ফেব্রুয়ারী 2015

পূর্নজন্ম
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

সুপ্রভাতে সাগরের বুক চিরে প্রতিদিনি তার,পূর্নজন্ম হয় সুন্দর এ ভূবনে,
পূর্ব দিগন্ত রাঙ্গিয়ে ধীরে ধীরে উদয়ীমান প্রতিনিয়ত।

আবার
শেষবিকেলে গৌধুলি সন্ধ্যা লগ্নে একটু
একটু করে,ধরনীকে আধার করে আমাদের ঘুমের রাজ্যে রেখে
বিলীন হয়,সে বলে আমি বার বার আসব,ধরনী আলোকিত করতে,প্রকৃতিকে নতুন উদ্দীপনায় সাজাতে।

ফসল বৃক্ষ তোমাদের জীবন আলোকিত
করার জন্য,আবার আমার হবে পূর্নজন্ম!
তাইতো আজো আমরা প্রতিনিয়ত
তার
পূর্নজন্ম দেখতে পায়।

অস্পর্শনীয় স্বপ্ন
- আকলিমা আক্তার রিক্তা


টুটুল বাসায় একা।বারান্দার চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে। পাশের বাসার ছাদে লাগানো গোলাপ,রজনীগন্ধা আশেপাশের পরিবেশকে সুভাসিত করছে। এই স্নিগ্ধ বিকেলে সুভাসিত ফুলের ঘ্রানে চেয়ারে হেলান দিয়ে এক কাপ কফি হাতে বসে থাকতে মন্দ লাগে না কারো ই। ঠিক টুটুল এর ও লাগে নি। কফি খেতে খেতে একসময় টুটুল এর ইচ্ছে হল রবীন্দ্রসঙ্গিত শুনার।যেই ভাবা সেই কাজ।
হঠাত পেছন থেকে কে যেন টুটুল এর মাথায় টোকা দিল। পেছনে তাকাতেই দেখতে পেল টমাস এসেছে।
ওহ! ভাইয়া তুমি এসেছো
হুম ।
কখন এসেছো?
মাত্র ই আসলাম। গেইট খোলে রেখেছিলি কেন?
খোলা ছিল নাকি? খেয়াল করিনি।
টমাস রাগান্বিত চোখে তাকাল টুটুল এর দিকে। মা কোথায় ?
মনে হয় ডেইজি দিদিদের বাসায় গেছে।
টমাস আগ্রহভরা কন্ঠে জিজ্ঞেস করল ডেইজি দের বাসায় কেনো গেল? আচ্ছা টুটুল তোকে কিছু বলে গেছে কেনো গেল।
না । অত্ত কথা জেনে তোমার লাভ কি। বাইরে থেকে এসেছো হাত মুখ ধুয়ে আসো আমি টেবিল এ খাবার দিচ্ছি।
না না আমি খেয়ে এসেছি।তুই বরং পারলে একটু চা তৈরি কর।
ওকে করছি।
টমাস ও টুটুল ২ ভাই। তাদের কোন বোন নেই। মা বাবা সহ চার জনের পরিবার। টমাস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। আর টুটুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র।দুই ভাই এর মধ্যে অনেক মিল। তাদের মনের অনেক টান। টমাস কে একটু রাগী মনে হলেও মোটেও সে রাগী নয়। টুটুল কে অনেক আদর করে সে। তারা দুই ভাই মায়ের কাজে ও সহযোগিতা করে। তবে টমাস এর তুলনায় টুটুল মাকে বেশী সহযোগিতা করে। এমনকি বিকেলের নাস্তা বানানো, মা বাসায় না থাকলে হালকা পাতলা রান্না করা সে পছন্দ করে। এইজন্য টমাস টুটুল কে মায়ের মেয়ে বলে ডাকে।
তাদের দুই ভাইয়ের মাঝে ঝগড়া ও হত।বিশেষ করে টুটুল এর জামা, টি শার্ট টমাস গায়ে জড়িয়ে ভার্সিটিতে চলে গেলেই টুটুল রেগে যেত। আর টমাস মাঝে মাঝে টুটুল কে রাগাতেই পছন্দ করে।
টুটুলকে টুল বলে ডাকে টমাস। আর টুটুল রেগে গিয়ে টমাস কে টম ডাকে।আর বলে টম কাদের নাম জানো ? কুকুরের নাম । টমাস ও টুটুলকে রাগানোর জন্য টুল নামে ডাকতেই থাকে।
টমাস টুটুলকে খুব আদর করত। টমাসের স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার।কিন্তু সে অনেক পড়াশুনা করা সত্তেও চান্স পায়নি। টমাসের কল্যানে ও পরিশ্রমে টুটুল আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।তাদের দুই জনের দুজনার প্রতি ভালবাসা টা বেশী ই ছিল। আসলে ভাই বোনদের ভালবাসা তা এমন যে কোনদিন মুখে বলতে হয়না ভাই আমি তোকে ভালবাসি। এটা প্রকাশ করতে গেলে ন্যাকামী ই মনে হয় বটে।
টুটুল টমাস কে ছেড়ে কোথাও বেড়াতে গেলে বা টমাস টুটুল কে ছেরে কোথাও বেড়াতে গেলে দুজনেই অস্থির থাকত। নিশ্চুপ হয়ে থাকত। মনে হত কখন বাড়ি ফিরবে।কখন বড় ভাই এর সাথে দুষ্টুমি করবে । টমাস ভাবত কখন টুটুল কে টুল বলে ডাকব। টুটুল বাথরুম এ গেলে লাইট অফ করে দিবে সে ইত্যাদি।
টমাস কে সামনাসামনি ভয় না পেলেও মন থেকে বেশ খানিকটা ভয় পায় সে। শ্রদ্ধা ও করে।খালার বাড়িতে বেড়াতে গেলে ফিরে এসে টমাস আদর করে মাথায় টোকা দিয়ে বলে কিরে বাবা যেই মিষ্টিগুলা খেয়ে ফেলেছিস?
তারা দুই জন খুব মিষ্টি পছন্দ করে। তাই তাদের বাবা সপ্তাহে ৩/৪ দিন মিষ্টি নিয়ে আসত। যখন বাসায় মিষ্টি না থাকে একটা না একটা কান্ড বেধে যায়।রাত বারোটা নেই একটা নেই বাসায় মিষ্টি না থাকা মানেই যত রাত ই হোক বাসায় মিষ্টি আনা লাগে।কারন তাদের মিষ্টি খেতে খুব ইচ্ছে করছে।যখন এত রাতে বাইরে থেকে মিষ্টি আনা একন্তই সম্ভব না হয় দুই ভাই মিলে চিনি খাওয়া শুরু করে।
টুটুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ভালো ছাত্র ছিল।তার স্বপ্ন ছিল একদিন অনেক বড় রাজনীতিবীদ হবে। দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে,দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে।শান্তি রক্ষায় অগ্রনী ভ্রুমিকা পালন করবে। এমনকি একটি রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়ে যায়।কাজ ও করতে থাকে।তার আদর্শ ছিল বঙবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।দেশকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন তার। মিছিল,মিটিং,সমাবেশ সর্বত্রই উপস্থিতি ছিল তার।
টুটুল ঘুমিয়ে গেছে।প্রতিদিনের মত টমাস রাতে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল ।হঠাত একটা ফোন আসল। জরুরী ফোন আসায় বাসা থেকে দ্রুত বের হয়ে যায়। কারো চোখে তা পড়ে নি।
ভোর ৫ টা। টমাস এর মা জাহানারা বেগম এক দুঃস্বপ্ন দেখে চিৎকার করে ঘুম থেকে উঠল। টমাসের বাবা ও উঠে যায়। জাহানারা বেগম কে পানি খেতে দিল। হঠাত করে কেমন জেন বুকটা শুন্য মনে হচ্ছে জাহানারা বেগম এর। বিছানা ছেড়ে উঠে দ্রুত ছেলেদের বেড রুম এ যায়। গিয়ে দেখে দুই ভাই একসাথে ঘুমাচ্ছে। দুই ছেলে কে ঘুমোতে দেখে সে শান্তি পেল। একটা সস্থির নিঃশ্বাস নিয়ে ছেলেদের বেডরুম থেকে চলে গিয়ে ফযর এর নামায আদায় শেষে বাহির থেকে কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে দেখে বারান্দায় গেল। বারান্দায় যেতে ই দেখে নিচে অনেক মানুষের ভীর।কুকুর গুলো ও অনেক ঘেউ ঘেউ করছে। দেরী না করে সে নিচে গেল । জানতে পেলে ভোর ৩/৪ টার দিকে বস্তায় ভরে ফেলে যায় এই লাশটিকে। কে বা কারা ফেলে যায় তা চিনতে পারেনি কেউ। আশেপাশে অনেক মানুষের হৃদয়ের হাহাকার র কান্না অঝোড়ে ঝড়ছে।
টুটুল এর মা ধিক্কারস্বরুপ ও দুঃখভরাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বলছে “আহারে কোন মায়ের কোল কে যে খালি করেছে পিশাচেরা !”
লাশ এর দিকে চোখ পড়তেই পুরো পৃথিবীটা স্তব্ধ হয়ে যায় জাহানারাবেগম এর। হঠাত করে ঘুর্নিঝড়ের মত করে এসে কে বা কারা যেন জাহানারা বেগম এর বুকটা ধারালো ছুড়ি দিয়ে কেটে ক্ষত ক্ষত করে দিয়েছে। এক আর্তনাদের চিতকারে ছুটে এল টমাসের বাবা,টুটুল। সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল। টুটুল এক চিৎকারে বসে পড়ল। চারদিকে কান্নার ঢল পড়েছে।টমাস এর বাবা শোকে পাথর হয়ে গেছে। পরক্ষনেই শোনা যাচ্ছিল উচ্চকন্ঠে বিলাপ।আকাশে বাতাসে যেন হাহাকার আর হাহাকার। এলাকার সবাই এসে ভিড় জমিয়েছে। পুরো পৃথিবীটা বদলে গেছে।
খবর পেয়ে তাড়াহুরো করে এক আর্তনাদে ছুটে আসে ডেইজি। এসেই লাশ কে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পরেছে।লাশ এর মাথাটা বুকে জড়িয়ে সেই কান্না জুড়ে দিল ডেইজি। টুটুল, বাবা ও মা সবাই অঝোড়ে কান্না করছে।কান্নার বিলাপে মুখরিত চারদিক। সকলের বুক ভেঙ্গে কান্না আসছে। ডেইজি কান্না করতে করতে হার্টফেল করে। সবাই তার মাথায় পানি দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলে।সবার পাগলপ্রায় অবস্থা। টুটুল ও টুটুল এর মা বাকহীন হয়ে পড়েছে। কিছুতেই মন কে বুঝাতে পারছেনা টমাস কে খুন করা হয়েছে।
আজ পচিশ এ ডিসেম্বর। তাদের বড় দিন ।টমাস এর মৃত্যুর এক বছর হয়েছে। টুটুল এবং তার পরিবারের সবাই এখন নিস্তব্ধ। আগের মত কোন হৈ চৈ নেই। ঠিকমত খাওয়া দাওয়া নেই। টুটুল এর পড়াশুনায় মনোযোগ নেই।ঘরের মাঝে বিরাজ করে শুন্যতা আর শুন্যতা। বাবা মায়ের অনেক স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে টমাস চলে গেল না ফেরার দেশে। আজ টুটুল এর কানে বার বার টমাসের কথাগুলো বাজছে। তাদের দুষ্টুমী গুলা মনে পড়ছে। আজ খুব শুন্য ও একলা টুটুল। প্রতি মুহুর্ত এ ভীষনভাবে কড়া নারে তার ভাইয়ার স্মৃতিগুলো। প্রতি বড় দিনে কত্ত মজা করত সবাই মিলে। অথচ সেদিন এর পর থেকে আর একটা বড় দিন ও কারো মনে কোন দাগ কেটে যায় না। সবার চোখে মুখে প্রিয় হারানোর বেদনা বাসা বেধেছে।
কিছুক্ষন পর ডেইজি টুটুল দের বাসায় এল। টুটুল দরজা খুলতেই ডেইজি টুটুল কে জড়িয়ে ধরে কান্নাইয় ভেঙ্গে পড়ে। টুটুল আর পরিবারের সবার বুঝতে বাকি রইল না ডেইজি কেন সেদিন আর্তচিতকারে ভেঙ্গে পড়েছিল,কেনো প্রতিরাতে কেঁদে কেঁদে মরে,কেনো ই বা আজ দেখা করতে বাসায় এসেছে।
ডেইজি বিলাপের সুরে টুটুল কে বলতে যায় কিছু কথা
টুটুল ও বেদনা ভরা হৃদয় নিয়ে বলে দিদি আমি দাদার ডায়েরীতে সব পড়েছি। তোমাদের সম্পর্কের সব কথা পড়েছি। তোমাদের ছোটবেলা থেকে প্রেমের কথা জেনেছি। এই বছর তোমাদের বিয়ে করার কথা ও জেনেছি। কথাগুলা বলতে গিয়ে টুটুল এর গলা কান্নায় ভার হয়ে আসে।
শুনেছি সামনের ৩০ তারিখে ডেইজি দিদির অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার বিয়ে ঠিক হয়েছে।

আমার বাংলা
- কৃষ্ণা দাস

আমার বাংলা মা ,
মাগো-
তোমায় ভালবাসি।

মেঠো ধুলোয় গা ভরে
চোর কাঁটাতে পা জুড়ে
নদীর আঁজলা জলে মুখ ভিজিয়ে
রাংচিত্তে পাতার আঠায় চোখ এঁকে
গাৎচিলের রোদ ধোয়া ডানায় দুপুর মেখে
সন্ধ্যায় কলাপাতার ফাঁকে এক ফালি চাঁদে
আহা মরি মরি!
মাগো তোমায় ভালোবাসি ।

কালবৈশাখীর কালো ঝড়ে আম কুড়ানো শৈশবে
জৈষ্ঠ্যের কাঁঠাল পাকা গন্ধে পাগল হওয়া বৈভবে
আষাড়ের বানভাসি সন্ধ্যায়
ব্যাঙের ঐক্যতানে নীরব শ্রোতায়
শ্রাবণে কেয়া কদমের উচ্ছাসে
ভাদ্রের রোদ বৃষ্টিতে কাশের ঘাসে
আশ্বিনে শিউলিতলায় তোমাকে বুকে আঁকড়ে ধরি ।
মা গো, তোমায় ভালোবাসি ।

কার্তিকে নবান্নের স্বাদে
অঘ্রানে ভুখা মাঠে নল ঘাসের ডগায়
পৌষারী ধানের স্বপ্ন ভরে
মাঘ ফাগুনে লাল পলাশে
প্রথম প্রেম আঁকি মাতৃভাষায় ।
মা মাগো তোমায় ভালোবাসি ।

আমার মা
আমার জন্মভূমি মা
সুজলা সুফলা বাংলা মা,
অথবা বণ্যায় ভেসে যাওয়া অভাগী বাংলা,
অথবা শিল্পহীনতায় বা শিল্পিত বাংলা ,
সব টুকু নিয়ে তোমায় ভালবাসি ।

কাঁটাতারের বেড়ায়
দ্বিখন্ডিত বাংলা
ভাষায় মননে একত্রিত বাংলা ।
রক্ত দিয়ে মাতৃ পূজায়
মাতৃভাষার জয় ।
উনিশ একুশে ফেব্রুয়ারী
অবাক বিশ্বময় ।

এ আমার বাংলা
আমার অনেক সাধের বাংলা
তোমাকে আজন্ম বুকে লালন করি
শুরু থেকে শেষ।
বাংলা আমার মা,
হে বাংলা
আমার দেশ ।

বসন্তের দিনগুলো
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

নাট্যমঞ্চে তুমি আর আমি নাটক দেখার উম্মাদনায়,
কপালে বর লাল টিপ দিয়ে তুমি,চুলগুলো এলো মেলো করে হাঁসতে হাঁসতে এলে আমার,কাছে!

আজো স্বৃতি হয়ে আছে সেইদিনগুলো,
হলুদ শাড়ি পরে তুমি হলুদে পানজাবি
গায়ে আমি,
ফাগুনে বসন্ত বরন করলাম, নিজেদের
রাঙ্গা লাম বসন্তের রঙে।
তুমি আমি তখন একসাথে ছিলাম,কেন
তোমার মনে নেই, বৈশাখের
সাজে বটমূলে আলপনা আঁকছিলে,
আমি তো তোমাকেই দেখছিলাম।
অপলক চেয়ে,আমার সব মনে আছে,
তুমি আমাকে একা করে চলে গেলে,না
ফেরার ভূবনে
আমি একা এই বসন্ত,নাট্যমঞ্চের সামনে
আজ আমার হাতে একগুচ্ছ ফুল,
নিয়ে আমি দারিয়ে,
বসন্তের স্পর্শে তোমাকে অঙ্গে মাখিয়ে
রাখতাম,তুমি যদি একবার আসতে।
আমি আর কত কাল
নীলিমায় চেয়ে তোমাকে দেখব।
তোমার কালকেশে বসন্তের ফুল,
যদি আটকে রাখতে পারতাম,
এই বসন্ত তুমি বিহীন একা কাটালাম।

ছায়া শরীর
- সিয়ামুল হায়াত সৈকত

স্রোতের শরীরে হাওয়া কেপেঁছে
উড়ে এসে জুইফুলের মতো না পাওয়া দিনগুলোতে খুব—অস্তিত্বের টান বড়ই অভাবে।
ভেস্তে যাওয়া সন্ধ্যে প্রদীপও বোঝেনা ভালোবাসার অর্থ শুধুই ভালো থাকা নয়!
শেষ দেয়ালে কেউ জবাব নিয়ে বসে নেই
ওপাশে কান্নার স্পর্শ অস্পষ্ট হচ্ছে
রোদেলা প্রেমিক আজ ফেসবুকে মন খোঁজে,
বাতিঘর অন্ধকার; শূণ্য লালপাপড়ির ঘর।
হতাশায় বুড়ো আঙ্গুল আর বাহারি চৈতন্যে বোধগুলো ভোতা-
মরে গেলে কেউ বলবেনা, কবি কেন মানুষ ছিলো।
বাতাস উড়ে এসে নীল হলো
খুব দূরে স্রোতেরা ঘরকুঁনো হয়..

২৩ ফেব্রুয়ারী ১৫

শিল্পির ক্যানভাস
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

শৈল্পিক রূপায়নে জল রঙ্গের আঁচরে,
দৃশ্যমান প্রিয়সীর লাজুক ভঙ্গী মুখখানি,
তুলির টানে তুলে ধরি ক্যানভাসে!
হৃদয়ের স্বপ্নপল্লীতে প্রিয়সী লুকিয়ে।

জলরঙ্গের স্পর্শে মেঘ কালো কেশ,
দুধে আলতা গায়ের রং নাখে নাকফুল
চিরচিরায়িত প্রিয়সীর কানের দুল আটকে রাখার চেষ্টা শিল্পির শৈল্পিক ফ্রেমে।

কেন জানি সবকিছুএলোমেলো,পারছিনা তাকে ক্যানভ্যাসে তুলে ধরতে,তার হাত আঁকতে গিয়ে মুখ মনে পরছে,মুখ আঁকতে গিয়ে টানা টানা আঁখি মনে পরছে।

আমি পারছি না তাকে শৈল্পিক ক্যানভাশে আটকে রাখতে,
জল রঙ্গের আঁচর যেন বিভিন্ন রঙ্গের
সংমিশ্রনে চেষ্টা বৃথায় পরিনত করেছে!
আমাকে জল রঙ্গের ভেলায় ভাসিয়ে,
প্রিয়সী আকাশে তারা হয়ে হাঁসছে।

জনাব, পেট্রোল বোমা
- সুমন রায়

যাদু, হীরা, পান্না, মধু, মুক্তা, সোনা, মণি-
কেমন আছো ভাই?
ওরে বাবা !!
রাগ কোরোনা, রাগ কোরোনা;
সেইরাম জবাব চাই।
বাজার থেকে কিনে দিব
স্যূট,বুট আর টাই;
আরও দিব পাঞ্জাবী,চকলেট,
আদর যদি পাই।
নিব না তোমার কাঠের পুতুল
কেঁদোনা কেঁদোনা ভাই,
চলো এবার যুরে আসি
রথযাত্রার মেলায়।
হ্যাঁ, বলো কী? ওই লাল নিমকি খেতে নেই;
চরকা নাও, ঘোড়া নাও আরো নাও লাল ফুল-
বাঁচাও আমায়, কাঁদিয়ে তোমায় করেছি অনেক ভুল।
চলো উঠি নাগরদোলায়
হাতে নিয়ে বাদাম,
বাবা-মা যদি থাকত বেঁচে
আনন্দ কত আজ পেতাম।
দোকান দেখবে !!
সন্ধ্যা হল। চলো বাড়ি যাই ফিরে;
রাঁধতে হবে, পড়াতে হবে রাতে,
বিধাতা আমায় ভাসিয়ে দিল
অজানা দুঃখের মোহে।
পিতা-মাতা স্বর্গে বসে,
আসতে তাঁদের মানা;
কেড়ে নিল দুটি জীবণ
হিংস্র পেট্রোল বোমা।

আকাশ পোড়ার গন্ধ
- আকলিমা আক্তার রিক্তা

সেদিন অপরাহ্নে তোমার ঠোটে ঝড় উঠেছিল
অতঃপর আমি সিগেরেট কে না বলেছি
আকাশ কে পরিশুদ্ধ করার দৃঢ় প্রত্যয়ে ধাবমান সময়ে
একটা ফোনকল আকাশকে স্তব্দ করে দিয়েছে।
ককটেল এর প্রবল গ্রাসে নিমজ্জিত তোমায় খুঁজে
বেরিয়েছি স্পটে,ঢাকা মেডিকেল এর বার্ন ইউনিট এর
এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে!
মুমূর্ষু মন তবুও শনাক্ত করতে পারেনি তোমায়,
তোমার চোখ,মুখ ও ঠোট!
টানা তিন দিন পর ঢাকা মেডিকেল এর
পরিত্যক্ত স্থানে খুঁজে পেয়েছি কিছু ধুলি আর ছাঁই।
যা আমাকে হাজার বছর রাতের বন্যায় আকাশ পোড়ার
ক্ষন উপহার দিয়েছে।
স্বাদের রাজনীতি আমাকে উপহার দিয়েছে
বিশাল বিশাল মাধবকুন্ড আর জাফলং!
গণতন্ত্র হেসে হেসে উপহার দিয়েছে
বোমা আর ককটেল এর আড়ালে মেঘের ঢল!
স্বাদের গণতন্ত্র আমাকে শিখিয়েছে আকাশ পুড়ে পুড়ে
ক্ষয়ে ক্ষয়ে জলীয়বাষ্প হয়ে যাওয়া!
প্লাষ্টিক,পলিথিন,কাপড়,কাগজ পোড়ার গন্ধ সবাই শুকে
কিন্তু আকাশ পোড়ার গন্ধ কেউ শুকে না
নিরবে নিরবে পুড়ে হয় নিঃশেষ
কেউ দেখে না,কেউ জানে না।

নয় ক্যামেলিয়া
- জোহরা উম্মে হাসান

অরন্যের আদি অকৃত্রিম সৌন্দয নিয়ে যে মেয়েটি আমার দরজায় এসে সেদিন দাঁড়িয়েছিল , তাঁকে হঠাৎ করে দেখতে পেয়ে
মুগ্ধ না হয়ে পারলাম না ।
পরনে তাঁর গোলাপ রং শাড়ি দু হাঁটুর উপরে দোল খাওয়া । গায়ে দোপাটি নীল ছুঁইছুঁইখাটো হাতা ব্লাউস !
কৃষ্ণ কালো দীঘল চুল খোঁপার বন্ধনে বাঁধা উঁচু করে!
গলায় রুপোর সরু হার, নাকে ভারি নাকছাবি কানের লতি জুড়ে টুকরো বন ফুল !
তাঁকে দেখে সত্যি সত্যি থমকে গেলেম , ইট –পাথরের এই মরুময় শহরে সে যেন বড়ই বেমানান ! বড়ই বেমানান !
আমার সে চোখের ভাষা চটজলদি পড়ে নিয়ে বাড়ীর
দারোয়ান সাহস করে বললে ; মেম সাহেব, কাজ করার জন্য মানুষ চেয়েছিলেন
পথ দিয়ে যাচিছল , ধরে নিয়ে এলাম !
আমার সে মুহূর্তে বাহিরে যাবার বেজায়
তাড়া ছিলো ।লেবারদের মান্থলি স্যালারি দিতে হবে,
সামনে ফ্যাকটরির বোর্ড মিটিং , নতুন দুজন বায়ারের সাথে মিট করতে হবে ইত্যাদি , ইত্যাদি !
তাই ছুটতে হবে গাজীপুর ! জ্যাম, সময়
ওয়েদার এসবের কথা মনে পরতেই, বেশ একটু কঠিন সুরেই দারোয়ানকে বললাম;
তুমি জানো না ফ্যাকটরিতে যাবার সময় আমি বাহিরের কাউকে এন্টারটেইন করি না ?
ব্যাস এটুকুই যথেষ্ট !
মেয়েটি ভয়ে ভয়ে দাড়ালো গিয়ে দেয়ালের গভীর বুক জুড়ে দারোয়ানের ভয়ার্ত দু চোখ --- !
এসব আড়চোখে দেখতে দেখতে এক অদ্ভুত তৃপ্তিবোধ নিয়ে বসলাম গাড়ির পেছনের সিটে !
পথচলা শুরু হলে , নির্ভার মনটা হঠাৎই যেন
প্রশ্ন কোরল নিজেকে; ঐ দেহাতি মেয়েটির অপার সৌন্দরযের কাছে হার মেনেই কি
একটু বেশী কঠিন হোয়ে গেলেম আজ ?মন বললো -হবে হয়তো , হয়তো বা না ------!
চলতে চলতে গাড়ির জানালার কাঁচ গড়িয়ে দেখি , যুবক দারোয়ানএকটা হলুদ গাঁদা গুঁজে দিচ্ছে মেয়েটির দোলন খোঁপায় ।
বড়ই কষ্ট পেলাম মনে ; আহা , মেয়েটি ক্যামেলিয়া হতে পারতো
না হয়ে হোল করুন গাঁদা ফুল !!

অমর একুশে
- রুনু সিদ্দিক

ফাল্গুন এর রঙ লাগলো যখন পলাশের বনে
রাজপথ উত্তপ্ত মিছিল শ্লোগানে ।
ভাষাকে যারা করবে মুক্ত নিয়েছিল শপথ ।
তাদের বুকের তাজা রক্তে ভিজলো রাজপথ ।
ভাষার জন্য ঝরলো দেশে শত তাজা প্রাণ,
কতটুকু আর হয়েছে রাখা সেই ভাষারই মান ।
সেই দামাল ছেলেদের "মা" এর বুকে আজো হাহাকার ।
ভাঙছে কি কেউ সে শহীদদের দ্বীপ্ত অহংকার ।
সব শহীদ ভাইদের আজ নিঃস্বার্থ ভালবেসে,
স্বরণ করছি আজ অমর একুশে ।।

বেদনার জল
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

আর কত কাল অপেক্ষার প্রহর গুনবো,
যন্ত্রনার কষাঘাত সয়বো,
আজো বকুল গাছটি সেইরকম দারিয়ে
এখনো পাখিদের মিলন মেলার মঞ্চ,
কিশোর কিশোরিরা প্রভাতে ফুল কুড়াই
সবকিছুই আগের মতোই আছে
কিন্তু শুধুই তুমি নেই
আজো তোমার পথ চেয়ে সেইখানেই আমি রই।

আমি আর কত কাঁদব,একাকিত্ব
নয়নের অশ্রু ঝরাবো
আজকে তুমি অনেক ভাল আছো,
নতুন উদ্দিপনায় নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছো!
আর একা করেছো আমাকে, আজো তোমার অপেক্ষায় বকুল বৃক্ষের নিচে,
জানি না তুমি আসবে,আমার কাছে
আবার কবে ফিরে।

আমি ভুলেই গেছিলাম, তুমি আজ নতুন করে কুটির গড়েছো,
তাইতো আজ শুধু আমি
নিলীমায় চেয়ে থাকি!
না পাওয়ার বেদনায় নয়নে অঝরে,
অশ্রু ঝরে,
অর্পনা তুমি রয়েছো অনেক দূরে।

আপেক্ষিক প্রতিক্ষা
- সুমন রায়

বসন্তের উচ্ছৃঙ্খল নরম ছোঁয়ায় তোমার ফুলগুলো ক্রমেই তোমাকে পরিতৃপ্তের নিস্তব্দ সাগরকে তরঙ্গতায় পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
তারই একফোঁটা স্বস্তির আভাস আমার জাগরণকে শিহরিত করে অবিরাম।
ওগো, তুমি কি পারবে; সূর্যালোকের স্বার্থহীন দিপ্ত হয়ে মাথার উপর ঝরে পড়তে?
আমি কুড়িয়ে আনব তোমার সেই দয়াময়ী অমৃতের নির্যাস।
সেখানে থাকবে না কোন ধংসাত্বক ঝড়ের পূর্বাভাস।
তখন, করবনা তোমায় স্নিগ্ধ প্রত্যুষে জেগে ওঠা তুষারময় প্রেমের নিলাম।
অতঃপর-
বৈশাখী মেঘের রুপ ধরে নির্জন কোন পাহাড়ে আমাদের চারিপাশ অচেনা মায়াবী কোমল কোন সুশীতল উন্মাদনা ঘিরে থাকবে।
হঠাৎ দমকা হাওয়া এসে আমাদের পিঞ্জরে আবদ্ধ হৃদয়দুটো আরও ঘনিষ্ঠতা করবে।
দেখবে তুমি সে কালে, ছলনাহীন ভালোবাসার অস্তিত্ব।
এরই আশায় যুগে যুগে একলা পথে বড্ড বেশী ক্লান্ত,
পরাণ পাখি উড়তে চায়,
ক্ষণে ক্ষণে থেকে হয় সামুদ্রিক ভূমিকম্প।
তোমায় পেতে আজও হিয়া মোর অনির্বান অশান্ত।
তোমারি সুভাষিত মোহে আমি আজও মহীয়ান,
তোমারি বলে আমি দূরকালেও বলীয়ান,
এভাবেই রয়ে যাব ধরণীর তরে চিরকাল অম্লান।
বিক্ষুব্দ হৃদয়ের উড়োজাহাজ দু বাহুতে ভর দিয়ে সাঁতরে চলেছে,
আমার অনিশ্চিত প্রেমাকাশে।
গন্তব্যস্থান- তোমার রাডারেরর সংকেত অতিক্রম করে অজানা মিষ্টি ভয়কে জয় করা।
কী?
তুমি পারবে তো, আমার সহযাত্রী হতে?

তুমি আমার একুশ
- ডাঃ ফারহানা মোবিন

'একুশ' তুমি আমার ভাষা
আমার কবিতা,
তুমি আমার গর্জন
আমার নীরবতা ।

'একুশ' তুমি আমার একাত্তর
বাংলার স্মৃতিকথা,
তুমি শহীদ মিনার
বাঙালীর বীরত্ব গাঁথা ।

'একুশ' তুমি আমার সন্মান
আমার প্রকাশ,
তুমি এই বাংলার
মুক্ত আকাশ ।

'একুশ' তুমি আমার বাংলা
আমার বর্ণময়,
পৃথিবী জুড়ে তুমি
আমার পরিচয় ।

চিলেকোঠা
- মন্দিরা এষ


কাঠের দোতলাটির একটি চিলেকোঠা ছিল, যেখানে এখন আর কেউ থাকেনা ।
নীচের সিঁড়িগুলো উপড়ে যেতে যেতে পথ বদলে নিয়েছে, চিলেকোঠা বামে রেখে ।
তুমুল জোৎস্ন্যা নামলে সাঁতরানো তারাগুলো চুমু খেতো নুয়ে নুয়ে, রাতভর--
কিছু শৈশব মাখা ঘুমভোর
কিছু টুটাফুটা খেলনা
কিছু অবাধ্য দুপুর
কিছু গোপন ইস্তেহার
বেতের ভাঙ্গা টুকরীতে কোরে রাখা আছে চিলেকোঠায়, যেখানে এখন আর কেউ থাকেনা ।
আধেক ছাদ শুধু জানতো, বৃষ্টিরা ধেয়ে এলে বুকচিতিয়ে দাঁড়ায় চিলেকোঠা--- নিমগ্ন আলিঙ্গনে ।
চিলেকোঠায় একটি হারমোনিয়ম ছিল, যা দোতলাবাসিরা নিজেদের ঘরে নিয়ে এল--
মাত্রাতিরিক্ত ধ্যাদ্দেরে রিডগুলো শ্বাস নেয় নতুন বোলে--- চিলেকোঠা গান ভুলে গ্যাছে ।

১১.০২.১৫

চন্দ্রিকা
- আমিন খন্দকার

( ১ )

তুমি দুঃখ দেবে ?
দাও-
সমুদ্রের পরিমাপে
আকাশের পরিমাপে ;
তবুও একাগ্রাহ চিত্তে
অহংকার নিয়ে বলবো ,
আমি তোমাকেই ভালোবাসি ।
বেঁচে থাকার জন্য
আমাকে তিন বেলা খেতে হয়
এখন এক বেলা হলেও চলবে ,
কিন্তু-
তোমাকে একটু কম ভালোবাসলে
আমার মোটেও চলে না
আর কোনোদিন চলবেও না ।

( ২ )

জোৎস্না যেমন পৃথিবীর
অন্ধকার রাত আলোকিত করে
তেমনি তুমি আমায় !
বিশ্ময় সম্মোহন নিয়ে
তোমার নক্ষত্র চোখে
মাঝ রাতে এক প্রহর
আমি চন্দ্রিকা হতে চাই !
যে চন্দ্রিকা তোমার মন ছুঁবে ,
তনু ছুঁবে , দৃষ্টি ছুঁবে ,
কামনার দেবালয় ছুঁবে !
এ ভাবে সব কিছু ।

রুহ্দার
- মন্দিরা এষ

ক্যানভাসে রঙ ঢেলে
এলোপাথাড়ি ব্রাশ মেরে
উন্মাদ চিত্রকর যতবার ভোর এঁকেছে,
এসেছে সন্ধ্যা
ক্লান্ত হতোদ্দম শহরকে কাঁধে নিয়ে।
ক্যানভাসে রঙ ঢেলে
এলোপাথাড়ি ব্রাশ মেরে
উন্মাদ চিত্রকর যতবার জীবন এঁকেছে,
হয়েছে যন্ত্র
সারি সারি বাসে ঝুলে চলছে ভাবলেশহীন।
ক্যানভাসে রঙ ঢেলে
এলোপাথাড়ি ব্রাশ মেরে
উন্মাদ চিত্রকর যতবার নবজাতকের কান্না এঁকেছে,
হয়েছে লাশের মিছিল
আঘাতে-অপঘাতে নির্ধারিত দৈববশে।
ক্যানভাসে রঙ ঢেলে
এলোপাথাড়ি ব্রাশ মেরে
উন্মাদ চিত্রকর যতবার অরণ্য এঁকেছে
জ্বলেছে দাবানল
পাহাড়ে পাহাড়ে সবুজে - নীলেতে।
এমন কি চিত্রকর ''রুহ্দার'' তার নাম ভুলে গ্যাছে ।।

১৪.০১.১৫

বসত
- প্রিয় দর্শীনি

মিষ্টি পাখি নাম মিঠুয়া...
উড়ু উড়ু মন, উড়ে উড়ে যাই,
খুঁজে খুঁজে ফিরি মনসাথি,
"ও পাখি তুমি বন্ধু হবে?"
আমি!! অচেনা বিদেশি পাখি তুমি যে,
তোমার অনেক দামি আবরন,
দামি পাখিরালয়ে তোমার বিচরন।
সেথা হীরা, মণি,মুক্তার বাসা.......
দাম্ভিক,স্বার্থে ভরা মন,
আবদ্ধ হব,ক্লান্ত হব, হারিয়ে যাবো সেথা....
আমি তাই উড়ে চলি না হারানোর দেশে,
বট,অশ্বথ,শিমূল,পলাশে বানাবো বসত
উড়িয়ে নিয়ে এসে খড়, কুঁটো,............
বাঁধবো বাসা মনসাথির সাথে,
যার মনে থাকবে শুধু খোদাই আমার নাম,
তোমার অনেক সাথি, আমার নেই যে কোন দাম
চলি বন্ধু, উড়ে যাই আমি ঠাঁই জানিনা,
নিস্বার্থ ভালোবাসায় ভরা মন...........
আমার একমাত্র বসত ঠিকানা।।

বিষাক্ত প্রেম
- প্রিয় দর্শীনি

কেন তুমি কাছে এলে?
কেন তুমি চুরি করলে সময়?
কেন তুমি বাঁধলে বন্ধনে?
কেন তুমি দেখালে স্বপ্ন?
কেন ই বা হারালে অজানায়?
তুমি জানো এই আসা যাওয়ার মাঝে,
তৈরি হয়েছে এক বিশাল ক্ষত,
ক্ষত যেন উল্কাপাতে সৃষ্ট গহ্বর,
নিসৃত রক্তে মিশ্রিত লবনাক্ত অশ্রু...
বুকের মাঝে ক্ষত পোকারা বলে বিষাক্ত, বিষাক্ত
বিষাক্ত আমার শরীর,
বিষাক্ত আমার সময়,
বিষাক্ত আমার ভালোবাসা,
বিষাক্ত আমার চাওয়া - পাওয়া,
বিষাক্ত আমার তুমি,
বিষাক্ত তোমার সাজানো প্রেম।।

জাদুঘরে ফিরে পাওয়া
- পৃথা রায় চৌধুরী

ছেলেটা বলল, পুরনো হাঁটিহাঁটি পা পা বাবার আঙ্গুল ছুঁতে যাবে
ধারাপাত ছোটায় প্রাগৈতিহাসিক হাড় চামড়া;
জানো, এখানে ভয় পেয়েছিলাম একবার।
ছেলেটা জিজ্ঞেস করলো, কতোটা বিশ্বাস? বন্ধ চোখে পাশে চলো,
ওই দেখো আমার সেই ভয়; তুমিও...
তুমিও ঠিক অমনিই চীৎকার!
অবন ঠাকুরকে চেনো? তবে যে বোদ্ধা সাজছো ঘাড় মাথা দুলিয়ে;
রঙ তুলি কারসাজি, সব বুঝেছো। তোমার আমার
কাঁচের ঘেরাটোপ, তুমি আমি জীবাশ্ম...
খুব পুরনো চামড়ায় সুড়ঙ্গ কাঁদে, রসায়নে তবু চেষ্টা আপ্রাণ,
তার সাথেই, গা ঘিনঘিনে নিথর সরীসৃপ
বুক ঘষটে অচল ব্যাঙ মরণাপন্ন।
আদ্যিকালের সিঁড়ি, অশোক স্তম্ভের বাঘ চেনো?
ঈজিপ্সিয়ান প্রেমিকার কি যেন নাম ছিল!
তুমি বরং সস্তায় কিছু তৈলচিত্র কেনো...
হাতের কাছে সূর্য,
পড়ন্ত বেলায় গাছের ফাঁকে ফাঁকে জ্বলে...
আর কয়েক পা... আর একটু পথ,
"জাঁহাতক ঘটা চলে..."
অথচ, কোনোদিন সামনে না আসা সুর পড়ন্ত বিকেলে
পিঠে মুখ চেপে ভাসিয়ে আনে
অজানা সুর সেই বাজিকর ছেলের...
ইতিহাসের দুপুরে, কিছু আড়াল চোখে পূর্ণতা মাখে
নামহীন সম্পর্কের নামকরণ হয় আরক্তিম
শুধু আদি অন্ত জুড়ে থেকো পাশে।

অসীম নিলে
- রেবেকা রাহমান

আমার বুক থেকে ছিটকে পড়লো দীর্ঘশ্বাস
তোমার দিকে তার ওম ছুঁড়ে দিতে চাইলাম
তুমি সন্তর্পণে সরে গেলে...
অনুভূতিদের বন্ধ করেছি
হাতের মুঠোয়
আঙ্গুলের ফাক গলিয়ে
তারা ঝাপ দিতে চাইছে তোমার অরন্যে ...
বোকা ভালবাসাদের অবরুদ্ধ করেছি ...
তারা আর ফিরবেনা
বিবর্ণ পাতাদের দলে ...
আকাশে আজ ঝকঝকে সূর্য
মনকে তার সাথে বেঁধে দিলাম
উড়ে যাচ্ছি অসীম নীলে ......।

যাপিত জীবণ
- সুমন রায়

সাজানো হৃদয় বেদিতে,
স্বপ্নের ফুল;
থেকে থেকে পীড়া দেয়
অতিতের ভুল।
মাঝরাতে জেগে ওঠে না বলা কথা
উড়ে চলে অসীম হৃদয়
প্রেম সেথায় গাঁথা।
ভোরের শিশির যেমন
নাচে আলোর তালে,
প্রভাতে ভাবনাগুলো
মিলিয়ে যায় কালে।
পুণরায় ঘরে ফিরে
বিদগ্ধ আশা,
খেলা করে ছলনায়
ফেলে যায় মায়া।
তবুও হয়না ভোলা
আসে ভালোবাসা,
নিত্য গেলেই দানা বাঁধে;
ঘণীভুত সর্বনাশা।
জীবণ আমার হেসে-খেলে
পেরিয়ে যায় ছলে,
মিষ্টি-মধুর প্রেম জীবন;
কাটবে মিছে সুখে।

বাচ্চার কান্না
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

আধার কালো মধ্যরাতে,নিরব পরিবেশ
হঠাৎ বাচ্চার কান্না
একটু ভীত হয়ে এগিয়ে গিয়ে
তাকিয়ে দেখলাম জানালার বাইরে!
দেখলাম ভয়ঙ্কৃত চেহারা
তার কপালে চোখ,মাথার চুলগুলো অগুছোলো
দেখতে ভয়ানক বৃদ্ধ,কিন্তু
কান্না করে বাচ্চাদের আওয়াজে।

ধীরে ধীরে কান্নার শব্দ দিল বারিয়ে,
বড় বড় দাঁতগুলো বের করে,
আবার,দিকেই এগিয়ে আসছে।
শরীল হতে বয়ে যাচ্ছে ঘাম
কম্পিত কন্ঠে চিৎকার,
ভূত ভূত বলে হঠাৎ করে ফেললাম জ্ঞান হারিয়ে।

জ্ঞান যখন ফিরল, নিজেকে আবিষ্কার
করলাম,নির্জন ঘোর আধার রাতে
দিঘির পাড়ে শুয়ে ছিলাম,ভয়ে ভয়ে
শুধু অপেক্ষা
করছিলাম কখন প্রভাত হবে,
দূরিভূত হবে হৃদয়ের ভয়,আর ভয়কে
করবো জয়।
আবার আমার দিকেই এগিয়ে আসছে...


হে সুন্দর , তোমাকেই বলি
- অনির্বাণ দাশ

১।।
পাড়ার দাদা । যাঁকে বিজয়ার প্রণাম ক'রতে গিয়েছিলাম । যিনি পা থেকে হাত উঠিয়ে কোলাকুলি করেছিলেন ।ভেবেছিলাম মর্যাদা দিলেন । --- পোলিটিক্যাল লিডার ।

পরে চাকরির জন্যে তাঁর একটা সুপারিশ চাইতে গেলাম । তিনি বললেন , ' কোনো হাত নেই । সব ফেয়ার সিলেকসান ' ।

যোগ্যতম হ'য়েও চাকরিটা হ'ল না । -- দাদাটার মাসতুতো ভাই পেয়েছিল ।

২।।
আরেক দাদা । যাঁকে তুমি ক'রে কথা বলতাম । কতো নান্দনিক কাল কেটেছে আমাদের । নির্জনে কতবার 'মহুয়া' , 'রূপসী বাংলা'-র পাতার পর পাতা ...

২৫ বৈশাখে পাড়ার ফাংশানে আমার আবৃত্তি । 'ছবি' কবিতাটি চাইতে গেছিলাম । দাদা বললে , 'ওটা তো বলাকায় পাবি , কোথাও সঞ্চয়িতাটা জোগাড় ক'রে নে' ।

আলমারির মাঝের তাকের ডানদিকে বইটা দেখতে পাচ্ছিলাম ।

৩।।
দিদি । তুই-তোকারির । রাখীর দিনে ঘটা ক'রে উৎসব হ'ত ওদের বাড়িতে , ভাইফোঁটায় তো কথাই নেই । --

মা যেদিন আর নেই , তার গলা জড়িয়ে বলেছি , 'দিদিভাই তুইও আমায় ফেলে যাবি নে তো !'

বিয়ের পর সে বললে , 'না না আর নয় বর কী ভাববে' ।


উপসংহার।।
যে ঝর্ণা প্রাণের কল্লোলে ব'য়ে চলেছে -- যে পাখি গান গায় মনের আনন্দে -- যে পাতা বাতাসের সঙ্গে ধরেছে যুগলবন্দী -- যে প্রেমিকা চুম্বনে ভরিয়েছে তার প্রেমিকের ঠোঁট , তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসা করলাম , 'আমাকে এত নরম ক'রে গড়লে কেন ?' --- তারা সকলে ক্ষণিক থমকে একসঙ্গে ব'লে উঠলো 'তা না হ'লে তুমি আমাদের খুঁজেই পেতে না , তুমিও আমদের সাথে যোগ দাও ।'

'ঝর্ণার আছে প্রাণের কল্লোল , পাখির আছে মনের আনন্দ , পাতার আছে বাতাসের প্রবাহ , প্রেমিকার আছে প্রেমিকের ঠোঁট । আর আমি যে একা ।' --- ওরা তা শুনতেই পেলে না ।

আর নয় অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


ফাস্টফুড খুব মুখরোচক খাবার । এতে থাকে মেয়ানিজ, ঘি, মাখন, নানা রকম মশলা । অতিরিক্ত তেল, যা স্বাস্থ্যের জন্য সবসময় উপযুক্ত নয় । ফাস্টফুড হলো অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার । যা শিশুদের জন্য দরকারী হলেও সব শিশুদের জন্য যৌক্তিক নয় । কিছু শিশু রয়েছে যারা বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী বেশী ওজন সম্পন্ন । পারিবারিকভাবে যাদের আত্নীয় স্বজনদের হার্টের অসুখ, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বি জমে খাবার প্রবণতা রয়েছে, তাদেরকে আরও বেশী সচেতন হতে হবে । এই ধরণের পরিবারের শিশুদেরকেও হতে হবে খুব বেশী সচেতন কারণ ছোট্ট বয়স থেকেও রক্তে চর্বি জমে যেতে পারে, বিশেষত যেসব শিশুদের খাবারের চাহিদা বেশী কিন্তু খেলাধুলা করার কোন সুযোগ নেই । শুধু বাসা আর ক্লাসের মধ্যেই বন্দী থাকে, ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল ফোনের গেমস বা ভিডিও গেমস নিয়ে । এতে দৈহিক পরিশ্রমের অভাবে ছোটদের ওজন বেড়ে যায় । তাই ছোটদের ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য অবশ্বই খেলাধূলা করতে হবে ।


আজকাল শিশুদের পুরো দেহের ওজনের থেকেও বেশী হয়ে গেছে তাদের বই খাতার ওজন । দৌঁড়ে ছোটরা বঞ্চিত হচ্ছে খেলার মাঠে আর দৌড়াদৌড়ি থেকে ।


স্কুলের ক্লাস, কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা, অনেক রাত জেগে পড়া আবার সকাল হলেই ব্যাগ ঘাড়ে নিয়ে স্কুলে ছুটে যাওয়াটা হয়ে গেছে তাদের নিত্য দিনের রুটিন । এইভাবে যেসব শিশুদের জীবন চলতে থাকে, তারা অকালেই বৃদ্ধ হয়ে যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসে, কম বয়সেই চলে আসে মানসিক অবসাদ । পরিণামে অকালেই হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিস হতে পারে । হবেই এমন কোন বাধাধরা নিয়ম নেই । তবে হবার সম্ভাবনা বেশী থাকে ।


ছোটদেরও ডায়াবেটিস হতে পারে । তাই অধিক ওজন সম্পন্ন শিশুদেরকে ফাস্টফুড যতোটা পরিহার করা যায়, ততোই ভাল । আর যারা প্রচুর খেলার, দৌড়াদৌড়ি, ছুটোছুটির সুযোগ পায়, তাদের জন্য ফাস্টফুড ততোটা ক্ষতিকার নয় । তবে এই খাবারগুলো সীমিত হওয়াই ভালো । এসব খাবার হলো অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার । আর যেসব শিশুদের হজম ক্ষমতা কম, তাদের অ্যাসিডিটি বা গ্যাসট্রিকের সমস্যাও হতে পারে তাই ছোট্ট বন্ধু তোমরা সবুজ ও হলুদ শাক সব্জি, মৌসুমী ফল, বাসার তৈরী খাবার, বাসার তৈরী ফলের জুস যতোটা পারো খাও । এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে । দেহে বাড়তি ফ্যাট বা চর্বি জমবে কম । কোমল পানীয়, এ্যানার্জি ড্রিংকস যতোটা বাদ দাও । খেতে মজা পেলেও, দেহের জন্য খুব ক্ষতিকর । তাই নিজের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য তোমরা মনোযোগী হও । সুস্থ সবল হলে তোমরা দ্বিগুণ উৎসাহে কাজ করতে পারবা । ছোট্ট থেকেই তোমরা মনোযোগী হও নিজেদের প্রতি । তোমাদের জীবন হোক আলোকিত ও উজ্জ্বল ।


...ডাঃ ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার ( গাইনী এন্ড অবস্ )
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ ।
ই-মেইলঃ farhanamobin31@yahoo.com
তারিখঃ ১১-০২-২০১৫ ইং

অপূর্নতা
- রুনু সিদ্দিক

জীবনের প্রয়োজনে, কখনো বা আনমনে
ভূল যদি কোন কিছু হয়ে যায় ।
স্মৃতির কারাগারে বন্দী করে তারে
কতদিন লুকিয়ে তারে রাখা যায় ।
হঠাৎ মনে পড়ে, কখনো বা তার ঘরে
অবাধ ছিল যাওয়া আসা ।
কিছু স্মৃতি কিছুক্ষণ, অনুভবে অনুক্ষণ
দুর্লভ ছিলো কিছু আশা ।
বুঝেছি আমি যখন হারিয়েছি সব তখন
বুকের জমানো ভালোবাসা ।
হারিয়েছি সবকিছু তাকাইনি আর কিছু
ভুলের সাগর দিয়ে পাড়ি ।
একদিন সব শেষ, হয়ে যাবো নিঃশেষ
অন্য ভূবনে দেব পাড়ি ।

কাকতালীয়
- অনির্বাণ দাশ


শাশ্বতর বাড়ি মেজিয়ায় । -- নতুন চাকরি পেয়ে কোতুলপুরে এসে অশোকবাবুর সঙ্গে বাইকে বেড়াতে গেছিল দারাপুর গ্রামে । --- লাল কাঁকরের রাস্তা , একটি ছোট্ট নদি , দারাপুর-সাগরমেজে একজোড়া গ্রাম ।
তার বাড়ির কাছে কানসাড়া-কাঁসাই-ও তেমনি জোড়াগ্রাম পাশাপাশি , সেখানেও একটি ছোটো নদি , লাল কাঁকুরে রাস্তা ধ'রে যেতে হয় ; মেজিয়া থেকে প্রায় এতটাই পথ ! --- ভৌগোলিক রেপ্লিকা !
একবার গরমের ছুটিতে শাশ্বত বাড়ি এসেছে । বাজারে আম কিনতে গিয়ে অশোকবাবুর সঙ্গে দেখা ; দূরসম্পর্কীয়া এক অসুস্থ আত্মীয়াকে দেখতে যাবেন কানসাড়া । গাড়ি নেই ; অগত্যা শাশ্বতর মোটরবাইকে... !

তোমার স্পর্শে
- স্বর্নেন্দু মুখোপাধ্যায়

আমি কবিতার ছন্দে তোমায় খুঁজেছি বারবার।
লোক লৌকিকতায়, ব্যস্ততার ভিড়ে বুকে জমে থাকা যন্ত্রণা কেউ বুঝতে চায়নি।
পোশাকি বাহারে ছড়িয়ে গেছে সুখের ঐ শীৎকার।
হাসিমুখে বরণ করেছি না পাওয়ার ক্লেশ।
তবুও এই অসহ্য হাত দুটো তোমায় জড়িয়ে ধরতে চায়।
আলোর চাদরে অসমাপ্ত প্রেমের উষ্ণতায়।
তোমার হাঁসিতে শরীরে মাদলতা নব সজলধারার রূপে ফিরিয়ে আনে প্রাণ।
চোখের কোলে বয়ে চলা অভিমানী নদীটি তোমার মোহনায় আশ্রয় খোঁজে।
ডায়েরির পাতায় জমিয়ে রাখা সন্ধ্যে;
কলাপাতার শিরায় লিখে রাখা গল্প তোমায় দিলাম।
অন্ধকারে গ্লাসিয়ার ভেঙ্গে তুমি ফিরিয়ে দাও টিউলিপের পালকে লেগে থাকা সুখ।
প্রতিটি ভোরের সৌন্দর্যময়তাকে আলিঙ্গন করে আমি বাঁচতে চাই তোমার স্পর্শে....

ঝড়
- কৃষ্ণা দাস

জানেন আমার গন্ধরাজে কুঁড়ি এসেছে,
সকাল বেলায় বাগানে গিয়ে দেখি
শিশিরে আদরে মাখামাখি।
জানেন বেলগুলোও পাগলের মত
সুগন্ধ ছড়াচ্ছে আজকাল।
সেই যে সেদিন ঝড় উঠলো-
আপনি তখন আমার বাগানে,
দেখেছিলেন কত জুঁই ফুটে ছিল থরে থরে?
আপনি তখন মৌন মুখর
যেন কোন গভীর থেকে
সংগোপনে তুলে আনছেন অস্তিত্বের সুবাস ।
আমার বাগান ভরা ফুল সকৌতুক;
তাকিয়ে ছিল আপনার দিকে,
আপনার ডুবুরি চোখ
খুজে চলেছে গুপ্তধন,
আবিষ্কারের নেশায়
তন্ন তন্ন করে
আমার চোখের গভীরে।
হাওয়ায় উড়ছিল কিছু অবাধ্য শুকনো পাতা,
কিছু অসহায় পাখির পালক,
আর কিছু বেপরোয়া দামাল সম্ভাবনা।
আপনি ভায়োলিনে তুললেন ঝড়।
অন্তলীন সুরের আবহে
এক মাথা এলোমেলো উড়ন্ত চুল
আছড়ে পড়ছিল আপনার কপালে, চোখে. মুখে।
ঝড়ের দাপটে ওলোট-পালোট জানলা খসা মন ,
তবুও আপনি স্থির অবিচল ,
ভূমধ্য সাগর তীরে
যেন কোন গ্রীক ভাস্কর্য।
তখন ষড়যন্ত্র করেছিল বাতাস ;
উড়িয়েছিল আমার আঁচল;
কারণে অকারণে ছুঁয়ে যাচ্ছিল
আপনার বিদগ্ধ মুখ;
আপনার কুঁঞ্চিত ভ্রূ;
আপনার বন্ধ সমাহিত চোখের পাতা।
আপনার সুরের ঠোটের অদৃশ্য স্পর্শে
একা একা ভিজছিল আমার চোখের পাতা,
আমার অস্তিত্ব, আমার সযত্নে লালিত অহংকার।
কী করে যেন জানাজানি হয়ে গেল তা
বাতাসের কাছে ।
তার পর-
ঝড় থামল, ভায়োলিন থামল,
থামল প্রহর যাপন।
শুকনো পাতার আস্তরণ সরিয়ে
জেগে উঠল সতেজ পাতা,
আর মেঘের ঘোমটা সরিয়ে
জানিনা কেন
অলক্ষ্যে হেসে উঠল চাঁদ।
জেগে উঠলো ক্লান্ত আধবোজা
রক্তাক্ত মাদকতা ভরা দুটি চোখ ,
যেন সুবিশাল আটল্যান্টিক মহাসাগর সাঁতরে
উঠে এলেন
ভিজে ঢোল মনে
আকন্ঠ পিপাসায়
আমার শ্যাওলা সবুজ
হিয়ার পাড়ে ।
কিন্তু ঝড় যে আর থামলনা ,
আপনার মনে, আপনার চোখের তারায়।
নঙ্গর হারা অস্তিত্ব শুধু কেঁপে কেঁপে উঠতে থাকল
সে কোন বিদ্ধংসী প্রলয় সম্ভাবনায় প্রবল উচ্ছ্বাসে।
জানেন সেই রাতেই প্রথম ফুটেছিল গোলাপ
আমার বাগান আলো করে;
রক্তলাল- নিটোল -সুগন্ধময়।।

১৪ই ফেব্রুয়ারী
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

তীব্র শীত আর হালকা কূয়াশার মাঝে,
প্রকৃতি রাঙ্গাতে ভালবাসা দিবস,নতুন
আঙ্গিকে সাজাবার দৃহৃ প্রয়াস নিয়ে,
বসন্ত তুমি আসলে।
বসন্তের ছোঁয়ায় নতুন উদ্দীপনায়,
ভালবাসা দিবস ১৪ই ফেব্রুয়ারী
ভালবাসার প্রিয় মানুষটির সাথে উদযাপিত করার জন্য দীর্ঘ প্রতিক্ষায়।

বসন্ত কথা বলে কৃষ্ণচুরার সাঁজে,
ভালবাসা দিবস রাঙ্গানোর জন্য
১৪ই ফেব্রুয়ারীর অপেক্ষায়,দীর্ঘ অপেক্ষা!
রংধনু তার সাত রং নিয়ে।

যোবনের উদ্দিপনায় একরাশ গোলাপ
হাতে করে, প্রতিক্ষিত স্বপ্ন পূরন করার
প্রবল ইচ্ছা নিয়ে!
প্রেম নিবেদনের জন্য আছে দারিয়ে
১৪ই ফেব্রুয়ারীর অপেক্ষায়।

জীবনে অনেক কিছু বলার প্রিয় মানুষটির সাথে,
তাই ছোট ছোট বলা গুলো একত্রিত
করে,তৈরি মহাকাব্য!
উদ্ভাবিত আনন্দ হৃদয়ে নিয়ে,মিট মিটি
হাঁসে ঐ দূর নীলিমায় চেয়ে।

চুম্বন
- রীতা ঘোষ

চুমুর বন্যায় যখন সমগ্র রাষ্ট্র প্লাবিত
একটি খাঁটি চুম্বনের খোঁজে নারী তৃষ্ণার্ত ।
যে চুম্বনে থাকে না স্বার্থপরতা , ছল , লালসা
কিন্তু পাশে থাকার অটুট বিশ্বাস , ভরসা ।
যে চুম্বনে থাকে না ঈর্ষা , অপমান , আধিপত্য
সম্মানিত হয় বন্ধুত্ব , নারীত্ব , মাতৃত্ব ।
যে চুম্বনে থাকে না অবহেলা, অবিশ্বাস, অহমের ছোঁয়া
স্পর্শে শুধুই যত্ন , ভালোবাসা আর নিবিড় করে পাওয়া …
হে পুরুষ ! এ আমার পরম চাওয়া !!!

ওহে রূপবতি নারি ( পর্ব-২ )
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

বেহুলা যেমন স্বর্গের
সন্ধানে হয়েছিল ভবঘুরে।
ভেলায় ভেসে!
লক্ষিন্দরকে নিয়ে গিয়েছিল
বাঁচাবে বলে।
ওহে রুপবতি নারি!
আর তুমি আমাকে পেলেনা খুঁজে।
অজানা রাজ্যে!
তোমার অপেক্ষায়
রয়েছি আমি প্রেমের ঘাটে।

তুমি কবে, কবে?
আসবে ফিরে,
আমাকে ভালবেসে কবে কাছে নিবে।
ওহে রূপবতি নারি!
তোমার রূপ
দিয়ে কবে নিবে কাছে টেনে।!
ভালবেসে!

কোমরে কাঁকন সাজিয়ে, খঁন্জ
না নিয়ে হাতে,
আসছো না কেন
তুমি মা দেবি দুর্গাবেশে।
ওহে রূপবতি নারি!
আমাকে ভুলে কোথায়
ছেরে চলেছো জানি।
তোমাকে সারাজীবন
ভালবেসেছিলাম আমি!
ওহে রূপবতি নারি তোমাকে অনেক
ভালবাসি।

যাচ্ছো তুমি অন্যের ঘরে!
তোমার হাতে একগুচ্ছ চুরি
পরনে বেনারশি লাল শাড়ি।
খেয়ায় বসে!
তোমার আমার প্রেমের
নদী দিচ্ছো তুমি পাড়ি।
সেই খেয়ারি!
সেই নদীতে আমায় বানালে মাঝি।
ওহে রূপবতি নারি তুমি!
ওহে রূপবতি নারি ( পর্ব-৩ )
লেখক - স্বজন ইসলাম নাহিদ

খেয়া বাইতে, বাইতে!
প্রেমের নদীতে জোয়ার উঠে।
সেই নদী আজ আমার জন্যে কাঁদে,
আর কান্নার স্রোতে!
একদিন ভেসে আসবে আমার কাছে।
জানি একদিন তুমি আসবে, আসবে।
আজকে আমি যে খেয়ার মাঁঝি!
সেই
খেয়াতে নিয়ে আমাকে ভাসবে।

ওহে রূপবতি নারি!
তোমাকে আমি নাহি কখনো ভুলিতে পারি।
বেহুলা লক্ষিনদরকে নিয়ে গিয়েছিল
স্বর্গে।
লক্ষিন্দরের জীবন বাঁচিয়ে ছিল
এনে।

ওহে রূপবতি নারী!
তাহলে আজ কেন পাবনা তোমাকে।
প্রেমের
ঘাটে আজো খেয়া নিয়ে বসে আছি তোমাকে পাব
বলে।
ওহে রুপবতি নারি!
ওহে রূপবতি নারি ( পর্ব-৪ )
লেখক - স্বজন ইসলাম নাহিদ

আমার খেয়ার কথা!
নেই তোমার মনে,তুমি আসো না আর
তোমার আমার খেয়া বই সেই
নদীতে।
ওহে রূপবতি নারী!
তুমি এখন অন্য এক নদীতে,বাইছো নতুন এক তরি।

আমার
খেয়া নিয়ে অপেক্ষা থাকার
কথা গেছো ভুলি।
ও নারি তুমি রূপবতি, তোমার
রুপেরী স্ফুলিঙ্গে পুড়ি।
আর! চোখের জলে হয়েছে নদী,
তবুও সেই নদীতে বইবেনা তোমার
তরী।

ওহে রূপবতী নারী!
আমি সইবোনা যন্ত্রনা,
বাইবোনা খেয়া।
আমার অপেক্ষার প্রহর শেষ,
তোমার জন্যে আর-
করবো না অপেক্ষা।

আমি যদি- খেয়া বাই!
তাহলে আমার নদীর জোয়ারে।
তুমি আজ- যে তরি নিয়ে ভাসছো,
সে তরী যাবে ডুবে।
ওহে রূপবতী নারী!
এসেছিলে কলঙ্ক মুছে দিতে,আর-
তুমি কলঙ্ক নিয়ে গেলে স্বঙ্গে।
আমি চাই তুমি তোমার তরী নিয়ে,
সারাটি জীবন থাকো স্বর্গে।
ওহে রূপবতী নারি ( পর্ব-৫ )
লেখক - স্বজন ইসলাম নাহিদ

অবশেষে তুমি তোমার তরি!
এসে লাগালে আমার প্রেমের
ঘাটে।
হঠাৎ করে!
আমার নদীর জোয়ার গেল থেমে।
আমি ও আমার তরী লাগালাম
তোমার তরীর কাছে।
সেইদিন নীরব প্রভাতে!

পূর্ব দিগন্তে উঠিয়াছিল রবি।
কোকিলের কথা ছিল,দোয়েলের
গান ছিল,তোমার কোলে সেইদিন
ফুটফুটে এক শিশু ছিল।
সেইদিন ও তোমার রূপেরি ঝলক ছিল।
আমি বলে ছিলাম তোমার কোলে এই
কে,?

এই হলো আমার তরীর পাল,তোমার
ভাগ্নে।
আমি অবাক, বাকরুধদ্ধ কন্ঠ!
তার আমার নদী, তরী এক ছিল।
আজ একটি তরী হয়েছে দুইটি,
জলজ্ঝাসে সবকিছু হয়েছে লন্ডভন্ড।
ওহে রূপবতী নারী!
একাই রেখে গেলে আমার প্রেমের
তরী

পরিচয়
- রনি চৌধুরী

কে
তুমি
নন্দীনি
ভালোবাসি
তা তো বলিনি।
কেনো ? আলো ভেবে,
রনির পিছু নিলে।
কি দেখছো এই চোখে?
এই এক কষ্টের নদী,
নেমে এসো সাঁতরাবে যদি।
যা দেখো উপরের বেশ ভুসা,
এই সব'ই মুখোশে ঢাকা খোসা....
আমি এক, বাংলার জমিন চাষা।
এ হাত,যাতে পরিশ্রমের রক্তপাত,
এসো যদি আঁচলে নিতে পারো সেই স্বাদ।

মাতৃ স্নেহ
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

যখন ঘটিয়াছিল তোর আগমন এই ভূবনে,পড়িয়াছিল খুশির বন্যা ছরিয়ে!
কাঁদিয়াছিলি শুধুই তুই তখন,
হাঁসিয়াছিল সেইক্ষনেতে সকল আপনজন,
দির্ঘজিউ করুয়াছিল কামনা।

মা না থুইলো মাটিতে পিঁপড়ার ভয়ে,
থুইলো ছাবাল তোরে বুকের উপরে!
মাতৃস্তন্য করাইছিল পান,চুম্বু খাইয়াছিল
মাতৃ সর্বঅঙ্গনে।

অশক্য হইয়া পইরা যাইতিক তুই,হস্তে তুলিয়া,ধরিয়া বুকে!
কাঁদিয়া ছিল ডাকিয়া প্রভুকে,নেহায়ের বন্ধনে বাঁধিয়া রাখিয়াছিল স্বর্বক্ষনে।
শৈশবে পরিয়াছিলি তুই যখন,
পাঠশালাই পাঠাইলো পিতাক তখন,তোরে।
ঘর হতে বাহির হইয়া আসিয়াছিলি পথে,ডাকিত মাতৃ প্রভুকে স্বর্বক্ষনে ভাল
রাখিয়ো তারে।

মা
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

মা মা তুমি কোথায়!
তোমায় অনেক দিন দেখি নাই।
দুই নয়নে অশ্রু ঝরে, তোমায় মনে পরেছে তাই।
মা তুমি আছো কোথায়।

মা তুমি অসুস্থ শরিলে!
শীতের রাতে দিতে খাবার তৈরি করে।
ঠান্ডা খাবার খেতে পারতাম না বলে।
মা এই শীতের রাতে তোমায় মনে পড়ে।
আজ আমি নেই তোমার কাছে।

আজ আমি রয়েছি একাকি!
শীতের রাতে অনেক দূরে।
মা তুমি কোথায়!
আজ তোমাকে অনেক বেশি পড়ে মনে।

মা আজ শুধু আমি কাঁদি,
মা তোমাকে অনেক ভালবাসি।
মা তুমি কেমন আছো না আমি জানি।
আজ কান্নায় আমার বুক খানি ফাঁটি।
শুনি মা তুমি অসুস্থ রয়েছো নাকি,
আমি শুধু কঁদে যায়, না কিছু করিতে পারি।

নাহি আমি দিতে পারি,অদূরের পথ পাড়ি।
মা অনেক দিন হলো তোমাকে এসেছি ছাড়ি।
মা তোমাকে অনেক ভালবাসি।
মা তুমি আমার নয়নের মনি।

মা তুমি শ্রেষ্ঠ, তুমি সবার উপরে।
তোমার উপরে কেউ নেই,সুন্দর এই ধরনীতে।
মা তোমায় আজ কেন বেশি পরে মনে।
ইচ্ছে করে দূরের পথ যায় পাড়ি দিয়ে।
মা মা তুমি কোথায়!
তোমায় অনেক দিন দেখি নাই।

বিষঘুম
- রেবেকা রাহমান

ভেতরে আলুথালু যত শব্দে
ভালবসার চিত্র অন্তরনিহিত
কিভাবে সাজাবো শব্দ আমি ?
তোমার প্রেম.....................
বড় অগোছালো
ছন্নছাড়া
নিস্কল্প
অগভীর
তোমার প্রেম সুসংহত হলে
সুগভীর হলে
অবিচল হলে
খেলা করা ঠোঁট নিয়ে
পৌঁছে যেতাম পাখির মতন
ভালবাসা ছড়িয়ে দিতাম পদ্মবনে
পারিনা কিছুই
তুমি ঘুমিয়ে রয়েছো অন্তহীন বিষঘুমে .........।।

এসো বন্ধুরা সঞ্চয় করি
- ডাঃ ফারহানা মোবিন


বর্তমান যুগ ভীষণ তীব্র প্রতিযোগিতার। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভীষণ প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য চাই কৌশল করে পরিশ্রম আর অর্থ। জীবনে টাকার যথষ্টে প্রয়োজন। ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা যারা লেখাপড়া করছো, তোমাদের পড়ালেখার পাশাপাশি আরো অনেক কিছু শিখতে হয়। যেমন: গান, নাচ, ছবি আঁকা, কবিতা আবৃত্তি, অভিনয় শেখা, ক্যারাত খেলা শেখা ইত্যাদি। আর এই বাড়তি কাজগুলো শিখতে প্রয়োজন বাড়তি টাকার। বন্ধুরা তোমাদের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য তোমাদের বাবা মা অনেক কষ্ট করছেন। খেয়াল করে দেখো, যত দিন যাচ্ছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলছে। এই বেড়ে চলা দামের সাথে পাল্লা দিয়ে তোমাদেরকে অনেক কিছু করতে হবে অনেক কিছু শিখতে হবে তোমাদের। সেই সাথে খেয়াল রেখো, তোমাদের বাবা মায়ের উপরে যেন খুব বেশি চাপ পড়ে না যায়। তোমরা বড় হতে শুরু করেছো । তোমাদের বিভিন্ন রকম প্রয়োজন বাড়তে শুরু করেছে। তাই তোমাদেরকেও দায়িত্ববান হতে হবো তোমরা অনেকেই নিশ্চয় দামী খেলনা কেনো, নিয়মিত ফাস্টফুড খাও। এখন থেকেই খেলনা ও ফাস্টফুডের পরিমাণ কমিয়ে দাও। অল্প অল্প করে কিছু জমাতে থাকো। তোমাদের বাবা মায়েরা অনেক সময় হাত খরচ দেয়, স্কুলের টিফিনের সময়ে কিছু কিনে খাবার জন্য টাকা দেয়। তোমরা অনেক সময় এমন কিছু কিনো যা না হলেও তোমাদের হয়তো চলবে। এই জিনিসগুলো না কিনে সেই টাকাটা জমিয়ে রাখো তোমাদের ভবিষ্যতের জন্য। বাজারে বা ফুটপাতে বা বড় বড় শপিংমলগুলোতে পাওয়া যায় টাকা ও পয়সা জমিয়ে রাখার জন্য ব্যাংক, মাটি, মোড়ামাটি বা কাঠের তৈরি সুদৃশ্য বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক বা পট পাওয়া যায়। যা ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা তোমাদের পড়ার টেবিলেও সাজিয়ে রাখতে পারো। দেখতে শোপিসের মতো এসব পাত্র। ব্যাংক পড়ার টেবিল ছায়া, ডাইনিং টেবিল, ড্রইং রুম, বা ঘরের এক কোণায় সাজিয়ে রাখা যায়। আর তোমাদের সাজিয়ে রাখার ইচ্ছা না হলে আলমারী বা লকারের কোণেতে রাখতে পারো। পঞ্চাশ পয়সা থেকেই শুরু করো। বিন্দু বিন্দুতে সন্ধিু হয়ে যায়। প্রতিদিনতো আর ব্যাংকে টাকা বা পয়সা জমানো সম্ভব না।


যখন সম্ভব হবে, তখন টাকা জমাও। অনেকে পাঁচ টাকার কয়েন বা পয়সা জমায়। তোমরা সেটাও করতে পারো। তোমাদের মনে রাখতে হবে যে, তোমরা শখ করে টাকা জমাচ্ছো। তাই টাকা জমানোর জন্য বাবা মা, ভাই বোন বা পরিবারের অন্য কাউকে চাপ দিও না। তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে তোমাদের খরচের টাকা থেকে বাঁচিয়ে টাকা জমাও। দেখবা ৬ মাস বা ১ বছর পরে হয়ে যাবে মোটা অঙ্কের টাকা। যা দিয়ে পূরণ হবে তোমার কোন ইচ্ছা। তোমার জমানো টাকার সাথে তোমার পরিবারের অন্য সদস্যদের কিছু টাকা যুক্ত করে হয়ে যাবে ট্যাব বা ল্যাপটপ বা খুব সুন্দর একটি স্কুলের ব্যাগ বা ক্যালকুলেটর। তোমার বন্ধুদেরও বলতে খুব ভালো লাগবে যে, তোমার জমানো টাকা দিয়ে তুমি কিনেছো, তোমার প্রিয় কিছু। আর তোমার অভিভাবকেরাও হয়তো একটি দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাবেন। উনারাও ভীষণ খুশী হবেন। কারণ সঞ্চয় করাটা প্রতিটি মানুষেরই উচিত। আর এই অভ্যাসটা টিকিয়ে রাখতে পারলে একদিন সঞ্চয়ের পরিমাণ অনেক বাড়বে। কারণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণাতেই বিশাল মহাদেশ গড়ে ওঠে।


তাই বন্ধুরা, তোমরা এখন থেকেই সংযমী হও। অপচয় না করে, ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলো তোমাদের সঞ্চয়ের ভূবন। নিরাপদ হোক তোমাদের পথচলা। জীবনযুদ্ধে তোমরা হও জয়ী।

ভুলচুক/সংসার
- সিয়ামুল হায়াত সৈকত

মৃত মানুষের সংসারে অসুখে গাংচিল
বনে বনে আত্মচিৎকার দ্বিতীয় প্রেমের
হাতপা'ওয়ালা কচুরিপানার শহর থাকতে নেই!
মেঘেদের নীলগল্প শামুকেরা শোনে
তোমার কান বন্ধ থাকুক
মেঘদল স্বপ্ন ছেড়ে ভাবুক—বুনোহাঁসের ঘরে;
তুমি চুপচাপ ইশ্বরের নামে হারিয়ে যাও।
যত ভুল ভস্ম হবে অভিশাপে
অথবা পাতা দিয়ে আমাদের সংসার... ।

ওহে রূপবতি নারি (পর্ব-১)
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

রূপবতি ওহে নারি তুমি!
তোমার রূপের আগুনে আজ
আমি পুরে মরি।
ওহে রুপবতি নারি!
বল আজ কেন তোমার ঝলনায় পরি।

তুমি এসেছিলে কলঙ্ক মুছে!
ভালবাসার খেয়ায় চড়ে।
আমাকে নিয়ে প্রেমের
নদীতে ভাসবে বলে।
তুমি আসবে বলে আমি বসে থাকি প্রেমের
ঘাটে!

ওহে রুপবতি নারি তোমাকে কেন এত
ভাল বাসি।
ওহে রুপবতি নারি!
তুমি বেহুলাবেসে এসে ছিলে।
আমার প্রান বাঁচাতে!
ওহে রুপবতি নারি তোমার
রুপেরি বার বার প্রেমেপরি।

অপেক্ষার প্রহর
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

একা একা তার পথ চেয়ে বসে আছি
যাচ্ছে কতটা সময়,বারছে বিরক্ত
মাঝে মাঝে বিরক্তে অশ্রুযুগল হচ্ছে সিক্ত।
ধ্যাৎ
তার জন্য শুধুই অপেক্ষার প্রহরগুনি,
আর কতক্ষন!
সে এখনো করে যাচ্ছেন দেরি
ত্যান্দর কোথাকার
এখনো,এখনো আসছেন কী উনি?

আর পারচ্ছিনা তার অপেক্ষার
প্রহর গুনতে_
আমার ডাক পাচ্ছে কি শুনতে।
অসর্য্য_অধর্য্য_
আমার মনে বারছে অস্থিরতা,
হুঁ....হুঁ....হুঁ...
আমি আর পারবনা আঁটকে রাখতে কান্না।

না না তার দেরি করার কথা নয়
আবার কি কোন বিপদে পরলো,
আমি এসব ভাবছি কেন!
চিন্তা হচ্ছে মনে অস্থিরতা বারছে,
দূর্ঘটনা ঘটলো পথে!
ডাক্তার,ডাক্তার বলে চিৎকার পার্কে।
অবশেষে আসলো, ডাকদিল অর্পনা বলে।
ভাগ্যিস_
এসেছল না হলে আমাকে,পাগল
ভাবতো লোকে।

তুমি না বড্ড বোকা !
- সঞ্জীব দে

তুমি না বড্ড বোকা !
এতোদিন ধরে আমার সাথে চললে
চোখের ভাষা বললে ,
আর এখন নাকি বলছ
ন্যাকা বোকাদের মতো
প্রেম কাকে বলে -
তোমার ঐ কথাটি শুনে
আমি না আজো মাঝরাতে স্বপ্ন দেখি
সর্বনাশি ।
মাঝরাতে ভেবেই বসি ...
হয়তো তোমার ওসব ছিল ছলনা
আর না হলে চোখে চোখ রেখেও
বুঝলে না ভালোবাসার শব্দগুলি ।

প্রতীক্ষা
- রীতা ঘোষ

সহ্যের সীমারেখা অতিক্রমণে
বিদ্রোহী মন চায় বেপরোয়া হতে,
কটূক্তির কাঁটাতার বিঁধে বিঁধে
অবিরাম রক্তপাত হৃদয় পথে ।
প্রতীক্ষারা তবুও আনমনে
জীবন মৃত্যুর রূপোলী সন্ধিক্ষণে
ভালোবাসার অমৃত কুণ্ড হাতে
যদি আসো কোন গোধূলি লগনে ।
দড়িছেঁড়া পাগলিনী মন
দিশাহারা স্বপ্ন প্রাঙ্গনে ,
উদাসী রাতেরা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে
আমার নির্ঘুম দুনয়নে ।।

হবে কি মিলন ?
- দিঘী সেনগুপ্তা

বিষুবরেখার প্রান্তে পরিচয় তোমার সাথে,
সন্ধ্যাতারায় প্রনয়ের আয়োজন,
শুকতারা তাই কেঁদে বলে,
" হবে কি মিলন ?"
চৈতী বাতাস বলে যায় বিরহটাই মধুর,
পূব হাওয়াতে জড়িয়ে স্মৃতি বেদনা বিধুর।
ঝরা পাতা ডাক দিয়ে যায়
আনমনা এক ক্ষনে,
বকুল বলে মিলনমালা গাঁথবো আজ দু'জনে।
বিফল যদি হয় সকলি, এই প্রনয়ের গাঁথা,
বৈশাখী ঝড় বুকে নিয়েই ভাববো তোমার কথা।।

প্রেমে আগুন জলে
- রেবেকা রাহমান

শিয়রে ভেঙে পড়ছিলো পূর্ণিমা
নির্ঘুম রাত বেমালুম কেটে যাচ্ছিলো
পাশবালিশের হাত ধরে ...
বৈশাখের তপ্ত মধ্যাহ্নে বিজলীর চমক
খুব কাছে কোথাও বাজ পড়ছে
তোমার বুকে লেপটে গেলাম
ভয়ে নয় ভালবাসার মধ্যাকর্ষণে ...
জীবন মানে শুধুই কি হিসেব কষা ?
তাই বুঝি ঐকিক নিয়ম ফেলে
বেছে নিলে সিঁড়িভাঙ্গা অংক ...
আমি বরাবর অংকে কাঁচা
হিসেব কষতে পারিনা
তোমার প্রতি আমার প্রেম অফুরান
জেনেই মেতে উঠেছো কানামাছি খেলায় ...
ঠিক করেছি অন্তত
তোমার কথার মারপ্যাঁচে পরজিত হবোনা আর
জলাঞ্জলি করবোনা অনুভুতির ...
মনে রেখো, পুরানো ঘা থেকে
কেবল রক্তই ঝরে না
মাঝে মাঝে আগুনও জ্বলে উঠে !

জড়িয়ে ধরেছ জুঁই সুবাসে
- সোনম মনি

মানুষ যেখানে যায়
সেখানেই মানব জনম!
প্রেমটুকু চিরকাল সাথে থাকে
কোন বিরামে হয়না শেষ!
তেমনি আরবের জুঁইয়েরাও,
জুঁইয়েরা মানেনা মরুর বালিঝড়
জুঁইয়েরা মানেনা তুষার ঝড়,
জানো, এখন এই শীতে আমার
জুঁইঝোপের বুক ভরা জুঁই কলিতে,
রাতে পড়েছে শুভ্র তুষার,
তার সাথে যেন পাল্লা দিয়ে,
শুভ্র জুঁই ফুল ফুটেছে
কিছু আছে আধ ফোটা হয়ে,
শিশুর মৃদু হাসির মতন।
সকাল হতেই তাপ বেড়েছে
আকাশী তুষার হয়েছে বৃষ্টির কনা,
ধূয়ে দিয়েছে ফুলের শরীর
আঙ্গীনা এখনো বরফে ঢাকা
তবুও জুঁইয়ের আতর সুবাসে ভরপুর!
ঐ বুঝি এলো স্বর্গ মাতায়ে প্রেম
ঐ বুঝি তুমি জড়িয়ে ধরেছ আমায়!

দস্যি হাওয়া
- সাবরিনা সিরাজী তিতির

আমার সকল দিলেম যারে
সে ছিলো না কেউ
সে ছিলো এক দস্যি হাওয়া
সে ছিলো এক মিথ্যে পাওয়া
ভুলে ঘোরে সত্যি মায়া
পালিয়ে যাওয়া সে এক ছায়া
সকল নিয়ে যার অবাক চলে যাওয়া!

মৌরি তো আসেনা ফিরে
- রাজীব চৌধুরী

ভাল থেকো সাবধানে সবখানে
ভালোলাগা ধরে রেখো মনেপ্রাণে
পারো যদি চিঠিদিও
আদরে কথা দিও
বলেছিল বনলতা সেন
বুঝতে পারেনি সে যে ভালোবাসি মৌরিকে
বনলতা জীবন বাবুর
বেতনটা বাড়লেই করব যে তাকে বিয়ে
আরেকটু করো সবুর।
এভাবেই কেটে গেল বছর অনেক
মৌরি ও চলে গেল শেখেরটেক
আমি শুধু বসে থাকি
মৌরি মৌরি ডাকি
মৌরি তো আসেনা ফিরে...

ভাষার জয়
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

ভাস্বর জ্যোতি দেখেছি রক্তে রাঙ্গিয়েছে তাদের।
বাংলার জন্যে লড়েছে যারা,
দিয়েগেছে তার অমর বাংলা ভাষা।
তারুন্যের দুর্জয় শক্তি নিয়ে,
গিয়েছিল সেইদিন ভাষার জন্যে।

এনেছে ছিনিয়ে তাদের কাছ থেকে,
মাতৃভাষা বাংলা ভাষা আমার রক্তের বিনিময়ে।
মৃত্যুভয়কে করেছিল, তুচ্ছঙ্গান গিয়েছিল,
সেইদিন বিপদ সংকুল দূর্গম পথে।
বিভাষিকাকেও দেখে কখনো যায়নি থেমে।

বলেছিল তারা মাতৃভাষা!
বাংলা আমার মুখের ভাষা।
ভাষার জন্যে দিয়েছে প্রান বাংলার দামালছেলে।
একশো চুয়াল্লিস ধারা ভেঙ্গেছিল জাড়ি,
সেইদিন স্বমুখেতে দিয়েছিল পাড়ি।

তাদের রক্তে হয়েছিল নদী!
বাংলা হলো আমাদের ভাষা তাইতো আমরা বাঙ্গালি।
ভাষার জন্যে দিয়েছে জীবন ভাষায় যারা বিশ্বাসী।
ভাষার জগতে নতুনের সৃষ্টি হয়ে আছে একুশে ফেব্রয়ারি।

মুখোশ
- স্বজন ইসলাম নাহিদ

মঞ্চে উঠে
বলছে যারা
জয় শ্লোগান
জয় বাংলা
স্বাধীনতা সোনার বাংলা।

আড়ালে আঁকছে ছক
সোনার বাংলা
ভোগে যাক
নিজের স্বার্থে
হচ্ছে লোভী
সোনার বাংলা
দিচ্ছে বলি!
আর কতকাল
ছদ্ববেশে
জয়বাংলার
মুখোশ পরে
রক্তিম বাংলা
স্বাধীনতা নিয়ে
কুচক্রের কষাঘাতে
কেন্দ্র করে স্বাধীনতাকে।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget