নভেম্বর 2014

bluestacks

খুব সহজেই কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করুন




শুধু মাত্র অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলেই নয় এখন থেকে আপনারা আপনাদের কম্পিউটারেও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ব্যবহার করতে পারবেন । প্রথমে আপনি নিচের দেওয়া লিঙ্ক থেকে BlueStacks সফটওয়্যার ডাউনলোড করে নিন । সফটওয়্যার ডাউনলোড হওয়ার পর সফটওয়্যারটা ইনস্টল করুন । এখন আপনার কম্পিউটারে যে কোন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ব্যবহার করতে পারবেন । এবার আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে অ্যাপস ( APK ) ফাইলে ডাবল ক্লিক করে ইনস্টল করুন । আপনার কাছে যদি অ্যাপস ( APK ) ফাইল না থাকে তাহলে চিন্তা করার কোন কারন নেই । BlueStacks সফটওয়্যারে অনুসন্ধান করে খুজে নিন আপনার মনের মতো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস । আপনি হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, উই চ্যাট, টেলিগ্রাম অথবা ফেসবুক অ্যাপস ইনস্টল করে বন্ধুদের সাথে চ্যাট করতে পারবেন খুব দ্রুত গতিতে । কম্পিউটারে গেম খেলতে যারা ভালবাসেন তারা অ্যান্ড্রয়েড গেম ইনস্টল করেও খেলতে পারেন । BlueStacks সফটওয়্যারে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায় । আর অবশ্বই BlueStacks সফটওয়্যারও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায় ।

 




শরৎ
- ঈষিতা মাইতি

শরৎ এসেছে ঘরের দুয়ারে,
তারই সাড়া যায় পাওয়া ।
শরৎ এসেছে তাই আজিকে
বইছে হিমেল হাওয়া ।
শরৎ এসেছে তাই দেখি আজ,
বসেছে ফুলের মেলা ।
কাশফুল তাই নদীর ধারেতে
দিয়েছে মাথা দোলা ।
শরৎ এসেছে তাই বোধহয়,
মেঘ হয়েছে পেঁজা তুলি ।
শরৎ এসেছে তাই টিক টিক,
হৃদয়ে পূজার ঘড়ি ।
শরৎ এসেছে তাই দুর্বার
শিশির কণার মেলা ।
শরৎ এসেছে তাই দেখা যায়
ঢাকের কাঠির খেলা ।
শরৎ এসেছে তাই দেখি যে,
শিউলি সুরভি আজি ।
প্রকৃতি যেন হাজির হয়েছে
অপরূপ সাজে সাজি ।

সত্যিকারের মানুষ
- গনেশ দোলই

রক্ত-মাংস থাকলেই কি
মানুষ হওয়া যায় ?
টাকা পয়সা ধনদৌলতই কি
সত্যি পরিচয় ?
ভালো পোশাক পরলেই কি
ভদ্র হওয়া যায় ?
আর মিষ্টি কথা বললেই কি
সম্নান পাওয়া যায় ?
উচ্চ ঘরে জন্ম হলেই
সবাই বড় হয় ?
মুচি ঘরে জন্মেছে যে
সে কি মানুষ নয় ?
ধনী-গরিব ফর্সা-কালো
আসল কথা নয়,
পরোপকার মন আছে যার
তারই হবে জয় ।

ঋতুকথা
- শ্রাবণী মন্ডল

বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ গ্রীষ্মকাল,
আম, জাম পাকে ।
আষাঢ়, শ্রাবণ বর্ষাকাল,
বৃষ্টি লেগে থাকে ।
ভাদ্র, আশ্বিন শরৎকাল,
শিউলিফুল ফোটে ।
কার্তিক, অগ্রহায়ন হেমন্তকাল,
আমন ধান ওঠে ।
পৌষ, মাঘ শীতকাল,
পিঠে-পায়েস খাই ।
ফাল্গুন, চৈত্র বসন্ত কাল,
আনন্দে মেতে যাই ।

'সু'-চিকিৎসা
- দীপ্তেশ মন্ডল

পেটের অসুখ করে যদি
ভাবনা তবে কী ?
সেরে যাবে খেতে হবে
কেজি তিনেক ঘি ।
সর্দি জ্বরে ভোগেন যদি
ঠান্ডা লাগে খুব,
পচা ডোবায় দেবেন কষে
গোটা দশেক ডুব ।
ভাবনা কিসের হঠাৎ যখন
হাত পা যাবে কেটে,
মনের সুখে লাগান তাতে
নুন-লঙ্কা বেটে ।
কখনো যদি কোনো কারণে
হাত-পা যায় ভেঙে,
জোরা করতে হলে তাদের
লাগাও টেনে টেনে ।

মন খারাপ
- রাজীব চৌধুরী

আমি আজ কিছু লিখবোনা।
আমি আজ মন খারাপের ক্লাসে
আমি আজ একটুও কাঁদবোনা
ঢেলে দাও বিষ আমার গ্লাসে।
আমি আজ একলা একা ভীষণ অপরাধে
দেখে ফেলি আয়নাতে কে কাঁদে
দেখে ফেলি আমার মলীন চোখ
খুব বেশি বোঝা চাপায় কাঁধে
আমি আজ কোন গাইবোনা কো গান
আজ শুধু একলা চন্দ্র স্নান ।।

জামরুল
- মিতা পাড়ই

রসে ভরা টুসটুসে
সাদা সাদা ফল,
তাই দেখে জিভে মোর
আসে শুধু জল ।
পাখি তুমি বসে বসে,
খাও একলা,
চেয়ে থাকি তোমার আশায়
যায় যে বেলা ।
দাও যদি পাখি তুমি
নিচে দুটো ফেলে,
আনন্দে আমিও যেন
যাই ডানা মেলে ।
তাকিয়ে থেকে, একে একে
শেষ হয় জামরুল,
গাছের তলায় থেকে আমি
করেছি বড় ভুল ।

তুমি কে
- প্রদীপ ঘড়া

অনুভূতি আর কল্পনাতে
ভালোবেসেছি তোমাকে
জানিনা তুমি কে ?
রঙ্গনে আর প্রঙ্গনে
আকাশের ছড়ানো রঙে
বাতাসের সুন্দর কল্পনাতে
ভালোবাসার সুর মনে ভেবে
চন্দ্র তারাকে সাথে লয়ে
ভালোবেসেছি শুধু তোমাকে
তুমি কে ?
প্রশ্ন করি নিজেকে
যখনই প্রশ্ন করি
উদাসি এক হাওয়া এসে
কাঁপিয়ে তোলে মনকে
মন বলে ভালোবেসেছি তোমাকে
কল্পনাতে ভালোবেসে
অনুভব কাছে পেয়ে
মন হাসে আর
আনন্দে উল্লাসিত হয়ে
ভাবে
এই তো তুমি কাছে এলে
আঁচল উড়িয়ে বসলে পাশে
মনকে নিলে কেড়ে
তবুও মন ভাবে ।
তুমি কে ?
কল্পনায় অনুভবে
ভালোবেসে ।

রং
- অর্পিতা ভূঞ্যা

রং কে প্রশ্ন করি আমি,
কীভাবে এতো রঙিল হলে তুমি ?
রং বলল তাতে -
বনানী দিল তার সবুজ,
রঙিন হলাম যাতে ।
হলুদ দিল হলদে গুঁড়ি,
রঙিল হল চাঁপার কুঁড়ি ।
পাহাড় দিল তার নীল,
রঙিন হল সাগর-সলিল ।
আকশি হল আকাশ,
বহে যেথায় উন্মুক্ত বাতাস ।
সূর্য দিল তার লাল,
যা রাঙিয়ে দেয় সকাল ।
সবে মিলে হয় সাদা
রংগুলো সব যেন,
একটা গোলকধাঁধা ।

মনের ব্যথা
- সঞ্জয় দোলই

আমার ঘরের ছোট্ট খাঁচায়
ছিল শুধু একটি পাখি ।
হঠাৎ করে গেল উড়ে
আমায় দিয়ে ফাঁকি ।
পাখি নয় সে ছিল শুধুই
আমার প্রিয় সাথী,
কেমন করে বলব আমি
তারেই ভালো বাসি !
ওই দেখ না গাছের ডালে
ভ্রমর কেমন বসছে ফুলে,
কেমন করে সব সে ভুলে
গাইছে মিলন গান,
সত্যি করে বলছি পাখি,
তুই যে আমার প্রান ।
আয়না ফিরে আবার ঘরে
বাঁধবো বাঁসা নতুন করে,
থাকবো মোরা সারা জীবন
প্রাণের কথা উজাড় করে ।
সত্যি করে বলছি পাখি
দিস না আর ব্যথা ।
থাকবো মোরা সুখে দুখে
দিলাম তোরে কথা ।

মনের ব্যথা
- রাজীব চৌধুরী

কবিতা শোনার স্তব্ধ সময়
খুব আবেগী
এক ফালি রোদ
উছলে গেলে
খুব ইচ্ছে করে তাকেই বলি
কাব্য তোমায় দিলাম ছুটি
যাও ছুটে যাও অস্তপারের ঠিক ওখানে
কবিতা পড়ার সময় হলে
কাব্য তোমার রুদ্র বিকেল
একলা একা
খুব আবেগে কেঁদে ফেলা
আর চাইনি - চাইবোনা আর
দৌড়ে পালাও
ঐ উঠোনে
যেখান থেকে রোজ বিকেলে হাতটি নেড়ে
আমায় ডাকো
ঠিক সেখানে ।




বাংলায় লিখতে ভয় পান ? আপনার কি মনে হয় বাংলা লিখতে অনেক ঝামেলা ? তাহলে আমার কথামত দেখুন তো একবার চেষ্টা করে । আপনিও খুবই সহজেই বাংলায় লিখতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন । 




  • প্রথমে আপনি অভ্র কীবোর্ড ডাউনলোড করুন ।

  • অভ্র কীবোর্ড ডাউনলোড করার পর সেটাকে ইনস্টল করুন ।

  • অভ্র কীবোর্ড ইনস্টল হওয়ার পর আপনি অভ্র মাউস দিয়ে খুব সহজেই বাংলা লিখতে পারবেন ।

  • অভ্র কীবোর্ড দিয়ে লেখার আগে অবশ্যই অভ্র কীবোর্ডের ব্যবহারবিধিতে একবার চোখ বুলিয়ে নিন ।

  • অভ্র কীবোর্ডের ব্যবহারবিধির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল Before You Start, Overview, Bangla Typing with Avro Mouse.

  • ব্যবহারবিধি ভালোকরে পড়ার পর অভ্র মাউস দিয়ে বাংলা লিখতে পারেন কিনা একবার চেষ্টাকরে দেখুন তো ।


অভ্র কীবোর্ড এখান থেকে ডাউনলোড করুন ।

DOWNLOAD



তৃষ্ণার্ত গোলাপ
- প্রদীপ ঘড়া

মুক্তো ভার হাসিতে
মধুভরা অঙ্গে
গোলাপ রসে ভরা ঠোঁটে
সবুজ ঘন শ্যামলা মনে
দীপ জ্বলে তারই পাশে
আকাশে রামধনু জাগে
রং ছড়ায় প্রজাপতির বাহারে
টিপটিপ বৃষ্টি ঝরে অঙ্গে
তৃষ্ণর্ত অঙ্গ ভিজে
শাড়ী দিয়েছে সঙ্গ
আঁচল উড়ে
আকাশ মাঝে
হাওয়ার টানে
ছন্দ দোলে
প্রিয়ার ঠোঁট লুকিয়ে
কথাটি আজ বলার মোরে
তাই মন চঞ্চল হয়ে
ঘুরে কোল মানা না মেনে
গোলাপ ঠোঁটে
বিষ যদি পড়ে ঝরে
সেও তো ভালোবাসার অমৃত
না হয় মিলব সাত জনম পরে ।

ভালোবাসা
- মিলন বেরা

মন তো পাথর নয়
তবু কেন ভেঙে যায়
সুখ তো পাখি নয়
তবু কেন উড়ে যায়
ভালোবাসা তো আকাশ নয়
তবু কেন দুরে যায়
আঁখি তো মেঘ নয়
তবু কেন ঝরে যায় ।

স্বপ্ন দেখি
- মিলন বেরা

স্বপ্ন দেখি এলো মেলো
স্বপ্ন দেখি ভাঙা
স্বপ্ন দেখি সাদা কালো
স্বপ্ন দেখি রাঙা
স্বপ্ন দেখি ধনী হওয়ার
স্বপ্ন দেখি তুমি
স্বপ্ন দেখি বন জঙ্গল
স্বপ্ন মরুভূমি
স্বপ্নগুলো কাঁদায় শুধু
স্বপ্নগুলো হাঁসায়
স্বপ্ন তোমায় কাছে ডাকে
স্বপ্ন ভালোবাসায় ।

প্যাঁচার স্কুল
- বকুল পাত্র

প্যাঁচার স্কুলে পড়তে এল
পায়রা ও হাঁস ।
প্যাঁচা বলল পড়তে হবে
নতুন সিলেবাস ।
প্যাঁক, প্যাঁক, প্যাঁক, বাকুম্, বাকুম্
পড়ার সে কি ধুম ।
প্যাঁচা মশাই আরাম করে
দিচ্ছে সে কি ঘুম ।
তবু দেখি প্যাঁচার স্কুলে
পাশের কী হার ।
হাঁসগুলো সব লেটার পেল
পায়রাগুলো স্টার ।

শেষ ভালোবাসা
- মিলন বেরা

যদি ভুল করে ভুলে যাও আমায়
তবু তোমায় ভুলবো না আমি
যদি অভিমান করে ছেড়ে চলে যাও
তবু তোমায় ছেড়ে যাব না আমি
যদি ইচ্ছের জোরে ঘৃনা করো আমায়
ভেবো না তোমায় ঘৃনা করবো আমি
যদি আবার ভালোবাসো আমায়
তবে হৃদয়ের শেষ ভালোবাসা টুকু
দিয়ে দেব আমি ।

আমার বুকে
- রাজীব চৌধুরী

জানালা গলে বিকেল আসছে ফিরে
পুর্ণ চাঁদের রাসলীলার ঐ মোড়ে
আমার বুকে আসছে ফিরে ঢেউ
মুচকি হেসে দেখলোনা তো কেউ
ভালবেসে ডাকলো না তো কেউ ।

একটি মেয়ে
- প্রদীপ ঘড়া

রোজ স্বপ্নে ধরা দাও তুমি
দিবসের প্রস্ফুটিত আলো ছায়ার মাঝে
নাহি তোমার রেখা
নেই তোমার কোন কল্পনা
তোমার নয়নের গভীরে-আরো গভীরে
আমার ছবি
তুমি কে ?
কোন রূপোলি দেশের রূম্পা
কি তোমার জাদু
মাটি শেকড়ের বন্ধুত্ব
তোমার আমার ভালোবাসার স্বপ্ন
নয় সত্য
তোমাকে নিয়ে আমি চলি
বসি গাছের ছায়াতে
হাতের রেখাঙ্ক গুনতে থাকি
ভাহি ভাসি আকশে
লুকিয়ে মুখ আমার
তোমার আঁচলে
সবই মন ভোলানো একটি স্বপ্ন
এসেছিলে মায়াবী পথে
গেলে চলে স্বপ্ন রেখে
তুমি.....
একটি মেয়ে ।

আমরা সাধারনত অনেক সময়ই কম্পিউটারের সমস্যায় পড়ি । গুরুত্বপুর্ন কোন কাজের সময় যদি কম্পিউটার কাজ না করে তাহলে মনের অবস্থাটা কেমন হয় সেটা ভালভাবেই বোঝা যায় । কিন্তু আমরা খুব সহজেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারি । আপনারা সাধারনত পাঁচটি উপায়ে কম্পিউটারকে ভাল রাখতে পারেন ।


১ ) আপনার কম্পিউটারে রেজিষ্টার এ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন, এবং নিয়মিত স্ক্যান ও আপডেট করুন ।
২ ) কম্পিউটারে নিয়মিত ডিস্ক ক্লিনআপ করুন, এবং টেম্প ফোল্ডারের আবর্জনা পরিস্কার বা ডিলিট করুন ।
৩ ) নিয়মিত ডিফ্রেগমেনটেশন করুন ।
৪ ) কম্পিউটারে সমস্যার একটা প্রধান কারন হলো কম্পিউটারের রেজিস্ট্রি । তাই নিয়মিত রেজিস্ট্রি ক্লিনার সফট্ওয়্যার দিয়ে রেজিস্ট্রি ক্লিন করা খুবই জরুরী ।
৫ ) কম্পিউটারের সব থেকে গুরুত্বপুর্ন অংশ হলো ডিভাইস ম্যানেজার । তাই কম্পিউটারের ডিভাইস ম্যানেজারে গিয়ে দেখুন কোন সফট্ওয়্যার ঠিকঠাক ইনস্টল হয়েছে কিনা । যদি কোন সফট্ওয়্যার ঠিকঠাক ইনস্টল না হয়ে থাকে তবে সেই সফট্ওয়্যারকে পুনরায় ইনস্টল করুন ।

টিয়া
- প্রদীপ ঘড়া

প্রতেক সন্ধের পূর্বে
বালিকা টিয়া
সারি সারি লাগানো
চারা ফুলের টবগুলোতে
জলদিয়ে মাটি খুঁড়ে
সুস্থ সতেজ রাখে তাকে ।
শিউলি গাছে বসে থাকা টিয়া
আঁখি ফেলে সরে যায় না
একটি রূটিনে বাঁধা দুটি টিয়া
কেউ এসে বসে গাছের ডালে
কেউ বাঁচায় চারা গাছগুলিকে প্রঙ্গনে
একদিন ফুল ফুটবে ।
শতবর্ষ আগে
কিংবা শতবর্ষ পরে
কত টিয়া বসবে ডালে,
কত দেবে জল এই চারাগাছে
শঙ্খে তার সুর
পায়ে নূপূর বাজে ঝুমুর ঝুমুর
গাছের টিয়া
একদিন ছিল ওই বালিকা
আজকের টিয়া এক কল্পনা ।

ইন্টারভিউ
- রাজীব চৌধুরী


আবুল গেছে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে। বিশাল লাইন। আবুলের হাতে এক গাদা সার্টিফিকেট। সে বড় আশাবাদী। তার চাকরিটা আজকে হয়েই যাবে বলে মনে হচ্ছে। কারন সে যেখানে বসে আছে ওখানে ওয়েটিং এ সব বাতিল টাইপের লোকজন বসে আছে। একজনের ও স্মার্টনেস আবুলের কাছাকাছি নেই। দুইতিনবার শার্টের কলার টেনে নিজেকে হিরোর ভুমিকায় কল্পনা করে সুখ সাগরে ভাসতে শুরু করল সে। গুনগুন করে গাইতে শুরু করল-
"নাচ আমার ময়না তুই পয়সা পাবি রে এ এ এ এ এ"
যদিও গানের তালে তালে সে মৃদু দুলছে তবে সেটা পাশে বসা মেয়েটা ছাড়া কেউ দেখছেনা।
মেয়েটার কোণ ভাবগতি নেই দেখে আবুল বেশ মনক্ষুন্ন হল।
এর মাঝে দুজন দুজন করে ডাকা হচ্ছে। খানিক আগে দুজনকে ডাকা হল।
আবুল আর সেই মেয়েটা।
মেয়েটার নাম মনিকা। এই মনিকা সেই মনিকা না। এই মনিকা বাংলাদেশী বার্বিডল। সে আজকে চাকরি পাবেই। কারন ওপরমহলে মনিকা ঘুষ দিয়ে সলিড বানিয়ে রেখেছে।তাকেই চাকরি দেয়া হবে। বাকি সব ফাউ।
দুজন দুটো চেয়ারে বসল।
প্রশ্নকর্তা বললঃ নাম কি?
আবুলঃ আআবুল
মনিকাঃ মনিকা
প্রশ্নকর্তাঃ মনিকা বলতো-বাংলাদেশ বানান ইংরেজিতে কি হবে?
মনিকাঃ Bangladesh
প্রশ্নকর্তা কোনভাবেই আবুলের স্মার্টনেস মেনে নেবেনা। মনিকাকেই চাকরি দেবে।
তাই আবুলের জন্য বরাদ্ধ প্রশ্ন করা হলঃ
প্রশ্নকর্তাঃ আবুল বলতো লেফট্যানেন্ট বানান কি?
আবুল গেল গাড্ডায় পড়ে। এই বানান এর মাঝে ক্যাচাল আছে। বানান টার মাঝে লিও এর পর ট্যালেন্ট না ট্যানেন্ট বলে একটা টান আছে। আবুলের কোনভাবেই মনে পড়ছেনা। ওর টানটান মুখমন্ডল ঝুলে পড়েছে।
প্রশ্নকর্তাঃ আবুল দরজা ওদিকে। বেড়িয়ে পড়। আর মনিকা- তোমার চাকরিটা হয়ে গেছে।
আবুল সাথে সাথে বিদ্রোহ করল- "আমাকে কঠিন বানান জিজ্ঞাসা করা হইসে। মানিনা। মাইনতামনা।
প্রশ্নকর্তাঃ ঠিক আছে। মনিকা বলতো- বাংলাদেশ স্বাধীন হতে কতজন শহীদ হইসে?
মনিকাঃ স্যার ত্রিশ লক্ষ।
প্রশ্নকর্তাঃ আবুল- ত্রিশ লক্ষ শহীদের নাম বল...
ঝড়াত করে শব্দ হল। আবুল পড়ে গেল চেয়ার থেকে। পড়েই অজ্ঞান। আর মনিকার চাকরি তখন ঠেকায় কে ?

মূল্যহীন টাকা
- অভিষেক বেরা

টাকা দিয়ে কেনা যায় ভাল উপহার,
যায় না কেনা সম্পর্কের বাহার ।
টাকা দিয়ে কেনা যায় আলোর বাহার,
টাকা দিয়ে দূর হয় না মনের অন্ধকার ।
টাকা দিয়ে ঘড়ি একটা যদিও কেনা যায়,
যায় না কেনা অতীত-ভবিষ্যত সময়কে যে হায় !
টাকা দিয়ে কেনা যায় রক্ত,
কিন্তু জীবন কেনা টাকার কাছে শক্ত ।
টাকা দিয়ে কেনা যায় অলংকার,
কেনা যায় না সৌন্দর্যের অহংকার ।
টাকা দিয়ে কেনা যায় জল,
কিন্তু তৃষ্ণা কিনতে টাকা বিফল ।
টাকা দিয়ে কেনা যায় খাবার,
কেনা যায় না ক্ষুধা সবার ।
টাকা দিয়ে কেনা যায় গোলাপ খাসা খাসা,
যায় না কেনা এ দুনিয়ায় আশা, ভালোবাসা ।

তুমি ছিলে না
- প্রদীপ ঘড়া

জানি তুমি ছিলে না
না আজ নয়
কোনদিন নয় !
শুধু ময়লায় চাপা পড়ে থাকা
অ্যালবামের পাতাগুলো
নিস্তদ্ধ নির্বাক চোখে তাকিয়ে আমার দিকে
মনে করাতে চায় অনেক কিছু ।
সেদিন হয়তো বছর তিনেক আগে
অ্যালবামের মতো ছিলে পাশে
অ্যালবাম বাক্যহার
তুমি ছিলে বাক্যের ফোয়ারা ।
কত খাতার পাতা ছিড়ে
একটি চিঠিতে জানিয়েছিলে
অহেতুক এক প্রেমের গল্প
ছিন্নছাড়া উন্মাদে
কয়েকবার মেলামেশা
তারপর এক ঝড়
হলো বিরহের বিচ্ছেদ
জানি তুমি ছিলে না
শুধু আজ নয়
কোনদিন ও নয় ।

তোমার জন্য
- ভাষ্কর মান্না

তোমার জন্য ভোরের পাখিটি
যায় ডেকে মিষ্টি সুরে
শান্ত নদীটি ঢেউ এঁকে দেয়
অরুপ অচিন পুরে ।
তোমার জন্য ঝিমোয় দুপুর
মন ভুল করা গানে
আলোছায়ায় যে রোদ্দুর আসে
মেঘ বৃষ্টির টানে ।
তোমার জন্য লাজুক বিকেল
রামধনু রং আঁকে
রূপপরী আর চাঁদপরী সব
কুসুম গন্ধ মাখে ।

বিরক্তি বর্ষা
- সুপ্রিয়া বেনুয়া

বর্ষা এল আষাঢ় মাসে
জলের ঘড়া নিয়ে,
আকাশ হতে বারিধারা
ঝরে ঝমঝমিয়ে ।
বর্ষাকালে পুকুর নদীর
দুকূল ঝাঁপিয়ে যায়,
দারুন স্রোতে মাঝিরা
হালে পানি না পায় ।
বর্ষাকালে বৃষ্টি যদি
একটু বেশি হয়,
ঘরবাড়ি সব ডুবে গিয়ে
ভীষন ক্ষতি হয় ।
বর্ষাকালে পোকামাকড়
বড্ড জ্বালায় আরও
বৃষ্টিকে রুখতে পারে
ক্ষমতা নেই কারো ।



গোঁফ চশমা
- রাজীব চৌধুরীগোঁফ চশমা দেখেছ?
ছোটবেলা দেখেছিলুম- গোল চশমার সাথে বিশাল নাকের নিচে ইয়া বড় গোঁফ। আমার ছোটচা কে বললুম- আমাকে কিনে দেবে? সে বলেছিল টাকা নেই।
আমি ছোটচার দিকে তাকিয়ে কাঁদতে পারিনি। ওর চোখে আমি সেদিন লজ্জা দেখেছিলাম। আমার বছর দশেক বয়সে প্রথম লজ্জা দেখা কম কথা?
বিজয়মেলা চলতো টানা একমাস। সেদবার আমি শেষদিকে অনেক আবদার করে অনেক কান্নাকাটিকরে ছোটচা কে নিয়ে গেলুম মেলায়। ওখানে গোঁফ চশমা দেখে আমার খুব ইচ্ছে করল - কিনব। একলাফে বড় হয়ে যাবো।
তারপর বাকি ছিলোনা বিজয় মেলা। সবে মাত্র চারদিন। আমার হাতে চারদিন সময় ছিলো। আমি ছিলাম অনেক ছোট। মেলা চিনতাম না। হেটে যেতে হত স্টেডিয়াম। স্টেডিয়াম অনেক দূরে। অনেকবার রাস্তা পেরোতে হত। রাস্তা পেরোলেই অনেক দোকান। সেখানে রাস্তার ওপর গোঁফ অলা মামা এই চশমা বেচতো। দাম ছিলো পাঁচ টাকা।
পাঁচ টাকা অনেক টাকা।
আমার কাছে দুটো পচিশ পয়সা ছিলো। একটা দিয়েছিল ছোটমামা। আরেকটা কে দিয়েছিল জানা নেই। তারপর ...
আমার বউফুলের বাক্সো খুলে বেরিয়ে এসেছিল পুরো দু টাকা। বউফুলের বাক্সোতে আমি লুকিয়ে রাখতাম অনেক কিছু...
কিন্তু আরো দেড় টাকা লাগবে...
আমি কই পাব?
মাকে বলবো?
মা তখন একটা ডিমসেদ্ধ চারটুকরো করতে ব্যস্ত ছিল। একপোয়া তেলে তিনদিন চলতো। নাকি মা চালাতো? আমি এর পরেও বহুদিন ডিম খেতে পাইনি ...
তারপর?
তারপর হাতে ছিলো দুদিন। আমার বউফুলের বাক্সোতে যে পুতুলগুলো ছিলো সব বেঁচে দিলাম জিতুর কাছে। জিতু ছিলো আমার খেলার সাথী। ওদের অনেক টাকা ছিলো। ওরা প্রতিদিন মাছ খেতো- মাংস খেতো। আমি ওদের ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে দেখতাম। আহ কি সুন্দর মাংস...লাল লাল তরকারী- সাদা সাদা মাংস। মাংস খাওয়ার সময় জিতুর মাকে কুকুরের মত ঠেকতো। কুকুরের মত হামলে পড়ে খেতো। থালার ওপর মাংসের ঠ্যাং নিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে মুখের দুপাশে ঝোল লাগিয়ে খেতো। তারপর থালা চাটতো। তারপর হাত চাটতো। তারপর বলতো-"ভগবান অনেক খাইয়েছে..."।
আমার পুতুলগুলো আমি বেঁচে দিলাম। তারপর আমার খুব কিনতে ইচ্ছে করল সেই চশমা। কিন্তু জিতু আমাকে এক টাকা দেয়নি। ও আমাকে ঠকিয়েছিলো। আমার মুখোশ কেনা হলোনা। মেলা শেষ হল। শীত এলো-ঠকঠকিয়ে কাঁপিয়ে চলে ও গেল। আমার মনে থেকে গেল সেই গোঁফ চশমার কথা। সেই গোল চশমা আমি কিনে ঝুলিয়ে রেখেছি আমার দেয়ালে... আমি এখন প্রতিদিন একটা করে গোফচশমা কিনতে পারি। কিন্তু কিনিনা। আমি এখন প্রতিদিন ডিম খাই...প্রায় প্রতিদিন মাংস ফ্রাই-চিকেন ডিলেমা আমাকে ছোটবেলার স্বাদ ভুলিয়ে দেয়...আর জিতু... ও তো কবেই বিয়ে করে সংসারী... ওর জামাইয়ের মুখে ঠোটের উপর একটা গোঁফ আছে শুনেছি...ঠিক সেই গোঁফ চশমার মতোন...


এক রাত
- প্রদীপ ঘড়া

এই রাত কি শেষ রাত ?
তবে কেন ভয়ের এত আর্তনাদ
''আজ নয় কাল কিংবা কোনদিন
আমি না হয়
আমার মন উদাস
না হয় চঞ্চল '' ।
আসবে এই গৃহে
মৃদু বাতাস অঙ্গ জড়িয়ে
তোমাকে ঘনিষ্ঠ হতে
করেছি স্বীকার
যেভাবে আর্কষিত ফুলের ভ্রোমরা !
পূর্ণিমার আলো
না সব পাশের গোলমাল
কলঙ্কে অনাবৃত হলো যঘন রাত
যদিও তখন ও কিছু হারায়নি
হাত থেকে হাত ভেদ করে
প্রভাত কোকিল জাগার আগে
অনিচ্ছুক এক স্বীকারে
বিদায়ী রাতের পূর্বে
পূর্বকৃত মৃদু লাল রঙমঞ্চে
নিঃশব্দে কদম ফেলায়ে
ফিরি যদি আপন গৃহে ।

ছায়ার চাঁদনি
- প্রদীপ ঘড়া

তার কথা শুধাই কারে
সে এক আকাশের পাখি
উড়ে দুটি ডানা মেলে
ইচ্ছে করে উড়ে যেতে
তার সাথে ডানা মেলে
কিংবা তার আঁচল ধরে
দূর থেকে চলে যেতে দূরে
প্রস্তরে স্বাক্ষর রেখে
নাম খোদাই করে
বসব গিয়ে দুজনাতে
নীল আকাশের
চাঁদনি রাতে
সৌরভ ভরা
বাতাসের সাথে
জ্যোৎস্নার কানে কানে
বলব মোরা
সোহাগ ভরা
চাঁদনি ছায়ার সাথে
একদিন মিলব দুজনাতে ।
তার কথা শুধাই কারে
উঁকি দেয় মনে বারে বারে
শেষে তাকেই মনে রাখি
সে এক অজানা পাখি ।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget