Latest Post


ধরে রাখো ধৈর্যের নাড়ি টান

- অসীম দাস 


এসো , কাগুজে কবিতা ছেড়ে 

অসুখ ললাটে লিখি নিরাময় ,

চিতার লালসা হও ঠুঁটো হাত 

সাহসী শব্দে লিখি বরাভয় ।


হে সময় , অসময়ে শোক নয় 

মুছে দাও শিশুদের কান্না ,

চাঁদের কপালে টিপ , জননীর 

আয়ু নিয়ে ছিনিমিনি আর না !


প্রতিবেশী , প্রকৃতির মায়া মুখ 

হেঁকে বলে-- অচ্ছুত কেউ নয় ,

ধরে রাখো ধৈর্যের নাড়ি টান 

ছেড়ে যাওয়া মানে থিতু পরাজয় ।


মহামারী আসে যায় , ইতিহাস 

অব্যয় অমৃতের সন্তান ,

নতজানু পতনের প্রান্তে 

গেঁথে যাবো সবুজের নির্মাণ ।


ফুটানিকা ডিব্বা

- প্রদীপ দে


ভ্যাবলা নাম তার। তার মুখে সবসময়ই শোনা যায় একটা কথা যার মানে অনেকেই তখন বুঝতো না -- তা হল --" ফুটানিকা ডিব্বা"। সুর্যের তেজ যেন ওর চোখে-মুখে। বৃষ্টির জলে আবার তরতাজা। প্রকৃতির ঋতু চক্রে ওর রুপ বদল হলেও ওর স্বভাবের কোন বদল হতে দেখিনি। মুখ ভর্তি হাসি, পকেট ভর্তি টাকা আর কথার ফুলঝুরি! আর তার কথা যে একবার শুনবে সে আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারবে না। একেবারে তার প্রেমে পড়বেই। পুরুষ মানুষ হলে একরকম, মহিলা হলেই বিপদ। ভালো লেগে যাবে - আশে -পাশে ঘুর -ঘুর করবে তারপরেই ব্যভলার চিন্তায় মাথা ঘুরে যাবে -- প্রেমের জোয়ারে ওকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখবে -কিন্তু ধাক্কা খেয়ে দেবদাস।( সরি!  দেবদাসী) হয়ে যাবে  -- কারণ? 

কারণ আর কিছু নয় , আমার পিসির বড় কন্যা ওদের সকলের গুড়ে বালি দিয়ে অনেক আগে ভ্যাবলাকে তার গাঢ় চোখে ধরে নিয়েছিল ।


যখনকার কথা লিখছি তখন প্রেম সবে শুরু হয়েছে খোলামেলা ভাবে।আগে লুকিয়েচুরিয়েই হত। কন্যা শ্রীময়ী ভাবলো যা হবে হোক এত ভাল পাত্রকে হাত ছাড়া করে লাভ নেই। যদিও মাথায় এলো না যে ভ্যাবলা লেখাপড়া যা করেছে তা তার থেকে কমই আর বয়স ছোট হলেও হতেই পারে, বড় কখনোই নয়। তা হোক প্রেম এসব কিছু মানে না। অফুরন্ত পয়সা, ঘোরাফেরা, খাওয়া -দাওয়া, সিনেমা -থিয়েথার ,শরীর ঘোষাঘোষির স্বাদই আলাদা। প্রেমের ঘোড়া কামের জোয়ারে টগবগ করে ছুটে চললো।


ভ্যাবলা পিসির বাড়ি ঢুকেই গান ধরতো, চেঁচাতো --ফুটানিকা ডিব্বা এসে গেছে। বাড়ি একেবারে গমগম করতো। চিৎকার করে সকলকে জানান দিতো -- আমি হলাম গিয়ে আপনাদের ফুটানিকা ডিব্বা। নৈহাটি থেকে আসতে যেটুকু সময় লাগে - তারপরেই চলে বক বকানি। মার দিয়া কেল্লা - কাকে বলে। অন্যভাবে  বলা যায় সবজান্তা! কারোর কিছু জানার থাকলে ভ্যাবলাই ছিল ওস্তাদ!


এহেন ভ্যাবলা সকলের প্রিয় পাত্র হয়ে পড়লো। প্রত্যেকের কাজে অকাজে সে এগিয়ে যেত। টাকা পয়সা দেদার খরচ করতো। পকেট ভর্তি টাকা থাকতো। সকলেই অবাক হয়ে ভাবতো এত টাকা  কোথা হতে আসে? সব্বাই জানতো ও বিরাট ব্যবসা করে। সবাই মজায় নিতো কথাটি  --- ফুটানিকা ডিব্বা।


তা এরকম গুনধর রূপবান ছেলেকে কোন মেয়ে অবহেলা করবে? শ্রীময়ী শিক্ষিত বুদ্ধিমতী মেয়েও যে মজে যায় তার প্রেমে! সিনেমা থিয়েটার খাওয়া দাওয়া সঙ্গে প্রেম - একেবারে সোনায় সোহাগা!


একদিন শ্রীময়ী কে কালীঘাটে নিয়ে গিয়ে মালা বদল সেরেও ফেললো। বাড়িতে আসতেই শ্রীময়ীর দাদা কিন্তু রেগে লাল হয়ে গেল। সে এইরকম বিয়ে মানতে পারলো না। প্রথম কথা- ভ্যাবলাকে সে মানতে পারেনি -বেশি রোজগেরে ছিল তার তুলনায়। দ্বিতীয় কারন- তার বড় দিদি যেখানে বর্তমান - সেখানে ছোটোর বিয়ে হয় কিভাবে?

তেড়েমেরে বোন ভগ্নিপতিকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল। আর ভ্যাবলার  পিসিও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারেনি।


শ্রীময়ী আর ভ্যাবলা নৈহাটি চলে যায়। শ্বশুর বাড়ি গিয়ে ওঠে। সেখানে ভ্যাবলার অন্য ভাইয়েরা ছিল।

শ্রীময়ী দেখলো ভ্যাবলার বাড়ি একটি পুরানো ও জরাজীর্ণ বাড়ি। ভাইয়েরা কেউ বিয়ে মানতে পারলে না। বাবা মা কেই নেই। সব খেয়ে বসেছে ভ্যাবলা। শ্রী ময়ী বোঝে না কেন এদের মধ্যে এত ঝামেলা? 

ভ্যাবলা বেকার হলে না জানি কি হত?


কিছুদিনের মধ্যে পর্দা ফাঁস হয়ে যায়। শ্রীময়ী জানতে পারে তার স্বামী ভ্যাবলা আসলে দুনম্বরী লোক -- সাট্টাখেলে, মিথ্যাবাদী একজন। ততদিনে পেটে এসে গেছে বাচ্চা।

আসলে ভ্যাবলার নিজের কথায় নিজেই, সে এক ফুটানিকা ডিব্বা!


বিপদ বাড়ে যখন সাট্টার কারবার গুটিয়ে যায়। অসহায় হয়ে পড়ে ভ্যাবলা। ভায়েরাও বদমায়েশি করে। বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে যেতে হয়। অর্থাভাবে অনটনে তখন এল দৈন্যদশা। উপায়ন্তর না থাকায় শ্রীময়ী তার সদ্যোজাত কন্যার জন্য টিউশনি শুরু করে। বাড়ি ফেরার দরজাও বন্ধ। নিজের বোকামির জন্য শ্রীময়ী আফসোস করে।


এরপর ভ্যাবলার নেশাগ্রস্ত জীবন-ডিব্বার ফুটো দিয়ে শ্রীময়ীর অর্জিত সামান্য রাশিও জল হয়ে বের হয়ে যেতে থাকলো - কিছুই করা গেল না। এক সুন্দরী শিক্ষিতা মেয়ের এই হাল! একটু বুদ্ধির ভুলে সব উল্টাপাল্টা হয়ে গেল। লোভে পাপ - আর পাপে মৃত্যু!  হয়তো একেই বলে -ভবিতব্য! 


ঝরা পাতা

- কিরণময় নন্দী


যে মেয়েটা রোজ কাজল টানে

প্রসাধনীর সম্ভারে সাজিয়ে রাখে নিজের শরীর

সেই মেয়েটার অতীত খুঁজে কেই বা দেখে

খিদে পেটেই রোজনামচা ওই অভাগীর।


ওই মেয়েটার স্বপ্ন ছিলো আকাশ ছোঁয়া

কেমন করে উড়োজাহাজ উড়ে বেড়ায় দূর আকাশে

ওই মেয়েটার ইচ্ছে ছিলো রংবেরঙের প্রজাপতি

কেমন করে ওড়ার মাঝে চুমু দেয় ফুলের দেশে।


ওই মেয়েটাও তেরো বছরে ছাড়লো বাড়ি

ভিনরাজ্যে পরিচারিকার কাজ নিয়ে

পাড়ার সতীশ দা নাকি ভীষণ ভালোমানুষ

মেয়েটার বাপ বেজায় খুশি আগাম কিছু টাকা পেয়ে।


পেটের খিদে-সে ভীষণ কঠিন জ্বালা

পিটুইটারীও দেয় না সাড়া কোনটা মন্দ কোনটা ভালো

দু-কাটা বন্ধ্যা জমিতে সারাবছরে কিবা ফলে

ওরা সরল মনের, ওরা বোঝে না শহুরে গলির নিশীথ কালো।


ওই মেয়েটার শরীর বেচে অনেক টাকা

এখন আর আধ-পেটাতে কাটে না রাত

প্রচুর মানুষ- অনেক আলো -অনেক টাকা

ওই মেয়েটাও বুঝে গেছে "দারিদ্রতা"র নিদারুন আঘাত।


নির্জন নাভিকুন্ড

- অসীম দাস 


এই যে সারাক্ষণ অশরীরী আততায়ীর মতো 

আত্মগোপন করে থাকা ,

অনুগত বাতিল শব্দের অভিশাপে দীর্ণ রাত জাগা ,

স্পর্শ -শূন্য ওম- হীন নিঃসঙ্গতার ধ্যানে 

নিমগ্ন ডুবে যাওয়া ,

পরমা পরমায়ুর অকাল বিসর্জনের ঢাক 

শুনতে পেয়ে ভিজে ঘুমে সপসপে জেগে ওঠা ,

এগুলো কি নিতান্তই ঐকান্তিক 

চিত্রকল্পের জীবন্ত অপব্যয় নয় ?


জনমনের নিবিড় আদর না পেলে 

নাকি কবিতা ক্ষণস্থায়ী হয় !

শুধু ভুলে যাই ,

ভালবাসার সুতীব্র অনুভূতির ভান্ডার 

ক্রমাগত খরচ করতে করতে কবিও কাঙাল হন ।

কবিও তো পেতে চান একান্নবর্তী লেপের উষ্ণতা ।

অথচ সকলের গুরুভার দুঃখ শোক 

অনুশোচনা আর অপরাধবোধের 

তাপে পুড়তে পুড়তে কবিও একদিন

নির্জন নাভিকুন্ড হয়ে যান !


একমাত্র উদ্বিগ্ন শব্দের মুখগুলি

জেগে থাকে কবির শিয়রে ,

একমাত্র শব্দই গড়ে চলে 

খন্ড খন্ড ক্ষণজীবী আনন্দধাম ,

এপিটাফে ঘাসফুল হয়ে ফোটে কবির কবরে !

Social

{facebook#https://facebook.com}

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget