অক্টোবর 2014

ক্যানভাস
- রাজীব চৌধুরী


"আচ্ছা এ বাড়িটাতে নাকি ভুত আছে?"
- হটাত করেই অপ্রাসংগিক একটা কথা বলে উঠল চন্দন দা।
আমাদের চন্দন দা এমনই। যখন তখন যেখানে সেখানে হটাত করেই কি সব বলে উঠেন। এই যেমন এলাম পিকনিক করতে- উনি বলে উঠলেন-"আজ উনার নিরামিষ" । আমরা সবাই হা। এটা কোন কথা? পুরো দুটো ছাগল আর ছয়টা মুরগি কেটে পিকনিক হচ্ছে। যদিও এত খাওয়ার মানুষ নেই। এখন কে যাবে উনার জন্য সবজি আর শাক রান্না করতে? আমরা সবাই বেঁকে বসলাম। শেষে উনি সামান্য কিছু ডাল ভাত খেয়ে উঠে পড়লেন। তারপর এটা সেটা- এই আড্ডা এই গান- এই নাচ- এসব করতে করতে যখন কালাপানির আড্ডা বসল তখন উনি গাইলেন ভুতের কেত্তন। এটা কোন কথা?
"আছা চন্দন দা- ভুত এল কোত্থেকে? আপনাকে বলেছিলাম অন্তক্ষরী শুনাতে। আপনার অক্ষত ভ। কিন্তু ভ তে ভুত বানিয়ে দিয়ে কি শুরু করলেন? এটা নিয়মের ব্রেক আপ। এটা মানিনা।" বলে উঠলাম আমি।
আমার সাথে অনেকেই সায় দিল।
“শোন। আমার কাছে তোদের এসব আলাপ পানসে লাগছে। আর এই ভুতুড়ে বাড়িতে বসে বসে মদ খাব আর ভুতের গল্প হবেনা এটা কোন কথা?” বললেন চন্দন দা।
“শোন চন্দন দা – আমি আসলে খানিকটা ভুতে ভয়পাই...” বলল কনিষ্ক। কনিষ্ক এর মাঝেই দুপেগ বেশি মেরে দিয়েছে। ও আবার ভয় পেলে বেশি খেয়ে ফেলে। আমাদের স্টকে টান পড়বে ভেবে নিলু বোতলটা ওর কাছে টেনে নিল। এখন ও বাটোয়ারা করবে। স্প্রাইটের বোতল থেকে খানিকটা স্প্রাইট ঢেলে ঢেলে সে সবার গ্লাসে পুড়তে শুরু করেছে। আমি তাকিয়ে আছি চন্দনদার দিকে। উনার চোখ দুটো ঘোর লাগা। নেশা কি বেশি হল? অথচ মাত্র দুবার টার্ন গেছে। পাঁচ বার যাওয়ার আগে কেউ সহজে মাতাল হয়না আমাদের মাঝে। কিন্তু আজকে কি হল কে জানে... ভাবলাম আমি।
আমরা মোট ছয়জন আজকের এই আড্ডার সভাকবি। আমাদের মাঝে বন্ধুত্ব সেই ছোটবেলা থেকে। তবে মাঝে বেশ কবছর দেখা হয়নি। এর মাঝে চন্দনদার চুলে পাঁক ধরেছে। কনিষ্ক বেচারা বিশাল বপু বানিয়েছে অথচ মাধ্যমিকে ও কিসুন্দর দৌড়ুতো চিকন চাকন এক শরীর নিয়ে। সবার একই দশা। অনেক ভেবে চিন্তে আজকের দিনটা বেছে নেয়া হয়েছে। তারপর যোগাড়যন্ত্র করা হয়েছে। ফেসবুক থেকে মিলিত হয়ে শেষে বন্ধুদের মাঝে এই আড্ডা আর জলখাবারে এখন ভুতের গাড্ডা করতে কার ভালোলাগে?
“দেখো ভায়া আমি এই সব ভুত ফুতে নেই। আমি এসব বিশ্বাস করিনা” বলল চিন্তন। ব্যাটা এতোক্ষন বেশ খাচ্ছিল। হয়ত ধরেছে। ঘুমানোর তাল করছে। আমি সাথে সাথে চিৎকার করে উঠলাম...
“এই এই চিন্তন এভাবে ওঠা চলবে। পুরো দু বোতল খেয়ে শেষ করে উঠবি। ততক্ষন শাস্তি হিসেবে তুই নিজেই একটা ভুতের গল্প বলবি”।
“আ আ আমি? আমি ত ভুতে বিশ্বাস করিইনা...” বলল চিন্তন।
“আমরা ও কি করি নাকি?” ফোঁড়ন কাটল কনিষ্ক। বেচারা এখন ঢুলছে।
“আরে শোন। আমি ভুত ফুতে বিশ্বাস করিনা। তবে শুনেছি শয়তান টাইপের কিছু নাকি আছে। আমার মা দেখেছিল। আমার জন্মের আগে। বাড়ির পাশের একটা ডোবায়। আমার মাকে কিছু একটা যেচে ছিল খাওয়ার জন্য। মা খায়নি। দৌড়ে পালিয়ে এসেছিল। শুনেছি ওটা ছিল শয়তান। কেউ বলে জ্বীন”।
“ধুর কিসব শোনাচ্ছে। আরে শোন। আমার গল্পটা ভয়াবহ।...” বলতে শুরু করল কনিষ্ক।
“শোন- আমি তখন সবে কলেজ ছেড়েছি। গিয়েছিলাম আমার মামা বাড়িতে। ওখানে একটা পুরোনো বাড়ি ছিলো। আমি ওতে ভুতের দেখা পাওয়ার জন্য থেকেছিলাম। আমি ওখানে কিছু দেখিনি। কারন কি জানিস? কারন ওখান সম্পর্কে যা যা শুনেছিল সব ছিল গুজব। আমি নিজেও ভুতে বিশ্বাস করিনা। কিন্তু কেন যেন শেষ রাতে ভয় পেয়েছিলাম।
আমি শুয়ে আছি একটা বারান্দায়। আকাশে নিরেট একটা পুর্নিমার চাঁদ। আমি চাঁদের আলোয় শুয়ে আছি। আর আকাশ দেখেছি। জানিস সেদিন খুব কবিতা পেয়ে বসেছিল। আপন মনে জীবনানন্দ পাঠ করছিলাম। এমন সময় দেখি জিনিস টা।
ঠিক জিনিস না।
একটা ছায়া।
কেমন যেন একটা ছায়া।
ঠান্ডা হাওয়ায় সব দোলে। কিন্তু ছাড়া অনড়।
মানুষের ছায়া বলে মনে হল। প্রথমে মনে হল বিশাল কোন একটা কুমিড়ের ছায়া।
ধীরে ধীরে সেটা মানুষের ছায়ার মত রুপ নিলো। আমি ওটার দিকে তাকিয়ে আছি। ওটাও যেন আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে নাচতে শুরু করেছে।
অনেকটা কথক নৃত্যের মতোন।
নাচছে। নাচছে। নাচছে।
পুরোনো বাড়িতে একটা কিছু এভাবে নাচানাচি করছে অথচ ছায়াটাও ভালোমত দেখা যাচ্ছেনা। কিন্তু শোনা যাচ্ছে। নুপুরের শব্দ। তালে তালে নেচে চলেছে সেই ছায়া। পায়ে নুপুর। বেশ ভারী নুপুর। একসময় সে নৃত্য থেমে ও গেল। আমি ও ঘুমিয়ে পড়লাম।
তবে আসল মজা ছিল পরের দিন” বলতেই আমি থামিয়ে দিলাম।
“পরের দিন কি?”
“আরে পরের দিন আমি ঘুম থেকে উঠলাম। দেখলাম আমি শুয়ে আছি পুকুরপাড়ের ঘাটে। ওখানে একটা নৃত্যশালা ছিল। আমি ওখানের একপাশে শুয়ে আছি। আগের দিন আমি স্থানটা পুরো ঘুরে ঘুরে দেখে এসেছিলাম। তাই জানি এটা কোথায়। গোলাকার এই নৃত্যালয়ের পাশেই বিশাল পুকুর। আমি ওখানে একটা মেয়ের নৃত্যরত মুর্তি ও দেখেছিলাম। সেদিন ওটা ছিলোনা। ওটা চলে গিয়েছিল পুকুরের আরেক পাড়ে। কিন্তু আমি বেশ মনে করে বলতে পারি আগের দিন ও ওটা ওখানে ছিলোনা।
বুঝলি?”
আমি প্রায় মন্ত্রমুগ্ধের মত করে শুনছিলাম। হটাত যেন ধ্যান ভাঙল। আমরা প্রায় সবাই ঘোরের মাঝে চলে গেছিলাম। এমন সময় চন্দন দা কোত্থেকে একটা ক্যানভাস বের করলেন। বিশাল ক্যানভাস নয়। ছোট্ট একটা ক্যানভাস।
আমি বললাম- “দাদা ভুত ছেড়ে কি এখন ছবি আঁকা ধরবেন?”
“শুনো এটা একটা ভুতুড়ে ক্যানভাস”
“কি?” বললাম আমি।
“হ্যাঁ- একেবারেই অদ্ভুতুড়ে” কেমন যেন ঘোর লাগানো কন্ঠে বলল চন্দন দা।
“ কি হয় এতে?”
“এটা আমার ছেলের ক্যানভাস”
“তোর ছেলে? মানে কি যেন নাম ছিলো...” ঢেকুর তুলল কনিষ্ক। আমি নিজেও ওর ছেলের নাম জানিনা। এর আগে তো দেখাই হয়নি। কে কোথায় বিয়ে করেছে জানা নেই। আর বাচ্চার নাম তো না জানারই কথা।
“হ্যাঁ আমার ছেলে ... মুন... মারা গেছে গতমাসে”
“আমার কেমন যেন কষ্ট লাগল ওর জন্য...”
চেয়ে দেখি কনিষ্কের চোখে জল এসে পড়েছে। বাকিদের অবস্থা তথৈবচ।
“কিন্তু এর সাথে ভুতের সম্পর্ক কি?” পরিস্থিতি হালকা করতে চাইলাম আমি।
“আছে। মুন মারা গেলেও ওর আত্মা আমার আশেপাশেই থাকে”
“ দাদা আপনার কি মাথা নষ্ট হইসে?” অবাক আমি।
“ধুর কি সব বলে পাগলটা। মাল কি বেশি টানছস নাকি?” খেপে উঠল কনিষ্ক।
আমার ও মন উঠে গেছে। এ আড্ডা জমবেনা। আমি উঠে যাচ্ছিলাম। দেখলাম আমার দেখাদেখি সবাই উঠে যাচ্ছে। আর চন্দন দা উনার ব্যাগ থেকে বের করে নিলেন একটা রঙের কৌটা। ওখান থেকে বের করে হাতে মেখে নিলেন রঙ। তারপর সেই ক্যানভাসের উপর হাতের ছাপ দিতে শুরু করলেন। ক্যাম্পফায়ারের আলোয় সেই ছাপ দেখা যাচ্ছিল। খানিক পরেই শুকিয়েও যাচ্ছিল। আমরা সেদিন চলে এলাম। আমার বিশ্বাস ছিল চন্দনদা পাগল হয়ে গেছেন। বাচ্চাদের মত করে হেসে হেসে পাগলের মত হাতের ছাপ দিতে পারে কজন?
ওদিনের পর আমি সব ভুলে গেছিলাম। পরদিন সকালে উঠে সবকিছুকে মদের নেশা বলেই কাটিয়ে দিলাম। কিন্তু এর পরের দিনই কনিষ্কের মুখ থেকে যা শুনলাম তারপর থেকে আমি তিনবার মুর্ছা গেছি।
হ্যাঁ ভাই
আমি তিনবার জ্ঞান হারিয়ে এখন দিশেহারা। কনিষ্ক ও বিশ্বাস করেনি প্রথমে। আমার মুখে শুনে শিওর হয়েছে। তারপর ওর অবস্থা আরো শোচনীয়।
আসলে সেদিন চন্দনদা হাতের ছাপ দিচ্ছিল ক্যানভাসে। ক্যানভাসটা মাটিতে রাখা ছিলো। আমরা কজন তখন উঠে দাঁড়িয়েছিলাম। আঁধো আলো আঁধারে তেমন ভাল দেখা ও যাচ্ছিল না। শুধু কনিষ্ক দেখেছিল। আমি ও দেখেছিলাম কিন্তু খেয়াল করিনি। আসলে এটা খেয়াল করার মত তেমন কিছু ছিলোনা। কিন্তু আসলে বিশাল কিছুই...
চন্দন দা হাত দিয়ে ছাপ দিচ্ছিল।
উনার পয়ত্রিশ বছরের বয়ষ্ক হাতের ছাপ ঐ ক্যানভাসে পড়ছিলোনা। ওখানে পড়ছিল একটা দুবছরের বাচ্চার হাতের ছাপ... তারপর মিলিয়ে যাচ্ছিলো ক্যানভাস থেকে...
মনে পড়তেই আবার ও মনে হচ্ছে মুর্ছা যাব। ব্যাপারটা আমি সহ্য করতে পারিনি।
আপনি?

সঙ্কল্প
- প্রীতি ভূঞ্যা

এই দেশকে মোরা গড়ব স্বপ্নপুরী,
শিক্ষা, কর্ম ও সংস্কারের পথ ধরি ।
অন্ধকারের বাঁধ ভেঙে
আলোর দিকে ছুটবো,
কালো মেঘের আড়াল থেকে
চাঁদকে খুঁজে আনব ।
সোনার চাঁদের পড়বে কিরন,
সোনার দেশের 'পরে,
রইব না আর অজ্ঞানতার
অন্ধকার গহ্বরে ।

শৈশব
- রাজীব চৌধুরী


আমার শৈশব গুলো ছিল ঘোলাটে
তুখোড় বিকেলে রোদ মাড়িয়ে নিজের ঘরে ফিরে সব নতুন দেখতাম যেন । দুদিনেই স্মৃতির কাশবনে বিস্ময় এর পশু ঢুকে খেয়ে নিতো বসন্ত আত্মচিহ্ন । আর আমি নতুন করে নিজেকে খুজে নিতাম । সেই ছোট্ট বেলায় আমার তিনচাকার সাইকেল ছিলো স্টোর রুমে বন্দী । বাবা কিনে দিয়েছিলো । কিন্তু সাইকেলের সামনের চাকা টা ভেঙ্গে যেতেই যেন আমি নি:স্ব হয়ে গেলাম । বাবার নুন আনতে পানতস ফুরোত । একটা ডিম যখন চারজন ভাগ করে খেতাম তখন সাইকেলের সামনের চাকাটার কথা আমি ভুলে যেতাম । আমার চোখে তখন শুধু ডিম থাকতো । আমি ডিম খাওয়ার আনন্দ পেতাম বিয়ে বাড়িতে । ওখানে হাসি হাসি মুখ করে একখানা সাদা সেদ্ধ ডিমদিতো মস্ত ভাতের থালায় . . .আমি হা করে দেখতাম . . .
আর খেতাম । কিন্তু পুরো ডিম আমি কখনোই খেতে পারিনি জানো? কেন জানি ভয় হোত ।
সেই আমি পুরো একটা ডিম খেলাম এক বড়ুয়া বন্ধুর ঘরে । ওর বোনের বিয়েতে । আর আমি সেবার যেন প্রথম পুরো ডিম খাওয়ার সাহস করেছিলাম । সে থেকে শুরু ।
প্রথম রঙ্গিন টিভি দেখলাম সাহস করে ।
প্রথম স্কুল পালালাম শখ করে ।
কিন্তু আমি এখনো পেলাম না ।
আমার সেই ভ্রাম্যমাণ শৈশব কে আবার ফিরে পেতে ।
হায় সময় !
হায় শৈশব ।

শৈশবের শুক্রবার
- রাজীব চৌধুরী


শৈশবের শুক্রবার গুলো ছিল প্রচন্ড রঙ্গিন ...
ঘুম থেকে উঠে চা আর বিস্কুট খেয়ে সাদাকালো টেলিভিশন দেখাটা ছিল আমার নিত্যকার কম্ম । কিন্তু ঘুম থেকে উঠে আমার মায়ের চারপাশে ট্যাও ট্যাও করাও নিয়ম হয়ে গেছিল । সেটা ছিল স্কুলে না যাওয়ার জন্য মায়ের কাছে সুপারিশ. . .আর শুক্রবার একটু বেড়াতে যাওয়ার সুপারিশ. . . মা বোলতো - "আগামী শুক্রবার ঠিক যাব"
আমি সেই আগামী শুক্রবার এর লোভে সাদাকালো টেলিভিশন এর সামনে বসে গান শেখানোর অনুষ্ঠান দেখতাম । সেখানে দুটি পাপেট আমায় গুপ্তহত্যা করে রাখত সবসময় । সে সময় আমি একটা গান শিখেছিলাম -
" ক এ কলা
খ এ খায়
এত বেশি খেতে নাই
গ এ গরু
ঘ এ ঘাস
কত ঘাস খেতে চাস
ঙ বলে কোলা ব্যাঙ
করে শুধু ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ
ক খ গ ঘ ঙ"

এর পরের লাইনগুলো মনে নেই । সে সময় সবচাইতে ভাল লাগত ম্যাকগাইভার টিভি সিরিজ । একজন মানুষ কিভাবে উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে অভিজান করছে, বোমা ফাটাচ্ছে, ধবংস করে দিচ্ছে সবকিছু. . . দেখতে বেজায় লাগতো . . . ।

এখন ম্যাকগাইভার দেখি । আগের মত মজা পাইনা । কেন পাইনা ? এখন আলিফলাইলা দেখি । তাও মজা লাগেনা । হাস্যকর মনে হয় । বাস্তবতা আমাকে পাথর বানিয়ে দিলো ? নাকি বয়স আমাকে ভুলিয়ে দিলো কিভাবে মজা পাওয়া যায় . . . .।

শেষ ঘুম
- রাজীব চৌধুরী

ক্লান্ত আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দাও
রাত্রির পিস্টন টেনে
দোল দোল দুলুনি র কুলুপ এটে দিয়ে
আমায় মিশিয়ে দাও একফোঁটা ঘুম কিনে
আমি ঘুমোব আজ মহাঘুম আসবে বলে
অন্ধকার নিবিড় খুব হলে
আমি ঘুমোব আজ শেষ ঘুম আসবে বলে ...।

মুমুর্ষ বিকেল
- রাজীব চৌধুরী

মুমুর্ষ বিকেল জুড়ে পড়ে থাকি আত্মহত্যাপ্রবণ ঠোঁট নিয়ে
তুমি কবে চুষে খাবে বৈদিক আর্তনাদ
নিকেশ করেছি কত সহস্র সময়ের পথ
ডুবুরির চোখে দেখি তুখোড় দীর্ঘ নিনাদ
দীঘল মেঘরাশি নিভে গ্যালে হারানো পথ ফিরে আসে
ফিরে আসে নাব্য জলধারা সমস্ত র-ফলার স্বাদ
মুমুর্ষ রাত্তির হলে শেষ ফিরে আসে নতুন দুঃখ বিলাস
কিশোরী চাঁদের বুড়ি শোনায় কল্প প্রবাদ।

রক্ত গোলাপ
- প্রদীপ ঘড়া

এই নাও একটি সাদা গোলাপ
তোমার হৃদয়ে যদি না থাকে প্রলাপ
তবে নিও তুমি আমার এই গোলাপ
যদি না নাও
আমি ভাববো আমার
উপর করেছো প্রলাপ
যদি নিয়ে তুমি দাও ফেলে
কোন রাস্তায় কিংবা আস্তাবলে
তবুও ভাববো তুমি নিয়েছিলে
ফেলেদিলে কোন এক আস্তাবলে
যেখানে আমার বুকে লাগবে ব্যথা
তবুও আমি মুখ খুলে
বলব না সে কথা ।
তুমি আমার এই ফুল গ্রহন করেছো
তাতেই আমার মন ভরেছে
মারবে যখন ঘোড়াতে লাথি
বুক ফেটে বেরোবে ভালোবাসার বাতি
বুক ফেটে বেরোবে রক্ত
এটাই হবে আমার ভালোবাসার ভক্ত
আর সেই রক্ত হবে লাল
সাদা গোলাপ সেই রক্তে হলে লাল
আমি হব তোমার
ভালোবাসার কাঙাল ।

ছবির মাঝেই
- প্রদীপ ঘড়া

আজও আছি তার পথ চেয়ে
নীরবে নীরবে আড়ালে আড়ালে
প্রান শুধু কাঁদে
ছোঁড়া ফুল যে পড়ে
ঠাকুরের পায়ে
আমার গোলাপ গেছে শুকিয়ে
কতদিন এমনি গেল চলে
আমার মন এখনো মানে না যে
আশায় আশায় পথ চেয়ে
এখনো আছে তারই খোঁজে
ভূবন ও পারে ছোট এই
বুকের মাঝে
আরও কত ব্যথা আছে লুকিয়ে
ব্যথার সাথে খেলা করে
এমনই দিন গুলো কাটে
জানিনা এখনো তারে পাবো কিনা
তবুও এই হৃদয়ে আঁকা ছবি
মুছতে পারিনি আজও
যখন ভাবি তখন দেখি
খোলা আকাশে
আমার ছবি ভেষে চলেছে
নয়নের এদিক থেকে ওদিকে
জানিনা এই ছবিই আমার
তোমার দেখাই
এই ছবির মাঝেই ।

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget