসেছে সামিরা। আজও ফিরে আসেনা স্বামী। সামিরা জানেনা তার স্বামী আসলেইকি হারিয়ে গেছেন -নাকি প্রতারণার শিকার পিতা হারা অসহায় সামিরা। সামিরা আজও পথ চেয়ে থাকে স্বামীর আগমনের প্রত্যাশায়! একদিন হয়তো ফিরে আসবে স্বামী। আবারো নতুন করে সংসার গড়বে সামিরা। সংসারে আসবে সন্তান -সন্ততি। পারিবারিক বন্ধনের স্বাদ উপভোগ করবে সামিরা। স্বামী হারা সামিরার হৃদয়টি যেন এখন সাহারা মরুভূমির বিরান মাঠ। স্বামীর সোহাগ ও ভালোবাসার এক পশলা ওম পাবার প্রত্যাশায় আজও পথ চেয়ে থাকে সামিরা। অসহায় সামিরার এই প্রত্যাশার শেষ কোথায়!

ভিখাড়ি
- মোর্শেদ হাবীব সহেল

রঙ্গে আর ঢঙ্গে রাঙ্গিয়ে দাও সবে,
পাপ আর তাপ যত ধুয়ে দাও মুছে।
খুশির বন্যায় সবই ভাসিয়ে দাও আজি,
এ ধরাধাম প্রভু পুণ্যে দাও সাজি।
গান হয়ে পাখির কন্ঠে মধুর সূরে বাজো,
দখিনা বাতাস হয়ে শান্তি বয়ে আন।
পথভ্রষ্ট পথিক মোরা পথের দাও দিশা,
মিলেমিশে থাকি যেন ভাই ভাই মোরা।
রাজপথে যেন আর না ঝরে প্রাণ,
ভাঙ্গে না যেন প্রভু নাড়ির টান।
আর যেন কাঁদেনা মা গগন বিদারি,
জোড় হাতে ভিখ মাগি আমি ভিখাড়ি ।

চাঁদ রাত
- সিয়ামুল হায়াত সৈকত

আমাকে আমি বিসর্জন দিলাম পূর্ণ চাঁদের জোৎস্নায়
তুমি চুপটি করে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে হারিয়ে যেও—অথবা বলে দিও আমরা একহবো একরাতের আলোয়..
মেঘেদের কান্না আমি শুনতে চাইনি,
তোমার চোখদুটোই আমার শেষ সম্বল অচেনা প্রহরে!
রাতের সাউন্ডবক্সে যাচ্ছেতাই গান শুনি
একা একা অনন্তের সাক্ষী হই-
কেউ কি হটাৎ বলবে; তুমি চাঁদ ছোঁও?
ইস্কুলের মাঝবয়সী প্রেম ভুলে যাই
মনে পরে বন্ধক রাখা একজোৎস্নায় তুমি ঘুমাওনি
খুব করে অনেকটা ভালোবেসেছিলে, আমায়!
আজ সত্যিই স্মৃতিগুলো শঙ্খচিল হয়.. ।

সৌভাগ্যরা
- তৈমুর খান

সৌভাগ্যরা কে কোথায় গেল?

সারা বিকেল তন্ন তন্ন খুঁজে
কারও দেখা পাচ্ছি না ।

আলোর রোশনি মাখা কিছু যুবক যুবতী
দ্রুত যানে চলে গেল
আর কোকিল ডাকল বাগানে
শব্দগৌরবে পৃথিবী ভরে গেল ।

কিন্তু কী আশ্চর্য! আমাদের ঘরের চৌকাঠে
পড়ে থাকা মরচে ধরা চাকু
সমস্ত বসন্তকালেও ফুল হয়ে ফুটল না
শরৎকালের নদীতে নৌকা হয়ে ভাসল না
রোদের আকাশে পায়রা হয়ে উড়ল না ।

সে মিছিলে আমিও ছিলাম
- সাঈফ ফাতেউর রহমান

লাখো জনতার সে মিছিলে আমিও ছিলাম একজন।
জীবনে খুব বড় অর্জন কিছু আমার নেই, তবু শ্লাঘা বোধ করি
এমন কিছু আছে আমারও জীবনে।
সে মিছিলে পুরোভাগে যারা ছিলো,অনেকের মাঝে আমিও তুচ্ছ একজন।
আকাশে ঝড়ের পূর্বাভাষ;জন্মলগ্ন-প্রেক্ষাপটে উত্তাল স্বদেশ।
প্রসব যন্ত্রণার মত অবিশ্বাস্য যন্ত্রণাকাতর,তবু নতুনের আবাহণী
সংকেতে উন্মুখ আনন্দ-প্রতীক্ষা।
জনতার কি-দারুণ উল্লাস,জনারণ্যে নির্জনতা খুঁজে পাওয়া ভার।
হাতের মুঠোয় পুরে জীবন নিজের, সকলেই নেমে আসে রাজপথে
দ্বিদ্ধাহীন,মিছিলের সকলেই হয়ে যান আত্মার-আত্মীয় চির জনমের।
বয়সের ব্যবধান,শ্রেণী-পেশা,নারী কি পুরুষ-খুব গৌণ হয়ে গেছে,
অতি তুচ্ছ এই সব সামাজিক বিভেদ-অর্গল।
রৌদ্রময় হিরণ্য-শোভিত পুষ্প-স্নিগ্ধ মন্দ্রিত স্বদেশ প্রত্যাশায় উচ্চকিত
স্বপ্নেরা আঁকে আলপনা।
শ্বাপদ-রাক্ষসও তৎপর,হিংসা-ছোবলে প্রাণ ঝরে,তবু গ্রানাইট-কাঠিন্যে
দৃঢ়-পণ!দৃপ্ত-শ্লোগান মুখর সে মিছিলে কন্ঠ আমারও ছুঁয়েছে আকাশ-
আর ড্রাগণের ছুঁড়ে দে’য়া বিষ-নিঃশ্বাসে ঝলসে গেলো,মিছিলের সাথী
কয়জন;পবিত্র তাদের রক্তের স্রোত আমাকেও স্নাত-পবিত্র করে দিয়ে
গেলো সকল অস্তিত্ব আমার,অনেকের।
পুণ্য-রক্ত স্নাত আমরা তবু,আজও কেন শুদ্ধ হতে পারিনা আজও !
রক্ত-ঋণে আবদ্ধ-আজীবন থেকে যাবো বিশ্বাস-সংহারী।

বসন্তের বিকেল
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

বসন্ততের বিকেল
স্বৃতি হয়ে আমাকে কাঁদাচ্ছে,একদিন
এই বিকেলে তুমি আমি
মিশেছিলাম রঙ বেরঙের ফুলের
মাঝে!
সোনালি বিকেল অতিথছিলাম
ভালবাসার ছোয়ায় বসন্তেন উদয়মান
সন্ধে বেলায়,
আজ আমি কাঁদি বসন্তের
রঙে রাঙানো বিকেলে,
জানি না তুমি আছো অজানা কোন
বিলাসী রাজ্যে,একটি বার এসে এ
বিকেলে তোমা অঙ্গে জরিয়ে ধর,তোমার
ঠোঁট চুম্বন স্পর্শকাতরায় আমার
পিপাসিত ভালবাসা
মিটিয়ে জরিয়ে ধর,
তোমার ভালবাসায় বসন্ত বিকেল
মধুময় করে একবার ফিরে আসো।

মানুষ হবো কবে
- মোহাম্মদ উল্লাহ শহীদ

আমি এক মহা বলদ!
চাষ করে যাই ক্ষেতে,
যেমনে ঘুরায় তেমনে ঘুরি
ঘাস খেয়ে যাই দাঁতে।
আসল জবান খুলতে গেলেই
পিঠে পড়ে বাড়ি
তাই তো আমি চুপ করে রই
রোগে মহামারি।
আমার দেশে নাই প্রতিদান
সত্য আসল কর্মে।
পাঁজিরা সব হাজী হলো
রংধনু রঙ ধর্মে।
কবে আমি মানুষ হবো
এই পৃথিবীর তরে?
মানুষ জন্মে বলদ হলাম
কোন যন্ত্রনায় পরে?

অস্তিত্ব
- প্রিয়দর্শিনী

সময়ের পথে চলতে চলতে
বলো আরো কত পরিক্ষা দেব?
বলো আরো কত পরীক্ষা নেবে তুমি আমার?
আমি বোঝাতে পারিনা, আমি অপারগ,
আমি মূক, নেই বলার ভাষা,
আছে শুধু অভিমান, আর অঝোর অশ্রু,
এই ভাষা কেন বোঝনা তুমি?
অথচ বলেছিলে আমি তোমার হৃদয়,
সারা জীবনের বন্ধন, শুধু মনের বন্ধন,
তবু কেন এই সীতার অগ্নি - পরিক্ষা খেলা?
কেন এই অস্ত্বিত্ব বাঁচানোর লড়াই?
তাই এবার মুছে ফেলি অস্তিত্ব সংকট,
একলা চলবো পথে..........
আমি আর আমার অস্তিত্ব,
স্বপ্ন-মন কোনে রয়ে যাবে শুধু তুমি।।

ভূমিকম্পের চেতনা
- সুমন রায়

সঙ্গীহীন রাস্তার নিস্তব্দ রাতের গন্ধ,
আজও তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়,
ভুলিয়ে রাখে চেতনার অজস্র ঢেউ;
তাই হৃদয় দরজার বিমুখ আলো
চূর্ণ-বিচূর্ণ।
হয়তবা অভিশাপের শুষ্ক গোলাপ পাতার সাথে,
আমার মিতালিতে-
একপাল বঞ্চিত হাহাকার পেঙ্গুইন
অতৃপ্তের মরুভূমিতে
সাঁতরে বেড়িয়েছে।
তাই বলে এতবড় প্রবঞ্চনা আমায়
কেন দিলে?
ধূলাময় রাজপথে তবুও তো পেট্রোলচালিত ইঞ্জিন এখনও চলছে।
সেখানেও যে অক্সিজেনের ঘাটতি নেই !!
চলছে সবকিছু অবিরাম,
নিজেও থেমে নেই
মাঝেমাঝে করে দিই জীবণকে
নিলাম।
নদীর স্রোত হয়ে জীবণমাঝি লুকাবে একদিন
সাগরের গহীন তলে
লাভ নাই-
সেদিন চোখের নোনা পানি ফেলে;
ধুয়ে যাবে ড্রেনের আবর্জনা সব
বর্ণহীন কালে।
নয়ও কোন বুদ্ধিমান জলে।
হিসাবের খাতাটি ছিল তোমার,
কিন্তু বুক দিয়ে বলতে পারি-
পেন্সিলটি অবশ্যই আমার।
লাভ কি এত হিসাব-নিকাশ?
অবাঞ্চিত কাগজের দলকে এখনও তো
অতি যত্নে খেলা শেখাচ্ছি।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget