জুন 2014

পুষ্পবন
- প্রদীপ ঘড়া

রাঙা চরনে
উড়িয়ে ধূলো গগনে
আছি আমি মগনে
চেতন হারা বৃষ্টি ঝরা বাগানে
উথলে ওঠা ভূমি তলে
আকাশ বাশিঁ বাজায় ছলে
ওই যে পুষ্পবনে ।
ভ্রমরা পাখির কথা - কাকলির কুজনে
ধরা তলে বৃষ্টির ধারা
মন তাহার প্লাবনে ভরা
গর্জিত সাগর বারি
খোলা বায়ু নানান কথা কয় ।
অঞ্চল উড়িয়ে তার বুকে
চঞ্চল করেছো কন্যারে
কিসের সৌরভে
ভূবন মাঝে - বীণা বাজে
অঙ্কিত ওই রাঙা চরনে
উড়িয়ে ধূলো গগনে ।

সম্পাদকীয়...
আয়নার দিকে তাকিয়ে আমি কখনও কখনও নিজেকে নিজেই চিনে উঠতে পারিনা । মনের ভেতর এক অব্যক্ত বেদনা যেন ককিঁয়ে ওঠে । জীবনের এই আঁকা বাঁকা পথে চলতে গিয়ে যেন নিজেকে মনে হয় আমি ছন্দ হারিয়ে ফেলেছি । মনের এই অব্যক্ত বেদনাকেই হাতিয়ার করে আমাদের এই চলার পথকে মসৃন করতে হবে । দৈন্যন্দিন জীবনের রোজগার এই ঘষা - মাঝা জীবন থেকে কিছুক্ষনের জন্য নিজেকে এক স্বপ্নময় জগতে হারিয়ে ফেলা এটাই হবে আমাদের প্রথম হাতিয়ার । আমাদের এই চিন্তা ভাবনার ফল স্বরুপ "নব দিবাকর" । কবিতা, ছোট গল্প, কিশোর সাহিত্য, নাটক, ফিচার, ধারাবাহিক গল্প-উপন্যাস, বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রভৃতি আধুনিক লেখা আর অবশ্বই সমস্ত লেখক লেখিকাদের নিয়েই হবে আমাদের এগিয়ে চলার পথ । "নব দিবাকর" পত্রিকাটাকে জীবনের সাতটা রঙেই রাঙিয়ে দিতে চাই । কঠোর পরিশ্রম আর পাঠক, পাঠিকাদের নিতিমুলক সহযোগিতা দিয়েই এটা একমাত্র সম্ভব হতে পারে । এমনও অনেক বাঙালি আছেন যারা নিজের মনের গভীরে লুপ্তপ্রায় এই সাহিত্য সৃষ্টির আকাঙ্খাটাকে লুকিয়ে রাখেন । তাদের উদ্দেশ্যে আমি একটা কথাই বলবো যে সাহিত্য সৃষ্টির এই আকাঙ্খাটাকে লুকিয়ে না রেখে জাগিয়ে তুলুন আপনার হৃদয়ে সুপ্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকা সেই লেখকটাকে । লেখকের লেখনির জাদু দিয়ে মন প্রান ভরিয়ে দিন পাঠকবর্গদের । এই সংক্ষায় অভিজ্ঞ অনভিজ্ঞ সমস্ত রকম লেখক, লেখিকাদের লেখাই রইলো । আসাকরি পাঠকবর্গ আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াসকে উদার মনেই গ্রহন করবেন । এই সংক্ষায় কোনরকম ভুল-ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে পরবত্রী সংক্ষায় শুধরে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রইলো । সমস্ত লেখক, লেখিকা, আর পাঠক বর্গের জন্য আমার হৃদয়ভরা ভালবাসা ও শুভেচ্ছা রইলো । সম্পাদক - মিন্টু উপাধ্যায়

ভালবাসার কাঁঙাল
- মিন্টু উপাধ্যায়

জীবনের বেলাভুমিতে দাঁড়িয়ে আমি
তাকিয়ে থাকি ঐ দুর গগণে
পূর্নিমার ঐ আকাশে উঠেছে চন্দ্র
কেন ওঠেনা এ জীবনে ।
হাহাকার করে ওঠে এ জীবন
সোয়েছে সে অনেক....জ্বালা
কত দিন, আর কত কাল
জানিনা আমি, সইবে সে আর কত জ্বালা ।
হঠাৎই যদি যাই চলে
সেই অদ্ভুত দেশ, মরনের ওপারে
সেথা গিয়েও আমাকে
ফিরে আসতে হবে বারে বারে ।
যদি পাই ডাক আবারও
ছুটে আসব আমি তারই বুকে
ভালবাসার কাঁঙাল আমি
বলতে পারিনা একথা এ পোড়া মুখে ।

ভিখারী
- লোকমান মল্লিক

রজত শুভ্র আবরণে
কলেবর ঢাকি,
শীর্ণ দেহ, শান্ত নয়ন
গলায় চাবিকাঠি ।
পিতৃ বিয়োগের বেদনার সুরে,
প্রকাশিত কচি দেহ-মন জুড়ে ।
বাবা মরিয়াছে, করিতে সৎকাজ,
পাতিয়াছি ঝুলি দাও কিছু আজ ।
হেনকালে দোকানদার দিল টাকাখানি
কহে, শুধু একটাকা নাহি নেব আমি ।
ফিরিয়া যাইতে উদ্যোত
ভিখারী সে শিশু,
দুইটাকা দিল তারে
যেন দোকানী সে যীশু ।
টাকা নিয়া রাখে শিশু
নিজের থলিতে,
ভগবানের নাম জপে
চলিতে চলিতে ।


বাস থেকে নেমে দাঁড়াতেই এক ঝলক ঠান্ডা হাওয়া এসে আমার পুরো শরীরটাকে কাঁপিয়ে দিয়ে গেলো । কিছুক্ষন আগেই সূর্যের অস্ত গেছে কিন্তু এখনও আলো আধাঁরির খেলা চলছে । আমি রাস্তার এক সাইডে এসে দাড়ালাম । গ্রামের এ দিকটায় জনবসতি প্রায় নেই বললেই চলে । খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অন্ধকার ঘনিয়ে এলো । মাঝে মধ্যেই শন শন করে উত্তরের হিমেল বাতাস বইছিলো । আমি মাফলারটা গলায় ভালোভাবে জরিয়ে নিয়ে রহনা দিলাম ঘড়ের দিকে । চারদিকে গভীর চাপ চাপ অন্ধকারে ছেয়ে থাকায় পথ চলতে খুবই অসুবিধা হতে লাগলো । কিছুটা চলার পরেই পাকা রাস্তা ছেড়ে আমি কাঁচা রাস্তা ধরলাম । আকাশের দিকে তাকাতেই সন্ধা তারা নজরে এলো আমার । রাস্তার দুদিকেই ফাঁকা মাঠ । কাঁচা সুরকির রাস্তা একেঁ বেকেঁ চলে গেছে পাঁচলা গ্রামের দিকে । রাস্তার দু দিকেই সারিবদ্ধ ভাবে নারকেল আর খেঁজুর গাছের সমাবেশ । কিছুক্ষন হাঁটার পরই অন্ধকারে আমার চোখ সয়ে এলো । অন্ধকারেই আমি পথ চলতে লাগলাম । এমনিতেই শীতকাল তার ওপর ঠান্ডাটা যেন বড্ড বেশি রকমই পড়েছে আজ, তাই রাস্তাঘাটও ফাঁকা ধুধু করছে । দুরে কোথাও এক পাল শেয়াল সুর করে ডেকে উঠলো । মাঝে মধ্যে শীতের হাড় হিম করা শীতল বাতাস শরীরটাকে কাঁপিয়ে দিয়ে যাচ্ছিল । মনে মনেই গুন গুন করে একটা কিশোরদার গান গেয়ে উঠলাম । ঘড়ে পৌছাতে এখনও মিনিট কুড়ি পথ বাকি আছে । শরীরটাকে একটু গরম করার জন্য একটা সিগারেট ধরালাম । সিগারেটে সুখের টান দিতে দিতে আমি পথ চলতে লাগলাম । হঠাৎই আমার পেছনে পায়ের শব্দে আমি চমকে পেছন ফিরে তাকালাম । দেখি আপাদমস্তক চাদরে ঢাকা একটা মুর্তি আমার পেছনে পেছনেই হেঁটে আসছে । চাদরে তার মুখ ঢাকা থাকায় তার মুখই আমি ভালোভাবে দেখতে পেলাম না ।
আজ ঠান্ডাটা যেন ব্ড্ড বেশি রকমই পড়েছে কি বলেন আপনি - আগন্তুক বলে উঠলো ।
আমি - হ্যা, তা যা বলেছেন ।
আগন্তুক - কতদুর যাবেন আপনি ?
আমি - এই তো পাঁচলায় আর আপনি ?
আগন্তুক - আরে আমিও তো ওখানেই যাবো । চক্রবর্তীদের বাড়ি চেনেন তো আপনি ? আমিতো ওদের জামাই হই ।
আমি - আরে, হ্যা হ্যা এবার বুঝতে পেরেছি । অন্ধকারে আপনাকে চিনতেই পারিনি মশাই । আচ্ছা কাবেরি কেমন আছে ? সরি, আপনার নামটাও ভুলে গেছি আমি ।
আগন্তুক খিক খিক করে হেসে বললো - কমল মুর্খাজী, আর আপনার নামটা কি মশাই ?
আমি মৃদু হেসে - তপন রায়চৌধুরী । তা এখন কোথা থেকে আসছেন ?
কমলবাবু - এই একটু বাজার পাড়ায় গিয়েছিলাম আর আপনি ?
আমি শেষ হয়ে আসা সিগারেটে একটা লম্বা টান দিয়ে বললাম - অফিসের কাজে দিন তিনেক দিল্লিতে ছিলাম, এই এখনই ফিরছি । তা কবে আসা হয়েছিলো ?
কমলবাবু - এইতো আজই সকালে ।
আমি - কিছুদিন থাকছেন তো, আমারও অফিসের ছুটি আছে । কিছু সময় জমিয়ে গল্প গুজব করে কাটানো যাবে, কি বলেন আপনি ।
কমলবাবু - দেখাযাক কি করা যায় ! আচ্ছা তপনবাবু আপনাকে একটা কথা বলবো কিছু মনে করবেন না তো ?
আমি - আরে এতে মনে করার কি আছে, বলুন কি কথা বলবেন আপনি ।
কমলবাবু পথ চলতে চলতে থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন । আমিও দাঁড়ালাম, কমলবাবু দু হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমার হাত দুটোকে শক্ত করে চেপে ধরলেন । আমার সারা শরীরে বিদুৎ খেলে গেলো, কমলবাবুর হাত বরফের থেকেও ঠান্ডা । একজন মানুষের এতো ঠান্ডা হাত হতে পারে বলে জানা ছিলো না আমার । কমলবাবু ফিস ফিস করে বললেন - কাবেরির মা নিরুপমাদেবীকে গিয়ে বলবেন যে "আমাদের কোন কষ্টই হয়নি, আমরা খুব সুখেই আছি" । শুধু এই টুকুই বলবেন আর কিছু বলতে হবে না আপনাকে, ওনারা ঠিক বুঝে যাবেন । কমলবাবু এমন কথা কেন বললেন আমি বুঝতে পারলাম না । পথ চলতে চলতে আমরা বাড়ির সামনে এসে গিয়েছিলাম । কমলবাবু আমার হাত ছেড়ে দিয়ে বললেন - তপনবাবু আপনার ঘড় এসে গেছে, এবার আপনি যান । আর কোন দিন দেখা হবে না আমাদের । আর অবশ্বই জীবনের মজা নিন, সুখে থাকুন ভালো থাকুন । এই বলে কমলবাবু লম্বা লম্বা পা ফেলে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলেন । আমি বোবার মতোই চুপ করে দাড়িয়ে রইলাম । মুখ দিয়ে কোন কথাই বের হলো না আমার । কমলবাবু এমন কথা আমায় কেন বললেন তাও আমার মাথায় ঢুকলো না । আর অন্ধকারেই বা উনি কোথায় গেলেন কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না । আমি গুটি গুটি পায়ে ঘড়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে দরজায় টোকা দিলাম । মনের ভেতর চিন্তার স্রোত বয়ে চললো । আমার বউ বিমলা এসে দরজা খুলে দিলো । আমি কোন কথা না বলে সোজা নিজের ঘড়ে গিয়ে বিছানার ওপর বসে পড়লাম । বিমলা এক গেলাস জল আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো - কিগো তোমার শরীর ঠিক আছে তো ?
আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম - হ্যা, এমন কথা বলছো কেন ?
বিমলা বললো - তোমার মুখটা কেমন শুখনো শুখনো লাগছে, তাই বললাম ।
আমি বললাম - না, না তেমন কিছু নয় । এরপর আমি জল খেয়ে নিয়ে গেলাসটা বিমলার দিকে এগিয়ে দিলাম ।
বিমলা গেলাসটা টেবিলের ওপর রেখে বললো - জানো তো চক্রবর্তীদের মেয়ে কাবেরি আর তার স্বামী কমল আজ এখানে আসার পথে বাস দুর্ঘটনায় মারা গেছে ।
কথাটা কানে যেতেই আমি চমকে গিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাড়ালাম । আমার শিরদাড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেলো । আমি ধপ করে মেঝেতে পরেই জ্ঞান হারালাম । পরের দিন জ্ঞান ফিরতে বিমলাকে আগের দিনের সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম । আমার কথা শুনে বিমলা ভয়ে কেঁপে উঠলো । কমলবাবুকে দেওয়া কথা আমি রেখেছি । কমলবাবুর বলে যাওয়া কথা গুলো আমি নিরুপমা দেবীকে জানিয়েছি । আমার কথা শুনে উনি হতভম্ভ হয়ে আমার মুখের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন । কিছু বলার মতো শক্তি ওনার ছিলো না । শুধু ওনার দু চোখ বয়ে জলের ধারা বয়ে যাচ্ছিল ।






মন মহলে
- প্রদীপ ঘড়াকি দিয়ে গড়া তোমার রুপছবি
তুমি নারী - কিনা পরী !
ফুল দিয়ে নয় বানানো
ছবি দিয়ে নয় সাজানো
কি দিয়ে দেবো
তোমার রুপছবির বর্ণনা
ভাষা খুঁজে পাই না
নির্বাক হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকি ।
ভাবতে ভাবতে হারিয়ে যায়
ওই রুপছবির মাঝে
হয় মনে শুধু
তোমাকে পেয়েছি কাছে !
কি করব ?
ছবি করে রাখবো দেওয়ালে
না দেবী করে রাখবো সাজিয়ে
রাখলাম মন - মহলে
এক অচিন দেশের দেবী করে ।





Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget